ইতিহাসের একটি দলিল এবং আগামী প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস হবে বইটি এসএম জিলানী, এমপি

স্টাফ রিপোর্টারঃ গতকাল বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘জিয়াউর রহমান: এক দূরদর্শী নেতা ও দেশ গঠনের রূপকার’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং গোপালগঞ্জ ০৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বইটি’র মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বইটি ইতিহাসের একটি দলিল এবং আগামী প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস হবে বলে মন্তব্য করেন এসএম জিলানী এমপি।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি নেছার উদ্দিন সফী, নাছির আহমেদ মোল্লা, সহ সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম রনি মৃধা, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর সাধারণ সম্পাদক সাদ মোর্শেদ পাপ্পা শিকদার, সহ সভাপতি মনির হোসেন মৃধা, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, যুগ্ম সম্পাদক কাজী মহিউদ্দিন মহি, হাসান আলী, দপ্তর সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম পলাশ, সবুজবাগ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোঃ বিল্লাল হোসেন সহ থানা ও ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিভা প্রকাশের প্রকাশক ও কবি মঈন মুরসালিন।

মোহাম্মদ মাসুদ রচিত “জিয়াউর রহমান: এক দূরদর্শী নেতা ও দেশ গঠনের রূপকার” বইটি বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্মের উপর একটি বিস্তৃত ও তথ্যবহুল আলোচনা। এটি কেবল একটি সাধারণ জীবনীগ্রন্থ নয়, বরং একজন মহান নেতার বহুমাত্রিক অবদানকে তুলে ধরার একটি গভীর প্রয়াস। লেখক বইটিতে ১২টি ভিন্ন প্রবন্ধ সংকলন করেছেন, যেখানে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশল এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে তার বাস্তবধর্মী চিন্তাভাবনাগুলো সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

লেখক তার পর্যালোচনায় জিয়াউর রহমানের জীবনকে কেবল একজন সামরিক নেতা হিসেবে নয়, বরং একজন রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ এবং সমাজ সংস্কারক হিসেবে তুলে ধরেছেন। এতে মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং জেড ফোর্স গঠনের মতো ঐতিহাসিক দিকগুলো বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। একইসঙ্গে, তিনি কীভাবে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে দেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা এনেছিলেন, সেই বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের অবদান এই বইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ‘সবুজ বিপ্লব’-এর স্থপতি হিসেবে তার খাল খনন কর্মসূচির কথা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, যা বাংলাদেশের কৃষি ও অর্থনীতিতে এক মহাবিপ্লব ঘটিয়েছিল বলে লেখক দাবি করেন। এটি প্রমাণ করে যে জিয়াউর রহমান কেবল সামরিক বা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার বিষয়েও কতটা দূরদর্শী ছিলেন।

বইটিতে জিয়াউর রহমানের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের কথাও লেখা হয়েছে। ‘নতুন কুঁড়ি’-এর মতো সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি শিশুদের প্রতিভা বিকাশে যে সহায়তা করেছিলেন, তা তার উদার ও সংবেদনশীল ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। পাশাপাশি, ইসলামী শিক্ষা ও জীবনবোধের প্রসারে তার ভূমিকাও আলোচিত হয়েছে।

লেখক এই বইটিকে কেবল ইতিহাসের একটি দলিল হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস হিসেবে দেখছেন। তার এই প্রয়াস জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশপ্রেম সম্পর্কে পাঠককে গভীরভাবে জানতে সাহায্য করবে এবং একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা যোগাবে।




গণপূর্তে ‘মাফিয়া নেটওয়ার্ক’ সক্রিয়: আবু নাসের–আবু তালেবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের বিস্ফোরক অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গড়ে ওঠা গণপূর্ত অধিদপ্তরের কথিত ‘মাফিয়া নেটওয়ার্ক’ এখনো সক্রিয়—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান মুন্সী ওরফে টিপু মুন্সির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরী ও ই/এম বিভাগ-৮ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তালেবকে ঘিরে বেরিয়ে আসছে দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, টেন্ডার সিন্ডিকেট, ভুয়া বিল এবং অবৈধ সম্পদের ভয়ংকর সব তথ্য। অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের দাবি, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট এখনো গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ন্ত্রণ করছে। আর সেই প্রভাব খাটিয়েই চলছে শত কোটি টাকার লুটপাট।

ঢাকায় পোস্টিং পেতে ১০ কোটি টাকার তদবির ! অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী টিপু মুন্সির ভায়রা আবু নাসের চৌধুরী ঢাকায় “লাভজনক” পোস্টিং নিশ্চিত করতে অন্তত ১০ কোটি টাকার তদবির ও ঘুষ বাণিজ্য পরিচালনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, টিপু মুন্সির প্রত্যক্ষ প্রভাবেই তিনি ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল–২-এ নিজের পোস্টিং নিশ্চিত করেন। এর আগে গণপূর্ত সম্পদ বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে টেন্ডার সিন্ডিকেট, কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। বরং পুরোনো সেই রাজনৈতিক বলয় ব্যবহার করেই তিনি আবারও প্রভাবশালী অবস্থানে ফিরে এসেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বগুড়ায় ওটিএম কেলেঙ্কারি: এলটিএম এড়িয়ে কমিশন বাণিজ্য : বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থাকাকালে আবু নাসের চৌধুরীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এলটিএম পদ্ধতি এড়িয়ে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ ও এপিপিভুক্ত কাজগুলোতে ওটিএম অনুমোদনের আড়ালে কোটি কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য চালানো হয়।

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমপক্ষে ১০ শতাংশ কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে উল্লেখিত ওটিএম টেন্ডার আইডিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১১১১৭৮১, ১১১৯৩১৬, ১১১৩০৭৯, ১১১১৫৬৩, ১১১১৫৫৮, ১১১১৫৫৯, ১১১১৫৬০, ১১১১৫৭০, ১১১১৫৬৭, ১১১১৫৬৯, ১১১১৫৬১, ১১১১৫৬৪, ১১১১৫৬৫, ১১১১৫৬৬, ১০৮১৫৪৬, ১১০০৭৯০, ১১০২০২৮, ১০৯১৯৭৩, ১০৯১৯৭৪, ১০৯১৯৭৫, ১০৯১৯৭৬, ১০৯১৯৭৭, ১০৯১৯৭৮, ১০৯১৯৭৯, ১০৮২১৫৯, ১০৮০২৩৫, ১০৮০২৩৬, ১০৬৯১৩১, ১০৭০৮৭৪, ১০৭০৮৭৫, ১০৭০৮৭৬, ১০৭১২৬৫, ১০৪৩২৪৮, ১০২৯৫৯৬ ও ১০১৮১৫৯।

ভেরিয়েশন বাণিজ্যে কোটি কোটি টাকা লোপাট : শুধু টেন্ডার নয়, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে “ভেরিয়েশন” সুবিধা দেখিয়েও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবু নাসের চৌধুরীর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন আদায় করা হতো নিয়মিতভাবে।

সপ্তাহে দুই দিন অফিস, বাকি সময় পোস্টিং তদবির : অভিযোগ রয়েছে, বগুড়া সার্কেলে দায়িত্বে থাকলেও সপ্তাহে মাত্র দুই দিন অফিস করতেন আবু নাসের চৌধুরী। বাকি সময় কাটাতেন ঢাকায়—ওয়াকিং সার্কেল এবং পরবর্তীতে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল–২-এ পোস্টিং নিশ্চিত করার তদবিরে। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই তার অনিয়মিত উপস্থিতির বাস্তব চিত্র বেরিয়ে আসবে।

ফ্ল্যাট, জমি ও ব্যাংক ব্যালেন্সের পাহাড় : আবু নাসের চৌধুরীর বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী তার সম্পদের তালিকায় রয়েছে— বসুন্ধারা আবাসিক এলাকার আই ব্লকে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট মোহাম্মদপুরে আরেকটি ফ্ল্যাট বারিধারা ও গুলশান–২ এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট গাজীপুরে প্রায় ২০ একর জমি Uttara Bank PLC-এ বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা এসব সম্পদের বৈধ উৎস কী—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

টিপু মুন্সির ছায়ায় ‘অপ্রতিরোধ্য’ দাপট : গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী টিপু মুন্সির ভায়রা হওয়ার সুবাদেই আওয়ামী আমলে কার্যত অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন আবু নাসের চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে কথা বললেই বদলি, হয়রানি কিংবা পদোন্নতি আটকে দেওয়ার ভয় কাজ করত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। বর্তমানেও সেই পুরোনো “ফ্যাসিবাদী আচরণ” ফিরে আসছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণপূর্তের অনেকে।

বিসিএস ছাড়াই ‘ক্যাডার’ পরিচয়! নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তালেবের বিরুদ্ধে ভয়ংকর জালিয়াতির অভিযোগ : গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৮ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তালেবের বিরুদ্ধে উঠেছে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কোনো বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও রাজনৈতিক প্রভাবে অবৈধভাবে ক্যাডার পদে নিয়োগ পান এবং পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে জ্যেষ্ঠতা অর্জন করে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি নেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন নন-ক্যাডারের এভাবে ক্যাডার পরিচয়ে পদোন্নতি পাওয়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

কাজ না করেই ৫ কোটি টাকার বিল উত্তোলন : অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে অন্তত ১৬টি উন্নয়ন ও মেরামত প্রকল্পে কোনো কাজ না করেই ৫ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে আবু তালেবের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ৫৬.৩ লাখ টাকা এবং ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটে ৩৬.১২ লাখ টাকা, সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নথিতে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো সংস্কার কাজই হয়নি। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ আরও ১৬টি প্রতিষ্ঠানের মেরামত কাজের সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

ভুয়া প্রত্যয়নপত্রে বিল উত্তোলন : অভিযোগ রয়েছে, কাজ সম্পন্ন হয়েছে—এমন মর্মে ব্যাকডেটেড ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরি করে নথিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। সরকারি ক্রয় আইন ও দণ্ডবিধি লঙ্ঘন করে এই জালিয়াতির মাধ্যমে পুরো বিল তুলে নেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকেও “ম্যানেজ” করে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করা হতো।

কমিশন ছাড়া কাজ নয় ! গণপূর্তের ই/এম বিভাগ-৮ এ আবু তালেব গড়ে তুলেছেন কথিত “কমিশন রাজ”—এমন অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি প্রাক্কলন অনুমোদনের আগেই ১০ শতাংশ নগদ কমিশন নিশ্চিত করতে হতো। তার নিজস্ব সিন্ডিকেটের বাইরে কোনো ঠিকাদারের পক্ষে কাজ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, আবু তালেবের দুর্নীতির কারণে সৎ ব্যবসায়ীরা কাজ হারিয়ে ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

অবৈধ সম্পদের পাহাড় : অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির আয়ের তুলনায় কয়েকশ গুণ বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন আবু তালেব। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ঢাকা ও আশপাশে তার নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থা কাজ শুরু করেছে বলেও জানা গেছে।

দুদকের অনুসন্ধান শুরু : আবু তালেবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে নথিপত্র যাচাই শুরু করেছে। অভিযোগকারী আমিনুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে জরুরি তদন্ত, সাময়িক বরখাস্ত এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্ত আবু তালেবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গণপূর্তে দুর্নীতির ‘ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট’ কি এখনো বহাল ? গণপূর্ত অধিদপ্তর দীর্ঘদিন ধরেই টেন্ডার সিন্ডিকেট, কমিশন বাণিজ্য, ভুয়া বিল এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আলোচিত। বিশেষ করে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল বিভাগে অনিয়ম আরও প্রকট বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন, “সমঝোতা” ছাড়া কোনো কাজ পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে প্রাক্কলন অনুমোদনের আগেই কমিশনের হার নির্ধারণ করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়—দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা, সম্পদ জব্দ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ই-টেন্ডারিং, থার্ড পার্টি মনিটরিং ও ডিজিটাল ডকুমেন্টেশন জোরদার করা প্রয়োজন। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরে যদি এমন দুর্নীতি চলতে থাকে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ব্যবস্থা—এমন আশঙ্কাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।




ফায়ার সার্ভিসে রেজায়ে রাব্বী বিতর্ক: কোয়ার্টার বাণিজ্য, পদায়ন সিন্ডিকেট ও আন্দোলনকালীন ভূমিকা নিয়ে তোলপাড়

এসএম বদরুল আলমঃ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাময়িক বরখাস্তকৃত ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ রেজায়ে রাব্বীকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ, বিতর্ক ও প্রশাসনিক তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সরকারি কোয়ার্টার ভাড়া দেওয়া, প্রভাব খাটিয়ে পদায়ন বাণিজ্য এবং আন্দোলনকালীন ভূমিকা নিয়ে তার বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিএন-১০০৩১৮ নম্বরধারী রেজায়ে রাব্বী দীর্ঘদিন ঢাকা অঞ্চলে ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালের ৮ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত তিনি ঢাকার বিভিন্ন লাইসেন্সিং এলাকায় কর্মরত ছিলেন। এই সময়েই তাকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ সামনে আসে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি একাধিকবার বদলি ও পদায়নে সুবিধা নিয়েছেন। স্থানীয় ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় প্রশাসনিক সুবিধা ভোগের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময়ে আচরণগত কারণে বদলি করা হলেও রহস্যজনকভাবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিত থেকে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। পরে এ ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং রংপুরে পদায়ন দেওয়া হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি সরকারি কোয়ার্টার নিয়ে।

অভিযোগ আছে, নিজের নামে বরাদ্দ নেওয়া সরকারি বাসা তিনি নিজে ব্যবহার না করে ভাড়া দিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করছেন। এমনকি চাকরিচ্যুত এক ফায়ার ফাইটার হান্নানের কাছে সেই কোয়ার্টার ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি মহাপরিচালক জায়েদ কামালের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আবারও পদায়ন বাগিয়ে নিয়েছেন রেজায়ে রাব্বী। এতে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।




ভূমি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ভূমিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, জমির মালিকানা যাতে কৃষকদের হাতেই থাকে, ভূমি ব্যবস্থায় যাতে দখলদারিত্ব না থাকে, এক্ষেত্রে ভূমি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (১৮ মে) সচিবালয়ে ভূমি সেবা মেলা উপলক্ষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, অতীতে জমি সংক্রান্ত যে মামলা জটিলতা ছিল, জমির মালিকরা ভূমি সংক্রান্ত কাজে নানাভাবে বিভ্রান্ত হতেন, হয়রানির শিকার হতেন, এ সকল জটিলতা দূর করা হবে।
এ সময় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি হয়রানিমুক্তভাবে জনগণকে সেবা দিতে চাই। এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার থেকে ভূমিসেবা মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এখন থেকে সারাদেশে ৮৯৩ টি সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে সেবা নিতে পারবেন। 



চুক্তি না হলে ইরানে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে খুব তাড়াতাড়ি রাজি না হয়, তাহলে চরম পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।

ট্রুথ সোশ্যাল একাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ”ইরানের জন্য সময় খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে আসছে, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে ইরানে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”

ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের একটি প্রতিবেদনে অনুযায়ী, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে কথা বলার পরেই ট্রাম্পের এই হুমকি সামনে এলো।

এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, যুদ্ধ অবসানে ইরান কোনো চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানের পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখন ‘মুমুর্র্ষ অবস্থায়’ রয়েছে। সূত্র: বাসস




কোন হাটে যাবে কোরবানির পশু, ট্রাকে লিখতে হবে নাম-ঠিকানা

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশু পরিবহনে ট্রাকের সামনে সংশ্লিষ্ট হাটের নাম ও ঠিকানা সুস্পষ্টভাবে ব্যানারে প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

সোমবার (১৮ মে) সংবাদ মাধ্যমে সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের যে কোনো স্থান থেকে কোরবানির পশু—গরু, ছাগল, মহিষসহ অন্যান্য পশু—ট্রাকে করে যে হাটে বিক্রির জন্য নেওয়া হবে, সেই হাটের নাম ও ঠিকানা ট্রাকের সামনে দৃশ্যমানভাবে ব্যানারে লিখে রাখতে হবে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা গ্রহণ সহজ হবে এবং রাস্তায় অন্য কারও দ্বারা বাধা বা হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

এতে আরও বলেন, পরিবহনের সময় কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হলে সংশ্লিষ্টদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে হবে। বিষয়টি যথাযথভাবে পালনের জন্য সব ট্রাক মালিক ও চালকদের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো।




মাঝ আকাশে একটু বাইরে গিয়ে সিগারেট খেতে চাইলেন, শেষমেশ কামড় দিলেন বিমানকর্মীকে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ৩৫ হাজার ফুট ওপরে উড়তে থাকা বিমানে হঠাৎই সৃষ্টি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। এক যাত্রীর অস্বাভাবিক আচরণে শেষ পর্যন্ত জরুরি অবতরণে বাধ্য হয় উড়োজাহাজটি।

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসগামী কান্টাসের কিউএফ২১ ফ্লাইটে ঘটে এই ঘটনা। গত শুক্রবার বেলা আড়াইটায় উড্ডয়নের পর প্রায় সাত ঘণ্টা সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎই এক যাত্রী বিশৃঙ্খল আচরণ শুরু করেন।

অভিযোগ উঠেছে, ওই যাত্রী বিমানের ভেতরে উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং ‘একটু বাইরে গিয়ে সিগারেট খেয়ে আসি’ বলেন। পরে একপর্যায়ে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেবিন ক্রুদের পাশাপাশি অন্য যাত্রীরাও এগিয়ে আসেন।

কান্টাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিমানে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল বা হুমকিমূলক আচরণের বিষয়ে তাদের শূন্য সহনশীলতা নীতি রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই যাত্রী কেবিন ক্রুদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়াচ্ছেন। তাকে বিমানের পেছনের দিকে যেতে বলা হলে তিনি অশালীন ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, তিনি বাইরে গিয়ে সিগারেট খেতে চেয়েছিলেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উড়োজাহাজটি ফরাসি পলিনেশিয়ার রাজধানী পাপিতেতে জরুরি অবতরণ করে। অবতরণের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ওই যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে নেয়।

পরে কান্টাস জানায়, ওই যাত্রীকে আজীবনের জন্য তাদের এবং জেটস্টারের সব ফ্লাইটে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রায় ৩৫ মিনিট বিরতির পর বিমানটি আবার ডালাসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে এবং পরদিন গন্তব্যে পৌঁছে।

সূত্র: গার্ডিয়ান




চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজঃ ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সোমবার (১৮ মে) সকালে তিনি দেশে ফেরেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং।

গত ৯ মে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফলো-আপ চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন রাষ্ট্রপতি। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে তার হৃদযন্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক শনাক্ত হয়। পরে ১২ মে জরুরি ভিত্তিতে সফলভাবে এনজিওপ্লাস্টি করা হয় এবং একটি স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়।

যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজে অবস্থিত রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতাল-এ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. স্টিফেন হোলি-এর তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়।

পরীক্ষার সময় হৃদযন্ত্রে উল্লেখযোগ্য ব্লক ধরা পড়লে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করেন এবং স্টেন্ট স্থাপন করেন।
বঙ্গভবন সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি এর আগেও হৃদরোগজনিত সমস্যার চিকিৎসা নিয়েছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তিনি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল-এ ওপেন হার্ট সার্জারি করান। এরপর থেকে হৃদযন্ত্র-সংক্রান্ত জটিলতার চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে ক্যামব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে ফলো-আপ চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিশ্বমানের হৃদরোগ চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য পরিচিত রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতাল বিশ্বে প্রথম সফল হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত। রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ চিকিৎসাও সেখানেই সম্পন্ন হয়।




টেন্ডার বাণিজ্য থেকে সিনিয়রিটি কারসাজি: গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ স্বৈরাচারী আওয়ামী শাসনামলে গণপূর্ত অধিদপ্তরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ, সিনিয়রিটি বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে নতুন করে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিয়মিত বিসিএস পদ্ধতি এড়িয়ে বিশেষ সুবিধায় তাকে সরাসরি ৬ষ্ঠ গ্রেডে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও শত শত কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বিসিএসের মাধ্যমে ৯ম গ্রেডে সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়ার বিধান থাকলেও একটি প্রভাবশালী চক্র সেই নিয়ম ভেঙে কয়েকজনকে সরাসরি উচ্চ পদে বসানোর ব্যবস্থা করে। এই তালিকায় ছিলেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সমীরণ মিস্ত্রী, জিয়াউর রহমান ও মোঃ আবু তালেবসহ আরও কয়েকজন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূইয়া এবং সাবেক এমপি শেখ সেলিম ও শেখ হেলালের প্রভাবেই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।

অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন দাবি করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম আহমেদুল হককে সরাসরি নির্দেশ দেন যাতে লিখিত বা প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ছাড়াই নির্ধারিত প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে শুধু আনুষ্ঠানিক ভাইভা নিয়ে ১১ জনকে চাকরি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিসিএস ক্যাডারের একাংশ আদালতের শরণাপন্ন হলে হাইকোর্ট ১৭টি পদ বিসিএস কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু চাকরিতে বহালই রাখা হয়নি, বিতর্কিতভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের অনেককে সিনিয়রিটিতেও এগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে চাকরিতে যোগদান ও বেতন উত্তোলন নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের স্থগিতাদেশ চলাকালে প্রায় ১১ মাসের ব্যাকডেট দেখিয়ে যোগদানপত্র তৈরি করা হয়। অথচ ওই সময় অনেকেই বাস্তবে চাকরিতে উপস্থিত ছিলেন না। এরপরও সরকারি কোষাগার থেকে বকেয়া বেতন উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্র বলছে, সেই সময় মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিআইডাব্লিউটিএতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সেখান থেকে নিয়মিত বেতন নিচ্ছিলেন। একই সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকেও তিনি বেতন উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অর্থাৎ একই সময়ে দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতন গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।

একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও। বলা হচ্ছে, মোঃ আইয়ুব আলী তখন মেরিন একাডেমিতে চাকরিতে ছিলেন এবং মোঃ নাফিজ আহমেদ রাজশাহীতে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও পরে ব্যাকডেট দেখিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদানের সুবিধা নেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব অনিয়মের পেছনে সাবেক সচিব শহীদ উল্লাহ খন্দকার, শেখ সেলিম, শেখ হেলাল এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূইয়ার সরাসরি প্রভাব কাজ করেছে।

সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তরের “পি পি ডব্লিউ ডি উড ডিভিশন” নিয়েও নতুন করে নানা অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাঠ ও ফার্নিচার প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম একটি নির্দিষ্ট ইউনিটে পদায়নের জন্য প্রভাবশালী এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দেন। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডিপিপির আওতাধীন প্রকল্পকে দুই ভাগে ভাগ করে কমিশন নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া প্রধান প্রকৌশলীর সামনেই দুই পক্ষ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রধান প্রকৌশলীর ভাই “মামুন”-এর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টার কথাও শোনা যাচ্ছে। পুরো সিন্ডিকেট পরিচালনায় নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, হাতিল, পশ ফার্নিচার, রিগেল ফার্নিচার, আকতার ফার্নিচার ও ডট ফার্নিচারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন কাজ ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকার পরও কীভাবে তিনি প্রায় দেড়শ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান বিপ্লব বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন অনেক আগেই দেওয়ার কথা ছিল। কেন সেটি জমা পড়েনি তা খতিয়ে দেখা হবে এবং দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য আবারও নির্দেশনা পাঠানো হবে।

এখন সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সহায়তা ছাড়া এত বিতর্কের পরও কীভাবে একজন কর্মকর্তা বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে যেতে পারেন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।




ইরানকে বাগে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫ শর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ও সংঘাত নিরসনের প্রক্রিয়ায় ইরানকে বাগে আনতে ৫টি বড় এবং অত্যন্ত কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটন এই পাল্টা শর্তগুলো দিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইরানের উৎপাদিত ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাসরি আমেরিকার হাতে হস্তান্তর করা। এ ছাড়া পূর্ববর্তী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে ইরানের যে বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দিতেও সাফ অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

রোববার (১৭ মে) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির এক বিশেষ প্রতিবেদন বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রশাসনের এই অনমনীয় ও কঠোর অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যকার শান্তি আলোচনা এখন এক গভীর অচলাবস্থার দিকে মোড় নিচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার টেবিল থেকে সুবিধা আদায় করতে ওয়াশিংটন শর্ত দিয়েছে যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির আওতাধীন যতগুলো স্থাপনা রয়েছে, তার মধ্যে কেবল একটিমাত্র পারমাণবিক স্থাপনা বা কেন্দ্র ভবিষ্যতে সচল বা চালুর অনুমতি পাবে। এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে আটকে বা ফ্রিজ করে রাখা ইরানের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সম্পদের অন্তত ২৫ শতাংশও অবমুক্ত বা ছেড়ে দেওয়ার দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন প্রশাসন।

শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটার বিষয়টি এই আলোচনার ধারাবাহিকতা ও সফল সমাপ্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল বলে লিংক বা জুড়ে দিয়েছে তারা। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরান যদি আমেরিকার এই সবকটি শর্ত মেনেও নেয়, তবুও ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের স্থায়ী হুমকি পুরোপুরি বহাল থাকবে।

মার্কিন এই পাল্টা শর্তের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের গণমাধ্যমগুলো রোববার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তেহরানের দেওয়া যৌক্তিক শান্তি প্রস্তাবের জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের দৃশ্যমান বা বাস্তবসম্মত ছাড় দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের এক সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ‘আমেরিকা নিজে কোনো ত্যাগ বা ছাড় না দিয়ে, মূলত যুদ্ধের ময়দানে যেসব সুবিধা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিল, তা এখন আলোচনার টেবিলে ছলে-বলে-কৌশলে আদায় করতে চাচ্ছে; ওয়াশিংটনের এই অতি লোভী মানসিকতা চলমান শান্তি আলোচনাকে নিশ্চিতভাবে একটি স্থায়ী অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দেবে।’

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া ১৪ দফার একটি ব্যাপক শান্তি প্রস্তাব সরাসরি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ট্রাম্পের এই প্রত্যাখ্যানের পর ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ক্যালিবাফ এক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন প্রশাসন যদি ইরানের দেওয়া প্রস্তাব মেনে না নেয়, তবে এর জন্য মার্কিন করদাতাদের ভবিষ্যতে অত্যন্ত ভারী ও চড়া মূল্য দিতে হতে পারে।

এর বিপরীতে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য ইরানের পক্ষ থেকেও আন্তর্জাতিক মহলে পাঁচটি ‘আস্থা-বিল্ডিং’ বা বিশ্বাসযোগ্য পূর্বশর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তেহরানের এই শর্তগুলোর মধ্যে প্রধানতম হলো—লেবাননে ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ বাহিনী হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের চলমান হামলাসহ সবকটি ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে, ইরানের ওপর আরোপিত সমস্ত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের সব ফান্ড বা অর্থ অবিলম্বে ছেড়ে দিতে হবে।

এর পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে ইরানের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অন্যতম প্রধান নৌ রুট হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিজস্ব একচ্ছত্র সার্বভৌমত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে। ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, তাদের দেশে নতুন করে যেকোনো ধরনের সামরিক বা বিমান হামলা চালানো হলে তার জবাবে আরও বেশি ‘বিধ্বংসী ও ভয়াবহ পাল্টা আঘাত’ হানা হবে।

আন্তর্জাতিক এই চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন মূলত তাদের সামরিক ও সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য কূটনীতিকে একটি সস্তা ঢাল বা কভার হিসেবে ব্যবহার করছে।

বাঘাই অত্যন্ত কড়া ভাষায় লেখেন, ‘এটি তাদের দীর্ঘদিনের অত্যন্ত সুপরিচিত এবং কুৎসিত একটি কৌশল—প্রথমে তারা নিজেরাই কৃত্রিমভাবে সংকট ও যুদ্ধ তৈরি করে, এরপর আবার সেই যুদ্ধকে আরও উসকে দেয় এবং সবশেষে তার ওপর ‘স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার’ ও ‘শান্তি রক্ষা’র এক মহৎ ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়। মূলত তারা বিশ্বজুড়ে একটি ধ্বংসস্তূপ বা মরুভূমি তৈরি করে এবং পরবর্তীতে ধূর্ততার সঙ্গে সেটাকেই শান্তি বলে দাবি করে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে একযোগে ব্যাপক সামরিক ও বিমান হামলা চালালে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই আগ্রাসনের পর ইরানও লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে পাল্টা প্রতিরোধমূলক হামলা চালায়, যার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম হু হু করে বাড়ে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।

পরবর্তীতে বন্ধু রাষ্ট্র পাকিস্তানের বিশেষ কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি অর্জিত হয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব হলেও মূল নীতিগত বিরোধগুলোর সমাধান না হওয়ায় এবং উভয় পক্ষের শর্তের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান থাকায় স্থায়ী কোনো শান্তি চুক্তি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

সূত্র: এনডিটিভি