বিআইডব্লিউটিএতে ‘সিবিএ সন্ত্রাস’: মারধর, চাঁদাবাজি ও সাংবাদিক হুমকিতে তোলপাড়

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ—বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এ আবারও সামনে এসেছে শ্রমিক রাজনীতির আড়ালে ভয়ঙ্কর দখল, নির্যাতন ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ। সংস্থাটির শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) ‘ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’ দাবি করা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে উঠেছে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে—অপছন্দ হলেই কর্মচারীদের মারধর, চাঁদাবাজি, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পুলিশে সোপর্দ, বদলির ভয় দেখানো এবং সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি।

বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে সুবিধাভোগী একটি চক্রের অংশ হিসেবে পরিচিত মাজহারুল ইসলাম সরকার পরিবর্তনের পরও প্রভাব ধরে রাখতে রাজনৈতিক পরিচয়ের রঙ বদলে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। অভিযোগ রয়েছে, আগে আওয়ামী ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে দাপট দেখানো এই চক্র এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে নিয়োগ, বদলি, টেন্ডার বাণিজ্য ও দখলবাজির মাধ্যমে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছে।

মারধর, ছিনতাই, তারপর পুলিশে সোপর্দ!
মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সর্বশেষ গুরুতর অভিযোগ ওঠে বিআইডব্লিউটিএর হিসাব বিভাগের অফিস সহায়ক ইসরারুল হাসান সুমনের ওপর হামলার ঘটনায়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ এপ্রিল রাজধানীর মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএ প্রধান কার্যালয়ের সামনে ১০-১২ জন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে সুমনের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাঁকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরে সুমনকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। যদিও বিএনপির এক প্রভাবশালী এমপির হস্তক্ষেপে তিনি ছাড়া পান। তবে এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার পরপরই সুমনকে বিআইডব্লিউটিএ সিবিএ ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের পদ থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ঘটার পর কৌশলে পেছনের তারিখ ব্যবহার করে বহিষ্কারের চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।

‘৫ আগস্ট’ থেকেই দখল রাজনীতি
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিনই মাজহারুল ইসলাম তাঁর সহযোগীদের নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ ভবনের তালা ভেঙে নিচতলার সিবিএ কার্যালয় দখল করেন। এরপর নিজেকে সংগঠনের ‘ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’ ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে রাতারাতি বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক দলের ‘সভাপতি’ পরিচয় ব্যবহার শুরু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সংস্থার প্রভাবশালী কয়েক কর্মকর্তার সহায়তায় তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন। এরপর থেকেই শুরু হয় বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ সিন্ডিকেট, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং প্রভাব বিস্তারের রাজত্ব।

বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মচারীর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়জুড়ে এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে চক্রটি।

চাঁদা না দেওয়ায় নির্যাতনের অভিযোগ:

শুধু সুমন নন, এর আগে গত ১৩ এপ্রিল সংস্থার লিফট অপারেটর মিজানুর রহমানকেও সিবিএ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
এই ঘটনায় মিজানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাজহারের সহযোগী ও বিআইডব্লিউটিএর গেজপাঠক পদে কর্মরত শফিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত দুই বছরে আজিজুল ইসলাম, মজিবুর রহমান, নুরুল আলম, আক্কাস হোসেনসহ আরও অনেক কর্মচারী এই চক্রের নির্যাতন, হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। অনেককে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ তকমা দিয়ে পুলিশে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিককে হুমকি:
মাজহারুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে গত ২৪ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে “নব্য শ্রমিক দল নেতাদের দাপটে অসহায় কর্মচারীরা” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম কর্মীকে ফোন করে হুমকি দেন মাজহার। নির্যাতনের শিকার কর্মচারীদের ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তাদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। একপর্যায়ে সাংবাদিককে “দেখে নেওয়া” এবং মামলা দিয়ে শায়েস্তা করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কথোপকথনের একপর্যায়ে গালাগাল করে ফোন কেটে দেন তিনি।

গণমাধ্যমকর্মীদের একটি অংশ বলছেন, এটি শুধু একজন সাংবাদিককে হুমকি নয়; বরং সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি সুস্পষ্ট অপচেষ্টা।

অভিযোগ অস্বীকার মাজহারের:
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাজহারুল ইসলাম। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমি কারও ওপর কোনো নির্যাতন করিনি। ইসরারুলের ওপর মারধরের সময় ঘটনাস্থলেও ছিলাম না। অন্য কোথাও কিছু করে মার খেয়ে এসে এখন আমার ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “সুমনকে আগেই সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটা বিএনপি এমপি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও আমাদের বিষয়। এটি আমরা নিজেরাই বুঝে নেব। এ বিষয়ে অন্য কারও কিছু বলার প্রয়োজন নেই।”

আতঙ্কে সাধারণ কর্মচারীরা:
বিআইডব্লিউটিএর সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে কাজ করছেন। অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার মেলে না। উল্টো নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদেরই রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক সংগঠনের নামে এমন দখলদারিত্ব, ভয়ভীতি ও সহিংসতা শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলাই ভেঙে দিচ্ছে না; বরং পুরো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।




হত্যা মামলার আসামি হয়েও প্রভাবশালী ‘সুলতান সিন্ডিকেট’ — বিআইডব্লিউটিএতে ১২০০ কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ—বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এ পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় রয়েছে বলে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা সংস্থাটির বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সুলতান আহমেদ খান, যিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, টেন্ডার সিন্ডিকেট, বদলি বাণিজ্য ও প্রকল্প লুটপাটের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএকে কার্যত ব্যক্তিগত সাম্রাজ্যে পরিণত করেছিলেন।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় রাজধানীর ভাটারা থানায় নাম থাকার পরও রহস্যজনক কারণে এখনো গ্রেফতার এড়িয়ে চলছেন এই কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, মামলা থেকে রেহাই পেতে প্রায় ৫ কোটি টাকার “ম্যানেজমেন্ট ফান্ড” গঠন করে বিভিন্ন মহলে তদবির ও প্রভাব বিস্তারের মিশনে নেমেছেন তিনি। একইসঙ্গে নিজেকে “সৎ, দক্ষ ও বিএনপি-ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা” হিসেবে পরিচয় দিয়ে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

“হানিফের ভাগ্নে” পরিচয়ে একক আধিপত্য :
বিআইডব্লিউটিএর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিগত ১৫ বছর ধরে সাবেক আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ–এর ভাগ্নে পরিচয় ব্যবহার করে সংস্থাটিতে অপ্রতিরোধ্য প্রভাব বিস্তার করেন সুলতান আহমেদ খান। বদলি, পদায়ন, নিয়োগ, টেন্ডার অনুমোদন, ড্রেজিং প্রকল্প—সবকিছুই তার ইশারায় নিয়ন্ত্রিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অনুমতি ছাড়া সংস্থাটিতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব ছিল। ফলে বিআইডব্লিউটিএতে গড়ে ওঠে এক ভয়ঙ্কর “সুলতান সিন্ডিকেট”, যেখানে যোগ্যতা নয়—রাজনৈতিক আনুগত্য ও অর্থ লেনদেনই ছিল পদোন্নতি ও সুবিধা পাওয়ার প্রধান মাধ্যম।

সৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, দুর্নীতিবাজদের ছত্রচ্ছায়া : অভিযোগ রয়েছে, সুলতান খানের ঘনিষ্ঠ শ্রমিক লীগ নেতা সনজিব কুমার দাসকে ব্যবহার করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সৎ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হতো। বেনামি অভিযোগপত্র, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং প্রশাসনিক হয়রানির মাধ্যমে বহু কর্মকর্তাকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল দীর্ঘদিন।

এমনকি গত বছরের ২ অক্টোবর তাকে বিআইডব্লিউটিএ থেকে সরিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে পাঠানো হলেও তার নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সংস্থার ভেতরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, বিভাজন তৈরি এবং সংস্কার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতেই এই চক্র নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শ্রমিক দলের নেতার ওপর হামলার অভিযোগ :
সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএতে শ্রমিক দলের সভাপতি মাজহারুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায়ও সুলতান খানের অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, পতিত আওয়ামী বলয়ের সুবিধাভোগী অংশ এখনো সংগঠিত হয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

১২০০ কোটি টাকার ড্রেজিং প্রকল্পে ‘মহালুট’ :
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ তথ্য। পাবনা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের ড্রেজিং প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রায় ১২০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সুলতান আহমেদ খানের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নদী খননের বিপুল পরিমাণ মাটি বিক্রি করে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সেই অর্থ ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পের বিভিন্ন দরপত্রে পছন্দের ঠিকাদার নিয়োগ, কমিশন বাণিজ্য এবং কাজের গুণগত মানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ভুয়া সনদে পদোন্নতির অভিযোগ : সুলতান আহমেদ খানের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ—ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হয়েও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে পদোন্নতি নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদ বাগিয়ে নেন তিনি। এমনকি ১৯৯৬ সালে তার চাকরিতে প্রবেশও ছিল রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের মাধ্যমে—এমন অভিযোগও সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে।

“আওয়ামী লীগ ২০৪১ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে” :
বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–ঘনিষ্ঠ মহলের আশীর্বাদে দীর্ঘদিন ধরেই বেপরোয়া আচরণ করতেন সুলতান আহমেদ খান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিভিন্ন সময় তিনি প্রকাশ্যে বলতেন—“আওয়ামী লীগ ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে, আমাকে কেউ ছুঁতে পারবে না।”

এই দম্ভের জোরেই তিনি বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাবনা জেলার শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে রাজধানীর উত্তরায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন তিনি বলে জানা গেছে।

তদন্তে দুদক, ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা :
বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানিয়েছেন, সুলতান আহমেদ খান কেন ? বিআইডব্লিউটিএ’র যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠবে সেসকল অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের একটি টিম তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এখনো বিভিন্ন দফতরে বেনামি চিঠি পাঠিয়ে সৎ কর্মকর্তাদের সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক, ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

নৌখাত সংস্কারে বড় বাধা ‘পুরনো সিন্ডিকেট’ : গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে পতিত আওয়ামী সরকারের বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নৌখাত সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা ভেস্তে দিতেই পুরনো দুর্নীতিবাজ চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নৌখাত বিশেষজ্ঞদের মতে, বিআইডব্লিউটিএতে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক প্রভাব, টেন্ডার সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা না গেলে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না। রাষ্ট্রীয় অর্থ লুট, প্রশাসনিক সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা এই নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে সালমান এফ রহমানের হাঁসফাঁস, ‘এই গরমে মরেই যাবো’

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর আদালতে হাজিরা দিতে এসে তীব্র গরম ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের অস্বস্তিতে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। এসময় সঙ্গে ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও ঢাকা-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আনা হয় তাদের ৷

প্রিজনভ্যান থেকে প্রথমে সালমান এফ রহমানকে নামানো হয়। আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে হাজতখানায় নেওয়ার সময় তাকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট ও হাতকড়া পরিয়ে দেন। তখন তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, এই গরমে এসব পরে মরেই যাবো। অনেক গরম, খুব গরম।

এরপর নামানো হয়, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং ঢাকা-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানকে।

পরে পাঁচ মিনিট পরে আরেকটি প্রিজনভ্যানে কারাবন্দি সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে আনার সময় তাকে পুলিশের কাঁধে ভর দিয়ে প্রিজন ভ্যান থেকে নামতে দেখা যায়। তবে তার মাথায় হেলমেট ছিল না।

এসময় তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে আসছি, দোয়া করবেন। ব্যথা এখনো রয়েছে। তবে তাকে কোন হাসপাতাল থেকে আনা হয়েছে সেটা উল্লেখ করেনি। পরে তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।

আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে সালমান এফ রহমানকে বিরক্তি প্রকাশ করতে ও কথা বলতে দেখা গেলো।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মানি লন্ডারিংয়ের পৃথক দুটি মামলায় হাজিরা দিতে এফ রহমান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও  সাবেক সংসদ সদস্য সাদেককে আদালতে আনা হয়েছে।




আমেরিকার ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট নিয়ে সংসদে আমি একা কথা বলেছি : রুমিন ফারহানা

ডেস্ক নিউজঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘আমেরিকার ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট নিয়ে সংসদে আমি একা কথা বলেছি। অবাক হয়েছি আমি ছাড়া সংসদে আর একজনও এ নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন নাই।’

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ইন্টারন্যাশনাল জুরিস্টস ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস নামে একটি সংগঠনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

রুমিন বলেন, ‌‌‘আমি দুঃখ পেয়েছি এবং অবাক হয়েছি, আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট নিয়ে আমি ছাড়া সংসদে আর একজন সংসদ সদস্য প্রশ্ন উত্থাপন করেন নাই।’

‘আমি যদি পাঁচজন সংসদ সদস্যকে পেতাম আমি একটা নোটিশ দিতে পারতাম স্পিকারের কাছে যে, এই বিষয়টার উপর আমরা সংসদ সদস্য পাঁচজন আলোচনার প্রস্তাব রাখছি। কিন্তু আমি তো পাঁচজন সংসদ সদস্যই পেলাম না’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এমন একটি বিষয়ে আলোচনার জন্য পুরো সংসদে পাঁচজন সদস্যকেও পাননি, ফলে বাধ্য হয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে হয়েছে।’




হামের থাবায় দিশেহারা শৈশব, ৯ মাসের কমবয়সীরা মারা যাচ্ছে বেশি

ডেস্ক নিউজঃ হামের ভয়াল থাবায় দেশে অকালে ঝরে যাচ্ছে একের পর এক নিষ্পাপ প্রাণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান জনমনে এক গভীর ও বেদনাবিধুর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, কেন নয় মাসের কম বয়সি শিশুরা হামের কাছে এভাবে হার মানছে? নিয়ম অনুযায়ী, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) অধীনে এই বয়সি শিশুদের হাম-রুবেলা বা এমআর টিকা পাওয়ার কথা নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে, জন্মের পর অন্তত ছয় মাস মায়ের শরীর থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি বা সুরক্ষার অদৃশ্য বর্ম শিশুদের এই ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা করে। অথচ সেই প্রাকৃতিক বর্ম আজ যেন পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

সরকারি হিসাব বলছে এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতার কথা। দেশজুড়ে হামের উপসর্গ ও সংক্রমণে প্রায় ৪৮১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৮০ জন নিশ্চিতভাবেই হামে প্রাণ হারিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিস্তারিত বিশ্লেষণে থাকা ৬০টি মৃত শিশুর মধ্যে ২৯ জনেরই বয়স নয় মাসের নিচে। তিন মাস থেকে শুরু করে আট মাস বয়সি শিশুদের এই মৃত্যুর মিছিল জনস্বাস্থ্যের জন্য এক অশনিসংকেত। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যে বয়সের শিশুদের প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষিত থাকার কথা, তারা কেন এত দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে?

বিশেষজ্ঞরা এই মর্মান্তিক পরিস্থিতির পেছনে মূলত মায়ের শরীরে অ্যান্টিবডির অভাব এবং দেশব্যাপী বিরাজমান চরম অপুষ্টিকে দায়ী করছেন। একসময় দেশে ৯৫ শতাংশ মানুষের যে শক্তিশালী ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা সামষ্টিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বলয় ছিল, তা আজ অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। মায়েদের অপুষ্টির কারণে শিশুরা জন্মগতভাবেই রোগ প্রতিরোধের কাঙ্ক্ষিত ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তার ওপর আধুনিক জীবনযাত্রায় অনেক ক্ষেত্রে শালদুধ পানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও দুর্বল করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

সুরক্ষার এই দেয়াল ধসে পড়ার পেছনে বিগত বছরগুলোর টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ন হওয়াকে একটি বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২০ সালে মহামারীর ধাক্কা এবং পরবর্তীতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকাদান কার্যক্রমে বড় ধরনের ছেদ পড়ে। বন্ধ ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনও। এই পুষ্টি ঘাটতি এবং টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের পুঞ্জীভূত সংখ্যাই আজকের এই বিপর্যয়ের পটভূমি তৈরি করেছে। ইউনিসেফের তথ্যমতে, আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশই জীবনের কোনো পর্যায়ে কোনো টিকাই পায়নি।

হামের টিকার কার্যকারিতার একটি নির্দিষ্ট বিজ্ঞান রয়েছে, যা পুরোপুরি বয়সের ওপর নির্ভরশীল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, ছয় থেকে নয় মাস বয়সিদের ক্ষেত্রে এই টিকা মাত্র ৫০ শতাংশ কাজ করে, যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। কিন্তু বর্তমানের এই ভয়াবহ প্রকোপের মুখে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাধারণ নিয়মের বাইরে গিয়ে ভাবতে বাধ্য হয়েছেন নীতিনির্ধারকরা। শিশুদের মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে টিকার কার্যকারিতা কিছুটা কম হলেও, বাধ্য হয়েই টিকা প্রদানের বয়সসীমা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতায় বাংলাদেশের টিকাবিষয়ক সর্বোচ্চ কারিগরি কমিটি নাইট্যাগ এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নিয়মিত নয় মাসের পরিবর্তে এবার প্রাদুর্ভাব সামাল দিতে ছয় মাস বয়সি শিশুদেরও হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে। গত ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কার্যক্রমে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শতভাগ সাফল্যের দাবি করেছে, ইউনিসেফের মাঠ পর্যায়ের যাচাইয়ে এখনো শহর ও গ্রামের বহু শিশুর টিকা না পাওয়ার উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পথে একটি বড় বাধা।

হাসপাতালগুলোর চিত্র আরও বেশি করুণ ও হতাশাজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, হাসপাতালে ভর্তির প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে বহু শিশু। চিকিৎসকরা বলছেন, হামের সরাসরি কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই; হাম থেকে নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিভাবকরা শিশুদের হাসপাতালে আনছেন একেবারে শেষ মুহূর্তে, যখন লাইফ সাপোর্ট দিয়েও তাদের বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার অভাব এবং হাসপাতালগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতার কারণেই মৃত্যুর হার জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।

মৃত্যুর এই বিভীষিকা কবে থামবে, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কণ্ঠে কিছুটা আশার সুর শোনা গেছে। যেহেতু টিকার পূর্ণাঙ্গ প্রভাব তৈরি হতে অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগে, তাই মে মাসের শেষে শুরু হওয়া টিকাদানের সুফল জুনের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে দৃশ্যমান হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। এরই মধ্যে উচ্চঝুঁকি বিবেচনায় যেসব এলাকায় আগে টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে সংক্রমণের হার কিছুটা কমে আসার প্রমাণ মিলেছে।

তবে এই মহামারী আকারের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কেবল টিকাদানই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। অতীতে কভিড মহামারীর সময় যেমন জরুরি রেসপন্স টিম গঠন করে হাসপাতালগুলোতে শয্যা ও আইসিইউর তথ্য সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল, হামের ক্ষেত্রেও তেমন একটি সমন্বিত উদ্যোগ সময়ের দাবি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের জন্য যাতায়াত ও চিকিৎসার ব্যয়ভার সহজলভ্য করা না গেলে, শুধু দীর্ঘসূত্রিতা ও সচেতনতার অভাবে আরও অনেক নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এই অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।




বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শুরু আজ

ডেস্ক নিউজঃ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) ৯০তম বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) তিন দিনব্যাপী এই বৈঠকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে, যা আগামী শনিবার পর্যন্ত চলবে। বুধবার (২০ মে) বৈঠকে অংশ নিতে কলকাতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল।

বাংলাদেশের তরফে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের জয়েন্ট রিভার কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কবির। এছাড়া বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে আছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের ডিরেক্টর মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ। আলোচনায় অংশ নেবেন বাংলাদেশের দু’জন কূটনীতিক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। তিনি দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর-পলিটিক্যাল এবং কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) মোহাম্মদ ওমর ফারুক আকন্দ।

ভারতের তরফে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের একজন চিফ ইঞ্জিনিয়ার।

এবারের বৈঠকের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এটিই দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের শেষ বৈঠক।

বৃহস্পতিবার বৈঠকের শুরুতেই বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল মুর্শিদাবাদে যাবে। সেখানে বৈঠকের ফাঁকেই ফারাক্কায় নেমে গঙ্গা নদীর পানি পরিমাপ করবেন তারা। পরের দিন শুক্রবার তারা ফিরে আসবেন কলকাতায়। কলকাতার শুক্র ও শনিবার একটি অভিজাত হোটেলে হবে বৈঠক।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৩০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তি অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে মে এই শুষ্ক মৌসুমে দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি বণ্টনের বিধান রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, গঙ্গায় পানির প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং অবশিষ্ট পানি পাবে বাংলাদেশ।

পানির প্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে থাকলে বাংলাদেশ পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাকি অংশ পাবে ভারত। আর পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ সমানভাবে পানি ভাগ করে নেবে।




অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন স্থগিত

ডেস্ক নিউজঃ শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ কমানো এবং বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়েছে, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। সাধারণত একজন শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সময় একবার এবং পরে নবম শ্রেণিতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবার রেজিস্ট্রেশন করে।

সেই প্রেক্ষাপটে অষ্টম শ্রেণিতে পুনরায় রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে এটি অভিভাবকদের মাঝেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীন ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত নির্দেশনার অনুলিপি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর এবং দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আপাতত অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না।




ঈদের ফিরতি যাত্রার ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু আজ

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহা শেষে রাজধানীমুখী যাত্রীদের ফিরতি যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আজ থেকে আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আর পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর টিকিট মিলবে দুপুর ২টা থেকে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ পাওয়া যাচ্ছে ৩১ মে’র ফিরতি যাত্রার টিকিট। এছাড়া ১ জুনের টিকিট ২২ মে, ২ জুনের টিকিট ২৩ মে, ৩ জুনের টিকিট ২৪ মে এবং ৪ জুনের ফিরতি যাত্রার টিকিট ২৫ মে বিক্রি করা হবে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে কেনা অগ্রিম টিকিট ফেরত দেওয়া যাবে না। একজন যাত্রী একবারে সর্বোচ্চ চারটি আসনের টিকিট কিনতে পারবেন। তবে একাধিক যাত্রীর জন্য টিকিট কাটতে হলে সহযাত্রীদের নাম টিকিট কেনার সময় উল্লেখ করতে হবে।

এর আগে গত ১৩ মে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ওইদিন ২৩ মে যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হয়। পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে ২৪ মে, ২৫ মে, ২৬ মে ও ২৭ মে’র যাত্রার টিকিট বিক্রি বিক্রি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।




।শোক বিজ্ঞপ্তি। রহিমা বেগমের মৃত্যুতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের শোক।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় পার্টি, কাফরুল থানা কমিটির আহবায়ক এস এম বদরুল আলমের মমতাময়ী মাতা রহিমা বেগম ( ৬৮) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে ২০মে ২০২৬, বুধবার রাত ৯ঃ০০টায় ঢাকার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি চার পুত্র এক কন্যা সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহম্মদ কাদের, রহিমা বেগমের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রেরণ করেছেন। শোকবার্তায় পার্টি চেয়ারম্যান মরহুমার বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী রহিমা বেগমের মৃত্যুতে অনুরূপ এক শোকবার্তা প্রেরণ করেছেন।

পার্টির প্রেসিডিয়ামের সদস্য ও সাংস্কৃতিক পার্টির সভাপতি শেরিফা কাদের, রহিমা বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।




ফেইক আইডিতে অপপ্রচার ও কোটি টাকার চেক জালিয়াতির অভিযোগে আদালতে ইনোভেটিভ ফার্মার মালিক শহিদুল হাসান

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফেইক আইডি খুলে অপপ্রচার, পোস্টারিং করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, কোটি কোটি টাকার চেক জালিয়াতি ও ব্যবসায়িক প্রতারণার অভিযোগে এবার আইনের জালে আটকালেন ইনোভেটিভ ফার্মার স্বত্ত্বাধিকারী কাজী মোহাম্মদ শহিদুল হাসান। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেছেন এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার মো. রফিক আহমদ।

মামলায় শুধু শহিদুল হাসানই নন, তার সঙ্গে আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন—মো. জাহিদুল করিম ওরফে রিমন (৩০), মো. শওকত আলী ওরফে রিফাত (২৯), কাজী মোহাম্মদ রুবাইদুল হাসান (৩৫) ও কামাল হোসাইন (৩৮)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড থেকে নগদ ও বাকিতে ওষুধ ক্রয় করে আসছিলেন ইনোভেটিভ ফার্মার মালিক কাজী মোহাম্মদ শহিদুল হাসান। ব্যবসায়িক লেনদেনের একপর্যায়ে তার কাছে বিপুল অঙ্কের পাওনা জমা হলে তিনি তিন কোটি পঞ্চান্ন লাখ টাকার ৫টি চেক প্রদান করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সেই চেকের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন তিনি। পরে বাধ্য হয়ে এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার মো. রফিক আহমদ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শহিদুল হাসানের বিরুদ্ধে পৃথক ৫টি মামলা দায়ের করেন।

WhatsApp Image 2026 05 20 at 2.39.03 PM (1)

অভিযোগ উঠেছে, মামলায় জামিন পাওয়ার পর থেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন শহিদুল হাসান। এরপর শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইক আইডি খুলে এলবিয়ন গ্রুপ ও এর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। শুধু অনলাইনেই নয়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পোস্টারিং করেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোম্পানিকে চাপে ফেলতে এবং নিজেদের আর্থিক প্রতারণা আড়াল করতে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এ ঘটনায় এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাইসুল উদ্দিন প্রথমে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে উল্টো এলবিয়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতারণা, চুক্তিভঙ্গসহ একাধিক ভিত্তিহীন মামলা ও অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করেন শহিদুল হাসান ও তার সহযোগীরা।

এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার মো. রফিক আহমদ বলেন, “এটি আমাদের কোম্পানির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। নিজেদের প্রতারণা ঢাকতেই তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়েছে এবং আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।”

WhatsApp Image 2026 05 20 at 2.39.04 PM

অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ইনোভেটিভ ফার্মার স্বত্ত্বাধিকারী কাজী মো. শাহদিুল হাসান ২০০৫ সালে ‘সান ফার্মা’ নামের একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। কিন্তু সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় একপর্যায়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

ব্যবসায়ী মহলে এখন প্রশ্ন উঠেছে—একজন বিতর্কিত ব্যক্তি কীভাবে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকার লেনদেন করে বাজারে প্রভাব বিস্তার করেছেন? ফেইক আইডি, অপপ্রচার, হুমকি, চেক কেলেঙ্কারি ও আইনি জটিলতায় ঘেরা এই ঘটনায় ওষুধ খাতজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে করপোরেট ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ ব্যবসায়ী সমাজে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হলে বেরিয়ে আসতে পারে আরও ভয়ংকর সব তথ্য ও আর্থিক অনিয়মের চিত্র।