ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে সুপারট্যাঙ্কার তৈরির জোয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার চলমান উত্তেজনা এড়াতে সমদ্রপথে বাণিজ্য রুটগুলো পরিবর্তিত হচ্ছে এবং দূরপাল্লার পথে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের চাহিদা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চলতি বছরে বিপুল সংখ্যাক সুপারট্যাঙ্কার কেনার আদেশ দিয়েছেন জাহাজ মালিকরা।

২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের এই বিশাল কেনাকাটা অন্তত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এমন প্রবণতা থেকে বুঝা যাচ্ছে, ক্রেতারা মধ্যপ্রাচ্যের উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে। ফলে আটলান্টিক অঞ্চল থেকে দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিয়ে তেল পরিবহনের বিষয়টি ক্রমশ গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার প্রক্রিয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ দূরত্বের তেল বাণিজ্য অব্যাহত থাকবে, জাহাজ মালিকদের মধ্যে এমন প্রত্যাশাও এর মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে।

শিপিং অ্যানালিটিক্স বা বিশ্লেষণধর্মী প্রতিষ্ঠান ‘ভেসন নটিক্যাল’-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক রেবেকা গালানোপুলোস বলেন, আমরা মনে করি আটলান্টিক থেকে এশিয়ায় দীর্ঘ দূরত্বের তেল পরিবহন বৃদ্ধির ওপর বাজি ধরা জাহাজ মালিকরাই ভিএলসিসি বা বিশাল আকৃতির অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোর নতুন করে চাহিদা তৈরির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছেন।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে

এশিয়া ও ইউরোপের তেল শোধনাগারগুলোকে এখন গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ফলে সৃষ্ট ঘাটতি পূরণের জন্য বিকল্প উৎসের সন্ধান করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো।যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং আটলান্টিক অঞ্চলের অন্যান্য সরবরাহকারী দেশগুলোও তাদের উৎপাদন বাড়াচ্ছে।

ডেটা ইন্টেলিজেন্স বা তথ্য-বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভর্টেক্সা’-র বিশ্লেষক আইওনিস পাপাদিমিত্রু জানান, দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূলের দেশগুলো বিশেষ করে ব্রাজিল, গায়ানা ও আর্জেন্টিনা রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করবে। তিনি বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ এই অঞ্চলে দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় ২৫ লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে, যা মূলত ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারের চাহিদা মেটাবে এবং দীর্ঘ-দূরত্বের বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে। তিনি উল্লেখ করেন, বড় আকারের জাহাজে করে দীর্ঘ-দূরত্বের বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রত্যাশাও ক্রমশ বাড়ছে।

পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে তেল পরিবহন করে ওমান উপসাগরে অপেক্ষমাণ আরও বড় ট্যাঙ্কারে তা স্থানান্তর বা ‘রিলোড’ করার প্রয়োজনীয়তাও ভিএলসিসি এবং অপেক্ষাকৃত ছোট ‘সুয়েজম্যাক্স’ ট্যাঙ্কারের চাহিদা বাড়াচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারীরা দেখছেন, জাহাজ মালিকরা হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের সময় ইরানি হামলার ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক; তাই তারা নিজেরাই নিজস্ব জাহাজ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সৌদি আরবের যে পাইপলাইনটি দিয়ে তেল পশ্চিমে লোহিত সাগরের দিকে নেওয়া হতো সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিকে এই প্রক্রিয়ায় অনেক বড় পরিসরে অন্তত সাময়িকভাবে অংশ নিতে হবে। নরওয়েতে আয়োজিত এক সম্মেলনে একথা বলেছেন ট্যাঙ্কার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রন্টলাইন’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লার্স বারস্টাড।

ড্রোন হামলার মাধ্যমে পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে বৃহত্তম ট্যাঙ্কারগুলোর মাধ্যমে তেল পরিবহনের খরচ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ‘অ্যালাইড শিপব্রোকিং’-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ভিএলসিসি -র স্পট রেট বা তাৎক্ষণিক ভাড়ার হার ছিল দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ডলার, তা সম্প্রতি বেড়ে ৫ লাখ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ছোট বা মাঝারি জাহাজে করে তা বাইরে নিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় জাহাজগুলো দীর্ঘ সময় আটকে থাকে এবং অপেক্ষার সময় বেড়ে যায়, যা জাহাজের চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

চাহিদা এতটাই বেশি যে সম্মেলনটির আয়োজক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ‘প্যারেটো সিকিউরিটিজ’-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে একটি নতুন তেলবাহী ট্যাঙ্কারের অর্ডার দেওয়ার চেয়ে ১০ বছরের পুরনো ট্যাঙ্কার কেনা বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।

‘অ্যালাইড শিপব্রোকিং’-এর তথ্যমতে, প্রতিটি ভিএলসিসি নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ১৩ কোটি (১৩০ মিলিয়ন) ডলার। নতুন জাহাজ কেনার এই হিড়িক কেবল ভবিষ্যতের তেল সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। ‘ভেসন নটিক্যাল’-এর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের সংকট ও অতিরিক্ত সরবরাহের পর এখন বহর নবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, কারণ বিদ্যমান ভিএলসিসি বহরের প্রায় ২০ শতাংশ জাহাজের বয়সই ২০ বছরের বেশি।

‘অ্যালাইড শিপব্রোকিং’-এর ফ্রেইট মার্কেট বিশ্লেষক পাভলোস ফাকিনোস জানান, সাম্প্রতিক চুক্তিগুলোর মধ্যে এমন সব জাহাজও রয়েছে যা ২০২৯ ও ২০৩০ সালে হস্তান্তর করা হবে। এটি ইঙ্গিত দেয়, জাহাজ মালিকরা নিশ্চিত হয়েছে মাঝারি মেয়াদেও এই চাহিদা বজায় থাকবে।

ডেটা ইন্টেলিজেন্স ফার্ম ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, পুরনো ভিএলসিসিগুলোকে ভাঙার (স্ক্র্যাপ) পরিবর্তে ক্রেতারা কিনে নিচ্ছেন। এগুলো মূলত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন জাহাজ বহরের অংশ হয়ে উঠছে, যা পশ্চিমা মূলধারার শিপিং ও বিমা ব্যবস্থার বাইরে থেকে রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।

শিপিং অ্যানালিটিক্স প্ল্যাটফর্ম ‘সিগন্যাল গ্রুপ’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যেখানে ৯৩টি ‘ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার’ -এর আদেশ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ২১৭টি জাহাজের আদেশ দেওয়া হয়েছে। ‘অ্যালাইড শিপব্রোকিং’-এর হিসাবে এই সংখ্যা ৮৩ থেকে বেড়ে ১৬৪-তে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, বিশাল আকৃতির অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো একটি  প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে সক্ষম।




ভবনে এডিস মশার লার্ভা, দুই মালিককে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ : কুমিল্লা নগরীতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে অভিযান চালিয়েছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)। অভিযানে দুটি ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় দুই ভবন মালিককে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নগরীর ঝাউতলা ও বাদুরতলা ডাক্তারপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে ঝাউতলা এলাকায় ডা. আব্দুল করিমের বাসভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইভাবে বাদুরতলা ডাক্তারপাড়া এলাকায় নোমান নামের এক ব্যক্তির ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কুসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ভবনমালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ডেঙ্গু মশার উপদ্রবের হটস্পট শনাক্ত, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।




অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে পর্তুগাল-ওয়েলসের গ্রুপে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : আজারবাইজানে অনুষ্ঠেয় ‘ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’-এ কঠিন গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। ‘জি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে ইউরোপের দুই দল পর্তুগাল ও ওয়েলস। একই গ্রুপে আছে ইন্দোনেশিয়া, বুরুন্ডি ও ফিজি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে আয়োজিত এবারের টুর্নামেন্টে ১৯১টি দেশ অংশ নিচ্ছে। দলগুলোকে ৩২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে।

গ্রুপ পর্বে মাত্র তিন দিনে পাঁচটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশের কিশোররা। আগামী ২৪ অক্টোবর সকাল ৯টায় ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবে তারা।

পরদিন ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশের দুটি ম্যাচ রয়েছে। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে পর্তুগালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে দলটি।

গ্রুপ পর্বের শেষ দিনে ২৬ অক্টোবরও দুটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ওই দিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বুরুন্ডির বিপক্ষে এবং রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ফিজির বিপক্ষে খেলবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

দেশের বয়সভিত্তিক ফুটবলের উন্নয়নে কাজ করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ তরুণ ফুটবলারদের অভিজ্ঞতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা ও সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ করে দেবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

ভবিষ্যতের ফুটবলার তৈরির লক্ষ্যে এ ধরনের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বাফুফের। এখন পর্তুগাল ও ওয়েলসের মতো ইউরোপের শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের কিশোররা কেমন পারফর্ম করে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।




প্রথমবার বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে দল পেলেন আকবর

ক্রীড়া ডেস্ক : প্রথমবারের মতো বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী। নেপাল প্রিমিয়ার লিগের (এনপিএল) আসন্ন আসরে কর্ণালি ইয়াকসের জার্সিতে মাঠে নামবেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।

আকবরকে দলে নেওয়ার বিষয়টি অভিনব উপায়ে প্রকাশ করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সরাসরি ঘোষণা না দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুব বিশ্বকাপের ট্রফির সঙ্গে ব্যাটিং ও উইকেটকিপিংয়ের সরঞ্জামের ছবি পোস্ট করে আকবরের সঙ্গে চুক্তির খবর দেয় তারা।

৮ দল নিয়ে আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে মাঠে গড়াবে এনপিএলের তৃতীয় আসর, যা চলবে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কাঠমাণ্ডুর কীর্তিপুরে অবস্থিত ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টুর্নামেন্টের সবকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের নেপাল প্রিমিয়ার লিগে আকবরের পাশাপাশি মাঠ মাতাবেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও। তাকে দলে ভিড়িয়েছে পোখারা অ্যাভেঞ্জার্স।




আগামী মাসেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে মিলবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত

ডেস্ক নিউজ : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী মাসের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার খোজিন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গুলশান কার্যালয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হকের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এফবিসিসিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।

সৌজন্য সাক্ষাতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত জানান, রূপপুর প্রকল্পের কারিগরি ইস্যুগুলো দ্রুত সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে বর্তমানে প্রায় চার হাজার রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী নিরলসভাবে দিনরাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি আরও মজবুত করতে একটি যৌথ ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনে মস্কো চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান আলেক্সান্দার খোজিন। পাশাপাশি মস্কোতে একটি বৃহৎ ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী নভেম্বর মাসের শুরুতে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য দুই দেশের আন্তসরকার কমিশনের বিশেষ বৈঠকে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে এই ফোরামে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রোফাইলের ওপর ভিত্তি করে বিটুবি (B2B) বৈঠকসহ নানা সেশনের আয়োজন থাকবে।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে ঐতিহ্যবাহী তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় নতুন খাতগুলোতে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক। তিনি রাশিয়ায় বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং সিরামিকের রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ পাঠানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ প্রসঙ্গে রুশ রাষ্ট্রদূত ইতিবাচক সাড়া দিয়ে জানান, বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয়গুলো রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে পর্যালোচনার অধীন রেখেছে। তাছাড়া রাশিয়ার তীব্র শীতের উপযোগী ভারী জুতা ও চামড়াজাত পণ্যেরও সেখানে বিশাল চাহিদা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাশিয়ার সার্বিক শ্রমবাজারের চিত্র তুলে ধরে আলেক্সান্দার খোজিন জানান, দেশটির কৃষি, মৎস্য, জাহাজনির্মাণ শিল্প ও সেবা খাতে বিপুল নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলশ্রুতিত সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ইতোমধ্যে প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা প্রদান করেছে বলে তিনি জানান।




বাংলাদেশি পর্যটকদের সঙ্গে প্রতারণা, পশ্চিমবঙ্গে দুজন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে বিভিন্ন উপায়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল থানার পুলিশ। তাদের নাম ইব্রাহিম বিশ্বাস ওরফে মুন্না ও আলমগীর মন্ডল। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত মুনাফায় মুদ্রা ভাঙানোর প্রলোভন, কখনো পুলিশ সেজে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পর্যটকদের প্রতারিত করতেন তারা।

গতকাল মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল স্থলবন্দরের অভিবাসন বিভাগের ২ নম্বর টার্মিনালের কাছে অভিযান চালিয়ে স্থানীয় ওই দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, স্থলবন্দরের বাইরে যশোর রোড বরাবর বিদেশি মুদ্রা বিনিময়কারী বিভিন্ন কাউন্টারের সামনে ঘোরাফেরা করতো ওই দুই ব্যক্তি। বাংলাদেশি পর্যটকদের ভুল বুঝিয়ে, বেশি হারে মুদ্রা বিনিময়ের প্রস্তাব দেওয়া হতো। আবার কখনো পুলিশের নাম ব্যবহার করেও টাকা আদায় করত। এমনকি ভয় দেখিয়ে বিভ্রান্ত করারও অভিযোগ রয়েছে।

বনগাঁ মহকুমা আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সমীর দাস জানান, ‘ইব্রাহিম বিশ্বাস এবং আলমগীর মন্ডল উভয়ই ভারতীয় প্রতারক। তারা সীমান্তে ঘোরাঘুরি করতো এবং বাংলাদেশি পর্যটক দেখলেই তাদেরকে টার্গেট করত। বাংলাদেশিদের ঠকিয়ে অর্থ রোজগার করত। পুলিশ দীর্ঘদিন ধরেই তাদের গতিবিধি দিকে নজর রাখছিল।’

তিনি আরও বলেন, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তাদের বনগাঁ অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় আদালতে তোলা হয়। এর পেছনে অন্য কোনো বড় চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।




গাজায় ভবন ধসে ২০ জন নিহত, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা শতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজায় যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবন ধসে পড়ে অন্তত ২০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও প্রায় ১০০ জন আটকা পড়ে আছেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ছয়তলা ওই ভবনটি ধসে পড়ে। এতে নিহতের পাশাপাশি ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে উদ্ধারকাজ বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুদের বের করে আনছেন। স্থানীয়রাও হাতে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে উদ্ধারকাজে যোগ দিচ্ছেন। এক ভিডিওতে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত এক শিশুকে উদ্ধারের দৃশ্যও দেখা গেছে।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা নিখোঁজদের খোঁজ ও নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে। তবে ভারী সরঞ্জামের অভাবে উদ্ধারকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভবনটি আগে ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে ফাটল ধরে কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। যুদ্ধের কারণে গাজার হাজারো ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রী ও উদ্ধারকাজের ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশেও বিধিনিষেধ রয়েছে।

জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিষয়ক মানবিক সমন্বয়ক রামিজ আলাকবারভ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের দ্রুত মানবিক সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এখনও প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি মিনিট।




ডোপ টেস্টের খবর পেয়ে ২ দিন ধরে নিখোঁজ পুলিশ কর্মকর্তা

ডেস্ক নিউজ : মাদক গ্রহণের সন্দেহে ডোপ টেস্ট করানোর উদ্যোগ নেওয়ার খবর পেয়ে চাঁদপুরের নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন উর রশিদ গত দুই দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে এবং তিনি কর্মস্থলেও অনুপস্থিত। পুলিশ একাধিকবার তার বাসায় গিয়েও কোনো সন্ধান পায়নি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত মঙ্গলবার ও আজ বুধবার পুলিশ সদস্যরা এসআই মামুনের বাসায় খোঁজ নিতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ১৮ জন সদস্যের মধ্যে এসআই মামুনের গতিবিধি ও আচরণ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সন্দেহ তৈরি হয়। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদক সেবনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিশ্চিত হতে তাকে ডোপ টেস্টের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। তবে ডোপ টেস্টের বিষয়টি জানতে পারার পর থেকেই তিনি ফাঁড়িতে আসা বন্ধ করে দেন।

বিষয়টি নজরে আসার পর চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে খুঁজে বের করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে দুই দিন ধরে তার কোনো হদিস মিলছে না।

ফাঁড়ি সূত্র জানায়, পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সন্দেহভাজন সদস্যদের পর্যায়ক্রমে ডোপ টেস্টের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে এসআই মামুন উর রশিদের বিরুদ্ধে ওঠা মাদক সেবনের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হতে ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।




বিশ্বকাপে যেতে না পারা বেনিন এবার মেসির শেষ প্রতিপক্ষ

ক্রীড়া ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ফুটবলে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচের প্রতিপক্ষ হিসেবে বেনিনকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে আফ্রিকার দলটির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই হতে পারে মেসির বিদায়ী ম্যাচ।

গত আগস্টের শেষ দিনে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে খেলাটিই ছিল জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচ। তবে বিশ্বকাপের ফাইনালের পরই বিদায় না নিয়ে দেশের মাটিতে সমর্থকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফিফার আন্তর্জাতিক সূচিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবার মারিও কেম্পেস স্টেডিয়ামে বলিভিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। এরপর ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে খেলবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৬ অক্টোবর একই শহরে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে এই পর্ব। মেসিকে রাখা হয়েছে ওই ম্যাচের স্কোয়াডে।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বেনিনের অবস্থান ৯৩তম। পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি গিনি উপসাগরের তীরে অবস্থিত। তাদের সীমান্ত রয়েছে টোগো, নাইজেরিয়া, বুরকিনা ফাসো ও নাইজারের সঙ্গে। দেশটির রাজধানী পোর্তো-নোভো হলেও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কোতোনো। জনসংখ্যা প্রায় দেড় কোটি।

বেনিনের সরকারি ভাষা ফরাসি। পাশাপাশি ফন ও ইউরুবাসহ বেশ কয়েকটি স্থানীয় ভাষাও প্রচলিত। ফুটবলে দেশটি আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের সদস্য হলেও এখনো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি।

তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল বেনিন। ২০২৫ সালের মার্চে নিষিদ্ধ মিডফিল্ডার তেবোহো মোকোয়েনেকে খেলানোর কারণে লেসোথোর বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ২-০ গোলের জয় ৩-০ ব্যবধানে পরাজয় হিসেবে ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বাছাইপর্বের ‘সি’ গ্রুপের সমীকরণ বদলে যায় এবং শেষ ম্যাচের আগে শীর্ষে উঠে আসে বেনিন।

শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জিতলেই বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ তৈরি হয়েছিল তাদের। কিন্তু ভিক্টর ওসিমহেনের হ্যাটট্রিকে নাইজেরিয়ার কাছে ৪-০ গোলে হেরে যায় বেনিন। অন্যদিকে রুয়ান্ডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পায়। দ্বিতীয় হয়ে নাইজেরিয়া আফ্রিকান প্লেঅফে যায়। বেনিনকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তৃতীয় স্থান নিয়ে।

বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ না হলেও এবার মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচের প্রতিপক্ষ হওয়ার সুযোগ পেয়েছে বেনিন। আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে এই ম্যাচ তাই আফ্রিকান দলটির জন্যও নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর বড় মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।




বলের পরিবর্তনে জাতীয় লিগে রান বেশি হবে, প্রত্যাশা ক্রিকেটারদের

ক্রীড়া ডেস্ক : জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) সর্বশেষ কয়েক মৌসুমে ব্যবহৃত হয়েছে ডিউক বল। এবার আবারও কোকাবুরা বলে ফিরছে দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট। বল পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাটিং, পেস ও স্পিন- তিন বিভাগেই পড়বে বলে মনে করছেন ক্রিকেটাররা। তবে কোকাবুরা বলে তুলনামূলক বেশি রান হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তারা।

চট্টগ্রাম অধিনায়ক ইয়াসির আলী রাব্বির মতে, ডিউক বলে পেসাররা বেশি সহায়তা পাওয়ায় ব্যাটারদের কিছুটা টেকনিক্যাল পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। কোকাবুরা বল অবশ্য ছোটবেলা থেকেই খেলে আসায় সেটির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হবে।

তিনি বলেন, ‘ডিউক বলে বোলাররা একটু বেশি সাপোর্ট পেত। বলটা বেশি সুইং করত। ওই কারণে কিছু টেকনিক্যাল পরিবর্তন করতে হয়েছিল। কিন্তু কোকাবুরা বলের সঙ্গে আমরা ছোটবেলা থেকেই অভ্যস্ত। আমার কাছে মনে হয় কোকাবুরা বলে ব্যাটসম্যানদের জন্য একটু সহজ। পেসারদের জন্য সুইং করানো তুলনামূলক কঠিন। তবে কোকাবুরা বলে স্পিনাররা পেসারদের চেয়ে বেশি সাপোর্ট পায়। এটা ব্যাটসম্যানদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ।’

তবে বল যে ধরনেরই হোক, নিজেদের কাজটা ঠিকভাবে করার বিকল্প নেই বলেও মনে করেন ইয়াসির। তার ভাষায়, ‘দিন শেষে আমাদের রান করতে হবে, বোলারদের উইকেট নিতে হবে।’

রংপুরের উইকেটকিপার-ব্যাটার আকবর আলীও মনে করেন, ডিউক বল ব্যাটারদের জন্য কঠিন পরীক্ষা ছিল। দীর্ঘ সময় সুইং করায় গত কয়েক বছরে ব্যাটারদেরও নিজেদের খেলায় উন্নতি করতে হয়েছে। কোকাবুরার সঙ্গে অবশ্য ক্রিকেটাররা আগে থেকেই পরিচিত।

তার মতে, বল বদলালেও চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি কমছে না। কারণ কোকাবুরা বলের সঙ্গেও বোলাররা নিজেদের কৌশল মানিয়ে নিচ্ছেন। বিশেষ করে পেসাররা নতুন বলে কীভাবে থ্রো-ডেলিভারি ও অন্যান্য বৈচিত্র্য ব্যবহার করা যায়, সেটি নিয়ে কাজ করছেন। স্পিনারদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করেন আকবর।

তবে ব্যক্তিগতভাবে কোকাবুরা বলে ডিউকের তুলনায় বেশি রান করার প্রত্যাশা করছেন আকবর। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করবো, এটা পরিবর্তন আনবে, রান আনবে আরও। তবে গত দুই-তিন বছরে কোকাবুরার সিমটা একটু খাড়া করে দেওয়া হয়েছে। বোলাররা এটার সঙ্গে খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিচ্ছে। ফলে বোলারদের জন্যও একটা সমতার জায়গা তৈরি হয়েছে। চ্যালেঞ্জ অবশ্যই থাকবে, তবে ডিউকের তুলনায় রান একটু বেশি হবে বলে আশা করছি।’

অন্যদিকে ময়মনসিংহের স্পিনার ও অধিনায়ক রাকিবুল হাসান বল পরিবর্তনকে স্পিনারদের জন্য বড় কোনো পার্থক্য হিসেবে দেখছেন না। তার অভিজ্ঞতায় ডিউক ও কোকাবুরা- দুই বলেই স্পিনারদের জন্য পরিস্থিতি প্রায় একই।

রাকিবুলের মতে, বাংলাদেশের উইকেটে স্পিনারদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দীর্ঘ সময় এক জায়গায় নির্ভুলভাবে বোলিং করা। বলের পার্থক্যের চেয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণ ও একুরেসির ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় কোকাবুরা বা ডিউক বল স্পিনারদের জন্য খুব একটা পার্থক্য নেই। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা একই মনে হয়। একজন স্পিনারের মূল টার্গেট থাকে ম্যাচে কীভাবে এক জায়গায় বেশিক্ষণ বোলিং করা যায়। বাংলাদেশের উইকেটে উইকেট পাওয়া খুব কঠিন। তাই বলের পার্থক্যের চেয়ে নিজের একুরেসির দিকে স্পিনারদের বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।’