শিক্ষার মান সম্পর্কে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্পষ্ট ধারণা নেই: শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ দেশে বর্তমানে পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও শতাধিক হলেও এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন কারিকুলাম ও আউট লার্নি নিয়ে কাজ করছেন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে বিদেশ থেকে শিক্ষকরা এসে পড়াতেন, শিক্ষার্থীরা আসতেন। এখন কিন্তু সে পর্যায়ে নেই। এখন দেশে ১১৬টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। ওপেন ইউনিভার্সিটি রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের
শিক্ষার মান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই। তাই শিক্ষাব্যবস্থা আবারও ঢেলে সাজাতে হবে।
পাবলিক ইউনিভার্সিটি বেড়ে ৫৭টিতে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কোয়ান্টিটিতে অনেক এগিয়ে গেছি। কোয়ালিটিতে কতটুকু পেরেছি, আমরা জানি না। তাই নীড বেসিস এডুকেশন নিয়ে ভাবতে হবে।



হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজঃ দেশে হাম এবং উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এরমধ্যে উপসর্গ নিয়ে ৬ এবং হামে ৩ শিশু মারা গেছে।

একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১১০৫ জন এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৭ শিশুর।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয় সোমবার (১১ মে) সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত উপাত্তের ভিত্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।




চট্টগ্রাম বন বিভাগে দুর্নীতির ছড়াছড়ি, বনভূমি দখল আর কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে তারা বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছে। বছরের পর বছর এসব অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্ত অনেক কর্মকর্তা পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। এতে বন বিভাগের ভেতরে ক্ষোভ ও অস্থিরতা বাড়ছে।

সাবেক বন সংরক্ষক (সিএফ) বিপুল কুমার দাশের সময় থেকেই নানা অনিয়ম নিয়ে আলোচনা ছিল। পরে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোল্ল্যা রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাদেকুর রহমানের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের দায়িত্বে আছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের ইচ্ছামতো রেঞ্জ পরিচালনা করছেন এবং বনভূমি দখল, গাছ কাটা ও অনিয়মের ঘটনায় কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

সম্প্রতি কক্সবাজারের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ অফিস থেকে মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে দ্রুত ১৪টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের আলোতেই গর্জন গাছ কেটে পাহাড়ি বনভূমি দখল করা হলেও বন বিভাগের কর্মকর্তারা রহস্যজনকভাবে নীরব ছিলেন। ঘটনাস্থলের খুব কাছেই রেঞ্জ অফিস থাকলেও দখল ঠেকাতে কোনো অভিযান চালানো হয়নি। এমনকি ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা বা বিট কর্মকর্তাদের এলাকাতেও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সংঘবদ্ধ একটি চক্র কয়েকদিন ধরেই বনভূমি দখলের কাজ চালায়। বন বিভাগের সামনেই গাছ কেটে ঘর নির্মাণ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা, বন কর্মকর্তাদের নীরব সমর্থন ছাড়া এত বড় দখল সম্ভব নয়। পরিবেশবাদীরাও আশঙ্কা করছেন, দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান না চালালে সংরক্ষিত বনভূমি স্থায়ীভাবে দখল হয়ে যেতে পারে।

এদিকে “সুফল (টেকসই বন ও জীবিকা)” প্রকল্পে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের একটি চক্রের বিরুদ্ধে। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী বাগান তৈরি না করেই প্রায় দেড় কোটি টাকার বেশি আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের ভেতরে আলোচনায় থাকলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান তদন্ত হয়নি। বরং প্রধান অভিযুক্তদের একজন সাদেকুর রহমানকে শাস্তি না দিয়ে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কুমিরা রেঞ্জে দ্রুত বর্ধনশীল বাগান তৈরির নামে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো হয়নি। পরিদর্শনে দেখা যায়, ১৭০ হেক্টর বাগানে জীবিত চারাগাছের হার ছিল মাত্র ৬০ শতাংশের কিছু বেশি, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ৮০ শতাংশ থাকার কথা। আরেকটি ১০ হেক্টরের বাগানে চারার হার পাওয়া যায় প্রায় ৫০ শতাংশ। এতে স্পষ্ট হয় যে প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের গাফিলতি ও অর্থ লোপাট হয়েছে।

এ ঘটনায় উপবন সংরক্ষক উম্মে হাবিবা চট্টগ্রাম বিভাগের বন কর্মকর্তাদের কাছে দায়ীদের তালিকা চেয়ে চিঠি পাঠালেও অভিযোগ রয়েছে, সেই তালিকা ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়। বন বিভাগের ভেতরে আলোচনা রয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বাঁচাতে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমনও অভিযোগ আছে যে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটকে প্রভাবিত করতে ঘুষ লেনদেন হয়েছে।

দুর্নীতির ঘটনায় যাদের নাম সামনে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন কক্সবাজার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান, উপবন সংরক্ষক (ডিসিএফ) এস.এম. কায়চার এবং সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জয়নাল আবেদীন। অভিযোগ রয়েছে, বনায়নের নামে বরাদ্দের টাকা তুলে নেওয়ার পর তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বদলি ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এস.এম. কায়চার বর্তমানে চট্টগ্রামে, সাদেকুর রহমান কক্সবাজারে এবং জয়নাল আবেদীন সিলেটের হবিগঞ্জে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাদেকুর রহমান দায় এড়িয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে এস.এম. কায়চারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। আর জয়নাল আবেদীন বলেন, তিনি অভিযুক্ত হওয়ায় এ বিষয়ে কিছু বলতে চান না।

সব মিলিয়ে বন বিভাগের ভেতরে দুর্নীতি, বনভূমি দখল, প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ এবং প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের যোগসাজশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবেশবাদী ও স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দেশের সংরক্ষিত বনভূমি আরও বড় হুমকির মুখে পড়বে।




কাপাসিয়া-চাঁদপুর সড়ক উঁচু করায় পানিবন্দী শতাধিক পরিবার, ড্রেন নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর আবেদন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কাপাসিয়া-চাঁদপুর সড়কটি নতুন করে সংস্কার ও উঁচু করে নির্মাণ করা হলেও এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করা এই ব্যস্ত সড়কের উন্নয়ন কাজকে ঘিরে এখন এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি আগের চেয়ে অনেক উঁচু করে নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে সড়কের দুই পাশের বসতবাড়িগুলো নিচু হয়ে পড়েছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়িঘরে পানি ঢুকছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাপাসিয়া থেকে চাঁদপুর যাওয়ার পথে মক্কা রাইচ মিল এলাকার সামনে সড়কটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। একটি অংশ গেছে রানীগঞ্জ বাজারের দিকে এবং অন্য অংশটি চাঁদপুর হয়ে কালীগঞ্জের জামালপুর এলাকায় সংযুক্ত হয়েছে। এই দুই সড়কের মাঝখানে প্রায় ১০০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে। নতুন করে সড়ক উঁচু করায় ওইসব পরিবার এখন মারাত্মক জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের সময় তাদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পানি বের হওয়ার কোনো পথ না থাকায় কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়ির উঠান ও ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সামনে ভারী বর্ষণ শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এবং শত শত পরিবার দীর্ঘমেয়াদে পানিবন্দী হয়ে পড়বে।

ভুক্তভোগীরা জানান, মক্কা রাইচ মিল থেকে প্রায় ২০০ গজ সামনে একটি পুরোনো ড্রেন রয়েছে। যদি নতুন সড়কের সঙ্গে সেই ড্রেন সংযোগ করে একটি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়, তাহলে পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে। তাদের দাবি, দ্রুত ড্রেন নির্মাণ না করলে শুধু মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বর্ষার পানির চাপে নতুন সংস্কার করা সড়কটিও অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ইতোমধ্যে গাজীপুর এলজিইডির প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। তারা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, জনগণের সুবিধার জন্য সড়ক সংস্কার করা হলেও সেই উন্নয়ন যদি মানুষের জন্য নতুন দুর্ভোগ তৈরি করে, তাহলে এমন উন্নয়নের কোনো অর্থ থাকে না। তাদের একটাই দাবি—সড়কের একপাশ দিয়ে দ্রুত একটি ড্রেন নির্মাণ করে এলাকাবাসীকে জলাবদ্ধতার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা হোক।




হরমুজ পাড়ি দিতে ইরানের ‘নতুন নিয়ম’, অনুমতি ছাড়া চলবে না কোনো জাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছে ইরান। এখন থেকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে চাইলে প্রতিটি জাহাজকে আগে তেহরানের অনুমতি নিতে হবে এবং নির্ধারিত টোল পরিশোধ করতে হবে।

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথে যেকোনো পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল তেহরান। সেই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়।

এবার সেই প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে নতুন আইনি ও নিরাপত্তা কাঠামো চালু করেছে ইরান। নৌপরিবহনবিষয়ক সাময়িকী ‘লয়েডস লিস্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ (পিজিএসএ)’ ইতোমধ্যে নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। এর আওতায় হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে ইচ্ছুক সব জাহাজকে আগে অনুমতি নিতে হবে এবং টোল পরিশোধ করতে হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে ‘নৌযান তথ্য ঘোষণা’ ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে। এতে জাহাজের মালিকানা, বীমা, ক্রু সদস্য, বহন করা পণ্য, কোন বন্দর থেকে যাত্রা শুরু হয়েছে, কোথায় যাবে— এসবসহ ৪০টিরও বেশি তথ্য দিতে হবে। সব তথ্য যাচাইয়ের পরই মিলবে চলাচলের অনুমতি।

তবে টোলের পরিমাণ কী হবে বা কোন ভিত্তিতে তা নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

মঙ্গলবার ইরানের প্রেস টিভি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর ‘সার্বভৌম কর্তৃত্ব’ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মাবলি বিভিন্ন জাহাজ কর্তৃপক্ষের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়।
একইসঙ্গে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে তার সম্পূর্ণ দায় আবেদনকারী জাহাজ কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে। তবে কোনো দেশ বিশেষ সুবিধা পাবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি তেহরান।

এর আগে, গত শনিবার ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি এক্স-এ একটি পোস্টে বলেন, ‘যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তাদের জন্য হরমুজ প্রণালি ব্যবহার সহজ হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালিতে নতুন আইনি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছি। এখন থেকে কোনো নৌযান এই পথ ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।’

সূত্র : এনডিটিভি




১৩ রানের জন্য বিশ্ব রেকর্ড হাতছাড়া করলেন শান্ত

ক্রীড়া ডেস্কঃ চলমান মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় ইনিংসেও শতকের খুব কাছে গিয়েছিলেন তিনি। তবে ১৩ রানের জন্য ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি মিস করেছেন এই টাইগার অধিনায়ক। সেইসঙ্গে বিশ্ব রেকর্ডও হাতছাড়া করেছেন শান্ত।

পাকিস্তানকে বড় টার্গেট দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যাট করছিল বাংলাদেশ। এবারও অধিনায়ক শান্ত ব্যাট হাতে নেতৃত্বের কাতারে। কিন্তু বাঁ-হাতি স্পিনার নোমান আলির বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে মিস করেছেন তিনি। ফলে বল তার প্যাডে আঘাত করলে আবেদনে সাড়া দিয়ে লেগ বিফোর আউটের সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিলেও লাভ হয়নি শান্ত’র। ১৫০ বলে তাকে ৮৭ রানে ক্রিজ ছাড়তে হয়েছে।

এর আগে টেস্ট ক্যারিয়ারে দু’বার দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করার রেকর্ড রয়েছে শান্ত’র। ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই মিরপুরেই তিনি যথাক্রমে ১৪৬ এবং ১২৪ রানের দুটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন। এরপর ২০২৫ সালের জুনেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেন শান্ত। খেলেছেন ১৪৮ এবং ১২৫ রানের ইনিংস।

মিরপুরে দ্বিতীয় এবং সবমিলিয়ে তৃতীয়বার টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরির কাছাকাছি ছিলেন শান্ত। তেমন কিছু হলে বিশ্বের মাত্র চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে তিন টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ডে নাম লেখাতেন টাইগার অধিনায়ক। আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ারে কেবল তিন ক্রিকেটার তিনবার করে এই কীর্তি গড়েছেন– সুনীল গাভাস্কার, রিকি পন্টিং ও ডেভিড ওয়ার্নার। ১৩ রানের জন্য সেই রেকর্ডে ভাগ বসানোর সুযোগ হাতছাড়া হলো শান্ত’র।




এখনো বিপৎসীমার ওপরে দুই নদীর পানি

ডেস্ক নিউজঃ এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুটি নদীর পানি। ফলে সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণার বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। মঙ্গলবার (১২ মে) এমন তথ্য জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়নি।
আজ সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় উত্তর পূর্বাঞ্চলের হাওর বেসিনের দুটি জেলার দুটি নদীর দুটি স্টেশনে পানি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরে নলজুর নদীর পানি তিন সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও নেত্রকোনা জেলার মগরা নদীর পাসি ২৩ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার আট সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের নদীগুলোর পানির সমতল ঘণ্টায় শূন্য থেকে এক সেন্টিমিটার হারে ধীরগতিতে কমছে।




‘একটা সময় দেখতাম সবাই আওয়ামী লীগ করে, এখন দেখি কেউই করে না’

ক্রীড়া ডেস্কঃ বাংলাদেশের ক্রিকেট ও রাজনীতি অঙ্গন নিয়েই সম্প্রতি খোলামেলা কথা বলেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সঙ্গে থাকা এই ক্রিকেটার সম্প্রতি ‘সিম্পলি সাঈদ’ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান, দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা, ক্রিকেট বোর্ডের ভবিষ্যৎ এবং ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেন। 

তিনি বলেন, ‘একটা সময় দেখতাম যে সবাই আওয়ামী লীগ করে, আর এখন দেখি যে কেউই আওয়ামী লীগ করে না। এরকম একটা অবস্থা।’

আগামীতে দেশে ফিরলে প্রথমে কোথায় যাবেন, মিরপুর স্টেডিয়াম নাকি নিজ জেলা মাগুরা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন তো ঢাকায় পা রাখাটাই সবচেয়ে বড় চিন্তা।’

সাক্ষাৎকারে ‘আপনার সাবেক টিমমেট, আপনার বন্ধু তামিম ইকবাল বোর্ড সভাপতি। তিনি নতুন কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন কিনা?’ এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ইলেকশন করার পরে আসলে যে বোর্ডটা আসবে, তাদের হয়তো হাতে চিন্তাভাবনা করে ডিসিশনটা নেওয়ার অনেক সময় থাকবে।’

রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার জবাবে সাকিব বলেন, ‘আমি মনে করি যে আমি ভুল কিছু করি নাই।’  খেলোয়াড়ি জীবনেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কখনো মাগুরাতে সাকিব আল হাসান হইনি। আমি সবসময় মাগুরাতে ফয়সালেই ছিলাম।’




মুখ্যমন্ত্রী হয়েই ৭১৭টি মদের দোকান বন্ধ করলো বিজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তামিলনাড়ুর নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় ওরফে ‘থালাপতি’ বিজয় নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রথম দিনেই রাজ্যজুড়ে ৭০০-র বেশি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ জারি করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং কর্পোরেশন (টাসম্যাক) পরিচালিত ৭১৭টি মদের দোকান অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই দোকানগুলো মূলত বিভিন্ন মন্দির, মসজিদ, গির্জা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বাস স্ট্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত ছিল।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে টাসম্যাকের অধীনে ৪ হাজার ৭৬৫টি মদের দোকান রয়েছে। বিজয় নির্দেশ দিয়েছেন যে, কোনো ধর্মীয় স্থান, স্কুল, কলেজ বা জনবহুল বাস স্ট্যান্ডের ৫০ মিটারের মধ্যে মদের দোকান রাখা যাবে না। বন্ধ হতে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে ২৭৬টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে, ১৮৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে এবং ২৫৫টি বাস স্ট্যান্ডের আশেপাশে অবস্থিত।

গত রবিবার ৫১ বছর বয়সী এই অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার রাজনৈতিক দল টিভিকে (তামিলনাড়ু ভেট্টি কাজাগাম) এবারের নির্বাচনে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী আধিপত্য ভেঙে দিয়ে এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে।

কংগ্রেস, বামপন্থী দলসমূহ এবং মুসলিম লিগের মতো বিভিন্ন পক্ষের সমর্থন নিয়ে বিজয়ের নেতৃত্বে তামিলনাড়ুর ইতিহাসে প্রথমবার একটি জোট সরকার গঠিত হয়েছে। ক্ষমতা লাভের পর থেকে তিনি সামাজিক সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন, যার অংশ হিসেবেই এই বিশাল সংখ্যক মদের দোকান বন্ধের সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিজয় জনকল্যাণমূলক বেশ কিছু কাজের অনুমোদন দিয়েছেন, যার মধ্যে বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রদান এবং মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনী গঠন অন্যতম। এছাড়া জেলাগুলোতে মাদক বিরোধী বিশেষ ইউনিট গড়ার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছেন তিনি। তবে মদের দোকান বন্ধের ফলে রাজ্য সরকারের বিপুল আয়ে টান পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক বিশ্লেষক।

তারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে প্রভাব পড়তে পারে। তা সত্ত্বেও ডিএমকে আমলের অর্থনীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের যে ঘোষণা বিজয় দিয়েছেন, তা নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও চর্চা চলছে।

সূত্র: এবিপি




মুখস্থ বিদ্যা ও সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কর্মসংস্থানের নতুন বাজারে প্রবেশ করতে হলে আমাদেরকে মুখস্থ বিদ্যা এবং সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও টেকসই রূপান্তর নিয়ে ইউজিসির জাতীয় কর্মশালা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। কারণ, শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। কারিকুলাম প্রণয়নে শিল্পখাতের চাহিদাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বিশ্ববাসীর সামনে যে বার্তাটি স্পষ্ট করেছে, সেটি হলো শিক্ষা কেবল স্কুল-কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে জ্ঞানের চর্চা কেবল একটি নির্দিষ্ট বিষয়েই আবদ্ধ নয়।  বরং আমরা দেখি, ডাটা সায়েন্সের সাথে বায়োলজি, বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে হয়তো সমাজবিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটছে। এই সংযোগের ফলে জ্ঞানের সীমানা প্রতিনিয়ত প্রসারিত ও গতিশীল হচ্ছে। এই পরিবর্তনের গতি প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের নিবিড় সম্পর্ক থাকা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে পা দিয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চলমান এই সময়ে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডাটা, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স, ন্যানো টেকনোলজি, পঞ্চম প্রজন্মের ওয়্যারলেস প্রযুক্তি, এইসব উন্নততর প্রযুক্তি একদিকে আমাদের আমাদের চিন্তার জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে, অপরদিকে শাসন করছে মানুষের কর্মক্ষেত্র বা কর্মসংস্থান। এর ফলে নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার একদিকে প্রথাগত চাকুরীর বাজারে বেকারত্ব বাড়াচ্ছে  অন্যদিকে তৈরি করছে নিত্য নতুন কর্মসংস্থান।

তারেক রহমান বলেন, দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে  বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছুতে পারেনি। র‍্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবন এই বিষয়গুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। সেই ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোথায় এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের শিক্ষাবিদগণ নিশ্চয় আরও চিন্তাভাবনা করবেন। শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা এবং উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন কিংবা গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি জানি, ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশেই যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই তাদের অনেকেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গবেষণা এবং উদ্ভাবন’ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে  পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। এ জন্যই অনেকে বলে থাকেন, “শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্তমানে  যারা দেশে বিদেশে জ্ঞানে বিজ্ঞানে অর্থ বিত্তে প্রতিষ্ঠিত সেইসব এলামনাইদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণা’ উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ  নেয়ার জন্য আমি উপস্থিত শিক্ষাবিদদের প্রতি বিনীত আহবান জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরও একটি বিষয়ের দিকে আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতিবছর প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চ শিক্ষা নিয়েও অনেককে বেকার থাকতে হয়। অর্থাৎ বেকারত্বের সংখ্যা উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেশি। এর কারণ সম্পর্কে নানামত রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে অনেকেই একমত  একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই শিক্ষিত মধ্যে বেকারত্বের হার বেশির অন্যতম কারণ।

বর্তমান সরকার মনে করে, প্রাথমিক সিলেবাসে থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত আমাদের শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন সম্ভব নয়। সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। এ কারণেই বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার এপ্রেন্টিসশীপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ড্রাষ্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর জন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপন করে এই কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীগণ পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি হাতে কলমে শিক্ষা লাভ করে শিক্ষার্থী অবস্থাতেই কর্মদক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। ফলে শিক্ষা জীবন শেষে তাকে আর বেকার থাকতে হবেনা।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদান করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর  উদ্দেশ্য হচ্ছে,  ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরি করা। ফলে এই উদ্যোক্তারা নতুন এবং সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন। শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কর্মদক্ষতা অর্জনের ফলে এমনও হতে পারে একজন শিক্ষার্থী চাকুরীর জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আরও কয়েকজনের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন।

এসব উদ্যোগ ছাড়াও সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইন্সটিটিউট’, ‘সায়েন্স পার্ক’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বেও ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান মেলা, ইনোভেশন ফেয়ার, প্রোডাক্ট সোর্সিং ফেয়ারসহ এ ধরণের শিক্ষা ও দক্ষতা বিষয়ক আয়োজনকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।  শুধু উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই সরকার শিক্ষা কারিকুলামে কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা  বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে।