৬ দিনের বিরতি শেষে আবার বসছে সংসদ অধিবেশন

ডেস্ক নিউজঃ টানা ছয় দিন বিরতি শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন-২০২৬) আজ পুনরায় শুরু হবে। 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে।

এর আগে গত ৩০ জুন নতুন অর্থবছরের বাজেট পাসের পর অধিবেশন মুলতবি করা হয়।

চলতি অধিবেশনে এরই মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে। বাজেট পাসের পাশাপাশি অর্থ বিল ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিলও সংসদের অনুমোদন পেয়েছে।

গত ১১ জুন সংসদে বাজেট উত্থাপনের পর সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে বাজেটের ওপর আলোচনা করেন এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতেও বক্তব্য দেন।

অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, নির্বাচন, আইন-শৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু তুলে ধরেন তারা।




নতুন বেতনকাঠামোর প্রতিবেদন দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায়

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে।

সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির শেষ বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির প্রায় সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন বেতনকাঠামো চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে সরকারি কর্মচারীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতন পাবেন। পরবর্তী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন ভাতা কার্যকর হবে। বেসামরিক সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্যও পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

এর আগে জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। পুরো বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে কমিশনের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জনপ্রশাসন খাতে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এ অতিরিক্ত বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য অংশ সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের নতুন বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।

পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রীর সম্মতির পর অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মচারীরা নতুন বেতনস্কেলের আওতায় আসবেন।




বৃষ্টি থাকতে পারে টানা ৫ দিন

আবহাওয়া ডেস্কঃ সারাদেশে কমবেশি বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে চার বিভাগে হতে পারে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ। এতে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড ও তৎসংলগ্ন ওড়িশা এলাকায় মৌসুমি স্থল নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এ ছাড়া খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

বুধবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ও শুক্রবার (১০ জুলাই) সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে তার চার ছেলে রুবেলকে হত্যা করেছে: পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ময়মনসিংহ নগরের ভাড়াবাসায় যুবক রাজিব আহম্মেদ রুবেল (৪০) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মাদকের আড্ডা ও বাসা ছাড়তে বলাকে কেন্দ্র করে নারী বাড়িওয়ালাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির ক্ষোভে তার চার ছেলে মিলে রাজিবকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। ঐ চার জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তারা হলেন রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)।

গতকাল সোমবার বিকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, প্রায় এক মাস আগে রুবেল ঐ বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তার চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বাড়ির মালিক পারুলের আপত্তি ছিল। অভিযোগ আছে, রুবেল সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে আড্ডা দিতেন এবং মাদক সেবন করতেন। এসব কারণে বাড়ির মালিক তাকে পরবর্তী মাস থেকে বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। তবে রুবেল জোর করে সেখানে থাকতে চান।

গত রবিবার সকালে রুবেল প্রথমে বাড়িওয়ালা ও তার ছেলের কক্ষের দরজায় লাথি মেরে তাদের ঘুম থেকে তোলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তিনি বাড়ির মালিককে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। পরে বাড়ির মালিকের চার ছেলে পরিকল্পনা করে একটি চায়নিজ কুড়াল দিয়ে রুবেলের গলায় আঘাত করে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।   

এ ঘটনায় রুবেলের বাবা বাদী হয়ে বাড়ির মালিক, তার তিন ছেলেসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো তিন থেকে চার জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শ্লীলতাহানির ঘটনার জেরে গ্রেফতারকৃত চারভাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।

এর আগে গতকাল সকালে ময়মনসিংহ নগরের ছত্রিশবাড়ি কলোনি এলাকার একটি ভাড়াবাসা থেকে রাজিব আহম্মেদ রুবেলের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত রাজিব আহম্মেদ রুবেল নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোড এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।




পর্তুগালকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টারে স্পেন

ক্রীড়া ডেস্কঃ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্পেন। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে স্প্যানিশরা। শুধু তাই নয়, অনন্য এক রেকর্ডও গড়েছে স্প্যানিশরা।  

পর্তুগালের বিপক্ষে কোনো গোল হজম করেনি স্পেন। এটি ছিল বিশ্বকাপে টানা ষষ্ঠ ম্যাচ, যেখানে স্পেন কোনো গোল হজম করেনি। এবারের আসরে গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দে, উরুগুয়ে ও সৌদি আরব, শেষ বত্রিশে অস্ট্রিয়া এবং শেষ ষোলোয় পর্তুগাল তাদের জালে বল পাঠাতে পারেনি।

সর্বশেষ ২০২২ বিশ্বকাপে খেলা সর্বশেষ ম্যাচেও মরক্কোর বিপক্ষে ক্লিনশিট রেখেছিল স্পেন (শেষে টাইব্রেকারে হেরেছিল)। সব মিলিয়ে টানা ৬ ম্যাচ ও ১০ ঘণ্টা ৯ মিনিট ধরে স্পেন বিশ্বকাপে গোল হজম করেনি। এমন কীর্তি আর কারও নেই।

পর্তুগাল ম্যাচে স্পেনের রক্ষণভাগের এই দৃঢ়তা শুধু তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে দেয়নি, বরং বিশ্বকাপের পাতায় নিজেদের নাম খোদাই করে দিল এক অনন্য উচ্চতায়।




মিশরকে হারালে আর্জেন্টিনার সামনে প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড বা কলম্বিয়া

ডেস্ক নিউজঃ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর নকআউট পর্বে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাউন্ড অব ১৬ এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করতে জয় ছাড়া বিকল্প নেই লিওনেল মেসিদের সামনে। 

আজকের ম্যাচে জয় পেলে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে সুইজারল্যান্ড অথবা কলম্বিয়া। টুর্নামেন্টের নকআউট সূচি অনুযায়ী, রাউন্ড অব ১৬-এ এই দুই দলের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দলই শেষ আটে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে।

তবে কোয়ার্টার ফাইনালের সমীকরণে যাওয়ার আগে মিশরের চ্যালেঞ্জই এখন আর্জেন্টিনার মূল লক্ষ্য। মিশরকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কারণ যেকোনো বড় দলকে চমকে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। 

গ্রুপ পর্বে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে নকআউটে ওঠা আর্জেন্টিনা আজ জয় পেলে শেষ আটে আরেকটি কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হবে। সেক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ড-কলম্বিয়া ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করবে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ।

এখন দেখার বিষয়, মিশরের বাধা পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারে কি না আর্জেন্টিনা।




গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের হবিগঞ্জ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঠিকাদারদের সঙ্গে সিন্ডিকেট গঠন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কয়েকজন ঠিকাদারের সহযোগিতায় একাধিক নারীর সঙ্গে কথিত “মুতা বিয়ে” করেন এবং সরকারি পদমর্যাদার প্রভাব ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রকৌশলী কামরুল হাসান স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা আওয়ামী লীগের প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং ঠিকাদারি কার্যক্রমে একচেটিয়া সুবিধা ভোগ করতেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার দরিদ্র পরিবারের তরুণীদের সঙ্গে কামরুল হাসানের পরিচয় করিয়ে দিতেন। পরে নির্দিষ্ট অঙ্কের দেনমোহর নির্ধারণ করে কথিত “মুতা বিয়ে”র মাধ্যমে স্বল্প সময়ের জন্য সম্পর্ক স্থাপন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ ধরনের একাধিক বিয়ে তিনি করেছেন এবং নোয়াখালী ছাড়াও কর্মস্থল পরিবর্তনের পরও একই ধরনের কর্মকাণ্ডের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

প্রসঙ্গত, মুতা বিয়ে বা নিকাহুল মুতা শিয়া ইসলামি আইনশাস্ত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পাদিত এক ধরনের বৈবাহিক চুক্তি হিসেবে স্বীকৃত হলেও সুন্নি ইসলামি মতবাদে এটি বৈধ নয় এবং অধিকাংশ সুন্নি আলেম একে নিষিদ্ধ বলে মনে করেন।

অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নোয়াখালীর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ মামুন এসব কর্মকাণ্ডে প্রধান সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তার নামে নোয়াখালীর মাইজদীতে নির্মিত একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিভিন্ন সময়ে কামরুল হাসান অবস্থান করতেন।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকার বসুন্ধরা রিভারভিউ এলাকার সারীঘাট পয়েন্টে কামরুল হাসানের একটি দোতলা বাড়ি এবং কয়েক বিঘা জমি রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই বাড়ির একটি অংশ নদী ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানেও তিনি বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিজের নামে সম্পদ না রেখে আত্মীয়স্বজনের নামেও বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন কামরুল হাসান। অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের স্ত্রীর নামেও সম্পদ রয়েছে। এছাড়া পিরোজপুরে তার স্ত্রী ডা. জান্নাতুল মাওয়া টুম্পার পরিচালনায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারি হাসপাতাল, নোয়াখালীর নিঝুম দ্বীপে একটি নির্মাণাধীন রিসোর্ট এবং পিরোজপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় আত্মীয়দের নামে বাড়ি, ফ্ল্যাট, মার্কেট ও অন্যান্য সম্পদের তথ্যও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের বৈধতা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালে নোয়াখালীতে দায়িত্ব পালনকালে অধস্তন এক উপসহকারী প্রকৌশলীর স্ত্রীর সঙ্গে কামরুল হাসানের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তাকে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় পাঠিয়ে তার অনুপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নারীর সঙ্গে সময় কাটাতেন তিনি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দম্পতির পারিবারিক সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো আদালতের রায় বা সরকারি তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকৌশলী কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে এ ধরনের আরও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি রাখে।

অন্যদিকে, বিসিএস ২৭তম ব্যাচের এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রভাব খাটাতেন।

এ বিষয়ে একটি নথিরও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রত্যয়নপত্রে কামরুল হাসানকে বুয়েট ছাত্রলীগ শাখার ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।




পে-স্কেল দুই ধাপে নয়, একবারেই বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রতীক্ষিত নতুন বেতন স্কেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। বিদ্যমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই বেতন কাঠামো দুই ধাপে কার্যকর না করে বরং একবারে বা এককালীন বাস্তবায়নের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

শুরুতে নতুন পে স্কেল দুই ধাপে কার্যকর করার বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় থাকলেও বর্তমানে সেই চিন্তা থেকে সরে আসার কারণগুলো হলো প্রযুক্তিগত জটিলতা, প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং চাকরিজীবীদের মধ্যে সম্ভাব্য অসন্তোষ। আইবাস প্ল্যাটফর্মে দুই ধাপে বেতন সমন্বয় করা জটিল হওয়ায় এককালীন বাস্তবায়নের দিকেই বেশি ঝুঁকছে প্রশাসন।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে নতুন বেতন কাঠামো পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশগুলোর আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং বিভিন্ন ক্যাডার ও শ্রেণির চাকরিজীবীদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। তবে কমিশনের মূল সুপারিশের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আজকের এই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও মূল বেতন ১ জুলাই থেকে কার্যকরের একটি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ভাতা নতুন কাঠামোর আওতায় পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত করার বিষয়টি ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যদিও চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি, তবুও সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন এই বেতন কাঠামো নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে।




গেজেট পেছালেও পে-স্কেল কার্যকর হবে জুলাই থেকেই

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও, এটি ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে গেজেট প্রকাশের পর চাকরিজীবীরা বর্ধিত বেতন-ভাতার পাশাপাশি বকেয়া অর্থও একসঙ্গে পাবেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সফটওয়্যারসংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রশাসনিক ও কারিগরি বিষয়গুলো সমন্বয় করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে গেজেট জারি হতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আর্থিক সক্ষমতা ও ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

কর্মকর্তাদের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সফটওয়্যার। ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় অধিকাংশ কাজ হাতে করা হলেও এখন বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও জিপিএফসহ প্রায় সব আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ফলে ধাপে ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করতে গেলে সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর হলে একই কর্মচারীর জন্য একাধিকবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ার পাশাপাশি সফটওয়্যারে ত্রুটির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড এবং অবসরকালীন সুবিধা নির্ধারণেও পড়তে পারে।

বিশেষ করে অবসরের কাছাকাছি থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ বেশি। কারণ পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও ছুটির নগদায়নের মতো সুবিধাগুলো সর্বশেষ মূল বেতনের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থায় একাধিক ধাপে এসব সুবিধা সমন্বয় করা কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ পরিস্থিতিতে আব্দুল মালেকের প্রস্তাব, প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা উচিত। এরপর বাড়িভাড়া, চিকিৎসাসহ অন্যান্য ভাতা পর্যায়ক্রমে সমন্বয় করা হলে সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হলেও এর ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সরকারকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।




তেহরানে খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে জনসমুদ্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানের আজাদি সড়কে নেমেছে লাখো মানুষ। সোমবার (৬ জুলাই) শেষযাত্রায় অংশ নিতে ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের ঢল নামে।

খামেনির মরদেহবাহী একটি ট্রাক ধীরগতিতে জনসমুদ্রের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। একই ট্রাকে তার মেয়ে, তিন বছর বয়সী নাতনি, জামাতা এবং পুত্রবধূর মরদেহও বহন করা হচ্ছে।

শেষকৃত্যের শোভাযাত্রার তেহরান পর্বের সমাপ্তি হবে আজাদি স্কয়ারে। এরপর আগামী কয়েক দিনের মধ্যে খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর কারবালা ও নাজাফে নেওয়া হবে। সেখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ ইরানের মাশহাদে দাফন করা হবে।

সূত্র: আল জাজিরা