বেইজিং এগ্রিমেন্টে বাংলাদেশের সমর্থন, কারিগরি শিক্ষা উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সমঝোতা

বৈশ্বিক দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে “ফ্রেমওয়ার্ক অব ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ডস (বেইজিং এগ্রিমেন্ট)” আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ তিয়ানজিন মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে ২০২৬ সালের ‘বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলন’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এই বৈশ্বিক কাঠামোর ঘোষণা দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পক্ষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই ঐতিহাসিক বৈশ্বিক কাঠামোকে সমর্থনকারী দেশসমূহের অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

এই সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। বেইজিং এগ্রিমেন্টের পাশাপাশি সম্মেলনে “চীনে বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক শ্বেতপত্র”, “লুবান ওয়ার্কশপের জাতীয় মানদণ্ড” এবং আন্তর্জাতিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET) সহযোগিতা এগিয়ে নিতে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ উন্মোচন করা হয়।

বেইজিং এগ্রিমেন্টে বাংলাদেশের সমর্থন  কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা-প্রশিক্ষণের মানদণ্ড গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এই বৈশ্বিক ঘোষণার পাশাপাশি সম্মেলনের যৌথ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী ওয়াং গুয়াংইয়ান এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

এসময় শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই সমঝোতা স্মারক এবং বেইজিং এগ্রিমেন্ট একত্রে বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়নে গতি সঞ্চার করবে। তিনি বলেন, “বৈশ্বিক কারিগরি শিক্ষার মানদণ্ড এবং বাস্তবধর্মী দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা তরুণ বাংলাদেশিদের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।”

এই সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশ-চীন দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে, মানবসম্পদ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় দুই দেশ বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করবে, যেমন: চীনের কারিগরি শিক্ষাক্রম, শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশের আটটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন করা; যৌথ ২+২ এবং ৩+১ মডেলের কারিগরি একাডেমিক কর্মসূচি চালু করা; বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রতিষ্ঠা করা; চীনের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা; যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে একটি নতুন কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা; বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করা প্রভৃতি। চীনের গুয়াংডং, জিয়াংসি এবং অন্যান্য প্রদেশের খ্যাতনামা কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এই দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার মূল বাস্তবায়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।




কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষ, সাত দিনের আল্টিমেটাম

দেশে চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবা ও হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরিস্থিতি উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় বেঁধে দেন তিনি।

শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী আকস্মিকভাবে এই হাসপাতালে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রোগীদের কাছে যান এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের চিকিৎসার খোঁজ নেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষ (অপারেশন থিয়েটার) সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরিস্থিতি দ্রুত সংশোধনের কড়া নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আগামী সাত দিনের মধ্যে সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ উন্নত করার আল্টিমেটাম দেন।




ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে দেশের সব নাগরিককে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লা এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার সকালে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবার মান এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে এদিন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী। দিনের শুরুতে তিনি রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসাসেবার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এছাড়া হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।

হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালের পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় বেঁধে দেন তিনি।

পরে প্রধানমন্ত্রী রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় ডেঙ্গুর প্রকোপ, প্রতিরোধের উপায় এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতি বছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হন এবং অনেকের মৃত্যু হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রতিরোধ। আর প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে হলে নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করতে হলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।

তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ জন্য শিক্ষার্থীদের নিজেদের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা একটি বিশাল শহর। এখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে শুধু সিটি করপোরেশন কিংবা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিককে নিজের দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে।

যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাকে সচেতন করতে হবে। নাগরিকেরা সবাই মিলে উদ্যোগ নিলে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।




চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগান থেকে ৯২ ককটেল ও গান পাউডার উদ্ধার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৯২টি ককটেল, ১১ কেজি ৮০০ গ্রাম গানপাউডার, ২টি হাসুয়া ও বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের পূর্ব টিকরা গ্রামের একটি আমবাগান হতে এসব উদ্ধার করা হয়।

আজ শুক্রবার দুপুর ১২টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় এসআরবি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসআরবি’র সিপিসি-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এর একটি দল নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-৫, রাজশাহীর বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিটের সহযোগিতায় পূর্ব টিকরা গ্রামের একটি আম বাগান হতে ৯২টি ককটেল, ১১ কেজি ৮০০ গ্রাম সাদা রংয়ের গান পাউডার, ২টি হাসুয়া এবং বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামাদি পরিত্যাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এসময় ঘটনাস্থলের আশপাশে সন্দেহভাজন কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক দ্রব্যগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দুষ্কৃতিকারীরা ওই স্থানে সংরক্ষণ করে রেখেছিল।

উদ্ধার আলামতসমূহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।




সৌদির আকাশসীমা ও বিমানবন্দরগুলো সম্পূর্ণ অনিরাপদ, হুতির হুঁশিয়ারি

সৌদি আরবের আকাশসীমা ও বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থা, বিমানবন্দর কর্মী এবং সাধারণ যাত্রীদের উদ্দেশে ফের কঠোর সতর্কতা জারি করেছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি। এক বিশেষ সামরিক বিবৃতিতে ইয়েমেনি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি ঘোষণা করেছেন যে, মক্কা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যতীত সৌদি আরবের সমগ্র আকাশসীমা ও বিমানবন্দরসমূহ সামরিক অভিযান অঞ্চল হিসেবে গণ্য হবে এবং যেকোনো সময় এগুলো সম্ভাব্য আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, সৌদির বিমানবন্দর ও আকাশসীমা এখন থেকে ইয়েমেনের বিদ্রোহী বাহিনীর সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত। তবে পবিত্র মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দরসমূহকে এই সতর্কবার্তার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি সৌদি আরবের অভ্যন্তরে ইয়েমেনি বিদ্রোহী বাহিনীর ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর এই নতুন হুঁশিয়ারি বার্তা প্রদান করা হলো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক এই সামরিক অভিযানে রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিসহ সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি কৌশলগত স্থাপনায় সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক রুটের বিমানগুলোকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারে চরম সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: মেহের নিউজ




শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটি শুরু

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ১০ দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ছুটির তালিকা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই ছুটি কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। তবে কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটির সময়সূচিতে রয়েছে ভিন্নতা।

২০২৬ সালের সরকারি, বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর আগে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর এবং পরে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় মোট ছুটির পরিধি বাড়ছে। এর সঙ্গে ২৫ অক্টোবর রবিবার লক্ষ্মীপূজার ছুটি থাকায় ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১০ দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে ছুটির কার্যকর সময়সূচি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে কলেজের ছুটির সূচিতে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ শাখার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত কলেজে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, প্রতারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ছুটি রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূচি অনুযায়ী, ছুটির সময়ের মধ্যে থাকা সাপ্তাহিক ছুটি বাদ দিয়ে হিসাব করা হয়েছে নির্ধারিত ছুটির দিন।

কলেজের ছুটির আগে ও পরের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘ বিরতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। ১৬ ও ১৭ অক্টোবর এবং ৩০ ও ৩১ অক্টোবরের শুক্র ও শনিবারের ছুটি মিলিয়ে মোট ১৬ দিনের ছুটির সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, সরকারি-বেসরকারি, এমপিওভুক্ত ও ইবতেদায়ি মাদরাসায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ছুটি পাবেন।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটিও বাড়ানো হয়েছে। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মহানবমী ও ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী উপলক্ষে ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করায় সরকারি চাকরিজীবীদের টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি অন্তর্ভুক্ত।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছুটির ক্ষেত্রে অভিন্ন কোনো সময়সূচি নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি নির্ধারণ করে। ফলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ছুটি থাকলেও অন্য প্রতিষ্ঠানে ছুটির সময়কাল ভিন্ন হতে পারে।




শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু আজ

মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়। গত কয়েক দিন রাজধানীসহ সারা দেশের মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা। বেশির ভাগ মণ্ডপে প্রস্তুতির কাজ শেষ হয়েছে। কোথাও চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা, কোথাও চলছে আলোকসজ্জা ও দর্শনার্থীদের চলাচলের ব্যবস্থা তৈরির কাজ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আজ মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সকালে ষষ্ঠীপূজা এবং সন্ধ্যায় দেবী দুর্গার বোধন অনুষ্ঠিত হবে। বোধন অর্থ জাগরণ বা চৈতন্যপ্রাপ্তি।

পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৩৫৫টি। সেই হিসাবে এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৪৯৬টি। ঢাকা মহানগরে এবার ২৫৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৬১টি।

পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবী মোতায়েন, সম্ভব হলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম রাখা এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো।




গভীর রাতে গুলশানের দুই ক্লাবে মাদকবিরোধী অভিযান

রাজধানীর গুলশানে দুটি অভিজাত ক্লাবে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে গুলশানের মিডিয়া ক্লাব ও জার্মান ক্লাবে এ অভিযান শুরু হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাত ২টার দিকে জার্মান ক্লাবে অভিযান শুরু করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

এর আগে, রাত দেড়টার দিকে গুলশান-১ এর জব্বার টাওয়ারে অবস্থিত মিডিয়া ক্লাবেও অভিযান চালানো হয় বলে ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে।

বিগত কয়েকদিন ধরেই গভীর রাতে বিভিন্ন ক্লাব ও বারে অভিযান চালাচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ ও বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষকে আটক করা হয়।




নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে।

গত ১৩ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

নবগঠিত কমিটির সদস্যরা হলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, বিমানবাহিনী প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক। কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী সভা করতে পারবে। প্রয়োজনে কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করারও সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে তা আরও উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরি করবে কমিটি। নির্ধারিত দুই মাসের মধ্যে এসব সুপারিশ সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে হবে।




সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

সাবেক উপমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, পাঁচবারের সাবেক এমপি, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মরহুম আব্দুল হাই ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থাশীল ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন পরীক্ষিত সৈনিক। বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং জনগণের সঙ্গে দলের সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে মরহুম আব্দুল হাইয়ের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিএনপির রাজনীতিতে আব্দুল হাইয়ের অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে দেশে স্বৈরাচার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে তিনি ছিলেন রাজপথের অন্যতম বিশ্বস্ত সৈনিক।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার দৃঢ় অবস্থান ও রাজনৈতিক অবদান বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

তারেক রহমান বলেন, আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে বিএনপি একজন অভিজ্ঞ, ত্যাগী ও আদর্শনিষ্ঠ নেতাকে হারাল। তার মৃত্যু দেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

বুধবার রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল হাই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।