চার বিভাগে অতিভারী বৃষ্টির আভাস, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের শঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্কঃ সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের চার বিভাগে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ২টায় দেওয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারী বৃষ্টিপাতসংক্রান্ত সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতিভারী (১৮৮ মিলিমিটার বা তার বেশি) বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভারী বর্ষণের কারণে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি চিঠি তার হাতে তুলে দেন সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়া। পরে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।




দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

আবহাওয়া ডেস্কঃ উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সোমবার (৬ জুলাই) আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে মৌসুমি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যেতে পারে।

নিম্নচাপটির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




মৌলভীবাজারে পানি প্রকল্পে লুটপাটের অভিযোগ, ঠিকাদার উধাও, সেবা থেকে বঞ্চিত শতাধিক পরিবার

বিশেষ প্রতিবেদকঃ মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার স্থাপন প্রকল্পের কাজ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নিজস্ব এক কর্মী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজটি বাগিয়ে নেন। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। এরই মধ্যে কোটি টাকার বিল তুলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাপাত্তা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ‘প্রাইম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড লিবার্টি ট্রেডার্স (জেভি)’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজটি নেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের এক ড্রাফটসম্যান। মৌলভীবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদুজ্জামানের যোগসাজশে তিনি কাজটি পেয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

২০২৩ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ পায় প্রতিষ্ঠানটি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়। এরপরও কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোটি টাকার বিল তুলে উধাও হয়ে যায় বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির অর্থায়নে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের যৌথ বাস্তবায়নে ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যবিধি’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ ২০২৫ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

প্রকল্পের আওতায় মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার সব ইউনিয়নে ৭৬টি পানি সরবরাহ লাইন স্থাপন এবং কমিউনিটিভিত্তিক পাইপলাইনের মাধ্যমে হতদরিদ্র ৩০ থেকে ৪০টি পরিবারে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মৌলভীবাজার সদরের ৩৮টির মধ্যে মাত্র ২টিতে আংশিক কাজ হয়েছে। আর রাজনগরের ৩৮টির একটিতেও কোনো কাজ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক বছর ধরে উধাও।

রাজনগরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই প্রকল্পের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। স্থানীয়রাও প্রকল্প সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না।

মৌলভীবাজার সদরের চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের কির্তার মহলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আংশিক কাজ করে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা নিজেদের প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ করে মোটর, পাইপ ও মিটার সংযোগ দিয়ে পানি সরবরাহ চালু করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মালাকার বলেন, “এখানে ৩০টি পরিবার এই লাইন থেকে পানি পায়। মোটর, সিঁড়ি কিছুই দেওয়া হয়নি। ঠিকাদার যে পাইপ লাগিয়েছিল, তা কয়েক দিনের মধ্যেই ফেটে যায়। কাজ খুবই নিম্নমানের হয়েছে।”

এদিকে জেলা ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরও জানে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কত টাকা বিল তুলেছে। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদুজ্জামানের কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, শাহিন আলম একসময় ফেনী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ড্রাফটসম্যান ছিলেন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে ২১ হাজার ৪৭০ টাকা বেতন স্কেলে চাকরিতে যোগ দেন তিনি। গত বছর একটি জাতীয় দৈনিকে তার বিরুদ্ধে ছয় বছরে শতকোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ প্রকাশিত হয়।

প্রাইম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড লিবার্টি ট্রেডার্সের অন্যতম পরিচালক রমিজ মিয়া বলেন, “এই কাজের মালিক শাহিন। সে জনস্বাস্থ্যে চাকরি করে আবার ঠিকাদারিও করছে। আমি থাকা অবস্থায় ৯০ লাখ টাকার বিল তুলেছিলাম। এরপর আর জানি না।”

মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মৌলভীবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের এই কাজের বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। কত বিল তোলা হয়েছে, তাও জানি না। নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ শেষ করা হবে।”

প্রকল্প পরিচালক তবিবুর রহমান তালুকদার বলেন, “সে নিজের নামের লাইসেন্সে কাজ করেনি। অন্য লাইসেন্স ব্যবহার করেছে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহিন আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।




ইরানে খামেনির জানাজা শেষে ঢাকায় ফিরেছেন স্পিকার

ডেস্ক নিউজঃ ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সফরকালে তিনি ইরানের রাষ্ট্রপতিসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান।

রোববার (৫ জুলাই) রাত ১১টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

এর আগে গত ২ জুলাই তিনি তেহরানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। সফরকালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তেহরানের গ্র্যান্ড মসাল্লায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্পিকার খামেনির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। এ সময় তিনি ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির উচ্চপদস্থ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শোকসন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি ও সমবেদনা জানান।

সফরকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য গালিবাফকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

উল্লেখ্য, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।




ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টারে নরওয়ে

ডেস্ক নিউজঃ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল নরওয়ে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ব্রাজিলকে বিদায় করে দেয় ইউরোপের দলটি।

প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের সুযোগ পেলেও কোনো দলই তা কাজে লাগাতে পারেনি। ম্যাচের শুরুতেই নরওয়ের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। অন্যদিকে ১৫ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হয় ব্রাজিল। ব্রুনো গিমারাইসের স্পটকিক দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিল্যান্ড। সেই মুহূর্তটিই পরে ম্যাচের বড় মোড় হয়ে দাঁড়ায়।

বিরতির পরও ম্যাচে খুব বেশি ছন্দ খুঁজে পায়নি ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কয়েকবার আক্রমণ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি। বদলি হিসেবে এন্দ্রিক ও পরে নেইমারকে নামিয়েও আক্রমণে ধার ফেরাতে পারেননি কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

অন্যদিকে ধৈর্য ধরে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল নরওয়ে। ৭৫ মিনিটে হালান্ডের তৈরি করা সুযোগ থেকে গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যায় তারা। এরপর ৭৯ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের ভাসিয়ে দেওয়া দারুণ ক্রসে বক্সের ভেতর উঁচুতে লাফিয়ে শক্তিশালী হেডে আলিসনকে পরাস্ত করেন হালান্ড। পুরো ম্যাচে খুব বেশি বল না পেলেও এক সুযোগেই নিজের জাত চিনিয়ে দেন নরওয়ের এই গোলমেশিন।

গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা করে ব্রাজিল। ৮৩ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের কর্নার থেকেও কোনো লাভ হয়নি। ৮৬ মিনিটে ভাগ্য প্রায় ব্রাজিলের পক্ষে যেতে বসেছিল। প্রতিপক্ষের একজনের গায়ে লেগে বলের গতিপথ বদলে গোলমুখে চলে যাচ্ছিল। কিন্তু দুর্দান্ত উপস্থিত বুদ্ধি ও ক্ষিপ্রতায় নিল্যান্ড ফিরে এসে বল পোস্টে ঠেলে দেন। সেই অসাধারণ সেভে নরওয়ের লিড অক্ষুণ্ন থাকে।

ব্রাজিল যখন মরিয়া হয়ে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করছে, তখনই যোগ হয় আরও এক দুঃস্বপ্ন। ৮৯ মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে আবারও সুযোগ পান হালান্ড। এবারও কোনো ভুল করেননি তিনি। নিজের দ্বিতীয় গোল করে নরওয়েকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এবং কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন।

তবে যোগ করা সময়ে শেষবারের মতো ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় ব্রাজিল। কাসেমিরোকে বক্সের ভেতরে কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি দেন রেফারি। সেই সুযোগ থেকে ১০০তম মিনিটে গোল করেন নেইমার। ধীরগতির রানআপ নিয়ে নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিল্যান্ডকে পরাস্ত করেন তিনি। যদিও পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি নিয়ে বিতর্কেরও জন্ম হয়।

নেইমারের গোলে ব্যবধান ২-১ হলেও শেষ মুহূর্তে আর সমতায় ফিরতে পারেনি ব্রাজিল। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ২-১ গোলের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় নরওয়ে। অন্যদিকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় নিতে হয় শেষ ষোলোর বাধাতেই।

এই জোড়া গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় সাতে। ফলে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষেও উঠে যান।

অন্যদিকে গোলরক্ষক অরিয়ান নিল্যান্ডও নরওয়ের জয়ের অন্যতম নায়ক। ব্রাজিলের পেনাল্টি ঠেকানোর পাশাপাশি ম্যাচজুড়ে একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন তিনি।

সব মিলিয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, দুর্দান্ত গোলরক্ষণ এবং হালান্ডের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। আর শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত ব্রাজিলকে শেষ ষোলোর বাধাতেই বিদায় নিতে হলো।




প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক নাসির উদ্দিন সারোয়ার প্রত্যাহার

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সারোয়ারকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় গুলির নির্দেশ দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকায় নাসির উদ্দিন সারোয়ারের নাম রয়েছে।

এর আগে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি রাষ্ট্রপতির প্রোটোকল অফিসার এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।




কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার নির্দেশ

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে দেশের কার্বন ক্রেডিট বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

রোববার (৫ জলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বৈঠকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।

সভায় প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগ, জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়ন, বন সংরক্ষণ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কার্বন শোষণ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। 

এর পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণেরও নির্দেশ দেন।

এ সময় তারেক রহমান কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর কথাও বলেন।

প্রধানমন্ত্রী কার্বন ক্রেডিট অর্জনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

সভায় উপস্থিত মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, কার্বন নিঃসরণ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ বাড়বে।

উল্লেখ্য, কার্বন ক্রেডিট হলো পরিবেশ সুরক্ষার একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা। বায়ুমণ্ডলে এক মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো বা অপসারণের বিপরীতে একটি কার্বন ক্রেডিট দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, কার্বন ট্রেডিং হলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে একটি বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা। এতে সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থা কোনো দেশ, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্বন নিঃসরণের সীমা নির্ধারণ করে। কেউ নির্ধারিত সীমার বেশি কার্বন নিঃসরণ করলে তাকে বাজার থেকে কার্বন ক্রেডিট কিনতে হয়। আর যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান বনায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি কিংবা পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমায় বা বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন শোষণ করে, তারা কার্বন ক্রেডিট অর্জন করতে পারে। পরে এসব ক্রেডিট অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণকারী দেশ বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়।




পে-স্কেলের গেজেট জুলাইয়ে হচ্ছে না, চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল সংক্রান্ত গেজেট চলতি জুলাই মাসে প্রকাশ হচ্ছে না। যদিও অর্থমন্ত্রীর বাজেট ঘোষণা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহের মধ্যে এই গেজেট জারি হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকার আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করেই গেজেট জারি করতে চাইছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে গেজেট প্রকাশ যখনই হোক না কেন, নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকেই ধরা হতে পারে বলে জানা গেছে। ফলে চাকরিজীবীরা বকেয়াসহ বর্ধিত বেতনের সুবিধা পাবেন।

গেজেট প্রকাশে দেরি হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবী এবং অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন বেতন কত হবে, কোন ধাপে বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে, ভাতা কবে যুক্ত হবে এবং অবসরপ্রাপ্তরা কী সুবিধা পাবেন—এসব বিষয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। এর আগে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ধাপে ধাপে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

গেজেট প্রকাশে বিলম্বের পেছনে বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতা। ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় বেশিরভাগ কাজ ম্যানুয়ালি করা হলেও এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। বর্তমানে চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও জিপিএফসহ সব আর্থিক কার্যক্রম ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করতে গেলে সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, ‘আগের মতো হাতে বেতন নির্ধারণের সুযোগ এখন আর নেই। যদি একাধিক ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হয়, তাহলে একই কর্মচারীর জন্য বারবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।’ এ ছাড়া পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও অবসরজনিত সুবিধা নির্ধারণেও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তবে এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে পড়েছেন অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যেহেতু তাদের পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও ছুটির নগদায়নসহ অধিকাংশ আর্থিক সুবিধা শেষ প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, তাই দুই বা তিন ধাপে অবসরকালীন সুবিধা সমন্বয়ের সুযোগ ডিজিটাল ব্যবস্থায় নেই। এ কারণে তারা ভবিষ্যৎ প্রাপ্যতা নিয়ে আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে আব্দুল মালেক প্রস্তাব দিয়েছেন, প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা হোক। এরপর বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা যেতে পারে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তনের চাপ কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈষম্য তৈরি হবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি বর্তমানে নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক দিকগুলো পর্যালোচনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির এই উদ্যোগ যথেষ্ট সময়োপযোগী। তবে বেতন বৃদ্ধির ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সরকারকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ জন্য বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।




জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উদযাপিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস। শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ মিউজিক্যাল পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক আস্থা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্টজনেরা।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই কান যেমন বাংলাদেশের সংসদ ভবনের নকশা করে ইতিহাস গড়েছেন, ঠিক তেমনি বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রকৌশলী ফজলুর রহমান খান যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপত্যশিল্পে অনন্য অবদান রেখেছেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন কিংবদন্তি শিল্পী জর্জ হ্যারিসনের ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, রোববারের এই সংগীতায়োজন মূলত সেই একই মানবিক ও সাংস্কৃতিক চেতনারই ধারাবাহিকতা। আগামী দিনে বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ নানা খাতে দুই দেশের কাজ করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ঘোষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতারা ঘোষণা করেছিলেন ‘সব মানুষ সমান’। তিনি জানান, ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আলোকেই বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্ব জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর জোর দিয়ে তিনি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে টেকসই নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক শান্তি রক্ষাকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত করেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহায়তার প্রশংসা করে তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষার ভিত্তিতে দুই দেশের এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে।

অন্যদিকে, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদ ভবনের মতো আইকনিক স্থাপনার সামনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের এই আয়োজন দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি বড় প্রতীক। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে উভয় দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

জমকালো এই আয়োজনে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ককাস সদস্য, সংসদ সদস্য, মার্কিন ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।