দেশের তিন বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে বুধবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ ছাড়াও সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকালে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন মায়ানমার উপকূলীয় এলাকায় লঘুচাপটি বিরাজমান রয়েছে।

এটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম বরাবর মায়ানমার-বাংলাদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে— এ অবস্থায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।




১১ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বন্ধের হুমকি আদানি পাওয়ারের

আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না হলে পরদিন ১১ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেবে বলে জানিয়েছে ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান অবিনাশ অনুরাগ ৩১ অক্টোবর বিপিডিবির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানান।

চিঠিতে বলা হয়, বিপিডিবি এখনও ৪৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বকেয়া পরিশোধ করেনি, যার মধ্যে ২৬২ মিলিয়ন ডলার বিপিডিবির নিজস্ব স্বীকৃত অপরিশোধিত বিল। যদি ১০ নভেম্বরের মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধ না করা হয়, তাহলে আমরা ১১ নভেম্বর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করতে বাধ্য হব।

চিঠিতে বলা হয়, ধারাবাহিক যোগাযোগ ও একাধিক চিঠি পাঠানোর পরও (সর্বশেষ ২৭ অক্টোবরের চিঠিসহ) বিপিডিবি পাওনা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে। আদানি পাওয়ার উল্লেখ করে, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর স্বাক্ষরিত পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্টের (পিপিএ) ১৩.২(i)(i) ও (ii) ধারার অধীনে এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ বন্ধ করার অধিকার কোম্পানির রয়েছে।

আদানি পাওয়ার জানায়, চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ বন্ধ থাকলেও তারা ‘ডিপেন্ডেবল ক্যাপাসিটির’ ভিত্তিতে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট পাওয়ার অধিকার রাখে।

এর আগে, আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি গত ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানো চিঠিতে ৪৬৪ মিলিয়ন ডলার বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানান।

তিনি জানান, জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ আংশিক অর্থ পরিশোধ করলেও এখনও একটি বড় অঙ্ক বাকি রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিপিডিবি কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব বকেয়া ও লেট পেমেন্ট সারচার্জ (এলপিএস) পরিশোধ করা হবে, কিন্তু এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সূচি দেওয়া হয়নি।

চিঠিতে গৌতম আদানি আহ্বান জানান, অবিলম্বে পাওনা নিষ্পত্তি করতে উদ্যোগ নিন, যাতে অপারেশন ও অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় বাড়তি চাপ না পড়ে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিপিডিবি বর্তমানে সরকার গঠিত ন্যাশনাল রিভিউ কমিটি অন পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্টস (পিপিএ)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে।

এই কমিটির প্রধান বিচারপতি মইনুল ইসলাম ২ নভেম্বর এক বৈঠকে ‘বেসিক গভর্ন্যান্স ফেইলিউর অ্যান্ড রিভিউ অব অ্যানোমালিজ ইন দ্য অ্যাপ্রুভাল প্রসেস অন আদানি’ শিরোনামের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী জানুয়ারিতে প্রকাশের কথা রয়েছে। কমিটি আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করছে।




জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে সম্পদ, নির্যাতন ও রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত চান মিরপুর-কাফরুল এলাকাবাসী

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুর-কাফরুল এলাকায় জাহাঙ্গীর লতিফ নামে এক ব্যক্তিকে ঘিরে নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নামে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুর সঙ্গে জাহাঙ্গীর লতিফের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং সাচ্চুর অর্থ-সম্পদের একটি অংশ জাহাঙ্গীর লতিফের কাছে গচ্ছিত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক সহিংসতা ও ছাত্র হত্যার ঘটনাগুলোর সঙ্গেও জাহাঙ্গীর লতিফের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। তাদের দাবি, ওই সময় তিনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতনেরও অভিযোগ উঠেছে। তার শ্বশুর মতিউর রহমান, শাশুড়ি দিলারা রহমানসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী রোমানা জাহাঙ্গীরও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেননি মান সম্মান ও মেরে ফেলার হুমকীর কারনে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, গৃহকর্মীর সঙ্গেও জাহাঙ্গীর লতিফ দুর্ব্যবহার ও নির্যাতন করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এমনকি তার বাসায় এখনও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, গাজীপুরে জাহাঙ্গীর লতিফের বিপুল সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের ভিডিওচিত্র ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পদের উৎস ও মালিকানা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

এলাকাবাসীর বক্তব্য, কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের কারণে আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ নেই। জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর লতিফের বক্তব্য জানা যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

সংবাদটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান: জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সম্পদ, সহিংসতা, নির্যাতন , ছাত্র হত্যা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সত্যতা উদঘাটন করা হোক এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।