১২ বছরের চাকরিতে শতকোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ, কাস্টমস কর্মকর্তা আলতাফকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনকে ঘিরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র ১২ বছরের চাকরি জীবনে তিনি শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার নামে এবং স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনের নামে বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট, প্লট, স্থাবর সম্পত্তি ও ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ উপজেলার ফুলহাতা গ্রামে তার নির্মিত বিলাসবহুল বাড়িও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তথ্য অনুযায়ী, আলতাফ হোসেন ২০১৪ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। এরপর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ছিলেন ড. শহিদুল ইসলাম। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সময় আলতাফ হোসেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিভিন্ন অভিযানে প্রভাব বিস্তার করতেন এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘুষ, তদবির ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটে তিনি নিয়মের চেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। যেখানে সাধারণত একটি পদে ছয় মাসের বেশি থাকার নিয়ম না থাকলেও তিনি প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় সেখানে ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। ওই সময়ে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত বিভিন্ন ফাইল নিষ্পত্তি, পণ্য ছাড় এবং তদন্ত কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে তৎকালীন শুল্ক গোয়েন্দা প্রধানও অবগত ছিলেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, দশম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মকর্তার চাকরিজীবনে বৈধ আয়ের সঙ্গে তার বর্তমান সম্পদের কোনো মিল পাওয়া যায় না। হিসাব অনুযায়ী গত এক যুগে তার মোট সরকারি বেতন ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। অথচ তিনি ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লটের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকার ৩০০/১ পূর্ব রসুলপুরে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং রসুলপুরের মাস্টারবাড়িতে নির্মাণাধীন ১১ তলা ভবনের নবম তলায় আরেকটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনের নামে বিভিন্ন স্থানে সম্পদ এবং ফিক্সড ডিপোজিট থাকারও দাবি করা হয়েছে।

বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ উপজেলার ফুলহাতা গ্রামে আলতাফ হোসেনের বাড়ি। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ায় এলাকায় তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরিতে মুন্সীগঞ্জ কোটার সুবিধা নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তদন্ত করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন।

সম্প্রতি এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনেও আলতাফ হোসেনের সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আন্দোলন পরিচালনা ও সংগঠিত করতে তিনি এবং তার ঘনিষ্ঠ একটি সিন্ডিকেট বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছেন এবং সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ বিষয়ে ভিডিও ফুটেজও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আরও অভিযোগ রয়েছে, এনবিআরের একজন সাবেক প্রভাবশালী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সুপারিশে আলতাফ হোসেনের সরকারি চাকরি হয়। পরবর্তীতে সেই কর্মকর্তার প্রভাব ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে নিজের ক্ষমতা বিস্তার করেন এবং ঘুষ, তদবির ও প্রভাব খাটিয়ে একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এভাবেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

চাকরি জীবনে কিশোরগঞ্জ, খুলনা, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করেছেন আলতাফ হোসেন। চট্টগ্রামে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত ফাইল নিষ্পত্তিতে ঘুষ ছাড়া কাজ করেন না—এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সিএন্ডএফ এজেন্ট। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের অর্থ না দিলে ফাইল আটকে রেখে হয়রানি করা হতো। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নতুন কমিশনার তাকে অন্যত্র বদলির সিদ্ধান্ত নেন বলেও জানা গেছে। এরপর সেই বদলি ঠেকাতে এনবিআরের বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চালানোর অভিযোগও উঠেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে আলতাফ হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার না করে দুটি ফ্ল্যাট থাকার কথা স্বীকার করেন। এছাড়া তার আরও সম্পদ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ফোনালাপে তিনি দুদক ও এনবিআরকে অর্থের মাধ্যমে প্রভাবিত করার কথাও বলেছেন। তবে এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ এখন সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




তীব্র গরমে মক্কা ও মদিনাতে বিশেষ সতর্কতা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ধূলিঝড় ও বজ্রবৃষ্টি এবং মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের কিছু অংশে দিনের বেলায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে নতুন সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। এমতাবস্থায় বাসিন্দা ও ভ্রমণকারীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, মক্কা ও মদিনার পাশাপাশি আল-জাওফ, উত্তর সীমান্ত অঞ্চল, হাইল, আল-কাসিম, রিয়াদ, পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল এবং নাজরানের কিছু এলাকায় ধুলা ও বালুবাহী প্রবল বাতাস বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।

এদিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও আবহাওয়া অস্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জাজান, আসির ও আল-বাহা অঞ্চলের কিছু অংশ এবং মক্কার দক্ষিণাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় সক্রিয় বাতাসের সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




পে-স্কেল: প্রস্তুত সুপারিশে অর্থমন্ত্রীর সম্মতি পেলেই পাঠানো হবে মন্ত্রিসভায়

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের আগে এখন কেবল অর্থমন্ত্রীর সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সবুজ সংকেত মিললেই তা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এই লক্ষ্যে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই সুপারিশগুলো মন্ত্রিসভায় তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অর্থ বিভাগকে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে সোমবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রক্রিয়াটির সঙ্গে জড়িত সূত্রগুলোর বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

উচ্চপর্যায়ের কমিটির একজন সদস্য জানান, আসন্ন মন্ত্রিসভার বৈঠকে যদি বিষয়টি উপস্থাপন করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে যেন এর পরের সপ্তাহের সভায় অবশ্যই তা তোলা হয়— এমন সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কমিটির সুপারিশগুলো এর আগের বৈঠকেই চূড়ান্ত হয়েছিল। মূলত বিচার বিভাগ সংক্রান্ত কিছু কারিগরি বিষয়ের সমাধান করতেই সোমবার অতিরিক্ত বৈঠকটি ডাকা হয়েছিল। অর্থমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পাওয়ার পরপরই প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

দেশের রাজস্ব আদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সুপারিশগুলো তৈরি করেছে কমিটি। প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে শুধু মূল বেতন কার্যকর হবে এবং আগামী অর্থবছর থেকে বিভিন্ন ভাতা প্রদান করা হবে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী অষ্টম পে-স্কেলের মতো নবম পে-স্কেলটিও দুই ধাপে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

কমিটির একজন সদস্য জানিয়েছেন, নতুন এই বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট আইনি ও কারিগরি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বেশ কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। ফলে বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে সরকারি কর্মচারীদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। অতীতেও একই ধরনের বিলম্বের নজির রয়েছে। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে অষ্টম পে-স্কেল কার্যকর হলেও কর্মচারীরা তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বর্ধিত বেতন পেয়েছিলেন সে বছরের ডিসেম্বরে।

বেসামরিক, সামরিক ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সমন্বয় করতে কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে। সেসব বৈঠকের ফসল হিসেবে সমন্বিত এই প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে এবং তা এখন মন্ত্রিসভার পর্যালোচনার জন্য প্রস্তুত।

প্রস্তাবিত সুপারিশ অনুযায়ী, ১ থেকে ১০ গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতনে ১০০ শতাংশ বা এর কাছাকাছি পরিমাণ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন গড়ে প্রায় ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের ওপর ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা এবং ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেয়ে থাকেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলে বর্ধিত বেতনের সঙ্গে বিদ্যমান এই সুবিধাগুলো সমন্বয় করা হবে। ইতোমধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সরকার প্রায় ১৪ লাখ কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ বছরে প্রায় এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে থাকে।




দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা

আবহাওয়া ডেস্কঃ রাজধানীসহ দেশের ১৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, গতকাল রাতে প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের সারাদেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে বলা হয়, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে পূর্বাভাসে।

এছাড়াও আজ সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ, টিকিটের টাকা ফেরত

ডেস্ক নিউজঃ টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। 

বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটির চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা বাতিল করে আজকে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।

এদিকে, আজ ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ভোররাত থেকে চট্টগ্রাম স্টেশনে অপেক্ষমাণ রয়েছে। ষোলশহর-জানআলীহাট সেকশনে রেললাইনের ওপর জমে থাকা পানির উচ্চতা কমে না আসা পর্যন্ত ট্রেনটি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হবে না।

আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে যারা টিকিটের মূল্য ফেরত নিতে চান, তারা চট্টগ্রাম স্টেশনের কাউন্টার থেকে টাকা ফেরত নিতে পারবেন।আর যারা ঢাকায় ফিরতে চান, তারা বিকেল ৪টায় একই কক্সবাজার এক্সপ্রেসে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারবেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।




বাংলাদেশিদের জন্য খুললো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হলো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ ঘোষণা দেন। মন্ত্রী জানান, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হবে বলে আশা করছে সরকার। 
এবার মালয়েশিয়ার ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশ নিজেই রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করবে। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার এবার সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি এড়াতে এজেন্সিগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনশক্তি রফতানি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ না হলে দীর্ঘমেয়াদে এই বাজারে আবার অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। ২০০৮ সালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে শ্রমবাজারটি বন্ধ হয় এবং ২০১৬ সালে তা পুনরায় চালু হয়। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া আবার বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। এরপর ২০২২ সালের আগস্ট থেকে কর্মী যাওয়া শুরু হলেও ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে আইনি জটিলতা কাটিয়ে এই শ্রমবাজার আবারও সচল হলো।
২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে শেষ মুহূর্তে আটকা পড়া ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে পাঠানোর দায়িত্ব সরকারি সংস্থা বোয়েসেলকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার কর্মী ইতিমধ্যে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন এবং অবশিষ্ট কর্মীদের বিষয়ে সরকার দ্রুত পৃথক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।



মিশরের বিপক্ষে নেই গরমের দুশ্চিন্তা, স্বস্তিতে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্কঃ শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে স্বস্তির খবর পেয়েছে আর্জেন্টিনা। কেপ ভার্দের বিপক্ষে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে খেলতে হলেও এবার তুলনামূলক আরামদায়ক পরিবেশেই খেলবে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

আজ আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও মিশর। নকআউট পর্বের এই লড়াই কঠিন হলেও আবহাওয়া এবার আলবিসেলেস্তেদের জন্য বাড়তি বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এয়ার-কন্ডিশন্ড) হওয়ায় বাইরের তাপমাত্রার প্রভাব মাঠের খেলায় পড়বে না। এছাড়া স্টেডিয়ামটিতে প্রয়োজন অনুযায়ী ছাদ খোলা ও বন্ধ করার সুবিধাও রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যাচের দিন বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও স্টেডিয়ামের ভেতরে খেলোয়াড়দের জন্য পরিবেশ থাকবে স্বস্তিদায়ক।

এর আগে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের কষ্টার্জিত জয়ে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার কারণে বেশ ভুগতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচ চলাকালে দলের একাধিক খেলোয়াড় ক্র্যাম্পে আক্রান্ত হন। বিশেষ করে ফাকুন্দো মেদিনা ও এনজো ফার্নান্দেজ শারীরিকভাবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন।

সেই অভিজ্ঞতার পর মিশরের বিপক্ষে তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়ায় খেলার সুযোগ আর্জেন্টিনার জন্য বড় স্বস্তির খবর হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন আবহাওয়ার চিন্তা নয়, বরং কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করাই থাকবে লিওনেল স্কালোনির দলের মূল লক্ষ্য।




প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাওয়া মেসির সই করা জার্সি জাতীয় জাদুঘরে

ডেস্ক নিউজঃ সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ফুটবল বিশ্বকাপের জোয়ারে ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও। লিওনেল মেসির সই করা যে জার্সিটি তিনি উপহার পেয়েছিলেন, সেটি নিজের ব্যক্তিগত সংগ্রহে না রেখে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন জনসাধারণের জন্য। প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়া সেই জার্সি দেখতে এখন জাতীয় জাদুঘরে সাধারণ দর্শক ও ফুটবল সমর্থকদের ভিড় উপচে পড়ছে। 

ভালোবাসা, সম্মান আর আত্মমর্যাদার প্রতীক যেকোনো দলের জার্সি। বাংলাদেশের সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এই সম্মানে শীর্ষে আর্জেন্টিনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপহার পেয়েছেন আর্জেন্টিনার তিন তারকার অটোগ্রাফ সংবলিত অরিজিনাল জার্সি। সেই আনন্দ আকাশি নীল ভক্তদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

ফুটবলপ্রেমীরা যাতে সরাসরি মেসিদের জার্সি দেখতে পারেন, তাই জাতীয় জাদুঘরে তা উপহার হিসেবে দিয়েছেন। যা জাদুঘরের নিচতলার লবিতে সবার জন্য উন্মুক্ত। আর তা দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

সিলেট থেকে সন্তান নিয়ে এসেছেন এক অধ্যাপক। বাপ-বেটা দুজনেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। কাছ থেকে মোবাইলে নিজেদের বন্দি করছেন তারা।

তাদের মতো আরও অসংখ্য মানুষ মেসি-এঞ্জো-আলভারেজদের চিহ্ন দেখার জন্য ভিড় করছেন জাদুঘরের লবিতে।

তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীকে এই জার্সি উপহার দেওয়া হয়েছে। এটি এখন মেসির ভক্তরা দেখতে পারছেন। খুব ভালো লাগছে।

জাদুঘরের নিরাপত্তা রক্ষী কবির উদ্দিন জানান, প্রতিদিন শত শত ভক্তরা আসছেন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে যারা জাদুঘর পরিদর্শনে আসছেন, তারা মেসির লবিতে উঁকি দিতে ভুলছেন না।

জাতীয় জাদুঘরের ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্পকলা বিভাগের কিপার মনিরুল জানান, বিশ্বকাপ পর্যন্ত লবিতেই মেসিদের জার্সির প্রদর্শনী চলবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে গ্যালারিতে কোথায় রাখা হবে সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের নিদর্শন।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ব্রাজিল সমর্থকদের কথা বিবেচনা করে ব্রাজিলের সেরা কোনো প্লেয়ারের সাইন করা জার্সি প্রদর্শন করা যায় কি-না, তাও চিন্তায় আছে বলে জানান তিনি।




এরদোয়ানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কাছে নেতানিয়াহুর ‘নালিশ’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের অনবরত ইসরায়েল-বিরোধী বিবৃতির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সরাসরি ‘নালিশ’ জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে আঙ্কারার বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে ব্যবহার হতে পারে— এমন কোনো উন্নত সামরিক প্রযুক্তি বা আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র তুরস্কের কাছে বিক্রি না করার জন্য তিনি মার্কিন প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন।

মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সূত্র ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিজের এই গভীর উদ্বেগের কথা জানান। চলতি সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্পের আঙ্কারা সফরের কথা রয়েছে, যেখানে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে তার একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিগত দুই বছর ধরে গাজা উপত্যকা এবং ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের জেরে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গেই ব্যক্তিগতভাবে একটি সুদৃঢ় ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে চলছেন, কারণ ন্যাটোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুরস্ক ওয়াশিংটনের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য অংশীদার।

সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক পরিস্থিতির কারণে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী মহলে নেতানিয়াহুর আগের সেই একচ্ছত্র প্রভাব কিছুটা হ্রাস পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই যুদ্ধ মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি তার রাজনৈতিক জোটের মধ্যেও নানা মতভেদের জন্ম দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে এরদোয়ানের সঙ্গে ট্রাম্পের চমৎকার ব্যক্তিগত সখ্য এবং তুরস্কে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিশাল আর্থিক মুনাফার বিষয়টিকে সরিয়ে ট্রাম্পের ওপর নেতানিয়াহু কতটা প্রভাব খাটাতে পারবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে সংশয় রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সোমবার ন্যাটো নেতাদের সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কে যাচ্ছেন, যেখানে তুর্কি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানের জন্য প্রায় ৭০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের নতুন ইঞ্জিন সরবরাহ চুক্তি এবং দেশটিকে পুনরায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার এজেন্ডা রয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ওয়াশিংটন তুরস্ককে এই সংবেদনশীল এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে সম্পূর্ণ বহিষ্কার করেছিল।

আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আঙ্কারার হাতে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে পুনরায় তাদের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ বিক্রি করা সম্ভব, তা মার্কিন পেন্টাগন বর্তমানে খতিয়ে দেখছে। তিনি জানান যে মার্কিন আইন মেনে এই ধরনের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ হয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে প্রতিরক্ষা দপ্তরকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আমেরিকার এই সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তটি তুর্কি সরকারের ক্রমাগত ইসরায়েল-বিরোধী অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জায়নবাদকে ‘গণহত্যার মতাদর্শ’ বলে অভিহিত করে দাবি করেছিলেন যে এটি তুরস্কের জাতীয় অস্তিত্বের জন্যও এক বড় হুমকি। এর পরপরই তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইসরায়েল সরকারকে ‘মানবজাতির জন্য অসহনীয় বোঝা’ আখ্যা দিয়ে দেশটির ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জোর দাবি জানান।

শুক্রবারের ফোনালাপে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেছেন যাতে তিনি এরদোয়ানকে কিছুটা ‘সংযম’ প্রদর্শনের বার্তা দেন। এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে নেতানিয়াহুর দাবিটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং তিনি হয়তো তুর্কি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করে তাকে কিছুটা সংযত হতে বলতে পারেন। তবে এই স্পর্শকাতর ফোনালাপের বিষয়ে হোয়াইট হাউস কিংবা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অফিশিয়াল কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের নেওয়া কিছু স্বাধীন কূটনৈতিক উদ্যোগের কারণে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কেও এক ধরনের অদৃশ্য টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী অতীতে যেসব ইতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তার বেশিরভাগই বাস্তবে মেলেনি। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে চলতি মাসের শেষের দিকে নেতানিয়াহুর হোয়াইট হাউস সফরে যাওয়ার একটি সূচি নির্ধারিত রয়েছে।

এদিকে গতকাল সোমবার মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও এরদোয়ানের তীব্র সমালোচনা করেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি অভিযোগ করেন যে তুরস্কের শীর্ষ নেতৃত্ব ধারাবাহিকভাবে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন এবং আঙ্কারা মধ্যপ্রাচ্যের ‘খারাপ পক্ষকে’ সব ধরনের মদদ যোগাচ্ছে।

নেতানিয়াহু তার সাক্ষাৎকারে সরাসরি বলেন, ‘মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো আমেরিকা-বিরোধী চরমপন্থী আদর্শে প্রভাবিত একটি সরকারকে কোনোভাবেই এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা উন্নত ইঞ্জিন দেওয়া উচিত হবে না। এতে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট হবে, যা বর্তমানে ইসরায়েলের আকাশসামরিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং আমেরিকার কৌশলগত অবস্থানের মাধ্যমে সুসংহত রয়েছে’।

সূত্র: অ্যাক্সিওস




বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

ডেস্ক নিউজঃ ভারী বর্ষণের কারণে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৬ জুলাই) জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

এতে বলা হয়, বান্দরবান পার্বত্য জেলার বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য দুর্যোগের আশঙ্কা বিবেচনায় জনসাধারণ ও পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং আকস্মিক ঝুঁকির সম্ভাবনা বেড়েছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের বান্দরবানে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।