সন্ধ্যার মধ্যে ৭ জেলায় বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ের শঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্কঃ সন্ধ্যার মধ্যে দেশের সাত জেলার ওপর দিয়ে ঝড়ো বাতাস বয়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাতের আশঙ্কাও রয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানা গেছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের সই করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সন্ধার মধ্যে রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে ঝড়ো বাতাস বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে এই ঝড়ো বাতাস হতে পারে। পাশাপাশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। হতে পারে বজ্রপাতও।

এমন অবস্থায় সাত জেলার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

এদিকে সকাল ৯টা থেকে সারা দেশের জন্য ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মাদারীপুর, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলাসহ খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।




মে মাসে আসছে সাড়ে ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল

ডেস্ক নিউজঃ দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তি বজায় রাখতে চলতি মে মাসে সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল দেশে আসছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) আমদানিকৃত ১৪টি তেলবাহী জাহাজ ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। চলতি মাসেই আরও পাঁচটি জাহাজ বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে।

বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশনস) মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি মে মাসে মোট ১৯টি জাহাজে করে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল দেশে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৬৭ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৬ হাজার ৫০০ টন অকটেন এবং ৭৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল। এ ছাড়া আজ শনিবারও একটি তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করার কথা রয়েছে।

জ্বালানি আমদানির এই ধারাবাহিকতা আগামী মাসেও বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে বিপিসি। জুনের চাহিদা মেটাতে ইতিমধ্যে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেলবাহী আরও ১৬টি জাহাজের শিডিউল নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে দেশে চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত জ্বালানির মজুত রয়েছে এবং সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

এদিকে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে ‘এমটি ফসিল’ নামের একটি বড় জাহাজ গত সোমবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৩ মে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে।

এর আগে গত ৬ মে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের আরেকটি মাদার ভেসেল কুতুবদিয়া চ্যানেলে এসে পৌঁছেছিল। বিপিসি কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা স্বাভাবিক রাখতে সরকার ও বিপিসির যৌথ উদ্যোগে নিয়মিত বিরতিতে এই তেল আমদানি প্রক্রিয়া সচল রাখা হয়েছে।




কুমিল্লায় প্রধানমন্ত্রী, উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুর সফরের উদ্দেশ্যে কুমিল্লায় প্রবেশ করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে দাউদকান্দি উপজেলায় খন্দকার মোশাররফ হোসেনের আসন অতিক্রম করেছেন। এ সময় নেতাকর্মীরা সবাই ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমানকে।

চাঁদপুর সফরে যাওয়ার পথে কুমিল্লার বরুরা উপজেলার লক্ষ্মীপুরে পথসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিটি উপজেলায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষণীয়।

জানা যায়, দাউদকান্দিতে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ইলিয়টগঞ্জে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের নেতাকর্মী, দাউদকান্দিতে এমপি আতিকুল ইসলাম শাওন, বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারে এমপি জসিম উদ্দিন ও কুমিল্লা পদুয়ার বাজারে এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীকে।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুমিল্লায় আসছেন জানিয়ে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, ‘আমাদের মাঝে আনন্দের সীমা নেই। আমরা মাননীয় ধর্মমন্ত্রীর নির্দেশে ১০ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে ইলিয়টগঞ্জ বাজারে তাকে স্বাগত জানাতে আসছি।’




ট্রেনে ঈদযাত্রার ২৬ মে’র অগ্রিম টিকিট বিক্রি আজ

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অগ্রিম টিকিট বিক্রি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর অংশ হিসেবে যাত্রার চতুর্থ দিনের অর্থাৎ ২৬ মে’র ট্রেনের আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে আজ।

শনিবার (১৬ মে) সকাল ৮টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হবে। আর পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হবে দুপুর ২টায়। যাত্রীদের সুবিধার্থে শতভাগ টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে।

রেলওয়ের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের আগে পাঁচ দিনের আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় বিক্রি করা হচ্ছে। এর আগে ২৩ মে’র টিকিট ১৩ মে, ২৪ মে’র টিকিট ১৪ মে এবং ২৫ মে’র টিকিট ১৫ মে বিক্রি করা হয়েছে। ২৭ মে’র টিকিট বিক্রি হবে আগামী ১৭ মে। 
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন যাত্রী ঈদ অগ্রিম যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার টিকিট কিনতে পারবেন এবং প্রতি ক্ষেত্রে সর্বাধিক চারটি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। তবে অগ্রিম কেনা টিকিট ফেরতযোগ্য নয়।
এদিকে যাত্রীদের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে যাত্রার দিন মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে। তবে এই সুবিধা উচ্চ শ্রেণির আসনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে’র টিকিট বিক্রির তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।



দীর্ঘ ২২ বছর পর চাঁদপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী, অংশ নেবেন একাধিক কর্মসূচিতে

ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘ ২২ বছর পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি কুমিল্লায় একটি পথসভায় অংশ নেবেন এবং চাঁদপুরে দুটি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন।

জানা যায়, আজ সকাল সাড়ে ৮টার পর সড়ক পথে তিনি রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে রওনা দেন। সরকারপ্রধানের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান চাঁদপুর যাচ্ছেন। গুলশানের বাসা থেকে এখন গাড়িতে আছেন।

এ সফরে তিনি দুটি খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং পথসভা ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, যাত্রা পথে বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার বরুড়ার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত পথ সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি।

পরে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন বিশ্ব খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং তা উদ্বোধন করবেন।

দুপুর আড়াইটায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিরতি নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

পরে বিকেল ৫টায় তিনি চাঁদপুর ক্লাবে আয়োজিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব রুমন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি প্রথম সফর। সর্বশেষ ২০০৪ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তারেক রহমান চাঁদপুর সফর করেছিলেন।




দুয়ারীপাড়ার ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুরের দুয়ারীপাড়া, মরুল ও বাউনিয়া মৌজার কয়েকটি জমি ঘিরে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আইন উদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেছা ওয়াকফা এস্টেটের প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন, আদালতের স্পষ্ট স্থিতাবস্থা আদেশ থাকার পরও প্রভাবশালী একটি চক্র ওই সম্পত্তিতে দখল, নির্মাণ ও বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতায় এসব কর্মকাণ্ড হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আমজাদ হোসেন মোল্লা ও মোবারক হোসেন মেম্বার বলেন, ওয়াকফা এস্টেটের অফিসিয়াল মোতায়ওয়ালি আব্দুল কালাম আনসারী (জামাল) দীর্ঘদিন ধরে জমির মালিকানা ও সংরক্ষণ নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং-১৫২১/২০২১ দায়ের করা হয়। মামলায় ভূমি মন্ত্রণালয়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষসহ কয়েকটি পক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ বিতর্কিত জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। সেই আদেশ এখনও কার্যকর রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, আদালতের নির্দেশ থাকার পরও সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ওই জমিতে মাটি ভরাট, ঘরবাড়ি নির্মাণ, বিল্ডিং তৈরির প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়াকফা এস্টেটের পক্ষ থেকে বলা হয়, এতে আদালতের আদেশ সরাসরি অমান্য করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ওয়াকফ সম্পত্তির খালি জায়গাগুলো ধীরে ধীরে দখল করে সেখানে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজউকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে, বিতর্কিত ভূমিতে ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, যেসব জমি নিয়ে মামলা বিচারাধীন এবং যেখানে আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ রয়েছে, সেখানে এ ধরনের অনুমোদন দেওয়া আইন ও আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী।

ওয়াকফা এস্টেটের প্রতিনিধিরা জানান, আদালতের নির্দেশ অমান্যের ঘটনায় কন্টেম্পট পিটিশন নং-৬২/২০২৪ দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ২২ জুন ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা বলেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুর জোন হাউজিং সেকশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশেই এখনও ওই জমিতে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাদের দাবি, আদালতের আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন, অবৈধ দখল ও নির্মাণকাজ বন্ধ এবং প্রকৃত মালিকদের অধিকার রক্ষায় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। তারা আরও বলেন, ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষায় আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিতর্কিত জমিতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা উচিত।




কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: উত্তরবঙ্গের কৃষি শিক্ষার মডেল হিসাবে তৈরি করাতে চান উপাচার্য

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুড়িকৃবি) শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর গত ১৬ মাসে প্রতিষ্ঠানটি উত্তরবঙ্গের কৃষি শিক্ষার মডেলে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে চলছে। জনবল সংকট থাকলেও মেধা, স্বচ্ছতা আর নিরলস প্রচেষ্টায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের ছাপ রাখছে এই নবীন বিশ্ববিদ্যালয়।

উপাচার্য ড. রাশেদুল ইসলাম ২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোয় ফেরাতে কাজ শুরু করেন। অন্যান্য সমসাময়িক বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরুতেই ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নিয়োগের সংস্কৃতি থাকলেও কুড়িকৃবি সেই পথে হাঁটেনি। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি আগে পূর্ণাঙ্গ নিয়োগ বোর্ড, একাডেমিক কাউন্সিল, অর্থ কমিটি ও সিন্ডিকেট গঠনের জন্য অপেক্ষা করেন।

গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় সিন্ডিকেট সভা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় একাডেমিক কাউন্সিলের সভা। উপাচার্য স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, “নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো লবিং বা অসদুপায় সহ্য করা হবে না। প্রতিটি নিয়োগ হবে লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়।”

বর্তমান উপাচার্যের দক্ষ নেতৃত্বে কুড়িকৃবি ২০২৫ সাল থেকেই কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর হার ছিল ৯৪.৬৯%, যা দেশের ৯টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন।

ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের (লেভেল-১, সেমিস্টার-১) চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাচের মিড-টার্ম পরীক্ষা শেষ হয়েছে এবং ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যে তৃতীয় ব্যাচের ভর্তি কার্যক্রমও সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অভিজ্ঞ খণ্ডকালীন ও অতিথি শিক্ষকদের মাধ্যমে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ করায় শিক্ষার্থীরা সেশনজটমুক্ত শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। তাত্ত্বিক শিক্ষার চেয়ে ব্যবহারিক ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাকে (Outcome Based Education) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে কুড়িকৃবি। অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শিক্ষা ও গবেষণা বিনিময় শুরু হয়েছে। কৃষি গবেষণার পথ প্রশস্ত করতে সাউথইস্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ অনুদান প্রদান করেছে।

গত সিন্ডিকেট সভায় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে ৪টি বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো— চর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ফ্রেশওয়াটার ফিসারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ভেজিটেবলস এন্ড ফ্রুটস রিসার্চ ইনস্টিটিউট।

শিক্ষার্থীদের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে ছাত্র ও ছাত্রীদের আলাদা দুটি হলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে রোভার স্কাউট, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব ও ডিবেটিং সোসাইটির মতো কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অগ্রযাত্রায় শিক্ষার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, উপাচার্য মহোদয়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কুড়িকৃবি অচিরেই একটি বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। যথাযথ সরকারি অনুদান ও সহযোগিতা পেলে এই বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক ও কৃষি বিপ্লবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।




ওহাব গ্রুপের পদোন্নতি কাণ্ড: এলজিইডির কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির কতিপয় কর্মচারীর পদোন্নতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই পদোন্নতিতে প্রধান প্রকৌশলী সহ কয়েকজনের ব্যাক্তিগত লাভ হলেও সরকারের গচ্চা গেছে পাঁচ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, এলজিইডির বিভিন্ন পদের ২৪ জন কর্মচারী তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে নিয়মিত করার জন্য হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিট মামলা নং ৮৪৩১/ ২০১১ এবং প্রথম শুনানি হয় ২৬ জুলাই ২০১২ দ্বিতীয় ও শেষ শুনানি হয় ১৬ অক্টোবর ২০১২। মামলার অথচ রায় হয় ১৫ অক্টোবর ২০১২, এখানে বড় ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে। দেখা যায় শেষ শুনানি ১৬ অক্টোবর ২০১২ আর রায় হয়েছে ১৫ অক্টোবর ২০১২। এই রায় ফরমায়েশি,ভুয়া বা স্বঠিক তা বুঝা দুষ্কর।

এলজিইডির এই ২৪ জন কর্মচারী যাদের মূল পদ কেউ সার্ভেয়ার কেউ কার্য সহকারী কেউবা স্টোর কিপার। তাদের মধ্যে কেউ ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন কেউ মারা গেছেন অবশিষ্ট আছেন ১২ জন এবং তাদের দলনেতা ছিলেন প্রয়ায়ত আব্দুল ওহাব। ওহাব গ্রুপের এই ১২জনকে কোর্টের ভুল রায়ের আলোকে এই পদোন্নতি দেয়া হল। কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে নিয়মিত করতে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ১১ জনের চাকরি শুরু থেকে রাজস্ব খাতে ছিল। ২০১২ সাল থেকে বর্তমান অবদি ১৬ জন প্রধান প্রকৌশলী গত হয়েছেন কিন্তু কেউ কোর্টের এই ভুল রায়ের কারণে তা বাস্তবায়ন করেননি। ওহাব গ্রুপের সদস্যরা ২০২৫ সালের শুরু থেকে মোটা অংকের ফান্ড তৈরি করে এবং জোর প্রচেষ্টা শুরু করে।

সাবেক প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম ও সেই সময়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রশাসন বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেন মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে তাদের পদোন্নতির ফাইল চালু করেন এবং পদোন্নতি দেন। সরকারি চাকরি বিধির আলোকে রুটিন দায়িত্বের কোনো কর্মকর্তা প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারেন না অথচ দেখা যায় তিনি মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে এই অবৈধ প্রজ্ঞাপন জারি করেন। রায় পর্যালোচনায় দেখা যায়, রায়ে কোথাও উল্লেখ নাই যে ইফেকটিভ ডেট থেকে তাদের সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল দেওয়ার কথা। অথচ মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে ২০০৬ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ২০ বছরের সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল বাবদ প্রত্যেকে ৪০-৪৫ লাখ টাকা হারে সরকারের কোষাগারে থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন।

সূত্র আরো জানায়, পরবর্তী প্রধান প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনকে দিয়ে এই পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন ও এরিয়ার সমুদয় বিল প্রদানের আদেশ করাতে চেস্ট করেও বিফল হয়। পরবর্তিতে গোলাম মোস্তফা প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব গ্রহনের পর ওহাব গ্রুপ আদা জল খেয়ে চেষ্টা শুরু করেও ব্যর্থ হয় এবং জাবেদ করিমের সময় সফল হয়।নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী প্রসাশন বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী ঢাকা মোঃ শরিফুজ্জামান ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রশাসন মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান দায়িত্বভার গ্রহনের পর ওহাব গ্রুপের ১২ জনের সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল প্রদানের চিঠি চুড়ান্ত করা হয়। শরিফুজ্জামান বেলাল হোসেনর ভায়রা তার মাধ্যমে ওহাব গ্রুপের এরিয়াল বিল প্রদানে তাতপর ছিলেন তিনি।সরকারের পাঁচ কোটি টাকা গচ্ছার পিছনে কেকে জড়িত তা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন অবিজ্ঞ মহল।

ওহাব গ্রুপের সদস্যরা তাদের পক্ষে প্রজ্ঞাপন ও সিলেকশ গ্রেড এবং টাইমস্কেল প্রাপ্তির জন্য দেড় কোটি টাকা ঘুষ দেন। দেড় কোটি টাকার এক কোটি টাকা দেন প্রধান প্রকৌশলী ও সেই সময়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রশাসন বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেনকে। বাকি পঞ্চাশ লাখ টাকা দেন এরিয়াল বিল প্রদান ফাইল শুরু জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী প্রসাশন ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রশাসনকে। কিন্তু কোর্টের রায়ে ইফেকটিব ডেট থেকে কার্যকর হবে তা উল্লেখ নাই অথচ প্রজ্ঞাপনে এই শর্ত যুক্ত থাকায়। ওই ১২ জনের জন্য সরকারের প্রায় পাচঁ কোটি টাকা গচ্চা গেছে।

সূত্র জানায়, ওহাব গ্রুপের সাথে প্রসাশন শাখার কয়েকজনের সাথে চুক্তি হয় কেসের মাধ্যমে অন্য যাদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে তাদের চাকরি গ্রহনের দিন থেকে সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেলের ব্যবস্থা করতে হবে বিনিময়ে মোটা অংকের ঘুষ পাবে। কোর্টের ডিরেকশন না থাকার পরেও তাদের বকেয়া সিলেকশ গ্রেড ও টাইমস্কেল ব্যবস্থা করে দিবেন। চুক্তি অনুযায়ী নিয়োম নীতির তোয়াক্কা না করে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে ভুল রায়কে বাস্তবায়ন করে সরকারের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা দন্ড লাগিয়েছেন কিন্তু লাভবান হয়েছেন ওহাব গ্রুপের ১২ জন এবং ঘুষ গ্রহিতারা।




টেন্ডার সিন্ডিকেট থেকে সাংবাদিক নিয়ন্ত্রণ—গণপূর্তে ড. আবু নাসেরকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর—যে দপ্তর জনগণের টাকায় পরিচালিত হওয়ার কথা, সেটিই এখন যেন পরিণত হয়েছে এক ‘নিয়ন্ত্রিত দুর্গে’। অভিযোগ উঠেছে, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসের চৌধুরীর অঘোষিত নির্দেশ ছাড়া প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ কার্যত অসম্ভব।

দুর্নীতি, টেন্ডার সিন্ডিকেট, কমিশন বাণিজ্য, পদায়ন বাণিজ্য এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে তাকে ঘিরে এখন তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক অঙ্গনজুড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সাবেক আলোচিত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান মুন্সী ওরফে টিপু মুন্সির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবের বলয়ে রয়েছেন ড. আবু নাসের চৌধুরী। আর সেই প্রভাব ব্যবহার করেই তিনি অধিদপ্তরের ভেতরে গড়ে তুলেছেন এক অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ উঠেছে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২ এ তার পদায়ন নিয়ে।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় ১ কোটি টাকার বিনিময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। অথচ এর আগেই বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ওঠে ভয়াবহ অনিয়ম, টেন্ডার কারসাজি ও কমিশন বাণিজ্যের বিস্ফোরক অভিযোগ।

সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ ও এপিপিভুক্ত বিভিন্ন কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বানের অনুমোদন দিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন বাণিজ্য করা হয়েছে। একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার নামে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে ভেরিয়েশন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামেও হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

অভিযোগ রয়েছে, বগুড়ায় দায়িত্বে থাকলেও সপ্তাহে দুই দিনের বেশি অফিস করতেন না ড. আবু নাসের। বাকি সময় ঢাকায় অবস্থান করে তদবির, পদ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই ব্যস্ত থাকতেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই তার অনিয়মিত উপস্থিতির প্রমাণ মিলবে। তার বিপুল সম্পদের তথ্য নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, মোহাম্মদপুরে আরেকটি ফ্ল্যাট, বারিধারা ও গুলশান-২ এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট এবং গাজীপুরে প্রায় ২০ একর জমির মালিক তিনি। এছাড়াও নামে-বেনামে বিপুল ব্যাংক হিসাব ও অঘোষিত সম্পদের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে সাংবাদিকদের প্রতি তার আচরণ।
অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের জন্য আলাদা খাতা চালু করা হয়েছে। সেখানে নাম, পত্রিকার পরিচয়, আগমনের কারণ, কার সঙ্গে দেখা করবেন—সব বিস্তারিত লিখে দিতে হয়। এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া কোনো সাংবাদিককে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

এক ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, এক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর আমন্ত্রণে অফিসে গেলেও গেটে তাকে আটকে দেওয়া হয়। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ভেতরে ঢুকতেই শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা সরাসরি জানান, ড. আবু নাসের চৌধুরীর নির্দেশ ছাড়া সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি নেই। সেই সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মনে হচ্ছিল সরকারি অফিসে নয়, কোনো গোপন সামরিক স্থাপনায় ঢুকতে গেছি। জনগণের টাকায় পরিচালিত একটি সরকারি দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রবেশে এমন নজরদারি কেন ? ভয়টা কোথায় ?”

তিনি আরও জানান, শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে ফোন দেওয়ার পর আচরণ কিছুটা নরম হয়। এরপর নাম এন্ট্রি, স্বাক্ষর ও ভিজিটর কার্ড দিয়ে তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। পুরো ঘটনাকে তিনি “অপমানজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ” বলে মন্তব্য করেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন—একটি সরকারি দপ্তরে সাংবাদিক প্রবেশে এত অস্বাভাবিক কড়াকড়ির পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী? দুর্নীতি, টেন্ডার সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের তথ্য আড়াল করতেই কি এই ‘নিজস্ব আইন’ চালু করা হয়েছে?

এ বিষয়ে ড. আবু নাসের চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি নিজেই গণপূর্তে ঢোকার নিয়ম তৈরি করেছি।” সাংবাদিকদের প্রবেশে এত কড়াকড়ির কারণ জানতে চাইলে তিনি ধমকের সুরে কথা বলে ফোন কেটে দেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের কর্মচারীরা জনগণের সেবক মাত্র। রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য নয়। অথচ ড. আবু নাসের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রমাণ করে, তিনি যেন সরকারি দপ্তরকে ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে পরিণত করেছেন।

অভিযোগের পাহাড়, প্রভাবের বলয়, টেন্ডার সিন্ডিকেট, অস্বচ্ছ সম্পদের প্রশ্ন এবং পেশাদার সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে অঘোষিত বাধা—সব মিলিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে এখন যেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এক ভয়ংকর ‘দুর্গতন্ত্র’। আর সেই দুর্গের কেন্দ্রবিন্দুতে ঘুরপাক খাচ্ছে আলোচিত নাম—ড. আবু নাসের চৌধুরী।




পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করলো বিজেপি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার আওতায় রাজ্যজুড়ে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

বুধবার (১৩ মে) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে নির্ধারিত সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং পশু চিকিৎসকের দেওয়া ফিটনেস সনদ ছাড়া গরু, ষাঁড় বা মহিষের মতো কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই নিয়ম অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নতুন এই সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ স্বাক্ষর করা সনদ ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই বিধিনিষেধ গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর এবং স্ত্রী ও পুরুষ মহিষসহ সব ধরনের গবাদি পশুর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে সনদ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটি প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী হতে হবে। এ ছাড়া গুরুতর আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগের কারণে কোনো পশু স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তবেই সেটিকে জবাইয়ের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।

পশু জবাইয়ের জন্য স্থান নির্ধারণের বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করেছে রাজ্য সরকার বিজেপি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানেই জবাই করতে হবে। রাস্তাঘাট বা জনসমাগমপূর্ণ কোনো খোলা জায়গায় পশু জবাই করা এখন থেকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

নিয়মটি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করার জন্য পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তারা যেকোনো স্থাপনা বা চত্বর পরিদর্শন করতে পারবেন। এই পরিদর্শন কাজে বাধা দেওয়াকেও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।

শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, এই নতুন আইনের যেকোনো ধারা ভঙ্গ করলে অপরাধীকে এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা, ছয় মাসের জেল অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এ ছাড়া এই সংক্রান্ত সব ধরনের অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই এই আমূল পরিবর্তন আনা হলো। বিশেষ করে ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর জয় এবং নতুন সরকারের এই ত্বরিত সিদ্ধান্তগুলো পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি