কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: উত্তরবঙ্গের কৃষি শিক্ষার মডেল হিসাবে তৈরি করাতে চান উপাচার্য

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুড়িকৃবি) শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর গত ১৬ মাসে প্রতিষ্ঠানটি উত্তরবঙ্গের কৃষি শিক্ষার মডেলে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে চলছে। জনবল সংকট থাকলেও মেধা, স্বচ্ছতা আর নিরলস প্রচেষ্টায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের ছাপ রাখছে এই নবীন বিশ্ববিদ্যালয়।

উপাচার্য ড. রাশেদুল ইসলাম ২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোয় ফেরাতে কাজ শুরু করেন। অন্যান্য সমসাময়িক বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরুতেই ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নিয়োগের সংস্কৃতি থাকলেও কুড়িকৃবি সেই পথে হাঁটেনি। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি আগে পূর্ণাঙ্গ নিয়োগ বোর্ড, একাডেমিক কাউন্সিল, অর্থ কমিটি ও সিন্ডিকেট গঠনের জন্য অপেক্ষা করেন।

গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় সিন্ডিকেট সভা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় একাডেমিক কাউন্সিলের সভা। উপাচার্য স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, “নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো লবিং বা অসদুপায় সহ্য করা হবে না। প্রতিটি নিয়োগ হবে লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়।”

বর্তমান উপাচার্যের দক্ষ নেতৃত্বে কুড়িকৃবি ২০২৫ সাল থেকেই কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর হার ছিল ৯৪.৬৯%, যা দেশের ৯টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন।

ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের (লেভেল-১, সেমিস্টার-১) চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাচের মিড-টার্ম পরীক্ষা শেষ হয়েছে এবং ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যে তৃতীয় ব্যাচের ভর্তি কার্যক্রমও সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অভিজ্ঞ খণ্ডকালীন ও অতিথি শিক্ষকদের মাধ্যমে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ করায় শিক্ষার্থীরা সেশনজটমুক্ত শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। তাত্ত্বিক শিক্ষার চেয়ে ব্যবহারিক ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাকে (Outcome Based Education) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে কুড়িকৃবি। অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শিক্ষা ও গবেষণা বিনিময় শুরু হয়েছে। কৃষি গবেষণার পথ প্রশস্ত করতে সাউথইস্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ অনুদান প্রদান করেছে।

গত সিন্ডিকেট সভায় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে ৪টি বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো— চর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ফ্রেশওয়াটার ফিসারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ভেজিটেবলস এন্ড ফ্রুটস রিসার্চ ইনস্টিটিউট।

শিক্ষার্থীদের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে ছাত্র ও ছাত্রীদের আলাদা দুটি হলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে রোভার স্কাউট, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব ও ডিবেটিং সোসাইটির মতো কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অগ্রযাত্রায় শিক্ষার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, উপাচার্য মহোদয়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কুড়িকৃবি অচিরেই একটি বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। যথাযথ সরকারি অনুদান ও সহযোগিতা পেলে এই বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক ও কৃষি বিপ্লবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।




ওহাব গ্রুপের পদোন্নতি কাণ্ড: এলজিইডির কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির কতিপয় কর্মচারীর পদোন্নতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই পদোন্নতিতে প্রধান প্রকৌশলী সহ কয়েকজনের ব্যাক্তিগত লাভ হলেও সরকারের গচ্চা গেছে পাঁচ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, এলজিইডির বিভিন্ন পদের ২৪ জন কর্মচারী তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে নিয়মিত করার জন্য হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিট মামলা নং ৮৪৩১/ ২০১১ এবং প্রথম শুনানি হয় ২৬ জুলাই ২০১২ দ্বিতীয় ও শেষ শুনানি হয় ১৬ অক্টোবর ২০১২। মামলার অথচ রায় হয় ১৫ অক্টোবর ২০১২, এখানে বড় ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে। দেখা যায় শেষ শুনানি ১৬ অক্টোবর ২০১২ আর রায় হয়েছে ১৫ অক্টোবর ২০১২। এই রায় ফরমায়েশি,ভুয়া বা স্বঠিক তা বুঝা দুষ্কর।

এলজিইডির এই ২৪ জন কর্মচারী যাদের মূল পদ কেউ সার্ভেয়ার কেউ কার্য সহকারী কেউবা স্টোর কিপার। তাদের মধ্যে কেউ ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন কেউ মারা গেছেন অবশিষ্ট আছেন ১২ জন এবং তাদের দলনেতা ছিলেন প্রয়ায়ত আব্দুল ওহাব। ওহাব গ্রুপের এই ১২জনকে কোর্টের ভুল রায়ের আলোকে এই পদোন্নতি দেয়া হল। কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে নিয়মিত করতে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ১১ জনের চাকরি শুরু থেকে রাজস্ব খাতে ছিল। ২০১২ সাল থেকে বর্তমান অবদি ১৬ জন প্রধান প্রকৌশলী গত হয়েছেন কিন্তু কেউ কোর্টের এই ভুল রায়ের কারণে তা বাস্তবায়ন করেননি। ওহাব গ্রুপের সদস্যরা ২০২৫ সালের শুরু থেকে মোটা অংকের ফান্ড তৈরি করে এবং জোর প্রচেষ্টা শুরু করে।

সাবেক প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম ও সেই সময়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রশাসন বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেন মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে তাদের পদোন্নতির ফাইল চালু করেন এবং পদোন্নতি দেন। সরকারি চাকরি বিধির আলোকে রুটিন দায়িত্বের কোনো কর্মকর্তা প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারেন না অথচ দেখা যায় তিনি মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে এই অবৈধ প্রজ্ঞাপন জারি করেন। রায় পর্যালোচনায় দেখা যায়, রায়ে কোথাও উল্লেখ নাই যে ইফেকটিভ ডেট থেকে তাদের সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল দেওয়ার কথা। অথচ মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে ২০০৬ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ২০ বছরের সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল বাবদ প্রত্যেকে ৪০-৪৫ লাখ টাকা হারে সরকারের কোষাগারে থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন।

সূত্র আরো জানায়, পরবর্তী প্রধান প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনকে দিয়ে এই পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন ও এরিয়ার সমুদয় বিল প্রদানের আদেশ করাতে চেস্ট করেও বিফল হয়। পরবর্তিতে গোলাম মোস্তফা প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব গ্রহনের পর ওহাব গ্রুপ আদা জল খেয়ে চেষ্টা শুরু করেও ব্যর্থ হয় এবং জাবেদ করিমের সময় সফল হয়।নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী প্রসাশন বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী ঢাকা মোঃ শরিফুজ্জামান ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রশাসন মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান দায়িত্বভার গ্রহনের পর ওহাব গ্রুপের ১২ জনের সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল প্রদানের চিঠি চুড়ান্ত করা হয়। শরিফুজ্জামান বেলাল হোসেনর ভায়রা তার মাধ্যমে ওহাব গ্রুপের এরিয়াল বিল প্রদানে তাতপর ছিলেন তিনি।সরকারের পাঁচ কোটি টাকা গচ্ছার পিছনে কেকে জড়িত তা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন অবিজ্ঞ মহল।

ওহাব গ্রুপের সদস্যরা তাদের পক্ষে প্রজ্ঞাপন ও সিলেকশ গ্রেড এবং টাইমস্কেল প্রাপ্তির জন্য দেড় কোটি টাকা ঘুষ দেন। দেড় কোটি টাকার এক কোটি টাকা দেন প্রধান প্রকৌশলী ও সেই সময়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রশাসন বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেনকে। বাকি পঞ্চাশ লাখ টাকা দেন এরিয়াল বিল প্রদান ফাইল শুরু জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী প্রসাশন ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রশাসনকে। কিন্তু কোর্টের রায়ে ইফেকটিব ডেট থেকে কার্যকর হবে তা উল্লেখ নাই অথচ প্রজ্ঞাপনে এই শর্ত যুক্ত থাকায়। ওই ১২ জনের জন্য সরকারের প্রায় পাচঁ কোটি টাকা গচ্চা গেছে।

সূত্র জানায়, ওহাব গ্রুপের সাথে প্রসাশন শাখার কয়েকজনের সাথে চুক্তি হয় কেসের মাধ্যমে অন্য যাদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে তাদের চাকরি গ্রহনের দিন থেকে সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেলের ব্যবস্থা করতে হবে বিনিময়ে মোটা অংকের ঘুষ পাবে। কোর্টের ডিরেকশন না থাকার পরেও তাদের বকেয়া সিলেকশ গ্রেড ও টাইমস্কেল ব্যবস্থা করে দিবেন। চুক্তি অনুযায়ী নিয়োম নীতির তোয়াক্কা না করে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে ভুল রায়কে বাস্তবায়ন করে সরকারের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা দন্ড লাগিয়েছেন কিন্তু লাভবান হয়েছেন ওহাব গ্রুপের ১২ জন এবং ঘুষ গ্রহিতারা।




টেন্ডার সিন্ডিকেট থেকে সাংবাদিক নিয়ন্ত্রণ—গণপূর্তে ড. আবু নাসেরকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর—যে দপ্তর জনগণের টাকায় পরিচালিত হওয়ার কথা, সেটিই এখন যেন পরিণত হয়েছে এক ‘নিয়ন্ত্রিত দুর্গে’। অভিযোগ উঠেছে, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসের চৌধুরীর অঘোষিত নির্দেশ ছাড়া প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ কার্যত অসম্ভব।

দুর্নীতি, টেন্ডার সিন্ডিকেট, কমিশন বাণিজ্য, পদায়ন বাণিজ্য এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে তাকে ঘিরে এখন তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক অঙ্গনজুড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সাবেক আলোচিত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান মুন্সী ওরফে টিপু মুন্সির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবের বলয়ে রয়েছেন ড. আবু নাসের চৌধুরী। আর সেই প্রভাব ব্যবহার করেই তিনি অধিদপ্তরের ভেতরে গড়ে তুলেছেন এক অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ উঠেছে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২ এ তার পদায়ন নিয়ে।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় ১ কোটি টাকার বিনিময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। অথচ এর আগেই বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ওঠে ভয়াবহ অনিয়ম, টেন্ডার কারসাজি ও কমিশন বাণিজ্যের বিস্ফোরক অভিযোগ।

সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ ও এপিপিভুক্ত বিভিন্ন কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বানের অনুমোদন দিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন বাণিজ্য করা হয়েছে। একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার নামে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে ভেরিয়েশন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামেও হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

অভিযোগ রয়েছে, বগুড়ায় দায়িত্বে থাকলেও সপ্তাহে দুই দিনের বেশি অফিস করতেন না ড. আবু নাসের। বাকি সময় ঢাকায় অবস্থান করে তদবির, পদ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই ব্যস্ত থাকতেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই তার অনিয়মিত উপস্থিতির প্রমাণ মিলবে। তার বিপুল সম্পদের তথ্য নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, মোহাম্মদপুরে আরেকটি ফ্ল্যাট, বারিধারা ও গুলশান-২ এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট এবং গাজীপুরে প্রায় ২০ একর জমির মালিক তিনি। এছাড়াও নামে-বেনামে বিপুল ব্যাংক হিসাব ও অঘোষিত সম্পদের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে সাংবাদিকদের প্রতি তার আচরণ।
অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের জন্য আলাদা খাতা চালু করা হয়েছে। সেখানে নাম, পত্রিকার পরিচয়, আগমনের কারণ, কার সঙ্গে দেখা করবেন—সব বিস্তারিত লিখে দিতে হয়। এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া কোনো সাংবাদিককে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

এক ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, এক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর আমন্ত্রণে অফিসে গেলেও গেটে তাকে আটকে দেওয়া হয়। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ভেতরে ঢুকতেই শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা সরাসরি জানান, ড. আবু নাসের চৌধুরীর নির্দেশ ছাড়া সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি নেই। সেই সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মনে হচ্ছিল সরকারি অফিসে নয়, কোনো গোপন সামরিক স্থাপনায় ঢুকতে গেছি। জনগণের টাকায় পরিচালিত একটি সরকারি দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রবেশে এমন নজরদারি কেন ? ভয়টা কোথায় ?”

তিনি আরও জানান, শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে ফোন দেওয়ার পর আচরণ কিছুটা নরম হয়। এরপর নাম এন্ট্রি, স্বাক্ষর ও ভিজিটর কার্ড দিয়ে তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। পুরো ঘটনাকে তিনি “অপমানজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ” বলে মন্তব্য করেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন—একটি সরকারি দপ্তরে সাংবাদিক প্রবেশে এত অস্বাভাবিক কড়াকড়ির পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী? দুর্নীতি, টেন্ডার সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের তথ্য আড়াল করতেই কি এই ‘নিজস্ব আইন’ চালু করা হয়েছে?

এ বিষয়ে ড. আবু নাসের চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি নিজেই গণপূর্তে ঢোকার নিয়ম তৈরি করেছি।” সাংবাদিকদের প্রবেশে এত কড়াকড়ির কারণ জানতে চাইলে তিনি ধমকের সুরে কথা বলে ফোন কেটে দেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের কর্মচারীরা জনগণের সেবক মাত্র। রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য নয়। অথচ ড. আবু নাসের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রমাণ করে, তিনি যেন সরকারি দপ্তরকে ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে পরিণত করেছেন।

অভিযোগের পাহাড়, প্রভাবের বলয়, টেন্ডার সিন্ডিকেট, অস্বচ্ছ সম্পদের প্রশ্ন এবং পেশাদার সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে অঘোষিত বাধা—সব মিলিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে এখন যেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এক ভয়ংকর ‘দুর্গতন্ত্র’। আর সেই দুর্গের কেন্দ্রবিন্দুতে ঘুরপাক খাচ্ছে আলোচিত নাম—ড. আবু নাসের চৌধুরী।




পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করলো বিজেপি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার আওতায় রাজ্যজুড়ে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

বুধবার (১৩ মে) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে নির্ধারিত সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং পশু চিকিৎসকের দেওয়া ফিটনেস সনদ ছাড়া গরু, ষাঁড় বা মহিষের মতো কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই নিয়ম অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নতুন এই সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ স্বাক্ষর করা সনদ ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই বিধিনিষেধ গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর এবং স্ত্রী ও পুরুষ মহিষসহ সব ধরনের গবাদি পশুর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে সনদ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটি প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী হতে হবে। এ ছাড়া গুরুতর আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগের কারণে কোনো পশু স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তবেই সেটিকে জবাইয়ের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।

পশু জবাইয়ের জন্য স্থান নির্ধারণের বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করেছে রাজ্য সরকার বিজেপি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানেই জবাই করতে হবে। রাস্তাঘাট বা জনসমাগমপূর্ণ কোনো খোলা জায়গায় পশু জবাই করা এখন থেকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

নিয়মটি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করার জন্য পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তারা যেকোনো স্থাপনা বা চত্বর পরিদর্শন করতে পারবেন। এই পরিদর্শন কাজে বাধা দেওয়াকেও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।

শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, এই নতুন আইনের যেকোনো ধারা ভঙ্গ করলে অপরাধীকে এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা, ছয় মাসের জেল অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এ ছাড়া এই সংক্রান্ত সব ধরনের অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই এই আমূল পরিবর্তন আনা হলো। বিশেষ করে ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর জয় এবং নতুন সরকারের এই ত্বরিত সিদ্ধান্তগুলো পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি




পদ্মা ব্যারেজ আমাদের স্বার্থ, ভারতের সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পদ্মা ব্যারেজ আমাদের স্বার্থের ব্যাপার। ভারতের সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই। গঙ্গা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন সেটা চলছে।

বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে শুরু হওয়া জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদনের পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ দেশের মোট আয়তনের এক তৃতীয়াংশ ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ উপকার পাবে। ৫ বছরের প্রতি বছরে ৭ হাজার কোটি টাকা করে সম্ভাব্য ৩৪ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়ন হবে প্রকল্পটি।

এ্যানি বলেন, খালখননের মাধ্যমে পানি আনা প্রাথমিক পরিকল্পনা। প্রকল্পের মাধ্যমে পানি মজুদে কারিগরি দিকটি গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা চুক্তি বাস্তবায়নে কারিগরি দল কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে সেটা কাটিয়ে উঠতে রাজবাড়ীতে ব্যারেজের যে অংশ হবে সেখানে পানি মজুদ করা হবে। ৫৪টি নদীর হিস্যা এখানে নয়।




ট্রেনের ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু: আজ পাওয়া যাচ্ছে ২৪ মের টিকিট

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে আগামী ২৪ মের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, বরাবরের মতোই যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে (ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে) বিক্রি করা হচ্ছে। টিকিট বিক্রির চাপ সামলাতে এবং প্রযুক্তিগত শৃঙ্খলা রক্ষায় এবারও অঞ্চলভেদে ভিন্ন সময়ে টিকিট ইস্যু করা হচ্ছে।

রেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল ১৫ মে ২৫ মের, ১৬ মে ২৬ মের এবং ১৭ মে ২৭ মে যাত্রার টিকিট পাওয়া যাবে। এছাড়া বিভিন্ন রুটে ১০টি বিশেষ ট্রেন চালানো হবে ঈদ উপলক্ষে। ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ২৮ মে ধরে এ ট্রেন চলাচলের সময়সূচি ও পরিকল্পনা সাজিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন ঈদযাত্রী অগ্রিম যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার টিকিট কিনতে পারবেন এবং প্রতি ক্ষেত্রে সর্বাধিক চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। অগ্রিম যাত্রার টিকিট রিফান্ড (ফেরত) করা যাবে না। যাত্রীদের সুবিধার জন্য যাত্রার দিন মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট (উচ্চ শ্রেণি ছাড়া) স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি হবে।

পাশাপাশি কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য থাকবে পশুবাহী দুটি বিশেষ ট্রেন (ক্যাটল স্পেশাল)। এই ক্যাটল ট্রেন দুটি ২২ ও ২৩ মে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি দেওয়ানগঞ্জ বাজার ও ইসলামপুর বাজার থেকে ছেড়ে কমলাপুর, তেজগাঁও ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে আসবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, টিকিট শুধু রেলওয়ের অনলাইন ওয়েবসাইট ও ‘রেল সেবা’ অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। যাত্রীদের অন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ফেসবুক পেজ থেকে টিকিট কেনাবেচা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।




নবম জাতীয় পে স্কেলের সম্ভাব্য বেতন গ্রেড প্রকাশ

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল ঘোষণার বিষয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশে মোট আটবার নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে।

সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে স্কেল দেওয়ার রীতি থাকলেও বিশ্বজুড়ে মহামারি পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে এই প্রক্রিয়া বেশ কয়েক বছর পিছিয়ে যায়। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই সচিবালয়সহ সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বর্তমানে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি বিভিন্ন সুপারিশ ও আর্থিক দিক বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত মতামত তৈরির কাজ করছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সংগতি রেখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি এই কমিটিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সুপারিশমালা পেশ করবে।

প্রস্তাবিত এই নবম পে স্কেলের একটি সম্ভাব্য খসড়া নিয়ে বর্তমানে সরকারি মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এটি একটি প্রাথমিক প্রস্তাব মাত্র, তবুও এতে ১ নম্বর গ্রেডের বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা (নির্ধারিত)। একইভাবে ১০ নম্বর গ্রেডের বেতন ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০ নম্বর গ্রেডের বেতন ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ৪৫ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে রাখার প্রস্তাবনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

২০২৬ সালের প্রস্তাবিত জাতীয় বেতন স্কেলের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হলো

গ্রেড    বেতন স্কেল (টাকা)

০১    ১,৬০,০০০/- টাকা (নির্ধারিত)

০২    ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০ টাকা

০৩    ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০ টাকা

০৪    ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০ টাকা

০৫    ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০ টাকা

০৬    ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০ টাকা

০৭    ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০ টাকা

০৮    ৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০ টাকা

০৯    ৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০ টাকা

১০    ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ টাকা

১১    ২৫,০০০ – ৬০,৫০০ টাকা

১২    ২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০ টাকা

১৩    ২৪,০০০ – ৫৮,০০০ টাকা

১৪    ২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০ টাকা

১৫    ২২,৮০০ – ৫৫,২০০ টাকা

১৬    ২১,৯০০ – ৫২,৯০০ টাকা

১৭    ২১,৪০০ – ৫১,৯০০ টাকা

১৮    ২১,০০০ – ৫০,৯০০ টাকা

১৯    ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০ টাকা

২০    ২০,০০০ – ৪৮,৪০০ টাকা

উল্লেখ্য, এই তালিকাটি বর্তমানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার একটি অংশ মাত্র এবং এটি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরেই এই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির সংবাদ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।




৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন দিল চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশ সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তার লক্ষ্য এবং এর ইপিআই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার সহযোগী হিসেবে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন (Sinovac Foundation) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ WHO Pre-Qualified পোলিও ভ্যাকসিন (Sabin Strain) অনুদান হিসেবে দিয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পোলিও ভ্যাকসিনের ডোজ হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে Poliomyelitis Vaccine (Vero Cell, Inactivated Sabin strains) (sIPV) ভ্যাকসিনের ৩ লাখ ৮০ হাজার (৭৬,০০০ ভায়াল) ডোজ গ্রহণ করেন।

এসময় চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বহুল প্রতীক্ষিত চীন সফর শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) স্থানীয় সময় ওয়াশিংটন থেকে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে বুধবার (১৩ মে) বেইজিং পৌঁছান তিনি। 

পূর্বনির্ধারিত এই সফরটি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে কয়েক দফা পিছিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থাতেই চীন সফরে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আগামী ১৫ মে পর্যন্ত ট্রাম্প চীনে অবস্থান করবেন এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের এই সংকটময় মুহূর্তে ট্রাম্পের বেইজিং সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পর্যবেক্ষক সংস্থা এশিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চীন বিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা কুর্ট কাম্পবেল এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অস্বাভাবিক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন , একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে, অন্যদিকে চীন ও ইরান ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মিত্র হওয়া সত্ত্বেও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো একটি বিরল ঘটনা।

কাম্পবেলের মতে, এই সফরটি প্রমাণ করে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উভয়েই বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এবং দুই দেশের ভঙ্গুর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিশেষভাবে আগ্রহী।

উল্লেখ্য, গত ৪০ দিন ধরে ইরান ও তার মিত্রদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়ে আসছে এবং বর্তমানে ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনের মিত্র দেশের ওপর আক্রমণ চালিয়েও ট্রাম্পের এই রাষ্ট্রীয় সফরটি বাতিল না হওয়া বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের পাশাপাশি বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রাধান্য পাবে। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত আলোচনা দুই পরাশক্তির মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে কোনো ভূমিকা রাখে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাখছে বিশ্ববাসী।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ট্রাম্পের এই সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

চীন শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসলেও ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসা বেইজিংয়ের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তিন দিনের এই সফর শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে বড় কোনো ঘোষণা আসে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক জল্পনা চলছে।

সূত্র: এপি নিউজ




সৌদি পৌঁছেছেন ৫৩৪১০ বাংলাদেশি হজযাত্রী

ডেস্ক নিউজঃ চলতি বছর হজ করতে বাংলাদেশ থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫৩ হাজার ৪১০ জন হজযাত্রী। সরকারি-বেসরকারি মোট ১৩৭টি ফ্লাইটে সৌদিতে পৌঁছান তারা।

বুধবার হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এয়ারলাইনস, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা এবং সৌদি আরব সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে হেল্প ডেস্ক।

হেল্প ডেস্ক জানায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৬৫টি ফ্লাইটে সৌদি পৌঁছান ২৫ হাজার ৮৯১ জন হজযাত্রী, সৌদি এয়ারলাইনসের ৫০টি ফ্লাইটে ১৮ হাজার ৬৬০ জন ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজর ৮৮৯ জন হজযাত্রী সৌদি পৌঁছান। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪ হাজার ৭১ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি পৌঁছান ৪৯ হাজার ৩৩৯ জন হজযাত্রী।

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। হজ পালন শেষে আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। আগামী ৩০ জুন শেষ ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে।