কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণ ৯ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু সাড়ে ৪ হাজারের বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা মহামারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছড়িয়ে পড়ার উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির অষ্টম প্রদেশ নর্থ উবাঙ্গিতে নতুন করে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। সেখানে আক্রান্ত দুজনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার কঙ্গোর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ নর্থ উবাঙ্গিতে ইবোলা সংক্রমণের দুটি ঘটনা নিশ্চিত করে। এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় দুই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নতুন প্রদেশে সংক্রমণের তথ্য জানিয়েছিলেন। তবে তখনো সরকারিভাবে তা ঘোষণা করা হয়নি।

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সীমান্তবর্তী নর্থ উবাঙ্গিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় রোগটির বিস্তার ঠেকানো আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নতুন প্রদেশটিতে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার আগে কঙ্গোর নর্থ কিভু, ইতুরি, হাউত-উয়েলে, তশোপো, সাউথ কিভু, বাস-উয়েলে ও সাউথ উবাঙ্গি প্রদেশে রোগটির উপস্থিতি পাওয়া যায়।

৯ হাজারের বেশি সংক্রমণ, মৃত্যু সাড়ে চার হাজার

কঙ্গোর সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৯ হাজার ৪১৫ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ সময় পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৫৩৬ জনের। চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাব ইতিমধ্যে কঙ্গোর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইবোলা মহামারিতে পরিণত হয়েছে। সংক্রমণের ব্যাপকতা ও প্রাণহানির কারণে এটি বিশ্বে নথিভুক্ত ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলোর মধ্যেও অন্যতম বড়। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশ এখনো সংক্রমণের প্রধান কেন্দ্র। ১৬ অক্টোবর শেষ হওয়া ২৪ ঘণ্টায় কঙ্গোতে শনাক্ত হওয়া নতুন ৬৭টি সংক্রমণের মধ্যে ৪৪টিই ছিল ইতুরিতে। একই সময়ে দেশটিতে নতুন করে ২৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

সীমান্ত পেরিয়ে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ

কঙ্গোর বাইরেও ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। উগান্ডায় নতুন করে রোগটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কেনিয়াতেও সংক্রমণ ছড়িয়েছে। ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত কেনিয়ায় মোট সাতটি সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার খবর জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। আক্রান্তদের মধ্যে প্রথম রোগীর চিকিৎসায় যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন। কঙ্গো থেকে উগান্ডা হয়ে কেনিয়ায় যাওয়া এক ব্যক্তির শরীরে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। পরে ওই রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যেও সংক্রমণ ধরা পড়ে। ফলে সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে নজরদারি, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি এখনো গুরুতর। দেশটির সঙ্গে স্থলসীমান্ত রয়েছে এমন দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি বেশি। তবে বৈশ্বিক পর্যায়ে ঝুঁকি তুলনামূলক কম বলে সংস্থাটির মূল্যায়ন।

বুন্দিবুগিও ধরনের ইবোলা নিয়ে উদ্বেগ

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের ধরনটি হলো বুন্দিবুগিও। এ ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে দ্রুত রোগ শনাক্ত, রোগীকে আলাদা রাখা, সংক্রমণ প্রতিরোধের নিয়ম মেনে চলা এবং উপসর্গ অনুযায়ী সহায়ক চিকিৎসা মৃত্যুঝুঁকি কমাতে পারে।

ইবোলা সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সরাসরি সংস্পর্শে কিংবা এসব তরলে দূষিত বস্তু ব্যবহারের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।

কঙ্গোর চলমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় নতুন প্রদেশে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর নজরদারি ও চিকিৎসাব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো না গেলে সীমান্ত পেরিয়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।




কক্সবাজারে ৯০ শতাংশ আবাসনে নেই লাইসেন্স, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ : বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে পর্যটনশিল্প। প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের সেবায় সৈকতসংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে কয়েকশ বহুতল ভবন। শুধু কলাতলী থেকে লাবণী পর্যন্ত দুই-এক বর্গকিলোমিটার এলাকাতেই যেনতেনভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় চার শতাধিক বহুতল ভবন। আর ৩২ দশমিক ৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই শহরে ভবনের সংখ্যা আরও সাড়ে তিন হাজারের বেশি। নিয়ম অনুযায়ী, ভবন নির্মাণের আগেই নিরাপদ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া এবং নকশা অনুমোদন করানো প্রয়োজন।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পর্যটন জোন, মেরিন ড্রাইভের আশপাশ এবং শহরে গড়ে ওঠা প্রায় ৯০ শতাংশ ভবনেই পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও।

এ অবস্থায় হোটেল-মোটেলসহ চার হাজারেরও বেশি বহুতল ভবন এখন অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকেরাও নিরাপত্তাঝুঁকিতে রয়েছেন।

কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর ফায়ার সার্ভিস, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গ্রহণে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ চলছে।

এদিকে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানীর পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। শহর থেকে মেরিন ড্রাইভের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে ইনানীর পাটুয়ারটেকে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে গড়ে ওঠা টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টসহ শতাধিক রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। পরিবেশবান্ধব উপকরণে নির্মিত এসব স্থাপনার অনেকগুলোরই নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। নেই ফায়ার লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। এমনকি রিসোর্ট নির্মাণে নেওয়া হয়নি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও। ব্যবসা পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের ব্যবসা ও বাণিজ্য শাখা থেকেও নেওয়া হয়নি অনুমোদন। শুধু পাটুয়ারটেকের রিসোর্ট ও কটেজ নয়, প্রশাসনিক তদারকির অভাবে এভাবেই অনুমোদন ছাড়াই চলছে কক্সবাজার জেলার প্রায় ৫০০ হোটেল, মোটেল, কটেজ, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ।

জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলা শহর, রামুর পেচারদ্বীপ ও উখিয়ার ইনানীসহ আশপাশের এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে সহস্রাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুধু ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘আমাদের সমিতির তালিকাভুক্ত প্রায় সব হোটেলেরই প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে। তবে কক্সবাজারের বেশির ভাগ রিসোর্ট ও কটেজের অনুমোদন নেই। তারা কোনো নিয়মনীতি তোয়াক্কা করে না। যেসব হোটেল-গেস্ট হাউসের অনুমোদন নেই, তাদের আমরা সমিতির অন্তর্ভুক্ত করিনি। প্রশাসনের উচিত এসব প্রতিষ্ঠানকে একটি নিয়মের মধ্যে এনে পর্যটনশিল্পকে এগিয়ে নেওয়া।’

কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোন ছাড়াও শহরের টেকপাড়া, নুরপাড়া, পেশকারপাড়া, ঝাউতলা, নতুন বাহারছড়া, বাহারছড়া, রুমালিয়ারছড়া, পাহাড়তলী, বইল্ল্যাপাড়া, ঘোনারপাড়া ও লাইট হাউস পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবনগুলো এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে রাস্তা বলতে রয়েছে মাত্র কয়েক ফুট প্রশস্ত পথ। এসব পথ এতটাই সরু যে রিকশা চলাচল করাও কঠিন। আশপাশে নেই কোনো জলাশয়ও। এ অবস্থায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে সহজেই আশপাশের ভবনগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লাইসেন্স শাখার ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছরে আমাদের কাছ থেকে মাত্র ৫০টি হোটেল লাইসেন্স নবায়ন করেছে। তবে আবেদন জমা পড়েছে সর্বোচ্চ ১০০টি। এর আগে প্রায় ২০০টি হোটেলের লাইসেন্স ছিল। এ কারণে আমরা অধিকাংশ হোটেলকে নোটিশ দিয়েছি।’

তিনি বলেন, জনবলসংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। এরপরও লাইসেন্স নেওয়ার জন্য মালিকদের নোটিশ পাঠানো হয়। তবে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার সময় যদি ফায়ার লাইসেন্স আছে কি না, তা যাচাই করা হয়, তাহলে বেশির ভাগ স্থাপনার মালিকই লাইসেন্স সংগ্রহ করবেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রায়ই বিভিন্ন বৈঠকে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করি। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সচেতন না হলে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব।’

তার মতে, ইনানীর দুর্ঘটনার শিকার রিসোর্টটিকে দুইবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সতর্ক হয়নি, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও নেয়নি। ব্যবসায়ীদের সচেতন না হলে শুধু আইন প্রয়োগ করে দুর্ঘটনা রোধ করা অসম্ভব।

শুধু ফায়ার লাইসেন্স নয়, কক্সবাজারের অধিকাংশ হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁয় পয়োবর্জ্য শোধনাগার বা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেয়নি।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ মোর্শেদ বলেন, ‘জেলায় সর্বোচ্চ ৫০টি হোটেলের পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে। ছাড়পত্র না থাকার কারণে গত বছর ৫৮টি হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, রিসোর্ট ও কটেজকে প্রায় দেড় কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সময়ে ইসিএ এলাকায় অবস্থিত শতাধিক হোটেলের বিরুদ্ধে ২৮টি মামলাও করা হয়।’

তিনি বলেন, সাধারণত ২০ কক্ষের কমসংখ্যক কক্ষবিশিষ্ট আবাসিক হোটেলের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র লাগে না। এ ছাড়া ৩০ লাখ টাকার কম ব্যয়ে চালু করা রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রেও অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। কিছু ব্যবসায়ী এই সুযোগটিই কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছেন।

তথ্য বলছে, কক্সবাজারকে ঘিরে মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণার আগে পৌর শহরে যেকোনো ভবন নির্মাণে পৌরসভার অনুমোদন নিতে হতো। সে সময় পরিবেশ অধিদপ্তর, গণপূর্ত, জনস্বাস্থ্য ও ফায়ার সার্ভিসসহ সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর অনুমোদন নেওয়া হতো না। অনুমোদন দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে বিল্ডিং কোড না মেনেই নিজেদের ইচ্ছেমতো ভবন নির্মাণ করেছেন ভূস্বামীরা। অনেকে তিন বা পাঁচতলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে নির্মাণ করেছেন পাঁচ বা সাততলা ভবন। এভাবেই অপরিকল্পিত নগরীতে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার শহর।

নগর পরিকল্পনাবিদেরা জানান, ২০০৮ সালে মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০১১ সালে। ২০১৩ সালে গেজেট প্রকাশের আগপর্যন্ত ভবন নির্মাণে পৌরসভা থেকে অনুমোদন নেওয়া হতো। সে সময় মালিকেরা অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ করেছেন। কেউই আইনের তোয়াক্কা করেননি। মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের আগপর্যন্ত জেলায় ৫৮ হাজার ১৩টি স্থাপনার তথ্য ছিল। অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের মাশুল ভবনমালিকদের দিতে হতে পারে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের দুই শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকায় তাদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকিদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোটেল জোনের একটি তারকা হোটেলের পরিচালক বলেন, ‘পাটুয়ারটেকের ঘটনাটি কক্সবাজারের জন্য অনভিপ্রেত এবং অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সমস্যা হলো, এমন কোনো অঘটন ঘটলেই প্রশাসনের বিভিন্ন মহল নড়েচড়ে বসে। যাদের লাইসেন্স আছে বা যারা নিয়মকানুন কিছুটা হলেও মানে, তাদেরই চাপে রাখা হয়। কিন্তু যাদের কারণে পর্যটন খাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তাদের নিয়মের মধ্যে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয় না। বরং ভয় দেখিয়ে সুবিধা আদায় করেই অনেকে খুশি হন। আইনকানুন ও নিয়মনীতি যেন শুধু তারকা মানের হোটেলগুলোর ওপরই চাপিয়ে দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এত নিয়মকানুন মেনে চলতে গিয়ে খরচও বেড়ে যায়। কিন্তু এমন অনেক তথাকথিত রিসোর্ট আছে, যারা এসবের ধার ধারে না। প্রশাসনও কখনো তাদের তদারকি করে না। যত তদারকি, সব যেন তারকা মানের হোটেলগুলোর জন্যই!’

তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের স্বার্থে নিয়মকানুন মেনে চলব। তবে পর্যটনের স্বার্থে সবাইকে নিয়মের মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

কক্সবাজার উন্নয়ন আন্দোলনের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ রুবেল বলেন, ‘দুর্ঘটনা ঘটলেই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে, তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু এর আগে তারা কোথায় থাকে? জেলায় কতগুলো আবাসিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার হিসাবও প্রশাসনের কাছে নেই! অথচ পর্যটন সেল, বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটিসহ কত ধরনের কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির কাজ কী?’

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘সরকারের উচিত প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত করা। কীভাবে অনুমোদন ও ফায়ার লাইসেন্স ছাড়া এতগুলো প্রতিষ্ঠান দিনের পর দিন ব্যবসা করছে, তা তদন্ত করে দেখা উচিত।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমি বা ভবনমালিকেরা নিজেদের স্বার্থে পর্যাপ্ত জায়গা ও রাস্তা না রেখেই ইচ্ছেমতো ভবন নির্মাণ করেছেন। এখানে নিজেদের স্বার্থই প্রাধান্য পেয়েছে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গুরুত্ব পায়নি। রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় দুর্ঘটনার সময় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া আশপাশে নেই কোনো পুকুর, ডোবা কিংবা নালা, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কক্সবাজারে কয়েকটি হোটেল ছাড়া প্রায় ৯০ শতাংশ ভবনেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। যেসব ভবনে ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোরও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। ফলে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজারের উপপরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ বলেন, ‘কক্সবাজারে ব্যাঙের ছাতার মতো হোটেল-রিসোর্ট গড়ে উঠছে। কতটি হোটেল বা আবাসন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান কোথাও নেই। তবু আমরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সবাইকে নিরাপত্তার আওতায় আনার চেষ্টা করছি।’

কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে কোনো জরিপ হয়নি। মাস্টারপ্ল্যান হওয়ার পর বিষয়টি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) তদারকিতে রয়েছে। তবে জনস্বার্থে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে পৌরসভা।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরোধক দরজা নেই, স্মোক ডিটেক্টর অকেজো, ফায়ার এক্সটিংগুইশার অপর্যাপ্ত, হোটেলের আয়তন অনুযায়ী পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই কিংবা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চূড়ান্ত সনদ নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন জানান, মেরিন ড্রাইভ এলাকায় কয়েকশ প্রতিষ্ঠান থাকায় সেগুলোর অনুমোদন যাচাইয়ে সময় লাগছে। ইতিমধ্যে যাচাই করা আড়াই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে বৈধতা নিশ্চিত করতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান অধিকাংশ হোটেল-গেস্ট হাউস, রিসোর্ট ও কটেজের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, পর্যটন করপোরেশন, কউক ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। এরপর সেখান থেকে যে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা আসবে, তা বাস্তবায়ন করা হবে।’




বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে আশাবাদী ফিফা সভাপতি, জানালেন পরিকল্পনা

ক্রীড়া ডেস্ক : ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, বাংলাদেশ ফুটবলপ্রেমীদের দেশ, এখানকার মানুষের প্রাপ্য ফুটবলকে আরও এগিয়ে নেওয়া। বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে ছেলেদের ও মেয়েদের ফুটবল, অবকাঠামো, প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং স্কুলভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে ফিফার।

রবিবার ঢাকায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি ও অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে নিজের এ আশাবাদের কথা জানান তিনি। ইনফান্তিনো বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ফুটবলকে ভালোবাসে। বিমানবন্দরে নামার পর থেকে মানুষের সঙ্গে কথা বলেই সেই আবেগ অনুভব করা যায়।

তিনি বলেন, আজ ঢাকায়, বাংলাদেশে আসতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। সুন্দর এই দেশটি আমার কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ফুটবলের প্রতি দারুণ আবেগী একটি দেশ। এখানকার সবাই ফুটবল ভালোবাসে, খেলাটিকে ভালোবাসে। এখানে আসার পর প্রথম মুহূর্ত থেকেই তা অনুভব করা যায়।

বাফুফে সভাপতি ও তার বোর্ডের প্রশংসা করে ফিফা সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের ফুটবলকে পরের ধাপে নিতে বাফুফে সভাপতি ও তার দল দারুণ কাজ করছেন। বাংলাদেশের মানুষের এটাই প্রাপ্য। ছেলেদের ফুটবল, মেয়েদের ফুটবল, নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়, স্কুলে বিনিয়োগ, অবকাঠামো, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও পরিকল্পনা—এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এসব ভালো প্রকল্প বাস্তবায়ন করব।

বাংলাদেশের ফুটবলের আন্তর্জাতিক প্রভাবের উদাহরণ দিতে গিয়ে গত জুনে সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রীতি ম্যাচের কথাও উল্লেখ করেন ইনফান্তিনো। তার ভাষ্য, ওই ম্যাচ দেখতে ইউরোপের বিভিন্ন জায়গা থেকে বাংলাদেশি সমর্থকেরা সান মারিনোতে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ২-১ গোলে জেতার পর সেখানে বড় উদ্‌যাপন হয়েছিল।

ফিফা সভাপতি বলেন, এটি দেখায়, ফুটবল কীভাবে বিশ্বকে এক করে এবং সর্বত্র বড় প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশে যারা ফুটবলের জন্য অসাধারণ কাজ করছেন, তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সামনে আরও অনেক কিছু আসছে।




নতুন অধিনায়ক নাহিদাকে অভিনন্দন জানালেন জ্যোতি

ক্রীড়া ডেস্ক : বাংলাদেশ নারী টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব ছেড়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। তার জায়গায় নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন নাহিদা আক্তার। নতুন দায়িত্বের জন্য নাহিদাকে অভিনন্দন জানিয়ে তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জ্যোতি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে নতুন অধিনায়ককে অভিনন্দন জানিয়ে জ্যোতি লেখেন, ‘টি-টোয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়ক নাহিদাকে আন্তরিক অভিনন্দন।’

তিনি আরও লেখেন ‘নতুন এই দায়িত্বে তার জন্য রইলো অনেক শুভকামনা। আমি বিশ্বাস করি, সে নিজের সামর্থ্য ও নেতৃত্ব দিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দলে আমাদের ভূমিকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু আমাদের লাল-সবুজ পতাকার প্রতি আবেগ একই আছে, আমাদের লক্ষ্যও একই—বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’

নাহিদার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জ্যোতি লেখেন, ‘একজন সতীর্থ হিসেবে নাহিদার পাশে আছি, থাকবো। দলের সাফল্যের জন্য আমার পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব, তা করতে আমি সবসময় প্রস্তুত। আমরা একসঙ্গে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছি। সামনে বাংলাদেশের জার্সিতে একসঙ্গে আরও অনেক সাফল্যের গল্প লিখতে চাই।’




বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি, আহত ২

বিনোদন ডেস্ক : ভারতের মুম্বাইয়ের অভিজাত এলাকা জুহুতে বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলিচালনার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জুহুর পুষ্পা পার্ক এলাকায় একটি ফুটবল ভেন্যু থেকে বের হওয়ার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলে থাকা তিন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারী এই গুলিবর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় অভিনেতা টাইগার শ্রফ অক্ষত থাকলেও তার গাড়ির চালক ও এক অটোরিকশাচালক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জুহুতে ফুটবল খেলা শেষে ভেন্যু থেকে বের হওয়ার সময় টাইগার শ্রফকে একনজর দেখতে সেখানে ভক্তদের ব্যাপক ভিড় জমেছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বাইকে আসা তিন ব্যক্তি অতর্কিত গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই নড়েচড়ে বসে মুম্বই পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চ। পুরো এলাকা ঘিরে রেখে জোরেশোরে তদন্ত শুরু করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে—এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ জানাতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে এই গুলিচালনার ঘটনার পেছনে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হাত থাকতে পারে বলে জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে। গ্যাংটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত অনিল পণ্ডিতের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে হামলার দায় স্বীকার করে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে টাইগার শ্রফকে তাদের ‘হিট লিস্টে’ রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের সঙ্গে টাইগারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও কাজের প্রসঙ্গও সেখানে টানা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এসব পোস্ট বা ভিডিওর সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলার সঙ্গে সত্যিই কোনো অপরাধচক্র জড়িত কি না, তা নিয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা পুলিশি নিশ্চিতকরণের আগে এসব দাবিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার কোনো অবকাশ নেই। উল্লেখ্য, এর আগে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিনেতা সালমান খানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। তবে টাইগার শ্রফের ওপর এই হামলার সঙ্গে সেই পুরোনো হুমকির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বলিউডের জনপ্রিয় একজন অভিনেতাকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে এমন হামলার ঘটনায় মহারাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা সচিন সাওয়ান্ত এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্যের বর্তমান নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী আশিস শেলার পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং অপরাধীদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে মুম্বই পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর থেকেই বলিপাড়ায় ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। টাইগার শ্রফ ব্যক্তিগতভাবে সুরক্ষিত থাকলেও তার গাড়ির চালক ও এক সাধারণ অটোরিকশাচালকের আহত হওয়ার বিষয়টি সবাইকে নাড়া দিয়েছে। হামলার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করতে পুলিশি অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




সবার জন্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে যুবসমাজকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের স্বার্থকে সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে। দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিলেই প্রতিটি নাগরিকের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। আর তখনই সবার জন্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ ও অনুদান প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে যুবকদেরই এগিয়ে আসতে হবে।’

যুবসমাজের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য তরুণ রয়েছেন, যারা কেউ শিক্ষার্থী, কেউবা বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত। নিজেদের পড়াশোনা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তারা মানুষের কল্যাণে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসছেন। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তাদের এই উদ্যোগ ও অবদান দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যারা আজ এই অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন, তাদের মনে রাখতে হবে, একটি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুবসমাজের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অলিম্পিকের মতো প্রতিযোগিতায় যারা সাফল্য অর্জন করেন, তাদের অধিকাংশই তরুণ। একইভাবে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও হয়তোবা প্রবীণরা তাদের মেধা, বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু সরাসরি মাঠে থেকে তরুণসমাজই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

তিনি বলেন, দেশের যেকোনো বড় পরিবর্তন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে তরুণদের শক্তি, সাহস, মেধা ও উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই শক্তিকে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেগুলো এখন শুধু আমাদের নয়, দেশের মানুষেরও। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রতিভাবান যুবকদের সহায়তায় সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার স্টার্টআপ ফান্ড বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দেশের মেধাবী ও প্রতিভাবান তরুণদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এ জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের পরিমাণ প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।

তারেক রহমান বলেন, তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মস্পৃহাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে। তরুণদের শুধু নিজেদের উন্নতির কথা ভাবলে চলবে না, দেশের প্রতিটি মানুষের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন যুব স্বেচ্ছাসেবক ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধির হাতে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকার চেক, সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া যুব সংগঠনগুলোর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে দেশের ৪৩২টি যুব সংগঠনকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। প্রতিটি সংগঠনকে দুই লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে তিনজন তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারা নিজেদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ ছাড়া তরুণ ও যুবকদের জন্য সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উপস্থিত ছিলেন। দেশের ৬৪টি জেলা থেকে যুব স্বেচ্ছাসেবকরা অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।




শ্রীলঙ্কায় পুরো বিদ্যুৎব্যবস্থা বিপর্যস্ত, বন্ধ সরবরাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে ত্রুটির কারণে শ্রীলঙ্কাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার দেশটির বিভিন্ন এলাকায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ ছিল না। কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী অনুরা করুণাতিলাকা জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের কাজে সহায়তা করতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা গ্রাহকদের সেগুলো বিচ্ছিন্ন রাখার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী অনুরা করুণাথিলাকে জানিয়েছেন, আপার কোটমালে বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনায় সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বেশি হয়ে যাওয়ায় এ বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেও পুরো জাতীয় গ্রিড বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। উজ্জ্বল রৌদ্রোজ্জ্বল এক রোববারে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন চাহিদা ছাড়িয়ে যাওয়ায় ওই বিপর্যয় ঘটে। তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করতে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছিল।

শ্রীলঙ্কায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৩ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। অথচ দিনের বেলায় দেশটিতে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট।

কর-সুবিধার কারণে অনেক গ্রাহক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত হয়েছেন। তারা নিজেদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করছেন। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে, যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা।

সরকার আগামী তিন বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৪ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় এই বৃদ্ধি হবে ৩৮৮ শতাংশ।




হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইনের আঘাতে দুই ট্যাংকারে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় ইরানের পেতে রাখা নৌমাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী সুপার ট্যাংকারে আগুন ধরে গেছে বলে দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় ইরানের সামরিক বাহিনীর এই অভিজাত ইউনিট।

আইআরজিসির দাবি, ট্যাংকার দুটি ইরানের অনুমোদনহীন সামুদ্রিক এলাকা দিয়ে চলাচল করছিল। এ সময় সেগুলো নৌমাইনের সংস্পর্শে আসে। তবে পশ্চিমা ও আরব দেশগুলোর অভিযোগ, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে ইরানি বাহিনী সরাসরি বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালাচ্ছে।

বিপ্লবী গার্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, দ্বিতীয় ট্যাংকারটিতে ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। জাহাজটি নেভিগেশন ব্যবস্থা ও রাডার বন্ধ রেখে অনুমোদনহীন পথে চলার চেষ্টা করছিল। এ সময় মাইনের আঘাতে এর ইঞ্জিনকক্ষে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ট্যাংকারটি তখন দাউ দাউ করে জ্বলছিল বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।

এর আগে শুক্রবার দুটি ট্যাংকারে হামলার খবর জানিয়েছিল ইরানের বিপ্লবী গার্ড। শনিবার সকালে একটি সুপার ট্যাংকারে আগুন লাগার কথা জানানো হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর দ্বিতীয় ট্যাংকারটিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য দেয় বাহিনীটি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। পরে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল কার্যত আরও জটিল হয়ে পড়ে।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলো থেকে তেল নিয়ে কয়েকটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে গত কয়েক দিন ধরে সেখানে জাহাজ চলাচলে আবারও বাধা সৃষ্টি করছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড।




খুলনা ডিসি অফিসে আগুন, তিনটি ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

ডেস্ক নিউজ : খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় জেলা আইসিটি কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে এসি, ফ্যান, ব্যাটারি, আসবাবসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে গেছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এসে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তদন্ত ছাড়া আগুনের সূত্রপাতের কারণ বলা সম্ভব নয়।




উখিয়ায় রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ম্যানেজার গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ : কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় রিসোর্টটির ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে রিসোর্টের মালিক নিয়াজ মোরশেদ ও তানভীরের অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে উখিয়া থানায় নেওয়া হয়। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ চালায়।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ছয়জন চিকিৎসাধীন। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহত ১০ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। তারা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ।

এ ছাড়া নিহত নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯) ঢাকার আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। অন্য দুই নিহত পর্যটকের নাম জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টটির নিরাপত্তাব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।