বিআইডব্লিউটিএতে ‘টেন্ডার সিন্ডিকেট’ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ: হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে আশরাফুজ্জামানকে নিয়ে বিতর্ক
এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রকৌশল বিভাগ) এবং একাধিক মেগা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (PD) এ.এস.এম. আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সীমাহীন দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র, ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিআইডব্লিউটিএ’র বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পকে কার্যত ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করেছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের সোনাদিয়া, টেকনাফের সাবরাং ও জালিয়ার দ্বীপ এলাকায় বাস্তবায়নাধীন জেটি ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, নদী খনন, সমীক্ষা ও অবকাঠামো নির্মাণকাজে নিম্নমানের কাজ করিয়ে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত মাটি পরীক্ষা কিংবা বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের যথাযথ সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ফলে প্রকল্প এলাকায় বারবার চর জেগে ওঠা, ভাঙন ও নৌপথ সংকট তৈরি হচ্ছে। এতে একদিকে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে অপচয় হচ্ছে বিপুল সরকারি অর্থ। অভিযোগ রয়েছে, এ.এস.এম. আশরাফুজ্জামান একটি শক্তিশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বড় বড় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করেন। নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে দরপত্র ভাগাভাগি, রেইট কোড সরবরাহ এবং পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিআইডব্লিউটিএ’র ভেতরে তার নিজস্ব “ক্যাশিয়ার” রয়েছে বলেও দাবি করেছেন একাধিক সূত্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, “তিনি কমিশন ছাড়া কোনো কাজ করেন না। বড় টেন্ডারগুলো আগে থেকেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভাগ করে দেওয়া হয়। সাধারণ ঠিকাদারদের নানা ধরনের ভয়ভীতি, অপমান ও চাপ প্রয়োগ করা হয়।”
অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল ও সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যবহার করে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ ফ্ল্যাট, প্লট ও বাড়ি গড়ে তুলেছেন।
সূত্র মতে, তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
বাসাবোর অপরাজিতা এলাকায় ৩২/বি/১ ও ৩২/বি/ই নম্বরের ফ্ল্যাট, বাসাবো এলাকায় ৭ তলা বাড়ি
শান্তিনগরে আলিশান ফ্ল্যাট
আহমেদবাগ এলাকায় ৩৩/বি ও ৩৩/সি নম্বরে একাধিক ফ্ল্যাট
মায়াকানন এলাকায় ফ্ল্যাট
মোহাম্মদপুর, বসিলা, ধানমন্ডি, ফতুল্লা, কেরানীগঞ্জ, রূপগঞ্জ, পূর্বাচল, কালীগঞ্জ, সাভার ও আশুলিয়ায় প্লট ও জমি, সবুজবাগ ও মুগদা এলাকায় বাড়ি, নিজ জেলা কুষ্টিয়ায় পরিবারের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি।
অভিযোগ রয়েছে, এসব সম্পদের বড় অংশই সম্পদ বিবরণীতে গোপন রাখা হয়েছে এবং রাষ্ট্রকে ভুয়া ও অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে তিনি হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও একইভাবে কমিশন বাণিজ্য ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রেখেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি সরকার গঠনের পর ও একই কাজে লিপ্ত থেকে বিভিন্ন প্রকারের অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন।
ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, বাজেট সংকট থাকা সত্ত্বেও তিনি শত শত কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করেছেন এবং কমিশনের ভিত্তিতে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিচ্ছেন। এর ফলে একদিকে রাষ্ট্র হারাচ্ছে বিপুল অর্থ, অন্যদিকে সাধারণ ঠিকাদাররা বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নাম:
Development of Jetties and Infrastructure at Mirsarai & Sandwip at Chattogram, Subrang and Jaliar Dwip at Teknaf and Sonadia Dwip at Cox’s Bazar. এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (PD) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এ.এস.এম. আশরাফুজ্জামান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এ.এস.এম. আশরাফুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিভ না করায় তার কোন প্রকার বক্তব্য প্রকাশিত হলো না।
সংশ্লিষ্ট ওয়াকিবহাল মহল, ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও সচেতন মহলের দাবি, এ.এস.এম. আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগসমূহ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একইসঙ্গে তার অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
আনসার-ভিডিপি সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে
ডেস্ক নিউজঃ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বুধবার (২০ মে) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধান, বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলা এবং যানজট নিরসনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
এ ছাড়া, নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এ বাহিনী যুব ও নারীদের বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণে দেওয়ার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা প্রদানে নিয়োজিত যে কোনো সংস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করে এর পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলাবোধের ওপর।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উপলক্ষ্যে তিনি এই বাহিনীর সব স্তরের সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজকের এই ঐতিহাসিক শুভক্ষণে আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এ বাহিনীর ৬৭০ জন বীর সদস্যসহ বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকালে দেশমাতৃকার জন্য আত্মদানকারী সব সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।’
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুদূরপ্রসারী চিন্তা ও পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় আনসার বাহিনীর পুনর্গঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে আনসার-ভিডিপি আইন, ১৯৯৫ প্রণয়নের মাধ্যমে ব্যাটালিয়ন আনসার গঠিত হয় এবং এতে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল আইনগত সাংগঠনিক ভিত্তি লাভ করে। সেই অগ্রদৃষ্টিসম্পন্ন উদ্যোগের ফলস্বরূপ আজ আনসার-ভিডিপি গ্রাম-বাংলার অতন্দ্র প্রহরীতে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন করেছে। এই নির্বাচনে অন্যান্য বাহিনী ও মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেজন্য বাহিনীর সদস্যদের আমি ধন্যবাদ জানাই। আমি আশা করি, একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার পথচলায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিশ্বস্ত সহযাত্রী হয়ে পাশে থাকবে।
রাষ্ট্রপতি বিশ্বাস করেন, ‘শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন, নিরাপত্তায় সর্বত্র আমরা’-এ মূলমন্ত্রে দীক্ষিত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সব সদস্য জননিরাপত্তার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। তিনি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।
তিনি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষ্যে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
ওমানে নিহত চার ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে, পাশাপাশি খোঁড়া হয়েছে কবর
ডেস্ক নিউজঃ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর গ্রামে এখন শোকের মাতম। ওমানে বিষাক্ত গ্যাসে নিহত একই পরিবারের চার ভাইয়ের মরদেহ বুধবার (২০ মে) সকালে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। চারটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ আনার পর থেকেই বাড়িটিতে ভিড় করছেন স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা।
লালানগরের বান্দারাজার পাড়ার আবদুল মজিদের বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার আহাজারি। সাদা কাফনে মোড়ানো চার ভাইয়ের নিথর দেহ ঘিরে স্বজনদের বিলাপে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রতিবেশীরাও বলছেন, একসঙ্গে একই পরিবারের চার ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে ফেরার এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা তারা আগে কখনো দেখেননি।
ওমানে মারা যাওয়া চার ভাই হলেন রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ। জীবিকার সন্ধানে তারা দীর্ঘদিন ধরে ওমানে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওমানের আল মিলিদ্দা এলাকার আল মোছানা স্টেট অব আল বাতিনাহতে একটি গাড়ির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়। খবরটি দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে মরদেহগুলো ঢাকায় পৌঁছালে পরিবারের সদস্যদের কাছে সেগুলো হস্তান্তর করেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। পরে বিশেষ ফ্রিজার অ্যাম্বুল্যান্সে করে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।
সকাল ১১টায় হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চার ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি খোঁড়া চারটি কবরে তাদের দাফন করা হবে।
৩ জেলার জন্য সতর্কবার্তা, নদীবন্দরে হুঁশিয়ারি সংকেত
আনসার-ভিডিপি সদস্যদের হাত ধরে প্রতিটি গ্রাম আর্থসামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিণত হবে: প্রধানমন্ত্রী
ডেস্ক নিউজঃ দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আনসার-ভিডিপির গর্বিত সদস্যদের হাত ধরে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম আর্থসামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন।
তিনি বলেন, বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্যের সাহস ও নিষ্ঠা হোক আগামী দিনের পাথেয়।
বুধবার (২০ মে) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৯ মে) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উদযাপিত হচ্ছে। এই শুভলগ্নে প্রধানমন্ত্রী এই বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং তৃণমূলের অকুতোভয় আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানান। মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী এই বাহিনীর ৬৭০ জন শহীদের প্রতি তিনি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যেকোনো প্রয়োজনে এই বাহিনীর সদস্যদের সময়োপযোগী ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য তিনি এই বাহিনীর সর্বস্তরের প্রতিটি সদস্যকে আবারও অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের পর বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। দেশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার কাজ করে যাচ্ছে। একটি স্বনির্ভর, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার এই যাত্রাপথে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গর্বিত উচ্চারণ ‘আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার, অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার’ এবং গণপ্রতিরক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের ধারণায় গড়ে ওঠা এই বাহিনীর রয়েছে দেশের প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত এক শক্তিশালী সেতুবন্ধন। গ্রাম ও শহরে সুরক্ষিত সমাজ কাঠামো গঠন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং বহুবিধ সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নে আনসার-ভিডিপি সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, আনসার-ভিডিপির নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণের মতো কার্যক্রমে সারাদেশে বিস্তৃত নেটওয়ার্কের সক্ষমতাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। বিজ্ঞান ভিত্তিক পরিবেশ সুরক্ষা এবং কৃষি অর্থনীতির বিকাশে খাল খনন, দুর্যোগপ্রবণ প্রত্যন্ত এলাকায় বন্যা থেকে সুরক্ষা, পানিসম্পদ পরিকল্পনা, দুর্যোগকালীন সাধারণ জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের মতো অনন্য কার্যক্রম বাস্তবায়নেও আনসার ও ভিডিপি অপরিসীম ভূমিকা পালন করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে শিল্পকারখানা, হাসপাতাল ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫২ হাজারের বেশি অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।’
বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, তারুণ্যই শক্তির উৎস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুবসমাজকে নিছক জনশক্তি নয়, বরং দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আনসার ও ভিডিপি যে সুনির্দিষ্ট চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। স্বনির্ভরতা ও কর্মসংস্থানের এই নতুন মডেলে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি উৎপাদনমুখী রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে আনসার-ভিডিপি সহায়ক শক্তি হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখবে, এটিই আমার প্রত্যাশা।’
তিনি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, ‘দেশ গড়ার পবিত্র দায়িত্বে আপনাদের সাহসী ও কার্যকর ভূমিকার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখছি।’
বিআইডব্লিউটিএতে ‘আওয়ামী দোসর’ সিন্ডিকেটের দাপট, নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধেই অনিয়মের বিস্ফোরক অভিযোগ
এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস, ডামি পরীক্ষার্থী এবং কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয় থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে।
সূত্রমতে, গত ১৬ মে রাজধানীর মিরপুরের বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ (বালক ও বালিকা শাখা) এবং মিরপুর গার্লস আইডিয়াল কলেজে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলা ওই পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নিয়োগ সিন্ডিকেট তাদের মনোনীত প্রার্থীদের হাতে আগেভাগেই প্রশ্ন ও উত্তর পৌঁছে দেয়। এমনকি দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটেই প্রশ্নের উত্তরপত্র গণমাধ্যমের হাতে পৌঁছে যায়। এরপর পুরো পরীক্ষাকেন্দ্রে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার চুক্তিতে চাকরি দেওয়া হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। অথচ ১৯৯০ সালের নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী এসব চতুর্থ শ্রেণির পদে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু সেই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লিখিত পরীক্ষার নামে সাজানো নিয়োগ নাটক পরিচালনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি-০৩/২০২৫ অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএতে ২১ জন লস্কর, ১ জন বাস হেলপার, ২৩ জন শুল্ক প্রহরী, ৬ জন মার্কম্যান, ১৩ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী এবং ২ জন ড্রাইভার নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত, নভেম্বর-৮ (১৯৯০) অনুযায়ী এমএলএম, গার্ড, নৈশ্যপ্রহরী, শুল্কপ্রহরী, মালি, ঝাড়ুদার, ক্লিনার, হেলপারসহ বিভিন্ন চতুর্থ শ্রেণির পদে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী প্রার্থী নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই বিধি উপেক্ষা করে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে দুর্নীতিবাজ চক্র নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে।
“ডামি পরীক্ষার্থী” দিয়ে পাস করানো হয়! বিআইডব্লিউটিএ’র এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পুরো নিয়োগ জালিয়াতি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। এরপর মূল পরীক্ষার্থীর বদলে “ডামি” বা “বডি চেঞ্জ” পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। লিখিত পরীক্ষায় পাসের পর একইভাবে প্রাকটিক্যাল ও ভাইভাতেও প্রক্সি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর চুক্তির ৩০ শতাংশ, প্রাকটিক্যাল শেষে আরও ৩০ শতাংশ এবং চূড়ান্ত ভাইভা শেষে বাকি ৪০ শতাংশ টাকা লেনদেন হয়। পরে সেই অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নেয় সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরীক্ষার্থীদের ছবি ও স্বাক্ষর যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। হাজিরা শিট ও উত্তরপত্রের স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখা হয়নি। ফলে ভুয়া পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এমনকি পরীক্ষার হলে মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী দোসরদের সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয় ! অভিযোগে উঠে এসেছে, বিআইডব্লিউটিএ’র সাবেক শ্রমিক লীগ নেতা আকতার ও ছরোয়ারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী-এর প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলার শত শত লোককে চাকরি দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, আওয়ামী আমলে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট এখনও অপ্রতিরোধ্য। ফলে মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন আর টাকার বিনিময়ে অযোগ্যরা সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করছেন।
নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধে সরাসরি নিয়োগের অভিযোগ :
এই নিয়োগ পরীক্ষার আহ্বায়ক ছিলেন মোঃ সাজেদুর রহমান, যুগ্ম সচিব ও সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালন)। সদস্য সচিব ছিলেন মোঃ কবির হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ)। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন গোপাল বাবু (পরিচালক, হিসাব), মোঃ গোলাম ফারুক (নিরীক্ষা) এবং মোঃ মিজানুর রহমান (যুগ্ম পরিচালক, প্রশাসন ও মানবসম্পদ)।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ : নিয়োগ কমিটির ছত্রচ্ছায়াতেই পুরো অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে আহ্বায়ক মোঃ সাজেদুর রহমান দাবি করেন, পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব ছিল মেরিডিয়ান ইউনিভার্সিটির এবং খাতা মূল্যায়নও তারাই করেছে। তার ভাষ্য, “প্রশ্নফাঁসের সুযোগ নেই।” তবে মৌখিক পরীক্ষার বিধান থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমেই নিয়োগ নেওয়া হয়।”
“একই হাতের লেখায় একাধিক খাতা”—তদন্তের দাবি :
ভুক্তভোগীরা দাবি জানিয়েছেন—একই হাতের লেখায় একাধিক উত্তরপত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে,
হাজিরা শিট ও উত্তরপত্রের স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখতে হবে, টপশিটে দেওয়া তথ্য ও স্বাক্ষরের সঙ্গে পরীক্ষার্থীর প্রকৃত তথ্য মিলছে কি না তা যাচাই করতে হবে, নির্ধারিত কেন্দ্রের বাইরে কারা পরীক্ষা দিয়েছে তা তদন্ত করতে হবে এবং পরীক্ষার হলে মোবাইল ব্যবহারের বিষয় অনুসন্ধান করতে হবে তাদের দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত হলে পুরো নিয়োগ সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচিত হবে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, বিআইডব্লিউটিএ’র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যদি নিয়োগেই এমন ভয়াবহ দুর্নীতি হয়, তবে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী ও তাদের পরিবার নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আফগানিস্তান-ইয়েমেনে ওষুধ রপ্তানির দ্বারপ্রান্তে Albion, সামনে কোটি টাকার চেক জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্র মামলা
এসএম বদরুল আলমঃ চট্টগ্রামভিত্তিক Albion Laboratories Limited এখন দেশের উদীয়মান রপ্তানিমুখী ওষুধ শিল্পের অন্যতম আলোচিত নাম। আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন সক্ষমতা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী জিএমপি সনদ অর্জন এবং একের পর এক বিদেশি বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি যখন বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে, ঠিক তখনই একটি সুবিধাবাদী চক্রের বিরুদ্ধে ভয়ংকর অপপ্রচার, হুমকি ও সাইবার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে এসেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও ভুটানসহ একাধিক দেশে ওষুধ রপ্তানির প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে Albion Laboratories Limited। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের এই সাফল্যকে কেন্দ্র করেই নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আফগানিস্তানে প্রথম চালান, ইয়েমেনে দ্বিতীয় ধাপ : সূত্র জানায়, আফগানিস্তানের কাবুলে প্রায় ৬৬ হাজার ৬৯০ ডলারের ওষুধ রপ্তানির প্রথম চালান প্রস্তুত করেছে এলবিয়ন। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শিগগিরই এই চালান জাহাজীকরণ করা হবে। এরইমধ্যে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অগ্রিম অর্থও পরিশোধ করেছে।
অন্যদিকে ইয়েমেনের এডেন সমুদ্রবন্দরের উদ্দেশ্যে ৫৩ হাজার ৬৫০ ডলারের ১০ ধরনের ওষুধ পণ্য পাঠানোর প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে। খুব দ্রুত ঋণপত্র খোলা হলে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চালানও পাঠানো হবে। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী ধাপে শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশের বাজার বিশ্লেষণ করছে এলবিয়নের গবেষণা দল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতের পর দ্বিতীয় বৃহৎ সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হিসেবে উঠে আসছে। সেই বাস্তবতায় চট্টগ্রাম থেকে আন্তর্জাতিক রপ্তানিকারক হিসেবে এলবিয়নের আত্মপ্রকাশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১০০ কর্মী থেকে ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান : ১৯৯১ সালে মাত্র ১০০ কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল Albion Laboratories Limited। প্রতিষ্ঠাতা Mohammad Nezam Uddin–এর হাত ধরে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া ভবনে সীমিত আকারে শুরু হয়েছিল উৎপাদন কার্যক্রম। বর্তমানে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক কারখানা। নতুন প্রকল্প Albion Specialized Pharma Limited পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গেলে সরাসরি প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
বর্তমান চেয়ারম্যান Raisul Uddin Soikot অস্ট্রেলিয়ায় কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে নেতৃত্ব দেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক Muntahar Uddin Sakib মালয়েশিয়ায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি সম্পন্ন করে ব্যবসায় যোগ দেন। আর পরিচালক Tasnuva Afrin নিজেও একজন ফার্মাসিস্ট। তাদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি এখন অ্যান্টিবায়োটিক, ইনজেকশন, সিরিঞ্জ, ক্যাপসুল, ড্রপসহ প্রায় ৪৫০ ধরনের ওষুধ উৎপাদন করছে।
কোটি টাকার চেক, মামলা আর সাইবার অপপ্রচার :
এই সাফল্যের বিপরীতে সামনে এসেছে এক বিস্ফোরক অভিযোগ। Albion Laboratories Limited–এর কর্মকর্তাদের দাবি, পাওনা অর্থ পরিশোধ এড়াতে একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন Kazi Mohammad Shahidul Hasan. মামলার নথি অনুযায়ী, তার প্রতিষ্ঠান Innovative Pharma এলবিয়নের কাছ থেকে ওষুধ ক্রয় করে প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার পাঁচটি চেক প্রদান করে। পরে নির্ধারিত সময়ে সেই চেকের অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ফেইক আইডি ব্যবহার করে এলবিয়নের চেয়ারম্যান ও কোম্পানির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার, মানহানিকর পোস্ট এবং হুমকির ঘটনা ঘটতে থাকে বলে অভিযোগ করেন এলবিয়নের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক Mohammad Rafiq Ahmad। মামলায় আরও যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা হলেন—Md. Jahidul Karim Rimon. Md. Shawkat Ali Rifat. Kazi Mohammad Rubaidul Hasan & Kamal Hossain.
আদালতের হস্তক্ষেপ, তদন্তে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট :
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় Chattogram Cyber Tribunal মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের গ্রহণযোগ্যতা যখন বাড়ছে, তখন একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার দেশের সামগ্রিক রপ্তানি ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
“Made in Bangladesh” ওষুধকে বিশ্বমঞ্চে নিতে চায় এলবিয়ন : চেয়ারম্যান Raisul Uddin Soikot বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন হলেও বাংলাদেশের ওষুধকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করাই তাদের লক্ষ্য। তিনি জানান, সরকারের ১০ শতাংশ রপ্তানি প্রণোদনা এবং আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণের কারণে বাংলাদেশের ওষুধের প্রতি বিদেশি বাজারে আস্থা বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান যখন আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল বাজারে জায়গা করে নিতে শুরু করেছে, তখন সেই সাফল্যকে ঘিরে স্বার্থান্বেষী মহলের সক্রিয় হয়ে ওঠা অস্বাভাবিক নয়। তবে শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাইবার অপপ্রচার ও ভয়ভীতি নয়—গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের ভবিষ্যৎ।
দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদন্ত আবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্বনামধন্য দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিধি মোতাবেক পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করতে শিক্ষা ছুটি নিয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করার সুযোগে উপ অধ্যক্ষ আব্দুস সালামের নেতৃত্বে কলেজটি এখন ধ্বংসের মুখে। এমন বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর একটি তদন্তের আবেদন করা হয়েছে। যার উল্লেখ্য বিষয় কলেজের উপাধ্যক্ষ ও একটি স্বার্থান্বেষী মহলের নানাবিধ অনিয়ম, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন। আবেদনটি করেছিলেন দৌলতপুর কলেজের একজন প্রাক্তন ছাত্র এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে, মোঃ নাজমুল হাসান প্রাত্তন ছাত্র, দৌলতপুর কলেজ পিতা: মোঃ আরজত আলী গ্রাম: কলেজ মোড়, ডাকঘর: রিফাইতপুর উপজেলা: দৌলতপুর, জেলা: কুষ্টিয়া।
যেখানে উল্লেখিত তদন্ত গুলোর মধ্যে ১. সরকারি সম্পদ লুণ্ঠন ও অর্থ আত্মসাৎ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সমূহের মধ্যে গত ২৪/০১/২০২৫ খ্রি. তারিখ (শুক্রবার), সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিতকৃত এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ আলতাফ হোসেন এবং স্থানীয় সাবেক কৃষক লীগ নেতা মোঃ আরিফুল ইসলাম (নান্নু)-এর প্রভাবে উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস ছালাম, মেঃ মাহফুজ আলম (বাবলু), সহকারী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, স.ম সরওয়ার, সহকারী অধ্যাপক, পরিসংখ্যান বিভাগ এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রদর্শক মোঃ জহুরুল আলম (সাবেক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি) কোনো প্রকার সরকারি নিলাম ছাড়াই কলেজের ৫টি মূল্যবান গাছ কর্তন করেন। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা। এই অর্থ কলেজ তহবিলে জমা না দিয়ে তারা পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাৎ করেছেন। যা কুষ্টিয়ার স্থানীয় পত্রিকাসহ প্রথম আলো, যুগান্তর ও বিভিন্ন অনলাইন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
২. দৌলতপুর কলেজে ৩ টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স, ১১ টি অনার্স কোর্স, ডিগ্রী (পাস) কোর্স, উচ্চমাধ্যমিক (মানবিক বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা) এবং উচ্চ মাধ্যমিক (বিএমটি) শাখা চালু আছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-৩৭,০০,০০০০,০৭২,৪৪,০৫,২২-১৮ (তারিখ: ০৯/০২/২০২৬ খ্রি.) অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের সকল আয় সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে বা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে আদায়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু উপাধ্যক্ষ মহোদয় সরকারি নীতিমালা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব ব্যবহার না করে শিক্ষক মোঃ মাহফুজুল আলম ও স.ম সরওয়ারের নামে ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নং (৩১৯৪০১০০৩৩২২৫, রূপালি ব্যাংক পিএলসি) খুলে ম্যানুয়ালি শিক্ষার্থীদের ফি ও অন্যান্য অর্থ সংগ্রহ করছেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং অর্থ আত্মসাতের সুস্পষ্ট অপকৌশল।
৩. বর্তমান উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস ছালাম নিয়োগ পরীক্ষায় ২য় স্থান অর্জন করেও বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এছাড়া ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রদর্শক মোঃ জহুরুল আলম এর প্রদর্শক পদ এমপিও নীতিমালায় না থাকার পরেও অনৈতিক ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে এমপিওভুক্ত (যাহা বিভাগীয় তদন্ত হয় পরবর্তীতে প্রভাব বিস্তার করে তদন্ত রিপট বাস্তবায়েনে বাধা প্রদান করেন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পদের অতিরিক্ত (৩য় শিক্ষক) হিসেবে মোঃ মাহফুজুল আলম এবং পরিসংখ্যান বিভাগে (শুধুমাত্র এইচ, এস সি তে স্বকৃতী) অতিরিক্ত হিসেবে স.ম সরওয়ার এমপিও সুবিধা ভোগ করছেন, যা সরাসরি এমপিও নীতিমালার পরিপন্থী এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থের অপচয়।
৪. উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস ছালাম ও তার সহযোগী মেষ্ট জহুরুল আলম, মোঃ মাহফুজুল আলম (বাবলু), স.ম সরওয়ার এবং স্থানীয় কৃষক দলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম নান্নু কলেজে এক প্রকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তারা সাধারণ শিক্ষক-কর্মচারীদের অনৈতিকভাবে হয়রানি ও অর্থ দাবি করে আসছেন। ফলে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং ৪০০০ শিক্ষার্থীর এই কলেজে বর্তমানে ছাত্র সংখ্যা ১০০০-এর নিচে নেমে এসেছে। কিন্তু প্রতিদিন কলেজ সময়ে কোন ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিতি ও নিয়মিত ক্লাস হই না। অনেক শিক্ষক কলেজে এসে বাজার ঘুরে বেড়ায়, সঠিক সময়ে কলেজে উপস্থিত থাকে না। কলেজ সময়ে বিভিন্ন কাজে বাইরে অবস্থান করে।
৫. মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক বৈধ সভাপতি নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও, স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির বাঁধার কারণে অদ্যাবধি কলেজে প্রবেশ করতে পারছেন না। স্থানীয় কৃষক দলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম নান্নু এবং তাঁর একটি সহযোগী চক্রদের মধ্যে রয়েছেন উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস ছালাম, প্রদর্শক মেঃ জহুরুল আলম, মোঃ মাহফুজুল আলম (বাবলু) এবং স.ম সরওয়ার। এই চক্রটি সম্মিলিতভাবে কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আমানুল হককে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। যা আদালতের অবমাননা। মহামান্য হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট রায় ও নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও, তারা আইন অমান্য করে আরিফুল ইসলাম নাড়ুকে ‘অবৈধ সভাপতি’ হিসেবে বহাল রেখেছে। যা আর্থিক তছরুপ। এই চক্রটি কলেজের সাধারণ তহবিল ও উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছে এবং তা কমিটির ব্যক্তিগত স্বার্থে খরচ করছে। বৈধ সভাপতিকে কলেজে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় প্রশাসনিক চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়েছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আজ ফাংসের দ্বারপ্রান্তে। শিক্ষক-কর্মচারীদের নিরাপত্তাহীনতা কলেজের সাধারণ শিক্ষক বা কর্মচারীগণ এই অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তাদের ওপর নেমে আসে নানা প্রকার হয়রানি ও হুমকি। চক্রটির ভয়ে বর্তমানে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে, যার ফলে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং বৈধ সভাপতিকে সসম্মানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেওয়া জরুরী বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে একটি তদন্তের জন্য আবেদন করা হয়েছিল তাতে ভূগোল বিষয়ের প্রদর্শক মোঃ জহুরুল আলম এর অবৈধ নিয়োগ, কলেজের শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসদাচরণ ও কর্তব্যে অবহেলার প্রমান মেলে তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও মোঃ জহুরুল আলমকে জিঙ্গাসাবাদ করলে তারা পূর্বের একটি নিয়োগ বোর্ডের কথা উল্লেখ করেন। কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে পায় যে, ০৫/১১/১৯৯৭ তারিখে দৈনিক বাংলাদেশ বার্তায় অন্যান্য বিষয়ের সাথে ভূগোল বিষয়ের প্রদর্শক চেয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি দেয়া আছে এবং সে অনুযায়ী ২২/০৩/১৯৯৮ তারিখে একটি নিয়োগ বোর্ড গঠিত হয়। উক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোঃ রেফাজ উদ্দিন প্রথম স্থান এবং মোঃ জহুরুল আলম দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। নিয়োগ বোর্ড মোঃ রেফাজ উদ্দিনকে প্রদর্শক, ভূগোল পদে নিয়োগ দানের সুপারিশ করেন এবং উক্ত সুপারিশে আরো উল্লেখ করা হয় যে, প্রথম স্থান অধিকারী মোঃ রেফাজ উদ্দিন, প্রদর্শক, ভূগোল পদে যোগদান না করলে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী মোঃ জহুরুল আলম-কে উক্ত পদে নিয়োগ দেয়া যাবে। কিন্তু তদন্তে দেখা যায় যে, মোঃ রেফাজ উদ্দিন ২২/০৯/১৯৯৮ তারিখে প্রদর্শক, ভুগোল, দৌলতপুর কলেজ, দৌলতপুর পদে যোগদান করেন এবং এপ্রিল ২০০১ পর্যন্ত চাকুরী করেন এবং সরকারি বেতন ভাতাদি উত্তোলন করেন। তার এমপিও ভুক্তির তারিখ মে/২০০০ এবং ইনডেক্স নং DEM-4194431। তদন্ত কমিটির মতামত অনুযায়ী মোঃ জহুরুল আলম-এর বিরুদ্ধে অন্যান্য যে সব অভিযোগ আনীত হয়েছে কমিটি তদন্তে তার যথেষ্ট প্রমাণাদি পেয়েছে যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকুরীর শর্তাবলী রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৫ এর ধারা ১৬ এবং উপধারা ১,৩,৫ ও ৬-এর পরিপন্থী।
সাধারণ শিক্ষার্থী, স্থানীয় ও সচেতন মহলের দাবি কলেজটি তার আগের ধারায় ঐতিহ্য ফিরে পাবে। সেই সাথে যারা কলেজের এই দুরবস্থা সৃষ্টি করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূল শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা।
মিরপুর-১০ নম্বর ফুটপাতের চাঁদাবাজির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি ব্যবসায়ীদের
স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক ও জনবহুল এলাকা মিরপুর-১০ নম্বরের ফুটপাত ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে দাবি করেছেন স্থানীয় হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে এলাকাটি ঘুরে ব্যবসায়ী, পথচারী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে তারা তুলনামূলকভাবে স্বস্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে জোরপূর্বক অর্থ দিতে হচ্ছে না। দীর্ঘদিন পর তারা একটি স্থিতিশীল পরিবেশে ব্যবসা করতে পারছেন বলেও মন্তব্য করেন।
একজন ফল বিক্রেতা বলেন, “আমরা অনেকদিন পর একটু শান্তিতে ব্যবসা করছি। আগে নানা ধরনের ঝামেলা ছিল, এখন সেসব নেই। কেউ এসে আমাদের ভয়ভীতি দেখায় না।”
আরেকজন হকার বলেন, “বর্তমান সরকার আসার পর থেকে আমরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারছি। আগে যেসব সমস্যা ছিল, এখন সেই পরিস্থিতি নেই। আমরা প্রতিদিন যা বিক্রি করি, সেটাই আমাদের আয়—এখানে কাউকে আলাদা করে কোনো টাকা দিতে হয় না।”
ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ধ্যার পর দোকানপ্রতি ৩০ টাকা করে বিদ্যুৎ বিল বাবদ অর্থ হকার সমিতির কাছে পরিশোধ করা হয়। এটি ফুটপাতের দোকানগুলোতে ব্যবহৃত লাইটের বিদ্যুৎ খরচ ও কিছু যৌথ ব্যবস্থাপনার জন্য নেওয়া হয় বলে তারা জানান।
একজন পোশাক বিক্রেতা বলেন, “আমরা শুধু ৩০ টাকা করে কারেন্টের লাইট বিল দিই। এটা সমিতির নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হয়। এর বাইরে কোনো ধরনের চাঁদা নেই।” হকার সমিতির এক সদস্য জানান, “সমিতি নিয়ম মেনে সীমিত পরিসরে কিছু যৌথ খরচের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে। এতে আলো, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো দেখভাল করা হয়। এখানে অবৈধ কোনো অর্থ আদায়ের প্রশ্নই আসে না।”
ফুটপাতের এক চা বিক্রেতা বলেন, “ফুটপাতে আমরা সবাই মিলেমিশে ব্যবসা করি। কেউ কোনো ধরনের চাপ বা জোরজবরদস্তি করছে—এমন কিছু আমরা দেখিনি।” আরেকজন হকার বলেন, “যদি কোথাও সমস্যা থাকত, আমরা নিজেরাই আগে বলতাম। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভালো। তাই এসব অভিযোগ শুনে আমরা অবাক হয়েছি।”
কয়েকজন দোকানদার জানান, সম্প্রতি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিরপুর-১০ ফুটপাতে চাঁদা তোলা হচ্ছে—এমন কিছু পোস্ট দেখেছেন। তবে বাস্তবে তাদের কাছে কেউ কখনও চাঁদা দাবি করেনি।
একজন দোকানদার বলেন, “আমরা কিছুদিন ধরে শুনতে পাচ্ছি চাঁদা তোলা হচ্ছে, কিন্তু আমাদের কাছে কেউ কখনও চাঁদা চাইতে আসেনি। এটা সম্পূর্ণ গুজব।” আরেকজন ব্যবসায়ী মন্তব্য করেন, “গুজব ছড়ালে আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হয়। মানুষ ভুল ধারণা পোষণ করলে ক্রেতারাও ভয়ে আসতে চায় না।” একজন ভ্যানগাড়ি চালক বলেন, “আমরা সারাদিন কষ্ট করে রোজগার করি। আমাদের নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হলে সেটা আমাদের জন্য খুব কষ্টের।” ফুটপাতের এক পুরনো ব্যবসায়ী বলেন, “আগে বিশৃঙ্খলা বেশি ছিল। এখন সবাই নিজ নিজ জায়গায় বসে নিয়ম মেনে ব্যবসা করছে। পরিবেশ অনেক ভালো।”
স্থানীয় পথচারীদের সঙ্গেও কথা বলে জানা যায়, আগের তুলনায় ফুটপাত দিয়ে হাঁটা এখন সহজ হয়েছে। একজন পথচারী বলেন,
“আগে হাঁটতে কষ্ট হতো, এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। পরিবেশ আগের চেয়ে ভালো মনে হচ্ছে।” আরেকজন বলেন, “ফুটপাত এখন তুলনামূলকভাবে গোছানো। সন্ধ্যার পর আলো থাকায় চলাচলও নিরাপদ মনে হয়।”
স্থানীয়দের মতে, গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি সাধারণ মানুষও ভুল ধারণার শিকার হন।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, “আমাদের অনুরোধ—যাচাই ছাড়া যেন কেউ কোনো তথ্য প্রচার না করেন। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়।”
হকাররা প্রশাসনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন, এ ধরনের গুজব ছড়ানো বন্ধে নজরদারি জোরদার করার জন্য। তারা বলেন,
“যদি কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়ায়, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে থাকতে পারবে।”
স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতেও মিরপুর-১০ ফুটপাতে বর্তমান স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।