শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে নগদ টাকা, স্বর্ণ ও ১৮ দেশের মুদ্রা

হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স পঞ্চমবারের মতো শনিবার গণনা করা হয়েছে। ৩৫ দিন পর দানবাক্স খুলে মিলেছে প্রায় সাড়ে ৮৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া মিলেছে স্বর্ণ এবং ১৮টি দেশের মুদ্রা।

শনিবার মাগরিবের নামাজের পর বাক্সে পাওয়া দানের হিসাব ঘোষণা করেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন।

এদিন সকাল ৯টা থেকে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে বসানো ৩টি দানবাক্স ও ৩টি ডেগ থেকে টাকা সংগ্রহ শুরু হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দানবাক্স ও ডেগের সিলগালা খুলে সংগ্রহ করা হয় টাকা। পরে প্রায় অর্ধশত স্বেচ্ছাসেবী মিলে দিনভর সেগুলো গণনা করেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন প্রাপ্ত দানের হিসাব ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, এবার দান হিসেবে মিলেছে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা, ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা স্বর্ণ, ৩ ভরি ১৩ আনা রৌপ্য, ব্রিটিশ ১৪ পাউন্ড, ভারতীয় রুপি ৭ হাজার ৬৪৭, থাইল্যান্ডের ২০ বাথ, সৌদি আরবের ৯৩ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ১১ রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, ওমানের ১৩৫০.৫০ রিয়াল, আরব আমিরাতের ৬৫ দেহরাম, মালদ্বীপের ১৫ রুফিয়া, কাতারের ১৭ রিয়াল, ৭.৩৩ ইউরো, বাহরাইনের ১ দিনার, হংকংয়ের ১০ ডলার, ব্রুনাইয়ের ১ ডলার, নেপালের ৫৫ রুপি, পাকিস্তানের ১০০ রুপি, রাশিয়ান ৫০ রুবল ও শ্রীলঙ্কান ৫০০ রুপি। এ ছাড়া দান হিসেবে ৭টি গরু ও ৩১০টি ছাগল পাওয়া গিয়েছিল।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ৩৪ দিন পর চতুর্থবারের মতো দানবাক্স খোলা হয়েছিল। ওই সময় পাওয়া গিয়েছিল ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা, স্বর্ণ ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা।




আলেমদের জন্য রক্ত দিতেও দ্বিধা করব না: ধর্মমন্ত্রী

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, ইসলামের ধারক-বাহক ইমাম ও আলেমদের জন্য রক্ত দিতে হলেও পিছপা হব না।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, এ দেশের ইমাম-আলেম, কওমি ওলামায়ে কেরাম যারা আছেন, যারা ইসলামের ধারক-বাহক; তাদের জন্য যদি গায়ের রক্ত দিতে হয়, তবে রক্ত দেব, দ্বিধা করব না ইনশাআল্লাহ।

অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।

ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে কেউ যাতে উসকানি দিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।

একই সঙ্গে জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য দিতে ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সমাজে ইমামদের গ্রহণযোগ্যতার কথা উল্লেখ করে এসব অপরাধ প্রতিরোধে তাদের ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির নেতারা ইমামদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন।




সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন কমিটির নবম বৈঠক

জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শুরু হয়েছে। যেখানে দেশের প্রথিতযশা সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা অংশ নিয়েছেন।

আজ শনিবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শুরু হয়।

এর আগে শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তিদের সঙ্গে ৮টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অংশীজনদের সঙ্গে সকল আলোচনা ও খসড়া তৈরির কাজ শেষ করা হবে।

২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

গণভোটের আলোকে সংস্কার প্রক্রিয়া না থাকায় বিরোধী দলগুলো এই বিশেষ সংশোধন কমিটির বৈঠকে অংশ নেয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধীদল অংশগ্রহণের জন্য অপেক্ষা করা হবে বলে জানান কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ।




কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাত রয়েছে: রিজভী

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর ফকিরাপুলে ডেঙ্গু সচেতনতায় লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ক্ষমতাচ্যুত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আঁতাত রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপি ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্যপ্রমাণ সামনে এনেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

দেশে নতুন করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, বিরোধীদের অপপ্রচার ও উসকানিতে কান না দিয়ে সরকার পূর্ণ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারের অর্জন তুলে ধরে রিজভী বলেন, বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। এটি সরকারের সঠিক নীতির প্রতিফলন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান, ছাত্রদলের সহ সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




কাশিমপুরে পোশাক কারখানার গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

গাজীপুরের কাশিমপুরে পশ্চিম শৈলডুবি এলাকার সুপ্রিম গার্মেন্টসের কার্টুন ও সুতার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট। তাদের সঙ্গে যোগ দিতে আরো চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোলরুম থেকে ডিউটি অফিসার লিনা খানম জানান, আজ শনিবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পান তারা। ১০টা ২৫ মিনিটের মধ্যে সেখানে দুইটি ইউনিট পৌঁছায়। পরে আরো তিনটি ইউনিট তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের আরো চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি।




শাহজালালের (র.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা চলছে

হযরত শাহাজালালের (র.) মাজারের দানবাক্স ও ডেকচিতে দেওয়া ভক্তদের দানের টাকা গণনা চলছে।শনিবার সকালে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

জানা গেছে, বরাবরের মতো এবারও মাজারের বিভিন্ন দানবাক্স ও ডেকচিগুলোতে দেশী টাকার পাশাপাশি বিদেশী মুদ্রাও পাওয়া গেছে। সেই সাথে পাওয়া গেছে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত চিঠি।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থা স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গঠিত কমিটির গত ২৩ সেপ্টেম্বরের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, মাজারের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নে এবং বাকি ৬৫ শতাংশ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের কাজে ব্যবহৃত হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন কমিটির সভাপতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।




পাঁচ জেলায় সড়কে প্রাণ গেল ১৪ জনের, আহত ৩৯

দেশের পাঁচ জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল থেকে শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোররাত পর্যন্ত ফরিদপুর, নাটোর, যশোর, মুন্সীগঞ্জ ও বগুড়ায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু এবং পুলিশের একজন এসআই রয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদকের পাঠানো খবরে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ফরিদপুরে পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত ৬

শুক্রবার ফরিদপুরের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন স্বেচ্ছাসেবী এবং বালুবোঝাই ট্রাকের চাপায় মা-ছেলে ও এক ইজিবাইকচালক রয়েছেন।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বালুবোঝাই ট্রাক ইজিবাইক ও প্রাইভেটকারকে চাপা দেয়। এতে সুমি বেগম (৩২), তাঁর সাত বছর বয়সী ছেলে শাওন এবং ইজিবাইকচালক হাসান শেখ (২৭) নিহত হন।

এর আগে বিকেল ৩টার দিকে মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি সেতুর কাছে বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন স্বেচ্ছাসেবী নিহত হন। তাঁরা ‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’-এর মাগুরা দলের সদস্য রাব্বি মোল্লা, নূর মোহাম্মদ ওরফে আরিক এবং ঐশী খাতুন।

নাটোরে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার থানা মোড় এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মিঠুন আলী (৪০) নামের এক বাসের সহকারী নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৫ জন।

রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা তাবাসসুম পরিবহনের বাসটির সংঘর্ষ হয়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

যশোরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের নতুনহাট মোড়ের কাছে বড় মেঘলা এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

নিহতদের মধ্যে সিয়াম হোসেন ও আরিফুল ইসলাম জয়ের পরিচয় পাওয়া গেছে। তৃতীয়জনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহত ওমর ফারুক ও রাকিব হাসান রিফাতকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

মুন্সীগঞ্জে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩

শনিবার ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাসাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে যায়। এতে তিনজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হন।

চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী দর্শনা পরিবহনের বাসটি একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরে সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায় বাসটি। নিহতদের মধ্যে রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫) নামের একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। অন্য দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা নিহত

শুক্রবার রাতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ছোনকা এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে প্রাইভেটকারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের বিভাজকে ধাক্কা লাগে। এতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এসআই গোলাম রব্বানী (৩৬) নিহত হন।

ছুটি শেষে নিজ জেলা রংপুর থেকে ঢাকায় কর্মস্থলে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।




এনআইডি সংশোধনে ইসির বড় অগ্রগতি, ৬৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন পর্যন্ত জমা পড়া ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি সংশোধন আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি নিষ্পত্তি করেছে সংস্থাটি।

তবে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির পরও এখনো অপেক্ষমাণ রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ১০টি আবেদন। অন্যদিকে, বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন।

ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও আবেদন নিষ্পত্তি, অযৌক্তিক আবেদন বাছাই এবং জালিয়াতি প্রতিরোধ-এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে এখন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। আবেদন নিষ্পত্তিতে সময়সীমা নির্ধারণ, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত জমা পড়া এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ায় কিছু আবেদন অপেক্ষমাণ থাকছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সংশোধনের অযোগ্য আবেদন এবং একই বিষয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুনরায় আবেদন করার প্রবণতা।

‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ প্রায় ৭০ হাজার আবেদন

ইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৬৮ হাজার ২৬৯টি আবেদন। এছাড়া ২০২৫ সালের একই ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ আবেদন রয়েছে ৯৮৩টি। সব মিলিয়ে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা ৬৯ হাজার ২৫২টি।

অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ঢাকা অঞ্চলে ১০ হাজার ৬১৫টি, ফরিদপুরে ৫ হাজার ১৪০টি, খুলনায় ৫ হাজার ৮৭১টি, ময়মনসিংহে ৮ হাজার ৩৩২টি এবং রংপুরে ৪ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে।

এছাড়া সিলেটে ৬ হাজার ৪৬৯টি, রাজশাহীতে ৬ হাজার ৮৭৫টি, বরিশালে ৪ হাজার ২২৬টি, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ৬৮৮টি এবং কুমিল্লায় ১০ হাজার ৫৫৯টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

এই পরিসংখ্যান বলছে, অপেক্ষমাণ আবেদনের চাপ অঞ্চলভেদে ভিন্ন। ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চলে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ফলে দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে অঞ্চলভিত্তিক তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আবেদন নিষ্পত্তিতে সময়সীমা, কমানো হয়েছে প্রশাসনিক ধাপ

এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমে গতি আনতে আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইসি। পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকেরা নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আবেদন নিষ্পত্তির মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্ভুলভাবে কাজ করা। এমনভাবে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের প্রয়োজন না পড়ে।

তিনি বলেন, অতীতে অযৌক্তিক আবেদনগুলো সব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এখন যুক্তিসংগত নয়—এমন আবেদন বাতিল করা হচ্ছে এবং প্রতিটি আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত বছর বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইসি সচিবের ভাষ্য, সংশোধন আবেদনের মধ্যে এমন অনেক আবেদন রয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে সংশোধনের প্রয়োজন আর নেই। আবার বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের কিছু আবেদনেও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেওয়া তথ্যের অসংগতি পাওয়া যায়। এসব বিষয় যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

জন্মতারিখ সংশোধনে নতুন নজরদারি

এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষাসনদকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে তদারকি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন।

সম্প্রতি এ বিষয়ে সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে ইসি। গত ১৩ আগস্ট জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাসনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ প্রযোজ্য নয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার অন্তত তিনটি আবেদন যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।

গত ১৩ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের প্রতিবেদন ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরের মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে জন্মতারিখ সংশোধনে সিদ্ধান্তের যথার্থতা ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।

অযোগ্য আবেদন বাতিল, বয়সের অসংগতিতে কঠোর যাচাই

এনআইডি সংশোধনের অপেক্ষমাণ আবেদন ও বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অনেক আবেদন রয়েছে যেগুলো সংশোধনযোগ্য নয়। বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে কখনো দেখা যায়, বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান মাত্র ১০ বছর। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশোধনের পর দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোটার হওয়ার সময় বয়স ১৮ বছরের কম ছিল। এ ধরনের অসংগতি থাকলে আবেদন বাতিল করা হয় বলে জানান তিনি।

সাইফুল ইসলাম বলেন, কোনো আবেদন একটি ক্যাটাগরিতে বাতিল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্য ক্যাটাগরিতে আবার আবেদন করেন। এতে একই ধরনের আবেদনের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বেশি বলে মনে হতে পারে।

তিনি আরও জানান, অপেক্ষমাণ আবেদনগুলো নিষ্পত্তির জন্য নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সেবার মানসিকতা ও দায়িত্ববোধের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকিও নিষ্পত্তির অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।

জালিয়াতি রোধে কঠোর অবস্থান, আসছে প্রযুক্তিগত উদ্যোগ

এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে। কমিশনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত থাকলে তভদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, জালিয়াতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে জালিয়াতির ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।

ইসি সচিবের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা গেলে এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতির ঘটনা আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এদিকে, সাধারণ মানুষকে প্রতারক চক্রের প্রলোভনে পা না দিতে সতর্ক করছে এনআইডি বিভাগ। এ বিষয়ে হেল্পডেস্ক থেকেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম।

নির্ভুল নিবন্ধনই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান

প্রতি মাসে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ার বাস্তবতায় কেবল নিষ্পত্তির গতি বাড়িয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নিবন্ধনের সময় তথ্য যাচাই জোরদার করা, আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা এবং সংশোধনের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তারা মনে করেন, ৬৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তির সাফল্যের পর এখন নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় পরীক্ষা-অবশিষ্ট আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংশোধনের প্রয়োজন কমিয়ে নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।




হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক মাস অক্টোবর

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের ক্ষেত্রে চলতি অক্টোবর মাসটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে খারাপ মাস হিসেবে গণ্য হয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ‌‘ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসি’-এর সংকলিত তথ্যে দেখা গেছে, বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের জন্য এই অক্টোবর ছিল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক মাস।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসেই হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ২৮টি জাহাজে নিশ্চিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে মোট আক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৩টি।

এই পরিসংখ্যানটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্যের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, সংঘাত শুরুর পর থেকে মোট ১২০টি আক্রমণের তথ্য নথিভুক্ত করেছে সংস্থাটি।

তবে ‘যুক্তরাজ্য সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম’ (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, তারা ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১৩৫টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করেছে। তারা আরও উল্লেখ করেছে, অনেক আক্রমণের তথ্য প্রতিবেদনে প্রতিফলিত না-ও হতে পারে, ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

আইএমও’র তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের ৯০০টিরও বেশি সুপারট্যাঙ্কার বহরের প্রায় ৩.৫ শতাংশ জাহাজ এই আক্রমণের শিকার হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

সূত্র: আর-জাজিরা।




নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ১১ জেলের কারাদণ্ড

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারের দায়ে ১১ জেলেকে সাত দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আরাফাত হুসাইন এ দণ্ড দেন। এসময় জেলেদের কাছ থেকে ২ লাখ ৭৫ হাজার মিটার জাল ও ৬০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয় এবং ইলিশ স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়- উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানে ১১ জেলেকে আটক করা হয়। পরে মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে সাত দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

কমলনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আরাফাত হুসাইন বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় সরকার নদীতে মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে নদীতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মৎস্য বিভাগ জানায়, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মেঘনা নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এ সময়ে মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেঘনা নদীতে অভিযান জোরদার করেছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে।