২০০ কোটির প্রতারণা মামলায় নোরা ফাতেহিকে আদালতে তলব

বিনোদন ডেস্ক : সুকেশ চন্দ্রশেখরের ২০০ কোটি রুপির আর্থিক জালিয়াতির মামলার জট যেন কিছুতেই কাটছে না বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহির। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আলোচিত মামলায় এবার নতুন করে আদালতের ডাক পেলেন অভিনেত্রী।

আগামী ২ নভেম্বর দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাকে। মামলার তৃতীয় অভিযোগপত্রে সাক্ষী হিসেবে নাম থাকায় আদালতে উপস্থিত হতে হবে নোরাকে।

সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে ২০০ কোটি রুপি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে বলিউডে তোলপাড় কম হয়নি। এই মামলায় অভিযুক্তের কাছ থেকে দামি উপহার নেওয়ার অভিযোগে আগেও একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন নোরা। তবে এবার তাকে সরকারি সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুকেশের দাবি, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় বাড়ি কেনার জন্য নোরাকে কয়েক কোটি রুপি দিয়েছিলেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, দামি প্রসাধনসামগ্রী, বিদেশি ব্র্যান্ডের ব্যাগ ও বিলাসবহুল গাড়িসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়ার কথাও দাবি করেছেন এই অভিযুক্ত। এমনকি নোরার সঙ্গে তার হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের কিছু অংশও একসময় প্রকাশ্যে এনেছিলেন সুকেশ।

নোরা ও সুকেশকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত অবশ্য বেশ আগে। সুকেশের দাবি ছিল, জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভাঙতে নোরা নানাভাবে উসকানি দিতেন। জ্যাকলিনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ঈর্ষান্বিত হয়ে নোরা নিয়মিত ফোন করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য বিপুল অর্থ দাবি করার অভিযোগও তুলেছিলেন। তবে এসবই সুকেশের করা অভিযোগ, যার সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি।

গত আগস্টে সুকেশের হাতে লেখা একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনায় আসে বিষয়টি। ওই চিঠিতেও নোরাকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগের উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

এদিকে একই মামলায় নাম জড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় রয়েছেন আরেক বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ। তাকেও একাধিকবার আদালতে হাজির হতে হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, সুকেশের সঙ্গে নাম জড়িয়ে পেশাগত জীবনে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন নোরা। গত আগস্টে এক বক্তব্যে অভিনেত্রী দাবি করেন, এই মামলার কারণে একাধিক বিজ্ঞাপন ও প্রতিষ্ঠানের কাজ হারিয়েছেন তিনি। পরপর কাজ হাতছাড়া হওয়ায় কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাকে। প্রায় দুই বছর ধরে এই পরিস্থিতির প্রভাব বয়ে বেড়াতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।




বাংলাদেশের সঙ্গে পর্যটন সহযোগিতা বাড়াতে চায় ফিলিপাইন

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে পর্যটন সহযোগিতা সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পাদিলা কইনলেট। তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং টেকসই পর্যটন উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি আমাদের দুই দেশের মধ্যে আরও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার করার বিপুল সুযোগ তৈরি করে পর্যটন। একই সঙ্গে এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও অবদান রাখে।

তিনি বলেন, ‘পর্যটন একটি দেশের হৃদয় ও আত্মাকে জানার সুযোগ করে দেয়।’ ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, খাবার ও ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ পায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কইনলেট বলেন, বিভিন্ন দেশের মানুষকে কাছাকাছি আনা এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যয়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে পর্যটন দেশগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারে।

ফিলিপাইনের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি পর্যটকদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণ উপভোগ করার আমন্ত্রণ জানান।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি সুন্দর দেশ। দেশটির মানুষ দয়ালু ও অতিথিপরায়ণ।’ সেখানে ভ্রমণকারীরা এমন আন্তরিক পরিবেশ পাবেন, যাতে তাদের নিজেদের বাড়িতে থাকার মতো অনুভূতি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, পর্যটন শুধু অবকাশযাপন ও বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা এবং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের মোট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ১০ শতাংশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পর্যটনের অবদান রয়েছে। প্রতি ১০টি কর্মসংস্থানের অন্তত একটির সঙ্গে এ খাতের সম্পৃক্ততা রয়েছে।’

অর্থনৈতিক সুযোগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে পর্যটনকে এগিয়ে নিতে দেশগুলোর সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই-পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’কে স্বাগত জানিয়ে কইনলেট বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষায় টেকসই পর্যটনচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা যা পেয়েছি, তা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে হবে।’

প্রদর্শনীতে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা তুলে ধরার উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনে পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তার মতে, পর্যটনের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী সংগীত, নৃত্য এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি নতুন করে চর্চার সুযোগ পায়, যা অন্যথায় সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারত।

আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রদর্শনীর আয়োজন করায় ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশকে (টোয়াব) অভিনন্দন জানান কইনলেট। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের অব্যাহত প্রবৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করেন তিনি।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন নাহার চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে বিটিটিএফের ১৪তম আসরের উদ্বোধন করেন।

টোয়াব আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে বাংলাদেশ ও বিদেশের পর্যটন অপারেটর, বিমান সংস্থা, হোটেল, ট্রাভেল এজেন্সি এবং আতিথেয়তা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নিচ্ছে।

বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ মেলা আন্তর্জাতিক পর্যটন সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করছে।

আয়োজকদের তথ্যমতে, প্রদর্শনীতে ২০০টির বেশি বুথ ও স্টল, ২২০ জনের বেশি প্রদর্শক এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক দর্শনার্থী অংশ নিচ্ছেন।

বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরা, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদার এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও টেকসই পর্যটনচর্চায় উৎসাহ দেওয়াই এ আয়োজনের লক্ষ্য।




নভেম্বরের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ : নভেম্বর মাসে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ

ঘোষিত দাম অনুযায়ী, নভেম্বর মাসজুড়ে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে নভেম্বর মাসের জন্য এসব মূল্যহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্য আগামী ১ নভেম্বর থেকেও বহাল থাকবে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে গত ২০ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়।

ওইদিন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হকের সই করা প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম জানানো হয়। দাম বাড়ানোর পর ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।




ইয়েমেনে হুথিদের প্রশিক্ষণ শিবিরে বিমান হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজে হুথি বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে দেশটির সরকারি বাহিনী। এসব হামলায় হুথি গোষ্ঠীর বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সরকারি বাহিনী। খবর আল জাজিরার।

এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানায়, তাইজ শহরের পশ্চিমে আল-আশাব এলাকায় হুথিদের একটি প্রশিক্ষণ শিবির লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া সাবর আল-মাওয়াদিম জেলার বারদাদ এলাকায় হুথি যোদ্ধাদের অবস্থান এবং ধুবাব জেলার আল-দাসা এলাকায় একটি হুথি সামরিক যান লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পশ্চিম তাইজের ধুবাব জেলার খালিদ ইবনে আল-ওয়ালিদ চেকপোস্টে হুথি সদস্যদের একটি সমাবেশ লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করেছে সরকারি বাহিনীর আর্টিলারি ইউনিট। এতে হুথি গোষ্ঠীর বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে হতাহতের এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে মিত্র বাহিনীগুলোও তাইজের বিভিন্ন ফ্রন্টলাইনে হুথিদের হামলা প্রতিহত করতে কাজ করছে।




১২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

ডেস্ক নিউজ : ময়মনসিংহ শহরে ইয়াবা কেনাবেচার প্রস্তুতির সময় ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে নগরের সেওড়া মুন্সিবাড়ি এলাকার একটি দোতলা বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে আনুমানিক ৬ লাখ টাকা মূল্যের ১ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রদল নেতা মনিরুল ইসলাম (৩০) ময়মনসিংহ সদরের চর ঘাগড়া গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার হওয়া বাকি চারজন হলেন—ত্রিশাল উপজেলার শাকির হোসেন (২৫), ময়মনসিংহ শহরের মধ্য বাড়েরা এলাকার জাকিরুল ইসলাম (৩২), সদরের ঘাগড়া ইউনিয়নের সজীব মিয়া (২০) এবং শহরের সারদা ঘোষ রোড এলাকার উৎসব সিং সাগর (২৮)।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সেওড়া মুন্সিবাড়ি এলাকায় ইয়াবা কেনাবেচার গোপন সংবাদ পেয়ে ডিবির একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় পালানোর চেষ্টার সময় পাঁচজনকে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় উক্ত ইয়াবা। এ ঘটনায় ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রিপন উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুল হক বলেন, চক্রটি নিয়মিত মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে এরা কোথায় থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করত এবং কোথায় সরবরাহ করত, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। এদিকে ঘটনাটি জানার পর ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম জানান, বিষয়টি কেন্দ্রকে অবহিত করা হয়েছে এবং ব্যক্তির অপরাধের দায় দল নেবে না উল্লেখ করে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আজিজুল হাকিম আরও বলেন, ‘আমরা কমিটি গঠনের সময় প্রত্যেকের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করেই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। সে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, সেটি জানা ছিল না। এখনকার বাস্তবতায় যদি কেউ খারাপ কাজে যুক্ত হয়, দল অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আমরা কোনো খারাপ কাজকে উৎসাহিত করি না।’




গ্যাবনকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে গ্যাবনকে ১-০ গোলে হারিয়ে ‘ই’ টায়ারের ফাইনালে উঠেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ই-টায়ারের সেমিফাইনালে ম্যাচের ১৪ মিনিটে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র জয়সূচক গোল করেন রাতুল।

এর আগে দুপুরে মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। এই ম্যাচ বাংলাদেশের হয়ে জোড়া গোল করেন পাভেল।

আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে ১৮৯টি দেশ। বাছাই পর্বের খেলায় বাংলাদেশ ‘সি’ গ্রুপে পঞ্চম হয়েছিল। পঞ্চম স্থানে থাকা ৩২ দল নিয়ে ‘ই’ টায়ারের নক আউট পর্ব চলছে। সেখানে বাংলাদেশ তিন ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠেছে। ফিফা ছয় টায়ারে ছয় চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করবে।




শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হলেন অভিনেতা শিবা শানু

বিনোদন ডেস্ক : বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব পেয়েছেন অভিনেতা শিবা শানু। তার আসল নাম চৌধুরী মাজহার আলী। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে তাকে।

আগামী এক বছরের জন্য পদটিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে শিবা শানুকে। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অন্য সব পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হলো।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন শাওয়াল খানম। ট্রাস্টটি দেশের শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করে।

উল্লেখ্য, শিবা শানু বর্তমানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি। প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ারে চার শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।




বিদ্যুৎ বিলের চাপে ৬৯ শতাংশ পরিবার

ডেস্ক নিউজ : বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের অভাব প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার ৮৯ শতাংশ পরিবার বিদ্যুৎ ব্যবহারে জীবনমান উন্নতির কথা জানালেও ৬৯ শতাংশ পরিবার আয় বৃদ্ধির তুলনায় বিলের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এছাড়া ৫৫ শতাংশ পরিবার বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতাকে খারাপ বা খুব খারাপ বলে উল্লেখ করেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক গণসংলাপে সমীক্ষার এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

এক দশকে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন

রাজশাহীর ৩৩৪টি এবং শৈলকুপার ২২২টিসহ মোট ৫৫৬টি পরিবারের ওপর পরিচালিত এ সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, গত এক দশকে প্রান্তিক বা লাইফলাইন গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। উত্তরদাতাদের ৮৫ শতাংশের বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং ৭৭ শতাংশের বাসায় বৈচিত্র্যময় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ফ্রিজ ব্যবহারের হার ১০ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশ এবং টেলিভিশন ব্যবহারের হার ৩৪ থেকে ৪৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি ৭৬ শতাংশ পরিবার শিশুদের পড়াশোনার পরিবেশ উন্নয়ন এবং ৯৭ শতাংশ পরিবার রাতে নিরাপত্তার বোধ বাড়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।

১৩২ মেগাওয়াটের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা

সমীক্ষায় সরকারি ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয় (৫২.৫০ মেগাওয়াট-পিক), ১৫০টি কলেজ (৫১.১২ মেগাওয়াট-পিক), রাজশাহী সিটি করপোরেশন (২৪.৬০ মেগাওয়াট-পিক) ও শৈলকুপা পৌরসভায় (৪.০৬ মেগাওয়াট-পিক) মিলিয়ে মোট ১৩২.২৮ মেগাওয়াট-পিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট সম্ভাবনার তথ্য তুলে ধরা হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানানো হয়।

বিদ্যুৎ ব্যবহার দিয়ে দারিদ্র্য শনাক্তের অভিনব প্রস্তাব

ক্যাব তাদের মূল প্রবন্ধে পরিবারভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের ডাটা বিশ্লেষণ করে সরকারি অতিরিক্ত ব্যয় সাশ্রয়ের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবার শনাক্তকরণের একটি ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা পেশ করে। সংগঠনটির দাবি, এ পদ্ধতি কার্যকর করা গেলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২,৬৯৯ কোটি টাকা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২১৬ কোটি টাকার মতো পৃথক প্রকল্প ব্যয় বাঁচানো সম্ভব।

তবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকরা সতর্ক করে বলেন, দুর্গম ও চরাঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে এবং অনেক দরিদ্র পরিবার যৌথভাবে মিটার ব্যবহার করায় কেবল বিদ্যুতের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে দারিদ্র্য নিরূপণ করলে ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজনদের বক্তব্য

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বিদ্যুৎ খাতে বিগত সরকারের দায়মুক্তি আইনের কঠোর সমালোচনা করে প্রতিটি খাতে জবাবদিহি নিশ্চিতের তাগিদ দেন। তিনি বিকল্প জ্বালানির উৎস জোরদার ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির নবায়নেযোগ্য জ্বালানি প্রসারে সরকারের কার্যকরী নীতি ও প্রণোদনা দাবি করেন। স্ট্যামফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক শিহাব উদ্দিন সৌরবিদ্যুৎ বাস্তবায়নে বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও দক্ষ জনবল তৈরির তাগিদ দেন।

গণসংলাপে ক্যাব লাইফলাইন গ্রাহকদের সহায়তা পুনর্মূল্যায়ন, বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণসহ প্রধান ৩টি সুপারিশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করে। ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম।




বাংলাদেশ-জাপান ছয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি দু’টি প্রকল্পে প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।

স্বাক্ষরিত দলিলগুলোতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কৃষি, কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের বিভিন্ন অর্জনের বিষয়ে উপ প্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন এ তথ্য জানান।

দলিলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে একটি টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য সর্বোচ্চ ২.১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অনুদান চুক্তি রয়েছে।

এ ছাড়া, জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দু’টি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি (এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-ইএসডিপি) বিষয়েও একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ ছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সহযোগিতা জোরদারে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আগ্রহপত্র (লেটার অব ইনটেন্ট-এলওআই) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

অন্যদিকে, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৫.৮৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১০০.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।

এ ছাড়া, উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে ৩০.৬৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৯৪.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

দু’টি প্রকল্পে ঋণের মোট পরিমাণ ৪৬.৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন, যা প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।

এসব দলিল, সহযোগিতা স্মারক ও ঋণের প্রতিশ্রুতিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সফরকালে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

এসব বৈঠকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এর আগে, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে জাপান আগমন করেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল তার সফরসঙ্গী হিসেবে জাপান আসেন।




ইরানের ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের হদিস মিলছে না: আইএইএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আন্তর্জাতিক নজরদারি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারছে না আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর সংস্থাটির পরিদর্শকেরা ইরান ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দেশটির পারমাণবিক উপাদানের হিসাব যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এ তথ্য জানান আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।

নিরাপত্তা পরিষদে গ্রোসি বলেন, ইরানের সঙ্গে আইএইএর সুরক্ষা চুক্তির আওতায় থাকা কোনো পারমাণবিক উপাদান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়নি, তা এখনো যাচাই করতে পারেনি সংস্থাটি। এ অনিশ্চয়তা দূর করা সম্ভব হলেও সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গত মাসে আইএইএর পরিচালনা পর্ষদ ইরানের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পাস করে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা পরিষদে পাঠায়। এর পর মঙ্গলবার ১৫ সদস্যের পরিষদে প্রথমবারের মতো ব্রিফিং দেন গ্রোসি। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম ইরানকে নিরাপত্তা পরিষদে তোলা হয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রস্তাবটির পক্ষে ২৩টি দেশ ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট পড়ে তিনটি এবং আটটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। তবে তেহরান এ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বেআইনি আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে।

গ্রোসি জানান, ইরানের পারমাণবিক উপাদানের সুরক্ষা ও হিসাবসংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলো পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে রয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সামরিক হামলার পর পরিদর্শকদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যাহার করে নেওয়া হলে যাচাই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তার ভাষ্য, আইএইএর পরিদর্শকেরা কয়েক মাস ধরেই ইরানে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন আইএইএ প্রধান। তিনি জানান, ওমান, পাকিস্তান, কাতার ও মিসর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির পৃষ্ঠপোষকতায় এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সহায়তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত কায়রো চুক্তির কথা উল্লেখ করেন তিনি।

গ্রোসির মতে, সামরিক হামলার পর ইরানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলা এবং একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় পারমাণবিক যাচাই কার্যক্রম চালু করার ক্ষেত্রে কায়রো চুক্তি একটি বাস্তবসম্মত পথ তৈরি করেছিল। চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা করা হলে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা নির্ধারণেও অগ্রগতি সম্ভব।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ফোরদো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, নাতাঞ্জের প্রধান ও পরীক্ষামূলক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, ইসফাহান কমপ্লেক্সের কয়েকটি স্থাপনা এবং খোন্দাবের ভারী পানি গবেষণা চুল্লি।

গ্রোসি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি অনুযায়ী কোনো দেশ একতরফাভাবে তার আইনি বাধ্যবাধকতা স্থগিত করতে পারে না। তাই ইরানের পারমাণবিক উপাদানের হিসাব ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের কাজ পুনরায় চালু করা প্রয়োজন।

তবে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কিছু অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন তিনি। সেখানে বর্তমানে আইএইএর পরিদর্শকেরা কাজ করছেন। ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি নতুন একটি শুষ্ক সংরক্ষণাগারে স্থানান্তরের আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়েও ইরানের আণবিক শক্তি কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে। আগামী বছরের শুরুর দিকে জ্বালানি স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

ইসফাহান জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে আইএইএর। ২০২৫ সালের জুনে সামরিক হামলার ঠিক আগে ইরান কেন্দ্রটির বিষয়ে সংস্থাটিকে জানিয়েছিল এবং পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু হামলার কারণে পরিদর্শন সম্ভব হয়নি। এরপর ওই স্থাপনায় প্রবেশের জন্য আইএইএর একাধিক অনুরোধ তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে।

গ্রোসি আরও জানান, দূরবর্তী নজরদারি ব্যবস্থায় এমন কোনো তৎপরতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা থেকে ধারণা করা যায় যে ২০২৫ সালের হামলার পর কিংবা চলতি বছরে ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো মেরামত বা পুনর্নির্মাণের চেষ্টা চলছে। তবে স্থাপনাগুলোর প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত করতে সরাসরি পরিদর্শনের বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আইএইএ প্রধান বলেন, ইরানে পরিদর্শকদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে মার্কিন সমঝোতাকারী ও কারিগরি দলগুলোর সঙ্গে সংস্থাটির বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি কূটনৈতিক সমঝোতার জন্য প্রাথমিক কারিগরি প্রস্তুতিও রয়েছে।

গ্রোসি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যেকোনো সমাধানের ক্ষেত্রে আইএইএর যাচাই কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। যাচাই ছাড়া কোনো সমঝোতার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় এবং তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

তিনি তেহরানকে ধাপে ধাপে কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে স্বাভাবিক পারমাণবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বৃহত্তর সমঝোতার জন্য পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা যায়। একই সঙ্গে ইরানের বৈধ নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসংক্রান্ত উদ্বেগ বিবেচনায় নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

গ্রোসির ভাষ্য, আইএইএর যাচাইয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত কূটনীতিই ইরানসহ বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে।