মালয়েশিয়ায় অভিযান ৩৭০ বাংলাদেশি অভিবাসী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মালয়েশিয়ায় দুদিনব্যাপী অভিযানে ১ হাজার ৪৩ অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এদের আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে ৩৭০ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান দেশটির বিভিন্ন এলাকায় পরিচালনা করা হয়।

ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, ‘অপ সাসার’ নামের এ অভিযানে মোট ৩ হাজার ৩০৭ বিদেশিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল­াশি করা হয়। আটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়া জানান, বিদেশিদের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ বাড়ায় বর্তমানে সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়টির বেশি অভিযান পরিচালনা করছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। চলতি বছর ৩১ হাজারের বেশি বিদেশিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২৮ হাজার বিদেশিকে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।

এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ দিতে সরকার ‘মাইগ্রেন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম’ চালু রেখেছে বলে জানান তিনি।

জাকারিয়া বলেন, এ কর্মসূচির আওতায় অবৈধ অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা পরিশোধ করলে তাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হয়। জানা যায়, ইমিগ্রেশন বিভাগের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।




ইয়াবাসহ শিক্ষক আটক

ডেস্ক নিউজ : জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আব্দুর রহিম নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকালে উপজেলার কাচারী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটক আব্দুর রহিম ক্ষেতলাল সরকারি পাইলট মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকালে ক্ষেতলাল থানা পুলিশের একটি দল কাচারী বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় আব্দুর রহিমের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে তিন পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

আরও জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পূর্বে চিকিৎসা সনদ নিয়ে তিনি একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি ছিলেন বলেও জানা গেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক আব্দুর রহিমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ক্ষেতলাল থানার ওসি মুক্তারুল আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিন পিস ইয়াবাসহ আব্দুর রহিমকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসের আলী জানান, কোনো শিক্ষক মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা বা আটক হওয়ার বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রতিবেদন আকারে জানানো হবে। সেখান থেকে বিভাগীয় ডিপিইও নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।




বাবাকে নিয়ে মেসির আবেগঘন পোস্ট

ক্রীড়া ডেস্ক : কিছুদিন আগেই বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির। সেই হতাশা কাটিয়ে ইন্টার মিয়ামির দলে ফিরেছিলেন ফুটবলের এই মহাতারকা। তবে এবার তার জীবনে নেমে এসেছে আরও বড় শোক। ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি।

বাবার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক আবেগঘন বার্তায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন মেসি। বাবার সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘বাবা, তোমার চলে যাওয়াটা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। বাস্তবতাটা এখনও বুঝে উঠতে পারছি না। আসলে আমি এটা মানতে চাইছি না। তোমাকে আর দেখতে পাব না, আমাদের আর কখনো কথা হবে না, এটা কল্পনা করাও আমার জন্য খুব কঠিন। আমি জানি তুমি কষ্টে ছিলে এবং এটাই তোমার জন্য হয়ত ভালো হয়েছে, কিন্তু তুমি খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলে। আমাদের একসঙ্গে আরও কত কিছু উপভোগ করার বাকি ছিল।’

বাবার অনুরোধেই উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে খেলতে গিয়েছিলেন জানিয়ে মেসি লিখেছেন, ‘তুমি আমাকে শেষ বিশ্বকাপটা খেলার জন্য কত অনুরোধ করেছিলে! আর টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগেই তোমার শরীর সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়ে গেল। মা আমাকে বলছিলেন যে তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে এবং খেলা দেখতে আসার মতো ভালো হয়ে যাবে। আমিও তোমাকে বলতাম, আমরা ফাইনালে উঠবই যাতে তুমি আসার সুযোগ পাও।’

বিশ্বকাপ চলাকালে প্রতিটি ম্যাচের পর বাবার বার্তার অপেক্ষায় থাকার কথাও স্মরণ করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তিনি লিখেছেন, ‘প্রতিটি ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমি তোমার বার্তার অপেক্ষায় থাকতাম আর তোমাকে খুব মিস করতাম। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম যে পরিস্থিতি কতটা কঠিন ছিল। তা সত্ত্বেও, আমি শুধু যতটা সম্ভব দূর পর্যন্ত যাওয়ার কথা ভাবতাম, যাতে তোমাকে কিছুটা সময় দেওয়া যায় আর তুমি এসে অন্তত একটা ম্যাচ দেখতে পারো। আমরা ফাইনালে পৌঁছালাম, কিন্তু তুমি আসতে পারলে না। আমি কাপটা জিততে চেয়েছিলাম, যাতে তোমার কাছে নিয়ে গিয়ে নতুন একটা ট্রফি দেখাতে পারি। কিন্তু পারলাম না।’

বিশ্বকাপ শেষে বাবার সঙ্গে দেখা হওয়ার সময়কার কথাও তুলে ধরেছেন মেসি। তার ভাষায়, ‘আমি যখন ফিরে এলাম, তুমি ভেবেছিলে আমরা পেনাল্টিতে ফাইনাল হেরে গেছি। যা কিছু ঘটেছিল, তা নিয়ে আমরা একটা কথাও বলতে পারলাম না। তুমি কিছুই উপভোগ করতে পারলে না। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি ঠিকই, তবে আমরা প্রতিটি ম্যাচ কতটা উপভোগ করেছি তা তুমি জানতে পারলে না। আবারও তুমিই ঠিক প্রমাণিত হলে—আমার সেখানে যাওয়া এবং খেলাটাই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।’

বাবাকে হারানোর পর ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের অনিশ্চয়তার কথাও জানিয়েছেন মেসি। তিনি লিখেছেন, ‘তোমাকে ছাড়া আমি কী করব জানি না, কীভাবে সামনে এগোবো বুঝতে পারছি না। আমি তো শুধু ফুটবলটাই খেলতে জানতাম, আর এখন আমার নিজের মনেই বড় সংশয় জাগছে যে আমি আর কতদিন খেলাটা চালিয়ে যেতে পারব। শুরু থেকেই তো তুমি আমার পাশে ছিলে, একদম শেষ মুহূর্তের তো আর অল্প একটু বাকি ছিল। আর কিছুটা সময় কেন ধৈর্য ধরে থাকলে না বাবা? তাহলে তো আমরা একসাথেই শেষটা করতে পারতাম!’

বাবাকে শুধু অভিভাবক নয়, নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধু ও প্রতিনিধি হিসেবেও দেখতেন মেসি। সেই সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তুমি একাধারে আমার বাবা, সেরা বন্ধু এবং প্রতিনিধি ছিলে। প্রতিটি মুহূর্তে যেভাবে পাশে থাকা দরকার, তুমি ঠিক সেভাবেই থাকতে—কখনো কোনো ভুল করোনি। টুকটাক অভিমান বা ঝগড়া সত্ত্বেও দিনশেষে সবসময় তুমিই ঠিক প্রমাণিত হতে। সবশেষে তুমি যেভাবে বলতে, ঠিক সেটাই ঘটত।’

বাবার স্মৃতি আজীবন নিজের ও পরিবারের সঙ্গে থাকবে জানিয়ে মেসি লিখেছেন, ‘তোমাকে অনেক অনেক মিস করব বাবা, তবে তুমি সবসময় আমাদের মাঝে থাকবে। তোমরা আমাকে যেভাবে বড় করেছ, আমিও আমার সন্তানদের সেভাবেই শিক্ষা দিচ্ছি। শান্তিতে ঘুমাও বাবা, আর ওপর থেকে আমাদের সেভাবেই আগলে রেখো, যেমনটা এখানে থাকতে করতে। সবকিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।’

সবশেষে বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে মেসি লিখেছেন, ‘তোমাকে অনেক ভালোবাসি, বাবা।’




মালয়েশিয়াকে ১৫৩ রানে উড়িয়ে বাংলাদেশের দুর্দান্ত শুভসূচনা

ক্রীড়া ডেস্ক : মালয়েশিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।

বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৯০ রান করে বাংলাদেশ।

জবাবে মালয়েশিয়া ৪০.৫ ওভারে ১৩৭ রানে অলআউট হয়েছে। ফলে ১৫৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশের যুবারা।

শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য ছিল বেশ কঠিন। দুই ওপেনার জাওয়াদ আব্রার ও ইকবাল হোসেন দ্রুত ফিরে গেলে শুরুতেই চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।

জাওয়াদ ৮ বলে ৫ এবং ইকবাল ৩ বলে শূন্য রানে আউট হন। এরপর কালাম সিদ্দিকী ৫৬ বলে ৩৪ রান করে ইনিংস কিছুটা গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ায় একটা সময় বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।

সেই জায়গা থেকেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও আহরার আমিন। দু’জনের ব্যাটে বাংলাদেশের ইনিংস পায় স্থিরতা ও গতি। আবদুল্লাহ এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলেছেন দায়িত্বশীল ইনিংস। ১০০ বলে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৯৪ রান করেন তিনি। মাত্র ৬ রানের জন্য সেঞ্চুরি না পেলেও তার ইনিংসটি বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।

অন্যদিকে আহরার ছিলেন বেশ আক্রমণাত্মক। ৬২ বলে ৪টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৬১ রান করেন তিনি। আবদুল্লাহর সঙ্গে তার জুটি মালয়েশিয়ার বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে। দু’জন মিলে যোগ করেন ১৫৫ রান, যা বাংলাদেশের মোট সংগ্রহের অর্ধেকেরও বেশি। শুরুর ধাক্কা সামলে এই জুটিই বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরায় এবং শেষ পর্যন্ত বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যায়।

আবদুল্লাহ-আহরারের জুটি ভাঙার পরও বাংলাদেশের রান থেমে থাকেনি। শেষ দিকে শেখ জীবনের দুর্দান্ত ক্যামিও ইনিংসে নতুন গতি এনে দেয়। মাত্র ১৮ বলে ৩৫ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৩টি ছক্কা। শেষ কয়েক ওভারে জিবনের এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের কারণেই বাংলাদেশের স্কোর ২৯০ রানে পৌঁছায়।

২৯১ রানের লক্ষ্য মালয়েশিয়ার জন্য শুরু থেকেই কঠিন ছিল। বাংলাদেশের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে নিয়মিত উইকেট তুলে নেওয়ায় রান তাড়ায় কখনওই ম্যাচে ফিরতে পারেনি তারা। সাইফ উল্লাহ মালিক ৩৮ বলে ২১, বিজয় উন্নি ৩৮ বলে ১২ এবং সৈয়দ জুনাইদ খান ২৬ বলে ২১ রান করেন। তবে কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি।

মালয়েশিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন আহমাদ জুবাইদি। ৬৬ বলে ৪২ রানের ইনিংসে তিনি দুটি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকান। কিন্তু তার প্রতিরোধও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বাংলাদেশি বোলারদের ধারাবাহিক আঘাতে শেষ পর্যন্ত ১৩৭ রানেই গুটিয়ে যায় মালয়েশিয়ার ইনিংস।

বাংলাদেশের জয়ে বড় অবদান রাখেন জীবন। ব্যাট হাতে ১৮ বলে ৩৫ রানের পর বল হাতেও ভূমিকা রাখেন তিনি। মালয়েশিয়ার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন জীবন। তার সঙ্গে মারুফ মৃধা ও স্বাধীন ইসলাম দুটি করে উইকেট নিয়ে মালয়েশিয়ার ব্যাটিং অর্ডার ধসিয়ে দেন।




দুর্নীতি বিতর্কে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহকে কটাক্ষ কঙ্গনার

বিনোদন ডেস্ক : রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও প্রতিবাদী অবস্থান নিয়ে শুরু হওয়া বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ ও বহুমুখী শিল্পী পীযূষ মিশ্রর মধ্যকার বাকযুদ্ধে এবার সরাসরি নাসিরুদ্দিন শাহকে ‘শিয়াল’ সম্বোধন করে তীব্র আক্রমণ ছুড়ে দিয়েছেন বিতর্কিত অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত।

সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে নাসিরুদ্দিন শাহর আনুগত্য ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিনেত্রী। সেই পোস্টে কঙ্গনা রানাউত লিখেছেন, সত্যিটা হলো— আমরা প্রত্যেকেই কারও না কারও অনুগত। তিনি বলেন, আমি গর্বিত যে আমি সেই বাড়ির সুরক্ষায় লড়ি, যেখানকার অন্ন গ্রহণ করি। কিন্তু নাসিরুদ্দিন এ দেশের অন্ন খেয়ে অন্য দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন।

নিজের স্বভাবসিদ্ধ চাঁচাছোলা ভঙ্গিতে অভিনেত্রী বলেন, ‘আজকের দিনে কুকুর শব্দটা আসলে প্রশংসা। কারণ আনুগত্য ও বিশ্বস্ততা এখন বিরল। নাসিরুদ্দিনের মতো ‘শিয়াল’ হওয়ার চেয়ে আমি কুকুর হওয়াকেই শ্রেয় মনে করি।

একটি সূত্রে জানা গেছে, নিট দুর্নীতি নিয়ে যন্তর-মন্তরে আয়োজিত এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এ ঘটনার সূত্রপাত। সেখানে তারকাদের নীরবতা নিয়ে তোপ দেগে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ বলেছিলেন— মুখে হাড় থাকলে কুকুর ঘেউ ঘেউ করতে পারে না। বলিপাড়ার একাংশকে ইঙ্গিত করে এ বর্ষীয়ান অভিনেতার মন্তব্যটি প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নাসিরুদ্দিনের এ মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানান পীযূষ মিশ্র। ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে নাসিরুদ্দিন কেন নীরব তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে পীযূষের সেই মন্তব্যটি পুনঃপ্রকাশ করে তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন কঙ্গনা রানাউত।




ফের চলচ্চিত্রে ফিরছেন শবনম বুবলী

বিনোদন ডেস্ক : মাতৃত্বকালীন বিরতি কাটিয়ে আবারও সিনেমায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আলোচিত ঢালিউড অভিনেত্রী শবনম বুবলী। নিজের ফিটনেস পুনরুদ্ধার করতে কঠোর পরিশ্রম করছেন তিনি।কন্যা শারলিন খানের সার্বিক যত্নের পাশাপাশি নিজে নিয়মিত বিশেষ ডায়েট ও জিম অনুসরণ করছেন অভিনেত্রী, যাতে খুব দ্রুত সময়ে নতুন সিনেমার জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে পারেন তিনি।

কন্যা শারলিন খানের জন্মের পর খুব একটা জনসম্মুখে আসেননি শবনম বুবলী। তবে সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিতই ছিলেন তিনি। ফুটবল বিশ্বকাপে প্রিয় দল ব্রাজিলকে সাপোর্ট থেকে শুরু করে ফটোশুটের ভিডিও-ছবিসহ নানা কিছু সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন অভিনেত্রী।

আগামী মাসেই তার ফেরার কথা রয়েছে ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ সিনেমার মধ্য দিয়ে। তবে তার এ ফেরার প্রস্তুতির মূল আকর্ষণ ও পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ দিয়ে প্রত্যাবর্তন।  সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মাসেই জাহিদ হোসেন পরিচালিত ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় কামব্যাক করতে যাচ্ছেন শবনম বুবলী। পুরান ঢাকার সমাজ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কেন্দ্র করে নির্মিত এ সিনেমায় তার বিপরীতে নায়ক হিসেবে থাকছেন আদর আজাদ।

এছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় সিনেমার মধ্যেূ রয়েছে— শাপলা শালুক। এ সিনেমায় বুবলীর বিপরীতে অভিনয় করেছেন আব্দুন নূর সজল। এ ছাড়া ‘কয়লা’ সিনেমাটির শুটিং ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছেন অভিনেত্রী।




শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ পর্যালোচনা করছে ভারত : জয়সওয়াল

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশের সাবেক স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ ভারত নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

জয়সওয়াল বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। একইসঙ্গে শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার সন্দেহভাজনদের নিয়ে তদন্তও চলছে।

জয়সওয়াল বলেন, আমাদের হাইকমিশনার গতকাল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। সেখানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) প্রত্যর্পণ এবং হাদি হত্যা মামলা এই দুটি বিষয় নিয়েও আপনারা প্রশ্ন করেছেন।

হাদী হত্যা মামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি একটি আইনি বিষয় এবং বর্তমানে এ নিয়ে তদন্ত চলছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান আগেও পরিষ্কার ছিল। আমরা আমাদের দেশে প্রচলিত নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করছি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকের একদিন পর ভারতের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য এলো।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আশা করে, ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করবে। একইসঙ্গে হাদী হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজনদেরও ভারতের কাছ থেকে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন রোডে রিকশায় যাওয়ার সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে হাদির মাথায় গুলি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

এর আগে, চলতি বছরের শুরুতে কলকাতা পুলিশের বরাত দিয়ে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন জানায়, ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) ও আলমগীর হোসেন (৩৪) নামে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম তাদের শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যা মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে।

বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন জানায়, খবরটি প্রকাশের পরপরই তারা কলকাতার ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পাশাপাশি গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের দেখা করার সুযোগ (কনস্যুলার অ্যাক্সেস) দেওয়ার অনুরোধ জানায়।

এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথম বৈঠককে ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, দুই দেশ শুধু একটি ভৌগোলিক সীমান্তই ভাগ করে না, তারা স্বপ্নও ভাগ করে নেয়।

তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতের হাইকমিশন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জানায়, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গিতে কাজ করতে আগ্রহী ভারত।

হাইকমিশনের পোস্টে আরও বলা হয়, দুই পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেছে। সেইসঙ্গে জনগণকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।




নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করলেন দীনেশ ত্রিবেদী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পর্যায়ে ব্যস্ততার মধ্যে মঙ্গলবার এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ত্রিবেদী। এর পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ক‌রে‌ছেন তিনি। আবার একইদিন বিকেলে দি‌ল্লি‌র উদ্দেশে ঢাকা ছে‌ড়ে‌ছেন ভারতীয় এই দূত।

ওই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং বাংলাদেশ শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রত্যাশা জানায়।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট যে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ ভারতের প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ছে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দুই দেশ আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।




কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কলম্বিয়ায় স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ভূমিকম্পে ধসে পড়া কয়েক হাজার ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অসংখ্য মানুষ আটকে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে কলম্বিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যাপিটাল সিটিস ১৬৫ জনের মৃত্যুর তথ্য জানায়। এরপর কালি শহর থেকে আরও ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২৪ জনে পৌঁছেছে।

সোমবার ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এটিকে ‘ওয়ান্স ইন এ ডিকেড’ ভূমিকম্প হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এটি সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে চোকো নামের একটি পাহাড়ি প্রদেশে। ভূমিকম্পটির কম্পন অনুভূত হয়েছে রাজধানী বোগোতা এবং অন্যান্য জনবহুল শহরগুলোতে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে তার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলারদো দে লা এসপ্রিল্লা মাত্র গত শুক্রবার শপথ গ্রহণ করেন। এরমধ্যেই দেশটিতে আঘাত হানল এত শক্তিশালী ভূমিকম্প। এরপর দ্রুত সময়ের মধ্যে তিনি দেশজুড়ে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কলম্বিয়ায় সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ভূমিকম্পে পশ্চিম কলম্বিয়ার ক্যালি, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেসসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এটি প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমারে। ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের ১০৭ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।




বাংলাদেশিকে ফেরত দেওয়ায় দুই ভারতীয়কে ছেড়ে দিল স্থানীয়রা

ডেস্ক নিউজ : মেহেরপুর সদর উপজেলার ইছাখালী সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক এক বাংলাদেশি কৃষককে ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। একই ঘটনায় স্থানীয়দের হাতে আটক দুই ভারতীয় নাগরিককেও পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ৩টার দিকে ইছাখালী সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের ক্যাম্প কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার ইছাখালী সীমান্তের সীমান্ত পিলার ১২৪/৩-এস সংলগ্ন এলাকায় কৃষিকাজ করতে যান ইছাখালী গ্রামের আব্দুল মান্নান (৬৫)। এ সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার অধীন ৫৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের নবচন্দ্রপুর ক্যাম্পের একটি টহলদল তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

আব্দুল মান্নানকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তার স্বজনরা সীমান্তবর্তী এলাকায় কৃষিকাজ করতে থাকা দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে ইছাখালী বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে আসেন।

আটক দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন- ভারতের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার লালবাজার গ্রামের মনমোহন দাসের ছেলে শচীন দাস (৬০) এবং একই গ্রামের কুঞ্জু বিশ্বাসের ছেলে নরতন বিশ্বাস (৩৫)।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বৈঠকে বাংলাদেশি কৃষক আব্দুল মান্নানকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আটক দুই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।

পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ইছাখালী বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার আবু হানিফ। ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন নবচন্দ্রপুর ক্যাম্প কমান্ডার ইন্সপেক্টর রাজীব কুমার।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত আনা হয়েছে এবং বাংলাদেশে আটক দুই ভারতীয় নাগরিককে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি সীমান্তবর্তী কৃষক ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনোভাবেই যেন তারা আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ না করেন।

স্থানীয়রা জানান, আব্দুল মান্নান দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় প্রায় দেড় বিঘা জমিতে কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে আসছেন। মঙ্গলবার সকালে নিজের মরিচখেতে কীটনাশক স্প্রে করতে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।