জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকেট উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজঃ “উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস- ২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকেট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রবিবার সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই স্মারক ডাক টিকেটের উদ্বোধন করা হয়। ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাক টিকেটের সঙ্গে একটি উদ্বোধনী খাম ও পাঁচ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ডও প্রকাশ করা হয়।

এ সময়, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

৬ জুলাই ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ প্রতি বছর বিশেষ স্মারক ডাক টিকেট, উদ্বোধনী খাম ও ডাটাকার্ড প্রকাশ করে থাকে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও পল্লী উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি প্রদান এবং দিবসটির তাৎপর্য জনসমক্ষে তুলে ধরা।




সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে তৈরি করা ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ডসহ সব ধরনের প্রচারসামগ্রীতে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে সরকার। পাশাপাশি এসব প্রচারসামগ্রীতে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু, উদ্দেশ্য ও জনসচেতনতামূলক বার্তাকে প্রাধান্য দিয়ে স্পষ্টভাবে উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুত করা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি (থ্রিডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকে) ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হলো।

এতে আরও বলা হয়, সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশা এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও পরিপত্রে জানানো হয়েছে।




সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর: রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজঃ সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

তিনি বলেছেন, ‘সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে সবার আগে বাংলাদেশ নীতি ধারণ করা হচ্ছে। এই নীতির মধ্য দিয়েই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক ও শক্তিশালী হবে।’

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে সবার আগে ‘বাংলাদেশ নীতি’ ধারণ করা হচ্ছে এবং এর মধ্য দিয়েই দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক ও শক্তিশালী হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সুনাম আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুবিদিত। প্রেসিডেন্ট রেজিমেন্ট গার্ডও তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

তিনি বলেন, ‘প্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি এখন সাইবার হামলা, এআইয়ের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা হুমকির চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এসব মোকাবিলায় প্রযুক্তি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যকর কৌশলের বিকল্প নেই।’




দুপুরের মধ্যে দেশের ৯ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা জারি

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। 

রোববার (৫ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।




আমির খান-গৌরীর আজ বিয়ে, থাকছে না জাঁকজমক

বিনোদন ডেস্কঃ বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান আজ জীবনের তৃতীয় ইনিংস শুরু করতে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করছেন তিনি।

তবে আলোঝলমলে তারকাদের ভিড় নয়, বরং পরিবারের মানুষ, কাছের বন্ধু আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা নিয়েই শুরু হচ্ছে অভিনেতার জীবনের নতুন অধ্যায়।

বলিউডের তারকাখচিত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নয়, বরং পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে একেবারেই ব্যক্তিগত পরিসরে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই তারকা জুটি।

ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রোববার (৫ জুলাই) মুম্বাইয়ে আমির খানের নিজ বাসভবনেই অনুষ্ঠিত হবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। উপস্থিত থাকবেন মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ জন অতিথি। তাদের মধ্যে দুই পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের অল্প কয়েকজন সহকর্মী থাকবেন।

অতিথির তালিকা থেকে শুরু করে বিয়ের মধ্যাহ্নভোজের মেনু—সবকিছুই নিজেরা ঠিক করেছেন আমির ও গৌরী। এমনকি অতিথিদের জন্য পরিবেশিত খাবারের প্রস্তুতিও তারা নিজেরা তদারকি করেছেন।

একটি সূত্রের ভাষ্য, ‘এটি কোনো তারকাসুলভ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নয়। আমির ও গৌরী চেয়েছেন, দিনটি যেন শুধুই পরিবারের মানুষ ও সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের সঙ্গে কাটে।’

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পর অতিথিদের জন্য থাকবে বিশেষ মধ্যাহ্নভোজ। সূত্রের দাবি, মেনু তৈরিতে দুজনের ব্যক্তিগত পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমির ও গৌরী দুজনই তাদের প্রিয় খাবারগুলো রাখতে বলেছেন। অনুষ্ঠানটি যতটা সম্ভব আন্তরিক ও পারিবারিক আবহে আয়োজনের চেষ্টা করা হয়েছে।

বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন আমির খানের তিন সন্তান—জুনায়েদ খান, ইরা খান ও আজাদ রাও খান। এ ছাড়া আমন্ত্রণ পেয়েছেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মীদের কয়েকজন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর ও রাজকুমার হিরানি। বলিউডের আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে নতুন সিরিজ ‘প্রীতম অ্যান্ড পেড্রো’র প্রচারণায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রথমবারের মতো বিয়ের খবর নিশ্চিত করেন আমির খান।

তিনি বলেন, ‘৫ জুলাই আমাদের বিয়ে। একেবারেই ছোট পরিসরে, নিজের বাড়িতেই আয়োজন করা হয়েছে। দিনটি আমাদের জন্য খুবই বিশেষ। দুই পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু উপস্থিত থাকবেন। আমরা খুব সীমিত পরিসরে উদ্‌যাপন করতে চাই। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আমরা সুখে থাকতে পারি এবং জীবনের নতুন পথচলা সুন্দর হয়।’

কয়েক মাস ধরেই আমির ও গৌরীর বিয়ে নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ ঘরোয়া আয়োজনে নতুন জীবনের পথে হাঁটছেন বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেতা।

গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে আমির খানের পরিচয় প্রায় ২৫ বছরের। তবে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না থাকলেও কয়েক বছর আগে আবারও তাদের দেখা হয়। পুরোনো বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে ভালোবাসায় রূপ নেয়।

২০২৫ সালের মার্চে নিজের ৬০তম জন্মদিনে প্রথমবারের মতো গৌরীকে সংবাদমাধ্যমের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন আমির। তখনই তিনি জানান, জীবনের এই পর্যায়ে এসে গৌরীর মধ্যে তিনি এমন এক ধরনের শান্তি ও স্থিরতা খুঁজে পেয়েছেন, যা আগে কখনো অনুভব করেননি।

একাধিক সাক্ষাৎকারে আমির বলেছেন, ‘আমি এমন একজন মানুষকে খুঁজছিলাম, যার সঙ্গে শান্তিতে থাকতে পারব। গৌরীর মধ্যে আমি সেই মানুষটিকেই খুঁজে পেয়েছি।’

আরেক সাক্ষাৎকারে আমির বলেন, ‘আমি খুব সৌভাগ্যবান যে গৌরী আমার জীবনে এসেছে। মনে হয়, জীবনের এই পর্যায়ে এসে আমি যেন পূর্ণতা পেয়েছি।’

বেঙ্গালুরুতে বেড়ে ওঠা গৌরী স্প্র্যাট পেশায় একজন উদ্যোক্তা ও লাইফস্টাইল–সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী। দীর্ঘদিন একটি পরিচিত স্যালন ও বিউটি চেইনের সঙ্গে কাজ করার পর বর্তমানে তিনি আমির খান প্রোডাকশনের সঙ্গেও যুক্ত আছেন। আগের সংসারে তার সাত বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

গৌরী বরাবরই প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি এমন একজন জীবনসঙ্গী চেয়েছিলেন, যিনি ভদ্র, যত্নশীল ও মানবিক। আমিরকে তিনি কখনো সুপারস্টার হিসেবে দেখেননি, বরং একজন নির্ভরযোগ্য মানুষ ও সঙ্গী হিসেবে দেখেছেন।

এটি হবে আমির খানের তৃতীয় বিয়ে। ১৯৮৬ সালে রিনা দত্তকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে জন্ম নেয় দুই সন্তান—জুনায়েদ খান ও ইরা খান। ২০০২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়।

পরে ২০০৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। তাদের ছেলে আজাদ রাও খান। ২০২১ সালে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেও আজও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন তারা। সন্তানের সহ-অভিভাবক হিসেবে একসঙ্গেই দায়িত্ব পালন করছেন।




আমরাও কুৎসিত ফুটবল খেলতে জানি: এমবাপ্পে

ক্রীড়া ডেস্কঃ ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে উত্তেজনা। একদিকে প্যারাগুয়ের দুর্ভেদ্য রক্ষণ। অন্যদিকে, ফ্রান্সের অবিরাম আক্রমণ। প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় খেলা ম্যাচটিতে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

অধিনায়কের একমাত্র গোলেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ফরাসিরা। এদিন ফ্রান্সকে শুধু প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে নয়, মাঠে প্যারাগুয়ের আগ্রাসী ও শারীরিক ফুটবলের সঙ্গেও লড়তে হয়েছে। ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়েরা শারীরিকভাবে আগ্রাসী ফুটবল খেলেছেন। ফাউল, ট্যাকল এবং সংঘর্ষে ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের বিরক্ত করে গেছেন লাগাতার। ম্যাচ শেষে এ নিয়ে স্পষ্টতই অসন্তোষ জানিয়েছেন এমবাপ্পে।

তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে তার দলও ‘ডার্টি ফুটবল’ খেলতে জানে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, সেটি আগে থেকেই জানা ছিল ফ্রান্সের। খেলা শেষে এমনটাই জানিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমরা জানতাম, কী ধরনের ম্যাচ অপেক্ষা করছে। আমার মনে হয়, আজ আমরা সেটি খুব ভালোভাবেই সামলেছি।’

প্রতিপক্ষের কৌশল নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘ওরা ভেবেছিল আমরা বুঝি টাক্সেডো (আভিজাত্যপূর্ণ ও ভদ্র ফুটবল খেলা অর্থে) পরে মাঠে নামব এবং শুধু চোখধাঁধানো কিছু কৌশল দেখাব। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। প্রয়োজন হলে আমরাও কুৎসিত ফুটবল খেলতে জানি। আজ সেটাই করেছি।’

ম্যাচে মোট চারটি হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন উজবেক রেফারি ইলগিজ তানতাশেভ। এর মধ্যে তিনটিই দেখেছে ফ্রান্স।




সৌদির প্রতিনিধিদের সুরা আল ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত শোনাল ইরান

ডেস্ক নিউজঃ বিদেশি অতিথিদের  জন্য গতকাল শুক্রবার সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন রাখা হয়। এতে অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌদির পাঁচ সদস্যদের একটি দলও আসে। সৌদির এ দলটিকে নেতৃত্ব দেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খেরেজি।

খামেনিকে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় যেসব বিদেশিরা এসেছেন তাদের সবাইকে পবিত্র কোরআন থেকে আলাদা আলাদা আয়াত তেলাওয়াত করে শুনিয়েছে ইরান। এরমধ্যে সৌদির প্রতিনিধিদের শোনানো হয়েছে সুরা আল ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত। যেখানে ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে। ওই যুদ্ধে আল্লাহর ওপর ইমান আনা বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের মধ্যে লড়াই হয়।

এই আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন— তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন আছে সেই দু’দল সৈন্যের মধ্যে যারা পরস্পর প্রতিদ্বন্দীরূপে দাঁড়িয়েছিল (বদর প্রান্তরে)। একদল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল এবং অপরদল ছিল কাফির, কাফিররা মুসলিমদেরকে প্রকাশ্য চোখে দ্বিগুণ দেখছিল। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে স্বীয় সাহায্যের দ্বারা শক্তিশালী করে থাকেন, নিশ্চয়ই এতে দৃষ্টিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।”

সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এই আয়াত শোনানোর মাধ্যমে ইরান সম্ভবত সৌদিকে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে তারা আল্লাহর পথে আছে। অপরদিকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা কাফিরদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে সৌদির প্রতিনিধিদের এ আয়াত শোনানোর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা তৈরি করেছে।

তথ্যসূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল




গোয়েন্দা জালে বিমানের হুন্ডি চক্র

ডেস্ক নিউজঃ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রুদের ওভারসিজ অ্যালাউন্স উত্তোলনকে কেন্দ্র করে হুন্ডির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও সম্ভাব্য অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি নথিতে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়ম পরিবর্তন করে প্রায় দুই শতাধিক কেবিন ক্রুর ওভারসিজ অ্যালাউন্স এক কর্মীর নামে ইস্যু করা চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গত ১৪ মে দুবাইয়ে জনতা ব্যাংক থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুবাই স্টেশনের ১৯৬টি বিলের বিপরীতে মোট ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪৭ দিরহাম উত্তোলন করা হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার আনুমানিক মূল্য সাড়ে ৪ কোটি টাকারও বেশি। অভিযোগ অনুযায়ী, পুরো অর্থ কেবিন ক্রু ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফ্লাইট স্টুয়ার্ড মো. আব্দুস শাকুর মুজাহিদের নামে ইস্যু করা একটি চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরদিন ১৫ মে সকালে বিজি-২৪৮ ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোয়েন্দা সংস্থার তল্লাশিতে আব্দুস শাকুর মুজাহিদের কাছ থেকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার ও ২ হাজার দিরহাম উদ্ধার করা হয়। একই ফ্লাইটের আরও কয়েকজন কেবিন ক্রুর কাছ থেকেও বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৮ হাজার ৩৬০ দিরহাম সমমূল্যের।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথি ও চিঠিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, উত্তোলিত মোট অর্থের বিপরীতে প্রায় ১২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৮৭ দিরহামের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই অর্থের বড় একটি অংশ দুবাইয়ের একটি মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে হুন্ডি চক্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের কাছে সমপরিমাণ অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া গত ২২ এপ্রিল ১৬৮ জন কেবিন ক্রুর বিলশিট ইউনিয়নের নামে প্রস্তুত করা হয়, যা তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের মতে প্রচলিত বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়নের প্রভাব ব্যবহার করে বিল প্রস্তুত, অর্থ উত্তোলন এবং ঢাকায় ইউনিয়ন কার্যালয়ের মাধ্যমে হুন্ডির টাকা বিতরণের মতো কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে প্রতিটি কেবিন ক্রুর নামে পৃথকভাবে ওভারসিজ অ্যালাউন্স বা প্রয়োজন অনুযায়ী অথরিটি বিল ইস্যু করা হতো। কিন্তু সম্প্রতি সেই পদ্ধতি পরিবর্তন করে একত্রে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়। কেন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কারা অনুমোদন দিয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথিতে আরও বলা হয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অর্থ বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও এ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার অভিযোগ ও সন্দেহের তথ্য পাওয়া গেছে। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে নাম আসার পর সংস্থাটির এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলেও অভিযোগে নাম থাকা আব্দুস শাকুর মুজাহিদসহ অন্যরা এখনো দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৫ মে দুপুরে বিমান প্রশাসনিক ভবনে কেবিন ক্রু অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিল বিতরণের প্রস্তুতি চলছিল। তবে বিমানবন্দরে গোয়েন্দা তল্লাশির ঘটনার পর তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। পরে অন্যত্র ওই অর্থ বিতরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদিত ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তরের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা Foreign Exchange Regulation Act, 1947 এবং Money Laundering Prevention Act, 2012 অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা এবং দায় নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের এখতিয়ার।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথিতে ভবিষ্যতে প্রতিটি কেবিন ক্রুর নামে পৃথকভাবে চেক ইস্যুর ব্যবস্থা পুনর্বহাল, অনুমোদিত ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ওভারসিজ অ্যালাউন্স পরিশোধ, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেবিন ক্রু ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুস শাকুর মুজাহিদ বলেন, ১৯৬টি বিলের বিপরীতে তাঁর নামে ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪৭ দিরহামের চেক ইস্যুর বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না। তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে যাত্রী বোর্ডিংয়ের কাজে ব্যস্ত। পরে এ বিষয়ে কথা বলব।’
অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার বোশরা ইসলাম বলেন, কেবিন ক্রুদের ওভারসিজ অ্যালাউন্সকে কেন্দ্র করে হুন্ডির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে বিমানের কাছে কোনো তথ্য নেই। 



পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক তালিকা প্রকাশ, গেজেট চলতি মাসেই

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে একবারে পুরো বেতন কাঠামো কার্যকর না করে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। যার প্রথম ধাপে কেবল মূল বেতন বা বেসিক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হতে পারে। এরই মধ্যে প্রস্তাবিত ২০টি গ্রেডের নতুন মূল বেতনের একটি রূপরেখাও সামনে এসেছে।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের ধরন নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক নির্দেশনার আলোকেই নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় একসঙ্গে সব সুবিধা কার্যকর না করে প্রথম দফায় শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কোন গ্রেডে ঠিক কত টাকা বা কত শতাংশ বেতন বাড়ছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের আগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বর্তমানে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গেজেট চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল চালুর বিষয়টি সামনে আনেন। জাতীয় সংসদে দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ধরে একই কাঠামোতে বেতন পাওয়ায় এবং বর্তমান সময়ের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে সে সময় জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।

এদিকে নতুন পে-স্কেলের একটি প্রস্তাবিত রূপরেখা নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে আগের মতো ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। এই কাঠামোতে প্রথম বা সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ধরা হয়েছে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। এরপর দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে যথাক্রমে এক লাখ ৩২ হাজার, এক লাখ ১৩ হাজার, এক লাখ এবং ৮৬ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, প্রস্তাবনায় ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডের মূল বেতনের কাঠামো যথাক্রমে ৭১ হাজার, ৫৮ হাজার, ৪৭ হাজার ২০০, ৪৫ হাজার ১০০ এবং ৩২ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। একইভাবে ১১তম থেকে ১৫তম গ্রেড পর্যন্ত যথাক্রমে ২৫ হাজার, ২৪ হাজার ৩০০, ২৪ হাজার, ২৩ হাজার ৫০০ এবং ২২ হাজার ৮০০ টাকা মূল বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া নিচের সারির গ্রেডগুলোর মধ্যে ১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডে ২১ হাজার ৪০০, ১৮তম গ্রেডে ২১ হাজার, ১৯তম গ্রেডে ২০ হাজার ৫০০ এবং সর্বনিম্ন বা ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে খসড়া প্রস্তাবে। সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, জুলাই মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়েই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে।




আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে অবাক হবো: সাকিব আল হাসান

ডেস্ক নিউজঃ এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রিয় দল আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতলে অবাক হবেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা এই তারকা ক্রিকেটারের মতে, এবারের আসরে স্পেন ও ফ্রান্স সবচেয়ে শক্তিশালী দল। ২০২২ সালের তুলনায় বর্তমান আর্জেন্টিনা দল অনেকটাই দুর্বল হওয়ায় তাদের টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ে ভাগ্যের ব্যাপক সহায়তা লাগবে বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর খেলা শেষে টুর্নামেন্টের গতিপথ নিয়ে নিজের এমন পর্যালোচনার কথা জানিয়েছেন সাকিব। কট্টর আর্জেন্টিনা সমর্থক হিসেবে পরিচিত এই ক্রিকেটার জানান, প্রিয় দল চ্যাম্পিয়ন হোক—সেটি তিনি মন থেকেই চান। তবে বাস্তবতার নিরিখে এবার তাদের হাতে শিরোপা উঠলে সেটি তার কাছে বিস্ময়করই মনে হবে। কারণ হিসেবে তিনি লিওনেল মেসির ওপর দলের অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতার বিষয়টি উল্লেখ করেন। বয়সের ভারে থাকা মেসির ওপর পুরো দলের এই নির্ভরতাকে তিনি দলগত দিক থেকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে মেসির ছন্দে থাকাটা উপভোগ করছেন বলেও জানান এই অলরাউন্ডার।

সার্বিক বিশ্বকাপ পরিস্থিতি নিয়ে সাকিব জানান, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার দলগুলোর দারুণ পারফরম্যান্সের কারণে এবারের আসরটি বেশ রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে। তবে শিরোপার মূল দাবিদার হিসেবে তিনি ইউরোপের দুটি দেশকে এগিয়ে রাখছেন। তার মতে, এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সেরা দুই দল হলো স্পেন ও ফ্রান্স। মেক্সিকোসহ আরও কয়েকটি দল ভালো করলেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা ফ্রান্স বা স্পেনের কারও হাতেই উঠবে বলে তিনি জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন।

এদিকে, এর আগে গ্যালারিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের জার্সি গায়ে সাকিবের উপস্থিতি নিয়ে ভক্তদের মাঝে বেশ আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এ বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি জানান, সেদিন মাঠে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার ম্যাচ ছিল। রবিন নামের এক পরিচিত ব্যক্তি তাকে ওই ম্যাচের টিকিট ও জার্সি উপহার দিয়েছিলেন। কেবল সেই কারণেই তিনি ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে গিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

টুর্নামেন্টে স্পেন ও ফ্রান্সকে ফেভারিট মানলেও একজন নিখাদ সমর্থক হিসেবে ফাইনালে প্রিয় দলকেই দেখতে চান এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও শিরোপার চূড়ান্ত লড়াইয়ে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাকিব আল হাসানের।