সচিবালয়ের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের অপব্যবহারের অভিযোগ, কথিত সাংবাদিক রুমনের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে রাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়কে ঘিরে নানামুখী অপতৎপরতা, চাঁদাবাজি এবং পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পক্ষে ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ‘চ্যানেল এস’ টেলিভিশনের পরিচয়ধারী কথিত সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান রুমনের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে তার অবাধ প্রবেশ নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া লিখিত অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, কথিত এই সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে রাজধানীজুড়ে এক বিশাল চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।

ফুটপাতের চাঁদাবাজি থেকে বিলাসবহুল জীবন: অনুসন্ধানে জানা যায়, মোস্তাফিজুর রহমান রুমন মূলত তুরাগ থানা যুবলীগের একজন সক্রিয় সদস্য। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার কথিত মামা এবং ঢাকা উত্তর যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা আবু কালামের ছত্রছায়ায় রুমনের উত্থান ঘটে। তৎকালীন সময়ে উত্তরা এলাকার ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সেক্টর থেকে মাসোহারা তোলার মূল কারিগর ছিলেন এই রুমন। ফুটপাতের চাঁদাবাজির টাকায় বর্তমানে তিনি উত্তরায় নিজস্ব বিলাসবহুল অফিস ও দামি গাড়ি ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

গুলশানে স্পা সেন্টারগুলোতে চাঁদাবাজির জাল: আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও রুমনের অপতৎপরতা কমেনি, বরং কৌশল বদলেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর উত্তরা থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীর বিভিন্ন স্পা সেন্টার, আবাসিক হোটেল এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছেন তিনি। বর্তমানে ফ্যাসিবাদের আরেক দোসর সুজিত চক্রবর্তীর সহযোগী হিসেবে কথিত সাংবাদিকতার আড়ালে এই চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন রুমন।

সচিবালয়ের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড ব্যবহার করে ‘গুপ্তচরবৃত্তি’: সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই কথিত সাংবাদিকের কাছে রয়েছে সচিবালয়ে প্রবেশের বিশেষ ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড’। অভিযোগকারীদের দাবি, রুমন মূলত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজন ‘গুপ্তচর’ হিসেবে সচিবালয়ে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি এই কার্ডের অপব্যবহার করে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং সরকারের ভেতরকার তথ্য বাইরে পাচার করে রাষ্ট্রবিরোধী ও সরকারবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন। তার এই সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে, যা সচিবালয়ের সার্বিক নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।

আইনানুগ ব্যবস্থা ও কার্ড বাতিলের দাবি: সচিবালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একজন চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট দোসর এবং চাঁদাবাজির একাধিক মামলার আসামির অবাধ যাতায়াত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগকারীরা অবিলম্বে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তুরাগ থানা কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান রুমনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নামে ইস্যুকৃত সচিবালয়ের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডটি বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে মোস্তাফিজুর রহমান রুমনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সাংবাদিককে সময় দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্কঃ মাঠে যেমন পারফরম্যান্স দিয়ে মুগ্ধ করেন, মাঠের বাইরেও আচরণ দিয়ে ভক্তদের মন জয় করেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর এমনই এক মানবিক মুহূর্তের জন্ম দিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে হুইলচেয়ারে থাকা ভেনেজুয়েলার সাংবাদিক মানু গুতিয়েরেস সাক্ষাৎকার নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। অন্য অনেকের মতো তাড়াহুড়ো করে চলে না গিয়ে মেসি তার সামনে থেমে যান এবং ধৈর্যসহকারে সব প্রশ্নের উত্তর দেন। মুহূর্তটি উপস্থিত সবার নজর কেড়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসিত হচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে নিজের ঝুলিতে যোগ হওয়া নতুন রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেসি বলেন, ‘আমি আসলে এসব রেকর্ডের হিসাব রাখিনি। ম্যাচ খেলতে খেলতেই এগুলো হয়েছে। ঈশ্বরের কৃপায় দল এগিয়ে যাচ্ছে এবং লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই জয়ে আমরা খুবই আনন্দিত।’

ম্যাচে কীভাবে আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছিল, সেটিও ব্যাখ্যা করেন তিনি। মেসি বলেন,‘মাঝমাঠে খেলা খুব কঠিন ছিল। লাউতারো মার্তিনেজ মাঠে নামার পর মাঝখানে ভিড় বেড়ে যায়। তখন আমি ডান পাশে কিছুটা ফাঁকা জায়গা খুঁজে পাই। সেখান থেকেই আমরা একটি গোল ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হই।’

ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নার কারণও জানান মেসি। তিনি বলেন,‘আমরা যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিলাম, তখন পরিস্থিতি খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল। জানতাম, ফিরে আসা সহজ হবে না। শেষ বাঁশির পর কান্নাটা ছিল সব চাপ থেকে মুক্তির অনুভূতি। আমরা বাড়ি ফিরতে চাইনি। আমরা বিশ্বাস করতাম, এই টুর্নামেন্টে আরও অনেক দূর যাওয়ার সামর্থ্য আমাদের আছে।’




বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকা থেকে ঢাকার অবস্থান বদলাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ বিশ্বের সবচেয়ে কম বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান তৃতীয় হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীকে এই অবস্থা থেকে বের করে আনতে পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নির্বিচারে শিল্পকারখানা স্থাপনের প্রবণতা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান এখন তৃতীয়। এ পরিস্থিতি থেকে রাজধানীকে বের করে আনা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, সভ্য দেশে যেভাবে পরিকল্পনাহীনভাবে যত্রতত্র কলকারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো পরিবেশ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন নন। তাই পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সম্পৃক্ত করতে ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, কোন পরিবেশে কোন ধরনের গাছ উপযোগী—সেই বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। এ সময় তিনি ইউক্যালিপটাসের মতো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গাছ রোপণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিন ব্যক্তি ও তিন প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পরিবেশ পদক দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণে বিশেষ অবদানের জন্য সাতটি ক্যাটাগরিতে মোট ২১ জনকে জাতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার (৬ জুলাই) প্রকাশিত ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ২০২৬ সালের বসবাসযোগ্যতা সূচকে বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মধ্যে সবচেয়ে কম বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। এর আগের বছর ২০২৫ সালেও একই অবস্থানে ছিল বাংলাদেশের রাজধানী।




পে-স্কেলের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে সচিব কমিটি, আসছে বড় পরিবর্তন

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথ যত এগোচ্ছে, ততই জটিল হয়ে উঠছে এর আর্থিক ও প্রশাসনিক হিসাব। বেতন কমিশনের সুপারিশ, সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রভাব এবং ভাতা কাঠামো-সবকিছু সমন্বয় করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সচিব কমিটি। ফলে নতুন পে-স্কেল কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি সরকার।

এর মধ্যেই প্রচলিত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামোতে শুধু গ্রেড নয়, কর্মচারীদের আয়, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বাস্তব চাহিদাকেও গুরুত্ব দিয়ে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সব গ্রেডে প্রায় একই হারে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি দেওয়ার পদ্ধতি থেকে সরে আসছে সরকার। নতুন কাঠামোতে তুলনামূলকভাবে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেশি সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে নবম পে-স্কেলের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য অর্থ বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের সব গ্রেডেই গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। তবে নতুন খসড়া অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে।

জানা যায়, বেতন বৃদ্ধির এ নতুন নীতিমালার পেছনে সরকারের পরিচালিত একটি বিস্তৃত জরিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জরিপে অংশ নেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। জরিপে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতির পক্ষে মত দেন।

অপরদিকে ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে মত দেন। এছাড়া ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের সুপারিশ করেন। একইসঙ্গে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দেন।

এর আগে, গত ৬ জুলাই সচিবালয়ে সচিব কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিটির সদস্যদের মতে, সুপারিশ চূড়ান্ত করতে আরও অন্তত দুটি বৈঠকের প্রয়োজন হতে পারে। এরপর অর্থমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে। সরকারের অনুমোদনের পরই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেও প্রশাসনিক আদেশ, গেজেট প্রকাশ এবং সফটওয়্যার হালনাগাদসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া বর্ধিত বেতন ও ভাতার অর্থ বকেয়াসহ অক্টোবর মাসে একসঙ্গে পরিশোধের সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা যায়, নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫’-এর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। সিটি করপোরেশন এলাকায় এ ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক ব্যয় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা।

বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সচিব কমিটি প্রথম গ্রেডের মূল বেতন দেড় লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৭.৫ রাখার বিষয়ে আলোচনা করছে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯.৪।

বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন গ্রেডে ভাতা বৃদ্ধিরও প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতার ওপর নির্ভরশীল নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি ভাতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে।




ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সিরিয়াসলি চিন্তা করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, খবরে বলা হচ্ছে, বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা তৃতীয়। এ নিয়ে আমাদের সিরিয়াসলি চিন্তা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল কারখানার কারণে যেভাবে পরিবেশের দূষণ হচ্ছে, তা নিয়ে আমাদের সবাই দায় আছে। ইকোসিস্টেমের নিরাপদ লালন ও বিকাশের সঙ্গে মানবসমাজ জড়িত। বৃক্ষমেলা নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণের বিনিয়োগ। এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত হবে না, নৈমিত্তিক এটি করতে হবে।

তিনি বলেন, সন্তান জন্ম নিলে আমরা তার নামে একটি গাছ লাগাতে পারি। লন্ডনেও এমনটি দেখেছি।

সরকার গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালুসহ বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজায়নের লক্ষ্যে সরকার ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করবে। আমরা ছাদ বাগান, নগর বনায়ন, ইকো ট্যুরিজমকে অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করতে চাই। এছাড়া, রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আকাশমনিসহ অনেক ক্ষতিকর গাছ আছে, যা রোপণ থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া, কোন মাটিতে কোন গাছ রোপণ ভালো হবে, তা জানতে হবে। ঔষধিসহ দেশীয় গাছ রোপণে মনযোগী হতে হবে।

তিনি বলেন, সবকিছু আইন দিয়ে করা সম্ভব নয়, সচেতনতার মধ্য দিয়ে করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ৭টি ক্যাটাগরিতে মোট ২১ জনের হাতে জাতীয় পরিবেশ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।




ফ্যাসিবাদের দোসর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাচ্চুর ক্যাশিয়ার খ্যাত জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গৃহকর্মী কুমু বেগমকে ১৯ বছর গৃহবন্দি রেখে নির্যাতনের অভিযোগ ও মামলা; সংবাদ সম্মেলনে গৃহকর্মীর ন্যায়বিচারের আকুতি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ফ্যাসিবাদের দোসর তৎকালীন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুর ক্যাশিয়ার ও অত্যন্ত কাছের মানুষ মোঃ জাহাঙ্গীর লতিফ। সাচ্চুর বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সাথে এই জাহাঙ্গীর জড়িত। সাচ্চু পালিয়ে গেলেও জাহাঙ্গীর ধরা ছোয়ার বাইরে।

দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে গৃহকর্মী হিসেবে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন, বিনা বেতনে কাজ করানো, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে অভিযুক্ত মোঃ জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কুমু বেগম। রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের জীবনের দীর্ঘ কষ্টের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর লতিফ একপর্যায়ে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালান। ভয় ও অসহায়ত্বে তিনি এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, বছরের পর বছর শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সামান্য ভুলের জন্যও তাকে মারধর, অপমান এবং ভয়ভীতি দেখানো হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর লতিফের দুই মেয়ে জেবা রাইসা ও দিয়া রাইসাও বিভিন্ন সময় তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন। কুমু বেগমের দাবি, জাহাঙ্গীর লতিফের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। পরিবারের কয়েকজন সদস্য মিলে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতেন যাতে তিনি নিজেই বাসা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।

কুমু বেগম জানান, বিয়ের বয়স হলে তার বিয়ের সব খরচ বহনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি। বরং ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তাকে কোনো অর্থ, নিরাপত্তা বা ভবিষ্যতের ব্যবস্থা না করেই চট্টগ্রামগামী একটি বাসে তুলে দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে আদালতের মাধ্যমে মামলা করা হয়। মামলায় বলা হয়েছে, ১৯ বছরের বকেয়া বেতন (মাসিক ৩,০০০ টাকা হিসাবে) ৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং বিয়ের খরচ বাবদ প্রতিশ্রুত ২ লাখ টাকাসহ মোট ৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১০৬/২০২৬। যা এখন কাফরুল থানার তদারকিতে রয়েছে।

কুমু বেগমের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর লতিফ বর্তমানে উত্তর ইব্রাহিমপুরে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। তার নামে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাইয়ের তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।

মামলায় জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে কুমু বেগম অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর বর্তমানে বিভিন্ন বিএনপি নেতাদের নাম ব্যবহার করে তাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করছেন। এবং তার সাথে বিএনপির বড় নেতা ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাথে সখ্যতার কথা সবাইকে বলে বেড়ান ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নানা ধরণের অনৈতিক কাজ করে থাকেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মিলন নামে জাহাঙ্গীর লতিফের এক সহযোগী দীর্ঘদিন ধরে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহায়তা করে আসছেন এবং তার একান্ত সহকারী ও ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া জাহাঙ্গীর লতিফকে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের আর্থিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছেন। আরও দাবি করা হয়, ২০২৪ এর ৫ আগস্ট মিরপুরে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। তবে এসব রাজনৈতিক অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ জাহাঙ্গীর লতিফ, তার সহযোগী মিলন এবং গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।   




আজও সারা দেশে থাকবে বৃষ্টি, হতে পারে অতিভারী বর্ষণ

আবহাওয়া ডেস্কঃ মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দেশের সব বিভাগেই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া দেশের ১৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে।



আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর শাস্তির মুখে মিশর কোচ

ক্রীড়া ডেস্কঃ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর নাটকীয় ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং তাদের দিকে থুতু ছিটানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে ফিফা।

ম্যাচে দীর্ঘ সময় এগিয়ে ছিল মিশর। ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আফ্রিকার দলটি। তবে শেষ ১৪ মিনিটে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

ম্যাচজুড়ে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল মিশর। বিশেষ করে পেনাল্টির দুটি আবেদন নাকচ হওয়ায় খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে এক ভিএআর বিশেষজ্ঞও দাবি করেন, অন্তত একটি ঘটনায় মিশরের পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল।

ম্যাচ চলাকালেই ডাগআউটে আচরণের কারণে হলুদ কার্ড দেখেন হোসাম হাসান। এরপর শেষ বাঁশি বাজার পর ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজনার একপর্যায়ে তিনি সমর্থকদের দিকে থুতু ছিটান। ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, কারও দিকে থুতু ছিটানো গুরুতর অসদাচরণ এবং এটি শারীরিক আক্রমণের পর্যায়ে বিবেচিত হয়। এমন অপরাধে অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাসহ আরও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রেফারিং নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হোসাম হাসান সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। পাশাপাশি ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে মানবিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ফুটবল মানবতার বার্তা বহন করুক।’

সূত্র: টি-স্পোর্টস




ডুবে থাকা রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করা হবে: রেল প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া রেলপথ ভবিষ্যতে ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেললাইনের উচ্চতা বাড়ানোর কাজের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত পানিতে ডুবে থাকা রেললাইন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, প্রশাসন ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
টানা বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহর থেকে জানালিহাট সেকশনের প্রায় চার কিলোমিটার রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে মঙ্গলবার দুপুর থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ পথে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে।

রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেললাইন ৫ ফুট উঁচু করা হলে ভবিষ্যতে ৩ ফুট পর্যন্ত পানি বাড়লেও ট্রেন চলাচলে সমস্যা হবে না। তিনি জানান, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণকে সামনে রেখে কোথায় কতটুকু পানি জমছে, সে তথ্যও সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়।

চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুদিন যাবৎ যে বৃষ্টি হচ্ছে তা রেকর্ডসংখ্যক। অনেকে বলছেন গত ৪৫ বছরেও এত বৃষ্টি চট্টগ্রামে হয়নি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে রেললাইন উঁচু করা, যাতে ভারী বৃষ্টি হলেও রেল চলাচল বিঘ্নিত না হয়।

রেলপথ নির্মাণে কোনো ত্রুটি নেই দাবি করে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ৪৫ বছর আগে এ রকম বৃষ্টি হয়েছিল। আমরা এটা রেকর্ড রাখছি বৃষ্টিতে রেললাইন কী পরিমাণ ডুবে যাচ্ছে। কোথাও দুই ফুট, কোথাও তিন ফুট। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উঁচু করা, যাতে ডুবে না যায়। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় রেললাইন উঁচু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাবিবুর রশিদ আরও বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পানির মধ্যে ট্রেন চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যেসব যাত্রী টিকিট কেটে ভ্রমণ করতে পারেননি, তাদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।




চাকরির এক দশকে শতকোটি টাকার সম্পদ, ঘুষ, সিন্ডিকেট ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগে আলোচনায় কাস্টমস কর্মকর্তা তুহিন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অধীন কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তা তুহিন চৌধুরীকে ঘিরে একের পর এক দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি রংপুর ভ্যাট কমিশনারেটে কর্মরত থাকলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, মাত্র এক দশকের চাকরিজীবনেই তিনি শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি চাকরির বৈধ আয়ের সঙ্গে তার সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই।

অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ২০১৪ সালে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর তুহিনের প্রথম কর্মস্থল ছিল যশোর ভ্যাট কমিশনারেট। সেখানে প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী সূত্রের দাবি, বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অর্থ আদায় করা হতো।

২০১৬ সালে তার বদলি হয় তৎকালীন ঢাকা বন্ড কমিশনারেটে, যা বর্তমানে দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেট নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, এই পদায়নের জন্য তিনি বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেন। এরপর বন্ড কমিশনারেটে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফাইল আটকে রাখা, ছাড়পত্র দিতে ঘুষ দাবি এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় ছিল নিয়মিত ঘটনা। অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এক পর্যায়ে তাকে ছয় মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্তও করা হয়। তবে পরে তিনি পুনরায় কাজে যোগ দেন এবং আগের মতোই প্রভাব খাটিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যান বলে অভিযোগ।

অভিযোগ অনুযায়ী, বন্ড কমিশনারেটে কর্মরত থাকাকালীন সময়েই রাজধানীর রামপুরায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনেন তুহিন। একই সময়ে নেত্রকোনার বারহাট্টায় তার পরিবারের সদস্যদের নামে জমিসহ বাড়ি কেনা হয়। এছাড়া সেখানে একটি পার্ক নির্মাণ এবং প্রায় ২০ বিঘা জমি ক্রয়েরও অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানকারী সূত্রগুলোর দাবি, ওই সময়েই তার সম্পদের পরিমাণ কয়েক দশ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়।

পরবর্তীতে সিলেটের তামাবিল শুল্ক স্টেশনে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্ত দিয়ে প্রবেশকারী পণ্যবাহী ট্রাক থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হতো এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ সংগ্রহ করতেন তিনি। একই সঙ্গে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, এক পর্যায়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে মদসহ আটক হওয়ার ঘটনাও ঘটে। এছাড়া সিলেটে অর্জিত অবৈধ অর্থ গ্রামের একটি মুদি দোকানের ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের অভিযোগও রয়েছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অর্থ দিয়ে বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এরপর চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোন পণ্য কখন খালাস হবে, কোন ফাইল আগে নিষ্পত্তি হবে কিংবা কোন আমদানিকারককে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হবে—এসব বিষয় ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতো। একাধিক সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীর দাবি, বিভিন্ন পণ্য ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশনারের নাম ব্যবহার করে ঘুষ আদায় করতেন তুহিন। এছাড়া কাস্টমস হাউসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের পছন্দের লোক বসাতে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে। অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, চট্টগ্রামে কর্মরত অবস্থায়ও তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেন এবং রাজধানীর গুলশানে একটি অভিজাত ফ্ল্যাট কেনেন।

তুহিনের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার বারোঘর গ্রামে। তার বাবা মৃত চন্দন চৌধুরী একজন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন এবং মা নিলিমা দেবনাথ ছিলেন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বড় ভাই তুষার চৌধুরী ও বড় বোন বাণী চৌধুরীও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মেজ ভাই সরকারি কলেজের শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের নামে বিপুল পরিমাণ জমি, বাড়ি, ব্যাংকে এফডিআর ও ডিপিএসসহ বহু সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, স্বল্প সময়ে এত সম্পদ অর্জন তাদের কাছেও বিস্ময়ের বিষয়।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে তুহিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১২ সালে প্রথম বিয়ে করলেও পরবর্তীতে চাকরিসংক্রান্ত সুবিধার জন্য সেই বিয়ের তথ্য গোপন করেন। পরে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় আরেকজন বিবাহিত নারীকে বিয়ে করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানীর গুলশানের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টমস ও ভ্যাট কর্মকর্তা তুহিন অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে কম-বেশি অনেকেরই অবৈধ সম্পদ রয়েছে। নিজের সম্পদের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনাকে কি উত্তর দিতে হবে? দুদকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিষয়টি দেখবে। আপনি দেখার কে?”—এ কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।