অসুস্থ দুই মন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি দুই মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু ও আবদুল মঈন খানকে দেখতে গেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পৃথকভাবে হাসপাতালে গিয়ে দুই মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন তারা।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বুধবার (২১ অক্টোবর) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে বৃহস্পতিবার তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে আনা হয়।

আজ দুপুরে তাকে দেখতে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, বুধবার রাতে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে তাকে দেখতে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ সময় তিনি মঈন খানের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।




কওমি ঘরানার ৭ দলের জোট ‘সমমনা ইসলামী দল’

কওমি ঘরানার সমমনা সাতটি ইসলামী রাজনৈতিক দল ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামে অভিন্ন ব্যানারে একসঙ্গে রাজনীতি ও কর্মসূচি পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কিংবা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মতো অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে বর্তমানে জোটবদ্ধ অবস্থায় থাকা দলগুলোকেও এই বৃহত্তর ঐক্যপ্রক্রিয়ার আওতায় এনে একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে নেতারা একমত প্রকাশ করেছেন।

এ জোটে আছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার খিলগাঁওয়ে অবস্থিত জামিয়া ইসলামিয়া মাখযানুল উলুম মাদরাসায় আয়োজিত সাত দলের গঠিত লিয়াজোঁ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরা হয়। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই বৈঠক দুপুর দেড়টায় গিয়ে শেষ হয়। বৈঠকে সাত দলের মধ্যকার পারস্পরিক রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠা, অভিন্ন ব্যানারে যৌথ কর্মসূচি গ্রহণ ও পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণসহ দেশের সার্বিক দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত জানান যে, আলাদা কোনো নতুন রাজনৈতিক দল কিংবা জোট গঠন না করে ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামটিকেই একটি অভিন্ন ব্যানার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তবে অভিন্ন ব্যানারে যৌথ কর্মসূচি পরিচালিত হলেও প্রতিটি রাজনৈতিক দল যার যার নিজস্ব সাংগঠনিক কাঠামো, দলীয় আদর্শ ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় পুরোপুরি বজায় রাখবে। পরস্পর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমঝোতা ও আন্তঃসম্পর্কের ভিত্তিতে রাজপথে ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

লিয়াজোঁ কমিটির এই বৈঠকে আগামী ৫ ডিসেম্বর পরবর্তী বৈঠকের তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে যেসব ইসলামী দল বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোটবদ্ধ বা রাজনৈতিক সমঝোতায় রয়েছে, তাদেরকেও এই বৃহত্তর ঐক্যপ্রক্রিয়ার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলদের সাথে ধারাবাহিক আলোচনা, দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও সমঝোতার মাধ্যমে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিষয়ে নেতৃবৃন্দ ঐকমত্যে পৌছেছেন।

উক্ত বৈঠকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এবং দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন ও মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী এবং ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদির ও মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসেন রাজীসহ সমমনা সাতটি দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও এই লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।




হেলিকপ্টারে সুন্দরবন দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

হেলিকপ্টারে সুন্দরবন পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আকাশপথে সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার দাকোপের নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সুন্দরবন পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম। পরে প্রধানমন্ত্রী নলিয়ান থেকে নৌপথে মোংলা যান।

বিকেলে মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও জেটি পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত বেজা ইকনোমিক জোন এলাকা ঘুরে দেখবেন। দিনব্যাপী সরকারি কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টায় মোংলার হেলিপ্যাড থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।




মোংলায় নৌঘাঁটিতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

বাগেরহাটের মোংলা নৌঘাঁটিতে (বাানৌজা) পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টায় তিনি নৌপথে বানৌজা মোংলার জেটিতে পৌঁছান। এরপর ঘাঁটিতে থাকা নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ বিএনএস আবু বকর পরিদর্শন করেন। এখন মধ্যাহ্ন বিরতে নৌঘাঁটিতে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর মোংলা বন্দর জেটি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করবেন তিনি।

এর আগে, সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে হেলিকপ্টারে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে সেখান থেকে পায়ে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনে যান তিনি। সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে সেখান থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় নলিয়ান বাজার মোড়ে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও করমর্দন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।




দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ঘটনা ছাড়াই দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হলো : মীর শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ঘটনা ছাড়াই সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। বাংলাদশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের তিনটি আলাদা অঞ্চলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বগুড়ার হোটেল মম-ইনের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‌‘উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক লোটন একরাম।

মীর শাহে আলম বলেন, বিগত নির্বাচনে একটি গোষ্ঠী হিন্দু ধর্মের ভাইদের পকেটের লোক মনে করত। সেখান থেকে তারা বের হয়ে এসে আমাদের প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিয়েছে, আমাদের বিশ্বাস করেছে। সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে সারা বাংলাদেশে প্রায় ১২০০ অতিরিক্ত পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব পালন হয়েছে। এটা আমাদের জন্য কাঙ্ক্ষিত বিষয়। তারা আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছে, বিশ্বাস রেখেছে। সেই আস্থা ও বিশ্বাসের মূল্য তারেক রহমানের জনগণের সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের আমরা দিতে পেরেছি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রশাসন এবং বিএনপির লোকজন একত্রিতভাবে পূজামণ্ডপগুলো পাহারা দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের এই বড় দুর্গোৎসবকে আমরা সমাপ্ত করতে পেরেছি।




চট্টগ্রামে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো দুর্গাপূজা

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে চার স্থানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার (২১ অক্টোবর) নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন।

হাজার হাজার ভক্ত অনুরাগী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে ভিড় করেন সৈকত এলাকায়। বিসর্জনকে কেন্দ্র করে পতেঙ্গা এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জানা গেছে, বুধবার দুপুরের পর নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে শোভাযাত্রাসহ প্রতিমা বিসর্জন স্থলে যেতে শুরু করেন দেবী দুর্গার ভক্তরা। বিকাল ৩টায় প্রতিমা বিসর্জনের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

পতেঙ্গা ছাড়াও নগরীর ফিরিঙ্গিবাজারের অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাট ও উত্তর কাট্টলীর রানী রাসমণি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়। এছাড়া জেলার ১৫ উপজেলায় স্থানীয় নদ-নদী, সমুদ্র উপকূল ও জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এর মধ্যে দিয়ে চট্টগ্রামে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলো।

পতেঙ্গা থানার ওসি মো. পারভেজ আলী বলেন, ‘নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সাগরে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সৈকত ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে তাদের উৎসব শেষ করেছেন।’




রাজধানীর ৩৩ পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন, নিরাপত্তায় ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ

প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে ঢাকা মহানগরীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশন) মো. শহীদুল্লাহ। বিসর্জন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এবার ঢাকা মহানগরীর ৩৩টি পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিসর্জন হবে ওয়াইজঘাট এলাকায়।

বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি নিয়ে পলাশী মোড়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন তিনি। যুগ্ম পুলিশ কমিশনার  বলেন, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের প্রায় ১৬ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। মহানগরীর ৩৩টি পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জনের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। এসব স্থানের মধ্যে ওয়াইজঘাট এলাকায় সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জন হবে।

মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ইতোমধ্যে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়ার জন্য প্রতিমাগুলো নির্ধারিত স্থানে রাখা হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শোভাযাত্রা শুরু হবে।

বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), এসআরইউ, সোয়াট ও বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং এসআরবির সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা মহানগরীতে এবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বাকি সময়েও নেতিবাচক কোনো ঘটনা ঘটবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় পুলিশের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা। এজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মো. শহীদুল্লাহ বলেন, সবাই যেন উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পূজার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেন। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজার কার্যক্রম শেষ করার পুরো প্রক্রিয়ায় নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।




দেশে ১৩ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ লাখ ২৫ হাজার

দেশে ১৩ বছরে (২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত) ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন। সড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির জন্য বিগত সরকারের ভুলনীতি, রেল ও নৌপথ সংকুচিত করা এবং সড়কনির্ভর যাতায়াত ব্যবস্থাকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

বুধবার জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে দেশের প্রধান যাতায়াতমাধ্যম ছিল নৌপথ, দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল রেলপথ। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী এই দুই মাধ্যমে তখন ৮০ শতাংশ মানুষের যাতায়াত হতো। সড়কপথে যাতায়াত করতেন ২০ শতাংশ মানুষ। কিন্তু স্বাধীনতার পর রেল ও নৌপথ সংকুচিত করে একের পর এক সড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণের ফলে মানুষের যাতায়াত সড়কনির্ভর হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সড়ক দুর্ঘটনার ওপরও।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সড়ক খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল, লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালক, সড়ক নির্মাণে ত্রুটি, বেপরোয়া গতি এবং মাদক সেবন করে যানবাহন চালানোর মতো কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। চালকদের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা যাচাইয়ে দুর্বলতা এবং অযোগ্য যানবাহনকে ফিটনেস সনদ দেওয়ার বিষয়টিও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

সংগঠনটির দাবি, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য পর্যবেক্ষণ করে তারা দুর্ঘটনা ও হতাহতের এই পরিসংখ্যান পেয়েছে। তবে দেশের হাসপাতালগুলোর চিত্র অনুযায়ী, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশি হতে পারে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে, মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া বৃদ্ধি ও চলাচল, সড়কে ডিভাইডার না থাকা, গাছপালার কারণে বাঁকে দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং মহাসড়কের নির্মাণত্রুটি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।




তিন বিভাগ সফর শেষে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী, বৃহস্পতিবার যাবেন খুলনা-বাগেরহাটে

শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফর শেষে ঢাকা ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১ টা ১০ মিনিটে সামরিক বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার তিনি খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাবেন। এই সফরকালে হেলিকপ্টার থেকে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট পর্যবেক্ষণ, মোংলা নৌঘাঁটিতে সভায় যোগদান এবং মোংলা বন্দরের জেটি ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারে যাত্রা করে ১০টায় সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট পর্যবেক্ষণ করবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণের পর লঞ্চে করে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বাগেরহাটের বানৌজা মোংলার উদ্দেশে রওনা হবেন। দুপুর পৌনে ১টায় বানৌজা মোংলায় পৌঁছে মধ্যাহ্নবিরতি শেষে বেলা পৌনে ২টায় ওয়ার্ডরুমে সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় খুলনার বিভাগীয় কমিশনার এবং খুলনা ও বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এদিন বিকাল ৩টায় মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিকাল সাড়ে ৩টায় বেজার প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করবেন। বিকাল ৪টায় হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে বিকাল ৫টায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার।




জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে : রাষ্ট্রপতি

সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বুধবার সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা এবং বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে।

তিনি বলেন, কখনো কখনো গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা হয়। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় ও আপসহীন থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে। এই দেশ আমাদের সবার। সবাই মিলে দেশকে গড়তে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকের এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে আপনাদের স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।

তিনি বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তখন এখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। এ সম্প্রীতি আমাদের শক্তি, আমাদের অস্তিত্ব। যেকোনো মূল্যে তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক এবং হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে।

মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, এ উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো—অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়।

সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে তিনি একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

এ সময় রাষ্ট্রপতি জানান, সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রাষ্ট্রপতি দরবার হলে উপস্থিত হলে ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং ‘মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি’র পক্ষ থেকে সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আসা সব দর্শনার্থী ও অতিথির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।