সৌদি আরবে হুতি হামলার তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের

সৌদি আরবে একাধিক হুতি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব হামলায় দুই বাংলাদেশি হতাহত হয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। সূত্র: বাসস




‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধী দল ধোঁকাবাজি করেছে’

জুলাই-আগস্টের শহীদদের স্মরণে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের উপস্থিত না হওয়া প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, যারা জুলাই-আগস্ট নিয়ে সারাদিন রাজনীতি করেন ও চিৎকার করেন, তারা দাওয়াত পাওয়া সত্ত্বেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয়ে ধোঁকাবাজির পরিচয় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা উপস্থিত না হয়ে খোড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গত ১৯ অক্টোবর ওসমানী উদ্যানে সরকারের পক্ষ থেকে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ওই অনুষ্ঠানে সকল সমমনা, সহযোগী ও জোটের রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। শুধু দাওয়াত কার্ড পাঠানোই নয়, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম টেলিফোনেও সবাইকে আমন্ত্রণ নিশ্চিত করেছিলেন।

তিনি আরো বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শহীদ মীর মুগ্ধ, শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ আনাসের বাবা এবং এক শহীদের মাকে সঙ্গে নিয়ে চার শহীদ পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভ ও দীর্ঘ ১০ বছর পর ওসমানী উদ্যানটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ জুলাই নিয়ে যারা সারাদিন কথা বলেন, সেই সমস্ত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্তরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। বাংলাদেশের এই একমাত্র শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে গ্যাজেটভুক্ত ৮৩৪ জন শহীদের নাম লেখা রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্যের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, দাওয়াত কার্ডে বিরোধী দলীয় নেতার নাম না থাকায় তারা যাননি বলে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়। অনুষ্ঠানে প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় নেতা সাইফুল হক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন সাহেবের নাম দাওয়াত কার্ডে না থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তাদের মঞ্চে ডেকে নেন। আমাদের দাওয়াত গ্রহণ করে বিরোধী দল উপস্থিত হলে মানবিক প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতিনিধিকেও মঞ্চে ডেকে নিতেন।

জামায়াতে সেক্রেটারী জেনারেলের অন্য একটি বক্তব্যের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বিরোধী দল ‘চকলেট’ পাচ্ছে; আমরা অতীতে বসার জায়গাও পাইনি, অথচ আপনারা সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। নির্বাচনের সময় বেহেশতের কথা বলে ভোট নিয়ে এখন সস্তা রাজনীতি বন্ধ করুন। তারা ভোটের আগে মানুষকে বেহেশতের লোভ দেখায়, আবার পূজায় ঢাকের তালে নাচে; অথচ ভোটের পর এবার কোনো পূজায় তাদের পাওয়া যায়নি। তারা এখন এক দফার নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিশেষ কোনো ধর্ম বা গোষ্ঠীকে পুঁজি করে যারা রাজনীতি করছে, তাদের ফলাফল দেশের মানুষ ইতিপূর্বে দেখেছে। বিএনপি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে পুঁজি করে রাজনীতি করে না; এখানে সবাই বাংলাদেশি এবং সবার হৃদয় জয় করেই বিএনপি আবারও জনগণের দ্বারে যাবে।

প্রতিমন্ত্রী বাকস্বাধীনতার নামে অশালীন ভাষা প্রয়োগ না করার অনুরোধ জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, এরপরেও যদি অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়, তবে জাতীয়তাবাদী শক্তি তা মেনে নেবে না।

একই সঙ্গে দলের ভেতরের শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপির মধ্যেও বট রয়েছে। আমাদের দলে কারা এসব করছে, তাদের চিহ্নিত করতে কাজ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিরোধী দলকে একতরফা আন্দোলন বা লং মার্চ বাদ দিয়ে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ৯ নভেম্বর থেকে সংসদ অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সংসদে অবাধে কথা বলার সুযোগ রয়েছে এবং স্পিকার বিরোধী দলকে যথেষ্ট সুযোগ দেন। সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া বা বারবার ওয়াকআউট করাও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। বিরোধী দলের সে অধিকার রয়েছে এবং ওয়াকআউট শেষে তারা আবার ফিরে আসে। সংবিধানে বিরোধী দলের ভূমিকা কী হবে তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি সদস্য পদ শূন্য রাখা হয়েছে। তবে তারা সেখানে সহযোগিতা করছেন না। তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, সংঘাতের পথ ছেড়ে কমিটিতে সম্পৃক্ত হয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অংশ নিন এবং যেকোনো মুহূর্তে পাঁচজন প্রতিনিধির নাম দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।

প্রেস ব্রিফিং শেষে প্রতিমন্ত্রী শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রতিভাবান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।




ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে গিয়েছেন।

আজ শুক্রবার সকালে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে যান।

এ সময় রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এই তথ্য জানিয়েছে।




তিব্বতে ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, তাইওয়ানেও ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন

চীনের দুর্গম তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিকম্পে ৩৩৯টি বাড়ি ধসে পড়েছে। মানুষজন নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে আশ্রয় নিচ্ছেন অথবা রাস্তায় রাখা নিজেদের গাড়িতে অবস্থান করছেন। ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ সেবা। ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজ শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটি ছিল সাত মাত্রার। শুক্রবার সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন ৬৫ জন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর। ভূমিকম্পে ৩৩৯টি বাড়ি ধসে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানায়, ১২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে তিব্বতে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পার্বত্য এলাকায়। এটি নাগচু শহরের প্রায় ১৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে এবং তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।

সিসিটিভিতে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের সময় রেস্তোরাঁ থেকে কর্মীরা দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসছেন। সুপারমার্কেটের তাক থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিচে পড়ে যাচ্ছে।

সিসিটিভির খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল বাকেন কাউন্টির মারু টাউনশিপের উপপ্রধান লাওয়াং দাগপো জানিয়েছেন, টাউনশিপ কার্যালয়ে ভূমিকম্পের কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। এ ঘটনায় কার্যালয়ের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।

সিনহুয়ার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ ভূমিকম্পের কারণে কাউন্টির প্রশাসনিক কেন্দ্রে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যাহত হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তার জন্য তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া আঞ্চলিক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বাহিনীর ৩৪৭ জন কর্মীকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোয় তল্লাশি চালাচ্ছেন। কয়েকটি ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে। এক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় নিয়ে যেতে দেখা যায়। অন্য ভবনগুলোয় টর্চের আলো দিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

অন্যদিকে সেনাসদস্যদেরও মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

তাইওয়ানে ধেয়ে যাচ্ছে টাইফুন:

এদিকে তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে শক্তিশালী টাইফুন ‘চ্যাম্পি’। এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১ জন নিহত ও ৯৪ জন আহত হয়েছেন।

শক্তিশালী এ ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৯১ কিলোমিটার। পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছিল ঝড়টি। সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কা থাকায় ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের সতর্কতার মধ্যে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে তাইওয়ান। বাতিল করা হয়েছে ৯৩১টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।

সুপার টাইফুনে পরিণত হওয়া ‘চ্যাম্পি’ এ বছর প্রশান্ত মহাসাগরে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর একটি। তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ) জানিয়েছে, ঝড়টির বাতাসের বিস্তৃতি প্রায় ৩২০ কিলোমিটার। এ কারণে দ্বীপটির অধিকাংশ এলাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, চ্যাম্পি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে উত্তর দিকে চীনের মূল ভূখণ্ডের দিকে যাবে। পরে দক্ষিণ জাপানের দিকে এগিয়ে যাবে। তবে ঝড়টির গতিপথ পরিবর্তন হলে তাইওয়ানে সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কাও আছে।

ঝড়ের সতর্কতায় আজ তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ ২৬২টি ফ্লাইটের সব কয়টি এবং আন্তর্জাতিক ৬৬৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে দেশটির আর্থিক বাজারও। তবে উত্তর থেকে দক্ষিণে চলাচলকারী উচ্চগতির রেলসেবা স্বাভাবিক রয়েছে।

উপকূলীয় শহরগুলোয় মুঠোফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি বেগে বাতাসের ঝাপটার আশঙ্কার কথা জানিয়ে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, টাইফুন চাম্পির প্রভাবে শুক্রবারের জন্য নির্ধারিত তাইওয়ানের সব ২৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং ৬৬০টির বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। উপকূলীয় শহরগুলোতে মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতির দমকা বাতাসের বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। রাজধানী তাইপের আশপাশসহ উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় প্রায় এক মিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।




সৌদি-হুতি সংঘাত: উল্লেখযোগ্য যা যা ঘটল

সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান সংঘাত আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হুতির একের পর এক হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই মারাত্মক আকার ধারণ করেছে যে বিশ্বখ্যাত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো তাদের প্রধান কার্যালয় থেকে কর্মচারীদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ভূত নিরাপত্তার আশঙ্কায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অ-জরুরি কূটনৈতিক কর্মীদের সৌদি আরব ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলো নতুন করে সামরিক সহায়তা বৃদ্ধি করায় সামগ্রিক পরিস্থিতি একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

ধাহরানে অবস্থিত সৌদি আরামকোর প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত অবশিষ্ট কর্মচারীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে সরে গিয়ে দূরবর্তী অবস্থান বা দূর থেকে কাজের (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) মাধ্যমে সেবা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে আরামকোর সুবিশাল কমপ্লেক্সে হুতির জোরালো আক্রমণের পর থেকে অনেক অ-জরুরি কর্মী ইতিমধ্যেই বাসভবন থেকে কাজ করছিলেন। সাম্প্রতিক এই চূড়ান্ত খালি করার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি যে কতখানি সংবেদনশীল তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে আরামকোর অপারেশনস সেন্টারসংলগ্ন একটি ভবন সরাসরি আক্রমণের শিকার হয়েছে। হামলায় আক্রান্ত স্থানটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী কর্মচারীরা জানিয়েছেন। তবে এই খালি করার কার্যক্রমের আওতায় ধাহরানের ওই কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কতজন কর্মী এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন তার নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যান্য পৃথক ঘটনায় দাম্মাম বিমানবন্দর ও শায়বাহ তেলক্ষেত্রেও মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতির হামলার ঘটনায় দুজন ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক এবং অন্যজন সৌদি আরবের বাসিন্দা। এই ঘটনায় আটজন গুরুতর আহত হন, যার মধ্যে দুজন ভারতীয়, দুজন ইয়েমেনি, দুজন বাংলাদেশি, একজন নেপালি এবং একজন সৌদি নাগরিক রয়েছেন। ঘটনার পর সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরটিতে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিমান চলাচল আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কেবল বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার সংকটকেই তুলে ধরে না, বরং চলতি মাসে সৌদির বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুতি হামলায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা ২২ জনে উন্নীত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে। বিমানবন্দরগুলোতে উপর্যুপরি হামলার কারণে ইতিপূর্বে রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও কয়েক দিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

এদিকে সৌদি আরামকোর শায়বাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা একটি আক্রমণকারী হুতি ড্রোন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হলেও তার খণ্ডবিখণ্ড ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। উপর থেকে পড়ে যাওয়া জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষের আঘাতে একজন ফিলিপিনো এবং একজন নেপালি নাগরিক মারা যান। এছাড়া এ ঘটনায় একজন ভারতীয় এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক আহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে আকাশেই ড্রোনটি ধ্বংস করা সত্ত্বেও তার অবশিষ্টাংশ গিয়ে পড়ে প্রাঙ্গণের বাইরে অবস্থানরত একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে। যদিও মূল তেলক্ষেত্রের কার্যক্রমে এর কোনো প্রভাব পড়েনি, তবে এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত বা ইন্টারসেপ্ট করার পরেও কিভাবে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাছাড়া প্রধান অবকাঠামো ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলোর চারপাশে দায়িত্ব পালনরত সাধারণ কর্মীদের চরম ঝুঁকির বিষয়টি এটি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

কেবল কৌশলগত তেলক্ষেত্র বা বিমানবন্দরই নয়, সৌদি আরবের ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলসমূহও হুতির ক্রমবর্ধমান হুমকির আওতায় চলে এসেছে। রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলের আকাশে ড্রোন আক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে। একই সাথে পূর্বঞ্চলীয় প্রদেশের ওপর একাধিক সামরিক অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক জোট। মদিনায় সম্ভাব্য হামলার চেষ্টার খবর আসলেও শহরের পবিত্র স্থানসমূহ কোনো হামলার শিকার হয়নি। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা মদিনামুখী ড্রোন পাঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছে। সৌদির আকাশে আক্রমণের এই ভৌগোলিক ব্যাপ্তি যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য শহর, বিমানবন্দর এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো একসাথে সুরক্ষিত রাখার চ্যালেঞ্জ ততটাই কঠিন হয়ে উঠছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কেও। ওয়াশিংটন তার দূতাবাসের অ-জরুরি মার্কিন সরকারী কর্মচারী এবং তাদের পরিবারবর্গকে সৌদি আরব ছেড়ে অবিলম্বে প্রস্থানের নির্দেশ দিয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে যে, বেসামরিক বিমানবন্দর এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোতে ক্রমাগত হুতি আক্রমণের কারণে সাধারণ ভ্রমণ ব্যবস্থা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। এর ভিত্তিতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য উপসাগরীয় কূটনৈতিক মিশনগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকদের পরিবারসমূহকে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে যে আপাতত সুনির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক প্রস্থান আদেশ কেবল সৌদি আরবে কর্মরত কর্মকর্তাদের ওপরই জারি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি প্রমাণ করে যে সংঘাতটি এখন আর কেবল দুই প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, তা পুরো অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা পরিবেশের ওপর এক বড় সংশয় ও আতঙ্ক তৈরি করেছে।

ইয়েমেন থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন আঞ্চলিক মাত্রা পেরিয়ে একটি বিস্তৃত আন্তর্জাতিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কায় রূপ নিয়েছে। ব্রিটেন সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা প্রদান বৃদ্ধি করেছে, যার মধ্যে সৌদি আকাশসীমায় বিশেষ নজরদারি ও ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের কাজে সাহায্য করার জন্য রয়্যাল এয়ার ফোর্সের টাইফুন যুদ্ধবিমানের টহল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একইভাবে মিসরও সৌদি আরবের আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় নিজেদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। প্রতিউত্তরে হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নৌ-অবরোধের হুমকি দিয়েছে।

বর্তমানে সৌদি আরব তার রাষ্ট্রীয় সীমানা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বিমান চলাচল, অপরিশোধিত তেল রফতানি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। হুতি বিদ্রোহীরা যেভাবে তাদের ভৌগোলিক সীমানার বহু দূর পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন করছে, তা সৌদি আরবের মতো বিশাল অর্থনীতির জন্য এক নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের সামরিক শক্তিগুলোর বর্ধিত উপস্থিতি ও পদক্ষেপ এই সংকট উত্তরণের বদলে সংঘাতকে আরও ঘনীভূত করতে পারে। পূর্বে গৃহীত দীর্ঘ কূটনৈতিক উদ্যোগসমূহ এখনো পর্যন্ত কোনো টেকসই বা কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি, যার ওপরে আবার যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান ত্রিদেশীয় ক্ষমতার তীব্র সংঘাত।

সূত্র: গালফ নিউজ




সৌদিতে নিহত শাহেদের মরদেহ গ্রহণ করলেন শামা ওবায়েদ

সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শাহেদের মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে শাহেদের মরদেহ বহনকারী বিমানটির হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এর আগে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শাহেদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ার বিষয়টি জানানো হয়।

গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৩ জনের মধ্যে ছিলেন শাহেদ আহম্মেদ। ওই হামলায় নিহত অপর বাংলাদেশি হলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের ওমরাহ ভিসাধারী মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। হামলায় আহত হন আরও ২৭ বাংলাদেশি।

এদিকে, নিহত শাহেদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শাহেদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সা’দ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানি তার বকেয়া বেতন-ভাতা ও সার্ভিস বেনিফিট বাবদ ২৭ হাজার ৩৯৫ দশমিক ৬২ সৌদি রিয়াল রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৯ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, জমা হওয়া অর্থ শিগগিরই ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে শাহেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।




আসামি নিয়ে ফেরার পথে কাভার্ডভ্যানচাপায় এসআই ও বিএনপি নেতা নিহত

গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীকে আটকের পর থানায় ফেরার পথে কাভার্ডভ্যানচাপায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

শুক্রবার ভোররাতে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান (৩০) ও তুমুলিয়া এলাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে ও স্থানীয় ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক মোল্লা (৪৫)। আহতদের মধ্যে আছেন উপপরিদর্শক (এসআই) জাবেদ ওমর (২৮) ও গাড়িচালক রাব্বি (২৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তুমুলিয়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আহিদ মিয়াকে (৪৫) আটক করতে রাত পৌনে ৩টার দিকে সেখানে অভিযানে যান এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য। পরে তাকে বাড়ি থেকে আটক করা হয়। আহিদ মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে।

আহিদকে নিয়ে থানায় ফেরার পথে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে পুলিশের গাড়ি থামিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক মোল্লার সঙ্গে কথা বলছিলেন মিজানুর রহমান, জাবেদ ওমর ও রাব্বি। হঠাৎ ঘোড়াশালমুখী একটি কাভার্ডভ্যান তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়। সে সময় অন্য পুলিশ সদস্যরা আহত চারজনকে উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক সেখানে রফিক মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহত মিজানুর রহমান ও জাবেদ ওমরকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে মিজানুর রহমান ও জাবেদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসকরা মিজানুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। জাবেদ ওমর গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। রাব্বি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। চাপা দেওয়া গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




হুতির লাগাতার হামলায় বিপর্যস্ত সৌদি, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যেই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার দাবি করা হয়েছে। সৌদি জোটের আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুক্রবার ভোরের দিকে এ তথ্য জানায়।

সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, শুক্রবার ভোর চারটার কিছু সময় পরই রিয়াদমুখী ক্ষেপণাস্ত্রটিকে আকাশের মধ্যেই গুলি করে ভূপাতিত করা হয়। এর আগে, রাত আনুমানিক একটার দিকে সৌদি আরবের দক্ষিণ অঞ্চল লক্ষ্য করে হুতি মিলিশিয়াদের পাঠানো দুটি ড্রোনও আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝপথে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয় বলে উল্লেখ করেন আল-মালিকি।

ইরান সমর্থিত হুতিদের সীমান্ত অতিক্রম করে হামলার এই নতুন প্রবণতা আঞ্চলিক উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সৌদি জোটের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসেই হুতিরা সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে অন্তত ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬০টিরও বেশি সশস্ত্র ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

জোটের প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল রিয়াদ, খামিস মুশাইত, নাজরান এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ। এর আগে গত ১৫ অক্টোবর মদিনা অঞ্চলের দিকে নিক্ষেপ করা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে হুতি সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর, জ্বালানি কেন্দ্র এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে তাদের আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সিতে (এসপিএ) প্রকাশিত জোট ও সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসে হুতির হামলায় ২৪ জন নিহত এবং অন্তত ৩৭৪ জন আহত হয়েছেন।

এসব হামলায় সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। গত ৭ অক্টোবর থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দরে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১৮ জন প্রাণ হারান এবং ৩৩৩ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। যার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও মারাত্মক আঘাতটি আসে ১০ অক্টোবর; ওই দিন বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৩ এবং ৪-এর মধ্যবর্তী এলাকায় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি এসে আঘাত হানলে ১৩ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। এ ছাড়া আকাশেই ইন্টারসেপ্ট করা বা প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের খণ্ডবিখণ্ড অংশ নিচে পড়েও বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অন্যান্য জায়গার মধ্যে আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই জন নিহত ও ২৮ জন আহত হন। দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই জন নিহত ও আট জন আহত হন। পাশাপাশি সৌদি আরামকোর শায়বাহ তেল কেন্দ্রে চালানো হামলায় দুই জন নিহত এবং দুই জন আহত হন। এর বাইরে জাজানের কিং আবদুল্লাহ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আরও তিন জন আহত হন।

এর ঠিক এক দিন আগেই কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং শায়বাহ তেল ক্ষেত্রে হুথিদের চালানো প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানায় বেশ কয়েকটি আরব দেশ ও মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ। সেদিনের হামলায় মোট চার জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছিলেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান এবং মিশর পৃথক বিবৃতিতে হুতির এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। দেশগুলো সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভূখণ্ড রক্ষায় তাদের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে।

সূত্র: আরব নিউজ




মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সার্বিক পরিচালন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে বন্দরের জেটি এলাকায় গিয়ে তিনি বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প, জেটি সুবিধা ও কনটেইনার ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে বন্দরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানো, দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা এবং আধুনিকায়নের কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার সকালে উপকূলীয় দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বৃদ্ধি এবং মোংলা বন্দরের সক্ষমতা পর্যালোচনায় সরকারি সফরে মোংলায় পৌঁছান তারেক রহমান। সকাল ১০টার দিকে তিনি সেখানে যান। এর আগে খুলনা ও সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা হেলিকপ্টার ও জলযানে ঘুরে দেখেন তিনি। পরে নৌবাহিনীর বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

সেখান থেকে তিনি সরাসরি মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় যান। বন্দরের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের সময় সেখানে জড়ো হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান।

পরিদর্শনের সময় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

বন্দর পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তার।




মোংলা বন্দর জেটি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোংলা বন্দর জেটি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্দর জেটিতে প্রবেশ করেন তিনি। প্রায় ৫০ মিনিট সেখানে অবস্থান করেন। এরপর সোয়া ৪টার পর প্রধানমন্ত্রী জেটি থেকে বের হয়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দিকে রওনা হন।

পথিমধ্যে তিনি নিজেই প্রটোকল ভেঙে গাড়ি থেকে নেমে মিশে যান জনগণের সাথে। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী যান বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে। অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন শেষে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে মোংলা বন্দর ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর আগে সকালে মোংলা বন্দরের হিরন পয়েন্ট ও সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ানে যান। সেখান থেকে নৌপথে দুপুর পৌনে ১টার দিকে আসেন মোংলার দিগরাজ নৌঘাঁটিতে। নৌঘাঁটি এসে তিনি নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ বিএনএস আবু বকর পরিদর্শন করেন। পরে দুপুরে মধ্যাহ্ন বিরতি করেন নৌঘাঁটিতেই। সেখান থেকে বের হয়েই মোংলা বন্দর জেটি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

মোংলা বন্দর জেটি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলেন স্থানীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসক।