পুলিশের ৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি

ডেস্ক নিউজ : রাজশাহী ও ঝালকাঠি জেলাসহ পুলিশের এসপি পদের ৩ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১-এর উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ঝালকাঠি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন এবং যোগদানের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ঢাকায় তলব ও প্রত্যাহার করা হয়।

এ ঘটনার পরে এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের (এটিইউ) পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানাকে ঝালকাঠি, রাজশাহীর পুলিশ সুপার নাঈমুল হাছানকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও একই জেলায় পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মো. মামুন অর রশিদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।




বহু বছর পর যোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাচ্ছি: আসিফ নজরুল

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সাবেক আইন উপদেষ্টা ও অধ্যাপক আসিফ নজরুল। সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে ‘সবদিক দিয়ে যোগ্য’ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আসিফ নজরুল তার পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অভিনন্দন, ফখরুল ভাই।’

রাষ্ট্রপতি পদে এর আগে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের সমালোচনা করে তিনি লিখেছেন, ‘দুই যুগ ধরে বাংলাদেশের এই সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ দখল করেছিলেন অনুপযুক্ত ব্যক্তিরা। তাদের কেউ ছিলেন অকর্মণ্য, কেউ অথর্ব, কেউ চরম অনৈতিক।’

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘বহু বছর পর আমরা পেতে যাচ্ছি এই পদের জন্য সবদিক দিয়ে যোগ্য একজন ব্যক্তিকে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘শেখ হাসিনার দুঃশাসনকালে মির্জা ফখরুল মহাসচিব হিসেবে দলের হাল ধরেছেন, বহুভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।’

মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে আসিফ নজরুলের ভাষ্য, ‘রাজনীতিবিদদের মধ্যে তিনি ব্যক্তিত্ববান, মডারেট, সদাচারী ও সুবক্তা হিসেবে অগ্রগণ্য।’

এদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। স্পিকার পদের পর রাষ্ট্রপতি পদেও তিনি উপযুক্ত মানুষকে আসীন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘বহু বছর পর আমরা পেতে যাচ্ছি রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে।’




৩০০ ফুট নিচে নেমেছিল এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট, পাইলটের শরীরে মিলল গাঁজার উপস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলতি মাসের শুরুতে ক্রুজিং উচ্চতা থেকে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের শরীরে গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে উড়োজাহাজটির কারিগরি ত্রুটি, পাইলটের আচরণ এবং পুরো ঘটনার সময়কার পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট ক্রুজিং উচ্চতায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে বেশ কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু আহত হন। পরে বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।

ঘটনার পর উড়োজাহাজটির দুই পাইলটের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানায়, ক্যাপ্টেনের প্রথম পরীক্ষায় গাঁজা ব্যবহারের সম্ভাবনা পাওয়া যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে তার নমুনার দ্বিতীয় পরীক্ষা করা হয়। পরে তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও ক্যাপ্টেনের শরীরে গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।

তদন্তকারীরা এখন ঘটনার সময় ক্যাপ্টেনের আচরণও খতিয়ে দেখছেন। কেবিন ক্রুরা এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে অভিযোগ করেছিলেন, ফ্লাইট চলাকালে ক্যাপ্টেনকে পুরোপুরি স্বাভাবিক মনে হয়নি।

একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব ও আইনি দায়িত্ব ক্যাপ্টেনের ওপরই থাকে। ফলে ঘটনার সময় তার অবস্থান ও ভূমিকা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

ঘটনার সময় ককপিটে কী ঘটেছিল?

এনডিটিভির হাতে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট সেফটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় ক্যাপ্টেন নিজের আসনে ছিলেন না। তিনি কো-পাইলটের আসনের পেছনে দাঁড়িয়ে বিমানের এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছিলেন।

এ সময় হঠাৎ একটি সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। একই সঙ্গে অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বিমানের সামনের অংশ ওপরে উঠে যায়।

তখন উড়োজাহাজটি চালাচ্ছিলেন কো-পাইলট। স্টল সতর্কসংকেত পাওয়ার পর তিনি বিমানের সামনের অংশ নিচের দিকে নামিয়ে দেন। এর পরপরই বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।

বিমানের আকস্মিক গতিবিধির কারণে ককপিটের কিছু আলগা জিনিস ওপরে উঠে যায়। ক্যাপ্টেন ও কো-পাইলটও নিজেদের আসন থেকে ওপরে উঠে যান।

ক্যাপ্টেনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ককপিটের বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং কো-পাইলটকে ওপরে ভেসে যেতে দেখছিলেন। তিনিও তখন ভাসছিলেন। পরে তির্যকভাবে নিজের আসনের দিকে ফিরে গিয়ে সিটবেল্টের সংকেত চালু করেন।

আসনে বসে সিটবেল্ট বাঁধার পর তিনি বলেন, ‘আমি নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছি।’ এরপর বিমানটি নিচে নামতে থাকা অবস্থায় তিনি নিয়ন্ত্রণ নেন।

বিমানের গতি ও উচ্চতা কমে যাওয়া ঠেকাতে ক্যাপ্টেন থ্রটল সর্বোচ্চ নিরবচ্ছিন্ন শক্তিতে নিয়ে যান। তবে ততক্ষণে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেছে।

যান্ত্রিক ত্রুটির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

শুধু পাইলটের ভূমিকা নয়, ঘটনার পেছনে বিমানের কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা উড়োজাহাজটির বিভিন্ন ব্যবস্থায় সম্ভাব্য ত্রুটির বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

প্রকৌশলসংক্রান্ত নথিতে দেখা গেছে, বিমানের হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় কম চাপের সংকেত পাওয়া গিয়েছিল। হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় চাপযুক্ত তরল ব্যবহার করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ল্যান্ডিং গিয়ার, ব্রেকসহ বিভিন্ন ভারী যান্ত্রিক অংশ পরিচালনা করা হয়।

এ ছাড়া অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি এলিভেটর ত্রুটির সংকেতও পাওয়া যায়। এর ফলে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানের পিচ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা হয়ে থাকতে পারে।

পিচ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পাইলট বিমানের সামনের অংশ ওপরে বা নিচে তুলতে পারেন। এর ওপর নির্ভর করে বিমান ওপরে ওঠে, নিচে নামে অথবা একই উচ্চতায় উড়তে থাকে।

ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, ক্রুজিংয়ের সময় বিমানটি অল্প সময়ের জন্য টার্বুলেন্সের মধ্যে পড়েছিল। এতে বিমানের উচ্চতায় সাময়িক পরিবর্তন ঘটে।

তদন্তে প্রযুক্তিগত ও মানবিক—সব দিকই গুরুত্ব পাচ্ছে

ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) ঘটনাটির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত, পরিচালনাগত, চিকিৎসা ও মানবিক—সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরীক্ষা করছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে বিমানের বিভিন্ন অংশ ও ব্যবস্থা, রেকর্ড করা ফ্লাইট তথ্য, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত নথি, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সব ধরনের প্রমাণ সামগ্রিকভাবে পরীক্ষা করা হবে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পায়নি।

এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য আরেকটি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ধাক্কা

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন এয়ার ইন্ডিয়া ইতোমধ্যে একাধিক নিরাপত্তা তদন্তের মুখে রয়েছে। গত ৪ আগস্টের ঘটনার পর উড়োজাহাজটির ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডারও তদন্তের জন্য জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে সহায়তা করতে এয়ারবাস বিশেষজ্ঞ পাঠানোর কথাও জানিয়েছে।

এরই মধ্যে ক্যাপ্টেনের নিশ্চিত মাদক পরীক্ষার ফল প্রকাশ্যে আসার পর এয়ার ইন্ডিয়া সব পাইলটের মাদক পরীক্ষা আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ফ্লাইটের পর এবং বিভিন্ন নির্ধারিত স্থানে পাইলটদের পরীক্ষা করা হবে। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের পাইলটরাও এই পরীক্ষার আওতায় থাকবেন।

ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই সংস্থাটি বাড়তি নজরদারির মধ্যে রয়েছে। ওই দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। পাশাপাশি ভারতের পুরো বিমান চলাচল খাতের নিরাপত্তা নিয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের আকস্মিক উচ্চতা হারানোর ঘটনা এখন একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পাইলটের শরীরে গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিমানের হাইড্রোলিক ব্যবস্থা, এলিভেটর, অটোপাইলট ও পিচ নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ত্রুটির বিষয়ও সামনে এসেছে। ফলে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মানবিক কারণ ও কারিগরি ত্রুটির মধ্যে কোনটি কতটা ভূমিকা রেখেছিল, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।




ইউক্রেনের ড্রোন ঠেকাতে রুশ জাহাজে খাঁচা ও পানির ট্যাংক!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান ড্রোন হামলা থেকে বাঁচতে নিজেদের জাহাজে অভিনব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যুক্ত করছে রাশিয়া। তেলের ট্যাংকারগুলোতে এখন ড্রোন-প্রতিরোধী জাল, ধাতব খাঁচা এমনকি পানির ট্যাংকও লাগানো হচ্ছে। সাগরে ভাসমান এসব জাহাজ দেখতে এখন অনেকটা ‘ম্যাড ম্যাক্স’ সিনেমার দৃশ্যপটের মতোই লাগছে।

সম্প্রতি বসফরাস প্রণালি পার হওয়ার সময় ২৮ বছরের পুরোনো ট্যাংকার ‘কারুজো’-তে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। ট্যাংকারটির চারপাশে ড্রোন-প্রতিরোধী জাল এবং ছাদে খাঁচার মতো কাঠামো ছিল। ড্রোনের আঘাতের জোর কমাতে এতে পানির ট্যাংকও যুক্ত করা হয়।

বিশ্লেষক ইয়োরুক ইসিক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘রিজভেল’ নামের আরেকটি রুশ ট্যাংকারেও একই ধরনের জাল দেখা গেছে। ট্যাংকার ট্র্যাকার্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা সামির মাদানি জানান, ভয়ে নাবিকেরা নিজেদের ওই কাঠামোর ভেতর অবরুদ্ধ করে রেখেছেন।

মূলত রাশিয়ার সামরিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করতে কিয়েভ চালকবিহীন নৌযান এবং ড্রোন দিয়ে হামলা বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে আজভ ও কৃষ্ণসাগরে অন্তত ২১৮টি রুশ-সংশ্লিষ্ট নৌযানে আঘাত হেনেছে ইউক্রেন।

তবে এসব হামলার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নভোরোসিস্ক টার্মিনালের কাছে হামলা থামাতে কিয়েভকে অনুরোধ করেছেন। কৃষ্ণসাগরে জাহাজের বিমা ও পরিবহন খরচও এখন অনেকটাই বেড়ে গেছে।

শুধু জাহাজ নয়, নভোরোসিস্ক নৌঘাঁটির নিরাপত্তাও জোরদার করেছে মস্কো। স্যাটেলাইট চিত্রে ঘাঁটির চারপাশে বিশাল জাল ও ব্যারিকেড দেখা গেছে। এর মধ্যেই বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, নভোরোসিস্কে তারা একটি ‘অনন্যসাধারণ অভিযান’ চালিয়েছেন। এতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে রুশ জাহাজ, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং বন্দর অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়।




ফুটপাতের খাবার খেয়ে হাসপাতালে ৭ শিক্ষার্থী

ডেস্ক নিউজ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাজারের একটি দোকানের পিয়াজু খেয়ে ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ ৭ জনকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিনের মতো সকালে তারা বিদ্যালয়ে আসে। পরে টিফিনের সময় ৯ জন স্কুলের সামনে ফুটপাতের একটি দোকান থেকে পিয়াজু কিনে খায় এবং তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদেরমধ্যে ৭ জনকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয় এবং দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অভিভাবকের মাধ্যমে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মো রহমতুল্লাহ জানান, খাদ্যের বিষক্রিয়া থেকে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে তারা বিপদমুক্ত। তবে তাদেরকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরদারিতে রাখা হয়েছে।




সবাইকে ছাড়িয়ে এখন শীর্ষে মিচেল স্টার্ক

ক্রীড়া ডেস্ক : টেস্ট ইতিহাসে বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক। শ্রীলঙ্কার সাবেক বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথকে টপকে নতুন রেকর্ড গড়েছেন স্টার্ক।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিন ১ উইকেট শিকার করেন স্টার্ক। বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসে ওপেনার সাদমান ইসলামকে ২০ রানে সাজঘরে ফেরত পাঠান স্টার্ক। এতেই টেস্টে বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি।

১০৬ টেস্টের ২০৩ ইনিংসে ৪৩৪ উইকেট শিকার করেছেন স্টার্ক। ফলে ভেঙ্গে গেছে হেরাথের রেকর্ড। ৯৩ টেস্টে ১৭০ ইনিংসে ৪৩৩ উইকেট নিয়ে আট বছর এই রেকর্ড মালিক ছিলেন হেরাথ। ২০১৮ সালের নভেম্বরে টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় জানানোর সময় হেরাথের নামের পাশে ছিল ৪৩৩ উইকেট।
স্টার্ক-হেরাথ ছাড়াও টেস্টে বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারে সেরা পাঁচের মধ্যে আরও আছেন পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম, নিউজিল্যান্ডের ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ও শ্রীলঙ্কার চামিন্দা ভাস। আকরাম ১০৪ টেস্টে ৪১৪, ভেট্টোরি ১১৩ টেস্টে ৩৬২ এবং ভাস ১১১ ম্যাচে ৩৫৫ উইকেট শিকার করেছেন।



খেলার মাঝেই হাসানের প্রশংসায় অজি ক্রিকেটাররা

ক্রীড়া ডেস্ক : ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে বাংলাদেশ। দুর্দান্ত বোলিংয়ে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে দিন শেষে ১ উইকেটে ৯৬ রান করেছে টাইগাররা। বাংলাদেশের এমন দাপুটে পারফরম্যান্সে প্রশংসায় ভাসছেন পেসাররা।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন হাসান মাহমুদ। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। তাদের সম্মিলিত আক্রমণে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ শুরু থেকেই চাপে ছিল।

বাংলাদেশের বোলারদের এমন পারফরম্যান্স নজর এড়ায়নি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নারের। কায়ো স্পোর্টসের আলোচনায় বাংলাদেশের বোলিংয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় সফরকারী দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের বোলারদের মতো শুরু থেকেই এত নিখুঁতভাবে জায়গায় বল করতে খুব কম দলকেই দেখা গেছে।

ওয়ার্নারের মতে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এসে ধারাবাহিকভাবে সঠিক লাইন ও লেংথে বল করা সহজ নয়। কিন্তু বাংলাদেশের পেসাররা সেটিই করে দেখিয়েছেন। তারা আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করেছেন এবং নিয়মিত উইকেটের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।

বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ক্যারি ও’কিফেও। তার মতে, প্রথম দিনেই বাংলাদেশ বুঝিয়ে দিয়েছে তারা অস্ট্রেলিয়ায় শুধু খেলতে আসেনি, লড়াই করতেও এসেছে। ম্যাচ শুরুর আগে অনেকে অস্ট্রেলিয়ার সহজ জয় প্রত্যাশা করলেও প্রথম দিনের পারফরম্যান্সে সেই ধারণা বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ।

ওয়ার্নার আরও বলেন, বাংলাদেশের বোলাররা নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী লাইন ও লেংথ ধরে রেখে আক্রমণ করেছেন। অস্ট্রেলিয়াকে ২২০ থেকে ২৩০ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারলে বাংলাদেশের জয়ের ভালো সুযোগ থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে মার্ক ওয়াহ মনে করেন, ম্যাচের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য আরও ভালো হয়ে উঠতে পারে। প্রথম দিনের উইকেটে সামান্য সিম মুভমেন্ট থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের কিছুটা ছন্দহীন মনে হয়েছে তার।

অন্যদিকে ব্রেন্ডন জুলিয়ানও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। স্টিভ স্মিথকে বাদ দিলে অস্ট্রেলিয়ার স্কোরকার্ডকে বেশ বিবর্ণ বলেই মনে হয়েছে তার।

প্রথম দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ এখনো ১০২ রানে পিছিয়ে থাকলেও হাতে রয়েছে ৯ উইকেট। ফলে ডারউইন টেস্টে দ্বিতীয় দিনটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




আদালতে এসে জামিন পেলেন তানজিন তিশা

বিনোদন ডেস্ক : প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। অনলাইন ফ্যাশন পেজ থেকে শাড়ি নেওয়ার পর মূল্য পরিশোধ এবং প্রচারের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলাটির শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে আদালত তানজিন তিশার জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে গত ১২ জুলাই একই আদালত তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। তাকে ১৩ আগস্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেন তানজিন তিশা। শাড়িটির প্রচারণা করা এবং মূল্য পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করেন বাদীপক্ষ।

এ ঘটনায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

তবে অভিযোগ ওঠার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তানজিন তিশা দাবি করেন, শাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তাই এর মূল্য পরিশোধের প্রশ্নই ওঠে না বলে জানান তিনি।

বাদীপক্ষের ভাষ্য, এ বিষয়ে তানজিন তিশাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে আদালতে মামলা করা হয়। আদালতের নির্দেশে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন অভিনেত্রী।

শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী চলবে।




প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি, গ্রেফতার ৬ জন রিমান্ডে

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম, পরিচয়, সিল, স্বাক্ষর ও অফিশিয়াল লেটারহেড জাল করে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার ৬ আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যেক আসামির সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- ফারুক হোসেন, সাকিব খান, মাসুম মুনসী, মীর তৌহিদুল ইসলাম, বকুল মন্ডল ও রফিকুল ইসলাম।

আদালত সূত্র জানায়, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গত ৭ আগস্ট আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপ-পরিদর্শক মো. সামিম সরদার। সেদিন আসামিদের উপস্থিতিতে রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

এদিন কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামিদের পক্ষে একাধিক আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ও খাম ব্যবহার করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি খাম পাঠানো হয়। ওই খামের ভেতরে ছিল সাত পাতার নথি। এতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা, মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরযুক্ত বিভিন্ন নথি ছিল।

নথিগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে বিষয়টি তদন্তের জন্য ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগে পাঠানো হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম, পরিচয়, সিল, স্বাক্ষর ও অফিশিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করে ভুয়া নথি তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তের একপর্যায়ে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে পুলিশ। পরে মাদারীপুরের কালকিনি থানা এলাকা ও কুষ্টিয়া থেকে ফারুক হোসেন, সাকিব খান, মাসুম মুনসী, মীর তৌহিদুল ইসলাম ও বকুল মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক রায়হানুর রহমান বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন। ওইদিন গ্রেফতার আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলা দায়েরের পরদিন রাজধানীর মতিঝিলের ফকিরাপুল এলাকা থেকে রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসামিদের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ একাধিক মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রী-এমপিদের সিল ও স্বাক্ষর সংবলিত লেটারহেড প্যাড জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের ধারণা, জাল নথি তৈরির মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে বড় ধরনের প্রতারণার পরিকল্পনা করছিল চক্রটি। রিমান্ডে নিয়ে তাদের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং জাল নথি তৈরির উদ্দেশ্য কী ছিল- এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।




জাতিসংঘের দুই কর্মীকে আটক করেছে আফগান গোয়েন্দা সংস্থা: জাতিসংঘ

আফগানিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশনের (ইউএনএএমএ) দুই কর্মী আটক হয়েছেন। তাদের সঙ্গে দুই দিন ধরে জাতিসংঘের কোনো যোগাযোগ বা সাক্ষাতের সুযোগ হয়নি বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইউএনএএমএ এক বিবৃতিতে জানায়, পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে গত ৯ আগস্ট রোববার দেশটির  গোয়েন্দা সংস্থা ‘জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ইন্টেলিজেন্স’-এর কর্মকর্তারা জাতিসংঘের দুই আফগান পুরুষ কর্মীকে আটক করেছেন।

এ বিষয়ে আফগান সরকার এএফপিরকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দপ্তর আটক কর্মীদের বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছে।

গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি এবং তাদের সঙ্গে দেখা করারও অনুমতি দেওয়া হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ ও এর কর্মকর্তাদের বিশেষ মানবাধিকার ও দায়মুক্তির বিষয়গুলো মেনে চলতে আমরা কার্যত কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পঞ্চম বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে এই আটকের ঘটনা ঘটল। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের মাধ্যমে তালেবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে আসে।

স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আফগানিস্তানজুড়ে জাতিসংঘের একাধিক সংস্থা কাজ করছে।

চলতি সপ্তাহে ইউএনএএমএ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বলপ্রয়োগ, গ্রেফতার ও আটকসংক্রান্ত বিষয় স্পষ্ট করার’ পাশাপাশি এসব কার্যক্রমে জবাবদিহিতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে তালেবান কর্তৃপক্ষ আফগানিস্তান শাসন করছে। তারা ইসলামী আইনের কঠোর ব্যাখ্যার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করছে।

আফগান নারীদের জাতিসংঘের বিভিন্ন স্থাপনায় প্রবেশ নিষিদ্ধ। এমনকি জাতিসংঘের নারী কর্মীরাও এর আওতাভুক্ত।

গত জুনে হেরাত প্রদেশে ইরান সীমান্তের কাছে প্রায় ২০ জন ত্রাণকর্মীকে আফগানিস্তানের নৈতিকতা-বিষয়ক পুলিশ আটক করেছিল। তাদের দাড়ি যথেষ্ট লম্বা না হওয়ার অভিযোগে আটক করা হয়।

একটি অভ্যন্তরীণ নথির বরাত দিয়ে এএফপির জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জাতিসংঘের অংশীদার বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিরাও ছিলেন। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

জুনের শুরুতে তালেবান সরকারের নৈতিকতা-বিষয়ক পুলিশ কয়েক ডজন নারীকে আটক করে। সরকারি পোশাকবিধি লঙ্ঘন করে শরীর পুরোপুরি ঢেকে রাখে এমন চাদর বা বোরকা না পরার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।

আটকদের মধ্যে মেডিসিনস সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ)-এর একজন হাসপাতালকর্মীও ছিলেন। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থাটি ওই আটকের তীব্র নিন্দা জানায়।

এই বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিরল এক বিক্ষোভ সহিংসভাবে দমন করা হয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এতে অন্তত দুজন নিহত হয়।

আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় আফগানিস্তান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি নানা সংকটের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ও পাকিস্তান থেকে লাখ লাখ আফগান নাগরিকের দেশে ফিরে আসার বিষয়টিও অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।