মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে কোস্ট গার্ড

ইলিশের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নির্বিঘ্ন রাখতে মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। সমুদ্র ও নদ-নদীতে টহল, জেলেদের সচেতন করা এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ইলিশ সংরক্ষণে কাজ করছে সংস্থাটি।

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ সময়ে ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের চারটি জোনের আওতাধীন বিভিন্ন স্টেশন ও আউটপোস্ট থেকে নদ-নদী, উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রসীমায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে, নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে জেলেদের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৩৮ জেলার ১৬৮টি উপজেলার মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০টি জেলে পরিবারের জন্য প্রতি ২৫ কেজি হারে চাল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে- ঢাকা বিভাগে ৬৫ হাজার ৭১৭ জন, বরিশাল বিভাগে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬ জন,  চট্টগ্রাম বিভাগে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৯৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮ হাজার ১৬৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৮ হাজার ৭৬২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯ হাজার ৪১১ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৬ হাজার ১২৬ জন।

কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, সংস্থাটির আওতাধীন ১৬টি জেলার ৫৪টি উপজেলায় মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, নিয়মিত ও বিশেষ টহল এবং সন্দেহজনক নৌযান ও মাছ ধরার বোটে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে চাঁদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাটের শরণখোলা ও বগী, চট্টগ্রামের বহির্নোঙর এলাকা এবং লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও কমলনগরে তুলনামূলক বেশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযানে জাল, মাছ ও নৌকা জব্দ

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ৮৩ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ মিটার জাল, ১৫৫ কেজি ইলিশ মাছ ও ১৪টি নৌকা জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। এসব ঘটনায় জড়িত ২৪ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, মৎস্য প্রতিনিধির উপস্থিতিতে জব্দ করা জাল বিনষ্ট করা হয়েছে। জব্দ করা ইলিশ মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ এবং নৌকাগুলো সংশ্লিষ্ট মৎস্য কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশের মাছ ধরার ট্রলার যাতে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ আহরণ করতে না পারে, সেজন্য টহলরত জাহাজগুলোকে সতর্ক অবস্থানে রেখে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।

দুর্গম এলাকায় অবৈধ মাছ শিকার ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ

মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে দুর্গম নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায় রাতের আঁধারে গোপনে মাছ ধরা এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে কোস্ট গার্ড।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

জেলেদের সচেতন করতে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ

শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, মা ইলিশ সংরক্ষণে জেলেদের সচেতন করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে কোস্ট গার্ড। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকলে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জেলেদের বোঝানো হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেরাও বেশি পরিমাণে ইলিশ আহরণের সুযোগ পাবেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা এবং প্রজননক্ষেত্র সুরক্ষিত রাখা এ মাছের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি অবৈধ মাছ শিকারের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন।

নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন বা এ-সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়মের তথ্য জানাতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ কল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মা ইলিশ সংরক্ষণে চলমান এ অভিযানের সফলতা নির্ভর করছে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার ওপর। প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা গেলে ভবিষ্যতে এ মাছের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বৃদ্ধির পথ আরও সুগম হবে।

এ বিষয়ে ভোলার চরফ্যাশনের জেলে বুরহান উদ্দিন বলেন, ইলিশের উৎপাদন ও বংশবিস্তার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার ফলে ইলিশের প্রজনন ও বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন হবে। এতে জেলেরাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। এ সময়ে জেলেদের জীবনযাত্রায় যেন কষ্ট না হয়, সেজন্য সরকার খাদ্যসহায়তাও প্রদান করছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি প্রশংসনীয় ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরী বলেন, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার ২২ দিনের যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা অত্যন্ত ফলপ্রসূ উদ্যোগ। তবে ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা আরও কার্যকর করতে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২২ দিন থেকে বাড়িয়ে এক মাস করা প্রয়োজন। কারণ, নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ডিমওয়ালা ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়তে দেখা যায়।

তিনি বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ডের ভূমিকা প্রশংসনীয়। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে একশ্রেণির অসাধু জেলে আইন অমান্য করে ইলিশ শিকারে নামেন। এ সময়ে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত টহল ও অভিযান অবৈধভাবে ইলিশ আহরণ বন্ধ এবং মা ইলিশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ আহরণ বন্ধে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইলিশের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি রক্ষায় এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই মিলে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলি এবং মা ইলিশ রক্ষার মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সহায়তা করি।




নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো আনিসুল-পলককে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মামুন (২৫) নামে এক ড্রাইভারের বাঁ চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

সিএমএম আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হুসাইন তাদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন।

আসামিপক্ষে আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখিসহ কয়েকজন আইনজীবী গ্রেফতার দেখানোর বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বাদীর বন্ধু হোসেন, খোকন, আরিফসহ অনেকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন। ওইদিন বিকেল ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ফ্লাইওভারের ওপর অবস্থানকালে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়।

এসময় বাদীর শরীরের বিভিন্ন স্থান, বাঁ চোখ ও মাথায় গুলি লাগে। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে যাত্রাবাড়ীর কাজলা ইসলামিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনদিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাঁ চোখের অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসার একপর্যায়ে তার বাঁ চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।




দেশেই প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও আধুনিক করে গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠায় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একই সঙ্গে সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ‘ওয়ান র‍্যাংক, ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রবিবার সকালে সেনাবাহিনীর কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নবম পদাতিক ডিভিশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, বিদেশি কূটনীতিক এবং সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ এদিন ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) জাতীয় পতাকা অর্জন করে।

সেনাবাহিনীর এই অর্জনে অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়; এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। জাতীয় পতাকা অর্জনের মধ্য দিয়ে অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ নিতে হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ বাস্তবতায় সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠায় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সেজন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করতে ‘ওয়ান র‍্যাংক, ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি। সেনাসদস্যদের আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

দেশের অভ্যন্তরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং বিদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর হামলা শুরু করলে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহের ঘোষণা দেন। পরে ২৬ মার্চ সশস্ত্র প্রতিরোধের নির্দেশ দেন এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সঙ্গে সেনাবাহিনীর জন্মের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এ কারণে দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষা হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে চায় বাংলাদেশ।




প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ জিয়া-খালেদা জিয়ার সমাধিতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের শ্রদ্ধা

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সমাধিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় জেডআরএফের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, মনিটর, সমন্বয়ক, আজীবন সদস্য এবং প্রস্তাবিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।




লালমনিরহাট সীমান্তে ১৪ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, রুখে দিলো বিজিবি

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী বামনদল সীমান্ত দিয়ে ১৪ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নজরদারি ও তাৎক্ষণিক বাধায় বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

বিজিবি ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পাটগ্রামের বুড়িমারী বামনদল সীমান্তের ৮৩৮/১ নম্বর মেইন পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে এই পুশ-ইনের চেষ্টা চালানো হয়। বিএসএফ রাতের আঁধারের সুযোগ নিয়ে ২ শিশু, ২ নারী এবং ১০ জন পুরুষসহ মোট ১৪ জনকে একযোগে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে ওই সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শক্ত অবস্থান নেয় এবং তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে দেয়। বিজিবির এই কঠোর প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়।

স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, বিজিবির বাধায় বাংলাদেশে ঢুকতে না পেরে ওই ১৪ জন বর্তমানে সীমান্তের জিরো লাইন থেকে প্রায় ১০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। পুনরায় যেন কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য ওই সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, সীমান্ত দিয়ে ১৪ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের একটি চেষ্টা হয়েছিল, যা আমাদের সতর্ক টহল দলের বাধায় ব্যর্থ হয়েছে। আমরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছি। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি সমাধানের জোর চেষ্টা চলছে। সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।




১৫–১৬টি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পরও ব্যবস্থা নেই: গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কায়কোবাদকে ঘিরে কমিশন বাণিজ্য ও বিপুল সম্পদের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক : গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম জোন) মো. কায়কোবাদকে ঘিরে কমিশন বাণিজ্য, ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজের বিনিময়ে অর্থ আদায়, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন এবং সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে ১৫–১৬টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে। কিন্তু এতগুলো সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশের পরও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—সরকারি অর্থের ব্যবহার, প্রকল্পের কাজের মান, ঠিকাদারি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস নিয়ে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পরও কেন কার্যকর অনুসন্ধানের অগ্রগতি জনসমক্ষে আসছে না ? অভিযোগগুলো যদি ভিত্তিহীন হয়, তাহলে নথিভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করা হচ্ছে না কেন ? আর অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ কোথায় ?

কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ: ৪ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ আদায়ের দাবি : গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের দাবি, অধিদপ্তরের বিভিন্ন সময়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে কায়কোবাদ ঠিকাদারি কাজের বিপরীতে কমিশন আদায়ের একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। দপ্তরের ভেতরে তাকে ‘ক্যাশিয়ার’ নামে ডাকা হয় বলেও কয়েকজন দাবি করেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ শামীম আখতার এবং বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামানের সময়েও কায়কোবাদ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রশাসনিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ৪ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হতো।
অভিযোগকারীদের দাবি, একটি সার্কেলের বার্ষিক কাজের পরিমাণ বিবেচনায় নিলে এ ধরনের কমিশন থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়। তবে কোন প্রকল্পে, কার কাছ থেকে এবং কী পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট লেনদেনের নথি কিংবা চূড়ান্ত তদন্তের ফলাফল পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কার্যাদেশ, ঠিকাদারি চুক্তি, বিল অনুমোদনের নথি, আর্থিক লেনদেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাজ না করেই শতভাগ বিল উত্তোলনের অভিযোগ :
কায়কোবাদের অধীন বিভিন্ন সার্কেলের প্রকল্পে বাস্তব কাজের সঙ্গে বিলের সামঞ্জস্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে; কোথাও কোথাও বাস্তবে কাজ না করেও শতভাগ বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ধরনের অভিযোগের সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাসের নামও এসেছে। মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। এখানে মূল প্রশ্ন শুধু বিল উত্তোলনের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকল্পের কাজ বাস্তবে কতটুকু হয়েছে, কে কাজ পরিমাপ করেছেন, কে বিল প্রত্যয়ন করেছেন, কার অনুমোদনে অর্থ ছাড় হয়েছে এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা কী ভূমিকা পালন করেছেন—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা জরুরি। কাজের পরিমাণ ও মান যাচাই না করে বিল পরিশোধ করা হয়ে থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় বা অনিয়মের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রকল্পের পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার, পরিদর্শন প্রতিবেদন, কার্যাদেশ ও অর্থ পরিশোধের রেকর্ড পরীক্ষা করতে হবে।

রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে ৪০ কাঠা জমির অভিযোগ : কায়কোবাদের বিরুদ্ধে ওঠা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো, সরকারি চাকরি থেকে অর্জিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে।
সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ইকবাল রোডের ‘এ’ ব্লকে ‘আমেনাস ড্রিম’ ভবনে আনুমানিক সাত কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া উত্তরায় দুটি, ধানমন্ডিতে একটি এবং বনানীতে দুটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য দিয়েছেন তারা। সম্পদের তালিকায় পূর্বাচলের আমুলিয়া প্রজেক্টে ৪০ কাঠা জমি থাকার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার ধামরাইয়ে একটি ১০ তলা ভবন এবং কায়কোবাদের নিজ জেলা শেরপুরে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি থাকার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তাদের আরও অভিযোগ, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের নাম ব্যবহার করে সম্পদ রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবু অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকানা, ক্রয়ের সময়কাল, অর্থের উৎস এবং সরকারি চাকরিতে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা ও অন্যান্য বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে তা দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানের ভিত্তি হতে পারে।

চালকের নামে গাড়ি, প্রকৃত মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন :
কায়কোবাদের পরিবারের ব্যবহারের জন্য নতুন মডেলের একটি টয়োটা এক্সিও গাড়ি থাকার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তাদের দাবি, গাড়িটি আলআমিন নামের এক চালকের নামে নিবন্ধিত। তাই গাড়িটিকে তার নিজস্ব সম্পদ হিসেবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করার আগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিবন্ধন নথি এবং প্রাসঙ্গিক আর্থিক তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
যদি অন্যের নামে সম্পদ রেখে প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন ও মালিকানা সম্পর্কও অনুসন্ধানের আওতায় আনা যেতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন, প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
কায়কোবাদের কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায় নিয়েও আলোচনা রয়েছে। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের সময় তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই-এম) হিসেবে গণপূর্তের ই-এম প্ল্যানিং সার্কেলে কর্মরত ছিলেন। পরে চট্টগ্রাম ই-এম সার্কেলে দায়িত্ব পালন করে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ই-এম সার্কেল-২-এর দায়িত্ব পান।
কয়েকজন সহকর্মীর অভিযোগ, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় ব্যবহার করে কায়কোবাদ বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।
সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান চলার কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কায়কোবাদের সম্পদ ও আয়ের উৎসও একইভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে কি না।

১৫–১৬টি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন, তবু মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন :
কায়কোবাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ১৫–১৬টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে। কিন্তু এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পরও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এখানেই জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে আসে—একজন ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, প্রকল্পের বিল উত্তোলনে অনিয়ম এবং বিপুল সম্পদের অভিযোগ বারবার প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে ? অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়ে থাকলে তার অগ্রগতি কী ? সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর নথি পরীক্ষা করা হয়েছে কি না ? কায়কোবাদ ও তার পরিবারের নামে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা সম্পদের উৎস যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না ? মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল ? এসব প্রশ্নের জবাব জনসমক্ষে না আসায় প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। এ প্রতিবেদনে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য হিসেবেই তুলে ধরা হচ্ছে। সরকারি অর্থের ব্যবহার ও সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অংশ। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং অভিযুক্তের বক্তব্য গ্রহণও জরুরি।

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের কাছে যেসব প্রশ্ন : গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংশ্লিষ্টরা কয়েকটি বিষয়ে স্পষ্ট পদক্ষেপ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। প্রথমত, কায়কোবাদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে কোনো প্রাথমিক অনুসন্ধান হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা।
দ্বিতীয়ত, তার অধীন বিভিন্ন সার্কেলের প্রকল্পের কাজ, কাজের পরিমাপ, বিল প্রত্যয়ন, বিল অনুমোদন এবং অর্থ ছাড়ের নথি পরীক্ষা করা। তৃতীয়ত, মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা।
চতুর্থত, অভিযোগে উল্লিখিত ফ্ল্যাট, জমি, ভবন ও গাড়ির মালিকানা এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রমাণভিত্তিক যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনগত কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া। পঞ্চমত, অভিযোগে নাম আসা কায়কোবাদ, নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাস এবং সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা। ষষ্ঠত, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়া গেলে সেটিও স্বচ্ছভাবে জানানো।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি :
প্রতিবেদন তৈরির সময় গত ৪ ও ৫ অক্টোবর মো. কায়কোবাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপেও বার্তা পাঠিয়ে তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা পর্যন্ত তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে যুক্ত করা হবে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

শেষ কথা : অভিযোগের নিষ্পত্তি চাই, নীরবতা নয়
গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকল্পের অর্থ, ঠিকাদারি কাজ, বিল অনুমোদন ও তদারকির সঙ্গে জড়িত অভিযোগকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। একইভাবে সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ামাত্র কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করাও গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রয়োজন হলো নিরপেক্ষ অনুসন্ধান, নথিভিত্তিক যাচাই এবং ফলাফলের স্বচ্ছ প্রকাশ। কায়কোবাদের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, প্রকল্পের বিল উত্তোলনে অনিয়ম এবং বিপুল সম্পদের যে অভিযোগ উঠেছে, তার প্রতিটি বিষয় পৃথকভাবে যাচাই করা দরকার। ১৫–১৬টি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পরও যদি দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচিত অভিযোগগুলোর বর্তমান অবস্থা ও গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের কাছে জনস্বার্থে প্রত্যাশা—অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অবস্থানও পরিষ্কার করতে হবে। কারণ, সরকারি অর্থের সুরক্ষা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা শুধু কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্ন নয়—এটি জনগণের অর্থের জবাবদিহি এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা রক্ষার বিষয়।




সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়: পদোন্নতি, কথিত সিন্ডিকেট ও ভবন নির্মাণে অনিয়মের প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে পদোন্নতি, কথিত প্রভাববলয়, নিয়োগ-বদলি এবং সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি উঠেছে। রাজধানীর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের তুষারধারা আবাসিক এলাকার একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোর অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের বাস্তব অবস্থা, অকুপেন্সি সনদ এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের নথি যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে একদিনে চারটি পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার ঘটনা নজরুল ইসলামের প্রশাসনিক উত্থান নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়। একই সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির নিয়োগ, পদায়ন, সরকারি আবাসন বরাদ্দ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আবাসন প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, সম্পদ বিবরণী, জমির দলিল, নিয়োগ ও পদোন্নতির আদেশ কিংবা তদন্ত প্রতিবেদন স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া মানেই তা প্রমাণিত হওয়া নয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি পর্যালোচনা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

একদিনে চার পদোন্নতির অভিযোগ: প্রশাসনিক নথি যাচাইয়ের দাবি

অভিযোগকারীদের দাবি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে নিজেকে বৈষম্যের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করে পদোন্নতির সুযোগ পান এবং একদিনে চারটি পদোন্নতির মাধ্যমে সচিব হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর পদোন্নতির প্রক্রিয়া, প্রযোজ্য বিধিমালা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে একদিনে চারটি পদোন্নতি পাওয়ার দাবিটি সরকারি আদেশ দিয়ে যাচাই করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পদোন্নতি আদেশ, প্রজ্ঞাপন, চাকরির জ্যেষ্ঠতা তালিকা, পদোন্নতি কমিটির সুপারিশ এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, বিভিন্ন সমিতি ও সংগঠনের ব্যানারে সরকারি দপ্তরের সভাকক্ষে সভা ও মিলনমেলার আয়োজন করা হতো। এসব সংগঠনের নিবন্ধন, কার্যক্রম এবং সরকারি স্থাপনা ব্যবহারের অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্যও যাচাইয়ের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তুষারধারার ২৪ কাঠার ভবন: অনুমোদিত নকশার সঙ্গে নির্মাণের মিল কতটুকু?

অভিযোগের অন্যতম কেন্দ্র রাজধানীর তুষারধারা আবাসিক এলাকার ১০ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত একটি বহুতল ভবন। অভিযোগকারীদের দাবি, ২৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ভবনটির নির্মাণে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর), সেটব্যাকসহ প্রযোজ্য নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগে সেখানে বসবাস শুরু এবং অকুপেন্সি সনদ গ্রহণের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে প্রথমেই ভবনটির প্রকৃত মালিকানা, জমির দলিল, অনুমোদিত ও সংশোধিত নকশা, নির্মাণ অনুমোদন এবং রাজউকের পরিদর্শন প্রতিবেদন পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবনটির জন্য অকুপেন্সি সনদ ইস্যু করা হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে কখন এবং কোন শর্তে দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

ভবনটির বাস্তব নির্মাণ অনুমোদিত নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার: ২০২২ সালের অভিযানের পর কী ঘটেছিল?

তুষারধারা আবাসিক এলাকার ৯ নম্বর সেক্টরে বায়তুশ শরীয়ত মসজিদের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত ‘ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার’ নিয়ে আগেও রাজউকের অভিযান হয়েছিল বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের ভাষ্য, ২০২২ সালে অভিযান চালিয়ে ভবনটির কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয় এবং মুচলেকা নিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, পরবর্তী সময়ে ভবনটির নির্মাণকাজ আবার সম্পন্ন করা হয় এবং অকুপেন্সি সনদ ছাড়াই সেখানে বসবাস শুরু হয়। তবে অভিযান-পরবর্তী সময়ে ভবনটির নির্মাণকাজের প্রকৃত অবস্থা কী ছিল, কোনো নতুন অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল কি না এবং বর্তমানে প্রয়োজনীয় সনদ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথি ছাড়া নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

এ ক্ষেত্রে ২০২২ সালের অভিযান প্রতিবেদন, ভাঙার নির্দেশ, মুচলেকার কপি, পরবর্তী পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং ভবনটির অনুমোদিত নকশা প্রকাশের দাবি উঠেছে। এসব নথি যাচাই করা হলে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়ে থাকলে তার আইনগত ভিত্তি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

মিশন সাগরিকা এপার্টমেন্ট: পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণের অভিযোগ

তুষারধারার ৪ নম্বর সেক্টরের ‘মিশন সাগরিকা এপার্টমেন্ট’ নিয়েও মালিকানা ও নির্মাণসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের কম্পিউটার অপারেটর আবু সেলিম ও মো. শাহাজাহান ২০১৭ সাল থেকে ভবনটির মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধ ও নির্মাণ অনিয়ম নিয়ে রাজউক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করে আসছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ ও ২০২২ সালে দুদকে দেওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জরিমানা ও মুচলেকার মাধ্যমে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তবে দুদকের অভিযোগের নথি, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত, জরিমানা বা মুচলেকার কপি এবং রাজউকের অনুমোদিত নকশা যাচাই ছাড়া এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ভবনটির পার্কিংয়ের নির্ধারিত জায়গায় কোনো পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে তা অনুমোদিত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের দাবি, ফ্ল্যাট বিক্রির পর সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটেছে। এ বিষয়ে ফ্ল্যাটের নিবন্ধিত দলিল, ক্রয়-বিক্রয়ের নথি এবং অনুমোদিত নকশার বিভিন্ন সংস্করণ তুলনা করে দেখা প্রয়োজন।

নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন: তোফায়েল, কবির আহমেদ ও ওমর ফারুক

নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির নিয়োগ, পদায়ন ও সরকারি সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, তোফায়েল নামের এক ব্যক্তি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন, যদিও তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পদের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁকে নজরুল ইসলামের কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, শিক্ষাগত সনদ, নিয়োগ কমিটির সুপারিশ এবং নিয়োগপত্র যাচাই ছাড়া এ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

শিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মচারী হিসেবে পরিচিত কবির আহমেদের পদোন্নতি, রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি এবং সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে পদায়ন নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে নিজ উপজেলা বুড়িচংয়ে পদায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং তাঁর আত্মীয়স্বজনের জন্যও সুবিধাজনক পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, যদুপুর গ্রামের ওমর ফারুককে ধানমন্ডিতে সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। সরকারি আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চাকরির ধরন, পদ, যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা বরাদ্দপত্র ও অনুমোদনসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়োগপত্র, পদ সৃষ্টির অনুমোদন, পদোন্নতির আদেশ, বদলি ও পদায়নের নথি এবং সরকারি আবাসন বরাদ্দের সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করার দাবি উঠেছে।

সম্পদ অর্জন ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাইয়ের দাবি

অভিযোগকারীরা রফিক, তোফায়েল, মুমিন, হাবিব, কাজী মামনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারও কারও নামে ঢাকা, কুমিল্লা ও বুড়িচংয়ে ফ্ল্যাট, প্লট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

মুমিনের বিরুদ্ধে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ লাভে অনিয়ম এবং অল্প সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার নামে ১১ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, এ ঘটনায় নিয়োগ-সংক্রান্ত নথি ও আর্থিক লেনদেন তদন্ত করা প্রয়োজন।

কাজী মামনের বিরুদ্ধেও একাধিক ভবনের ফ্ল্যাটের মালিকানা, প্রভাব খাটানো এবং বিভিন্ন কাজে তদবির করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটি প্রতিষ্ঠিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনার আগে সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের সময়, অর্থের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয় এবং নথিভুক্ত আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীরা কনটেক ডেভেলপার, ওয়নল্যান্ড ডেভেলপার, কনফিডেন্স গ্রুপ, রোজ গার্ডেন অ্যাসোসিয়েশন, মিশন ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট, বুড়িচং পলিটেকনিক, বুড়িচং আধুনিক হাসপাতাল, বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, রওশন-সিরাজ ফাউন্ডেশন, মিশন শ্যামলিমা, মিশন লাইট হাউজ, মিশন গার্ডেন ঢাকা এবং কনফিডেন্স সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের নাম উল্লেখ করেছেন।

তাঁদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটি সম্পদ অর্জন, ভবন নির্মাণ বা প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত মালিকানা, নিবন্ধন, পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম অভিযোগে আসার ভিত্তিতে সেটিকে অবৈধ বা অপরাধে জড়িত বলা যায় না।

তদন্তে যেসব নথি গুরুত্বপূর্ণ

অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি বিষয়ে নথিভিত্তিক অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

প্রথমত, নজরুল ইসলামের পদোন্নতি-সংক্রান্ত সব আদেশ, প্রজ্ঞাপন, জ্যেষ্ঠতা তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ যাচাই করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, তুষারধারার আলোচিত ভবনগুলোর জমির দলিল, অনুমোদিত নকশা, নির্মাণ অনুমোদন, পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং অকুপেন্সি সনদের অবস্থা পরীক্ষা করতে হবে।

তৃতীয়ত, ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ারের ২০২২ সালের অভিযান এবং মিশন সাগরিকা এপার্টমেন্ট নিয়ে রাজউক ও দুদকে করা অভিযোগের নথি পর্যালোচনা করা জরুরি। চতুর্থত, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি-পদায়ন ও সরকারি আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।

পঞ্চমত, অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের উৎস নিয়ে নির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আয়কর নথি, জমির দলিল, কোম্পানির মালিকানা এবং আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা যেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রত্যাশা

সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পদোন্নতির প্রশাসনিক ভিত্তি, আলোচিত ভবনগুলোর অনুমোদন ও সনদের অবস্থা এবং নিয়োগ-পদায়নসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, রাজউক, দুদক ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।

একই সঙ্গে নজরুল ইসলাম এবং অভিযোগে নাম আসা অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করা জরুরি। তাঁদের ব্যাখ্যা, প্রাসঙ্গিক নথি কিংবা অভিযোগের প্রতিবাদ থাকলে সেগুলোও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এ প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকের কাছে অভিযোগকারীদের প্রত্যাশা, তুষারধারার আলোচিত ভবনগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে অনুমোদিত নকশা ও বাস্তব নির্মাণের মধ্যে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নিয়োগ, পদোন্নতি, সরকারি আবাসন বরাদ্দ এবং সম্পদ অর্জনের অভিযোগগুলোও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার অনুযায়ী পরীক্ষা করা হবে।

একজন সরকারি কর্মকর্তার পদোন্নতি কিংবা সম্পদের মালিকানা নিজে থেকেই অনিয়মের প্রমাণ নয়। তবে সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগে অনিয়ম, অবৈধ সম্পদ অর্জন কিংবা নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কোনো অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হলে তা স্পষ্টভাবে জানানোই হবে জবাবদিহি নিশ্চিত করার কার্যকর পথ। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং সরকারি নথি ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র কতটা স্পষ্ট হয়।




ভেষজ গ্রামের আড়ালে নাটোরে ভেজাল ওষুধের ভয়ঙ্কর বাণিজ্য

নাটোরের ভেষজ ওষুধি গ্রামের আড়ালে গড়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর সব প্রতারক চক্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে রমরমা বাণিজ্য করছে অনুমোদনহীন ভেজাল যৌন উত্তেজক, হার্ট, ডায়াবেটিকস, অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ। হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। একই সঙ্গে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের অভিযানেও থামছে না চক্রগুলোর দৌরাত্ম।

নানা জাতের ওষুধি গাছ চাষ হওয়ায় নাটোরের লক্ষ্মীপুর, খোলাবাড়িয়াসহ অন্তত ৩০টি গ্রাম পরিচিতি পেয়েছে ওষুধি গ্রাম হিসেবে। বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হওয়ায় এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে অন্তত ২০ হাজার মানুষ। এতে বছরে উৎপাদন হচ্ছে ২০ থেকে ২২ কোটি টাকার পণ্য।

তবে ওষুধি গাছ চাষের আড়ালে গ্রামগুলোতে গড়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর সব প্রতারক চক্র। ওষুধি গ্রামগুলোর সুনাম কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভেজাল যৌন উত্তেজক, হার্ট, ডায়াবেটিকস, অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে এসব ওষুধ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্রটি। অপরদিকে, সরল বিশ্বাসে এসব ওষুধ খেয়ে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘আমরা এ ভেজালের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেকবার হুমকির মুখে পড়েছি।’মানুষ সুস্থ হবার জন্য ওষুধ গ্রহণ করে থাকে। তবে মানুষ এ ওষুধ খেয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

দেশের পাশাপাশি বিশ্বেও পরিচিত নাটোরের ওষুধি গ্রাম। এই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে ওষুধি গ্রামে বাড়ি ভাড়া নিয়ে ১৫ থেকে ২০টি প্রতারক চক্র ভেজাল ওষুধ তৈরি ও বিপণন করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করছে। এ নিয়ে স্থানীয় ভেষজ চাষিরা প্রতিবাদ করলে তাদেরকে দেয়া হচ্ছে হুমকি। ওষুধি গ্রামের সুনাম রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।ৎ

স্থানীয় ভেষজ চাষিরা জানান, যারা এ গ্রামের নাম নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে যেন সরকার থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

নাটোর লক্ষ্মীপুর-খোলাবাড়িয়া ভেষজ চাষি সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘তারা যে ওষুধ বানাচ্ছে সেই ওষুধ গরা নিজেরাই খেতো না। তারা প্রশাসনের নাকের কাছে দিয়ে ঘুরছে। তারা ক্ষতি করছে।’

সম্প্রতি ওষুধি গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভেজাল ও অনুমোদনহীন বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও সরঞ্জামসহ তিনজনকে আটক করে জেলা পুলিশ। এই ধরনের অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান পুলিশ সুপার।

নাটোর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, ‘অনুমোদনহীন নানা রকমের ওষুধ তৈরি করা হয়। এগুলো অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন মানুষদের কাছে বিক্রি করে। আমরা তাদেরও ধীরে ধীরে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।’

ওষুধি গ্রামকে ঘিরে অন্তত ৬২টি ভেষজ দোকান রয়েছে লক্ষ্মীপুর-খোলাবাড়িয়া বাজারে। এসব দোকানে বছরে কয়েক কোটি টাকার ওষুধ বিক্রি করা অসাধু চক্রকে ঠেকানো না গেলে, মানুষ প্রতারণার পাশাপাশি আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত ভাবে চরম ক্ষতির শিকার হবেন। সেজন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভেষজ চাষিরা।




পেশাজীবী দলের ঢাকা উত্তর কমিটির নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের মতবিনিময়

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল ঢাকা মহানগর উত্তর-এর নবগঠিত কমিটির নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর মতিঝিলে এনআরবিসি টাওয়ারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরিফুল ইসলাম জিয়া ও মুখপাত্র এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাফিজ মাহবুবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির পক্ষে সভাপতি ড. মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল আওয়াল বিপ্লবসহ অন্য নেতারা অংশ নেন।

সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নবগঠিত উত্তর কমিটির নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা, পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে এলাকাভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সকল সদস্যদের এলাকাভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশার প্রজননস্থল নির্মূলের উদ্যোগ এবং নাগরিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এ ধরনের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

সভায় নবগঠিত কমিটির নেতারা সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাতের অভিযোগ, আই.কে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

এস এম বদরুল আলম : দেশে আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ওষুধের গুণগত মান, উৎপাদনপ্রক্রিয়া এবং বাজারজাতকরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আই.কে আয়ুর্বেদিক ঔষধালয় লিমিটেড ও আই.কে ল্যাবরেটরীজ (ইউনানি) নামের একই মালিকের  দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান দুটির কয়েকটি পণ্যের উপাদান, কার্যকারিতা ও মূল্য নির্ধারণ নিয়েও আপত্তি তুলেছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত ফর্মুলারি ও প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করে ওষুধ উৎপাদন করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান দুটির উৎপাদিত পণ্যের নমুনা পরীক্ষা, অনুমোদিত উপাদানের সঙ্গে প্রকৃত উপাদানের সামঞ্জস্য যাচাই এবং বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

উৎপাদন লাইসেন্স ও পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন: প্রাপ্ত অভিযোগে বলা হয়েছে, আই.কে আয়ুর্বেদিক ঔষধালয় লিমিটেডের উৎপাদন লাইসেন্স নম্বর আয়ূ-০৮৬ এবং আই.কে ল্যাবরেটরীজ (ইউনানি)-এর উৎপাদন লাইসেন্স নম্বর ২৯৮। অভিযোগে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ঢাকা, বাংলাদেশ উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠান দুটি বাংলাদেশ জাতীয় আয়ুর্বেদিক ফর্মুলারি ও বাংলাদেশ জাতীয় ইউনানি ফর্মুলারিসহ প্রযোজ্য মানদণ্ড অনুসরণ করে পণ্য উৎপাদন করছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। তাঁদের অভিযোগ, কিছু পণ্যে ব্যবহৃত রং, ফ্লেভার ও রাসায়নিক উপাদানের ধরন এবং পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পণ্যের অনুমোদিত ফর্মুলা, উৎপাদনসংক্রান্ত নথি, কাঁচামালের উৎস, মান নিয়ন্ত্রণের প্রতিবেদন এবং পরীক্ষাগার পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অনুমোদিত উপাদানের বাইরে কোনো উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নির্ধারণেও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা জরুরি।

যেসব পণ্যের বিষয়ে অভিযোগ: অভিযোগে আই.কে আয়ুর্বেদিক ঔষধালয় লিমিটেডের কয়েকটি পণ্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কামিনী বিদ্রাবণ রস (হালুয়া), শুক্রসুধা (হালুয়া), বৃহৎ চন্দ্রোদয় মকরধ্বজ ট্যাবলেট, আই.কে আমলকি রসায়ন, আই.কে দশমূলারিষ্ট, আই.কে রোজ ভিট, শরবত তুলসী, আই.কে গোল্ড ট্যাবলেট এবং আই.কে অর্জুনারিষ্ট সিরাপ।

অন্যদিকে আই.কে ল্যাবরেটরীজ (ইউনানি)-এর যেসব পণ্যের নাম অভিযোগে এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আরক ডাইকোপ্লেক্স, ফওলাদ সিয়াল, আরক ডাইকোপ্লেক্স গোল্ড, নাইট্রিন (জিরিয়ানি), কার্ডিফেক্স সিরাপ, আই.কে ভিট সিরাপ, আই.কে জিনসিন বা শরবত জিনসিন এবং বাসক সিরাপ।

অভিযোগকারীরা এসব পণ্যের গুণগত মান, উপাদান, কার্যকারিতা ও মূল্য নির্ধারণের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার দাবি করেন। পণ্যগুলোর প্রকৃত মান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে নিরপেক্ষ পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

পণ্যের কার্যকারিতা ও মূল্য নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক: অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহৎ চন্দ্রোদয় মকরধ্বজ ট্যাবলেটের প্রতি প্যাকেটে ৩০টি ট্যাবলেটের মূল্য ৯০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। পণ্যটিকে বীর্যস্থাপক ও বলবীর্যবর্ধক হিসেবে উপস্থাপন করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডামিয়াগরা নামের একটি পণ্য পুরুষের যৌন সমস্যা, লিঙ্গোত্থানে অক্ষমতা, যৌন আকাঙ্ক্ষার ঘাটতি, দ্রুত বীর্যপাত, অবসাদ ও আত্মবিশ্বাসের সমস্যায় কার্যকর বলে প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে পণ্যটির মূল্য ৭০০ টাকা।

একইভাবে ডিবেডেক্স নামের একটি পণ্যকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ইনসুলিন নিঃসরণে সহায়তা, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমানো এবং অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষের সুরক্ষা ও পুনরুজ্জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রচার করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। পণ্যটির উল্লেখিত মূল্য ৮১০ টাকা।

এসব পণ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, প্রচারিত কার্যকারিতার পক্ষে কী ধরনের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত কি না এবং পণ্যের উপাদান ও মান নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে কি না।

বিশেষ করে ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে কোনো পণ্যের কার্যকারিতা সম্পর্কে যাচাইহীন দাবি রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা ব্যাহত করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট পণ্যের অনুমোদিত ব্যবহার, লেবেলে উল্লেখিত দাবি এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ:প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, অধিদপ্তরের নথি ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট তদারকির দায়িত্বে থাকা কিছু ব্যক্তির সহযোগিতা ছাড়া অনিয়ম চলতে পারে না।

অভিযোগে একজন পরিচালক, একজন উপপরিচালক, একজন সহকারী পরিচালক, একজন ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক, নথিসংশ্লিষ্ট একজন উচ্চমান সহকারী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

অনলাইন বিক্রয় ও প্রচার নিয়েও যাচাই প্রয়োজন: অভিযোগে খালিদ বাজার ডটকম নামে একটি অনলাইন পোর্টালের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সেখানে কিছু পণ্য বেশি দামে বিক্রি এবং মানসংক্রান্ত প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও পণ্যের কার্যকারিতা নিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পণ্যের বিবরণ, মূল্য, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, অনুমোদনের তথ্য, বিক্রয় রসিদ এবং ক্রেতাদের অভিযোগ যাচাই করা প্রয়োজন। ওয়েবসাইটটির পরিচালনা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক কী, সেটিও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা দরকার।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কী করা প্রয়োজন: আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ওষুধসহ সব ধরনের ওষুধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণ, সঠিক লেবেলিং, অনুমোদিত উপাদান ব্যবহার এবং বাজারজাতকরণসংক্রান্ত নিয়ম অনুসরণ করা প্রয়োজন। কোনো পণ্যের উপাদান বা কার্যকারিতা নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করাই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটির উৎপাদনসংক্রান্ত নথি ও লাইসেন্সের শর্ত যাচাই, অভিযোগে উল্লিখিত পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পরীক্ষা, অনুমোদিত ফর্মুলার সঙ্গে প্রকৃত উপাদানের তুলনা এবং অনলাইন প্রচারে ব্যবহৃত চিকিৎসাসংক্রান্ত দাবির বৈধতা যাচাই।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তদন্তের ফলাফল যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।