জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৯টায় টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে ঢাকা সময় রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে টোকিওর উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

২৬ থেকে ২৯ অক্টোবরের এ সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা, শিল্পকারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামো পরিদর্শনসহ নানা কর্মসূচি রয়েছে।

সফরে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা রয়েছেন।

প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ; বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন; বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মুস্তাকুর রহমান; এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান; পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম; সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী; প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন; হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং আমজনতার পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু প্রাধান্য পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে ইপিএ স্বাক্ষরের পর বাণিজ্য সম্প্রসারণের যে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে চায় ঢাকা।

এ ছাড়া বাংলাদেশে জাপানি শিল্পকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হবে।

সফরকালে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি দক্ষতা, বেসামরিক বিমান চলাচল, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে তিন থেকে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে। জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল রূপান্তর নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। পাশাপাশি জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠক হবে। জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন তিনি।

সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী চিবা অঞ্চলের একটি এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়ায় টয়োটা কারখানা পরিদর্শন করবেন। এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে জাপানের শিল্পপ্রযুক্তি, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন খাত সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।




টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় গুরুত্বারোপ রাষ্ট্রপতির

টেক্সটাইল খাতের চাহিদা পূরণে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী তৈরি এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য ও বুটেক্সের অ্যালামনাই সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

টেক্সটাইলকে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাত হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন দেশে ও বিদেশে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। এতে একদিকে দেশের দক্ষ জনশক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের টেক্সটাইল শিল্পের কাঁচামালের চাহিদা পূরণে তুলার দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা, উৎপাদন ব্যয় কমানোর উপায় খুঁজে বের করা এবং কৃষি ও টেক্সটাইল খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।

পাশাপাশি পাট, আনারসের পাতা, কলাগাছসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস থেকে তন্তু সংগ্রহ ও সিনথেটিক সুতা তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে বুটেক্সের ভূমিকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, বিসিএস (টেক্সটাইল) নামে আলাদা ক্যাডার সৃষ্টি, বাজেট সম্প্রসারণ এবং ঢাকার পূর্বাচলে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য জমি বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রাষ্ট্রপতি তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উত্থাপিত বিষয়গুলো সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় উপাচার্য আগামী বছরের মার্চ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ‘রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর’-কে সভাপতিত্ব করার আমন্ত্রণ জানালে রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে বুটেক্সের ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক শিল্পী আক্তার, ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. হাসিনা আখতার, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা এবং ফ্যাকাল্টি অব ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ড. লামইয়া জাহির উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।




স্পিকারের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।

রবিবার স্পিকারের কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সুইডেনে কাজ করছে। সুইডেনের পার্লামেন্ট ব্যবস্থা এক-কক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে সুইডেন ও বাংলাদেশের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে সাদৃশ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন উভয় দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সবসময় গণতন্ত্র প্রিয়। গণতন্ত্রের জন্য এদেশের জনগণ নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে কখনো কুন্ঠা বোধ করেননি। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের মাধ্যমে এদেশের জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল।

স্পিকার বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এদেশের ছাত্র সমাজ এবং আপামর জনসাধারণ স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। এদেশের জনগণ নিজের পছন্দসই দল ও প্রার্থীর পক্ষে ভোটদান করে থাকে। তিনি আরও বলেন, ভোটাররা নিজেদের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বলেন, সুইডেনের পার্লামেন্টে মোট ৩৪৯টি আসন রয়েছে। সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে চার বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। তিনি বলেন, সুইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার সমস্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা পার্লামেন্ট এবং সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে।

সাক্ষাৎকালে তারা উভয়ই সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ ও ককাস গঠনে গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়েও আলোচনা হয়।

স্পিকার এ সময় চলমান সংবিধান সংস্কার কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন এবং বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের উপকূলে মজুদকৃত তেল ও গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে সুইডিশ দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




এবারের দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আগাম প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিনির্ভর সার্বক্ষণিক নিবিড় তদারকির ফলেই এ বছর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিময় পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন হয়েছে, যা আগামী বছরগুলোতেও বজায় থাকবে বলে আশা করি।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে নিরলসভাবে কাজ করা পুলিশ, বিজিবি, আনসার, গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকসহ সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বিগত ১৫-১৭ বছর ধরে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নানাবিধ অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনাশের চেষ্টা দেখা যেত, তবে বর্তমান সরকার দেশকে সেই অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত করতে পেরেছে।

তিনি আরও বলেন, এবার ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেয়ার বদলে আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। ডিজিটাল অ্যাপস ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সার্বক্ষণিক তদারকি করার ফলে অশুভ চক্রের দু-একটি সম্ভাব্য নাশকতামূলক পরিকল্পনা পূর্বেই উদ্ঘাটন ও নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক ৩৩,৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবকে আরও আনন্দমুখর করতে সরকার নানা প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পূর্বে যেখানে সরকারি বরাদ্দ ছিল সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা, তা বাড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বছর ৫ কোটি টাকায় উন্নীত করেছেন। এছাড়া প্রতিটি মণ্ডপের জন্য চালের বরাদ্দ ১০০ কেজি বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটিসহ এ বছর পূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা টানা ৫ দিনের ছুটি উপভোগ করেছেন, যার মধ্যে ৩ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এসব উদ্যোগ একটি ঐক্যবদ্ধ ও সম্প্রীতিময় বাংলাদেশ গড়ে তোলার সরকারি আন্তরিকতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মন্ত্রী অভিহিত করেন।

গোপালগঞ্জ সদরের খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু সন্ত্রাসী টহলরত পুলিশের ওপর হামলার অপচেষ্টা চালায়। সংখ্যায় কম থাকায় পুলিশ আক্রান্ত হলেও ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে ইতিমধ্যেই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের (সাজেক) সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সেখানে একাধিক ক্ষুদ্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে প্রতি বছর পর্যটন মৌসুমে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়াসহ স্থানীয় নেতৃত্ব যৌথভাবে রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।

পূজার ছুটির মধ্যে একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাসভবনে অভিযান এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৮৫ জনকে সাজা দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার পরিচয় বিবেচনা না করে তাঁকে ইতিমধ্যেই সংযুক্ত করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিভাগীয় মামলাসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা ও বিদেশে দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে ফেরত পেতে আইন ও এক্সট্রাডিশন (প্রত্যর্পণ) চুক্তি অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশকে একাধিকবার অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চাইলেও গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়া গণহত্যাকারী বা কোনো পলাতক অপরাধীকে দেশে নতুন করে কোনো অপতৎপরতা চালাতে দেওয়া হবে না।

আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এটি রাজনৈতিক সমঝোতা ও আন্দোলনের মূল অঙ্গীকার ছিল। সর্বোচ্চ আদালত থেকে ত্রয়োদশ সংশোধনী সম্পর্কিত যে রায় বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক দিয়েছিল সেটা বাতিল করেছে এবং জুডিশিয়ালি সেটা রিভাইভ (পুনর্বহাল) করেছে। লেজিসলেচার বা আইনসভার মাধ্যমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও প্রতিস্থাপন করা হবে।




নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ ও খাদ্যশস্য সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চাইলেন খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আমদানিকৃত খাদ্যশস্যের মান পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চেয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি।

রবিবার সচিবালয়ে  খাদ্যমন্ত্রীর অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় খাদ্যমন্ত্রী তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে খাদ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা কামনা করেন। বিশেষ করে আমদানিকৃত চাল ও গমের গুণগত মান পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে খাদ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানান তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়াগত বাস্তবতার কারণে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য, বিশেষ করে চাল ও গম সংরক্ষণে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত খাদ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং তার কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে কারিগরি সহায়তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে গম আমদানির বিষয়েও আলোচনা হয়। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গম আমদানি সম্পন্ন হওয়া এবং এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না থাকায় উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এসময় খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত গমবাহী জাহাজ পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে মি. এরিন কোভার্ট (Mr. Erin Covert), খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খানসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আমদানিকৃত খাদ্যশস্যের গুণগত মান পরীক্ষা এবং খাদ্যশস্যের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।




চার দিনের সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন। আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন তিনি এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সফরের কর্মসূচিতে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদরদপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা সফরের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরকালে কৃষি, মৎস্য, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই কিংবা সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।

দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।




বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন: বিরোধীদলীয় নেতা

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আপনারা (বিএনপি) নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতেপায়ে ধরে ভোট নিলো, এখন বেইমানি করে কেন? তার দলের আরেকজন গডফাদার বলেছেন, কমপক্ষে ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে আমরাই ভোট দিয়ে জিতিয়েছি।’

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি নতুন নতুন বয়ান তৈরি করছে। আমরা নাকি পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছি। নাউজুবিল্লাহ। একজনের গায়ে কোনো কাপড় নেই, আরেকজনের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত কাপড় আছে। তো যার গায়ে কাপড় নেই, সে বলছে, ওই দেখো, ওর গায়ে কোনো জামা নেই।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন নেতাকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এবং আপনাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান দিচ্ছেন। তারপর বলছেন, সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে। এখানে ইঙ্গিত করে বলছেন, আমরা নাকি অস্থিরতা সৃষ্টি করছি। সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে, তাহলে আপনারা সরকারে এসেছেন কেন? এই টাকা ঢোকা ঠেকাতে পারেন না কেন? ওপার থেকে অস্ত্র ও মাদক আসে কেন? ঠেকাতে পারেন না কেন? যে সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় ঠেকানোর যোগ্যতা নেই, সেই সরকারের দেশ শাসন করার কোনো অধিকার নেই।

জামায়াতের আমির বলেন, জনগণকে কার্ড দেবেন, দিচ্ছেন, দিন। কিন্তু কয়জনকে কার্ড দিয়েছেন? কয়জনকে দেবেন? কখন দেবেন? এর আগে গরিব-ধনী, শিশু, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবার ঘাড়ে করের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। আপনাদের দুর্নীতির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন, একটার পর একটা। মানুষের জীবন এখন অতিষ্ঠ।

তিনি বলেন, প্রবাসে অস্থিরতার কারণে আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা দেশে ফিরে আসছেন। তাদের নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। চাঁদাবাজির জ্বালায় অতিষ্ঠ জনগণ। এক টাকার জিনিস তিন টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছে। দুই দিন আগে গণমাধ্যমে দেখলাম, পঞ্চগড়ে চারটি লাউ নাকি এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা মনের জ্বালায় এগুলো খাল-বিলে ফেলে দিচ্ছেন, উপযুক্ত দাম না পেয়ে। রাজধানীতে আপনারা এক টাকায় কি একটি লাউ কিনতে পারেন? ৪০, ৫০, ৬০ টাকা লাগে। ওই চাঁদাবাজদের কারণে এই কর আপনাদের ওপর বসেছে।

তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেননি, দখলদারি বন্ধ করতে পারেননি। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার জনগণকে উন্মুক্ত সেবা দিয়ে আসছিল বছরের পর বছর, দশকের পর দশক। সেটার ওপর আপনারা লুটের ঝাঁপটা দিয়েছেন। রাতের অন্ধকারে সেখানে হামলে পড়েছেন, ভাঙচুর করেছেন, লুটপাট করেছেন। অপরাধে এমপিকে শুধু পদত্যাগ করিয়েছেন। কেন? আপনাদের আইন নেই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নেই? যিনি অপরাধ করলেন, তার পদত্যাগের মাধ্যমেই সব শেষ হয়ে যাবে? তাকে আইনের আওতায় আনেননি কেন? হোয়াইটওয়াশ দিয়ে সবকিছু উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। জনগণকে বোকা ভাববেন না। সবকিছু জনগণ বোঝে।

জামায়াতে ইসলামী আমির বলেন, চাঁদা ও দখলদারি আপনাদের কাছে এতটাই মারাত্মক যে নিজেদের লোকেরাও পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে কুণ্ঠিত হন না। বহু জায়গায় বিএনপির লোকেরা বলেন, ‘হায়রে আমার দল! দশকের পর দশক এই দল করলাম। এখন স্বয়ং আমার কাছেও চাঁদা চায়।’ আল্লাহই জানেন, সর্বোচ্চ ব্যক্তির কাছেও কোনো পাগল কোনো দিন গিয়ে তার দলের চাঁদা চেয়ে বসে কি না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ চলতে পারে না। এসব পাহাড়সম ব্যর্থতা চাপা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সাত মাসের সরকার কিছু ভুলত্রুটি করেছে। কিন্তু আপনারা এত তাড়াতাড়ি আন্দোলনে নামলেন কেন? ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে এত তাড়াতাড়ি অগ্রাহ্য করলেন কেন? সমাজের সব জায়গা এত তাড়াতাড়ি দখলে নিলেন কেন? দলীয় ক্যাডারদের প্রশাসক বানিয়ে মানুষের ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে দিলেন কেন? এত তাড়াতাড়ি লোভ সামলাতে না পেরে জনগণকে অতিষ্ঠ করে তুললেন কেন? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এত মারাত্মক অবনতি কেন?

তিনি বলেন, আমাদের সালাউদ্দিন সাহেব খুবই পারদর্শী লোক, সব মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে। এমনকি আইন মন্ত্রণালয়, শেষ পর্যন্ত দেখলাম ধর্ম মন্ত্রণালয়ও। কিন্তু শুধু নিজের মন্ত্রণালয় দেখার সুযোগ পান না। সংসদে দাঁড়িয়ে তার দলের একজন সিনিয়র সংসদ সদস্য বলেছেন, মাদক বন্ধ হবে কীভাবে? মাদকের সবচেয়ে বড় চালান তো আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির এলাকা দিয়ে।

তিনি বলেন, দিনের বেলা ৫০টা ট্রাকে ডাকাতি হয়েছে, বিষয়টি স্পষ্ট। জনগণকে সংবিধান সংশোধনের নামে ধোঁকা দেওয়ার পথ পরিহার করে আপনার ওপর যে দায়িত্ব রয়েছে, সেদিকে মনোযোগ দিন। তা না হলে সরে দাঁড়ান।

জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের বার্তা স্পষ্ট। আমরা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের কোনো দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমরা নেমেছি জনগণের অধিকারের দাবি নিয়ে। প্রতিটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই দাবি বাস্তবায়নে আমাদের বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আমরা কর্মসূচি বাস্তবায়ন না করি।

তিনি আরও বলেন, আজনগণের অধিকারের দাবিতে আমরা মাঠে নেমেছি। আমরা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের কোনো দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমাদের প্রতিটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। দেশের জনগণ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা অতীতের গুনে ধরা, বস্তাপচা রাজনীতি আর দেখতে চান না। তারা পরিবর্তন ও সংস্কার চান।




দিলীপ আগরওয়ালাকে ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিতে আহত এক শিক্ষার্থীর করা হত্যাচেষ্টা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ। এর আগে এ মামলায় তাকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সুমন মিয়া।

ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দিলীপ আগরওয়ালা গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিলেও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক তথ্য গোপন করেছেন। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ। মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন, ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতার, তাদের নাম-ঠিকানা শনাক্ত এবং অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) একই মামলায় দিলীপ আগরওয়ালাকে গ্রেফতার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক। ওই দিন পুলিশ তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিল। মামলাটি করা হয় ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ উত্তরা পশ্চিম থানায়।

এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিএনএস সেন্টারের সামনে আন্দোলনের সময় গুলিতে আহত হন শিক্ষার্থী আ. জব্বার।

দিলীপ কুমার আগরওয়ালা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন।




মক্কা-জেদ্দাসহ সৌদির ৪ শহরে হামলার আশঙ্কা, জরুরি সতর্কতা

সৌদি আরবের মক্কা, জেদ্দা, ইয়ানবু ও তায়েফে আকাশপথে হামলার আশঙ্কায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং ছবি বা ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ এ সতর্কতা জারি করে। জরুরি পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি তায়েফ ও ইয়ানবু শহর লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, ইয়েমেনের তায়েজের কাছাকাছি পূর্বাঞ্চলীয় ফ্রন্টে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এতে ভারী ও মাঝারি অস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি কামানের গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।




রাজউকের পারমিট সেবায় ডিজিটাল গতি, ৭ মাসে প্রায় ১১ হাজার আবেদন

রাজধানীতে ভবন নির্মাণ ও ভূমি ব্যবহারের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন আটটি জোনে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন এবং অনুমোদন কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনে হওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের দাপ্তরিক দৌড়ঝাঁপ অনেকটাই কমেছে।

একইসাথে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি এবং আবেদনে কোনো ঘাটতি থাকলে মোবাইল ফোন বা ই-মেইলের মাধ্যমে তা জানানোর ব্যবস্থা চালু হওয়ায় সেবায় গতি ও স্বচ্ছতা বাড়ছে।

রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের আটটি জোনে প্লানিং পারমিটের জন্য অনলাইনে মোট ৭ হাজার ৫৫টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৩৯৩টি আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য অনলাইনে ৩ হাজার ৯৩০টি আবেদন জমা পড়ে এবং এর মধ্যে ২ হাজার ৬০০টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সাত মাসে দুই ধরনের পারমিটের জন্য মোট ১০ হাজার ৯৮৫টি আবেদন জমা পড়েছে এবং ৭ হাজার ৯৯৩টি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে।

রাজউক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্লানিং পারমিট নিষ্পত্তির জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন ২৪ দিনের মধ্যে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন (বিসি) কমিটিতে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আবেদনকারীর দাখিল করা কাগজপত্র ও নকশা সঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো কাগজপত্রে ঘাটতি বা আবেদনে ত্রুটি থাকলে তা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদনকারীকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু বলেন, অতীতে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিট নিতে সেবাগ্রহীতাদের অনেক হয়রানির শিকার হতে হতো। এ জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে যেতে হতো এবং এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরতে হতো। সেবাগ্রহীতাদের এ ভোগান্তি থেকে রক্ষা করতেই প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিট অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আগে এসব সেবা পেতে দীর্ঘ সময় লাগত এবং মানুষকে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হতো। সেবাগ্রহীতাদের সুবিধার জন্য সময়সীমা কমিয়ে তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, নকশা অনুমোদন আগে থেকেই অনলাইনে দেওয়া হতো। তবে আগের সময়ে এর জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ছিল না। বর্তমানে কনস্ট্রাকশন পারমিট ও প্লানিং পারমিট অনুমোদনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৪ দিনের মধ্যে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কমিটিতে আবেদন উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং বিষয়টি রাজউক মনিটর করছে।

তিনি আরও বলেন, সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকেও অনলাইন সেবা নিয়ে ইতিবাচক ফিডব্যাক পাওয়া যাচ্ছে। তারা সেবা পাওয়ার বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

রাজউক চেয়ারম্যান জানান, রাজউকের সব ধরনের সেবা ডিজিটাইজেশনের আওতায় আনার জন্য কাজ চলছে। দরপত্র, এস্টেট কার্যক্রমসহ অন্যান্য কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন) প্রকৌশলী নূর-ই-খোদা জানান, মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্লানিং পারমিটের জন্য জোন-১ এ ১ হাজার ৫৯টি, জোন-২ এ ৭৯৭টি, জোন-৩ এ ১ হাজার ৩০টি, জোন-৪ এ ১ হাজার ৬৬৩টি, জোন-৫ এ ৫০৩টি, জোন-৬ এ ১ হাজার ১৭০টি, জোন-৭ এ ৪৮৩টি এবং জোন-৮ এ ৩৫০টি আবেদন জমা পড়েছে।

এসব আবেদনের মধ্যে জোন-১ এ ৮৭৮টি, জোন-২ এ ৫৮৯টি, জোন-৩ এ ৭৪১টি, জোন-৪ এ ১ হাজার ৬০৯টি, জোন-৫ এ ৩০৫টি, জোন-৬ এ ৭৬৭টি, জোন-৭ এ ২২৮টি এবং জোন-৮ এ ২৭৬টি আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকি আবেদনগুলো কাগজপত্রের ঘাটতি ও অন্যান্য প্রক্রিয়াগত কারণে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

একই সময়ে কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য জোন-১ এ ৭০৭টি, জোন-২ এ ৪১৩টি, জোন-৩ এ ৫২৬টি, জোন-৪ এ ১ হাজার ১৮৯টি, জোন-৫ এ ২২৯টি, জোন-৬ এ ৪৬১টি, জোন-৭ এ ১৮৮টি এবং জোন-৮ এ ২১৭টি আবেদন জমা পড়ে।

এর মধ্যে জোন-১ এ ৪০১টি, জোন-২ এ ২২৫টি, জোন-৩ এ ৩৬৫টি, জোন-৪ এ ৭৫৩টি, জোন-৫ এ ৯৭টি, জোন-৬ এ ৪০৫টি, জোন-৭ এ ১৪৮টি এবং জোন-৮ এ ২০৬টি আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) মো. মনিরুল হক জানান, যেসব আবেদনে ত্রুটি বা কাগজপত্রের ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো অনলাইনের মাধ্যমে আবেদনকারীর কাছে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আবেদনকারী ঘাটতি পূরণ করে পুনরায় দাখিল করলে তা অনলাইনেই অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হলে আবেদন বাতিল করা হচ্ছে।

তবে রাজউকের পারমিট ব্যবস্থা অনলাইনে করা হলেও পুরো অনুমোদন প্রক্রিয়া এখনো ডিজিটাল হয়নি। নকশা অনুমোদনের পর ভবন নির্মাণকালীন তদারকির কাজ এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে করা হচ্ছে। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদনের আগে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি সংগ্রহ করতে হয়।

ফায়ার সার্ভিস, সিভিল এভিয়েশন এবং কেপিআইডিসিসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তি নিতে হয়। এসব সংস্থার অনেক ক্ষেত্রেই অনাপত্তিপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো ম্যানুয়াল। ফলে রাজউকের নিজস্ব অনুমোদন ব্যবস্থা অনলাইন হলেও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার কারণে পুরো অনুমোদন ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত গতি সবসময় পাওয়া যাচ্ছে না।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্লানিং পারমিট ও নকশা অনুমোদনের ডিজিটাইজেশন কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৬ সালে। বিশ্বব্যাংকের আইএফসি অর্থায়নে প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল। প্রথমে শুধু জোন-৫, অর্থাৎ ধানমন্ডি এলাকায় ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুরু করা হয়। পরবর্তীতে রাজউকের আওতাধীন আটটি জোনে এ কার্যক্রম বিস্তৃত হয়।

তিনি বলেন, ঢাকা আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টের আওতায় ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং সিস্টেম চালু হয়, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, প্লানিং পারমিট বা নকশা অনুমোদনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে ওয়ান উইন্ডো সেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একই ছাতার নিচে এনে সেবা দিতে পারলে অনুমোদনের সময় আরও কমবে এবং জনভোগান্তিও কমবে।

রাজউকের কর্মকর্তাদের মতে, তাদের আট জোনে পারমিট আবেদন ও অনুমোদন অনলাইনে হওয়ায় সেবাপ্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে। তবে পুরো ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে ‘ওয়ান-স্টপ’ সেবায় রূপ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার অনাপত্তি প্রদান, নির্মাণকালীন পরিদর্শন এবং অন্যান্য সহায়ক কার্যক্রমও ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা সম্ভব হলে ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সময় ও জনভোগান্তি আরও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।