নৈশ প্রহরী থেকে কোটি টাকার মালিক! কর বিভাগের কর্মচারীর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিস্ফোরক তথ্য

এসএম বদরুল আলমঃ মো: জুলহাস উদ্দিন আহমেদ কর বিভাগে নৈশ প্রহরী হিসেবে চাকুরীতে প্রথম যোগদান করেন ২৩ মে ১৯৯৩ সালে। একই বিভাগে ৭ বছর চাকরি করার পর ১০ সেপ্টেম্বর ২০০০ সালে অফিস সহায়ক ( পিয়ন ) পদে প্রথম পদোন্নতি পান। একটানা একই বিভাগে ২৫ বছর চাকরি করেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকার থাকাকালীন “অফিস সহকারী কাম কমপিউটার মুদ্রাক্ষরিক ” পদে ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে দ্বিতীয় পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে তিনি কর অঞ্চল – ৩, সার্কেল – ৫৯, পুরানা পল্টন ঢাকায় নিয়মিত চাকরি করে যাচ্ছেন। উনার বর্তমান মাসিক বেতন সর্বসাকুল্যে ২২,৪৯০ টাকা।

 

354

 

জুলহাস উদ্দিন আহমেদ ভূয়া ঠিকানায় চাকরি নিয়েছেন মর্মে অনুসন্ধানী প্রতিবেদকের হাতে বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত ও প্রমান আসে। উনার সম্পর্কে বিভিন্ন ভাবে অনুসন্ধান করে জানা যায় তিনি সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাগজ-পত্র জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা মানিকগঞ্জ জেলা দেখিয়ে সরকারী চাকরি বাগিয়ে নেন। পরবর্তীতে চাকরি স্থায়ী করনের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশনে তিনি ঘুষের মাধ্যমে পুলিশকে ম্যানেজ করে মানিকগঞ্জের ভূয়া স্থায়ী ঠিকানাকে সঠিক স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়ে পুলিশ তদন্ত রিপোর্টটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়ান। সংশ্লিষ্ট দপ্তর পুলিশ তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী উনার চাকরি স্থায়ী করন করেন।

জুলহাস উদ্দিন সম্পর্কে মানিকগঞ্জ জেলায় অনুসন্ধান চালানো হলে তার কোন স্থায়ী ঠিকানার অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদকের হাতের তথ্য-উপাত্ত ও খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, উনার সঠিক স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম / রাস্তা ৯৯৯, ডাকঘর – সুলতানপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, জেলা – ব্রাহ্মণবাড়িয়া। যাহা উনার এন আই ডি পূর্বের নাম্বার ১৯৭৩২৬৯৩৬২৫৬৮৮৭২৯ এবং বর্তমান স্মার্ট কার্ড নাম্বার ৬৪০০৭১৫১২১ অনুযায়ী সত্যতা পাওয়া যায়।

এসব করে এখানেই তিনি ক্ষ্যান্ত হননি, চাকরি চলাকালীন অবস্থায় নিয়মিত ভাবে সরকারের সাথে প্রতারণা করেই যাচ্ছেন। বাংলাদেশ সরকার প্রত্যেক সরকারী কর্মকর্তা –
কর্মচারীদের আয়কর রির্টান জমা বাধ্যতামূলক করেছে । নতুন TIN ( ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টি নাম্বার ) যখন অনলাইন থেকে বের করা হয়। সেক্ষেত্রে ফরম পুরনের সময় পেশা সরকারী চাকুরীজীবি এবং কর্মস্থল ঢাকা দেখালে সয়ংক্রিয় ভাবে কর অঞ্চল – ৪ অন্তর্ভুক্ত হবে। এই কর অঞ্চলেই ঢাকায় অবস্থানরত সকল সরকারী চাকুরীজীবি আয়কর রির্টান জমা করে থাকেন।

কিন্তু জুলহাস উদ্দিন আহমেদের ৩৪ বছর ধরে নিজের কর্মস্থল কর অঞ্চল – ৩ হওয়ায় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে লাগাতার একই জায়গায় চাকরি করে যাচ্ছেন। সব নিয়ম যেন তার হাতের মুঠোয়।কিন্তু তিনি সরকারকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে নিজের রাজ্য কর অঞ্চল -৩, সার্কেল – ৬২ থেকেই নতুন TIN অনলাইন থেকে বের করেন। সব অনিয়ম তার কাছে এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে। দেখার যেন কেউ নেই।
সরাসরি সাক্ষাৎকারে উনার কাছে ভুয়া ঠিকানা ও এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার ভুল হয়েছে।

বিষয়টি এখানেই শেষ নয়, উনার TIN সার্টিফিকেট যাচাই করে দেখা যায় রাজধানী ঢাকাতেও উনার একটি স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে উনার স্থায়ী ঠিকানা হলো ৩ টি। প্রশ্ন থেকে যায় – একই ব্যাক্তির স্থায়ী ঠিকানা কয়টি হতে পারে ? মুলত এর ভিতরে রহস্য কি ? হ্যাঁ গভীরে আরো রহস্য লুকিয়ে আছে।

জুলহাস উদ্দিন আহমেদের ভূয়া ঠিকানায় চাকরি, সরকারের সাথে প্রতারণা ও একাধিক স্থায়ী ঠিকানার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে কেচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে এলো। তিনি গোপনে গড়েছেন টাকার পাহাড় ও নামে বেনামে সম্পদের পাহাড়। ঢাকার স্থায়ী ঠিকানার সূত্র ধরে অনুসন্ধানে জানা যায় – খিলগাও দক্ষীন বনশ্রী মেইন রোড এইচ ব্লকে বাড়ি নং – ৩ তার নিকট আত্তীয়ের নামে কিনেছেন কোটি টাকার ফ্ল্যাট। তার সঠিক স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সুলতানপুরে তার নিজের নামে ও ভাইদের নামে গড়েছেন রাজকীয় প্রাসাদ। এবং বাড়ির ভিতর রয়েছে অভিজাত ফার্নিচার। নিকট আত্তীয় স্বজনের নামে কিনেছেন প্রচুর জায়গা জমি। ৭ ভাইয়ের মধ্যে তিনি তার সবচেয়ে ছোট ভাইকে পাঠিয়েছেন আমেরিকার টেক্সাসে। অন্য আরেক ভাইকে পাঠিয়েছেন সৌদিআরবে।

 

657

 

জুলহাস উদ্দিন আহমেদ ২ মেয়ে ১ ছেলের পিতা। ছেলেকে দেশের সুনামধন্য প্রাইভেট ইষ্ট ওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করিয়েছেন। শুধু তাই নয় – সেখানে পড়াশোনা সম্পন্ন করার পর বর্তমানে উনার ছেলেকে লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করাচ্ছেন। উনার সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে উনাকে যখন প্রশ্ন করা হয় – ৭ বছর নৈশ প্রহরী এবং ২৫ বছর যাবৎ আপনি পিয়ন পদে চাকরি করেছেন। তখন আপনার মাসিক বেতন কত ছিল ? উত্তরে তিনি বলেন – পূর্বে অতি সামান্য বেতন থাকলেও তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার টাকায়। ছেলেকে ইষ্ট ওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটির খরচ এবং লন্ডনে পড়াশোনা করতে যাওয়ার খরচ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে উনি কোন সদ উত্তর না দিয়ে রেগে যান এবং বলেন – আপনারা যা পারেন নিউজ করেন!

তার সম্পর্কে আরও বিভিন্ন ভাবে অনুসন্ধান করে প্রমান পাওয়া যায়, তিনি সুলতানপুর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খেলাধুলার অনুষ্ঠান, স্কুলের অনুষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ডোনেশন করে বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে বসেন এবং উপহার সামগ্রী ও অনুদান বিতরন করেন।

 

786

 

এসব বিষয়ে সরাসরি উনাকে প্রশ্ন করা হয় যে – আপনি বেতন পান ১৬ হাজার টাকা। কিন্তু বাস্তব চিত্রে আপনার মাসিক খরচ লাখ লাখ টাকা। বাকী টাকাগুলো আপনার কোথা থেকে আসে ? তিনি উত্তর না দিয়ে প্রতিবেদকের উপর রেগে যান।

দেশের সচেতন মহলের দাবি, এই ধরনের অসাধু কর্মচারী রাষ্ট্রের জন্য খুবই ভয়ংকর। তার সমস্ত অপরাধের বিষয় গুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষ আমলে নিবেন এবং আশাবাদী যথাযথ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তির ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন।




এসএসসির নবম দিনের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৩১ হাজার, বহিষ্কার ৯

ডেস্ক নিউজঃ আজ নবম দিনের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৩১ হাজার ৮৯৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। একইসঙ্গে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে সারাদেশে মোট ৯ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রবিবার (১০ মে) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, আজ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডে হাদিস শরিফ এবং কারিগরি বোর্ডে রসায়ন-২ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজকের পরীক্ষায় মোট ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৫৭১ জন পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ১৫ লাখ ৮ হাজার ৬৬৩ জন।

এরমধ্যে ঢাকা বোর্ডে ৩ লাখ ৫ হাজার ১৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৩ লাখ ১ হাজার ৬৫১ জন। অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ৫০১ জন। কুমিল্লা বোর্ডে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৭ জন। অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ৩০৬ জন। এছাড়া যশোর বোর্ডে ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৭২৩ জন। অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ৬২৮ জন। রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৫০ হাজার ১৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশগ্রহণ করেছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ জন। অনুপস্থিত ছিলে ১ হাজার ৯৬৮ জন পরীক্ষার্থী।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ লাখ ১০ হাজার ৯২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৭১৪ জন। অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ২১৩ জন। বরিশাল বোর্ডে ৬৮ হাজার ১৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ৬৬ হাজার ৮২৮ জন। অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ৩৫৯ জন। দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ২৯ জন। অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ৩৬৩ জন। আর ময়মনসিংহ বোর্ডে ৮২ হাজার ৩৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ৮১ হাজার ৪০০ জন। অনুপস্থিত ছিল ৯৭৭ জন। সিলেট বোর্ডে ৭১ হাজার ৪৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ৭০ হাজার ৬৮৪ জন। অনুপস্থিত ছিলে ৭৯৮ জন।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে। এই বোর্ডে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৮১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩ হাজার ৭৯৭ জন অনুপস্থিত ছিল, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ। সর্বশেষ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ৯৮৮ জন (৩ দশমিক ২২ শতাংশ)।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আজকের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে সারাদেশে মোট ৯ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদ্রাসা বোর্ডে ৩ জন, ঢাকা ও যশোর বোর্ডে ২ জন করে এবং সিলেট ও কারিগরি বোর্ডে ১ জন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। তবে আজকের পরীক্ষায় কোনো পরিদর্শক বহিষ্কৃত হননি বলে জানা গেছে।




নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ বাহিনী গঠনের আদেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই তামিলাগা ভেত্রি কাজাগামের (টিভিকে) সভাপতি ও রাজ্যটির নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থালাপতি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি তার প্রথম বক্তব্যেই বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আলাদা বাহিনী গঠনের কথা জানান।

রোববার (১০ মে) শপথ নিয়ে প্রথম সরকারি আদেশে সই করেছেন থালাপতি বিজয়। খবর এনডিটিভির।

শপথ গ্রহণের পরেই তিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় বা বিনামূল্যে প্রদান করার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং নারীদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনী গঠন করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

থালাপতি বলেন, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানির মতো মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতিও তার পূর্ণ মনোযোগ থাকবে। কৃষক ও জেলেদের দেখভাল করা হবে। সবকিছু ভালো হবে।’

তিনি বলেন, ‘একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে। আমি দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কী, তা জানি। আমি কোনো রাজকীয় পরিবার থেকে আসিনি। জীবনে অনেক কষ্ট সহ্য করেছি, অনেক মানুষ অপমান করেছে। আমি আপনাদের সন্তানের মতো, ভাইয়ের মতো। আপনারা আমাকে হৃদয়ে জায়গা দিয়েছেন, গ্রহণ করেছেন।’

এসময় জনগণকে মিথ্যা আশ্বাস না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থালাপতি বলেন, ‘ডিএমকে রাজ্যের কোষাগার পরিষ্কার করেছে এবং আমরা ১০ লাখ কোটি রুপির ঋণ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমরা জনগণের তহবিল থেকে একটি পয়সাও নেব না এবং আমরা কাউকে রাজ্য লুট করতে দেব না।’

জানা যায়, স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ নেন থালাপতি বিজয়। তামিলনাড়ুর গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শপথ পড়ান। শপথ নেন নতুন সরকারের নয়জন মন্ত্রীও।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতিক ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাও এসেছিলেন।




হরিণ বিক্রির ঘোষণা, কেনা যাবে ৫০ হাজার টাকায়

ডেস্ক নিউজঃ হরিণ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) পরিচালিত কেন্দ্রীয় উদ্যান ও বোটানিক্যাল গার্ডেন কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, বর্তমানে উদ্যানে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি হরিণ রয়েছে। বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি হরিণের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা প্রয়োজন হলেও সেই মান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অতিরিক্ত হরিণগুলোকে নির্ধারিত মূল্য ও শর্তসাপেক্ষে হস্তান্তর বা বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাসিকের ভেটেরিনারি সার্জন ড. ফরহাদ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে উদ্যানে প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট জায়গায় হরিণের জন্য সেড রয়েছে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে সর্বোচ্চ ৮০-৮৫টি হরিণ রাখা সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে ১২৯টি হরিণ রয়েছে, যা ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করছে। তাই বাড়তি হরিণগুলো আমরা নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও আমরা নিয়ম মেনে বিক্রি করেছি। তবে বন বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে অতিরিক্ত হরিণ বিক্রি বা হস্তান্তর করা হবে এবং যিনি কিনবেন তার অবশ্যই সুনির্দিষ্ট লাইসেন্স থাকতে হবে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে হরিণগুলো বিক্রি করা যেতে পারে। তবে শর্ত থাকবে, এসব হরিণ কোনোভাবেই জবাই করা যাবে না এবং কেবলমাত্র লালন-পালনের উদ্দেশ্যেই রাখা যাবে।

রাসিক সূত্রে জানা গেছে, এবার উদ্যানটিকে ‘বার্ড পার্ক’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে পুরো এলাকাকে পাখিভিত্তিক আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র ও অভয়ারণ্যে রূপান্তর করা হবে। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি রঙিন পাখি আনা, পাখিদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।




ইরানে হামলায় ইরাকে গোপন সামরিক ঘাঁটি বানিয়েছিল ইসরায়েল: রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে হামলার জন্য ইরাকের মরু অঞ্চলে একটি গোপন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল ইসরায়েল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এমনটিই দাবি করা হয়েছে। শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর কিছুদিন আগে ঘাঁটিটি তৈরি করা হয়। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রও জানে। ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী ওই ঘাঁটিকে দেশটির বিমানবাহিনীর জন্য লজিস্টিক সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতো।

সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ঘাঁটিটির অবস্থান ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে ইসরায়েলি বাহিনী ইরাকি সেনাদের ওপর বিমান হামলা চালায়। কারণ, ইরাকি সেনারা ওই এলাকায় সন্দেহজনক সামরিক তৎপরতার খবর পেয়ে তদন্তে এগোচ্ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চের শুরুতে এক রাখাল ওই এলাকায় হেলিকপ্টার চলাচলসহ অস্বাভাবিক সামরিক কার্যক্রম দেখতে পান। পরে ইরাকের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ হলে দেশটির সেনারা তদন্ত শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়ে ইরাকি বাহিনীকে ঘাঁটির কাছাকাছি পৌঁছাতে বাধা দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এক ইরাকি সেনা নিহত হন। তখন ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের উপ-প্রধান কাইস আল-মুহাম্মাদাওয়ী বলেন, “কোনও সমন্বয় বা অনুমোদন ছাড়াই এই বেপরোয়া অভিযান চালানো হয়েছে।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গোপন ওই ঘাঁটিতে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলও মোতায়েন ছিল, যাতে যুদ্ধের সময় ভূপাতিত ইসরায়েলি পাইলটদের উদ্ধার করা যায়। যদিও শেষ পর্যন্ত এ ধরনের কোনও উদ্ধার অভিযানের প্রয়োজন হয়নি।

এছাড়া ইসফাহানের কাছে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ইসরায়েল সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীই দুই ক্রুকে উদ্ধার করে। ওই সময় উদ্ধার অভিযান নিরাপদ করতে ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।

তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা শুরু করে। ইরানও তাক্ষণিক পাল্টা হামলা শুরু করে। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা গুড়িয়ে দেয় ইরানি বাহিনী। এতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় তেহরান।

পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী সমঝোতা এখনও হয়নি। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন, যদিও নতুন কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নালআনাদোলু এজেন্সি




রাজারবাগে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১০ মে) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক প্যারেড অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চারদিনব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে এসে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্যারেড কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত আইজিপি একেএম আওলাদ হোসেন এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির তাঁকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী একটি লাল-সবুজ খোলা জিপে চড়ে পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল, দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণাঢ্য প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য রাখবেন।

এ সময় পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ব্যাকগ্রাউন্ড উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয়।

এবারের বার্ষিক প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি সরকারের আমলে এটিই প্রথম পুলিশ সপ্তাহ।

বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশের অতিরিক্ত আইজিগণ, বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপারসহ নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত রয়েছেন।

আজ শুরু হওয়া পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্মসূচি আগামী ১৩ মে পর্যন্ত চলবে।




দেশের আট জেলায় বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা জারি

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের আট জেলার উপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রোববার (১০ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের আরেক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এসময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত না হওয়ার জন্য বিএনপির কর্মসূচি আগে শেষ করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ বিয়ের অনুষ্ঠানে যেন কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সে কথা বিবেচনায় রেখে বিএনপির নির্ধারিত কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জানা গেছে, একই মিলনায়তনে সন্ধ্যায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার নির্দেশ দেন।

পরে তিনি নবদম্পতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং বর-কনেকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।

এ সময় উপস্থিত অতিথিরা প্রধানমন্ত্রীর এ মানবিক ও সৌজন্যমূলক আচরণের প্রশংসা করেন। অনেকেই বলেন, ব্যস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আয়োজন ও অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন তার দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় বহন করে।




সরকার গঠনের অনুমতিপত্র নিতে ১ ঘণ্টা বসে ছিলেন থালাপতি বিজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রোববার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন থালাপতি বিজয়। শনিবার রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছ থেকে সরকার গঠনের অনুমতি নেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন থালাপতি। এ সময় তিনি জানান, আরও দুটি রাজনৈতিক দল তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর ফলে তার দল টিভিকে ও জোটের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০-এ। পরে তিনি সরকার গঠনের অনুমতি চান।

তবে সমর্থনের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করেন রাজ্যপাল। বিশেষ করে ভিসেকে ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল)-এর দেওয়া সমর্থনপত্রের সত্যতা পরীক্ষা করা হয়।

এর আগে ভারতীয় কংগ্রেস, সিপিআই এবং সিপিআই (এম)সহ তিনটি বামপন্থি দলও থালাপতি বিজয়ের প্রতি সমর্থন জানায়। তাদের দেওয়া চিঠিগুলোও আগেই যাচাই করা হয়েছিল।

যাচাই শেষে থালাপতি বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন বলে নিশ্চিত হন রাজ্যপাল। পরে তিনি শপথ গ্রহণের সময় ও তারিখ সম্পর্কে জানতে চাইলে থালাপতি জানান, রোববার সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ নেবেন তিনি।

এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, রাজ্যপাল প্রথমে থালাপতিকে জানান, এক ঘণ্টার মধ্যে সরকার গঠনের আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে থালাপতি অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে এক ঘণ্টা পর নিজ হাতে আমন্ত্রণপত্র নিয়ে রাজভবন ত্যাগ করেন তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি




আমরা কারিকুলাম ও সিলেবাস চেঞ্জ করার ব্যবস্থা করছি: শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ শুধু জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক প্রথাগত শিক্ষা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না, আমাদের নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ জন্যে আমরা কারিকুলাম ও সিলেবাস চেঞ্জ করার ব্যবস্থা করছি বলেও জানান তিনি।

শনিবার (৯ মে) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন সহযোগিতা ফোরাম-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের উদ্যোগে এবং চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সমিতির ব্যবস্থাপনায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শিল্প এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নেই। এই শূন্যতা দূর করতে হবে। আমাদের বিশাল জনশক্তিকে আমরা দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে চাই, যারা সরাসরি কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে।’

ড. মিলন বলেন, ‘আমরা গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতে এখনও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। তবে এটি অর্জনে যা যা প্রয়োজন, বর্তমান তারেক রহমানের সরকার সবই করবে। শিক্ষকদের উদ্দেশে আমার আহ্বান—শুধু বছর শেষে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। প্রতিদিনের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।’

চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চীনের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত এবং খুব বেশি ব্যয়বহুল নয়। বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সেখানে সফলভাবে পড়াশোনা করছে।’

তিনি বলেন, বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা সরকার থেকে ‘তৃতীয় ভাষা’ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছি। বিশেষ করে চীনা ভাষা শিখলে আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও উচ্চশিক্ষার বিশাল দুয়ার উন্মোচিত হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে সরকার ইতিমধ্যে পাঠ্যক্রম ও একাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনছে। চীনের সঙ্গে শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

আরও বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক; বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ; বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. বদরুজ্জামান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

ফোরামে দু’দেশের শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং চীন ও বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।