ডারউইনে ‘দুই টুকরো’ পিচে হবে বাংলাদেশের টেস্ট

ক্রীড়া ডেস্ক : প্রায় দুই যুগ পর অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে ফিরছে টেস্ট ক্রিকেট। বৃহস্পতিবার নর্দার্ন টেরিটরির মারারা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। তবে এই ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য প্রতিপক্ষের পাশাপাশি আলোচনায় থাকছে মাঠের অদ্ভুত এক পিচ ‘ড্রপ-ইন স্প্লিট পিচ’।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় শুরু হবে ম্যাচটি। ডারউইনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উপস্থিতি খুব একটা নিয়মিত নয়। ২০০৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা ২২ বছর এই মাঠে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়নি। ২০০৪ সালের পর সেখানে আর কোনো টেস্টও অনুষ্ঠিত হয়নি।

২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল স্প্লিট পিচে। সেই সিরিজ থেকেই এই বিশেষ ধরনের পিচ ব্যবহারের শুরু। দুই দশকেরও বেশি সময় পর এবারও একই ধরনের পিচে খেলবে বাংলাদেশ।

কী এই ‘স্প্লিট পিচ’?
ড্রপ-ইন পিচ সাধারণত মাঠের বাইরে তৈরি করে পরে বড় ক্রেনের সাহায্যে মাঠে এনে নির্ধারিত জায়গায় বসানো হয়। ডারউইনের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি আরও কিছুটা ভিন্ন। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে পুরো ২২ গজের পিচ একসঙ্গে মাঠে আনা সম্ভব হয় না।

তাই বাইরে প্রস্তুত করা পূর্ণদৈর্ঘ্যের পিচকে দুই ভাগে কেটে আলাদা করে মাঠে আনা হয়। এরপর পিচের নির্ধারিত স্থানে দুটি অংশ পাশাপাশি বসিয়ে দেওয়া হয়। এ কারণেই কাছ থেকে দেখলে পিচের মাঝখানে দুটি অংশের সংযোগস্থলের একটি দৃশ্যমান রেখা দেখা যায়।

তবে এই রেখা নিয়ে চিন্তার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন ডারউইনের প্রধান কিউরেটর জ্যাক পাভলিচ। তাঁর দাবি, পিচ দুই টুকরো হলেও এর আচরণে কোনো পার্থক্য থাকবে না।

পাভলিচ বলেন, স্প্লিট পিচের কারণে ম্যাচের খেলায় কোনো প্রভাব পড়বে না। এটি মূলত পিচ প্রস্তুত ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে বাড়তি কিছু কাজের বিষয়।মাঠে আনার আগে পিচটি দুই ভাগে কাটা হলেও মাঠে বসানোর পর সেটিকে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের পিচ হিসেবেই প্রস্তুত করা হয়।

তাঁর ভাষায়, পিচ কম্পাউন্ড বা মূল মাঠে নেওয়ার পর দুটি অংশকে নিখুঁতভাবে জোড়া লাগিয়ে পূর্ণ দৈর্ঘ্যের পিচ হিসেবে তৈরি করা হয়। বাইরে প্রস্তুত করার সময় প্রায় ১০ মাস ধরে পুরো পিচের যত্ন নেওয়ার পর সেটিকে দুই ভাগে কাটা হয়।

তবে পিচের মাঝখানে দৃশ্যমান রেখা থাকা কিছুটা হতাশাজনক বলেও জানিয়েছেন প্রধান কিউরেটর। তাঁর দাবি, রেখাটি সম্পূর্ণ সমতল এবং সেখানে বল পড়ে অস্বাভাবিক আচরণ করার কোনো সম্ভাবনা নেই।

ম্যাচের আগে উইকেটের আচরণ নিয়ে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে যেতে চান না ডারউইনের কিউরেটররা। পাভলিচের প্রত্যাশা, এটি হবে ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো এবং ধারাবাহিক একটি পিচ।

তবে বোলারদেরও কঠোর পরিশ্রম করে উইকেট থেকে সুবিধা আদায় করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে ম্যাচ যত এগোবে, বিশেষ করে চতুর্থ বা পঞ্চম দিনে উইকেটের আচরণ কেমন হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন পাভলিচ।

কারণ, এই ধরনের দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচে ডারউইনের স্প্লিট পিচের অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত। তাই ম্যাচ শুরু হওয়ার পরই উইকেটের প্রকৃত চরিত্র সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

দীর্ঘ ২২ বছর পর ডারউইনে টেস্ট ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন যেমন বিশেষ ঘটনা, তেমনি ‘দুই টুকরো’ ড্রপ-ইন পিচে বাংলাদেশের খেলা যোগ করছে বাড়তি কৌতূহল।




থাইল্যান্ডে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অভিনেতা খায়রুল বাসার

বিনোদন ডেস্ক : থাইল্যান্ডে শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসার। পাহাড়ের ওপর শুটিং শেষ করে নিচে নামার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা চিত্রগ্রাহক মেহেদী রনিও আহত হয়েছেন। বর্তমানে দুজনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, একটি শুটিংয়ের কয়েকটি দৃশ্য ধারণের জন্য পাহাড়ের ওপর গিয়েছিলেন খায়রুল বাসার ও তার টিম। শুটিং শেষ করে স্কুটিতে করে নিচে নামার সময় হঠাৎ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই সময় স্কুটিটি চালাচ্ছিলেন চিত্রগ্রাহক মেহেদী রনি।

অভিনেতা খায়রুল বাসার দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নাটকের শুটিং করার জন্য থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন। কাজ ঠিকমত হচ্ছিল। কোলান দ্বীপে একটি দৃশ্যের শুটিং ছিল। একপর্যায়ে পাহাড়ের ওপর শুটিং করেন। সবই ঠিকমত হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে নামার সময় হঠাৎ তাদের স্কুটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। আর সঙ্গে সঙ্গে তারা পড়ে যান।

সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে যায়। তাদের শুটিং টিম কিছুটা দূরে ছিল। তবে তারাই তাদের উদ্ধার করেছেন। এ ব্যাপারে খায়রুল বাসার বলেন, দুর্ঘটনায় আমি বুকে ব্যথা পেয়েছি, হাঁটুতেও আঘাত পেয়েছি। এখন হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। আমরা এখন পাতায়ায় এসেছি। এখানে হাসপাতালে চিকিৎসা নেব আমরা। আর এ অবস্থায় আমাদের শুটিং বাতিল করতে হয়েছে। আমার যে শারীরিক অবস্থা এখন, তাতে শুটিং করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

এ অভিনেতা জানান, দুর্ঘটনায় চিত্রগ্রাহকের শরীরের কিছু অংশ ছুলে গেছে। বেশ আহত হয়েছেন। তাদের দু’জনেরই এক্স-রে করাতে হবে। তারপর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। যদিও কাল তার শুটিং ছিল না, পরে ছিল। তবে এখন বিশ্রাম নিতে হবে তার। এ অবস্থায় আগামী কয়েক দিন শুটিং করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন খায়রুল বাসার।

জানা গেছে, একসঙ্গে কয়েকটি নাটকের শুটিং করার জন্য গেছেন খায়রুল বাসার। ঈদ পরবর্তীতে বিরতি কাটিয়ে থাইল্যান্ডে শুটিং করলেন। নাটকে তার সহশিল্পী ছিলেন সাদনিমা বিনতে নোমানসহ আরও অনেকে।




শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেছেন, ‘শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে আমরা খুব শীঘ্রই পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করব, আপনাদের সামনে তার ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।’

সোমবার (৮ আগস্ট) সচিবালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কোনো পরীক্ষার্থী যদি ন্যায্য নম্বর থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে কিংবা নম্বর প্রদানে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকে, তবে রিভিউ কমিটির মাধ্যমে তার সঠিক মূল্যায়ন করা হবে।’

ফল পুনর্নিরীক্ষণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে শুধু নম্বর যোগ-বিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হতো। কিন্তু এবার আমরা আইনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর খাতা যথাযথভাবে পুনর্নিরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করেছি। যদি কোনো শিক্ষক মূল্যায়নকালে যথাযথ নম্বর না দিয়ে থাকেন বা অসাবধানতাবশত ত্রুটি হয়ে থাকে, তবে অভিজ্ঞ রিভিউ কমিটির সম্মুখে সেই খাতা পুনরায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে রিভিউ করা হবে। পরীক্ষার্থীকে তার প্রাপ্য নম্বর বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’

চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে যখন আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম এবং কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল নির্মূল করেছিলাম, তখনও প্রাথমিক অবস্থায় শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ধারাবাহিক ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে সেই সংখ্যা আমরা সফলভাবে কমিয়ে এনেছিলাম এবং সামগ্রিক পাসের হার ২৮ শতাংশ থেকে ৭৭ শতাংশে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে।’

ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বিশেষ করে উপকূলীয় বা পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত পার্থক্যের কারণে ফলের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভিন্নতা তৈরি হয়, যা বিশ্বের যে কোনো দেশেই বিদ্যমান। তবে শিক্ষার সার্বিক গুণগত মান বাড়িয়ে এ বৈষম্য দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় পর্যায় থেকে বিশেষ তদারকি জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।




সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির পরিবার পাবে ‘বিশেষ মানবিক অনুদান’

ডেস্ক নিউজ : সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের পরিবারের জন্য এককালীন বিশেষ মানবিক অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

গতকাল রবিবার রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি মারা যান। এ ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধি, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, বিএমইটি ও বাংলাদেশ বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভায় নিহতদের মরদেহ দ্রুত শনাক্ত করে দেশে আনা এবং তাদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষ ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নিহতদের মরদেহ দ্রুত শনাক্ত করার ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ দূতাবাস। শনাক্তকরণ শেষে সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করে নিহতদের মরদেহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় ও খরচে সৎকার করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী নিহত ১৬ জনের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য এককালীন বিশেষ মানবিক অনুদান দেওয়া হবে।

এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদান দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

সরকার বলছে, এই কঠিন সময়ে নিহতদের পরিবারের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।




কাস্পিয়ান সাগর হচ্ছে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাস্পিয়ান সাগরে সম্প্রতি একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্য-পূর্ব ইউরোপের যুদ্ধকে একসূত্রে গেঁথে ফেলার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। গত ২৫ জুলাই ঘটে যাওয়া এই ঘটনা কেবল এক তরুণ নাবিকের প্রাণই কেড়ে নেয়নি বরং ইরান-ইউক্রেন সম্পর্ককে এক অভূতপূর্ব সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বহির্বিশ্বের জন্য শঙ্কার বিষয় হলো, এর মাধ্যমে সংঘাতের সীমান্ত কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভেতরেই সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন অঞ্চলে বিস্তৃত হচ্ছে।

নিহত ওই তরুণ ইরানি নাবিকের নাম নিমা মোরাদি, যার বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর। উত্তর ইরানের বন্দর নগরী বান্দারে আনজালি থেকে আসা নিমার শৈশব থেকেই ইচ্ছা ছিল নাবিক হওয়ার। আয়রন আকরিক বোঝাই ‘আনা’ নামক জাহাজে রাশিয়া থেকে ইরানে ফেরার পথে ইউক্রেনীয় দূরপাল্লার ড্রোনের আঘাতে নিমা নিহত হন এবং জাহাজের আরও এক কর্মী গুরুতর আহত হন। নিমার এই অকাল প্রয়াণে তার পরিবার ও পুরো ইরানি সমাজ আজ গভীর শোকে নিমজ্জিত।

ঘটনার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইউক্রেনের এই পদক্ষেপ জাতিসংঘের সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি অভিযোগ তোলেন, ইসরায়েলের উসকানিতেই ইউরোপকে যুদ্ধের দিকে টেনে আনতে এই আঘাত হানা হয়েছে। অন্যদিকে এই হামলা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে তেল আবিব, যা এই ঘটনার পেছনে থাকা ভূ-রাজনৈতিক চাল নিয়ে সংশয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রথমে ইরান এই হামলার কঠোর সামরিক জবাব দেয়ার পরিকল্পনা হিসেবে ইউক্রেনের তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে খবর পাওয়া যায়। তবে পরবর্তীতে কিয়েভের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করায় এবং তেহরানের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে কিছুটা শান্ত হয়েছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই নীরবতা বা নমনীয়তা একেবারে স্থায়ী কিছু নয় বরং তেহরান এখন নতুন কোনো ফাঁদে না পড়ার জন্য সময় নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতকে একীভূত করার একটি কৌশলগত চেষ্টা করা হচ্ছে। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া ও ইরানকে একই অক্ষের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। তাছাড়া, ওয়াশিংটনের নজর ও সামরিক সম্পদ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে বেশি চলে যাওয়ায় কিয়েভ একধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই ইরানকে এই সংঘাতে টেনে আনলে আমেরিকার সমর্থন ইউক্রেনের দিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে বলে ইউক্রেনীয় নীতি নির্ধারকরা চিন্তা করছেন।

ইউক্রেনীয় এই কৌশলের মাধ্যমে ইসরায়েলও সরাসরি লাভবান হতে পারে। এর ফলে মার্কিন-ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি এই যুদ্ধের অংশ হয়ে উঠবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ইসরায়েল বিশ্বজুড়ে তার ভাবমূর্তির সংকট কাটিয়ে উঠতে এই যুদ্ধকে নিজেদের সুরক্ষার বদলে ইউক্রেনকে রক্ষার যুদ্ধ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এক সুবর্ণ সুযোগ পাবে।

ঐতিহাসিকভাবে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক সবসময় সহজ ছিল না। ঊনবিংশ শতাব্দীতে অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি এবং বিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক টানাপোড়েনে দুটি দেশ পরস্পরকে সন্দেহের চোখে দেখে এসেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পরও মস্কো ও তেহরানের নীতিগত দূরত্ব বজায় ছিল। তবে সময় ও দূরদর্শী রাজনীতির প্রয়োজনে তা পরবর্তীতে কৌশলগত ও সামরিক অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে। যৌথ প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর তাগিদ আজ রাশিয়া ও ইরানকে এক ছাতার নিচে এনে দাঁড় করিয়েছে।

কাস্পিয়ান সাগরের মতো সুরক্ষিত এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনস্থ একটি অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য এক মারাত্মক সতর্কবার্তা। এই পানিপথটি কেবল একটি সীমান্ত বা রুট নয় বরং রাশিয়া ও ইরানের জন্য বিশ্ব নিষেধাজ্ঞার ফাঁক গলে অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ইউক্রেনীয় এই হামলার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, বৈশ্বিক অস্থিরতার মানচিত্র প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পানিপথ ও ভূখণ্ডে ডালপালা মেলে প্রসারিত হচ্ছে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে বিশ্বব্যবস্থার জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় ডেকে আনবে।




কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপলো ইকুয়েডরও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) ৭টা ৩৪ মিনিট পশ্চিম কলম্বিয়ায় এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের কম্পনে প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলাও কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এবং কলম্বিয়ার সংশ্লিষ্ট ভূতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত চোকো অঞ্চলের ‘সান হোসে দেল পালমার’ এলাকায়। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার (ইউএনজিআরডি-এর মতে ৭৯ কিমি)।

সোমবার সকালে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের কম্পন শুধু চোকোতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেও তা অনুভূত হয়েছে। এমনকি দেশটির সীমানা পেরিয়ে ভেনেজুয়েলা পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

ভূমিকম্পের তীব্রতায় বেশ কিছু এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। চোকো বিভাগের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্ডোবা-কুরি জানান, ভূমিকম্পের প্রভাবে বিভাগের রাজধানী কিবদোতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া শহরটির বেশ কিছু স্থাবর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কাজ করছে। সেই সঙ্গে সম্ভাব্য আফটারশক বা অনুকম্পনের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান গভর্নর। তিনি বলেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করছে ও শিগগিরই প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

তবে ভূমিকম্পটির মাত্রা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। ইউএসজিএস ও কলম্বিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭ দশমিক ৪ বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে কলম্বিয়ার ন্যাশনাল ইউনিট ফর ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট (ইউএনজিআরডি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৬ ও এর গভীরতা ছিল ৭৯ কিলোমিটার।

ইউএনজিআরডি জানিয়েছে, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য যাচাই করতে তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ফলে ভূমিকম্পের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ও হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই ভূমিকম্পের আগে জুনের শেষ দিকে প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলায় পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই দুটি ভূমিকম্পে শত শত ভবন ধ্বংস ও ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ঘটনার পর আবারও দক্ষিণ আমেরিকার এই অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।




সাতক্ষীরায় চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ইসলাম

ডেস্ক নিউজ : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াত নেতা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে বিচারক মো. সাইদুর রহমান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী পবিত্র কুমার জানান, আসামিরা জামিনে থাকলে সরকারি প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ মণ্ডল ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে রাতে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন শ্যামনগর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় হাজী নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে তার ছেলে আব্দুর রহমান, বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি ও প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে।

তবে মামলার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে হাজী মো. নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন যে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এদিকে আদালত চত্বরে নজরুল ইসলামের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার ছোট ছেলে সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।




নাহিদ বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটে ‘বড় হুমকি’: তাসকিন

ক্রীড়া ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে উঠেছে পেস আক্রমণ। স্বাগতিকদের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন পেসারকে না পাওয়ায় কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে নাহিদ রানার চোটে বোলিং আক্রমণে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা তুলে ধরেছেন তাসকিন আহমেদ। সতীর্থকে মিস করার কথা জানিয়ে নাহিদ রানাকে বিশ্ব ক্রিকেটের ‘বড় হুমকি’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বর্তমানে ডারউইনে অবস্থান করছে বাংলাদেশ দল। তবে সিরিজ শুরুর আগেই চোটের কারণে প্রথম টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন নাহিদ রানা। শরিফুল ইসলামও দলে না থাকায় বাংলাদেশের পেস আক্রমণে অভিজ্ঞতার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব পড়তে যাচ্ছে।

ডারউইনে অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাহিদ রানার চোটকে বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা বলে স্বীকার করেছেন তাসকিন আহমেদ। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে নাহিদের গতি ও বাউন্স কাজে লাগতে পারত বলে মনে করেন তিনি। তাসকিন বলেন, ‘আমরা তাদের খুব মিস করব, বিশেষ করে নাহিদ রানাকে। সে বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটে বড় হুমকি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সে চোট পেয়েছে।’
তবে নাহিদ না থাকলেও বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে যারা আছেন, তাদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখছেন তাসকিন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের প্রমাণ করার এটিকে দারুণ সুযোগ হিসেবেও দেখছেন তিনি। আমি এবং আরও কয়েকজন বোলারের কিছুটা অভিজ্ঞতা আছে, ভালো করার জন্য। অস্ট্রেলিয়ায় খেলা বোলারদের জন্য এটি দারুণ একটি সুযোগ।

নাহিদ ও শরিফুল দুজনই থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও ভালো হতে পারত বলে মনে করেন তাসকিন। তবে তাদের অনুপস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে দেখছেন না তিনি। বরং যারা আছেন, তাদের নিয়েই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো ক্রিকেট খেলার প্রত্যাশা করছেন তাসকিন, নাহিদ ও শরিফুল থাকলে পরিস্থিতি হয়তো ভিন্ন হতে পারত। তবে আমরা ভালো করার আশা করছি।

বাংলাদেশের পেস আক্রমণে নাহিদ রানার গুরুত্ব তার গতি ও বাউন্সেই সবচেয়ে বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে এ দুই অস্ত্র দিয়ে নিজেকে আলাদা করে মেলে ধরেছেন এই তরুণ পেসার। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নাহিদের উপস্থিতি বাংলাদেশের বোলিংয়ে বাড়তি বৈচিত্র্য আনতে পারত। তার অনুপস্থিতিতে সেই দায়িত্ব এখন তাসকিনসহ অন্য পেসারদের কাঁধে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ জয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বাংলাদেশের। তবে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে লড়াইটা যে একেবারেই ভিন্ন, তা উপলব্ধি করছেন তাসকিন আহমেদও। নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে গিয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়াই এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য




মালয়েশিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ এইচপি

ক্রীড়া ডেস্ক : সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৮৯ রানে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও বড় ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল। এদিন ৭৪ বল বাকি থাকতেই সাত উইকেটের বড় জয় পায় তারা। এই জয়ে দুই ম্যাচ সিরিজে মালয়েশিয়াকে ২-০ তে হোয়াইটওয়াশ করলো বাংলাদেশ এইচপি।

মিরপুর শের-এ-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মালয়েশিয়ার দেওয়া ১০৬ রানের ছোট লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ঝড়ো সূচনা করেন দুই ওপেনার জিসান ও জাওয়াদ আবরার। ইনিংসের প্রথম বলেই ছক্কা মেরে শুরু করেন জিসান। মালয়েশিয়া বোলারদের ওপর ঝড় চালান আবরার। তবে, ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সমান দুটি করে চার ও ছক্কায় ৮ বলে ২৩ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তাকে ফেরান পেসার আরিফউল্লাহ।

একই ওভারে আরিফের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিন নম্বরে নামা আরিফুল ইসলাম। ৩ বলে ৪ রান করে বোল্ড হন তিনি।

দ্রুত দুই উইকেট হারালেও ঝড় থামাননি জিসান। চার নম্বরে থাকা সাব্বির রহমানকে নিয়ে তান্ডব চালাতে থাকেন এই ওপেনার। তাদের ৫০ রানের জুটিতেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশ এইচপির। অবশ্য এদিনও ইনিংস বড় করতে পারেননি সাব্বির। প্রশান্ত মাধুকার একটি বলে স্লগ করতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। ফেরার আগে করে যান ৮ বলে ১২ রান।

এরপর শামীম পাটোয়ারীকে নিয়ে বাকি কাজটা শেষ করেন জিসান। ১৮ বলেই ফিফটি তুলে নেন এই ওপেনার। শেষ পর্যন্ত জিসানের ২১ বলে সাত ছক্কায় ৫৭ রানের অপরাজিত ইনিংসে চড়ে সাত উইকেটের বড় জয় পায় বাংলাদেশ এইচপি। ৬ বলে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন শামীম। মালয়েশিয়ার হয়ে আরিফ দুইটি ও প্রশান্ত একটি উইকেট নেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নামা মালয়েশিয়ার ইনিংসে তৃতীয় ওভারে প্রথম আঘার হানেন মোহাম্মদ রুবেল। রানের খাতা খোলার আগেই সাইফউল্লাহ মালিককে বোল্ড করেন তিনি। এরপর বেশিক্ষণ টেকেননি আরেক ওপেনার আসলাম খান বিন মালিকও। ২০ বলে ১৮ রান করে বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল ইসলামের বলে বোল্ড হন তিনি।

তৃতীয় উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক সৈয়দ আজিজ ও আহমেদ আকিল ওয়াহিদ। তবে, ধীর গতির ব্যাটিংয়ের কারণে বড় স্কোর গড়ার পথে ছিল না ডেভ হোয়াটমোর শিষ্যরা। দুই চারে ৩৩ বলে ৩০ রান করেন ওয়াহিদ। ইনিংসের ১৬ তম ওভারে এই জুটি ভাঙেন পেসার আবু হায়দার রনি। মালয়েশিয়া অধিনায়ক আজিজকেও ফেরান রনি। রনির বলে জিসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫২ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলে আউট হন আজিজ।

নির্ধারিত ২০ ওভারে চার উইকেটে ১০৫ রানে শেষ হয় মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্সের হয়ে রনি দুইটি, রুবেল ও রাকিবুল একটি করে উইকেট নেন।




ডনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তি হয় সামিরা-আজিজের: দাবি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর

বিনোদন ডেস্ক : ঢাকাই চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরও কাটেনি রহস্য। সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে আদালতে হাজির করা হলে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

রোববার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে ডনকে গ্রেপ্তারের পর সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বিকেলে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে সিআইডি। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বরাতে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জানান, সালমান শাহর স্ত্রী সামিরার সঙ্গে শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের গোপন সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের জেরেই সালমান শাহকে হত্যার জন্য খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়েছিল। রাজসাক্ষী রিজভী আহমেদের দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে এই তথ্য উঠে এসেছে।

শুধু হত্যার পরিকল্পনা নয়, মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগের জন্য সালমান শাহর ভাই বিল্টুকে অপহরণের পরিকল্পনারও অভিযোগ রয়েছে ডন ও ডেভিডের বিরুদ্ধে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় ১৯৯৭ সালের ১৯ জুলাই গ্রেফতার হন রিজভী আহমেদ। পরে একই বছরের ২৪ জুলাই সালমান শাহ হত্যার ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। দীর্ঘ এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া ও তদন্তে এখন এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা হবে।