ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ডেস্ক নিউজঃ দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ আখ্যা দিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ২৪ জনের ভূমিকা তদন্ত এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটে হামের টিকাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয়।

রিটে কেবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল একই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম। ওই নোটিশে পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছিল। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশে আবারও হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বহু শিশু ও সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
রিটে যাদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা। হামের টিকা ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার ‘অশুভ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে’ স্বার্থসংশ্লিষ্টভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে এই তদন্ত ও নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম।



বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা ফি নির্ধারণ কর‌ল মিসর

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা ফি ঘোষণা করেছে মিসর। সিংগেল এন্ট্রি, মাল্টিপল এন্ট্রি এবং পাঁচ বছর মেয়াদি ভিসার ফি পরিবর্তন করা হ‌য়ে‌ছে।

আজ রবিবার (১৭ মে) ঢাকার মিসর দূতাবাস এক বার্তায় এ‌ তথ্য জানি‌য়ে‌ছে।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এখন থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের সিংগেল এন্ট্রির ক্ষেত্রে ৯ হাজার ২০০ টাকা, মাল্টিপল এন্ট্রির ক্ষেত্রে ১২ হাজার ১৫০ টাকা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি ভিসার ফি ৯৫ হাজার ২০০ টাকা।




১ জুলাই থেকেই পে-স্কেল বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে হিসাব রয়েছে। এই বিশাল আর্থিক চাপ এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি সামলাতে একসঙ্গে নয়, তিনটি ধাপে এটি বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপেই বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে, যার জন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বাজেট সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টানা দুদিনের এই আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা, খাতভিত্তিক বরাদ্দ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর আহরণের সার্বিক চিত্র প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। সব দিক পর্যালোচনার পর প্রধানমন্ত্রী নতুন বেতন কাঠামো চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোতে বেতন পাবেন, এ নিয়ে এখন আর কোনো সংশয় নেই।’ অর্থমন্ত্রীর আসন্ন বাজেট বক্তৃতার খসড়াতেও এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পুরো কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব পুরোপুরি কার্যকর করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এই বিশাল ব্যয়ের চাপ সামলাতেই সরকার কৌশলগতভাবে ধাপে ধাপে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর অধীনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এ জন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখার প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে এবং তৃতীয় ধাপে মূল বেতনের সঙ্গে বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পুরোপুরি সমন্বয় করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, তিন বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ফলে দেশের সামগ্রিক বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে কোনো চাপ পড়বে না এবং সরকারের নগদ অর্থায়ন ব্যবস্থাপনাও অনেক সহজ হবে।

এর আগে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। বর্তমানে দেশের প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা মেটাতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় হয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

বেসামরিক প্রশাসন, জুডিশিয়াল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির জন্য সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিশন ও কমিটির খসড়া অনুযায়ী, সরকারি চাকরির গ্রেড আগের মতোই ২০টি বহাল থাকছে। তবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। এই কাঠামো অনুমোদিত হলে গ্রেডভেদে কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনা হচ্ছে।

বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।




“দেশে এখন স্বাধীনভাবে কথা বলাও কঠিন”-বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অপশাসনের ধারাবাহিকতা’ বললেন জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের দাবি করেছেন, ২০১৪ সালের পর থেকে দেশে যেসব জাতীয় নির্বাচন হয়েছে, সবই আগে থেকেই পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত ছিল। তাঁর অভিযোগ, ভোটের ফল জনগণের রায়ে নয়, বরং কৌশল আর প্রভাব খাটিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে নিজের দু’টি বইয়ের প্রকাশনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনেও ভোটের প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটার সংখ্যা বাড়লেও ভোটকেন্দ্রের বুথ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল মহল আগেই বুঝেছিল সাধারণ মানুষ ভোট দিতে কেন্দ্রে আসবে না। তাই কৃত্রিমভাবে ভোটের পরিবেশ তৈরি করতে এবং পরে ফলাফল নিজেদের মতো সাজাতে বুথ সংখ্যা কমানো হয়।

তিনি নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ঘোষিত ভোটের হিসাব বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। তিনি গাণিতিক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক ভোট গ্রহণ করা বাস্তবে সম্ভব নয়। ভোটারের পরিচয় যাচাই, আঙুলে কালি দেওয়া, ব্যালট নেওয়া, ভোট দিয়ে বাক্সে ফেলা—সব মিলিয়ে যে সময় লাগে, তাতে ঘোষিত ভোটের সংখ্যা বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, বাস্তবে অধিকাংশ কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ভোটারশূন্য অবস্থা ছিল এবং প্রকৃত ভোট পড়েছে অনেক কম।

জাপা চেয়ারম্যান আরও অভিযোগ করেন, বিপুল সংখ্যক ভুয়া ভোট দেখিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের জেতানো হয়েছে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী বাস্তব ভোটের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যা দেখিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারকে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে।

গণমাধ্যম নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জিএম কাদের। তিনি বলেন, দেশে এখন আর প্রকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই। সংবাদমাধ্যমের অনেকেই চাপ, ভয় কিংবা বিভিন্ন কারণে আত্মনিয়ন্ত্রণের মধ্যে কাজ করছে। তাঁর অভিযোগ, তিনি যে তথ্য ও হিসাব তুলে ধরেছেন, তা দেশের সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করতে সাহস পায়নি।

সাংবাদিক আনিস আলমগীরমঞ্জুরুল হাসান পান্না-সহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, ভিন্নমত দমন করতে এখনও আগের মতো ভয়ভীতি ও নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি চলছে। মানুষের বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও দুর্নীতি বেড়েছে বলে অভিযোগ করে জিএম কাদের বলেন, দেশে এখন নতুন ধরনের “মামলা বাণিজ্য” শুরু হয়েছে। নিরীহ মানুষকে মামলা, গ্রেফতার বা “শোন অ্যারেস্ট” দেখানোর ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, কেউ রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মতের হলেই তাকে হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিমানবন্দরে আটকে রেখে ভয় দেখানো, পরে অর্থ আদায়ের মতো ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র সমালোচনা করে তিনি বলেন, একতরফাভাবে সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টা অতীতেও স্থায়ী হয়নি। বর্তমান সরকারও যদি রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে নিজেদের মতো সংস্কার চালাতে চায়, তাহলে সেই উদ্যোগও দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জিএম কাদের বলেন, প্রতীক নিয়ে তারা চিন্তিত নন। মামলা বা চাপ যাই আসুক, দলকে ধরে রেখে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে দলের ভেতরে বিশ্বাসঘাতকতা করলে কাউকে আর ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকাশক আলমগীর সিকদার লোটন। প্রধান আলোচক ছিলেন আবুল কাশেম ফজলুল হক। এছাড়া বক্তব্য দেন আব্দুস সাত্তার, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কাজী রওনক হোসেন, মাসুদ কামাল-সহ আরও অনেকে।




ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা সোমবার

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহার সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ এবং ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার লক্ষ্যে আগামীকাল সোমবার (১৮ মে) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

রোববার (১৭ মে) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এমপি।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটিকে জানানোর জন্য দেশের সকল নাগরিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে। চাঁদ দেখার তথ্য জানানোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু টেলিফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো: ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০, ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭

এছাড়া, সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও (ইউএনও) বিষয়টি অবহিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।




ট্রেনে ঈদযাত্রার শেষ দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি আজ

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহা আগামী ২৮ মে হতে পারে—এমনটি ধরে নিয়ে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সেই হিসেবে ঈদযাত্রার শেষ দিন অর্থাৎ ২৭ মে’র আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে আজ রোববার (১৭ মে)। বরাবরের মতোই যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে (অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে) বিক্রি করা হচ্ছে।

রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আর দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনের টিকিট বিক্রি।

ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের আগের ৫ দিনের টিকিট অগ্রিম দেওয়া হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ মে দেওয়া হয়েছে ২৩ মে’র টিকিট, ১৪ মে দেওয়া হয়েছে ২৪ মে’র, ১৫ মে দেওয়া হয়েছে ২৫ মে’র এবং ১৬ মে দেওয়া হয়েছে ২৬ মে’র টিকিট। আজ ১৭ মে দেওয়া হচ্ছে ২৭ মে’র টিকিট। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে’র টিকিট পরবর্তী সময়ে বিক্রি করা হবে।
রেলওয়ে জানিয়েছে, একজন যাত্রী ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট সর্বোচ্চ একবারই কিনতে পারবেন এবং একটি আইডিতে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কেনা যাবে। এই টিকিট কোনোভাবেই রিফান্ড বা ফেরত দেওয়া যাবে না। তবে সাধারণ ও কর্মজীবী যাত্রীদের অনুরোধে যাত্রার দিন স্টেশন কাউন্টার থেকে মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং বা আসনবিহীন টিকিট বিক্রি করা হবে।



হঠাৎ কালবৈশাখীর মতো পরিস্থিতি, আবহাওয়া অফিসের জরুরি বার্তা

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ১৪ জেলায় আজ দুপুরের মধ্যেই ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। হঠাৎ দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রবিবার (১৭ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ সময় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




হজে গিয়ে ১৫ বাংলাদেশির মৃত্যু, পৌঁছেছেন ৫৮,৩৪৭ হজযাত্রী

ডেস্ক নিউজঃ হজ পালনের উদ্দেশ্যে চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৩৪৭ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। একই সময়ে সেখানে ১৫ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১৬ মে) প্রকাশিত হজ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বুলেটিন অনুযায়ী, শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সৌদি আরবে পৌঁছানো হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪ হাজার ৪৪৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৩ হাজার ৯০৩ জন।

এ পর্যন্ত মোট ১৫০টি ফ্লাইটে হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৭৫টি ফ্লাইটে ২৯ হাজার ৭০৪ জন, সৌদি এয়ারলাইনসের ৫৩টি ফ্লাইটে ১৯ হাজার ৭৮৪ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৮৫৯ জন যাত্রী পরিবহন করেছে।

হজ পালন করতে গিয়ে মারা যাওয়া ১৫ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। তাদের মধ্যে মক্কায় ১১ জন এবং মদিনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জেদ্দা, মিনা, আরাফা কিংবা মুজদালিফায় কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৩০টি লিড হজ এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।

গত ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। আগামী ২১ মে পর্যন্ত হজযাত্রীদের সৌদি আরব যাত্রা চলবে। আর হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৩০ মে থেকে, যা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।




এক বছরের মধ্যে ৫০ লাখ মানুষের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুন মাসের বাজেটে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য অনেক বেশি বরাদ্দ থাকবে। আগামী এক বছরের মধ্যে  দেশের ৫০ লাখ মা-বোনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

শনিবার দুপুরে চাঁদপুরের জনসভায় পৌঁছানোর পথে কুমিল্লার লাকসামের মুদাফরগঞ্জে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। এরপর জেলার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুরে আরেকটি পথসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে খাল পুনঃখননের ব্যাপারে বলেছিলাম। তারই অংশ হিসেবে আজকে চাঁদপুর সফর করছি। আমরা জনগণকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। সকল প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।

এসময় কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম উপস্থিত ছিলেন।




না ফেরার দেশে কারিনা কায়সার

বিনোদন ডেস্কঃ লিভার সংক্রান্ত জটিলতায় মারা গেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।

তিনি বলেন, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ কারিনার রক্তচাপ অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

কয়েক দিন ধরে লিভার সংক্রান্ত জটিলতায় সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল।

চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেন। এরপর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। পরে শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখায় ব্যস্ত ছিলেন কারিনা কায়সার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।

পরে ওটিটি ও নাটকে কাজের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ইন্টার্নশিপ, ৩৬ ২৪ ৩৬।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তদের শোক প্রকাশ করতে দেখা গেছে।