পাবনায় অস্ত্রোপচারের পর ১১ জনের ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত, বেশির ভাগই প্রসূতি

ডেস্ক নিউজ : পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর ১১ জনের যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছে। গত তিন মাসে তাদের মধ্যে ১০ জন নারীর ওই হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়েছিল। পরে অস্ত্রোপচারের ক্ষতস্থান না শুকালে একপর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তাদের যক্ষ্মা শনাক্ত হয়।

ফরিদপুর উপজেলা সদরের বনওয়ারী নগর মহল্লার আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালে ওই ১১ জনেরই অস্ত্রোপচার হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে তাদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার পর স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে হাসপাতালটির অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আশিকুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হাসান বলেন, তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এরপর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অস্ত্রোপচারের এক মাস পরও রোগীদের ক্ষতস্থান শুকাচ্ছিল না। পরে অন্য হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে তারা যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। ঘটনা জানাজানির পর আক্রান্ত রোগীদের কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আক্রান্ত এক রোগীর স্বজন বলেন, গত ১৮ মে ওই হাসপাতালে তার স্ত্রীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়। গত মাসে রাজশাহীতে নিয়ে পরীক্ষার পর ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা ধরা পড়ে। এখন তার চিকিৎসা চলছে।

বিষয়টি নিয়ে একাধিক চিকিৎসক জানান, স্বজনেরা যে বর্ণনা দিয়েছেন তাতে মনে হচ্ছে ওই রোগীরা ফুসফুসবহির্ভূত যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়েছেন।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের স্ত্রীরোগ–বিশেষজ্ঞ সাবেরা সুলতানা বিশ্বাস বলেন, রোগীরা আশপাশের পরিবেশ থেকে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হতে পারেন। অস্ত্রোপচারের পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়লে সুপ্ত জীবাণু সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে কিংবা অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এ বিষয়ে ভালোভাবে তদন্ত না করে সঠিক কারণ বলা কঠিন।

আল-মদিনা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা দাবি করেন, চার মাস আগে তাদের হাসপাতালে এক ব্যক্তির হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দিলে পরীক্ষা করে তাঁর যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। এরপর আরও কয়েকজনের যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি জানার পর হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষ নতুন করে জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে।

১১ জনের ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনার সিভিল সার্জন মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ওই হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




এশিয়া কাপের আগে বিপদে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : আগামী ২৮ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে হবে নারী এশিয়া কাপ। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা, স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইন্দোনেশিয়া। অন্যদিকে, ‘এ’ গ্রুপে লড়বে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও হংকং।

এশিয়া কাপ শেষে মাঠে গড়াবে ২০তম এশিয়ান গেমস। এই দুটি টুর্নামেন্টেই অংশ নিবে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ইতোমধ্যে দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই দুঃসংবাদ পেল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের স্কোয়াডে ছিলেন পেসার ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা। তবে এই দুটি টুর্নামেন্টের একটিতেও অংশ গ্রহণ করা হচ্ছে না তার। জানা গেছে, চোটের কারণে এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমস থেকে ছিটকে গেছেন তৃষ্ণা।

অনুশীলনের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান তৃষ্ণা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সুস্থ হয়ে উঠতে তার অন্তত চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগবে। যে কারণে আসন্ন এশিয়া কাপ তো বটেই, এশিয়ান গেমসেও তার খেলা একরকম অনিশ্চিত। এই বাঁহাতি পেসারের বিকল্প হিসেবে স্কোয়াডে কে জায়গা পাবেন, তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা।

আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৩১ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর শ্রীলংকা এবং ৮ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক আমিরাতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে টাইগ্রেসরা। দুই গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল জায়গা করে নেবে শেষ চারে।

আগামী ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর দুটি সেমিফাইনাল এবং ১৩ সেপ্টেম্বর দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। সবগুলো ম্যাচই ফ্লাডলাইটের আলোয় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ দল: নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), দিলারা আক্তার, শারমিন আক্তার সুপ্তা, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস, শারমিন সুলতানা, সোবহানা মোস্তারি, স্বর্ণা আক্তার, ঋতু মণি, ফাহিমা খাতুন, রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার, সুলতানা খাতুন, সানজিদা আক্তার মেঘলা ও ফারজানা ইয়াসমিন মেধা।




‘দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ ভালো লড়াই করবে’, আশাবাদী ডি ভিলিয়ার্স

ক্রীড়া ডেস্ক : দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে ব্যাটিং করা যে কোনো দলের জন্যই বড় পরীক্ষা। পেস, সুইং ও বাউন্সের কারণে প্রোটিয়াদের মাটিতে ব্যাটারদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তবে আসন্ন সফরে বাংলাদেশকে নিয়ে আশাবাদী দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি এবি ডি ভিলিয়ার্স। তার বিশ্বাস, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে টেস্ট সিরিজে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে বাংলাদেশ।

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পর নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘৩৬০’-এর পডকাস্টে টাইগারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেন ডি ভিলিয়ার্স। সেখানেই বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেটের জয় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টেস্ট উন্নতির বড় প্রমাণ। যদিও ম্যাকাইয়ের দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ধবলধোলাই করতে পারেনি বাংলাদেশ, তবু পুরো সফরের পারফরম্যান্স আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো ছিল।

নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুটি টেস্টের পাশাপাশি তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ। তবে ডি ভিলিয়ার্সের চোখে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে টেস্ট সিরিজ।

সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক মনে করেন, প্রোটিয়াদের মাটিতে বাংলাদেশ ভালো লড়াই করতে পারবে। তবে সেজন্য ব্যাটারদের দ্রুত স্থানীয় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় শুধু বাতাসে নয়, পিচ থেকেও বল সুইং ও সিম করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে খেলার অভিজ্ঞতা অনেক ব্যাটারের না থাকায় মানিয়ে নেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

নিজের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে ডি ভিলিয়ার্স আরও মনে করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটে শুধু রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করে টিকে থাকা কঠিন। পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিংয়ের কৌশল পরিবর্তন করতে হবে।

নিজে কখনো ক্রিজ ছেড়ে সামনে এসে বল মোকাবিলা করতেন, আবার কখনো স্টাম্প পুরোপুরি ঢেকে খেলতেন। পরিস্থিতির প্রয়োজনে উলটো স্টাম্প কিছুটা উন্মুক্ত রেখেও ব্যাটিং করতেন। বাংলাদেশের ব্যাটারদেরও একইভাবে সক্রিয় থেকে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ডি ভিলিয়ার্সের মতে, সিমিং কন্ডিশনে শুধু স্টাম্প ঢেকে রেখে দীর্ঘ সময় টিকে থাকার চেষ্টা কার্যকর নয়। বরং ব্যাটারকে নিজের ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে বোলার ও পরিস্থিতির ওপর চাপ তৈরি করতে হবে।

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ইতোমধ্যে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের বিপক্ষে এখনো জয় অধরা। ফলে প্রোটিয়াদের মাটিতে আসন্ন সফরে সেই অপেক্ষা শেষ করার সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের সামনে।

সূচি অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গে। এরপর ২৩ নভেম্বর সেঞ্চুরিয়নে মাঠে গড়াবে দ্বিতীয় টেস্ট।




সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন নামঞ্জুর

বিনোদন ডেস্ক : চলচ্চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগের মামলায় গ্রেফতার অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-১১ এর বিচারক মো. নুরুল ইসলামের আদালতে ডনের পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করেন তার আইনজীবী তারিকুল ইসলাম জুয়েল। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুক দেওয়ান।

গত ৯ আগস্ট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১২ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতও তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ডনের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখা হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর হয়ে পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন।

সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

এর আগে, ২০ মে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত এই চিত্রনায়কের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে সালমান শাহের লাশ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। এদিকে বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে তা নথিভুক্ত করা হয়। এদিকে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট ধার্য রয়েছে।




সন্তান জন্ম দিলেই ৬০ লাখ টাকা দেবে এশিয়ার যে দেশ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দেশে জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এক অভূতপূর্ব উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুর। তরুণ দম্পতিদের সন্তান নিতে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিটি শিশুর ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত বেড়ে ওঠার জন্য প্রায় ৭০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার (যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬০ লাখ টাকা) দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।

সম্প্রতি দেশটির প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং এই বিশেষ সহায়তার কথা ঘোষণা করেন। সিঙ্গাপুরে এখন সন্তান জন্মদানের হার ইতিহাসে সবচেয়ে নিচে নেমে এসেছে। এই সংকট কাটাতে সরকার শিশুদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক প্যাকেজ চালু করল।

নতুন এই নিয়মের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—টাকা শুধু শিশু জন্ম নেওয়ার পরপরই শেষ হয়ে যাবে না; বরং বাচ্চার পড়ালেখা, চিকিৎসা ও বেড়ে ওঠার পুরোটা সময় অর্থাৎ ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত সরকার ধাপে ধাপে টাকা দিয়ে যাবে।

নতুন এই নিয়মে একটি শিশু জন্মালেই অভিভাবকেরা এককালীন নগদ ১০ হাজার ডলার এবং তার একাউন্টে ৫ হাজার ডলার পাবেন। এরপর শিশুটির বয়স ১ থেকে ১৬ বছর হওয়া পর্যন্ত প্রতি বছর আরও ২ হাজার ডলার করে নগদ টাকা দেওয়া হবে। আর সন্তানের বয়স ১৭ বছর হলে উচ্চশিক্ষার খরচের জন্য একবারে দেওয়া হবে আরও ১০ হাজার ডলার। এছাড়াও নতুন মা-বাবার জন্য কাজের ছুটি বাড়ানো এবং বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরে খরচ বেশি হওয়ায় এবং কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততায় অনেকেই সন্তান নিতে ভয় পান। সরকারের আশা, এই বিশাল আর্থিক সাহায্য তরুণ দম্পতিদের ভয় দূর করবে এবং তারা সুখে শান্তিতে পরিবার গড়তে উৎসাহিত হবেন।




ধর্ষণের শিকার শিশুর পেটে জন্ম নেওয়া নবজাতকের বাবা অভিযুক্ত সেই মাদ্রাসাশিক্ষক

ডেস্ক নিউজ : নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণের শিকার শিশুর পেটে জন্ম নেওয়া নবজাতকের বাবা অভিযুক্ত সেই মাদ্রাসাশিক্ষক আমানউল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর। নবজাতক শিশুর ডিএনএ পরীক্ষায় শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগরের ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন ৯৯.৯৯৯ শতাংশ হুবহু মিলেছে। এতে নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে ওই শিক্ষক প্রমাণিত হয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা নারী ও শিশু আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মো. নুরুল কবীর রুবেল।

তিনি বলেন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের প্রতিবেদন থানা পুলিশের হাতে এসেছে।

মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এরপর প্রাণনাশের হুমকি দিলে শিশুটি প্রথমে ঘটনা গোপন রাখলেও পরবর্তীতে শারীরিক পরিবর্তন হলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরে তার পরিবার গত ১৮ এপ্রিল স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার পর জানতে পারে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।

এই ঘটনা জানাজানি হলে শিশুর পরিবারকে গ্রামছাড়া করার হুমকিসহ শিশুর নানা ও মামার ওপর দায় চাপিয়ে স্থানীয়ভাবে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরিবারটি ম্যানেজ না হওয়ায় মামলা হওয়ার ভয়ে মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে পালিয়ে যান ওই শিক্ষক। এদিকে, এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় নারী ও শিশু আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলার পরও অজ্ঞাত স্থানে থেকে আত্মীয়স্বজন দিয়ে ওই শিশুর পরিবারকে অনবরত হুমকি ধমকি দিতে থাকেন অভিযুক্ত। একপর্যায়ে ঘটনাটি দেশজুড়ে জানাজানির পর তীব্র ক্ষোভের জন্ম নিলে ৫ মে অজ্ঞাত স্থান থেকে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন সেই শিক্ষক।

এদিকে, র‍্যাব-১৪ ছায়াতদন্ত করে ফেসবুকে লাইভের পরদিনই ৬ মে ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরকে গ্রেফতার করে নেত্রকোনা মদন থানায় হস্তান্তর করে। পরে গ্রেফতারকৃতকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

এদিকে, হুমকির মুখে থাকা ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে সুরক্ষা দিতে সমাজসেবার আওতায় সিলেটে একটি সেফহোমে রাখা হয়। এরপর গত ১৭ মে আদালতের অনুমতিক্রমে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে আসামি সাগরের ডিএনএ নমুনা জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ২ জুলাই ভুক্তভোগী শিশুটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।

বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশু ও তার নবজাতক সিলেটের সেফহোমে রয়েছে। এরপর আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিআইডির একটি দল সেফহোমে গিয়ে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠায়। সেখানে দুটো ডিএনএ পরীক্ষায় হুবহু মিলে যাওয়ার প্রতিবেদন ২৪ আগস্ট নেত্রকোনা পুলিশের হাতে পৌঁছায়।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী মো. নুরুল কবীর রুবেল আরও জানান, এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের পর আসামির আর কোনো দ্বিমত বা প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। প্রযুক্তিগত ও আইনগতভাবে মামলাটি এখন বিচার প্রক্রিয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করবে।




বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের হোটেলে দুই কোচের হাতাহাতি, পুলিশ ডাকলেন ইংলিশ কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক : এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব খেলতে উজবেকিস্তান যাওয়ার ঠিক আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের টিম হোটেলে ঘটে গেছে এক অপ্রীতিকর ঘটনা। দলের ইংলিশ হেড কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডেকেছেন প্রধান কোচ। গত বুধবার টিম হোটেলেই এই ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুই কোচের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হাতাহাতির পর প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চান এবং ৯৯৯-এ কল করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে টিম হোটেলেও যায় এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে ঠিক কী কারণে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল কিংবা পুলিশকে কী অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
গুরুত্বপূর্ণ এই টুর্নামেন্টের ঠিক আগে কোচিং স্টাফের এমন দ্বন্দ্বে দলের সামগ্রিক প্রস্তুতি ও পরিবেশ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে দলের ম্যানেজার সামিদ কাশেম বলেন, “বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি এ বিষয় নিয়ে কাজ করছে। আশা করি খুব শিগগির একটি সুন্দর সমাধান হয়ে যাবে।”

তবে ডেভেলপমেন্ট কমিটির অনেক সদস্যই বিষয়টি সম্পর্কে শুরুতে অবগত ছিলেন না। কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে কমিটির আরেক সদস্য মঞ্জুরুল করিম জানিয়েছেন, এমন কিছু ঘটে থাকলে অবশ্যই তা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্সের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হতে যাওয়া এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে অংশ নিতে আগামী ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ দলের দেশ ছাড়ার কথা রয়েছে।




‘বাংলাদেশ প্রথমে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়া ৬০ রানে অলআউট হতো’

ক্রীড়া ডেস্ক : ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় সফরে গিয়ে স্বাগতিকদের ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে ঐতিহাসিক জয়ের পর সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল টাইগাররা।

কিন্তু ম্যাকাই টেস্টে বাজে উইকেট তৈরি করে বাংলাদেশকে দুই ইনিংসে ৬৪ ও ৯৫ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে ইনিংস ও ৫১ রানের জয়ে সিরিজে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া।

সিরিজের প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা বাংলাদেশকে দ্বিতীয় টেস্টে নাস্তানাবুক করায় ম্যাকাই টেস্টের পিচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা পেসার স্টুয়ার্ড ব্রড।

ইউটিউব চ্যানেল ফর দ্য লাভ অব ক্রিকেটকে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ ১-১ এ ড্র করেছে। কিন্তু এনিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। স্টার্ক আবারও দানবীয় ছিল, বল সুইং করিয়েছে, পিচের সব জায়গায় বল বাউন্স ও সুইং করছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমার মতে, আপনি যদি দল হিসেবে মনে করেন প্রতিপক্ষের চেয়ে আপনার খেলোয়াড়রা শক্তিশালী হোক, তবে ফ্ল্যাটার পিচে খেলা উচিত। যদি বাংলাদেশ টস জিতত এবং বোলিং নিতো, তাহলে তারা অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে অলআউট করত এবং তাদের বিরাট বিপদে রাখত। পিচটি বেশি ওঠানামা করার কারণে এটা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ।’

ম্যাকাই টেস্ট শেষ হয়েছে মাত্র ৭৫০ বলে। ১৯৩২ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই সবচেয়ে কম বলে শেষ হওয়া টেস্ট। ঘরের মাঠে সর্বশেষ সাত টেস্টের মধ্যে এটি অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় দুই দিনের ম্যাচ। এর আগে সর্বশেষ অ্যাশেজে পার্থ ও মেলবোর্ন টেস্টও দুই দিনেই শেষ হয়েছিল।




পুনর্নির্মিত হচ্ছে মুম্বাইয়ে কেনা শাহরুখ-গৌরীর প্রথম ফ্ল্যাট ‘মান্নাত’

বিনোদন ডেস্ক : বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের সমুদ্রমুখী বিলাসবহুল বাড়ি ‘মান্নাত’-এ সংস্কারকাজ চলছে বেশ কয়েক মাস ধরেই। সে কারণে পরিবার নিয়ে অন্যত্র থাকছেন শাহরুখ খান। তবে ঠিক কেমন বদল করা হবে শাহরুখের বাড়িটি? নতুন তলা যোগ করা হবে কি? বদলে যাবে পুরো রূপ?— সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানালেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও বলিউডের অন্যতম  প্রযোজক আনন্দ পণ্ডিত।

এর আগে ২০০০ সালের শুরুর দিকে আনন্দ পণ্ডিত তার বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট সংস্থা ‘শ্রী লোটাস ডেভেলপার্স অ্যান্ড রিয়েলটি’ প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্থার প্রথম প্রকল্প থেকেই তিনি বলিউডের তারকাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। আনন্দ বলেন, দারুণ ক্রেতা পেয়েছিলাম ওই প্রজেক্টে। অভিনেতা হৃতিক রোশন দুটি তলা কিনেছিলেন। পরিচালক রাকেশ রোশন কেনেন তিনটি। অভিনেতা অজয় দেবগন কেনেন একটি তলা। ওই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় প্রজেক্ট হয়ে ওঠে।

এরপর থেকে তার ব্যবসা ক্রমশই বড় হয়েছে এবং বলিউডের অন্দরমহলে তার আনাগোনাও বেড়ে যায়। তিনি বলেন, প্রায় প্রত্যেক তারকার কাজ আমরা করি। বলিউডের ৮০-৯০ শতাংশ আমার সংস্থার সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে তার সংস্থা শাহরুখের দুটি বিলাসবহুল সম্পত্তির কাজও করছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো—বান্দ্রা ব্যান্ডস্ট্যান্ডের প্রাসাদোপম বাংলো ‘মান্নাত’। বর্তমানে সেখানে সংস্কারকাজ চলছে। আনন্দ বলেন, ‘মান্নাতের পেছনের দিকে বেশ কয়েকটি তলা তৈরি করছি।’

‘মান্নাত’-এর সংস্কারকাজ চলাকালীন শাহরুখ ও তার পরিবার— স্ত্রী, প্রযোজক ও অন্দরসজ্জাশিল্পী গৌরী খান, বড় ছেলে ও পরিচালক আরিয়ান খান, মেয়ে ও অভিনেত্রী সুহানা খান এবং ছোট ছেলে আব্রাম খান— বান্দ্রার পালি হিল এলাকায় ‘পূজা কাসা’য় বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়েছেন। পূজা কাসার মালিক বর্ষীয়ান প্রযোজক বাসু ভগনানি।

শাহরুখের আরও একটি সম্পত্তি পুনর্নির্মাণের কাজ করছেন আনন্দ। সেই কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে সেই বাড়িটির সঙ্গে অভিনেতার আবেগের সম্পর্কের কথা জানতেন না তিনি। আনন্দ বলেন, ‘যখন আমরা কাজ শুরু করি, আমার কোনো ধারণা ছিল না। যদিও এ ঘটনার কথা শাহরুখ স্যার আগে একবার বলেছিলেন। কিন্তু বহুতলের নাম উল্লেখ করেননি।’

এই বহুতলের সঙ্গে কীভাবে অভিনেতার আবেগ জড়িয়ে? বান্দ্রার কার্টার রোডে বেশ কিছু বহুতল পুনর্নির্মাণের কথা শাহরুখকে বলছিলেন আনন্দ। সেই সময় তিনি ‘শ্রী অমৃত সোসাইটি’র নাম উল্লেখ করেন। নামটি শুনেই উচ্ছ্বসিত হয়ে শাহরুখ তাকে বলেন, দিল্লি থেকে মুম্বাইয়ে চলে এসে ১৯৯১ সালে গৌরীকে বিয়ে করার পর এটাই ছিল তার মুম্বাইয়ে কেনা প্রথম ফ্ল্যাট।

২০০১ সালে ‘মান্নাত’-এ চলে যাওয়ার পরও ওই ফ্ল্যাটটি নিজের কাছে রেখেছেন শাহরুখ খান। বর্তমানে সেটি ভাড়া দেওয়া রয়েছে। এ বাড়িটিও সমুদ্রমুখী। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে অতিরিক্ত ১৫৫ শতাংশ জায়গা তৈরি করে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হওয়ার কথা।

‘মান্নাত’ ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি ও সমুদ্রের খুব কাছাকাছি হওয়ায় বিশাল আকারের বাড়িটির উল্লম্ব বৃদ্ধির জন্য ‘মহারাষ্ট্র কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’র কাছে অনুমতি চেয়েছেন শাহরুখ। দুটি তলা যোগ করার জন্য আবেদন করেছেন শাহরুখ খান। এর ফলে বাড়িটির মোট ‘বিল্টআপ এরিয়া ৬১৬.০২ বর্গমিটার’ বাড়বে। এ কাজের আনুমানিক খরচ ২৫ কোটি টাকা।




হরমুজে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের খসড়া অনুমোদন ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশন হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে বিভিন্ন সেবার জন্য ফি নেওয়ার একটি খসড়া আইন অনুমোদন করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে কৌশলগত পদক্ষেপ’ পরিকল্পনার তৃতীয় ধারা অনুমোদন করেছে কমিশন। এই ধারায় প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমোদন পাওয়া দেশগুলোর জাহাজ থেকে ইরানের দেওয়া বিভিন্ন সেবার বিপরীতে অর্থ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কমিশনের মুখপাত্র হাসান কাশকাভি জানান, সামুদ্রিক সেবা, পরিবেশ সুরক্ষা, বিশেষ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ, বীমা, নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সেবার জন্য ফি নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরের নিজস্ব নিয়ম ও পরিস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়ে ১৯৮২ সালের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি প্রণালীর তীরবর্তী দেশগুলোর অধিকারও বিবেচনায় নিয়েছে।

কাশকাভি আরও জানান, যেসব দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে, তাদের কাছ থেকেই এই ফি আদায় করা হবে। অর্থ ইরানি রিয়াল অথবা তেহরান নির্ধারিত অন্য কোনো মুদ্রায় পরিশোধ করা যাবে।

তবে এটি এখনো খসড়া আইন পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্তভাবে কার্যকর করতে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।