অস্ত্রের মুখে গহনা ডাকাতির ঘটনায় ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ পেলেন কিম কার্দাশিয়ান

বিনোদন ডেস্ক : ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ২০১৬ সালে অস্ত্রের মুখে গহনা ডাকাতির ঘটনায় মার্কিন তারকা কিম কার্দাশিয়ানকে প্রতীকী ক্ষতিপূরণ ১ ইউরো (১৪২ টাকা) দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আদালত এই প্রতীকী ক্ষতিপূরণের রায় ঘোষণা করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে একজন আইনজীবী।

আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ডাকাতির ঘটনায় আদালতে কার্দাশিয়ান নিজের প্রাণ হারানোর শঙ্কার কথা সাক্ষ্যে উল্লেখ করেছিলেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কাছে কার্দাশিয়ান নিজেই এই সামান্য পরিমাণ প্রতীকী ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন।

গত বছর প্যারিসের আদালত আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করার পর কার্দাশিয়ান ডাকাতির ঘটনাটি ভুলে থাকার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি ওই ঘটনাকে ‘জীবনের ভীতিকর অভিজ্ঞতা’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

রায় ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে ফরাসি বিচার ব্যবস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কিম কার্দাশিয়ান। বার্তা সংস্থা এপি’কে কিম জানান, ‘খুব ভীতিজনক ডাকাতির ঘটনাটি। এখনো যার প্রভাব আমার ভেতর রয়ে গেছে। আজকের এই রায় ক্ষতিপূরণের জন্য নয় বরং জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার তাগিদে। আদালত এবং আইনি লড়াইয়ে যারা আমাদের পাশে ছিলেন, তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আশা করি, ওই মর্মান্তিক মানসিক আঘাত থেকে নিজেদের দূরে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।’

২০১৬ সালের ২ অক্টোবর কিম কার্দাশিয়ান প্যারিস ফ্যাশন সপ্তাহে যোগদানের জন্য একটি বিলাসবহুল হোটেলে উঠেছিলেন। সেখানে পুলিশের পোশাক পরা মুখোশধারীরা মার্কিন অভিনেত্রীকে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে তার মূল্যবান গয়না লুট করে নেয়। ফ্রান্সের ওই ডাকাত দলটি ‘দাদু ডাকাত’ নামে পরিচিতি পায় তাদের বয়সের কারণে। সশস্ত্র ডাকাতি, অপহরণ, গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং অন্যান্য অভিযোগে যখন তাদের বিচার হয়, তখন তাদের মধ্যে ছয়জনের বয়স ষাট ও সত্তরের কোঠায় ছিল।




সৌদির লোহিত সাগর বন্দরে বন্ধ তেল লোডিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ইয়ানবুতে তেল লোডিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলার পর কয়েক দিন ধরে বন্দরের এই কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই। একই বিষয়ে শিপিং শিল্পের কয়েকটি সূত্রের বরাতে রয়টার্সও জানিয়েছে, ইয়ানবু বন্দরে তেল লোডিং স্থগিত রয়েছে।

গত সপ্তাহে ইরান-সমর্থিত ইরাকি একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলা চালায়। হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগর উপকূলে তেল সরবরাহ করা হয়। এরপর ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজে করে তা বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহনে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব হরমুজ এড়িয়ে লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব পথ ব্যবহার করে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছিল। তবে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর ইয়ানবু বন্দরের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির তেল রপ্তানি ব্যবস্থায় নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো ইয়ানবু বন্দরে তেল লোডিং বন্ধের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

লোহিত সাগরের এক প্রান্তে বাব এল-মান্দেব প্রণালি এবং অন্য প্রান্তে মিসরের সুয়েজ খাল অবস্থিত। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা গত সপ্তাহে লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা দখল করে সৌদি জাহাজকে বাব এল-মান্দেব দিয়ে চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

মোখা থেকে হুথিদের সরিয়ে দিতে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। এ অভিযানের অংশ হিসেবে সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনে নিয়মিত বিমান হামলা চালাচ্ছে।




ভূরুঙ্গামারীতে ২৩ লাখ টাকার পণ্য ধ্বংস করল কাস্টমস

ডেস্ক নিউজ : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ২৩ লাখ টাকার বাজেয়াপ্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস করেছে ‘ভূরুঙ্গামারী কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেল অফিস’।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার ভূরুঙ্গামারী কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেল অফিস সংলগ্ন জয়মনিরহাট ইউনিয়নের ছোট খাটামারী এলাকায় এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

ধ্বংস করা পণ্যের মধ্যে ছিল ওষুধ, সার, খাদ্যদ্রব্য, তামাকজাত দ্রব্য, কারেন্টজাল, শাড়ি, ওড়না, চাদর ও প্রসাধনী সামগ্রী। এসব পণ্যের ওজন প্রায় ১৫ হাজার ২০০ কেজি যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৩ লাখ টাকা। কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট রংপুরের কমিশনার মুহাম্মদ রাশেদুল আলমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এ সময় ধ্বংসযোগ্য পণ্য ধ্বংসকরণ কমিটির আহ্বায়ক রংপুর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট যুগ্ম কমিশনার ফয়সাল বিন রহমান, ধ্বংসকরণ কমিটির সদস্য সচিব কুড়িগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী কমিশনার সাঈদুর রহমান মুন্না, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক, নাগেশ্বরী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার গোলাম মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের (২২ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মতিউর রহমান, সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) বদিউজ্জামান, কুড়িগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম, কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক এনামুল হক, ভূরুঙ্গামারী কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেলের রাজস্ব কর্মকর্তা জহির রায়হান সিদ্দিক ও ভূরুঙ্গামারী শুল্ক গুদাম কর্মকর্তা জুনেদ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।




আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ: তদন্ত প্রতিবেদন

ক্রীড়া ডেস্ক : নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। পরে বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপ। বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ সিদ্ধান্তের জন্য তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে দায়ী করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর বলেন, বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের ভূমিকা ছিল এবং সে সময়ের সরকারও এর জন্য দায়ী।

তিনি বলেন, ‘তদন্তে যা উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সবকিছু মিলিয়ে যা বলা যায়, যে মানুষটি দায়ী (বিশ্বকাপে না যাওয়ার জন্য), তিনি হলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপেদষ্টা আসিফ নজরুল। সেই সময়ের সরকার ও তিনি দায়ী।’

তদন্ত কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ‘অবশ্যই বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত ছিল।’

ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে বাংলাদেশের অস্বীকৃতি নিয়ে দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদও জানান অনেকে। এরপর বিশ্বকাপে না যাওয়ার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে বিস্তারিত তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় বর্তমান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের মার্চে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) কে এম অলিউল্ল্যাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন ও আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর।

দীর্ঘ কয়েক মাসের তদন্ত শেষে মঙ্গলবার কমিটি তাদের ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

তদন্তের অংশ হিসেবে ক্রিকেটার, বিসিবির কর্মকর্তা, কোচ ও গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্যও প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়েছে।

ক্রিকেটারদের মধ্যে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর।

এ ছাড়া বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হক, বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, ওই সময়ের জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং তৎকালীন বিসিবি পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিমের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

গণমাধ্যমের কয়েকজন প্রতিনিধির সঙ্গেও কথা বলেছে তদন্ত কমিটি।

তবে যাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদনে অভিযোগের তীর রয়েছে, তাদের মধ্যে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং ওই সময়ের বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বক্তব্য নিতে পারেনি তদন্ত কমিটি।

কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




শ্যামলীর রাজ্জাক হোটেলে সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ অনুসন্ধানে গিয়ে মারধর, ক্যামেরা-মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ—ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা, আদাবর থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে রুম ভাড়ার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে অনুসন্ধানে গিয়ে একদল সাংবাদিক হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, শ্যামলীর রাজ্জাক হোটেলে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সন্দেহজনকভাবে নারী-পুরুষের প্রবেশ ও বের হওয়ার ঘটনা লক্ষ্য করেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৬ জন সাংবাদিক হোটেলটিতে যান। এ সময় সাংবাদিকরা তথ্য ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে হোটেলের ভেতরে তাদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, একপর্যায়ে তাদের কাছ থেকে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে দরজা আটকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে ৬ জন সাংবাদিকই মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলার সময় তিনজন নারী সাংবাদিককেও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি নারী সাংবাদিকদের ওপর শারীরিকভাবে হাত তোলার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

হামলায় আহত সাংবাদিকদের পরে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা নেওয়ার পর ঘটনার বিষয়ে আদাবর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সাংবাদিকদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা কথিত অপকর্মের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো জনগণের সামনে অনিয়ম ও অসঙ্গতি তুলে ধরা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সচেতন করা।

দ্রুত বিচার দাবি

সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে রাজ্জাক হোটেলে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাংবাদিকরা শুধু সংবাদ প্রকাশ করেন না; অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অপরাধের তথ্য সামনে আনেন। ফলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা মানে শুধু একজন সাংবাদিককে আঘাত করা নয়—এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাধারণ মানুষের তথ্য জানার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল।

তারা বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় কোনো আপস নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা প্রতিহত করতে দেশের সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, রাজধানীসহ দেশের কোথাও কোনো সাংবাদিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা, হুমকি বা হয়রানির শিকার হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজ্জাক হোটেলে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার দাবি জানানো হবে।

এদিকে রাজ্জাক হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাংবাদিক নির্যাতনের বিচার দ্রুত নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের নিরাপদে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ সৃষ্টি করাই এখন সাংবাদিক সমাজের প্রধান দাবি।




অনাগত সন্তানের মঙ্গলে সামান্থার ‘কলা আবরণ’ আয়োজন

বিনোদন ডেস্ক : মা হতে চলেছেন দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। জীবনের এই বিশেষ সময়কে স্মরণীয় করে রাখতে স্বামী ও পরিচালক রাজ নিধিমোরুর উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ সাধভক্ষণ অনুষ্ঠানের। ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে হবু মাকে পুষ্পবৃষ্টিতে বরণ করে নেওয়া হয়। সেই বিশেষ দিনের বেশ কিছু মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন সামান্থা।

‘কলা আবরণ’ নামের এই বিশেষ অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা আধ্যাত্মিক রীতি। সামান্থার ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রীবিদ্যার এই আরাধনা করা হয় দেবীর ৯৪টি কলাকে সম্মান জানাতে। পবিত্র জল, মন্ত্রোচ্চারণ ও বিশেষ পূজার মাধ্যমে হবু মায়ের শরীরের সাতটি চক্রকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আচার সম্পন্ন করা হয়।

অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ রীতিতে সামান্থাকে দেবীর আসনে বসানো হয়। অভিনেত্রীর কাছে এই বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছে। কারণ, এখানে শুধু গর্ভস্থ সন্তানের মঙ্গল কামনা করা হয় না; যে নারী সন্তানকে পৃথিবীতে আনছেন, তাঁর সুস্থতা ও মঙ্গলের জন্যও প্রার্থনা করা হয়।

অনুষ্ঠানের তাৎপর্য বুঝতে তাঁকে সাহায্য করেছেন তাঁর পুরোহিত। নিজের ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি শ্রদ্ধার কথা জানিয়ে সামান্থা বলেন, ‘আমাদের ঐতিহ্যের প্রতি আমার বরাবরই গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি হয়তো প্রতিটি নিয়মের পিছনের অর্থ বুঝতে পারি না, কিন্তু আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি যে এর পিছনে আরও গভীর কিছু কাজ করছে। মন্ত্রের ধ্বনিতে, জপ করার মাধ্যমে সৃষ্ট শক্তিতে, এবং যে যত্নসহকারে প্রাচীন প্রথাগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে এসেছে, তার মধ্যে।’

পুষ্পবৃষ্টির পর সামান্থার অভিষেকও করা হয়। এরপর তাঁকে বসানো হয় শ্রীচক্র যন্ত্রের পবিত্র কেন্দ্রে। এই যন্ত্রের নয়টি আবরণ বিভিন্ন যন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। অনুষ্ঠানের পুরো সময় মন্ত্রোচ্চারণ ও প্রার্থনায় অংশ নেন অভিনেত্রী।

সামান্থা জানান, মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে মনকে ধীরে ধীরে বাইরের জগত থেকে নিজের ভেতরের কেন্দ্রের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। পাশাপাশি মা ও গর্ভস্থ শিশুর সুস্থতা ও মঙ্গলের জন্যও প্রার্থনা করা হয়।




বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ১০৯ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে ড. মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামকে সভাপতি এবং রবিউল আউয়াল বিপ্লবকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর মতিঝিলের ১১৪ নম্বর সি/এ-তে অবস্থিত সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরিফুল ইসলাম জিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম (রাসেল) ।

নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সংগঠনের নেতাকর্মী ও নবনির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

পেশাজীবীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা
অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরিফুল ইসলাম জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আদর্শ ও মতাদর্শে বিশ্বাসী বিভিন্ন পেশার মানুষের একটি সংগঠন। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে পেশাজীবী সমাজের অধিকার, মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষায় কাজ করাই এ সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।

আরিফুল ইসলাম জিয়া বলেন, দেশের বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে পেশাজীবীদের মতামত তুলে ধরা, পেশাগত অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখা এবং দলীয় নীতি, আদর্শ ও কর্মসূচি সম্পর্কে পেশাজীবী সমাজকে সম্পৃক্ত করা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একই সঙ্গে দেশ ও সমাজের উন্নয়ন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কল্যাণে পেশাজীবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাফিজ মাহবুব কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের প্রত্যয়
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা, মহানগর ও বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সভা, সেমিনার, মতবিনিময় ও পরিচিতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার নবগঠিত ১০৯ সদস্যের আংশিক কমিটি পেশাজীবীদের ঐক্য সুদৃঢ় করা, সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দলের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সভাপতি ড. মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল আউয়াল বিপ্লবসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যদের অভিনন্দন জানানো হয়। পরে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি আনন্দঘন পরিবেশে শেষ হয়।




কোটি টাকার অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ, ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় ৬৪ পরিবার

বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত ‘গরীবে নেওয়াজ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ’-এর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও সদস্যদের সম্পত্তি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সমিতির সঙ্গে যুক্ত ৬৪টি পরিবার তাদের বসতভিটা ও জমির মালিকানা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, সমিতির মাধ্যমে জমি ক্রয়, বরাদ্দ ও মালিকানা সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার সময় তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে জমির কাগজপত্র, মালিকানা ও দখল নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে অনেক পরিবার তাদের দীর্ঘদিনের বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, সমিতির আর্থিক লেনদেন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের হিসাব, জমি ক্রয়-বিক্রয় এবং সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসব বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর অর্থ পরিশোধ করার পরও অনেক সদস্য তাদের জমির পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল কাগজপত্র হাতে পাননি। কোথাও জমির পরিমাণ, কোথাও মালিকানা এবং কোথাও দখল নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে তারা জানান।

তাদের আরও অভিযোগ, সমিতির কিছু সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম সদস্যদের অগোচরে পরিচালিত হয়েছে। ফলে বর্তমানে জমির প্রকৃত মালিকানা, সমিতির সম্পদের পরিমাণ এবং সদস্যদের পাওনা-দেনার হিসাব নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।




দেড় মাসের তীব্র সংকটের পর জাতীয় গ্রিডে বাড়ল গ্যাস সরবরাহ

ডেস্ক নিউজ : দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা মারাত্মক সংকটের পর অবশেষে জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা থেকে এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে দৈনিক ৯৮ কোটি ঘনফুটে উন্নীত করা হয়েছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বর্তমানে মোট দৈনিক সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ২৬০ কোটি ঘনফুটে। আমদানিকৃত এলএনজির নতুন কার্গো নিয়মিত পৌঁছানো শুরু করায় শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার্বিক গ্যাস সংকট কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, দেশে দৈনিক গ্যাসের প্রকৃত চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও সাধারণত ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তবে নিয়মিত কার্গো না থাকায় গতকাল সরবরাহ নেমে এসেছিল মাত্র ২৩৭ কোটি ঘনফুটে, যার মধ্যে এলএনজি থেকে পাওয়া গিয়েছিল ৭৫ কোটি ঘনফুট। আজ দেশীয় বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে দৈনিক ১৬২ কোটি ঘনফুট উত্তোলনের পাশাপাশি এলএনজির সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ১০টি কার্গো আনার পরিকল্পনা থাকলেও বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধি ও দরপত্র জটিলতায় শেষ পর্যন্ত ৯টি কার্গো নিশ্চিত করা গেছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গানভর যুক্তরাষ্ট্রের দুটি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে আরামকোর দুটি এবং খোলাবাজার (স্পট মার্কেট) থেকে পাঁচটি কার্গো কেনা হয়েছে। ইতোমধ্যে আরামকো ও ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের পর আজ কোরীয় প্রতিষ্ঠান পস্কোর একটি কার্গো থেকে এলএনজি খালাস করা হয়েছে। এ ছাড়া গানভর, আরামকো ও টোটাল এনার্জির অবশিষ্ট কার্গোগুলো আগামী ১৬ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী অক্টোবর মাসের জন্য ইতোমধ্যে ছয়টি কার্গো নিশ্চিত করার পাশাপাশি আরও পাঁচটি কার্গো কিনতে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

দেশে বিগত ৯ বছর ধরে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। কক্সবাজারের মহেশখালীতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি ও দেশীয় সামিট গ্রুপের দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। গত ২১ জুলাই এক দুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। টানা ২৫ দিনের তীব্র সংকটের পর গত ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পুনরায় চালু হলেও নতুন কার্গোর অভাবে এতদিন সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছিল না। গত বছরের জুলাই-আগস্টে যেখানে ২১টি কার্গো এসেছিল, সেখানে চলতি বছর এসেছে মাত্র ১৫টি। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির গ্যাস সময়মতো না পাওয়ায় সরকারকে বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে খোলাবাজার থেকে এলএনজি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।




যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে ‘বড় ধরনের ঝুঁকি’ তৈরি করছে এআই: ব্রিটিশ অধ্যাপক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অদূর ভবিষ্যতে মানবজাতির জন্য অস্তিত্বের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তবে সেই আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগেই প্রযুক্তিটি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে ‘বড় ধরনের ঝুঁকি’ তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছেন সালফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই ও জননীতি বিভাগের অধ্যাপক রিচার্ড হুইটল।

তার মতে, এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, তার আড়ালে অর্থনীতির জন্য বেশ কিছু ঝুঁকি ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত এআইনির্ভর হয়ে পড়ায় ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির খরচ বেড়ে গেলে অনেক প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

বিবিসিকে দেওয়া এক বক্তব্যে অধ্যাপক হুইটল বলেন, এআই নিয়ে চলমান উন্মাদনার আড়ালে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বর্তমানে যে পরিমাণ অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা অনেকটাই আড়ালে থেকে যাচ্ছে।

এআইয়ের ওপর বাড়ছে ব্যবসার নির্ভরতা
অধ্যাপক হুইটলের মতে, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে তাদের ব্যবসায়িক মডেলের সঙ্গে এআইকে ব্যাপকভাবে যুক্ত করেছে। ফলে নির্দিষ্ট কিছু এআই টুল ও সেবার ওপর তাদের নির্ভরতা তৈরি হয়েছে।

এই নির্ভরতা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। কারণ, এআই সেবার দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, গত কয়েক বছরে গড়ে ওঠা নতুন স্টার্টআপগুলোর কতগুলো এআই সেবার দাম পাঁচ গুণ বা ১০ গুণ বেড়ে গেলে টিকে থাকতে পারবে?

অধ্যাপকের মতে, এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি একেবারেই অবাস্তব নয়। ফলে এআইনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে বর্তমান কম খরচ ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে—এমন ধারণা করা বিপজ্জনক।

মানুষকে সরিয়ে এআই নির্ভরতার ঝুঁকি
এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার আরেকটি দিক হলো শ্রমবাজার। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীসংখ্যা কমিয়ে এআইয়ের মাধ্যমে কাজ করানোর পরিকল্পনা করছে। এতে স্বল্পমেয়াদে ব্যয় কমতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে নতুন ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অধ্যাপক হুইটল বলেন, কোনও প্রতিষ্ঠান যদি মানুষের পরিবর্তে এআইকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ বাদ দিয়ে দেয়, তাহলে পরবর্তী সময়ে এআইয়ের দাম যতই বাড়ুক না কেন, প্রতিষ্ঠানটিকে সেই খরচ বহন করতেই হবে।

অর্থাৎ, একবার মানবশ্রমের পরিবর্তে কোনও ব্যবসা এআইনির্ভর কাঠামো গড়ে তুললে সহজে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের মূল্য নির্ধারণের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।

‘খরচ কমানোর সংস্কৃতি’ নিয়ে প্রশ্ন
অধ্যাপক হুইটলের মতে, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে এক ধরনের ‘খরচ কমানোর সংস্কৃতি’ গড়ে উঠেছে। অনেক ব্যবসা এআইকে মূলত ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।

কিন্তু এআই ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন মূল্য তৈরি হচ্ছে কি না, কিংবা নতুন কোনও উৎপাদনশীলতা বা অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুবিধা কতটা তৈরি হচ্ছে—সেই প্রশ্নটি যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না বলে মনে করেন তিনি।

তার মতে, শুধু কর্মী কমানো বা পরিচালন ব্যয় কমানোর মাধ্যমে এআইয়ের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিচার করা উচিত নয়। বরং প্রযুক্তিটি নতুন পণ্য, নতুন সেবা, নতুন বাজার কিংবা নতুন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি করছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

স্বল্পমেয়াদি সাশ্রয় নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আহ্বান
অধ্যাপক হুইটল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এআই নিয়ে অতিরিক্ত আকর্ষণ ও উচ্ছ্বাস থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবসম্মত হিসাব করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তার মতে, এআইয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বর্তমানে স্বল্পমেয়াদে খরচ কমানোর সুযোগ। কিন্তু কোনও প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনার সঙ্গে এই প্রযুক্তি কীভাবে যুক্ত হবে, সেটিই হওয়া উচিত মূল বিবেচনা।

তিনি বলেন, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবসাগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে। এর মাধ্যমে অর্থনীতিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

অর্থাৎ, এআইকে কেবল দ্রুত খরচ কমানোর প্রযুক্তি হিসেবে দেখলে ভবিষ্যতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সামগ্রিক অর্থনীতি উভয়ই সমস্যায় পড়তে পারে।

এআইয়ের সম্ভাবনা বনাম অর্থনৈতিক ঝুঁকি
বিশ্বজুড়ে এআইকে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, নতুন শিল্প তৈরি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু এর দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা, মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের পরিবর্তন এবং ব্যবসায়িক কাঠামোর দুর্বলতার মতো ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

রিচার্ড হুইটলের সতর্কবার্তার মূল বিষয় হলো—এআইয়ের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সুফলের দিকে তাকিয়ে বর্তমান ঝুঁকিগুলোকে উপেক্ষা করা যাবে না।

বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান এখন এআইকে তাদের ব্যবসার অপরিহার্য অংশ বানিয়ে ফেলছে, তাদের মূল্যবৃদ্ধি, প্রযুক্তি সরবরাহে পরিবর্তন কিংবা এআই ব্যবহারের নতুন বিধিনিষেধের মতো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

তাই এআই নিয়ে শুধু ‘কত দ্রুত এটি আরও শক্তিশালী হবে’—এই প্রশ্ন নয়, বরং ‘এআইয়ের ওপর অর্থনীতির নির্ভরতা কতটা নিরাপদ এবং টেকসই?’—এই প্রশ্নটিও এখন গুরুত্ব দিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

অধ্যাপক হুইটলের মতে, এআই সত্যিই অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি মূল্য তৈরি করতে পারে কি না, সেটি প্রমাণের জন্য সময় প্রয়োজন। তার আগে কেবল স্বল্পমেয়াদি ব্যয় সাশ্রয়ের আশায় পুরো ব্যবসায়িক কাঠামোকে এআইয়ের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।