শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা

ডেস্ক নিউজ : সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে এবার ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা নগদ পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি মিলেছে স্বর্ণ, রুপা ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০টার দিকে মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্সের সিলগালা খুলে টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী গণনা শুরু হয়। দিনভর গণনা শেষে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে হিসাব ঘোষণা করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

তিনি জানান, দানবাক্স ও ডেগ থেকে মোট ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ এবং ১ ভরি ২ আনা রুপা পাওয়া গেছে।

দানবাক্স থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ পাউন্ড ৩১ পাউন্ড ১১ পয়সা, ভারতীয় রুপি ৩ হাজার ২৪৮, পাকিস্তানি রুপি ৬০, সৌদি রিয়াল ৭০, মালয়েশীয় রিঙ্গিত ৮৩, মার্কিন ডলার ৪, নেপালি রুপি ১০০, ওমানি মুদ্রা ১ হাজার বায়সা ও ১ রিয়াল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ৬৪ দিরহাম ২২ সেন, ইরাকি দিনার ২৫০, তুর্কি লিরা ৯০, ভিয়েতনামের ডং ১ হাজার, জাপানি ইয়েন ১ হাজার, কাতারি রিয়াল ১১২ রিয়াল ৫০ পয়সা, লেবাননের পাউন্ড ১০, মিসরীয় পাউন্ড ১০, ইউরো ৪০ পয়সা, বাহরাইনি মুদ্রা ১ পয়সা এবং কানাডীয় ডলার ১।

এ ছাড়া নজরানা হিসেবে গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগিও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এর আগে, গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনা করা হয়। প্রায় ৭০০ বছরের প্রচলিত রীতি ভেঙে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগে ওই গণনা করা হয়। চার দিন পর গণনা শেষে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এর সঙ্গে স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়। পরে এসব অর্থ সোনালী ব্যাংকে খোলা নির্ধারিত হিসাবে জমা রাখা হয়।

এর ১৯ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে খোলা হয় মাজারের দানবাক্স ও ডেগ। দ্বিতীয় দফার গণনা শেষে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। প্রশাসন ও মাজার ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে ওই অর্থ গণনা করা হয়।




আসিয়ান কাপে আন্ডারডগ হলেও চমক দেখাতে চায় বাংলাদেশ : ডুলি

ক্রীড়া ডেস্ক : সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে দেশের মাটিতে কাছাকাছি শক্তির কোনো দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ ফুটবল দলের। তবে এরই মধ্যে আসিয়ান কাপ খেলার আমন্ত্রণ পাওয়ায় সেই পরিকল্পনায় এসেছে পরিবর্তনের সম্ভাবনা। কোচ থমাস ডুলি আসিয়ান কাপে খেলার পক্ষেই মত দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনার পর ডুলি জানিয়েছেন, আসিয়ান কাপে খেলার সুযোগ তৈরি হলে তা বাংলাদেশের জন্য ভালো হবে। তবে এখনো বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।

ডুলি বলেন, আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এটি হলে ভালো হবে এবং বাংলাদেশ সেখানে খেলতে পারে। বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। ফিফা ও ইন্দোনেশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তবে ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেনি।

আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। তার আগে আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দলের বিপক্ষে খেলাকে সাফের প্রস্তুতির জন্য কার্যকর মনে করছেন ডুলি।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে ডুলি বলেন, আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ আন্ডারডগ হিসেবে খেলবে। ফলে প্রত্যাশার চাপ তুলনামূলক কম থাকবে। তবে ফলাফল নেতিবাচক হলে সেটি খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

আগামী ২১ সেপ্টেম্বর শুরু হবে ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডো। এর আগে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ও সূচি চূড়ান্ত না হওয়ায় জাতীয় দলের পরিকল্পনা করতে সমস্যায় পড়ছেন কোচ। আসিয়ান কাপ, দেশের মাটিতে ম্যাচ নাকি কিরগিজস্তানের টুর্নামেন্ট কোন পথে এগোবে বাংলাদেশ, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

শুধু জাতীয় দলের সূচি নয়, ঘরোয়া ফুটবলের অনিশ্চয়তাও ভাবাচ্ছে ডুলিকে। ২৮ আগস্ট লিগ শুরুর কথা থাকলেও এখনো তা নিশ্চিত হয়নি। তাঁর মতে, সাধারণত লিগ শুরুর চার থেকে ছয় সপ্তাহ আগে খেলোয়াড়দের কন্ডিশনিং অনুশীলন প্রয়োজন। কিন্তু অনেক ক্লাব সেই প্রস্তুতি নিতে পারেনি।

ডুলি জানান, বাংলাদেশের ফুটবলাররা ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ অনুশীলনের বাইরে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের ক্যাম্প কবে শুরু করা হবে, তা নিয়ে এখনই পরিকল্পনা করা কঠিন।




ফলাফলের দিকে তাকাচ্ছি না, আমরা সেশন ধরে ধরে খেলছি: শান্ত

ক্রীড়া ডেস্ক : ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষেও ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ। যেখানে থেকে জয়ের আশা করা কল্পনা নয়, বরং বাস্তব। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিড নেওয়ার পর তৃতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার আরও চার উইকেট তুলে নিয়েছেন টাইগার বোলাররা। এখনও ৬৭ রানে পিছিয়ে আছে অজিরা।

তবে এমন শক্ত অবস্থানে থেকেও জয় নিয়ে আগাম হিসাব-নিকাশ শুরু করেনি বাংলাদেশ শিবির। বরং প্রতিটি সেশনে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলাটাই এখন মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ফক্স ক্রিকেটকে শান্ত বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল অন্তত পাঁচ দিন ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করা। কিন্তু গত তিন দিনে আমরা যেভাবে যেভাবে খেলেছি, সেটা অসাধারণ। ওদের এভাবে খেলতে দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।’

তবে এমন অবস্থাতেও দলের মনোযোগ জয় থেকে সরিয়ে রাখতে চান শান্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা ফলাফলের দিকে তাকাচ্ছি না। আমরা সেশন ধরে ধরে খেলছি এবং প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করছি।’



শেষ হয়নি ‘গোপাল ভাঁড়’, প্রকাশ পেল নতুন পর্ব

বিনোদন ডেস্ক : শেষ হয়ে গেছে জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিরিজ ‘গোপাল ভাঁড়’- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত এক মাস ধরে এমন গুঞ্জনই ছড়িয়ে পড়েছিল। নতুন পর্ব প্রচার বন্ধ থাকায় দর্শকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছিল নানা জল্পনা। তবে সেই গুঞ্জনে ইতি টেনে নতুন পর্ব প্রচার করেছে সনি ৮।

চ্যানেলটি জানিয়েছে, শনিবার (১৫ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে ‘গোপাল ভাঁড়’-এর নতুন পর্ব প্রচার হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হলো, জনপ্রিয় এই অ্যানিমেশন সিরিজটি শেষ হয়ে যায়নি।

২০১৫ সালে সনি ৮-এ ‘গোপাল ভাঁড়’-এর প্রচার শুরু হয়। মজার কাহিনি, বুদ্ধিদীপ্ত কাণ্ডকারখানা ও হাস্যরসের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের বিনোদন দিয়ে আসছে সিরিজটি। পাশাপাশি বিভিন্ন গল্পে উঠে আসে বুদ্ধিমত্তা, ন্যায়বোধ ও সামাজিক নানা বার্তা।

সিরিজের গল্পে গোপালকে দেখা যায় নিজের উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে রাজ্যের নানা জটিল সমস্যার সমাধান করতে। কখনো ক্ষমতালোভী মন্ত্রীর ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে, আবার কখনো রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে নানা পরিস্থিতিতে বুদ্ধির জোরে পথ দেখায় সে। এ কারণেই ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশেও দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিরিজটি।

টেলিভিশনের পাশাপাশি ইউটিউবেও ‘গোপাল ভাঁড়’-এর উল্লেখযোগ্য দর্শক রয়েছে। তবে গত জুলাইয়ে ১ হাজার ২৬৮তম পর্ব প্রচারের পর হঠাৎ নতুন পর্বের প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। টেলিভিশন ও ইউটিউব- দুই জায়গাতেই নতুন পর্ব না আসায় দর্শকদের মধ্যে সিরিজটি শেষ হয়ে যাওয়ার আলোচনা শুরু হয়।

এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় ‘গোপাল ভাঁড়’-এর একটি দৃশ্য। সেখানে মৃত্যুশয্যায় শুয়ে থাকতে দেখা যায় গোপালকে। পাশে কান্নায় ভেঙে পড়েছে তার স্ত্রী, নাতি-নাতনি, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ও রাজ্যসভার সদস্যরা। দৃশ্যটি সামনে আসার পরই সিরিজটি শেষ হয়ে যাওয়ার গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। পরে অবশ্য জানা যায়, ভাইরাল হওয়া দৃশ্যটি নতুন কোনো পর্বের নয়, বরং পুরোনো একটি পর্বের অংশ। তবে নতুন পর্ব বন্ধ থাকা এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষের নীরবতায় দর্শকদের কৌতূহল কাটছিল না।

অবশেষে নতুন পোস্টার প্রকাশ করে সনি ৮ জানিয়ে দেয়, ‘গোপাল ভাঁড়’ শেষ হয়নি। নতুন গল্প নিয়ে আবারও দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছে জনপ্রিয় এই অ্যানিমেশন সিরিজ।




১৫ আগস্ট ঘিরে রাজধানীতে মোতায়েন থাকবে সোয়াট-বোম্ব ডিসপোজাল ও কে-নাইন ইউনিট

ডেস্ক নিউজ : ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ জন্য রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানেসোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ও কে-নাইন ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বমোতায়েন থাকবে।

আজ শুক্রবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে ডিএমপি। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা মোকাবিলায় পুরো রাজধানীকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে যেসব নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে আছে-

*রাজধানীজুড়ে পিকেট ও চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করা হচ্ছে।

*মহানগরের সব প্রবেশপথে চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার থাকবে।

*ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরা অপারেশনাল কার্যক্রমে মোতায়েন থাকবেন।

*সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কে-নাইন ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও জনসমাগমস্থলে সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

*গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। এসব এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির আওতায় থাকবে।

*সিটিএসবি ও আইএডির সদস্যরা সাদা পোশাকে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা ও তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে। এ ছাড়া সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত র‌্যাব ও সিআইডি টিম মোতায়েন থাকবে।

*যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় পর্যাপ্ত কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত ও মোতায়েন থাকবে।

*স্বাভাবিক মোতায়েনের বাইরে অতিরিক্ত অফিসার ও ফোর্স রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, অনুষ্ঠানস্থল, মেট্রোরেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, ট্রেন স্টেশন ও শপিংমলসহ সংবেদনশীল এলাকায় মোতায়েন থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

*ডিএমপির সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরেজমিনে মাঠে থেকে নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করবেন।




পশ্চিম তীরের শেষ খ্রিষ্টান শহরটিও এখন ইসরায়েলিদের নিশানায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের একমাত্র ও শেষ খ্রিষ্টান অধ্যুষিত শহর তাইবেহ। একসময় নিরাপদ ও শান্ত হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক এই শহরটির বাসিন্দারা এখন চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন। গত কয়েক বছরে শহরটিতে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, জমি দখল ও লুটপাট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

রোলান্ড বাসির নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে প্রায় ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে শহরের প্রান্তে একটি পাথরখনি ও কারখানা গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমাগত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণে বাধ্য হয়ে তাঁকে ব্যবসা ছেড়ে দিতে হয়েছে। শুধু রোলান্ড নন, স্থানীয় ব্যক্তিদের কৃষিজমি, জলপাইবাগান ও পানির কূপগুলোও একে একে দখল করে নিচ্ছে ইসরায়েলিরা।

আতঙ্ক এখন স্থানীয় ব্যক্তিদের নিত্যসঙ্গী। রোলান্ডের স্ত্রী সান্দ্রা বাসির আত্মরক্ষার্থে ঘরে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখেন। রাতে ঘুমানোর আগে দরজা বন্ধ করেছেন কি না, বারবার পরখ করে দেখেন, পাহারার জন্য রেখেছেন কুকুরও। ভয়ে তাঁদের সাত বছরের ছেলের বাইরে খেলাধুলা পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছেন।

অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী তাইবেহ ব্রুয়ারির (বিয়ার উৎপাদন) ব্যবসাও হুমকির মুখে। এর পরিচালক মাদিস খৌরি জানান, তাঁদের আয় আগের চেয়ে ৮০ শতাংশ কমে গেছে। বসতি স্থাপনকারীরা তাঁদের পানির প্রধান উৎস ‘আইন সামিয়া’ ঝরনা এবং ব্যক্তিগত খামারও দখল করেছে। ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রশাসনের অধীনে থাকা ‘এলাকা বি’-তেও নতুন ফাঁড়ি বসিয়ে জমি দখল করছে ইসরায়েলিরা।

হামলা ঠেকাতে ৯ আগস্ট ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাইবেহকে ‘সামরিক অভিযানের আওতাধীন এলাকা’ ঘোষণা করলেও পরিস্থিতি বদলায়নি। স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, এই আদেশের ফলে শহরটি আরও একঘরে হয়ে পড়েছে। বসতি স্থাপনকারীরা ঠিকই নির্বিঘ্নে তাদের হামলা ও দখলদারি চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ বা প্রশাসন ডাকলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

ভয়, নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক ধসের কারণে গত দুই বছরে অন্তত ১৫টি পরিবার শহর ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে পর্যটনও।

তবে ক্রমাগত হামলা ও সব হারানোর ভয় থাকলেও নিজেদের মাটি আঁকড়ে থাকতে চান অনেকে। তাইবেহ শহরের মেয়র সুলেইমান খৌরিয়াহ বলেন, ‘প্রভু যিশুখ্রিষ্ট যখন এই শহরে হেঁটেছিলেন, তখন থেকেই আমরা এখানে আছি। এটি আমাদের শহর। আমরা এ জায়গা ছেড়ে যাব না। আমাদের মৃত্যু হলেও আমরা এখানেই সমাহিত হব। কারণ, এটি পবিত্র ভূমি।’




ইলিশ চাইতে ঢাকায় আসছে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিদল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশ থেকে এখনো ইলিশ না পেয়ে তা পাওয়ার অনুরোধ জানাতে ঢাকায় আসছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রতিনিধিদল। আগামী সোমবার তারা ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ও বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খানের সঙ্গে বৈঠক করবে তারা।

ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যম এ বলা হয়, বৈঠকেই পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিদল তাদের রাজ্যে ইলিশ রপ্তানি করার অনুরোধ করবে। পশ্চিমবঙ্গের আমদানিকারক সংগঠনের নেতা অতুলচন্দ্র দাস বলেন, ‘আশা করছি বৈঠক ফলপ্রসূ হবে।’

গত বছর বাংলাদেশ সরকার ৩৭টি সংস্থাকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে ১২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল। সেটা ছিল দুর্গাপূজার সময়। তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে জটিলতা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে ২০১২ সাল থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ রেখেছিল বাংলাদেশ। সরকারিভাবেই তা জানিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। তারপর ২০১৯ সালে ফের পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ রপ্তানি করে, তবে তা দুর্গাপূজা উপলক্ষে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসাবে। পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁর পেট্রাপোল-বাংলাদেশের যশোরের বেনাপোল দিয়ে এ ইলিশ রপ্তানি করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ গতবারও চেষ্টা চালিয়েছিলেন যাতে করে বেশি ইলিশ নেওয়া যায় বাংলাদেশ থেকে। এবারও সেই চেষ্টা করছেন। পদ্মার ইলিশ এক কেজি ওজনের বেশি হলেই পশ্চিমবঙ্গে তা আড়াই হাজার রুপি পর্যন্ত প্রতি কেজি দাম ওঠে। এবার পশ্চিমবঙ্গের দিঘা, নামখানায় ইলিশের জোগান যথেষ্ট রয়েছে। তবে বড় ইলিশ নেই। এখন পর্যন্ত এক কেজি ওজনের ইলিশ এসেছে একেবারে নামমাত্র।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা, পশ্চিমবঙ্গ ফিশ ট্রেডার্স ও ট্রলার মালিকদের সংগঠনের নেতা বিজন মাইতি বলেছেন, ‘গত পাঁচ-ছয় দিন খুবই ভালো ইলিশ উঠেছে। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপর যদি ভালো পরিমাণ মাছ ওঠে তো বলতে হবে গতবারের চেয়ে জোগান বেশি। না হলে গতবারের মতোই থাকবে।’




রাঙামাটিতে পানিতে ডুবে শিশু নিহত

ডেস্ক নিউজ : রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি  উপজেলার খেদারমারা  ও সাজেক ইউনিয়নের ভূয়াছড়ি এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে অনুষ্কা চাকমা (৫)  ও আন্দারা চাকমা (১২) দুই শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগষ্ট)  দুপুরে পৃথক দুটি ঘটনায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু ঘটে।

অনুষ্কা চাকমার বাবা সুজিত বিকাশ চাকমা জানান, অনুষ্কা বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে যায় পরে তাকে উদ্ধার করে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপর দিকে সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম ভূয়াছড়ি এলাকায় কাচালং নদীতে গোসল করতে নেমে ডুবে মারা যায় আন্দারা চাকমা (১২)।
আন্দারা চাকমার বাবা লক্ষিরঞ্জন চাকমা  জানান তার ছেলে গত ১১ আগস্ট দুপুরে নদীতে গোসল করতে গিয়ে তলিয়ে যায়। পরে অনেক খুঁজাখুঁজি করেও পাওয়াযায়নি। ৩ দিনপর আজ দুপুরে ভাসমান অবস্থায় তার উদ্ধার করা হয়েছে।

দুরছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক জুলফিকার ইসলাম জানান ঘটনা স্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

​খবর পেয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমেনা মারজান তাৎক্ষণিকভাবে শোকসন্তপ্ত সুজিত বিকাশ চাকমার বাড়িতে ছুটে যান। তিনি নিহত শিশুর পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।




সামনে কঠিন পথ, তবু জয়ের আশা অস্ট্রেলিয়ার

ক্রীড়া ডেস্ক : প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয়েছে মাত্র ১৯৮ রানে। ২ উইকেট হারিয়েই লিড নিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন শেষে নাজমুল হোসেনের দল এগিয়ে ১৫৩ রানে, হাতে এখনো ৪ উইকেট। ডারউইন টেস্টের প্রথম দুই দিনে বাংলাদেশের দাপট দেখে কেউ কেউ তো অস্ট্রেলিয়ার হারও দেখে ফেলছেন।

তবে যে দলের ডিএনএতে আছে শেষ পর্যন্ত হার না মানার মানসিকতা, তারা কি আর এত দ্রুত হাল ছাড়ে! দ্বিতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা বো ওয়েবস্টারের কণ্ঠেও শোনা গেছে একই প্রতিধ্বনি।

সামনের কাজ কঠিন মেনে নিয়েও ৩২ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, সবাই এখনো হিসাব-নিকাশ করছে কীভাবে এই ম্যাচটা জেতা যায়। অবশ্যই আমাদের প্রথম লক্ষ্য হবে শেষের এই চারটি উইকেট যত দ্রুত সম্ভব তুলে নেওয়া। তারপর হয়তো টানা দুই দিন খুব ভালো ব্যাটিং করতে হবে—যা নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ হবে। তবে ছেলেদের নিজেদের সামর্থ্যের ওপর পুরো ভরসা আছে এটা করে দেখানোর।’

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে ভালো করতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা। স্টিভেন স্মিথ ছাড়া ত্রিশের ঘরেও পৌঁছাতে পারেননি। তবে বাংলাদেশের হয়ে তানজিদ হাসান সেঞ্চুরি পেয়েছেন, অধিনায়ক নাজমুলও করেছেন ৮৪ রান। বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে।

ওয়েবস্টার মনে করেন এখন উইকেটের ধরনে কিছুটা বদল এসেছে, ‘মাঠে আজ বেশ গরম ছিল, তবে উইকেট দেখে মনে হচ্ছিল এটা আগের চেয়ে কিছুটা ফ্ল্যাট বা ব্যাটিংয়ের উপযোগী হয়ে এসেছে—প্রথম দিনের সকালের মতো আর অতটা কঠিন ছিল না।’

তবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদেরও কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি তিনি, ‘তারা সত্যিই খুব ভালো ব্যাট করেছে। আমরা উইকেট পাওয়ার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়ার চেষ্টা করেছি—ওয়াইড বল, সোজা বল, স্পিন, বাউন্সার—যেন একটা উইকেট পেয়ে ওদের চেপে ধরা যায়। কিন্তু হ্যাঁ, তারা চমৎকার ব্যাটিং করেছে ও আগামীকাল আমাদের নতুন কিছু পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে।’




এবার ‘ক্রাইম পেট্রল’ উপস্থাপনায় অজয় দেবগন

বিনোদন ডেস্ক : বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগনকে এবার জনপ্রিয় অপরাধবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘ক্রাইম পেট্রোল’-এর উপস্থাপক হিসেবে দেখা যাবে।

নতুন মৌসুমে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা তুলে ধরা হবে। অজয়ের দৃঢ় উপস্থিতি ও কণ্ঠে এসব ঘটনার নানা দিক দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে।

প্রচারমূলক ভিডিওতে অজয় দর্শকদের ভয় না পেয়ে চারপাশের মানুষ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে অপরাধের ঘটনা তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন মৌসুমে এমন কিছু ঘটনা তুলে ধরা হবে, যেগুলো পুরো দেশকে নাড়া দিয়েছে। এসব ঘটনা দর্শকদের ভয় পাওয়ার বদলে কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে সতর্ক থাকতে হবে, সে বিষয়ে সচেতন করবে বলে জানিয়েছেন অজয়।

‘ক্রাইম পেট্রোল—ক্রাইম কা কারেন্ট সিজন’ শুরু হবে আগামী ৩১ আগস্ট। প্রতি সোমবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটে সনি এন্টারটেইনমেন্ট টেলিভিশন ও সনি লিভে অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে।