সাভারে ভুল চিকিৎসায় ১১ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু, হাসপাতাল ভাঙচুর

ডেস্ক নিউজ : ঢাকার সাভারে নাকের পলিপাস ও টনসিলের অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনেরা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার উলাইলে অবস্থিত ‘আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে’ এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম আব্রাহাম (১১)। সে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার দুবাইপ্রবাসী আব্দুল আলীমের ছেলে।

নিহত শিশুর মা কনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। কোনো পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই চিকিৎসকের চরম অবহেলায় এই অস্ত্রোপচার করা হয়। আমি আমার সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আব্রাহামের নাকে পলিপাস ও টনসিলের জটিলতা দেখা দিলে কয়েক দিন আগে তাকে আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালের চিকিৎসক মো. সুমন হোসেনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক তখন দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়ে ইসিজি ও ইকো পরীক্ষা করাতে বলেন। মঙ্গলবার ওই হাসপাতালে ইসিজি করা হলেও চিকিৎসক না থাকায় ইকো পরীক্ষা করানো সম্ভব হয়নি। বাইরে থেকে ইকো করিয়ে আনার কথা বললেও ডা. সুমন হোসেন জানান, ইসিজি ভালো থাকায় ইকোর আর প্রয়োজন নেই।

কনা আক্তার জানান, চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে এলে তাকে সরাসরি অস্ত্রোপচারকক্ষে (ওটি) নেওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর অস্ত্রোপচারকক্ষের সামনে চিকিৎসক ও নার্সদের অস্বাভাবিক দৌড়াদৌড়ি দেখতে পান স্বজনেরা। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়েছে এবং তাকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করতে হবে।

পরবর্তীতে হাসপাতালের লোকজনের পরামর্শে দুপুর দুইটার দিকে আব্রাহামকে দ্রুত সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউর মেডিকেল অফিসার আব্দুল আহাদ জানান, শিশুটিকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার কোনো হৃদস্পন্দন ছিল না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়। মৃত্যুর কারণ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে শিশুটিকে অজ্ঞান করার ওষুধ প্রয়োগের পরপরই তার শারীরিক পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এদিকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত স্বজনেরা আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে জড়ো হয়ে ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত চিকিৎসক সুমন হোসেন, হাসপাতালের মালিক মো. আব্বাস উদ্দিনসহ অন্য চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা হাসপাতাল ফেলে পালিয়ে যান। তাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।

হাসপাতালটি কর্মীশূন্য হয়ে পড়ায় সেখানে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অস্ত্রোপচার হওয়া এক রোগী জানান, দুপুরের ঘটনার পর থেকে কোনো ডাক্তার বা নার্স হাসপাতালে নেই, ফলে তারা অসহায় অবস্থায় দিন পার করছেন। দায়িত্বে থাকা এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, ঘটনার পরপরই রোগী ও স্টাফরা চলে গেছেন, বর্তমানে মাত্র দু-তিনজন রোগী অবস্থান করছেন।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ফজলে বারী জানান, আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালের ওটিতে এক শিশুর মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজর আলী জানান, শিশুটির মরদেহের সুরতহাল করার সময় শরীরে কোনো কাটাছেঁড়ার চিহ্ন মেলেনি, তবে নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অজ্ঞান করার পরপরই শিশুটির মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




সাজেকে ভ্রমণ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ : রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বুধবার রাতে রাঙ্গামাটির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণবশত বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটন কেন্দ্রটি পুনরায় পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বর্তমানে সাজেক পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৪টার মধ্যে সাজেক ত্যাগ করে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যেতে হবে।




ইরানে ৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোয়ান্টাম ল্যাব চালু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কোয়ান্টাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে ইরানের তিনটি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সর্বাধুনিক শিক্ষামূলক কোয়ান্টাম ল্যাবরেটরি উদ্বোধন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোয়ান্টাম প্রযুক্তিকে একটি অত্যন্ত কৌশলগত বিজ্ঞান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইরানের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি বিষয়ক ভাইসব প্রেসিডেন্ট হোসেন আফশিনের উপস্থিতিতে বিশ্বখ্যাত ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়, শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই অত্যাধুনিক ল্যাবগুলোর শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়। গত ১৪, ১৭ এবং ২০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে এই তিন কেন্দ্রে নতুন ল্যাবগুলোর যাত্রা শুরু হয়।

গবেষকরা জানান, এই বিশেষায়িত ল্যাবগুলোর মূল লক্ষ্য হলো কোয়ান্টাম আলোকবিজ্ঞান ও কোয়ান্টাম তথ্যের ওপর শিক্ষার্থীদের তত্ত্বগত জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানো। কেবল গাণিতিক তত্ত্ব বা কম্পিউটার সিমুলেশনের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীরা সরাসরি পরীক্ষাগারের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কোয়ান্টাম ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে পারবেন, পরিমাপ করতে পারবেন এবং প্রাপ্ত ফল বিশ্লেষণ করার সুযোগ পাবেন।




ভুল শুধরে ভারতের বিপক্ষে লড়তে চায় বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : ভারতের বিপক্ষে লিগ পর্বের ম্যাচে ৪৭-১৩ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ৩৪ গোলের সেই ব্যবধান দুই দলের শক্তির পার্থক্যটাই স্পষ্ট করে দিয়েছিল। এবার সেই ভারতের বিপক্ষেই শিরোপার লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশন্স ট্রফির ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই দল। আগের ম্যাচের ভুল শুধরে ব্যবধান কমিয়ে লড়াই করাই স্বাগতিকদের লক্ষ্য।

ফাইনালের আগে আজ অনুশীলনে ভারতের দ্রুত আক্রমণ সামলানো ও বলের দখল ধরে রাখার কৌশল নিয়ে কাজ করেছেন স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়া। তার মতে, ভারতকে ফাস্ট ব্রেকের সুযোগ কম দিতে পারলেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

আলোনসো বলেন, ‘আমার চোখে, ভারত পুরো ৬০ মিনিট দ্রুত গতিতে খেলার মতো সক্ষম ছিল। আর ফাস্ট ব্রেকে যখন ওরা ছুটে আসছিল, আমরা ওদের আক্রমণ থামাতে পারিনি। তাই আমার কাছে মূল বিষয় হলো ভারতকে যেন ফাস্ট ব্রেকে যাওয়ার সুযোগ না দেওয়া হয়।’

ভারতকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল মেনেও নিজেদের উন্নতির ব্যাপারে আশাবাদী কোচ।

তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার বিশ্বাস আগের ম্যাচের চেয়ে আমরা আরও ভালো করতে পারব। আর আমরা ভারতের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে পারব বলেই মনে করি। তাই সেটাই আমার লক্ষ্য- আরও ভালো খেলা এবং নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া।’

ভারতের সঙ্গে ব্যবধান কমাতে আক্রমণে ভুল কমানোর ওপরও জোর দিচ্ছেন আলোনসো। তার বিশ্বাস, পুরো ৬০ মিনিট লড়াই করতে পারলে ফলাফলেও তার প্রভাব পড়বে। তবে সে জন্য বাংলাদেশের আরও অনুশীলন ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

আগের ম্যাচের ভুল শুধরে ভালো খেলার প্রত্যাশা বাংলাদেশের খেলোয়াড় মাসুদা আক্তারেরও।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এই ভুলগুলো সংশোধন করতে পারি অবশ্যই কালকে আমরা ভালো একটা ম্যাচ খেলতে পারব।’

ভারতকে হারানোর আত্মবিশ্বাস নিয়ে অবশ্য বাস্তবতাই তুলে ধরেছেন মাসুদা, ‘আমরা সবাই যদি সবার সেরাটা দিতে চেষ্টা করি, অবশ্যই একটা ভালো রেজাল্ট করব। হয়তোবা ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচে যেভাবে খেলেছি তার থেকে ভাল কিছুই হবে। কম গোলের ব্যবধানে হয়তোবা কোনো একটা কিছু করা যায়।’

দলের আরেক খেলোয়াড় আছিয়া আক্তারের চাওয়াও একই। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় সমন্বয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়া। ভারতের শক্তিমত্তা জানা থাকলেও লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকতে চান না তারা। শিরোপার মঞ্চে বাংলাদেশের পরীক্ষা তাই শুধু ভারতের বিপক্ষে নয়, আগের ম্যাচের ভুলগুলো কাটিয়ে ওঠারও।




আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৬০ রানে অলআউট বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : পারভেজ হোসেন ইমনের লড়াকু ফিফটির পরও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৬০ রানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। বুধবার শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ ৪১.২ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে এই রান তোলে।

ইনিংসের শুরু থেকেই আফগান বোলারদের সামনে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। দলীয় ৬ রানেই মাত্র এক রান করে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান। পরের বলেই বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফেরেন সৌম্য সরকার।

এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ২৩ বলে ১৫ রান করে আউট হন। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ও দুই বল খেলে কোনো রান না করেই ফেরেন। মাত্র ২৮ রানেই চার উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

সেই বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ৯৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরার আশা দেখায়। ৮২ বলে ৪১ রান করে মোহাম্মদ নবীর বলে আউট হন সাইফ।

সাইফের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজও। মাত্র ২ রান করে বিলাল সামির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপরও এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান ইমন। তার ব্যাটে আসে বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ একটি ফিফটি।

তবে ইমনের লড়াইও শেষ পর্যন্ত দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেনি। ৭০ রানে অষ্টম ব্যাটার হিসেবে আউট হন তিনি। এরপর আলিস আল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান কোনো রান না করেই বিদায় নিলে ১৬০ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। তাসকিন আহমেদ ২ রানে অপরাজিত থাকেন।




টাইগার নয়, হামলাকারীদের নিশানায় ছিলেন সালমান: মুম্বাই পুলিশ

বিনোদন ডেস্ক : বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক গুলিবর্ষণের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এনেছে মুম্বাই পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিলেন অভিনেতা সালমান খান। তবে তার বাড়ির বাইরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখে পরিকল্পনা পরিবর্তন করে টাইগারকে নিশানা করা হয়। গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের নির্দেশে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল আতঙ্ক সৃষ্টি করা।

দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। এর আগে এই হামলার দায় স্বীকার করেছিল লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে সালমান খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাড়ি পর্যবেক্ষণ করে। সেখানে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখে তাকে হত্যার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে তারা। এরপর তুলনামূলক কম নিরাপত্তায় থাকা অন্য কোনো বলিউড তারকাকে লক্ষ্যবস্তু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত অভিনেতা জ্যাকি শ্রফের ছেলে টাইগার শ্রফকে নিশানা করা হয়।

এ ঘটনার পর সালমান খানের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। মুম্বাই পুলিশের পাশাপাশি তার সুরক্ষায় বিশেষ কমান্ডো মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে অত্যাধুনিক সাবমেশিনগান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জার্মান অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হেক্লার অ্যান্ড কচের তৈরি এমপি৫ এসডি৬ মডেলের অস্ত্রও রয়েছে।

তদন্তকারীদের ধারণা, সালমান ছাড়াও অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার ও আমির খানসহ কয়েকজন তারকার বাড়ি আগে থেকেই পর্যবেক্ষণ করেছিল হামলাকারীরা। তুলনামূলক কম নিরাপত্তায় থাকা তারকাদের সহজ লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। হামলার পরিকল্পনার জন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে দেড় লাখ রুপির চুক্তি হয়েছিল বলেও দাবি পুলিশের।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার মুম্বাইয়ের জুহুতে পুষ্পা নরসি গ্রাউন্ডে ফুটবল ম্যাচ শেষে টাইগার শ্রফের গাড়ি বের হওয়ার সময় দুই ব্যক্তি সেটি লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে অভিনেতার গাড়িচালক এবং গাড়ির পাশে থাকা এক অটোরিকশাচালক আহত হন।

তৃতীয় এক সহযোগী কিছুটা দূরে মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন। টাইগারকে লক্ষ্য করে সাত রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর তিনজন একই মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান। পরে জয়পুরগামী ট্রেনে ওঠার আগে আন্ধেরি পশ্চিম রেলস্টেশনের কাছে মোটরসাইকেলটি ফেলে রেখে যান তাঁরা।

ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলেন হরিয়ানার সোনিপতের বাসিন্দা রেহান রহিসউদ্দীন (১৮) ও ফুল সিং (১৮) এবং বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা হৃতিক মাহতো (২২)। জিজ্ঞাসাবাদে তারা অন্য এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে মুম্বাইয়ে আসার কথা জানিয়েছেন বলে পুলিশের দাবি।

এরপর হরিয়ানার সোনিপত থেকে সমীর নামের আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি সক্রিয় নেটওয়ার্কের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি, টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো ব্যক্তিদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল এই চক্র।

গ্রেফতার চারজন হলেন কুনাল, সুমিত, রাধা ও ববিতা। তাদের বয়স ১৯ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। কুনাল ও সুমিত হরিয়ানার সোনিপত জেলার বাসিন্দা। অন্যদিকে, রাধা ও ববিতার বাড়ি উত্তর প্রদেশে।

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাধা ও ববিতা উত্তর প্রদেশ থেকে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র নিয়ে মুম্বাইয়ে যান। সেখানে কুনালের নির্দেশে তারা অভিযুক্তদের হাতে অস্ত্র তুলে দেন। পরে গ্রেফতার চারজনকে মুম্বাই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল। তদন্তকারীদের ধারণা, এই গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত চক্রটির সন্ধান পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, পর্যটক সেজে হামলাকারীরা প্রায় ২০ দিন ধরে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করেন। এ সময় আন্ধেরি ইস্টের চার থেকে পাঁচটি হোটেলে অবস্থান করেন তারা। পুলিশের ধারণা, নজরদারি এড়াতে বারবার আবাসস্থল পরিবর্তন করা হয়েছিল।

সালমান খানের বাড়ি পর্যবেক্ষণের পর হামলাকারীরা বুঝতে পারেন, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে তার কাছে পৌঁছানো কঠিন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টাইগার শ্রফের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তাকে লক্ষ্যবস্তু করার সিদ্ধান্ত নেন তারা। পুলিশের দাবি, টাইগারের চলাফেরার তথ্য সংগ্রহে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট অনুসরণ করা হয়েছিল।




দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ : দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং তাঁদের দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশটির ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (এনইএসএ) ও কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়ার (সিএকে) প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর, এমপি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, কারিগরি প্রশিক্ষণ, কোরীয় ভাষা শিক্ষা এবং নির্মাণশিল্পে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা।




মাছ ধরার নৌকায় করে মিসাইলসহ অন্যান্য অস্ত্র আনছে হুথিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মাছ ধরার নৌকাসহ বিভিন্ন ধরনের জলযান ব্যবহার করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা মিসাইল, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাচার করছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি সমর্থিত সামরিক জোট। এ কাজে নৌকার মালিকদের সহযোগিতা না করার আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সৌদি জোটের জয়েন্ট ফোর্স কমান্ড জানায়, সমুদ্রপথে চার ধরনের নৌকা ব্যবহার করে অস্ত্র চোরাচালান করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে দেশটির বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

বিবৃতিতে নৌকার মালিকদের সতর্ক করে বলা হয়, হুথি বিদ্রোহীরা যেন অস্ত্র পাচারের কাজে তাদের নৌযান ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

এর আগে গত সপ্তাহে সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেন, আঞ্চলিক একটি পরাশক্তির কাছ থেকে হুথিরা আধুনিক অস্ত্রের প্রযুক্তি পেয়েছে।

সৌদি জোটের দাবি, হুথিরা এসব অস্ত্র ভূগর্ভস্থ স্থাপনা, সুড়ঙ্গ এবং পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে রাখছে। পরে সেখান থেকে অস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিকে চলতি সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যাত্রীবাহী বিমান, সাবমেরিন ও মাছ ধরার নৌকা ব্যবহার করে হুথিদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।




নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৪ নয়, নিহত ১২: প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ : নাটোরের বড়াইগ্রামে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই গাড়ির চালকসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন যাত্রী। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে দুর্ঘটনার পরপরই প্রাথমিকভাবে ১৪ জনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও পরবর্তীতে মরদেহ গণনা ও পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে নিহতের সংখ্যা ১২ বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনের মহাসড়কে এ রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা ঘটে। কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রীবাহী বাস ‘আরপি পরিবহন’-এর সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনাগামী একটি বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের সংখ্যা ১৪ জন মনে হয়েছিল। পরবর্তীতে মরদেহ শনাক্ত ও আনুষ্ঠানিক তালিকা তৈরির পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে দুর্ঘটনায় মোট ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ আলমগীর হোসেন জানান, তীব্র সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলেই ৯ জন মারা যান। পরবর্তীতে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত অন্তত ৩০ জনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মহাসড়কে অন্য যানবাহনকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত আরপি পরিবহনের বাসটির ফিটনেস সনদ ছিল না বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার সাংবাদিকদের জানান, বিআরটিএর রেকর্ড অনুযায়ী বাসটির ফিটনেসের মেয়াদ চলতি বছরের ১৩ মে শেষ হয়ে যায়। তবে গাড়িটির রুট পারমিটের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত রয়েছে। ফিটনেসবিহীন এমন লক্কড়ঝক্কড় যান কীভাবে দূরপাল্লার মহাসড়কে চলাচল করছিল, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সার্বিক তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার ও পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ঘোষণা দেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।




রোনালদোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন সাবেক ম্যানইউ কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক : ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রতি অভিযোগ তুলেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ এরিক টেন হাগ। তার অভিযোগ, ইউনাইটেডে থাকাকালে তাঁর কোচিংয়ের সময় রোনালদো তাকে ব্যক্তিগতভাবে হতাশ করেছিলেন।

সম্প্রতি ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন ডাচ এই কোচ।

২০২২ সালের গ্রীষ্মে এরিক টেন হাগ যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেন, তখন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড রোনালদোও সেখানে ছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার আগেই রোনালদোকে নিয়ে নিজের পরিকল্পনা সাজাতে পর্তুগাল উড়ে গিয়েছিলেন টেন হ্যাগ।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে আমি রোনালদোকে অনেক শ্রদ্ধা করতাম। কিন্তু ম্যানেজার হিসেবে আমাকে একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।

২০২২ সালের অক্টোবরে টটেনহ্যামের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নামতে অস্বীকৃতি জানানোয় চেলসির বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোকে স্কোয়াডের বাইরে রাখেন টেন হ্যাগ। এরপর নভেম্বরে বিস্ফোরক এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো জানান, তিনি ক্লাব কর্তৃক প্রতারিত বোধ করছেন। এমনকি কোচ টেন হ্যাগকে তিনি সম্মান করেন না। এরপর পরবর্তীতে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই ইউনাইটেড ছাড়েন রোনালদো।

২০২১ সালে ওলে গুনার সোলশারের অধীনে জুভেন্টাস থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফিরেছিলেন ৩৬ বছর বয়সী রোনালদো। তবে টেন হ্যাগের অধীনে ২০২২-২৩ মৌসুমে ১৬ ম্যাচে মাত্র ৩টি গোল করতে সক্ষম হন তিনি।

রোনালদোর ফিটনেস ও পরিশ্রম নিয়ে টেন হ্যাগ বলেন, তাকে দিয়ে অতিরিক্ত প্রেসিং করানোর কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না। কিন্তু সে কোথাও ঠিকমতো দৌড়াত না। কারণ, সে নিজের সঠিক প্রস্তুতি নেয়নি। প্রতিটি শীর্ষ দলই বড় তারকাকে লুফে নেয়। কিন্তু সেই তারকাকে দলের জন্য পরিশ্রম করতে হবে।

সাক্ষাৎকারে টেন হাগ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তার তিন বছরের কার্যকাল নিয়ে নানা আক্ষেপের কথাও প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর তিনি ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, হ্যারি কেইন এবং ডেকান রাইসের মতো খেলোয়াড়দের সই করাতে চেয়েছিলেন। এছাড়া, ২০২৪ সালের আগস্টে স্কট ম্যাকটমিনেকে নাপোলিতে বিক্রির সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ছিলেন তিনি।

গোল স্কোরিংয়ের সমস্যাকে ইউনাইটেডে নিজের তিন বছরের সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে টেন হ্যাগ বলেন, প্রথম মৌসুমেই আমি বলেছিলাম, আমাদের সেন্টার-হাফ, সেন্ট্রাল-মিডফিল্ডে সমস্যা রয়েছে এবং বিশেষ করে আমাদের একজন ট্যাক্টিশিয়ান ও গোলের জন্য খেলোয়াড় দরকার।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে কারাবাও কাপ এবং ২০২৪ সালে এফএ কাপ জেতানো এরিক টেন হ্যাগকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে বরখাস্ত করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। অন্যদিকে, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার দায়ে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ৩০ দিনের স্থগিতাদেশ ও ২৫৫ ইউরো জরিমানার মুখোমুখি হয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।