মালদ্বীপের জালে ৩৩ গোল দিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : ভালো শুরুর পরও প্রথমার্ধে বাংলাদেশের সঙ্গে অনেকটাই পিছিয়ে পরে মালদ্বীপ। দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় অতিথিরা। কিন্তু এই অর্ধে সমানতালে লড়লেও ম্যাচ জেতার জন্য সেটি যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে বাংলাদেশের ১২ গোলের লিডই ব্যবধান গড়ে দেয়।

তাতে মালদ্বীপকে হারিয়ে ‘বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশন্স ট্রফি’র ফাইনালে নাম লেখায় স্বাগতিক বাংলাদেশের মেয়েরা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে মালদ্বীপকে ৩৩-২০ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। 

প্রথমার্ধে লাল সবুজের মেয়েরা এগিয়ে ছিল ১৭-৫ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের ১৭ গোলের জবাবে মালদ্বীপ করে ১৫টি। ৮ গোল করে ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের মোসাম্মত সানজিদা আক্তার।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা শুরু করে নেপালকে ৩৩-২০ গোলে হারিয়ে। পরের ম্যাচে অবশ্য শক্তিশালী ভারতের কাছে মেয়েরা হার মানে ৪৭-১৩ ব্যবধানে। ফাইনালে উঠতে রাউন্ড রবিন লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মঙ্গলবার জিততে হত বাংলাদেশকে। এমন ম্যাচে অবশ্য মালদ্বীপকে সহজেই হারিয়েছে আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার দল।

আগামী বৃহস্পতিবার পরিবর্তিত সময় অনুযায়ী বেলা ৩টায় আইএইচএফ নেশন্স ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে ভারতের। আর ব্রোঞ্জ পদক জয়ের ম্যাচটি আগামীকাল দুপুর ২টায় যেখানে মালদ্বীপ খেলবে নেপালের সঙ্গে।




টাইগার শ্রফ মূল লক্ষ্য ছিলেন না শুটারদের, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিনোদন ডেস্ক : বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সামনে এলো নতুন সমীকরণ। হামলাকারীদের প্রাথমিক লক্ষ্য অভিনেতা ছিলেন না; বরং অন্য এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে তারা মুম্বাইয়ে এসেছিল বলে জানা গেছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিহারের ২২ বছর বয়সী হৃতিক ওরফে রোশন এবং হরিয়ানার ১৮ বছর বয়সী রেহান ও ফুল সিং রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। ফুটবল খেলা শেষে গাড়িতে করে ফেরার সময় অভিনেতার ওপর হামলা হয়।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তিন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে সূত্র জানায়, শুরুতে অন্য এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে মুম্বাইয়ে এসেছিল তারা। ওই ব্যক্তির চলাচলের বিভিন্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ করার পর তার কাছে পৌঁছানো কঠিন বলে মনে হয় তাদের। পরে ভক্তদের প্রকাশ করা বিভিন্ন ভিডিও রিল দেখে তারা জানতে পারে, টাইগার শ্রফের সঙ্গে পুলিশি নিরাপত্তা থাকে না। এরপর অভিনেতাকে লক্ষ্যবস্তু করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, টাইগার শ্রফ ও তার ভক্তদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করে অভিনেতার চলাফেরা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিল হামলাকারীরা। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছে, অভিনেতাকে হত্যা করে বলিউডে আতঙ্ক তৈরি করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।

হামলার সময় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে সাতটি গুলি ছোড়া হয়। আরও গুলি চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও একটি আগ্নেয়াস্ত্রে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় অভিনেতা ও তার গাড়িচালক আহত হন। পরে তারা গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হন।

‘বোঝানোর চেষ্টা করেও কাজ হয়নি’
হামলার কয়েক ঘণ্টা পর লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এ ঘটনার দায় স্বীকার করে। গ্যাংটির দাবি, সালমান খানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে টাইগার শ্রফকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু অভিনেতা তাদের কথা শোনেননি।

হামলার পর প্রকাশিত একটি অডিও ক্লিপে অনিল পণ্ডিত নামে এক ব্যক্তি নিজেকে গ্যাংটির সদস্য পরিচয় দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি অনিল পণ্ডিত। আমি লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাইয়ের মতো। আজ টাইগার শ্রফের সঙ্গে যা ঘটেছে, তার দায় আমরা নিচ্ছি।’

অডিওতে তিনি আরও দাবি করেন, টাইগার শ্রফকে সতর্ক করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তাদের কথা বুঝতে পারেননি। পাশাপাশি চলচ্চিত্রশিল্পের যেসব ব্যক্তি গ্যাংটির সঙ্গে সমন্বয় না করে কাজ করবেন কিংবা সালমান খানের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তাদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ওই বক্তব্যে এটিকে প্রথম ও শেষ সতর্কবার্তা বলে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব দাবি গ্যাংটির পক্ষ থেকেই করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার জন্য অভিযুক্তদের আগাম ৫০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল। কাজ শেষ করতে পারলে আরও অর্থ এবং বিদেশে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। গুলি চালানোর পর তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রকদের অভিযান সম্পন্ন হওয়ার কথা জানায় বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর সোমবার টাইগার শ্রফের বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।

শিন্ডে বলেন, মুম্বাইয়ে কারও দাদাগিরি বরদাশত করা হবে না। ঘটনাটিকে গুরুতর উল্লেখ করে তিনি জানান, হামলায় অভিনেতার গাড়িচালক আহত হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা নিন্দনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




কণ্ঠ বদলে গেছে সেলেনা গোমেজের, কারণ জানালেন শিল্পী

বিনোদন ডেস্ক : নিকোটিনযুক্ত ভেপ ব্যবহারের কারণে নিজের কণ্ঠস্বরের ধরন বদলে গেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ। রোববার (১৮ অক্টোবর) ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ৩৪ বছর বয়সী এই শিল্পী এ তথ্য জানান।

সেলেনা গোমেজ বলেন, ‘আমি আমার কণ্ঠস্বর আর বদলাতে পারব না। আমি প্রচুর নিকোটিন ভেপ করেছি।’

নিকোটিন ছেড়ে দেওয়া খুবই কঠিন উল্লেখ করে মার্কিন সংগীতশিল্পী বলেন, ‘যারা নতুন ভেপ করার কথা ভাবছেন তাদের বলব, এটা মোটেও ভালো জিনিস নয়। এটা ভীষণ বোকামির কাজ, এর কারণে আমার গলাটাই বদলে গেছে।’




পূজায় মেট্রোরেলের নতুন সময়সূচি

ডেস্ক নিউজ : আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে মেট্রোরেল চলাচলের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে কর্তৃপক্ষ। ছুটির দিনগুলোতে যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে নির্ধারিত সময়ে ১০ থেকে ২০ মিনিট বিরতিতে ট্রেন পরিচালনা করা হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহ শরিফী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডিএমটিসিএলের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, পূজার ছুটির দিনগুলোতে পিক আওয়ারের সময় প্রতি ১০ মিনিট পর পর মেট্রোরেল চলাচল করবে।

সাধারণত মেট্রোরেলের নিয়ম অনুযায়ী: সকাল ৮টা ১০ মিনিট থেকে ১০টা ৩০ মিনিট এবং বিকেল পৌনে ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সময়কে ‘পিক আওয়ার’ হিসেবে ধরা হয়। উল্লেখ্য, স্বাভাবিক কর্মদিবসে পিক আওয়ারে প্রতি ৫-৬ মিনিট পর পর ট্রেন চলাচল করে। অন্যদিকে অফ-পিক আওয়ার বা অন্যান্য সময়ে সাধারণত ৮-১০ মিনিটের ব্যবধানে ট্রেন স্টেশন ছাড়ে।

ডিএমটিসিএলের নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার: উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে সকাল সাড়ে ৬টায় প্রথম ট্রেন এবং রাত ৯টা ৫০ মিনিটে শেষ ট্রেন ছাড়ে। অন্যদিকে মতিঝিল স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়ে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত সাড় ১০টায়। শুক্রবার: সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে উত্তরা উত্তর থেকে বিকেল ৩টায় এবং মতিঝিল থেকে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে প্রথম ট্রেন ছাড়ে। এই দিনে দুই স্টেশন থেকে রাতের শেষ ট্রেন ছাড়ে যথাক্রমে ৯টা ৫০ মিনিট ও রাত ১০টা ৩০ মিনিটে।




লাখ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় দিয়ে মারাত্মক সংকটে বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর সংকট মোকাবিলা করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের কার্যালয়ে মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি ইসাবেল বিশপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে মিয়ানমারের চলমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকটের বিভিন্ন দিক এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই মানবিক সংকটের চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশটিকে। এর একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।

জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ মিয়ানমারের সংঘাতময় পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সংঘাত বন্ধ করা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

বৈঠকে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থলমাইনের বিস্তার, মানবপাচার ও মাদকপাচার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এসব সমস্যার আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা করেন বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক সংলাপ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক, সিনিয়র পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার ডানকান কিথ উইলসন এবং ইউএনএইচসিআরের উপপ্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকিয়সোনি উপস্থিত ছিলেন।




ইয়েমেনে সরকারি প্রশিক্ষণ শিবিরে হুতিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৫৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শবওয়া প্রদেশে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের এক রক্তক্ষয়ী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫৩ জন নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির গৃহযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করার প্রেক্ষাপটে সোমবার এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স কর্তৃক সত্যতা যাচাইকৃত ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, প্রশিক্ষণ শিবিরের মাঠে চারদিকে রক্তাক্ত মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং আহত ব্যক্তিরা বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন।

স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যখন কুচকাওয়াজ ও প্রশিক্ষণ অনুশীলনে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই হুতি বিদ্রোহীরা পরপর তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

ইয়েমেনের সামরিক কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত শবওয়া প্রদেশটি অ্যাডেন উপসাগরের উপকূলে অবস্থিত। একই সঙ্গে এটি দেশটির জ্বালানি সম্পদের অন্যতম বড় কেন্দ্র এবং ইয়েমেনের বৃহত্তম শিল্প বিনিয়োগ ‘বালহাফ এলএনজি’ (লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস) প্রকল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

হামলার পরপরই হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় এই হামলার দায় স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, প্রশিক্ষণ শিবিরটি সৌদি সামরিক বাহিনী পরিচালনা করছিল। তবে হুতিদের এই দাবির ব্যাপারে সৌদি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সমর্থিত ইয়েমেন সরকার এবং হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গত সেপ্টেম্বরে লোহিত সাগরের কৌশলগত সামুদ্রিক প্রবেশপথ ‘বাব আল-মানদেব’ প্রণালির কাছাকাছি অঞ্চল অভিমুখে হুতিদের অগ্রযাত্রার পর থেকে দুপক্ষের পাল্টা হামলা তীব্র রূপ নেয়। এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসেই ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী হুতিদের দখলকৃত অঞ্চল পুনরুদ্ধারে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। অন্যদিকে, দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকার অন্যতম প্রধান শহর তাইজ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রেখেছে হুতি বাহিনী।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা ইয়েমেন সংঘাতকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার বৃহত্তর আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের আরেকটি নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। বর্তমানে হুতি বিদ্রোহীরা তাদের হামলার পরিধি বাড়িয়ে বিশ্বখ্যাত অপরিশোধিত তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানছে, যার মধ্যে রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’ অন্যতম।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে নিলে দেশটির তৎকালীন বৈধ সরকার দক্ষিণে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় এবং পরবর্তীতে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। এর ফলে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী এক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে কিছুটা শান্ত পরিবেশ সৃষ্টি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা ভেঙে পড়ে আবারও গৃহযুদ্ধ চরম রূপ নিয়েছে। এতে করে ইয়েমেনে তৈরি হওয়া বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট আরও দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা।




গোপালগঞ্জে ফুটবল খেলা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৩০

ডেস্ক নিউজ : গোপালগঞ্জে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৫ পুলিশসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে শহরতলির ঘোষেরচর এলাকার মাঠে ফকিরকান্দি ও ঘোষেরচর গ্রামের মধ্যকার ফুটবল খেলা চলাকালীন সময়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ফকিরকান্দির লোকজন ঘোষেরচরের হান্নান মোল্লাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পরে সন্ধ্যার পর টর্চের আলো জ্বালিয়ে ও মাইকে ঘোষণা দিয়ে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশের প্রায় শতাধিক সদস্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। এ সময় ৫ পুলিশ সদস্যসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম নির্মাণ করছে ভিয়েতনাম

ক্রীড়া ডেস্ক : দর্শক ধারণক্ষমতায় ভারতের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ভিয়েতনাম। দেশটির রাজধানী হ্যানয়ে নির্মাণাধীন ভিনফাস্ট ত্রং ডং স্টেডিয়ামে একসঙ্গে বসে খেলা দেখতে পারবেন ১ লাখ ৩৫ হাজার দর্শক।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন হলে ২০২৮ সালেই এটি চালু হতে পারে। তবে প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ভিয়েতনামের বৃহৎ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নগরী প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে এই স্টেডিয়াম। ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এটি নির্মাণে বিনিয়োগ করা হয়েছে ২০০ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা।

স্টেডিয়ামটির নকশায় তুলে ধরা হয়েছে ভিয়েতনামের প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। দেশটির ঐতিহ্যবাহী ডং সন ব্রোঞ্জের ঢোলের আদলে তৈরি করা হচ্ছে এর স্থাপত্য। আধুনিক নির্মাণশৈলীর সঙ্গে স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটানোই এ নকশার মূল উদ্দেশ্য।

খেলাধুলার পাশাপাশি বড় আকারের কনসার্ট ও অন্যান্য আয়োজনের উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে স্টেডিয়ামটি। এতে থাকবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খোলা ও বন্ধ করা যায় এমন ছাদ। ফলে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে আবহাওয়াজনিত বাধা মোকাবিলা করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়াম ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম। এতে একসঙ্গে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার দর্শক বসতে পারেন। হ্যানয়ের নির্মাণাধীন ভিনফাস্ট ত্রং ডং স্টেডিয়ামের পরিকল্পিত ধারণক্ষমতা এর চেয়ে ৩ হাজার বেশি। নির্মাণকাজ শেষ হলে দর্শক ধারণক্ষমতার দিক থেকে ভারতের এই স্টেডিয়ামকে ছাড়িয়ে যাবে ভিয়েতনামের নতুন ক্রীড়া স্থাপনাটি।




আইসিসির শাস্তি পেল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারের ক্ষত না শুকাতেই আইসিসির শাস্তি পেল বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওভার শেষ করতে না পারায় (স্লো ওভার রেট) বাংলাদেশ দলকে জরিমানা গুণতে হচ্ছে।

আইসিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে ওভার শেষ করার ক্ষেত্রে আইসিসির দেওয়া সকল নিয়ম ও সময়ছাড় বিবেচনা করার পরও বাংলাদেশ বোলিংয়ে ১ ওভার পিছিয়ে ছিল।

সংস্থাটির আচরণবিধির ২.২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ওভার সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে প্রতি ওভারের জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ হারে জরিমানা করা হয়। সেই হিসেবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা বাংলাদেশের প্রথম একাদশের সকল ক্রিকেটারের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে।

ম্যাচ রেফারি ডেভিড গিলবার্টের দেওয়া এই স্লো ওভার রেটের অভিযোগ ও শাস্তি সরাসরি মেনে নেওয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তিতে কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।




জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন মানবতার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত : জুবাইদা রহমান

ডেস্ক নিউজ : জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গঠিত জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মানবতার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশীর্বাদ এবং তারেক রহমানের উদ্যোগ ও অনুপ্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠন মানবসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, গত ২৭ বছরে মানবসেবার ছোট্ট চারাগাছ থেকে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন আজ মহীরুহ হয়ে ওঠার পথে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভলগ্নে ফাউন্ডেশনের সব সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানাই।

রবিবার রাতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘মানুষের জন্য মানুষ-একটু চেষ্টা, একটু উদ্যোগ’-এই সংকল্প নিয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সর্বত্র প্রতিটি মানুষের পাশে, মানুষের কাছে ফাউন্ডেশন সব সময় ছিল, আছে এবং থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি, বিভিন্ন মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতে সারা বিশ্বে মানবতার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. ফরহাদ হালিম ডোনার।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা অংশ নেন। এ ছাড়া জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।