বাংলাদেশকে ২৭২ রানের লক্ষ্য দিয়েছে জিম্বাবুয়ে

ক্রীড়া ডেস্ক : শুরুতে বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদের বোলিং তোপে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল জিম্বাবুয়ে। প্রথম সাত ওভারের মধ্যেই ২৪ রানে ৩ উইকেট হারায় দলটি। তবে ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের দেড়শ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকেরা। মাঝের ওভারগুলোতে বাংলাদেশ আবারও ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও শেষ দিকে নিউম্যান নিয়ামহুরি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজার ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেটে ২৭১ রান তুলেছে জিম্বাবুয়ে। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিততে বাংলাদেশকে করতে হবে ২৭২ রান।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়েকে শুরুতেই চাপে ফেলেন তাসকিন। তার গতিময় বোলিংয়ে প্রথম সাত ওভারের মধ্যে ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে দলটি।

সেই পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলেন টেলর ও আরভিন। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ১৫০ রানের দুর্দান্ত জুটি। তাঁদের ব্যাটিংয়ে ১৭৪ রানে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে। ৩৭তম ওভারে সাইফ হাসান এই জুটি ভাঙেন। তাঁর বলে পয়েন্টে মোসাদ্দেক হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন টেলর। ১০টি চারের সাহায্যে ১০১ বলে ৮১ রান করেন তিনি।

সেঞ্চুরি থেকে ১৯ রান দূরে থামলেও ব্যক্তিগত এই ইনিংসেই ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হয়ে যান টেলর। ছাড়িয়ে যান দেশটির সাবেক ব্যাটার অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে।

টেলর ফেরার পর দ্রুতই আরেকটি উইকেট তুলে নেন সাইফ। মাত্র ৪ রান করা জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর রিশাদ হোসেনের বলে ১৭ রান করা ওয়েসলি মাধেভেরেও আউট হলে ২২০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে স্বাগতিকেরা।

বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরানোর দায়িত্ব এবার কাঁধে তুলে নেন শরিফুল ইসলাম। তার বলে ৫ রান করে ফেরেন ব্র্যাড ইভান্স। এর আগে শরিফুলের শিকার হন দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করা আরভিন। ৯টি চারের সাহায্যে ১০৬ বলে ৯৩ রান করে আউট হন এই ব্যাটার।

৪৬তম ওভারে ২৩৪ রানে ৮ উইকেট হারালে জিম্বাবুয়ের বড় সংগ্রহ গড়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে আসে। কিন্তু শেষ চার ওভারে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালান নিয়ামহুরি ও মাসাকাদজা। দ্রুত রান তুলে দুজনই ২১ রানে অপরাজিত থাকেন। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে শেষ চার ওভারে আসে ৩৭ রান, যার মধ্যে শেষ তিন ওভার থেকেই যোগ হয় ২৬ রান।

এতে শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২৭১ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ৪৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন। শরিফুল ইসলাম ও সাইফ হাসান পেয়েছেন ২টি করে উইকেট। এখন প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিতে বাংলাদেশকে করতে হবে ২৭২ রান।




ত্রিদেশীয় সিরিজে লিটনের বদলি পারভেজ ইমন

ক্রীড়া ডেস্ক : ডান হিপ জয়েন্টের চোটের কারণে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস। তাঁর বদলি হিসেবে দলে ডাক পেয়েছেন বাঁহাতি ব্যাটার পারভেজ হোসেন ইমন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে লিটনের ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ডান হিপ জয়েন্টে অস্বস্তি অনুভব করায় তাঁর এমআরআই পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষার রিপোর্টে চোট ধরা পড়ায় সিরিজের কোনো ম্যাচেই খেলতে পারবেন না এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।

লিটনের চোট বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা। ত্রিদেশীয় সিরিজে অধিনায়কত্বের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা ছিল তাঁর। তবে টুর্নামেন্টের শুরুতেই চোটের কারণে ছিটকে যেতে হলো তাঁকে।

লিটনের অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাওহীদ হৃদয়। তাঁর অধিনায়কত্বে সিরিজে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

এদিকে লিটনের বদলি হিসেবে দলে সুযোগ পেয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন। বিসিবি তাঁর অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। লিটনের অনুপস্থিতিতে দলের ব্যাটিং লাইনআপে অবদান রাখার পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।




সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা। যার যার ধর্মীয় বিধান এবং সংস্কৃতি অনুশীলনের পাশাপাশি মানুষে মানুষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ বহাল ও বজায় রাখা সবার জন্যই জরুরি।

আগামীকাল ‘শারদীয় দুর্গাপূজা’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন। এতে তিনি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের হিন্দু সম্প্রদায় তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বাণীতে তিনি আরও বলেন, হিন্দুধর্মমতে জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসেন এবং ভক্তদের কল্যাণ সাধন করে শত্রুর বিনাশ ও সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের এই আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ প্রতিটি গোষ্ঠী-গোত্র-সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে যার যার ধর্ম পালন করছে এবং করবে। এটিই বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সৌন্দর্য। এভাবে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের বিভিন্ন ধর্ম-গোত্র-সম্প্রদায়ের মধ্যকার পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ভ্রাতৃত্ব।

তিনি বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর এবার বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। শুরু হয়েছে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের অঙ্গীকার। সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক আমাদের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ।

ধর্ম যার যার—রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার—নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই ও বোনেরা, আপনারা উৎসাহ-উদ্দীপনা সহকারে, নিশ্চিন্তে, নিরাপদে সারা দেশে উৎসব-আনন্দ উদ্‌যাপন করুন। আপনাদেরকে আবারও শুভেচ্ছা।’




মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: তথ্য চেয়ে সৌদিকে চিঠি, আগে জানত না বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ : সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় মসজিদ এলাকায় ‘অনৈতিক’ কাজের দায়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা বাংলাদেশ আগে জানতো না, গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশ বিষয়টি জানতে পেরেছে বলে জানিয়েছে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কলস্যুলেটের সূত্র। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

শুক্রবার বিকেলে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এরপর গতকাল জেদ্দার কনস্যুলেট থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে, সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার তথ্য নিশ্চিত করে। জানা গেছে, মৃত্যদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তাবাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করেছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে ওই দুজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে আদালতে পাঠানো হয়। শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ অর্থাৎ বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির বিধানে আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা এবং যে পরিস্থিতিতে অপরাধ ঘটেছে, তা বিবেচনায় নিয়েই বিচারক এ শাস্তি দেন বলে জানানো হয়েছে। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখলে তা চূড়ান্ত রূপ পায় এবং রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ জারি হয়।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শরিয়াহ আইন কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।




শূন্যে ভাসবে টেসলার গাড়ি, উড়ন্ত স্পোর্টস কার উন্মোচন ইলন মাস্কের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : উড়তে সক্ষম নতুন টেসলা রোডস্টার উন্মোচন করেছেন মার্কিন ধনকুবের ও টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে স্পেসএক্সের রকেট উন্নয়ন কেন্দ্রে গাড়িটির বিশেষ সংস্করণকে মাটি থেকে ওপরে উঠে শূন্যে ভাসা, ডিগবাজি দেওয়া এবং একাধিক গাড়ি টপকে অবতরণের কৌশল দেখিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্থানীয় সময় যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের পরীক্ষাকেন্দ্রে গাড়িটির বিশেষ প্রদর্শনী হয়। প্রায় নয় বছর পর নতুন রোডস্টার সামনে এনে গাড়িটির গতি ও প্রযুক্তির নানা চমক তুলে ধরেন মাস্ক।

টেসলার দাবি, নতুন রোডস্টার ঘণ্টায় ৩৭০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ছুটতে পারবে। থ্রাস্টার প্রযুক্তির সহায়তায় স্থির অবস্থা থেকে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার গতি তুলতে গাড়িটির সময় লাগবে এক সেকেন্ডেরও কম। এ ছাড়া বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে শূন্যে ভেসে ডিগবাজি দেওয়ার সক্ষমতাও প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে।




দুর্গাপূজা ও বিচ কার্নিভাল ঘিরে উৎসবমুখর কুয়াকাটা

ডেস্ক নিউজ : দুর্গাপূজার ছুটি ও বিচ কার্নিভালকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা। টানা ছুটি ও উৎসব ঘিরে সৈকতে লক্ষাধিক পর্যটক-দর্শনার্থীর সমাগমের প্রত্যাশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাঁদের বরণে প্রস্তুত আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো।

শুক্রবার সকাল থেকে কুয়াকাটায় পর্যটকদের সমাগম বাড়তে শুরু করেছে। হোটেল মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হোটেল মালিক সমিতি কক্ষভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুর্গাপূজার ছুটি এবং শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের অবকাশ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী বিচ কার্নিভাল যুক্ত হওয়ায় পর্যটকদের আগমন বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কুয়াকাটার সৈকত এলাকা পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখতে ইতোমধ্যে অভিযান চালানো হয়েছে। সৈকতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

আবাসিক হোটেল সৈকতের ব্যবস্থাপক রাজিব হোসেন জানান, দুর্গাপূজা, সাপ্তাহিক ছুটি ও বিচ কার্নিভাল ঘিরে পর্যটকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাঁর হোটেলের ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ বলেন, দুর্গাপূজা ও কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় লক্ষাধিক পর্যটক-দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক নাজমুল হাসান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ ও এসআরবির পাশাপাশি সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।




২০৩১ পর্যন্ত রিয়ালে থাকছেন বেলিংহাম

ক্রীড়া ডেস্ক : জুড বেলিংহাম রিয়াল মাদ্রিদেই থাকছেন। স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির সঙ্গে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চুক্তি বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছেন ইংলিশ তারকা মিডফিল্ডার।

২০২৩ সালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে রিয়ালে যোগ দিয়ে ২০২৮-২০২৯ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত চুক্তি করেছিলেন বেলিংহাম। ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবটির মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবার দ্বিতীয় দফা চুক্তি বাড়ালেন। চুক্তি নবায়নের পাশাপাশি এই ইংলিশ আন্তর্জাতিক তারকার বেতন-ভাতাও বাড়ানো হচ্ছে, যা রিয়াল মাদ্রিদে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, প্রভাব ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারই স্বীকৃতি।

রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বেলিংহাম নিজেকে একজন ‘গেম-চেঞ্জার’ হিসেবে প্রমাণ করেছেন। দানি কারভাহাল, মদ্রিচ কিংবা ক্রুসের মতো অভিজ্ঞ তারকারা বিদায় নেওয়ার পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, রিয়ালের ড্রেসিংরুমে এখন ঠিক তেমন একজন যোগ্য নেতা হয়ে ওঠার সমস্ত সক্ষমতাই রয়েছে তার মাঝে।

গত মৌসুমের শেষের দিকেই চুক্তি নবায়নের আলোচনা শুরু হয়েছিল এবং প্রথম থেকেই দুই পক্ষ পুরোপুরি একমত ছিল। রিয়াল মাদ্রিদ এবং স্প্যানিশ রাজধানীর জীবনযাত্রার সঙ্গে বেলিংহাম নিজেকে ক্রমশ আরও গভীরভাবে মানিয়ে নিচ্ছেন। ক্লাবের প্রতি ২৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কারও মনে কোনো সন্দেহ নেই; সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর দর্শকরাও মাঠে তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতাকে দারুণভাবে মূল্যায়ন করে।

বেলিংহাম এখন তাঁর প্রথম মৌসুমের সেই চেনা ছন্দে ফিরে এসেছেন। কাঁধের অস্ত্রোপচারের সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পর গত মৌসুমের শেষ দিকেই তার পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক উন্নতি দেখা যায়, যা তিনি বিশ্বকাপেও প্রমাণ করেছেন।

কঠিন সময়ে দলের হাল ধরার জন্য বেলিংহাম নিজের অস্ত্রোপচার পিছিয়ে দিয়েছিলেন যার খেসারত শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠের পারফরম্যান্সে দিতে হয়েছিল। তবে মরিনিয়োর আগমন বেলিংহামকে তার স্বাচ্ছন্দ্যময় পজিশনে ফিরিয়ে এনেছে।

মাঠে এমবাপে ঠিক পেছনে থেকে মুক্তভাবে খেলার স্বাধীনতা পেয়ে তার পারফরম্যান্স যেমন আরও উজ্জ্বল হয়েছে, তেমনই মাঠে তার গুরুত্বও বহুগুণ বেড়েছে। আক্রমনভাগ রক্ষণভাগ দুই জায়গাতেই সমানতালে নিজেকে উজাড় করে দিচ্ছেন বেলিংহাম।




গম্ভীর-আল্লু অর্জুনের পর হাইকোর্টের দ্বারস্থ বলিউড অভিনেত্রী

বিনোদন ডেস্ক : ত্রী কৃতি স্যানন তার ব্যক্তিত্ব ও প্রচারের অধিকার রক্ষার নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।তার নাম, ছবি, অবয়ব এবং অন্যান্য পরিচিতি-সূচক বৈশিষ্ট্যের অননুমোদিত ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি বিষয়বস্তু এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ছদ্মবেশ ধারণের মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইদানীং এ ধরনের মামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আদালত এই অধিকারের আইনি ভিত্তি ও পরিধি নিয়ে আরও বিশদ পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। বিচারপতি পুরুষেন্দ্র কুমার কৌরভের একক বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপিত হয়। বিচারপতি অভিনেত্রীর আইনজীবীকে ব্যক্তিত্ব সংক্রান্ত অধিকারের আইনি দিকগুলো নিয়ে প্রাসঙ্গিক রায়, গবেষণাপত্র এবং অন্যান্য নথিপত্র জমা দিতে বলেছেন।

হাইকোর্ট জানিয়েছে, জমা দেওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর তারা একটি পূর্ণাঙ্গ আদেশ জারি করবে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য ২৯ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টে বর্তমানে ব্যক্তিত্ব সংক্রান্ত অধিকার নিয়ে বিরোধের সংখ্যা বাড়ছে। বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছদ্মবেশ তৈরি, ডিপফেক , ভুয়া প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ড এবং তাদের পরিচিতির অননুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা চাইছেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীর ও সুনীল গাভাস্কার, আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবি শঙ্কর এবং অভিনেতা অর্জুন কাপুর, আল্লু অর্জুন, নাগার্জুন, বরুণ ধাওয়ান, কাজল, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, অভিষেক বচ্চন ও নাগা চৈতন্য।

এছাড়া গায়ক জুবিন নৌটিয়াল, চলচ্চিত্র নির্মাতা করণ জোহর, পডকাস্টার রাজ শামানি এবং কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরও তাদের পরিচিতি ও অবয়বের অপব্যবহার এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি নকল রূপও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালতের সুরক্ষা চেয়েছেন বা পেয়েছেন।

সম্প্রতি,অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত একটি মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে তিনি তার ব্যক্তিত্ব ও প্রচারের অধিকার রক্ষার আবেদন জানিয়েছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া পর্নোগ্রাফিক বা অশ্লীল বিষয়বস্তুতে তার পরিচিতির অননুমোদিত ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। আদালত তার অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি নোটিশও জারি করেছে।




১৮ অক্টোবর পর্যন্ত দাম্মাম-রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত

ডেস্ক নিউজ : সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হুতি হামলার প্রেক্ষাপটে যাত্রীদের নিরাপত্তায় ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তবে জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় ও তারিখ অনুযায়ী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, স্থগিত ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং নতুন যাত্রাসূচি যথাসময়ে জানানো হবে। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় মদিনা রুটে উড়োজাহাজের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। এ রুটে বোয়িং ৭৮৭-এর পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ যুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রতি ফ্লাইটে ১৪৮টি আসন বেড়েছে।

এ ছাড়া যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ সেলস সেন্টারে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।




বাংলাদেশের নদীপথে ভারতের নতুন বাণিজ্যযাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের ডিব্রুগড় থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে নদীপথে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে একটি পণ্যবাহী বার্জ ছেড়েছে গত ৫ অক্টোবর।

স্বাধীনতার পর এই প্রথম উচ্চ আসাম থেকে নদীপথে বিদেশি বন্দরের উদ্দেশে বাণিজ্যিক পণ্য পাঠানো হলো বলে জানিয়েছে ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয়।

এই যাত্রা সফল হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

আসামের নামরূপে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের (এপিসিএল) উৎপাদিত মিথানল পরিবহন করা হচ্ছে ‘ডিএলবি পাটকাই’ নামের বার্জে। ‘কুশল কোঁয়ার’ নামের একটি টাগবোট বার্জটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

এই চালানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ব্রহ্মপুত্র নদকে ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে বাংলাদেশ এবং এর মাধ্যমে আরও বিস্তৃত বাজারে পণ্য পরিবহনের সম্ভাবনা। তবে একটি চালানের সফল যাত্রাই যে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ও নিয়মিত পরিবহনব্যবস্থার নিশ্চয়তা দেবে, তা নয়। এ ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যয়, সময়, নাব্যতা, শুল্কপ্রক্রিয়া ও দুই দেশের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এক হাজার ৩০০ কিলোমিটারের যাত্রা
ডিব্রুগড়ের বগিবিল কার্গো টার্মিনাল থেকে যাত্রা শুরু করা বার্জটি ভারতের জাতীয় জলপথ-২ (এনডব্লিউ-২) দিয়ে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার অতিক্রম করবে। এরপর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে দুই দেশের মধ্যে নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাবে। পুরো যাত্রাপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার।

ভারতের অভ্যন্তরীণ জলপথ কর্তৃপক্ষের (আইডব্লিউএআই) তথ্য অনুযায়ী, সাদিয়া থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের ৮৯১ কিলোমিটার অংশকে জাতীয় জলপথ-২ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই পরিবহন সম্ভব করতে বগিবিলের কার্গো টার্মিনালের পাশাপাশি বগিবিল ও ধুবড়িতে শুল্ক এবং অভিবাসনসংক্রান্ত সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কারণ, নদীতে নৌযান চলাচলের সুযোগ থাকলেই পণ্য পরিবহন কার্যকর হয় না। পণ্য ওঠানো-নামানো, শুল্ক ছাড়পত্র, সংরক্ষণ এবং পরবর্তী পরিবহনব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগও নিশ্চিত করতে হয়।

দেশভাগে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল পুরোনো বাণিজ্যপথ
ডিব্রুগড় একসময় গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর ছিল। ১৮৫৬ সাল নাগাদ সরকারি স্টিমার চলাচলের মাধ্যমে কলকাতার সঙ্গে এ অঞ্চলের যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ব্রহ্মপুত্র দিয়ে চা, কাঠ ও যাত্রী পরিবহন করা হতো। এভাবে আসামের সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর যোগাযোগ বজায় ছিল।

কিন্তু ১৯৪৭ সালের দেশভাগে এই যোগাযোগব্যবস্থা বড় ধাক্কা খায়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে যাতায়াতের পথ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়ে। ১৯৫০ সালের ভূমিকম্পে ডিব্রুগড়ের কাছে নদীর তলদেশেও পরিবর্তন ঘটে। একই সময়ে চা পরিবহনে রেলপথের ব্যবহার বাড়তে থাকে।

সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, ডিব্রুগড় ঘাটে নিয়মিত পণ্য বুকিং ১৯৫৪ সালে বন্ধ হয়ে যায় এবং ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর ঘাটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক এই চালান অবশ্য দেশভাগের আগের বাণিজ্যব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নয়। বরং বর্তমান অবকাঠামো ও ভারত-বাংলাদেশের বিদ্যমান চুক্তি ব্যবহার করে পুরোনো যোগাযোগের কিছু অংশকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর পরীক্ষা।

বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে নতুন বাজারের সম্ভাবনা
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য বাংলাদেশ শুধু সম্ভাব্য বাজারই নয়, বৃহত্তর বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কে পৌঁছানোর একটি বিকল্প পথও হতে পারে। বর্তমানে ভারতের এই অঞ্চল থেকে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের অন্যান্য অংশে পণ্য পরিবহনে শিলিগুড়ি করিডরের ওপর নির্ভর করতে হয়। বাংলাদেশের নৌপথ ব্যবহার করা গেলে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে সড়ক ও রেলপথের বিকল্প তৈরি হতে পারে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও বাণিজ্যবিষয়ক প্রটোকল অনুযায়ী, দুই দেশের নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করতে পারে। তবে চুক্তি থাকলেই পরিবহনব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাভজনক হয়ে ওঠে না। ব্যবসায়ীদের কাছে এই পথকে সময় ও ব্যয়ের দিক থেকে প্রতিযোগিতামূলক প্রমাণ করতে হবে।

ডিব্রুগড় থেকে পাঠানো মিথানলের চালান সেই সম্ভাবনা যাচাইয়ের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে পরিবহনের পরিমাণ, বাজারের চাহিদা ও পণ্য ওঠানো-নামানোর সুবিধা বিবেচনায় পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য, কয়লা, চা এবং কিছু কৃষিপণ্যও এ পথে পরিবহনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এগুলো সম্ভাব্য পণ্য; এসব পণ্য নিয়মিত রফতানির কোনও নিশ্চিত পরিকল্পনা এখনও উল্লেখ করা হয়নি।

কম খরচের সম্ভাবনা, তবে বাধাও রয়েছে
বড় পরিমাণে শিল্পপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নদীপথ সুবিধাজনক হতে পারে। কারণ, একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পণ্য বহন করা গেলে পরিবহন ও ব্যবস্থাপনার কিছু ব্যয় কমানো সম্ভব। তবে ছোট চালান বা দ্রুত সরবরাহ প্রয়োজন এমন পণ্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওঠানো-নামানো, সংরক্ষণ ও অপেক্ষার খরচ সুবিধাটিকে কমিয়ে দিতে পারে।

ভারত-বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন নিয়ে গবেষণায় অবকাঠামোর ঘাটতি, পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব, দীর্ঘ পরিবহনসময়, সীমিত সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, নদীর পানির গভীরতার পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভারতের ‘জলবাহক’ প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ২০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের জলপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রকৃত পরিচালন ব্যয়ের সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে পণ্য সংগ্রহের প্রাথমিক পরিবহন এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর শেষ ধাপের ব্যয় এই হিসাবের বাইরে।

এই প্রণোদনা সড়ক ও রেলপথ থেকে নদীপথে পণ্য পরিবহনে উৎসাহ দিতে পারে। কিন্তু নিয়মিত সেবা, নির্ভরযোগ্য সময়সূচি ও প্রতিযোগিতামূলক মোট ব্যয় নিশ্চিত না হলে ব্যবসায়ীরা নতুন পথে যেতে আগ্রহী হবেন না।

ব্রহ্মপুত্রের নাব্যতাও বড় চ্যালেঞ্জ
নদীর নাব্যতা এই উদ্যোগের অন্যতম সীমাবদ্ধতা। ভারতের অভ্যন্তরীণ জলপথ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে নিমাতি পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের নির্দিষ্ট অংশে রক্ষিত পানির গভীরতা ২ দশমিক ৫ মিটার, নিমাতি থেকে ডিব্রুগড় পর্যন্ত ২ মিটার এবং ডিব্রুগড় থেকে সাদিয়া পর্যন্ত ১ দশমিক ৫ মিটার।

পানির গভীরতা কমে গেলে নৌযানের আকার ও বহনক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে। মৌসুমি পরিবর্তন এবং নদীর গতিপথ বদলে যাওয়ার কারণে নিয়মিত খনন, নৌচলাচলের নির্দেশক স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণও জরুরি।

একটি টার্মিনাল তৈরি করা সম্ভব হলেও সারা বছর একই পরিমাণ পণ্য নির্দিষ্ট সময়ে পরিবহনের নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন। ফলে এই পথে নিয়মিত বাণিজ্য গড়ে তুলতে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নদীপথের ধারাবাহিক রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।

একবারের চালান থেকে নিয়মিত বাণিজ্যই আসল পরীক্ষা
ডিব্রুগড় থেকে মিথানল পরিবহনের এই যাত্রা এখন পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। তবে এটিকে কার্যকর বাণিজ্যিক করিডরে পরিণত করতে হলে একই পথে নিয়মিত চালান পাঠাতে হবে। অন্য উৎপাদকদের পণ্য পরিবহন শুরু হলে এ পথের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হবে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের নৌপথ, বন্দর, শুল্কব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালিত না হলে পরিবহন বিলম্বিত হতে পারে। নিয়মিত পণ্য পরিবহন বাড়লে বাংলাদেশও বন্দর কার্যক্রম ও ট্রানজিট সেবা থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে।

সব মিলিয়ে, ব্রহ্মপুত্র দিয়ে ডিব্রুগড় থেকে বাংলাদেশে পণ্য পরিবহনের উদ্যোগ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্যিক যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। তবে এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে নিয়মিত পণ্য পরিবহন, প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়, নির্ভরযোগ্য সরবরাহ এবং দুই দেশের কার্যকর সহযোগিতার ওপর। একটি চালান নদীপথের সম্ভাবনা দেখিয়েছে; এখন সেই সম্ভাবনাকে টেকসই বাণিজ্যে রূপ দেওয়াই মূল চ্যালেঞ্জ।