নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার পর ভারতেই থাকছেন ইমরান খান

বিনোদন ডেস্ক : অবশেষে দেশ থেকে বহিষ্কারের আদেশ থেকে সাময়িক স্বস্তি পেলেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। সোমবার (২ নভেম্বর) তিনি বম্বে হাইকোর্টকে জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভে তার ভূমিকার জন্য তিনি একটি ‘শর্তহীন ক্ষমা’ প্রার্থনা করবেন।

শুনানি চলাকালীন আদালত বেশ কঠোর মন্তব্য করেছে। খান একজন মার্কিন নাগরিক, তার কাছে ‘ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া’ (ওসিআই) কার্ড রয়েছে।হাইকোর্টের বেঞ্চ জানায়, এই ধরনের কার্ডধারীরা ‘দেশের মর্জির ওপর নির্ভরশীল’ এবং তারা ভারতীয় নাগরিকদের মতো অধিকার দাবি করতে পারেন না।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত ইমরান খানকে একটি লিখিত মুচলেকা দিতে বলেছে, যেখানে তাকে ভবিষ্যতে যেকোনো প্রতিবাদ বা আন্দোলন থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর জারি করা ‘লিভ ইন্ডিয়া’ (ভারত ছাড়ার) নোটিশটি ৭ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে তরুণদের নেতৃত্বে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ এই বলিউড অভিনেতাকে কিছুক্ষণের জন্য আটক করে। বিক্ষোভকারীরা ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছিলেন।

এরপর বিজেপি নেতা কিরিট সোমাইয়া পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি যুক্তি দেন, একজন বিদেশি নাগরিক হিসেবে রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে খান অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছেন। পুলিশ একটি এফআইআর নথিভুক্ত করে এবং ১৪ অক্টোবর এফআরআরও ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬’-এর অধীনে খানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়।

পাশাপাশি এফআরআরও একটি পৃথক কারণ দর্শানোর নোটিশও জারি করে। এতে জানতে চাওয়া হয়, কেন ‘নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫’-এর ৭ডি(ই) ধারার অধীনে খান-এর ওসিআই নিবন্ধন বাতিল করা হবে না। এই ধারায় জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জনস্বার্থের মতো কারণ দেখিয়ে সরকার কারো ওসিআই মর্যাদা বাতিল করতে পারে।

এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ইমরান খান। তিনি এই নোটিশকে স্বেচ্ছাচারী, অসাংবিধানিক এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।




ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় রাশিয়ার হামলা, বিদ্যুৎহীন লাখো মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার হামলায় লাখো বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই দেশটির খেরসন অঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে কার্যকর করা সীমিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রোববার রাতে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শনিবার রাতভর রাশিয়া দেশটির চারটি অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েক লাখ বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দিনভর কাজ চললেও ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন।

নিয়মিত হামলার কারণে ইউক্রেনজুড়ে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। রাজধানী কিয়েভেও দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। ব্যাহত হচ্ছে পানির সরবরাহও।

এদিকে ভিন্ন এক হামলায় ভিনিতসিয়া অঞ্চলে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীসহ দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ।

জেলেনস্কি আরও জানিয়েছেন, রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি উৎপাদনকারী একটি বড় স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে আগুন ধরে যায় এবং উৎপাদন স্থাপনার চারটি ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গত এক সপ্তাহে রাশিয়ার হামলার তীব্রতা ‘অত্যন্ত বেশি’ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জেলেনস্কি। তাঁর অভিযোগ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার সংকটের সুযোগ নিতে চাইছে মস্কো। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তার কথা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও অন্যান্য সহযোগী দেশকে প্রতিদিন জানানো হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে খেরসন অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে কার্যকর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রোববার রাত ১০টা ৫৯ মিনিটে (ইউক্রেনের স্থানীয় সময়) শেষ হওয়ার কথা। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এ যুদ্ধবিরতি প্রথমে রুশ দখলে থাকা ওলেশকি শহরে কার্যকর করা হয়। পরে তা খেরসন অঞ্চলের বিস্তৃত এলাকায় সম্প্রসারণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও পোপ লিওর সহায়তায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর প্রথম দিকেই ওলেশকি শহরটি রুশ বাহিনীর দখলে যায়। শহরটির বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য, পানি ও বিদ্যুতের সংকটে ছিলেন। শহরটির চারপাশের বের হওয়ার পথগুলোতে মাইন পুঁতে রাখা এবং ড্রোন হামলার ঝুঁকি থাকায় বাসিন্দাদের বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।

যুদ্ধবিরতির সুযোগে শহরটি থেকে ইচ্ছুক বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার কয়েক বছর ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা স্বজনদের পুনর্মিলনের আবেগঘন দৃশ্য দেখা যায়। ইউক্রেনের মানবাধিকার ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেৎস জানিয়েছেন, সরিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্কের বয়স ৯৪ বছর এবং সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স মাত্র এক বছর।




শ্রমিক আন্দোলনে বন্ধ ৫২৯ কারখানা, কর্মস্থল ছেড়েছেন লাখো শ্রমিক

ডেস্ক নিউজ : ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ঢাকা, গাজীপুর ও আশুলিয়ার ৫২৯টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েক লাখ শ্রমিক কাজ না করে কর্মস্থল ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন।

রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ১৩৪টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৮১৬টি কারখানা চালু রয়েছে। শ্রম অসন্তোষের কারণে বন্ধ রয়েছে ৩১৮টি কারখানা।

এলাকাভিত্তিক হিসাবে, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এলাকায় মোট ৩২০টি কারখানার মধ্যে মিরপুরে বন্ধ রয়েছে ৬৮টি। এসব কারখানা থেকে কাজ না করে বেরিয়ে গেছেন ৫১ হাজার ৬২৫ জন শ্রমিক।

গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকার ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে বন্ধ রয়েছে ২২৫টি। এ দুই এলাকায় কাজ না করে কারখানা ছেড়েছেন ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক।

অন্যদিকে সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ৪৪১টি কারখানার মধ্যে বন্ধ রয়েছে ২৫টি। এসব এলাকায় কর্মস্থল ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন শ্রমিক।

এর আগে রোববার সকাল থেকেই ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ঢাকা, গাজীপুর ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাকশ্রমিকেরা। তারা বিভিন্ন প্রধান সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় বর্তমান বেতনে পরিবার নিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া কারখানায় নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের প্রাধান্য দেওয়ায় পুরুষ শ্রমিকেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা। এসব কারণে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বলে জানান শ্রমিকেরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি যৌথ বাহিনী মাঠে রয়েছে। গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে জেলা ও মহানগরের প্রায় ১০০টি কারখানায় রোববারের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল কাজ করছে।




অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো হংকং সিক্সেসের শিরোপা জিতল আফগানরা

ক্রীড়া ডেস্ক : ‘হংকং সিক্সস’-এর ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে চার উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয় করেছে আফগানিস্তান। গুলবাদিন নাইবের নেতৃত্বে আফগান দলটি ফাইনালে দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখিয়েছে। অজিদের দেওয়া ১১৬ রানের লক্ষ্য ৫.১ ওভারেই পেরিয়ে যায় তারা।

এই জয়ের মধ্যে দিয়ে পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব করে অষ্টম দেশ হিসেবে হংকং সিক্সস চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল আফগানরা। মং ককের মিশন রোড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টস জিতে েপ্রথমে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া তাদের ছয় ওভারে ৪ উইকেটে ১১৫ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে ম্যাক্স ব্রায়ান্ট ১৪ বলে ঝড়ো ৪৪ রান করেন। অ্যালেক্স রস ১০ বলে অপরাজিত ২৯ রান করেন এবং নিক হবসনের ৮ বলে ২৩ রানের ইনিংস অস্ট্রেলিয়াকে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক লক্ষ্য দাঁড় করাতে সাহায্য করে।

এই লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে আফগানিস্তানকে কোনো বেগ পেতে হয়নি। তারা পাঁচ বল হাতে রেখেই ২ উইকেটে ১১৯ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে। ইমরান মীর মাত্র ১৪ বলে ৫৩ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন। তার ইনিংসে ছিল সাতটি ছক্কা ও দুটি চার। এরপর ফারমানুল্লাহ সাফি কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ৭ বলে অপরাজিত ২৬ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল চারটি ছক্কা এবং তার স্ট্রাইক রেট ছিল ৩৭১.৪৩। অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব ৬ বলে ১৭ রান করেন।

আফগানিস্তানের এই শিরোপা জয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল গ্রুপ ‘এ’-এর প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন উইকেটের জয়ের মাধ্যমে, যেখানে তারা ১০৮ রানের লক্ষ্য সফলভাবে তাড়া করেছিল। এরপর তারা ওমানের বিপক্ষে চার উইকেটের জয় তুলে নেয়। তারা প্রতিপক্ষকে ১২০ রানে আটকে রেখে তারা ৫.২ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। নকআউট পর্বেও আফগানরা তাদের দুর্দান্ত ফর্ম বজায় রাখে এবং সেমিফাইনালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বড় জয় তুলে নেয়। প্রথমে ব্যাট করে ১২১ রান সংগ্রহের পর তারা স্কটল্যান্ডকে ১০০ রানে আটকে রেখে ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে।

এর আগে পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই টুর্নামেন্ট জিতেছিল।




ক্যান্সার ধরা পড়ার ‘১৫ মিনিটের মধ্যেই’ ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করেন হিনা

বিনোদন ডেস্ক : দীর্ঘ ১৩ বছরের বেশি সময় প্রেমের সম্পর্কে অভিনেত্রী হিনা খান ও রকি জয়সওয়ালের। কিন্তু বিয়ের পরিকল্পনা ছিল না কখনোই। তবে মারণব্যাধি ক্যান্সার বদলে দেয় সব হিসাব। অসুস্থতার খবর জানার পরই প্রেমিককে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন হিনা। মজার বিষয় হলো, তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছিল মাত্র ১৫ মিনিটেরও কম সময়ে।

সম্প্রতি টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার উপস্থাপনায় ‘সার্ভিং ইট আপ উইথ সানিয়া’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে নিজের বিয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন হিনা। সেখানে তিনি জানান, তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ আকস্মিক। আগে থেকে এ নিয়ে কোনো প্রস্তুতি বা পরিকল্পনা ছিল না। বরং নিজের শারীরিক অবস্থার অনিশ্চয়তা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

হিনা বলেন, রকির সঙ্গে তার সম্পর্ক এক দশকেরও বেশি সময়ের। বর্তমানে তাদের একসঙ্গে পথচলার সময় প্রায় ১৩-১৪ বছর। দীর্ঘ এই সময়ে বিয়ের বিষয়টি কখনো গুরুত্ব দিয়ে ভাবেননি। কিন্তু তৃতীয় পর্যায়ের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর জীবনের অনিশ্চয়তা আমকে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।

হিনা বলেন, আমার স্বাস্থ্যের যে পরিস্থিতি ছিল, তখন আমি ওকে বলেছিলাম, হয় তুমি সামনে এগিয়ে যাও, নিজের পছন্দমতো কাউকে বিয়ে করো, নয়তো আমাকেই বিয়ে করো। কারণ, আগামীকাল কী হবে, আমি জানি না।’

অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, অসুস্থতার সময় রকির সামনে দুটি পথ খোলা রেখেছিলেন তিনি। রকি চাইলে নিজের জীবন নতুন করে সাজিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারেন, অথবা তাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে পারেন। কারণ, ভবিষ্যতে কী ঘটবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন না হিনা। শেষ পর্যন্ত রকি তাকেই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর দ্রুতই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তারা।

অনুষ্ঠানে বিয়ের দিনের একটি ছবি দেখে স্মৃতিচারণা করেন হিনা। এ সময় সানিয়া মির্জা জানতে চান, তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সত্যিই মাত্র ১৫ মিনিটে শেষ হয়েছিল কি না। জবাবে হিনা জানান, সময়টা ১৫ মিনিটেরও কম ছিল।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘আসলে অনিশ্চয়তাই ছিল এর প্রধান কারণ। আমি জানতাম না সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে। সত্যি বলতে, এমন অনিশ্চয়তা সবার জীবনেই আছে। তাই আমি বলেছিলাম, চলো, বিয়েটা করে ফেলি। ও বলেছিল, ঠিক আছে। বিয়ে নিয়ে ওর কখনো কোনো আপত্তি ছিল না।’

২০২৪ সালে হিনার তৃতীয় পর্যায়ের স্তন ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসার মধ্যেই ২০২৫ সালের জুনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি ও রকি। মুম্বাইয়ে নিজেদের বাড়ির ছাদে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে করেন তারা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাদের পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনেরা। সে সময় তৃতীয় পর্যায়ের স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা চলছিল অভিনেত্রীর।




অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া সফরে রয়েছে।

সফরে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর, আধুনিক উৎপাদন শিল্প, জাহাজ নির্মাণ ও হালকা প্রকৌশল খাতে সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী।

সফরকালে প্রতিনিধি দলটি দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবে। এসব বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান করা হবে।

ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, সফরে স্যামসাং, হানওয়া ওশান, নাভার, ইয়ংওয়ান, ফিউরিওসাএআই এবং এলজি এআই রিসার্চের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া এসকে গ্যাস ও নাভারের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি এবং কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিনিয়োগের সুযোগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনায় ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট (আইজিএনডি) উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় ইআরডি পরিচালিত আইজিএনডি উদ্যোগের লক্ষ্য হলো পরিবহন, জ্বালানি, নগর সেবা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অবকাঠামোতে সমন্বিত বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন কেন্দ্র, শিল্পাঞ্চল, শহর ও বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বারগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা।

সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন কাঠামোয় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর বাইরেও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণে নতুন প্রবৃদ্ধি কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ২০৪৫-৪৬ অর্থবছর পর্যন্ত কয়েকটি ধাপে সরকারি অর্থায়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় আনুমানিক ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের চাহিদা নির্ধারন করা হয়েছে।

এদিকে, দ্বিপক্ষীয় পিপিপি প্ল্যাটফর্মের আওতায় বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের বেশ কিছু প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে, যা কোরিয়ার বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রচেষ্টায় সহায়ক হতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) কোরিয়ার অর্থায়নের সম্ভাবনা রয়েছে এমন বরাদ্দবিহীন ১৭টি অননুমোদিত সরকারি প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রকল্পে এডিবির সহ-অর্থায়নের বিষয়ও রয়েছে।

প্রকল্পগুলো পরিবহন, পয়ঃনিষ্কাশন, গবেষণা, স্বাস্থ্য ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতসংশ্লিষ্ট।

এসব সহায়তার মাধ্যমে প্রকল্প পরিকল্পনা, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি এবং অর্থায়নের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা পাওয়া যাবে। এসব উদ্যোগের বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে ইআরডি।




মধ্যরাত থেকে জাটকা ধরায় ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক ইউজ : ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মাছটির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে শনিবার (৩১ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে জাটকা আহরণে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা। আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

এ সময়ে ২৫ সেন্টিমিটারের ছোট ইলিশ, যা জাটকা নামে পরিচিত, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, কেনাবেচা ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

শনিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ পরিচালনা করা হয়। ওই সময়ে মা ইলিশের ডিম থেকে জন্ম নেওয়া ইলিশের পোনা আগামী কয়েক মাস দেশের উপকূলীয় নদ-নদী ও মোহনায় বিচরণ করবে। এসব পোনা নিরাপদে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে। মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মৎস্য অধিদপ্তর এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করবে।

এ জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় সারা দেশে অভিযান চালানো হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধিত) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫ অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।




শত্রুর যেকোনো হুমকিতে তাৎক্ষণিক জবাবের নির্দেশ মোজতবা খামেনির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো সম্ভাব্য শত্রু হুমকির জবাবে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর (ইরনা) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের সঙ্গে এক বৈঠকে মোজতবা খামেনি বলেন, শত্রুদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী মোকাবিলার জন্য সামরিক বাহিনীকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে। এটি সর্বোচ্চ প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তোলার অন্যতম শর্ত।

তিনি বলেন, শত্রুরা যদি আবারও সামরিক বা সন্ত্রাসী হামলা চালায়, তাহলে সেই সংঘাত কখন এবং কীভাবে শেষ হবে, তা নির্ধারণ করবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও দেশটির জনগণ।

আসন্ন যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।




পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর আবারও মহাসড়কে শ্রমিকরা

ডেস্ক নিউজ : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এসময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে এক পর্যায়ে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সংঘর্ষের পর আবারও সড়কে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। এতে ঘটনাস্থলে  চরম উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এর আগে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে মহাসড়কে অবস্থান শুরু করেন শ্রমিকরা। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শনিবার দুপুরে ‘ইন্টারস্টপ পোশাক কারখানার’ শ্রমিকরা কর্মবিরতি দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে আশপাশের ডিভাইন টেক্সটাইলসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় মহাসড়কে মাটিভর্তি বস্তা, কাঠ ও বাঁশ ফেলে আগুন জ্বালানো হয়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

শ্রমিকরা জানান, কয়েক দিন ধরে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন তাঁরা। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় তারা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেন।

এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ায় চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের অন্তত ১০ থেকে ১২টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এতে শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, দুপুরের পর কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলনে যোগ দেন। তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের শান্ত করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আশপাশের ১২ থেকে ১৬টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।




ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বিশাল ব্যবধানে হারলো বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংস শেষে লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেই লিড বড় করতে ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা। এতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ।

মাত্র ১৭০ রানের টার্গেট দিয়ে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ভালো শুরু এনে দেন দুই ওপেনার ব্রান্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল। দুজনেই বেশ সাবলীলভাবে ব্যাট করতে থাকেন।

টাইগার বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে ১১২ রানের জুটি গড়েন এই দুই ওপেনার। ৪৯ রান করে সাজঘরে ফিরে যান ক্যাম্পবেল। এরপর দ্রুতই আউট হন তেগনারায়ন চন্দ্রপল।

এরপর ক্রিজে আসা কেভম হজকে সঙ্গে নিয়ে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের জয় নিশ্চত করেন কিং। হজ ৩১ ও কিং ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।

এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭২ রান করার পর ২৭ রানের লিড পায়। সেই লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে চরম বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা। দলীয় ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে স্বাগতিকরা।

এরপর নাঈম ও জাকের আলী মিলে প্রতিরোধ গড়েন। দুজনেই ১৮ রানে অপরাজিত থেকে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে করেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) চতুর্থ দিনে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি জাকের। ২২ রান করেই সাজঘরে ফিরে যান তিনি।

তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন নাঈম। আউট হওয়ার আগে ৯১ বলে ৫২ রান করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৪২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।