টেকনাফে মানবপাচার চক্রের গুলিতে সেনাসদস্য আহত, উদ্ধার ৫৭: আইএসপিআর

ডেস্ক নিউজ : কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের সময় ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। অভিযানে চক্রটির জিম্মিদশা থেকে ৫৭ জনকে জীবিত উদ্ধার এবং তিন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৪ ও ২৬-এর মধ্যবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের সমন্বয়ে এ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, পাহাড়ে অবস্থান নেওয়া মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরাসরি গোলাগুলি হয়। এ সময় দায়িত্ব পালনকালে এক সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে অপহৃত ও পাচারের শিকার ৫৭ জনকে উদ্ধার করার পাশাপাশি তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গা উভয়েই রয়েছেন। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান এবং একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাগরপথে ট্রলারযোগে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে অর্ধশতাধিক মানুষকে ওই গহিন পাহাড়ের গোপন আস্তানায় জড়ো করে জিম্মি রেখেছিল চক্রটি। ক্যাম্পের কুখ্যাত মো. আলম ও মো. সাদ্দাম ডাকাত এই সংঘবদ্ধ পাচার চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করছিল। যৌথ বাহিনী আস্তানায় হানা দিলে অপরাধীরা গুলিবর্ষণ শুরু করে, যার জবাবে যৌথ বাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়।

১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং পাচারের শিকার ব্যক্তিদের নিরাপদে উদ্ধারে জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে এ সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সদস্য আহত হয়েছেন।

অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ. এন. এস. সাজেদুর রহমান জানান, পাহাড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর তল্লাশি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুরো অভিযান শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।




ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক : সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত শুরু পেয়েছে বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ইব্রাহীম।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই গোলের সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। ষষ্ঠ মিনিটে ডান দিক থেকে রাকিব ক্রস বাড়ান বক্সে থাকা বিশ্বনাথের দিকে। তবে বিশ্বনাথের কাছে যাওয়ার আগেই বল ক্লিয়ার করেন ভুটানের ডিফেন্ডার। যদিও বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শট নেন জামাল ভুঁইয়া। তবে সেই চেষ্টাও রুখে যায় ভুটান রক্ষণে।

এরপর ম্যাচের ১৮ মিনিটে আবারও ভালো সুযোগ পায় বাংলাদেশ। রাকিবের ক্রস বিশ্বনাথের নেওয়া হেড পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ২৫ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন বিশ্বনাথ। ফাঁকায় থাকা জটলার ভেতর বল পেয়ে তা পোস্টের বাইরে মারেন।

ম্যাচের ৩৯ মিনিটে আরও একবার বাংলাদেশকে হতাশ করেন বিশ্বনাথ। সামনে ছিলেন শুধু ভুটান গোলকিপার। একটু কোনাকুনি শট, সেটিই লক্ষ্য রাখতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য থেকেই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশ।

বিরতি থেকে ফিরেও আক্রমণের ধারা অব্যাহত রাখে বাংলাদেশ। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় স্বাগতিকরা। ডি বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান ইব্রাহিম। এতেই লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।

এরপর ম্যাচে সমতা আনার চেষ্টা করে ভুটান। তবে গোলের দেখা পায়নি তারা। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল।




জামিন পেলেন পরীমণি

বিনোদন ডেস্ক : ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, গতকাল পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত। এই মামলায় পরীমণি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। পরে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার এ মামলায় সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য ছিল। বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। আসামি পরীমণির পক্ষের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। সেখানে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীর জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

এর আগে, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পিবিআইয়ের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।

একইসঙ্গে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। এরপর তারা ২৪ সালের ২৫ জুন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।

এর আগে, ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।




প্রতিদিন কমছে তাপমাত্রা, তিন মাসে ছয় শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস

ডেস্ক নিউজ : কার্তিকের সূচনা থেকেই তাপমাত্রা নামছে। কুয়াশাও দশ প্রহরণ মেলছে। গ্রামীণ জনপদে শেষ রাতে শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে ক্রমশ। বিশেষ করে নদনদীর অববাহিকা এবং দেশের কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা দেখা দিচ্ছে। এর মধ্যে গতকাল বুধবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশে শীতের মৌসুমে কয়েক দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসে দেশে চার থেকে ছয়টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে। শীতের পাশাপাশি কুয়াশা, তাপমাত্রা এবং বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। ফলে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে শীতের অনুভূতি বাড়ার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘন কুয়াশা দেখা দিতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সামগ্রিকভাবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, শীতের তীব্রতা থাকবে না। নির্দিষ্ট সময়ে শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র শীত অনুভূত হতে পারে। আগামী তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে লঘুচাপ তৈরি হলেই তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে, এমন নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী সতর্কবার্তা ও নিয়মিত পূর্বাভাস অনুসরণ করা প্রয়োজন।

আবহাওয়াবিদ মো. মমিনুল ইসলাম জানান, আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। এছাড়া শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও এবং নদনদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। শৈত্যপ্রবাহের সময় বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ মানুষের ঠান্ডাজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।



যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ফের জয় পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিন অঙ্গরাজ্য থেকে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন রাজনীতিক। জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর শেখ রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর এমডি মাসুদুর রহমানও রিপাবলিকান প্রার্থীকে হারিয়ে নিজের আসন ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইনসভায় নির্বাচিত হয়েছেন আবুল খান। তাদের এ সাফল্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

জর্জিয়ার স্টেট সিনেটের ৫ নম্বর আসনে এবার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোটের লড়াই ছাড়াই পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন শেখ রহমান। প্রাথমিক নির্বাচনি ফলাফলে তার পক্ষে ৩৫ হাজার ১০১ ভোট দেখানো হয়েছে।

এর আগে গত ১৯ মে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে রবিন ম্যাককয়কে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন পান শেখ রহমান। ওই নির্বাচনে তিনি ৬ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়েছিলেন। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যাককয়ের ভোট ছিল ৫ হাজার ১৬৬।

বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে জন্ম নেওয়া শেখ রহমান জর্জিয়ার প্রথম মুসলিম ও এশীয় বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর। ২০১৮ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অঙ্গরাজ্যটির ৫ নম্বর আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও রিপাবলিকান প্রার্থী লিসা ব্যাবেজকে প্রায় দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন।

শেখ রহমানের পারিবারিক সূত্রেও বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে। তার ছোট ভাই শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী ও বাজিতপুর) আসন থেকে নির্বাচিত হন।

এদিকে কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটের ৪ নম্বর আসনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী এমডি মাসুদুর রহমান পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী জেন জেনিংসকে পরাজিত করে আসনটি ধরে রেখেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিটি ইনসাইডারের প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলেও তার জয়ের তথ্য উঠে এসেছে।

মাসুদুর রহমানের পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। ২০২২ সালে প্রথমবার কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৩৩ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী হয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনেও জয় পাওয়ায় অঙ্গরাজ্যটির রাজনীতিতে তার প্রতিনিধিত্ব অব্যাহত থাকছে।

অন্যদিকে নিউ হ্যাম্পশায়ারের রকিংহাম-৩০ আসন থেকে আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবুল খান। এ আসনে দুজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রাথমিক ভোট গণনায় ১ হাজার ৮৭৩ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন তিনি। পরবর্তী নির্বাচনি ফলাফলেও তাকে বিজয়ী হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই আসন থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী জেসন জ্যানভ্রিনও নির্বাচিত হয়েছেন।

বাংলাদেশের পিরোজপুরে জন্ম নেওয়া আবুল খান রিপাবলিকান পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইনসভার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে ছয় মেয়াদে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারের জয় তার রাজনৈতিক জীবনে নতুন সংযোজন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাঁচজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তারা হলেন শেখ রহমান, নাবিলা ইসলাম পার্কস, নূরুন নবী, এমডি মাসুদুর রহমান ও আবুল খান।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতা দৃশ্যমান হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে শেখ রহমান, এমডি মাসুদুর রহমান ও আবুল খানের জয় সেই ধারায় নতুন সংযোজন।




জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ফের ককটেল বিস্ফোরণ

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের (সাবেক গণভবন) সামনে আবারও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান।

তিনি জানান, রাত ১১টার পর দুর্বৃত্তরা একটি রিকশায় চড়ে এসে জুলাই জাদুঘরের সামনে ককটেলটির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর একই এলাকায় জুলাই জাদুঘরের ১ নম্বর গেটের সামনে পরপর দুটি ককটেল নিক্ষেপ করেছিল দুর্বৃত্তরা। সে সময় একটি ককটেল বিস্ফোরিত হলেও অন্যটি অবিস্ফোরিত থেকে যায়। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবিস্ফোরিত ককটেলটি নিষ্ক্রিয় করে।

গত অক্টোবরের ওই হামলায় মো. শাহীন ওরফে আরিফ মোল্লা (৪৫) নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন। ঘটনার পর তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।




কেরানীগঞ্জে উচ্ছেদের পরে আবারো দখলে ফুটপাত-সড়ক

ডেস্ক নিউজ : ঢাকার কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে অভিযানের এক দিন না যেতেই আবারও উচ্ছেদ করা স্থান দখল হয়ে গেছে। আগের মতোই ফুটপাত ও সড়কের ওপর বসতে শুরু করেছে অবৈধ দোকানপাট। এতে প্রশাসনের অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পথচারীরা ও স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকির অভাব এবং উদাসীনতার সুযোগে দখলদাররা আবারও জায়গা দখল করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ফুটপাতের প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র এসব দোকান থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অর্থ বিভিন্ন মহলে ভাগ-বাঁটোয়ারা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

গত সোমবার যানজট নিরসন এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলেও স্থায়ীভাবে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর তদারকি না থাকায় পরিস্থিতি আবারও আগের অবস্থায় ফিরে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঢাকঢোল পিটিয়ে অভিযান চালানো হলো। দুই শতাধিক দোকান উচ্ছেদের খবরও প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। কিন্তু বাস্তবে অভিযানের সুফল পাওয়া যায়নি। উচ্ছেদের পরদিনই আবার আগের জায়গায় দোকান বসেছে। তাদের প্রশ্ন, অভিযান যদি স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখার জন্যই হয়ে থাকে, তাহলে এত দ্রুত কীভাবে আবার ফুটপাত ও সড়ক দখল হলো?

আনিসুজ্জামান নামের এক পথচারী বলেন, আমরা ভেবেছিলাম উচ্ছেদের পর অন্তত ফুটপাত দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারব। কিন্তু একদিন যেতে না যেতেই আবার দোকান বসেছে। প্রশাসন অভিযান চালানোর পরও কীভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা আবার জায়গা দখল করছে, সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। এটি কি শুধু লোকদেখানো অভিযান, নাকি অভিযান শেষে তদারকির অভাবের সুযোগ নিচ্ছে দখলদাররা?’

স্থানীয়দের দাবি, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি অবৈধভাবে দোকান বসানোর পেছনে কারা জড়িত এবং চাঁদা আদায়ের অভিযোগের সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারি ও পুনর্দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক বলেন, ‘সড়ক ও ফুটপাত দখল করার কোনো সুযোগ নেই। আবারও দখল করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




মাঠে সংঘর্ষে ফুটবলারের মৃত্যু, মুখ খুললেন সেই গোলকিপার

ক্রীড়া ডেস্ক : স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে তেনেরিফের স্ট্রাইকার জেসুস দে মিগুয়েলের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এফসি আন্দোরার গোলরক্ষক জেসুস ওওনো অবশেষে মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল।

গত সোমবার ওওনোর সঙ্গে সংঘর্ষের পর কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন টেনেরিফের ৩০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড জেসুস দে মিগুয়েল। পরের দিন তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হওয়া ওওনো বুধবার (৪ নভেশ্বর) তার ক্লাবের মাধ্যমে একটি আবেগঘন বিবৃতি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছি। ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না, যা ঘটেছে তা মেনে নেওয়া আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। ২৫ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দে মিগুয়েলের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, জেসুসের মৃত্যুতে আমি প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছি। আমি তার কথা, তার পরিবার এবং তাকে যারা ভালোবাসতেন, তাদের কথা ভাবছি। আমি জানি, সামনে অনেক বিষয় আসবে; যা-ই আসুক না কেন, আমি পূর্ণ শ্রদ্ধার সঙ্গে তার মুখোমুখি হব।

বিবৃতির শেষে তিনি একটি আবেগপূর্ণ বার্তা দেন। তবে সত্যি বলতে, এই মুহূর্তে জেসুস এবং আমরা যে যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তা ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেই পারছি না। শান্তিতে ঘুমান, জেসুস। এটি একটি দুর্ঘটনা ছিল, কিন্তু কল্পনা করুন, সারা জীবন তাকে কী পরিমাণ মানসিক আঘাত (ট্রমা) বয়ে বেড়াতে হবে!

জানা গেছে, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আপত্তিকর বার্তা পাওয়ার কারণে তিনি তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছেন। আন্দোরার সতীর্থ লাউতারো স্পাতজ তার সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, যারা ওওনোকে চেনেন, তারা জানেন এই ঘটনায় তিনি কতটা গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন। তিনি কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাত করতে পারেন না।

স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ দে মিগুয়েলের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে ফুটবল বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে শোকবার্তা আসছে। খেলোয়াড়, ক্লাব এবং সমর্থকরা টেনেরিফের এই স্ট্রাইকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছেন।




পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

বিনোদন ডেস্ক : ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় নায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি  পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় সাক্ষীর জন্য ধার্য ছিল। বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। সেখানে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীর জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

২০২৪ সালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মনির হোসেন ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পিবিআইয়ের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। এরপর তারা ২৪ সালের ২৫ জুন ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।

এর আগে ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।

মামলার অন্য দুই আসামি হলেন-পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।




এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ

ডেস্ক নিউজ : স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ। এর আগে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তাকে এবার এসআরবির নেতৃত্বে আনা হলো।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। একই প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পদমর্যাদার সাত পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন অতিরিক্ত আইজিপি এবং দুজন ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ফারুক আহমেদ সদ্য সাবেক মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মহাসড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং চাঁদাবাজি ও ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন ফারুক আহমেদ। গত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে এ দায়িত্ব গ্রহণের পর মহাসড়কে অপরাধের সুযোগ কমানো, যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ে পুলিশের কার্যক্রম জোরদারকে অগ্রাধিকার দেন তিনি।

মহাসড়কের নিরাপত্তা বাড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ওপরও গুরুত্ব দেন ফারুক আহমেদ। সরকারের অপরাধ ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিসিটিভি নজরদারি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি স্থানে স্থাপন করা হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কেও একই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধ, মাদক চোরাচালান ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়।

এ ছাড়া মহাসড়কে যানবাহন থেকে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ ঠেকাতে মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়। অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি, দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি এবং মহাসড়কে পুলিশের কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে তার দায়িত্ব পালনকালে মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও ডাকাতির ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে। কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের অপরাধ শূন্যের কোঠায় নেমে আসে বলেও দাবি করা হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার, মাঠপর্যায়ে তৎপরতা এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় নেওয়া উদ্যোগগুলোকে হাইওয়ে পুলিশের নেতৃত্বে তার উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কে এই ফারুক আহমেদ
ফারুক আহমেদের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কৈডালা (রণবাঘা) গ্রামে। তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে ১৯৯৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন তিনি।

প্রায় তিন দশকের কর্মজীবনে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন ফারুক আহমেদ। ২০০৯ সালে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ১৭ দিনের মাথায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের হস্তক্ষেপে তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়। বগুড়ায় বাড়ি হওয়ায় তৎকালীন সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় তাকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পদোন্নতি ও রদবদলের সময় এসপি থেকে পদোন্নতি পেয়ে ডিআইজি হন তিনি। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।