বিশ্বজুড়ে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, জাতিসংঘের সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন, তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটির মতে, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ এখন আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী হচ্ছে।

বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন অংশ পঞ্চম দফায় গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হয়েছে। চরম খরা, দাবানল ও রেকর্ড তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত অঞ্চলটি। জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএমওর জলবায়ু তথ্যপ্রধান জন কেনেডি বলেন, অতীতের তুলনায় তাপপ্রবাহ এখন শুধু বেশি ঘন ঘনই হচ্ছে না, বরং আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। তার মতে, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ ইউরোপে চলমান তাপপ্রবাহের পেছনে বায়ুমণ্ডলের উচ্চচাপ বলয় ও উষ্ণ জলবায়ুর সম্মিলিত প্রভাব রয়েছে।

উচ্চচাপ বলয় গরম বাতাসকে আটকে রাখার পাশাপাশি মেঘের পরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং শীতল বাতাসের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে দিনের পর দিন বা সপ্তাহের পর সপ্তাহ বিশাল এলাকাজুড়ে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় থাকে।

সাধারণত বৈশ্বিক তাপমাত্রার ওঠানামায় এল নিনোর প্রভাব থাকলেও এবারের ইউরোপের তাপপ্রবাহের জন্য এটি দায়ী নয়। বর্তমানে ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের অবস্থা অনেকটাই নিরপেক্ষ। কেনেডি বলেন, ১৯৭৬ সালের জুনেও প্রায় একই ধরনের বায়ুমণ্ডলীয় উচ্চ ও নিম্নচাপ পরিস্থিতি ছিল। কিন্তু তখন বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মাত্রা কম থাকায় ফলাফল ছিল ভিন্ন। সে সময় গড়ের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন এলাকায়। বিপরীতে, বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলেই গড়ের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে।

ইউরোপের স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রের অস্বাভাবিক উষ্ণতাও পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করছে। ভূমধ্যসাগর ও ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলীয় সমুদ্রের সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ স্থলভাগের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের শুষ্কতায় মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ভূমি দ্রুত উত্তপ্ত হচ্ছে এবং তাপমাত্রা আরও বাড়ছে।

জন কেনেডির ভাষায়, চলতি বছরে রেকর্ড মাত্রার তাপমাত্রার পেছনে একাধিক প্রাকৃতিক ও জলবায়ুগত কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র, দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।




ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু, মিশরে হাসপাতালে ভর্তি ১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দাবি, খাবার ও পানির সংকটে তাদের চোখের সামনেই কয়েকজন মারা যান। মরদেহে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।

গত ৩ আগস্ট রাতে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। নৌকাটিতে থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি ছিলেন বলে জানা গেছে।

যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পর ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকায় থাকা খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপর কোনো খাবার-পানি ছাড়াই যাত্রা অব্যাহত রাখেন তারা। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে সেটি সাগরে ভাসতে থাকে।স

টানা নয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছায়। পরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম বলেন, গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর তাদের নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর নৌকাটি আর সামনে এগোতে পারেনি। এ সময় দালালের লোকজন বা অন্য কোনো সংস্থা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি।

আব্দুল করিম বলেন, নৌকায় খাবার ও পানি না থাকায় চরম সংকটের মধ্যে পড়েন তারা। খাবার ও পানির অভাবে নয় বাংলাদেশি মারা যান। পরে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দিতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় সাগরে থাকার কারণে জীবিতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে বলেও জানান তিনি।

মারসা মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করিম দেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে বলেন, তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকেরা খাবারের ব্যবস্থাও করছেন। তারা দেশে ফিরতে চান।

এ বিষয়ে মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শরিফ এবং স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা বাদরানের সঙ্গে দূতাবাসের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি।

বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি বাংলাদেশিদের চিকিৎসার অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আহতরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটক বাংলাদেশিদের ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।




সোনারগাঁয়ে ৩ চুনা কারখানা গুঁড়িয়ে দিল তিতাস, বিচ্ছিন্ন অবৈধ গ্যাস সংযোগ

ডেস্ক নিউজ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তিনটি চুনা কারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কারখানাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।

রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সোনারগাঁ পৌরসভার ইছাপাড়া এবং পিরোজপুর ইউনিয়নের প্রতাপেরচর ও গোলাবাড়ী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের পাশাপাশি সংযোগে ব্যবহৃত পাইপ, রাইজার ও বার্নার জব্দ করা হয়। পরে এক্সকাভেটর দিয়ে তিনটি চুনা কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজ সুহা তাবিল।

তিতাস গ্যাস সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট অঞ্চলের ব্যবস্থাপক সুরজিত কুমার সাহা জানান, অসাধু ব্যক্তিরা বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের নাম ব্যবহার করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে চুনা কারখানা গড়ে তুলেছেন। এসব অবৈধ সংযোগের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে তিতাসের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিয়মবহির্ভ‚তভাবে গ্যাস ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযানের সময় তিতাস গ্যাসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুর রহমান ও জহুরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।




বাংলাদেশের এই জয় বিশ্বের কাছে একটি বার্তা: তামিম ইকবাল

ক্রীড়া ডেস্ক : ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনেও। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কার্যালয়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। এমন জয়ে গর্বিত বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে গিয়ে বাংলাদেশের এই জয় শুধু একটি ম্যাচের সাফল্য নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি একটি শক্তিশালী বার্তা।

ডারউইনে টেস্টের প্রথম দিন থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে ৯ উইকেটের বিশাল জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা। বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দলকে প্রতিটি সেশনে চাপে রেখে এমন জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বড় অর্জন বলে মনে করছেন বিসিবি সভাপতি।

রবিবার মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তামিম বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এমন জয় পাওয়ার পুরো কৃতিত্ব ক্রিকেটার, টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের।

তিনি বলেন,‘অবশ্যই আমার মনে হয় এটি অসাধারণ জয়, অসাধারণ অর্জন। অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো দলের জন্য খেলা অনেক কঠিন। ২৩ বছর পর সেখানে গিয়ে যেভাবে ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশ জিতেছে, কৃতিত্ব এক হাজার শতাংশ তাদের (ক্রিকেটারদের)। খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক সবাইকে কৃতিত্ব দিতে হয়। বোর্ডে শুধু তাদের সহায়তা করতে, সুযোগ-সুবিধা দিতে এবং গাইড করতে আছি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনা নিয়ে ক্রিকেটারদের বেশি ভাবা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তামিম। তাঁর মতে, এমন জয় সমালোচনার জবাব দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব ক্রিকেটের কাছেও বাংলাদেশের সামর্থ্যের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

তামিম বলেন, ‘যারা খেলে তারা এসব (সামাজিক মাধ্যমের নেতিবাচক আলোচনা) নিয়ে খুব বেশি মনোযোগ দেয় না। সমালোচনা হবেই। এই জয়টি বিশ্বের কাছে একটি বার্তা। আমরা সবাই অত্যন্ত গর্বিত।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটে অতীতে বেশ কিছু স্মরণীয় জয় এসেছে। খেলোয়াড় হিসেবে এমন অনেক সাফল্যের অংশ ছিলেন তামিম নিজেও। এবার দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক হিসেবে ডারউইনের জয়কে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন তিনি।

বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সম্ভবত এটি সবচেয়ে বড় জয়। আমরা সবাই এই অর্জনে সমানভাবে খুশি। আমি অত্যন্ত গর্বিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে আমরা ক্রিকেটারদের এই অর্জনে অত্যন্ত গর্বিত। আশা করি, বাংলাদেশ ক্রিকেট এখান থেকে আরও এগিয়ে যাবে। এই জয়টি আন্তর্জাতিকভাবে একটি বড় বার্তা দেবে। এটি শুধু একটি জয় নয়, একটি শক্তিশালী বার্তা। আমরা সবাই খুব খুশি।’

ভবিষ্যৎ সফরসূচি (এফটিপি) নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে এই জয় সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি। তামিম বলেন, ‘আগামী মাসে এফটিপি (ভবিষ্যত সফর সূচি) বৈঠক হবে। সেখানে আমরা অন্য দলগুলোকে রাজি করিয়ে আরও ভালো সিরিজ নেওয়ার চেষ্টা করব। এই জয়টি অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করবে। এফটিপিকে যতটা সম্ভব প্রতিযোগিতামূলক করার এবং বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার চেষ্টা করব।’




শেষ ম্যাচে ২৩৭ রানে উড়িয়ে মালয়েশিয়াকে ধবলধোলাই করল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই মালয়েশিয়াকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে ধবলধোলাই করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ২৩৭ রানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা।

বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে টস জিতে আগে ব্যাট করে আদিল বিন সিদ্দিকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ৩৬৯ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। জবাবে বাংলাদেশের স্পিনার রাফিউজ্জামান রাফি ও শেখ পারভেজ জীবনের ঘূর্ণির সামনে দাঁড়াতেই পারেনি মালয়েশিয়া। মাত্র ১৩২ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস।

বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ছিল আক্রমণাত্মক। ওপেনার জাওয়াদ আবরার ও মঈনুল ইসলাম তন্ময় মাত্র ৮.৩ ওভারে ৮২ রান তুলে দেন। জাওয়াদ ৩২ বলে ৫৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি করে চার ও ছক্কা।

এরপর ব্যাট হাতে দলের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন আদিল বিন সিদ্দিক। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ১১১ বলে ১৩৫ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর সেঞ্চুরির ওপর ভর করে স্কোরবোর্ডে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ।

আদিলকে দারুণভাবে সহযোগিতা করেন খালিদ হাসান। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৭৩ রান। সব মিলিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৬৯ রান করে বাংলাদেশ। ফলে মালয়েশিয়ার সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৭০ রান।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে মালয়েশিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই ওপেনার উল্লাহ মালিককে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের পেসার রাহিন আহমেদ। সেই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি সফরকারীরা।

মালয়েশিয়ার সাত ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছালেও কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২০ রান করেন অধিনায়ক সায়েদ আজিজ।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে রাফিউজ্জামান রাফি ও শেখ পারভেজ জীবন তিনটি করে উইকেট নেন। পেসার রাহিন আহমেদের শিকার দুটি উইকেট। তাঁদের দারুণ বোলিংয়ে ১৩২ রানেই থেমে যায় মালয়েশিয়ার ইনিংস।

ফলে ২৩৭ রানের বিশাল জয় নিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মালয়েশিয়াকে ধবলধোলাই করল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।




বচ্চন পরিবারের সুনাম নিয়ে হাইকোর্টের প্রশ্ন

বিনোদন ডেস্ক : অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের মেয়ে আরাধ্যা বচ্চনের স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রকাশের অভিযোগের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু আইনি প্রশ্ন তুলেছেন দিল্লি হাইকোর্ট।

আদালত জানতে চেয়েছে, কোনো পরিবারের নামের সঙ্গে যুক্ত সুনাম কি প্রজন্মের পর প্রজন্ম উত্তরাধিকারসূত্রে বহমান থাকে এবং থাকলে তা কতদূর পর্যন্ত কার্যকর হয়?

২০২৩ সালে আরাধ্যা বচ্চন একাধিক ইউটিউব চ্যানেলের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেন। তার অভিযোগ ছিল, তার স্বাস্থ্য নিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন ভিডিওতে তাকে গুরুতর অসুস্থ এবং হাসপাতালে ভর্তি বলে দাবি করা হয়। এমনকি একটি ভিডিওতে তার মৃত্যুরও মিথ্যা দাবি করা হয়েছিল। এসব ভিডিওর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি অনুপ জে ভাম্ভানি বলেন, কোনো পণ্য বা সেবার সঙ্গে যুক্ত ট্রেডমার্কের মূল্য ও সুনাম যেমন থাকে, একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো পারিবারিক নামের সঙ্গে যদি ট্রেডমার্কের মতো সুনাম যুক্ত থাকে, তাহলে সেই সুনাম প্রজন্মের কতদূর পর্যন্ত বহাল থাকে।

আদালত আরও জানতে চান, পরিবারের কোনো সদস্যের অর্জন, খ্যাতি বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সাফল্যের কারণে যে পারিবারিক সুনাম তৈরি হয়, সেটি পরবর্তী প্রজন্মের সদস্যদের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য কি না।

আরাধ্যার পক্ষে আইনজীবী প্রবীণ আনন্দ যুক্তি দেন, বচ্চন পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করা বা তা ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা বন্ধ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, পরিবারের ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে এবং এসব প্রতিবেদনের সঙ্গে বচ্চন নামটিও জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল দিল্লি হাইকোর্ট একাধিক ইউটিউব চ্যানেলকে আরাধ্যার স্বাস্থ্য নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালত বলেছিলেন, একটি শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো অত্যন্ত গুরুতর বিষয় এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, প্রতিটি শিশুর সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। শিশুর স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো আইনের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অসহনীয় বলেও মন্তব্য করেছিলেন বিচারপতি।

মামলাটি আগামী সেপ্টেম্বরে ফের শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। আরাধ্যার পক্ষ থেকে তার বাবা অভিষেক বচ্চন আদালতে আবেদন করেন। মামলায় বচ্চন পরিবারের ব্যক্তিগত তথ্য ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।




গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে, পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বুধবার থেকে

 

ডেস্ক নিউজ : চলমান সংকটের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। আগামী বুধবার থেকে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে। সরকারি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সামিট এলএনজি টার্মিনালের উদ্দেশে রওনাকারী একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ বৈরী আবহাওয়া ও অধিক বেগে বাতাস প্রবাহের কারণে গত ১০ আগস্ট সিঙ্গাপুর বন্দরে ফিরে যায়। এতে টার্মিনাল হতে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়। পরবর্তীতে, ১৪ আগস্ট নতুন এলএনজি বহনকারী জাহাজ টার্মিনালে পৌঁছায়। এরপর শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর ৪টা হতে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৪৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে বলে জানা যায়।

অপরদিকে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি আংশিক মেরামত শেষে বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে মেরামত কাজ সম্পন্ন হলে উক্ত টার্মিনাল হতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে দৈনিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে, সামিট এলএনজি টার্মিনাল হতে দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনাল হতে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটসহ উভয় টার্মিনাল হতে সম্মিলিতভাবে দৈনিক গড়ে প্রায় ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

বর্তমানে উভয় টার্মিনাল হতে সম্মিলিতভাবে দৈনিক প্রায় ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সামিট থেকে ৪৬০ এবং এক্সিলারেট থেকে ৩০০ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, আগামী ১৯ আগস্ট উভয় টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানা যায়।




গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দেশবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ

ডেস্ক নিউজ : দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যার সমাধান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে দুস্থদের সহায়তা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিদ্যুৎ-গ্যাস নিয়ে বিরোধী দল হঠকারী আন্দোলন করছে উল্লেখ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেছনে ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে, হাতে হারিকেন নিয়ে বসে বলছে— ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’; এগুলো হঠকারিতা। তাদের বন্ধুরাই ক্ষমতায় ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার এলএনজি টার্মিনাল বসানো বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার দেশে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল বানানোর চেষ্টা করছে, এজন্য সময় লাগবে। সংকট সমাধানে সরকার চীন ও মালয়েশিয়ার সাথে কথা বলেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে যদি সংকট সমাধানের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা থাকে, তবে তা সরকারের কাছে পেশ করা হোক, সরকার তা সাদরে গ্রহণ করবে। যদি না পারে, তাহলে বিভ্রান্তির রাজনীতির জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে তাদের। বিভ্রান্তি, হঠকারী রাজনীতি বাদ দেন। জনগণের উপকার হবে সেই রকম পরিকল্পনা থাকলে উপস্থাপন করুন। রাস্তায় বসে ভাঙচুরের রাজনীতির দিন শেষ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র থাকলে জবাবদিহি থাকবে, তখনই দেশের উন্নয়ন হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস দেওয়ার কাজ শুরু হবে। উপজেলার সব ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় রূপান্তর করবে সরকার।’




দাবানলে জ্বলছে ইউরোপ, ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রচণ্ড দাবদাহ এবং দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে ইউরোপের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপণ কর্মী। ইতোমত্যেই আগুন থেকে বাঁচতে ইউরোপের একাধিক দেশের হাজার হাজার অধিবাসী ও পর্যটক নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশ্রয়স্থল ছেড়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় লান্দেস বিভাগের লুগলোঁ শহরের আশপাশ থেকে নতুন করে অন্তত ১০০ জন বাসিন্দা ও পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই আগুন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিস্তার লাভ করছে। লান্দেস প্রসেফেকচার থেকে জানানো হয়েছে, আগুন ইতোমধ্যে প্রায় ১,৫৮০ হেক্টরেরও বেশি এলাকা ভস্মীভূত করেছে। বিশেষ করে লুগলোঁ শহরের দক্ষিণ-পূর্বাংশে গা রেঁ গ্রামের কাছাকাছি এলাকায় আগুন তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ভয়াবহ এই আগুন নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ৫৫০ জন ফায়ারফোর্সের কর্মী সমন্বিতভাবে কাজ করছেন এবং আকাশপথে আগুন নেভানোর মহড়া পুনরায় শুরু করা হয়েছে।

জার্মানির ইফেল অঞ্চলে দাবানলের প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সেখানে নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বনভূমি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। হুরটগেনওয়াল্ড এলাকা থেকে অন্তত ১,৮০০ জন মানুষকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ১,৪০টি বিভিন্ন ফায়ার ব্রিগেডের অগ্নিনির্বাপক দল দিনরাত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ বেলজিয়ামের ফাগনেস প্রাকৃতিক উদ্যানে সৃষ্টি হওয়া অন্য একটি দাবানল নেভাতে জার্মান দমকল বাহিনীর সাহায্য চাওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই আগুনে বেলজিয়াম সীমান্তে অন্তত ১৬ বর্গকিলোমিটার বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আরাগন অঞ্চলেও পরিস্থিতি বেশ গুরুতর। সেখানে ১৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি এলাকা ছাই হয়ে গেছে এবং প্রায় এক হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা আগুনকে বসতি এলাকার দিকে এগোনো থেকে থামাতে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে ওই অঞ্চলে খুব শীঘ্রই তাপমাত্রা কমতে পারে এবং হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। গ্রীসেও তীব্র বাতাসের কারণে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৫০টিরও বেশি কৃষি ও বনভূমির দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল, যদিও অধিকাংশ আগুন ফায়ার সার্ভিস দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে।

পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোতেও দাবানল পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রোয়েশিয়ার ডুগি ওটোক দ্বীপে ১০০ জনেরও বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী এবং দুটি ওয়াটার বোম্বিং বিমানের সাহায্যে আগুন নেভানোর কাজ চলছে। এছাড়া পেলজেসাক উপদ্বীপে ছড়ানো আরেকটি আগুন শুক্রবার আয়ত্তে আনা সম্ভব হয়েছে। সার্বিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে বেলগ্রেডের কাছে দেলিব্লাতস্কা জাতীয় উদ্যানে ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা ভস্মীভূত করা একটি বড় দাবানল সহ তারা প্রায় ২৫টি বনাঞ্চলের আগুনের সাথে লড়াই করছে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন জানিয়েছেন যে সমগ্র ইউরোপ বর্তমানে উচ্চ দাবানল সতর্কতায় রয়েছে এবং পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘কোপার্নিকাস’ উপগ্রহ ইতোমধ্যেই স্পেন, আলবেনিয়া, গ্রীস, ফ্রান্স, জার্মানি এবং সার্বিয়ায় মানচিত্র তৈরি ও জরুরি সহায়তায় কাজ শুরু করেছে। আক্রান্ত দেশগুলোকে জরুরি সহায়তা প্রদান করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।




ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র! ধর্মীয় নেতার বক্তব্যে তোলপাড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এতদিন ইরানের হুমকির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কেবল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। হরমুজ প্রণালি ঘিরেও তৈরি হয়েছিল নতুন উত্তেজনা। কিন্তু এবার ইরানের এক প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা এমন মন্তব্য করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পুরো হিসাব পাল্টে দিতে পারে। তাঁর বক্তব্য—পরিস্থিতি যদি আরও এক ধাপ এগোয়, তবে ইরান এমন সিদ্ধান্তের দিকে যেতে পারে, যা নিয়ে বহু বছর ধরে পশ্চিমা বিশ্ব সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। অর্থাৎ, তেহরানের সমরাস্ত্র হুমকির কেন্দ্রে এবার প্রকাশ্যে উঠে এসেছে পারমাণবিক অস্ত্র।

ইরানের আহভাজ শহরের জুমার নামাজের খতিব ও ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ নবি মুসাভিফার্দ শুক্রবার এক খুতবায় এই সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ যদি ইরানের বিরুদ্ধে কথিত ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ওয়ার’ বা দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা শুরু করে, তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে যাবে। তাঁর ভাষায়, ‘যদি আমাদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে আমরা বাধ্য হয়ে পরমাণু অস্ত্রের দিকে হাত বাড়াব।’

এই বক্তব্যের পর নড়েচড়ে বসেছে পশ্চিমা বিশ্ব। প্রশ্ন উঠেছে—ইরান কি সত্যিই তার দীর্ঘদিনের পরমাণুনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? তবে বিশ্লেষণ বলছে, এটি এখনো ইরান সরকারের পক্ষ থেকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। তা সত্ত্বেও বক্তব্যটির রাজনৈতিক গুরুত্ব কম নয়। মুসাভিফার্দ স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি দেশটির অভ্যন্তরীণ এখতিয়ার। অর্থাৎ, তেহরানকে পরমাণু শক্তি নিয়ে ক্রমাগত চাপে ফেললে ইরান আরও কঠোর সামরিক অবস্থানে যেতে পারে—সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্ত করে সতর্ক করে দেন। মুসাভিফার্দ বলেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই এই সংঘাতে এমন এক জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে, যা থেকে উত্তরণ তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, তেহরান সংঘাতকে একটি আঞ্চলিক চাপে রূপ দিতে চায়, যেখানে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও অর্থনৈতিক পথগুলো মার্কিন স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবারও এক পৃথক বক্তব্যে আরও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, ইরানের নীতিগত শর্তগুলো পূরণ করা না হলে চলমান পরিস্থিতি ‘আক্রমণাত্মক যুদ্ধের পর্যায়ে’ মোড় নিতে পারে।

অর্থাৎ, ইরানের তরফ থেকে এখন দুটি স্পষ্ট কৌশল দৃশ্যমান—একদিকে হরমুজ প্রণালির ওপর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ রক্ষা, অন্যদিকে চাপ বাড়লে সর্বাত্মক সামরিক প্রতিরোধ। আর এর সঙ্গে পরমাণু অস্ত্রের সরাসরি ব্যবহার সম্পর্কিত নতুন সতর্কবার্তাটি পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।