টেস্ট দলে ৩ জন অতিরিক্ত ক্রিকেটার রেখেছে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামী ৯ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে ম্যাচটি। ১৫ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন নিয়মিত ক্রিকেটাররাই। তবে তাদের সঙ্গে যাচ্ছেন আরও তিন অতিরিক্ত ক্রিকেটার।

স্পিনার নাইম হাসানসহ দুই জন পেসার ইকবাল হোসেন ইমন এবং মুশফিক হাসান আছেন অতিরিক্ত তালিকায়। আরব আমিরাতে টেস্ট ম্যাচে মাঠে নামার আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। এই ম্যাচের বাড়তি চাপ সামলাতেই অতিরিক্ত ৩ ক্রিকেটারকে নিয়ে যাচ্ছে বিসিবি।

বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘আপনারা জানেন যে আমাদের এশিয়ান গেমসে দল যাচ্ছে, সেখানে ছয়জন ক্রিকেটার আছে এই দল (আফগানিস্তান টেস্ট) থেকে। সে জন্য আমরা ট্রাভেলিং রিজার্ভ হিসেবে নাইম হাসান, মুশফিক হাসান এবং ইকবাল হোসেন ইবনকে পাঠাচ্ছি। তারা দলের সঙ্গে যাবে, ট্রাভেল করবে এবং সেখানে অনুশীলন করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের টেস্ট দলে থাকা ছয়জন ক্রিকেটার এশিয়ান গেমসে খেলতে যাবেন। তবে আফগানিস্তান সিরিজের আগে দলের যে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে, সেখানে এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাওয়া ক্রিকেটারদের পরিবর্তে রিজার্ভ খেলোয়াড়েরা যোগ দেবেন।’




বেঁচে থাকলে ৫৫-তে পা রাখতেন ‘স্বপ্নের নায়ক’ সালমান শাহ

বিনোদন ডেস্ক : নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। যাকে বলা হতো বাংলা চলচ্চিত্র জগতের রাজপুত্র। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭ টি সিনেমা উপহার দেওয়া প্রয়াত এই চিত্রনায়কের জন্মদিন আজ। বেঁচে থাকলে আজ ৫৫ বছরে পা রাখতেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই স্বপ্নের নায়ক।

১৯৭১ সালের এই দিনে সিলেটের জকিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন, যিনি চলচ্চিত্রে এসে পরিচিতি পান সালমান শাহ নামে। অল্প বয়সেই চলচ্চিত্রে পা রেখে তিনি হয়ে উঠেছিলেন নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক।

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহর। প্রথম সিনেমাতেই তার অভিনয় ও পর্দার উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরপর একের পর এক সিনেমায় তার অভিনয় তাকে নিয়ে যায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। শুধু অভিনয় নয়, তার পোশাক, চুলের স্টাইল, কথা বলার ধরন ও ব্যক্তিত্বও তরুণ প্রজন্মের কাছে হয়ে উঠেছিল অনুকরণীয়। ফলে তিনি শুধু একজন চলচ্চিত্র তারকা ছিলেন না, হয়ে উঠেছিলেন একটি প্রজন্মের আবেগ ও স্বপ্নের অংশ।

যদিও সালমান শাহ তার অভিনয় জীবন শুরু করেন টেলিভিশন নাটক দিয়ে। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। এরপর কাজ করেছেন—দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফেরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫) এবং সবশেষ স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকে।

রুপালি পর্দায় সালমান শাহর সঙ্গে চিত্রনায়িকা শাবনূরের জুটি ছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাদেরকে অন্যতম সেরা জুটি বলা হয়। ক্যারিয়ারে সালমানের করা ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর।

সময়ের সঙ্গে চলচ্চিত্রে এসেছে অনেক পরিবর্তন, নতুন প্রজন্মের বহু নায়ক দর্শকের সামনে এসেছেন। কিন্তু সালমান শাহর জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং তার মৃত্যুর পরও তাকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহ ও ভালোবাসা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে।

আজ তরুণ প্রজন্মের অনেকেই সালমান শাহকে দেখেছেন তার মৃত্যুর বহু বছর পর। তবুও তার অভিনীত সিনেমা, গান ও বিভিন্ন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ফিরে আসে। জন্মদিন কিংবা মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে ঘিরে ভক্তদের স্মৃতিচারণে ভরে ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। চলচ্চিত্রে পরবর্তী সময়ে আসা অনেক নায়কও তাকে নিজেদের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সালমান শাহর জীবন ছিল ছোট, কিন্তু তার রেখে যাওয়া প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। বেঁচে থাকলে আজ হয়তো ৫৫ বছরের একজন অভিজ্ঞ অভিনেতা হিসেবে আরও বহু চরিত্রে দর্শকদের মুগ্ধ করতেন। কিন্তু সেই সম্ভাবনার গল্প আজ কেবল কল্পনাতেই। বাস্তবে তিনি থেমে গেছেন ২৫-এ। আর দর্শকের হৃদয়ে রয়ে গেছেন সেই চিরতরুণ নায়ক হয়ে।

সময় পেরিয়েছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু সালমান শাহর প্রতি ভালোবাসা আজও অটুট। এ কারণেই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তার নাম উচ্চারিত হলে আজও ফিরে আসে এক আবেগময় সময়ের স্মৃতি।

সবার প্রিয় এ ‘স্বপ্নের নায়ক’ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে, মৃত্যুর কারণ এখনো রহস্যের চাদরে মোড়ানো।

ক্ষণজন্মা তুমুল জনপ্রিয় এই নায়কের ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘জীবন সংসার’, ‘প্রেম প্রিয়াসী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বুকের ভেতর আগুন’ ইত্যাদি।




মধ্যপ্রাচ্যেই আটকা শ্রমবাজার

ডেস্ক নিউজ : বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থান বাড়লেও শ্রমবাজারে কোনো বৈচিত্র্য আসেনি। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশেই আটকে আছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার। গত বছর মোট কর্মী রপ্তানির দুই-তৃতীয়াংশই গেছে সৌদি আরবে। আর মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ-জিসিসিভুক্ত ছয় দেশে গেছে ৮১ শতাংশ কর্মী। যা বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের একক দেশ ও অঞ্চল নির্ভরতার চিত্রকেই ফুটিয়ে তুলছে।

এই নির্ভরতা দেশের শ্রমবাজারে চরম ঝুঁকি তৈরি করছে। আঞ্চলিক সংঘাত, নীতি পরিবর্তন, ভিসা সীমিতকরণ কিংবা শ্রমবাজারে নতুন শর্ত আরোপ কর্মী রপ্তানির পুরো ব্যবস্থাকেই চাপে ফেলে। এজন্য বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার তাগিদ দিচ্ছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তবে কর্মীদের কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতার অভাব বিকল্প শ্রমবাজারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৬৮ জনশক্তি বিদেশে গেছে। এর মধ্যে সৌদি আরবেই যায় ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৯৪ জন। যা বিদেশগামী মোট কর্মীর ৬৭ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কাতার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও সেখানে গেছে মাত্র ১ লাখ ৭ হাজার ৬০২ জন। এরপর সিঙ্গাপুরে ৭০ হাজার ৮৩২, কুয়েতে ৪২ হাজার ৭৪৮ এবং মালদ্বীপে ৪০ হাজার ১৫৯ জন কর্মী গেছে।  শীর্ষ পাঁচ গন্তব্যের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতের অবস্থান শক্তিশালী।

চলতি বছরেও বাংলাদেশের শ্রমবাজারের চিত্র প্রায় একই। ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৩৭০ জন কর্মী বিদেশে গেছে। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই গেছে ২ লাখ ৯৭ হাজার ২৬৯ জন। এরপর সিঙ্গাপুরে ৫৫ হাজার ৯৫৯ জন, কাতারে ৪৭ হাজার ৯৮১ জন, মালদ্বীপে ২৪ হাজার ২৬০ জন এবং কুয়েতে গেছে ২০ হাজার ৪৩২ জন।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৪১টি দেশে বাংলাদেশি কর্মী গেলেও প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মীই গেছে সৌদি আরব, কাতার, সিঙ্গাপুর, কুয়েত ও মালদ্বীপে। বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বড় অংশ উপসাগরীয় অঞ্চলনির্ভর। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের প্রায় ৮১ শতাংশ কর্মী জিসিসিভুক্ত ছয় দেশ- সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও বাহরাইন গেছে। সে বছর মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৪৬ শতাংশ এসেছে এসব দেশ থেকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে কোনো বড় পরিবর্তন হলে তার প্রভাব শুধু কর্মসংস্থানে নয়, রেমিট্যান্স প্রবাহেও পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

একক বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা শ্রমবাজারে চরম ঝুঁকি তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট দেশের নীতি পরিবর্তন, ভিসা সীমিত করলে কিংবা শ্রমবাজারে নতুন শর্ত আরোপ করলে কর্মী পাঠানোর পুরো ব্যবস্থাই চাপে পড়ে। চলতি বছরের শুরুতে সৌদি আরব কর্মী ভিসার যাচাইবাছাই কঠোর করে ফেলে। সে সময় ভুয়া বা প্রকৃত চাহিদাবিহীন চাকরির আবেদনের অভিযোগে কয়েক হাজার বাংলাদেশি কর্মীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সৌদিমুখী কর্মী পাঠানোর গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ৬২ হাজার ৪৩৬ জন কর্মী বিদেশে যায়, যা জানুয়ারির তুলনায় ৩৬ শতাংশ কম।

আবার মার্চে আটকে থাকা ভিসা ছাড়পত্রের কারণে কর্মী পাঠানো বেড়ে যায়। ওই মাসে সৌদি আরব একাই বাংলাদেশের মোট বিদেশগামী কর্মীর প্রায় ৭৭ শতাংশ গ্রহণ করে। একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার চিত্রই বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংবেদনশীলতা ফুটিয়ে তুলছে। এজন্য বিকল্প বাজার খোঁজার তাগিদ দিচ্ছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। সরকারও নতুন বাজারে প্রবেশের কথা বলছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ এশিয়া, আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তি বা সমঝোতা নিয়ে কাজ চলছে। তবে এ ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ কর্মীদের ভাষাগত ও কারিগরি দক্ষতা।

২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের ৪৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ ছিল কম দক্ষ, ৩৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ আধা-দক্ষ, ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশ দক্ষ এবং মাত্র ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ পেশাজীবী। অর্থাৎ মোট কর্মীর ৭৭ শতাংশ কম দক্ষ বা আধা-দক্ষ। এসব কর্মীর বড় অংশ এখনো নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা, গৃহস্থালি, ডেলিভারি, সাধারণ শ্রমিকসহ তুলনামূলক কম মজুরির কাজে বেশি নিয়োজিত। বিপরীতে ইউরোপ ও অন্যান্য উন্নত অর্থনীতির দেশে স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, কারিগরি পেশা, নির্মাণের বিশেষায়িত কাজসহ দক্ষ কর্মীর চাহিদা বেশি। ফলে বাংলাদেশ সেসব বাজারে প্রয়োজনীয় মাত্রায় প্রবেশ করতে পারছে না।

বৈদেশিক কর্মসংস্থানের এই চিত্রকে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কর্মী রপ্তানির পুরো কাঠামোকেই হুমকির মুখে ফেলছে। এজন্য নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, দ্বিপক্ষীয় শ্রমচুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা প্রশিক্ষণ, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিচ্ছেন তারা।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, শ্রমবাজারে একক দেশের ওপর নির্ভরতা অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিশ্বের অনেক দেশেই বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদা রয়েছে। জাপান, মালয়েশিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। আমাদের এখন বাজার অনুসন্ধান করতে হবে। পাশাপাশি যেসব দেশে কর্মী চাহিদা রয়েছে সেসব দেশের সার্ভিস সেন্টার কিংবা কনস্যুলেট অফিস ঢাকায় স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে।




পানির নিচে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন বহনে বিশেষ মাদারশিপ তৈরি করছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পানির নিচে ব্যবহারের জন্য বিশাল আকারের স্বয়ংক্রিয় ড্রোন বহনে বিশেষ একটি মাদারশিপ তৈরি করছে চীন। সাংহাইয়ের হুডং ঝোংহুয়া জাহাজ নির্মাণ কারখানায় জাহাজটির নির্মাণকাজ চলছে বলে স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাহাজটি চীনের নৌবাহিনীর সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

নৌ ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষক এইচ আই সাটন নেভাল নিউজে লিখেছেন, স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণে সবচেয়ে সম্ভাব্য ধারণা হলো, বড় আকারের চালকবিহীন ডুবোযান বহনের জন্যই জাহাজটি তৈরি করা হচ্ছে। জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৭০ ফুট এবং প্রস্থ ৮৮ দশমিক ৫ ফুট বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাহাজটির পেছনের অংশে পানিতে ডুবোযান নামানোর জন্য বিশেষ ওয়েট ওয়েল ডেক ও ক্র্যাডল রয়েছে। ১২টি উল্লম্ব জ্যাক আপ বাহুর সাহায্যে এসব ডুবোযান পানিতে নামানো সম্ভব হবে। অভ্যন্তরীণ হ্যাঙ্গারে অন্তত চারটি বিশাল স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান রাখার সক্ষমতা থাকতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, চীনের তৈরি বলে ধারণা করা দুটি বড় চালকবিহীন ডুবোযানের অস্তিত্ব এরই মধ্যে জানা গেছে। একটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১৫ ফুট এবং অন্যটির ১৪৮ ফুট। ১১৫ ফুট দীর্ঘ ডুবোযানটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অরকা স্বয়ংক্রিয় ডুবোযানের দ্বিগুণেরও বেশি বড়। এর একটি ১০ হাজার নটিক্যাল মাইলের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে স্যাটেলাইট ছবির ভিত্তিতে জাহাজটির উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয়। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক আলেসান্দ্রো আরদুইনো বলেন, ছবিগুলো জাহাজটির উদ্দেশ্য নিশ্চিত করে না। তবে বড় চালকবিহীন ডুবোযানের মাদারশিপ হিসেবে এটি ব্যবহারের সম্ভাবনা বাড়ছে।

ভারতের তক্ষশিলা ইনস্টিটিউশনের গবেষক আদিত্য রামানাথান বলেন, এমন জাহাজ পানির নিচে দীর্ঘ সময় তথ্য সংগ্রহ, শত্রু জাহাজ ও সাবমেরিনের শব্দ শনাক্ত এবং সমুদ্রের তাপমাত্রা ও লবণাক্ততার তথ্য সংগ্রহে ব্যবহার করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে এসব ডুবোযান সামরিক অভিযানেও ব্যবহারের সক্ষমতা রাখতে পারে।

দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীন ও কয়েকটি দেশের বিরোধের মধ্যে বেইজিংয়ের স্বয়ংক্রিয় নৌব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ছে। জাহাজটি সাগরে নামানোর আগে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনা সামরিক কর্তৃপক্ষ এখনো জাহাজটির নির্মাণের বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।




রাজধানীর কাফরুল থানার সামনে যাত্রীবাহী বাসে আগুন

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর কাফরুল থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মিরপুর সুপার লিংক মালিক সমিতির একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন জ্বলছে।

কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম বাসে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিতে আগুনের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

তিনি আরও জানান, তবে প্রাথমিকভাবে কীভাবে বা কারা বাসটিতে আগুন দিয়েছে সেই বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার কারণ জানতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে পর্যটক নিখোঁজ

ডেস্ক নিউজ : কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে স্রোতের টানে ভেসে গিয়ে সীমান্ত নামের এক পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। এ সময় স্রোতে ভেসে যাওয়া আরও দুই পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করেছেন লাইফগার্ড ও বিচকর্মীরা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সৈকতের সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের মধ্যবর্তী গ্রিন নেচার হোটেলসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ সীমান্ত কিশোরগঞ্জ শহরের শোলাকিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি গত বুধবার বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। তাঁরা শহরের কলাতলী এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন।

বিচকর্মীরা জানান, শুক্রবার বিকেলে সীমান্তসহ তাঁর বন্ধুরা সমুদ্রসৈকতে গোসলে নামেন। একপর্যায়ে স্রোতের টানে তিনজন ভেসে যেতে থাকেন। খবর পেয়ে লাইফগার্ড ও বিচকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে সীমান্তকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুবুল আলম বলেন, সীমান্ত সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যান। তাঁকে উদ্ধারে সাগরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।




বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কাভানের ওপর নজর রাখছে রিয়াল-বার্সা

ক্রীড়া ডেস্ক : মায়ের দিক থেকে জার্মান-বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ফুটবলার কাভান সুলিভান। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ডাক পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলে। এর মাঝেই শোনা যাচ্ছে নতুন খবর। কাভানের দিকে নজর রাখছে স্পেনের দুই জায়ান্ট ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা।

বর্তমানে মেজর লিগ সকারে দল ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নে খেলছেন কাভান সুলিভান। তরুণ এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের সঙ্গে ইতিমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করে রেখেছে ম্যানচেস্টার সিটি। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৮ সালে ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হলে তিনি ইংলিশ ক্লাবটিতে যোগ দেবেন।

তবে টিমটকের বরাতে দিয়ে ইএসপিএন জানিয়েছে, বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ উভয় ক্লাবই কড়া নজর রাখছে কাভানের ওপর। ইএসপিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা সুলিভানের পারফরম্যান্সের ওপর দৃষ্টি রাখছে। যদি ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি দ্রুত প্রথম একাদশে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হন, তবে সুযোগ বুঝে তাকে স্পেনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে তারা।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে পা রাখেন সুলিভান। ২০২৪ সালে ফিলাডেলফিয়ার সঙ্গে চুক্তি করার সময়ই ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছান। ২০২৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সিটিতে যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি বর্তমান ক্লাবেই তার খেলা চালিয়ে যাবেন।



‘নতুন কুঁড়ি’ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তচিন্তার ফসল: লিটন

বিনোদন ডেস্ক : ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তচিন্তার ফসল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম লিটন।

তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতি ও শিশুদের প্রতি জিয়াউর রহমানের গভীর অনুরাগ ছিল। এ কারণেই তিনি ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা ও শিশুপার্ক প্রতিষ্ঠা করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বেইলি রোডের গাইড হাউস মিলনায়তনে সবুজ বাংলা কালচারাল ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শরীফুল ইসলাম লিটন বলেন, জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই এ দেশের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি তাঁর মুক্তচিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রিয়েটিভ ইকোনমির ওপর জোর দিয়েছেন। সংস্কৃতিকর্মীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তারেক রহমান ঘোষিত ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বাস্তবায়িত হবে।

তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতিই একটি জাতির মূল পরিচয়। সংস্কৃতির উন্নয়ন ছাড়া দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। জাতিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে হলে সংস্কৃতির শক্তিতেই এগিয়ে যেতে হবে। সাংস্কৃতিক জাগরণ না ঘটলে কোনো জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, আবহমান বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতি- লালন, হাসন, ভাটিয়ালি ও পল্লীগীতিই আমাদের জাতিসত্তার মূল পরিচয়। দেশের পরিচয়কে বিশ্বের দরবারে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরতে হলে সংস্কৃতির চর্চাকে আরও বেগবান করতে হবে।




নারী-পুরুষ সমতায় দক্ষিণ এশিয়ায় আবারও শীর্ষে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ : দক্ষিণ এশিয়ায় নারী-পুরুষ সমতায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট-২০২৬’-এ এই তথ্য উঠে এসেছে।

২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলার পর থেকে টানা ১২ বছর ধরে এই অঞ্চলে এক নম্বর স্থান ধরে রেখেছে ঢাকা।

গতকাল বুধবার প্রকাশিত সূচকটির ২০তম সংস্করণ অনুযায়ী, বাংলাদেশে সার্বিক লিঙ্গ বৈষম্য কমে দাঁড়িয়েছে ৭১.২ শতাংশে, যা গত বছর ছিল ৭৭.৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশে লিঙ্গসমতার সূচক কমেছে ৬.২ শতাংশ পয়েন্ট।

অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপ ৬৬.৯ শতাংশ সমতা নিয়ে ১১৯তম, নেপাল ৬৬.৯ শতাংশ নিয়ে ১২০তম, ভুটান ৬৬.৩ শতাংশ নিয়ে ১২১তম, শ্রীলঙ্কা ৬৪.৬ শতাংশ নিয়ে ১২৯তম এবং ভারত ৬৪.৫ শতাংশ সমতা নিয়ে ১৩১তম স্থানে রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম লিঙ্গসমতা থাকা দেশ পাকিস্তান। বিশ্বেও দেশটির অবস্থান তৃতীয় সর্বনিম্ন। দেশটি তার লিঙ্গবৈষম্যের ৫৯.৫ শতাংশ কমাতে পেরেছে। তবে ২০২৫ সালের তুলনায় পাঁচ ধাপ এগিয়েছে পাকিস্তান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ ক্ষেত্রটিই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে দুর্বল জায়গা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ খাতে বৈষম্য দূর হয়েছে ৪১.৯ শতাংশ, যা আগের বছরে ছিল ৪৫.৭ শতাংশ।

কাজের ক্ষেত্রে অর্জিত আনুমানিক আয়, শ্রমশক্তিতে নারীদের মোট অংশগ্রহণ এবং উচ্চপদস্থ নেতৃত্বে নারী কর্মী কমে যাওয়ার কারণে এই পতন হয়েছে। এই তিনটি ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১৫, ৫.৭ এবং ১.৩ শতাংশ পয়েন্ট সমতা কমেছে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন খাতে গত বছর বিশ্বের ৩ নম্বরে থাকলেও এবার বাংলাদেশ নেমে গেছে ১২তম স্থানে। এই খাতে অর্জিত সমতার হার ৫০.৯ শতাংশ। বিশেষ করে সংসদে প্রতিনিধিত্বের সমতার হার পরিমাপের পুরো মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্নে (২.৪ শতাংশ) নেমে এসেছে।

এদিকে, বৈশ্বিক লিঙ্গসমতা সূচকে টানা ১৭তম বছরের মতো শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড। দেশটি তার লিঙ্গবৈষম্যের ৯৩ শতাংশ কমিয়েছে এবং ৯০ শতাংশের বেশি লিঙ্গসমতা অর্জন করা একমাত্র দেশ হিসেবে রয়েছে।

ফিনল্যান্ড ৮৭.২ শতাংশ এবং নরওয়ে ৮৫.৭ শতাংশ সমতা নিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং টানা তৃতীয় বছর ধরে দেশ দুটি একই অবস্থান ধরে রেখেছে। আর বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৯তম।

ডব্লিউইএফের এই সূচকে চারটি প্রধান ক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য পরিমাপ করা হয়—অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ, শিক্ষাগত অর্জন, স্বাস্থ্য ও আয়ু এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন। ক্ষেত্রগুলোর অধীনে ১৪টি ১৪টি উপ-সূচকের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।




বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল ২ শতাংশের বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্ববাজারে বড় ধরনের উত্থানের মধ্য দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বর্ণের দাম। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম এক লাফে ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আগের সেশনেই স্বর্ণের দরপতন হয়ে প্রায় ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্নে নেমে গিয়েছিল। তবে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমা এবং মার্কিন ডলারের দরপতনের জেরে বিনিয়োগকারীরা আবারও স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে ধাতুটির বাজারে এই দ্রুত ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।

স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩৬৪ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১১ মিনিটে এই দর রেকর্ড করা হয় বলে জানা গেছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে।

এদিকে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দর বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪০৪ দশমিক ৮০ ডলার।

বিনিয়োগকারীরা সর্বশেষ ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বৃদ্ধি এবং পরবর্তী নীতিগত অবস্থানের বিভিন্ন ইঙ্গিত পর্যালোচনা করছেন। এর মধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম কমা ও ডলারের দুর্বলতা স্বর্ণের বাজারে নতুন করে ক্রয়চাপ তৈরি করেছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের বাজারে কয়েক দফা দাম কমার পর আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সবশেষ ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়েছে। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।

বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে এ দাম কার্যকর হয়। ফলে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দেশের বাজারে নির্ধারিত নতুন দামেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকায়।