সরকারি চাকরিজীবীদের শেষ কর্মদিবস আজ, সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের দীর্ঘ ছুটি

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহার আগে আজ রোববার সরকারি চাকরিজীবীদের শেষ কর্মদিবস। ঈদ উপলক্ষ্যে সোমবার (২৫ মে) থেকে শুরু হচ্ছে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি।

২৮ মে ঈদুল আজহা ধরে আগে থেকেই ৬ দিনের ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছিল সরকার।

ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২৮ মে ঈদুল আজহার দিন সাধারণ ছুটি।

ঈদুল আজহার আগে ২৬ ও ২৭ মে দুদিন এবং পরে ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত তিনদিনসহ মোট পাঁচদিন নির্বাহী আদেশে ছুটি।

তবে আগের অভিজ্ঞতার আলোকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গত ৭ মে ছুটি আরও একদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিসভা। ওইদিন মন্ত্রিসভা বৈঠকে ২৫ মে ছুটি ঘোষণা ও এর আগে ২৩ ও ২৪ মে অফিস খোলা রাখার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

এরপর ১৪ মে ঈদুল আজহায় সাত দিনের ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশের সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মোট ৭ দিন বন্ধ থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জরুরি পরিষেবা যেমন- বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এ সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে।

হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এ সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী এবং ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মীরা এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অফিসগুলোও এই ছুটির আওতা বাইরে থাকবে।

আগামী ২৮ মে দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে।




আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ আগামী এক বছরকে ((২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত) ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে এ ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

একটি নিরাপদ মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনর্জীবন ঘটাতে হবে। এ ক্ষেত্রেও কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন এবং কর্ম আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক।’

তারেক রহমান বলেন, ‘কবি নজরুলের জীবন এবং কর্ম বিশ্বসাহিত্য দরবারে আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তার জীবনবোধ, দর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্মে পৌঁছে দিতে হবে। এরই অংশ হিসেবে আমাদের জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালকে নজরুল সিটি হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না, এ ব্যাপারে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাই।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি। আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক, আমাদের জাতীয়তাবাদের প্রতীক।’

নজরুল জয়ন্তী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্বাগত বক্তব্য দেন ত্রিশালের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান ও স্মারক বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কবিপৌত্রী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান খিলখিল কাজী, ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মো. লতিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কবি নজরুল গবেষণা ও কবির জীবন-দর্শনের নিয়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দুইজন গুণীর হাতে নজরুল পদক ও সন্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নজরুল স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচনও করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে অতিথি সারিতে বসে নজরুল ইসলামের স্মরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।




ময়মনসিংহে ধরার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজঃ ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিয়ারপুরে মৃত প্রায় ধরার খাল (বৈলর খাল) পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার দুপুরে ঝড় বৃষ্টির মধ্যে প্রথমে ধরার খালের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে খালের পাড়ে নেমে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খনন কাজের সূচনা করেন। এরপর তিনি খালের পাশে একটি তালগাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটন এবং ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ৩.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি ১৯৭৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর খনন করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রায় মরা খালে রূপ নেয়।

গাছ রোপণ ও খননস্থল পরিদর্শনের পর খালের পাশে স্থাপিত মঞ্চে স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে উষ্ণ করতালিতে স্বাগত জানান।




নিয়োগ জালিয়াতি থেকে অর্থ আত্মসাৎ: সুবিদখালী সরকারি ডিগ্রি কলেজে নিরীক্ষায় ভয়াবহ অনিয়ম উন্মোচন

এসএম বদরুল আলমঃ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী সরকারি ডিগ্রি কলেজ-এ দীর্ঘদিন ধরে চলা নিয়োগ জালিয়াতি, আর্থিক অনিয়ম, টিউশন ফি আত্মসাৎ, ভুয়া ব্যয় দেখিয়ে অর্থ লোপাট এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপনের বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে কলেজটির উপাধ্যক্ষ মোঃ আছাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান, সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং অডিট অফিসার চন্দন কুমার দেব গত ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কলেজটিতে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে প্রকাশিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কলেজটির আর্থিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে ভয়াবহ অনিয়মের বিস্তারিত চিত্র উঠে আসে।

ফল প্রকাশের আগেই নিয়োগ, প্রশ্নের মুখে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া : নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, মোঃ আছাদুজ্জামান ৮ জুন ১৯৯৭ সালে জীববিদ্যা বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু নিয়োগ সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, আবেদন করার সময় তার এমএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। আবেদনপত্রে তিনি নিজেই “ফলাফল অপ্রকাশিত” উল্লেখ করেছিলেন। বিধি অনুযায়ী চূড়ান্ত ফলাফল ছাড়া আবেদন গ্রহণযোগ্য না হলেও রহস্যজনকভাবে তার আবেদন বাতিল করা হয়নি। বরং তৎকালীন গভর্নিং বডির যোগসাজশে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে ১ জানুয়ারি ২০১১ সালে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন ওঠে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রভাষক পদে নিয়োগই যেখানে বিধিসম্মত হয়নি, সেখানে উপাধ্যক্ষ পদে আবেদনও বাতিলযোগ্য ছিল। কিন্তু তা না করে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

অবৈধ নিয়োগে ৬৮ লাখ টাকার বেতন-ভাতা গ্রহণ :
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রভাষক হিসেবে ১ আগস্ট ১৯৯৭ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১০ পর্যন্ত তিনি ১০ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং উপাধ্যক্ষ হিসেবে ১ জানুয়ারি ২০১১ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত ৫৭ লাখ ৭৯ হাজার ৬৫০ টাকা বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

সব মিলিয়ে ৬৮ লাখ ৫ হাজার ৪৯৭ টাকা সরকারি অর্থ গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে এই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তার বেতন-ভাতা বন্ধের সুপারিশও করা হয়।

সরকারিকরণের পরও টিউশন ফি জমা হয়নি কোষাগারে :
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১২ আগস্ট ২০১৮ তারিখের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়। বিধি অনুযায়ী ওই সময় থেকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত টিউশন ফি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও দীর্ঘ সময় তা জমা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। নিরীক্ষায় দেখা যায়, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৪০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হলেও পূর্ববর্তী বছরের বিপুল পরিমাণ টিউশন ফির অর্থ জমা হয়নি।

এ বিষয়ে উপাধ্যক্ষ আছাদুজ্জামান নিরীক্ষক দলকে জানান, “টাকা কলেজ তহবিলে সংরক্ষিত রয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।” তবে নিরীক্ষকরা তার বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি।

বোর্ডের ফেরত দেওয়া টাকাও পেল না শিক্ষার্থীরা : নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ড পরীক্ষা-২০২০ এর ফরম পূরণ ফি বাবদ শিক্ষা বোর্ড থেকে ফেরত পাওয়া ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৪০ টাকা ক্যাশ বইয়ে আয় হিসেবে দেখানো হলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেই অর্থ ফেরত বিতরণ করা হয়নি।

এছাড়া কলেজ সরকারিকরণের সময় ডিড অব গিফটে উল্লেখিত ২৭ লাখ ৭৬ হাজার ৬৪৩ টাকা ২১ পয়সা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষিত থাকার কথা থাকলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে।

ক্যাশ বইয়ে আয়, ব্যাংকে জমার তথ্য নেই : নিরীক্ষায় কলেজের ক্যাশ বই ও ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত ১ লাখ টাকা ক্যাশ বইয়ে আয় হিসেবে দেখানো হলেও ব্যাংকে জমার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ১৪ জুন ২০১৭ তারিখে ছাত্র বেতন বাবদ আদায়কৃত ৮৫ হাজার ১০০ টাকাও ব্যাংকে জমা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া সোনালী সেবা ফি বাবদ আদায়কৃত অর্থ এবং ব্যয়ের হিসাবেও গরমিল পাওয়া গেছে। প্রশংসাপত্র ফি বাবদ আদায়কৃত ৫৩ হাজার টাকা ক্যাশ বইয়ে দেখানো হলেও ব্যাংকে জমার কোনো তথ্য মেলেনি।

ভুয়া ব্যয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ :
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনার্স প্রথম বর্ষ পরীক্ষার ফি থেকে ৫ লাখ ১ হাজার ১৭৫ টাকা নির্মাণ কাজে ব্যয়ের তথ্য দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট খাতের সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি।

গভর্নিং বডির সভা, সম্মানী ভাতা, আপ্যায়ন বিল ও যাতায়াত ব্যয়ের ক্ষেত্রেও যথাযথ ভাউচার ও নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। এমনকি করোনাকালীন লকডাউনের সময়ও পুকুরপাড় সংস্কার, মেহমান আপ্যায়ন ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের তথ্য দেখানো হয়েছে। তবে সেই ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিরীক্ষকরা।

গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গোপনের অভিযোগ : নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভর্তি, ফরম পূরণ, টিউশন ফি, পরীক্ষার আয়-ব্যয়ের রেজিস্টার, রশিদ ও বিভিন্ন আর্থিক নথিপত্র নিরীক্ষক দলকে দেখানো হয়নি। পরে সরবরাহ করার কথা বলা হলেও সেগুলো জমা দেওয়া হয়নি। এছাড়া বিএম শাখার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রি কার্ড বিতরণের সময় শিক্ষার্থীপ্রতি ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সেই অর্থ ব্যাংকে জমা বা ব্যয়ের কোনো বৈধ নথি পাওয়া যায়নি।

‘ভুল বোঝাবুঝি’ দাবি অভিযুক্ত উপাধ্যক্ষের : অভিযোগের বিষয়ে উপাধ্যক্ষ মোঃ আছাদুজ্জামান বলেন,
“কিছু অর্থ কলেজ তহবিলে সংরক্ষিত রয়েছে। অনেক বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লিখিত অনিয়ম ও আর্থিক অসঙ্গতি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তর অডিট কমপ্লেক্স কর্তৃক ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আছাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রায় ৫ কোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্ফোরক তথ্য থাকছে প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে।




ময়মনসিংহের পথে প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীতে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন এবং খাল পুনঃখননের উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহের ত্রিশালের পথে যাত্রা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে সড়কপথে রওনা দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নজরুলজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধন করবেন এবং সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠের ঐতিহ্যবাহী নজরুল মঞ্চে বক্তব্য দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রস্তুত করা হয়েছে ত্রিশালের নজরুল মঞ্চ। জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে সাজানো হয়েছে পুরো মঞ্চ ও আশপাশের এলাকা। আলোকসজ্জা, নান্দনিক সাজসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এরই মধ্যে নতুন রূপ পেয়েছে অনুষ্ঠানস্থল।

এরপর বিকেল ৫টায় ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন তিনি। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।




রবিবার থেকে চলবে ‘ঈদ স্পেশাল’ ট্রেন, জেনে নিন সময়সূচি

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা সহজ করতে ১০টি ‘ঈদ স্পেশাল’ ট্রেন চালানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রবিবার (২৪ মে) থেকে শুরু হওয়া এসব বিশেষ ট্রেন ঈদের আগে ও পরে নির্ধারিত রুটে চলাচল করবে। চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, দেওয়ানগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও পার্বতীপুরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে চলবে ট্রেনগুলো।

রেলওয়ের বিশেষ ট্রেন চলাচলের সূচি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করবে ‘চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ ও ২’। ট্রেন দুটি ঈদের আগে ২৫ থেকে ২৭ মে এবং ঈদের পরে ৩০ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ চট্টগ্রাম থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় ছেড়ে চাঁদপুর পৌঁছাবে রাত ৮টা ২০ মিনিটে। আর চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-২ চাঁদপুর থেকে ভোর ৪টায় ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে।

তিস্তা ঈদ স্পেশাল-৩ ও ৪ ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি ঈদের আগে ২৫ থেকে ২৭ মে এবং ঈদের পরে ৩০ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত চলবে। তিস্তা ঈদ স্পেশাল-৩ ঢাকা থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় ছেড়ে দেওয়ানগঞ্জ পৌঁছাবে বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে। আর তিস্তা ঈদ স্পেশাল-৪ দেওয়ানগঞ্জ থেকে বিকাল সাড়ে ৪টায় ছেড়ে ঢাকা পৌঁছাবে রাত ১০টা ২০ মিনিটে।

শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৫ ও ৬ ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার রুটে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি শুধু ঈদের দিন চলবে। শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৫ ভৈরববাজার থেকে ভোর ৬টায় ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টায়। আর শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৬ কিশোরগঞ্জ থেকে বেলা ১২টায় ছেড়ে ভৈরববাজার পৌঁছাবে দুপুর ২টায়।

এছাড়া শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৭ ও ৮ ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি শুধু ঈদের দিন চলবে। শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৭ ময়মনসিংহ থেকে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল সাড়ে ৮টায়। আর শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৮ কিশোরগঞ্জ থেকে বেলা ১২টায় ছেড়ে ময়মনসিংহ পৌঁছাবে দুপুর ৩টায়।

পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯ ও ১০ জয়দেবপুর-পার্বতীপুর-জয়দেবপুর রুটে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি ঈদের আগে ২৪ থেকে ২৬ মে এবং ঈদের পরে ৩০ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত চলবে। ঈদের আগে পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯ জয়দেবপুর থেকে সন্ধ্যা ৭টায় ছেড়ে পার্বতীপুর পৌঁছাবে রাত আড়াইটায়। আর পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-১০ পার্বতীপুর থেকে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে জয়দেবপুর পৌঁছাবে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে।

তবে ঈদের পর পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯ জয়দেবপুর থেকে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে পার্বতীপুর পৌঁছাবে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে। আর পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-১০ পার্বতীপুর থেকে রাত ১০টা ২০ মিনিটে ছেড়ে জয়দেবপুর পৌঁছাবে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে।




ধর্ষণ-নির্যাতন বাড়ছে শিশুদের ওপর, ইউনিসেফের গভীর উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশে সম্প্রতি শিশু ও নারীদের ওপর নির্মম সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। বিশেষ করে যে জায়গাগুলোতে শিশুরা নিরাপদ থাকার কথা, সেখানেই তারা নির্মমতার শিকার হচ্ছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। গতকাল এক বিবৃতিতে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, শিশুদের ওপর এই বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

বিবৃতিতে রানা ফ্লাওয়ার্স উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকে বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর যৌন ও পাশবিক সহিংসতা বৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এটি দেশব্যাপী শিশু এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। তিনি অপরাধীদের বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটানোর দাবি জানান। একই সাথে প্রতিরোধ ব্যবস্থা, সহিংসতা রিপোর্টিং, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশু-বান্ধব পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা এবং সামাজিক সেবা খাতের ঘাটতিগুলো দ্রুত সমাধানের তাগিদ দেন।

তিনি আরও বলেন, সহিংসতা তখনই ছড়ায় যখন সমাজ নীরব থাকে। তাই সহিংসতা, নির্যাতন বা শোষণের ঘটনা ঘটলে তা চেপে না রেখে তাৎক্ষণিকভাবে শিশু হেল্পলাইন ১০৯৮-সহ অন্যান্য সুরক্ষা সেবার মাধ্যমে রিপোর্ট করার জন্য ইউনিসেফ আহ্বান জানাচ্ছে।

ইউনিসেফ প্রতিনিধি নারী ও শিশুদের জন্য মানসিক ও সামাজিক সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র, পাড়া-মহল্লা এবং কেয়ার সেন্টারগুলোর জবাবদিহিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার প্রতি বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। ইউনিসেফ জানায় যে, ভুক্তভোগীদের ছবি, ভিডিও বা পরিচয় প্রকাশ করা এক ধরণের পুনর্নির্যাতন। যারা এগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার বা রি-শেয়ার করছেন, তারা মূলত ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের মানসিক ট্রমা এবং কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

তাই সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের প্রতি ভুক্তভোগীদের অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর এবং এই ধরণের ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। রানা ফ্লাওয়ার্স পরিশেষে বলেন, প্রতিটি শিশুর সমাজ, বিদ্যালয়, ঘর—এমনকি পাবলিক স্পেসে তাদের গল্প বা ছবি উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও সুরক্ষিত থাকার অধিকার রয়েছে। অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানান তিনি।




১৪ জেলায় বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ, কিছু অঞ্চলে কালবৈশাখীর শঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ১৪টি জেলায় বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। ভ্যাপসা গরমে যখন দেশের জনজীবন অতিষ্ঠ, তখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার (২৩ মে) সকালে প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সকাল ৬টার মধ্যে ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ওপর দিয়েও ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকাতেও আজ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সংস্থাটির তথ্যমতে, শনিবার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ রাজধানীতে সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১২ মিনিটে।




শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে এই দীর্ঘ ছুটির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঈদের আগে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার (২৩ মে) অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে (রোববার) পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

দীর্ঘ এই ছুটির কারণে সরকারি কার্যক্রম সচল রাখতে ঈদের আগের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে ২৩ মে শনিবার যথারীতি অফিস খোলা থাকবে।

উল্লেখ্য, সরকার দেশের কর্মক্ষেত্রগুলোতে ঈদের আমেজ ও ছুটির ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।




ঈদযাত্রায় ট্রেনে শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই: রেল সচিব

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেন চলাচলে কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম।

শনিবার (২৩ মে) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

রেল সচিব জানান, ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, আমরা তৎপর আছি। বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে। আশা করছি, এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে।

সচিব আরও বলেন, সড়ক, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী একজনই। কাজেই ঈদযাত্রায় সমন্বয়ের কোনো অভাব নেই।

ট্রেনের ছাদে যাত্রী ভ্রমণ ঠেকাতে বিশেষ নজরদারির কথাও জানান তিনি। ফাহিমুল ইসলাম বলেন, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের মধ্যে ট্রেনের ছাদে ওঠার প্রবণতা দেখা যায়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত মোতায়েন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের ট্রেনগুলোতে ছাদে ওঠার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত দায়িত্ব পালন করবে।

স্টেশনে টিকিটবিহীন যাত্রী প্রবেশ ঠেকাতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে রেলসচিব বলেন, টিকিট ছাড়া যাত্রীরা যাতে স্টেশনে ঢুকতে না পারে সে জন্য নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। তারাই সাধারণত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, যাত্রী চাপের কারণে এবারও ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট রাখা হয়েছে। ঈদের সময় রেলের চাহিদা অনেক বেশি থাকে, যা পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হয় না।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি, মেট্রোপলিটন পুলিশ ও এপিবিএনের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি। কমলাপুর স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ছিনতাই, পকেটমার ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। রেলসচিব বলেন, যাত্রীরা যেকোনো অভিযোগ, তথ্য বা সহায়তার জন্য রেলওয়ের ১৩১ হটলাইনে যোগাযোগ করতে পারবেন।