সংসদ ভবন এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সুপারিশ

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের বিষয়ে মতামত প্রদান সংক্রান্ত কমিটির প্রথম সভা আজ বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় কমিটির সদস্য ও বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, আশরাফ উদ্দিন এমপি, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এমপি, সাইফুল আলম এমপি এবং মারদিয়া মমতাজ এমপি অংশগ্রহণ করেন।

সভায় জাতীয় সংসদ ভবন ও সংসদ এলাকায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা নিরূপণ, বিদ্যুতের ব্যবহার হ্রাস ও সিস্টেম লস কমানো, সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য উপযুক্ত ফাঁকা জায়গার সম্ভাব্যতা যাচাই এবং সোলার প্যানেল স্থাপনের বিষয়ে মতামত প্রদানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় সোলার প্যানেল স্থাপনের সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করে একটি মানচিত্র প্রণয়ন এবং প্রস্তাবিত স্থানগুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনার ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) অ্যানিমেশন তৈরি করে আগামী সভায় কমিটির কাছে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জাতীয় সংসদ ভবনের মূল স্থাপত্যশৈলী ও লুইস আই কানের নকশার যাতে কোনো ধরনের ব্যত্যয় না ঘটে এবং পরিশেরে ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের বিষয়গুলো পুঙ্খানুপঙ্খভাবে পরীক্ষা করে তা নিশ্চিত করার ওপর সভায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অথবা অন্য কোনো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সোলার প্যানেল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া সোলার প্যানেল স্থাপনের সার্বিক সম্ভাব্যতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যাচাই-বাছাই এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রণয়নের জন্য কমিটির সদস্য আশরাফ উদ্দিন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও মারদিয়া মমতাজের সমন্বয়ে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়। উপ-কমিটির কার্যক্রমে সংসদ সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব (এএস), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) প্রতিনিধি, স্থাপত্য অধিদপ্তরের নির্বাহী স্থপতি এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক ও নির্বাহী প্রকৌশলী সম্পৃক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।

সভায় অধিবেশনকালীন সময় ব্যতীত অন্যান্য সময়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখলে সম্ভাব্য কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উপ-কমিটির কাছে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ইতোমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন সম্পন্ন করে এমপি হোস্টেলের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে, সে বিষয়ে এ কমিটি কোনো দায়ভার গ্রহণ করবে না মর্মে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ডিপিডিসির প্রতিনিধি, গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের ঘোষণা বাংলাদেশের

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। দেশটিতে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া।

সরকারের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটির শ্রমবাজারে আরও উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী দেশটিতে কাজ করছেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্ধ ও সীমিত হয়ে যাওয়া বৈদেশিক শ্রমবাজার পুনরায় চালু ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে এজেন্সির সংখ্যা ৩৩৮টি।

মন্ত্রণালয় জানায়, তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেদের উদ্যোগে মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করতে পারবে, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ করতে পারবে এবং বাংলাদেশ থেকে কর্মী নির্বাচন করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে মালয়েশিয়া। সরকারের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটির শ্রমবাজারে আরও উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন ও তালিকাভুক্ত করার বিধান রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এজেন্সিগুলোর যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ার সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেন এবং সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন।

মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়ার অনুমোদিত এজেন্সিগুলো চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ ও কর্মী নির্বাচন করবে। এরপর কলিং ভিসা, ই-ভিসাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বোয়েসেল ও তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি সহায়তা করবে। মালয়েশিয়ায় নিয়োগের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

প্রতিটি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি নিজস্ব লাইসেন্সের অধীনে কর্মীদের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে বোয়েসেল ও ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। মন্ত্রণালয় বলেছে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি কর্মীদের অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা থেকে সুরক্ষা দিতে হবে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে দেশের আইন মেনে এবং কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করবে দুই দেশ

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এখনো চলমান। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, এ তালিকা চূড়ান্ত করার দায়িত্ব বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া উভয় দেশের।

মন্ত্রণালয় জানায়, শ্রমবাজার দ্রুত চালুর স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিকেল সেন্টার পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দলের সরেজমিন পরিদর্শনের পর নতুন তালিকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে।

এ প্রক্রিয়ায় সময় প্রয়োজন হওয়ায় মালয়েশিয়া সরকারের অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বিতর্কিত ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সেন্টারগুলোর মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে মেডিকেল সেন্টার যাচাই-বাছাই করবে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিকেল সেন্টারগুলো বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ নিয়মিত যাচাই করবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য করা হবে। পর্যায়ক্রমে নতুন মেডিকেল সেন্টার তালিকায় যুক্ত করা হবে এবং সংশোধিত তালিকা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন এবং অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন। কোনো নির্দিষ্ট মেডিকেল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগকে দুই দেশের শ্রম সহযোগিতার নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে সরকার, রিক্রুটিং এজেন্সি ও কর্মীদের সম্মিলিতভাবে এ সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।




সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত জরুরি : পার্বত্যমন্ত্রী

সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পসমূহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট ইন দ্য চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস সেক্টর প্রজেক্ট’র ষষ্ঠ প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পসমূহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান সমস্যা সুপেয় পানির সংকট। পাহাড়ি এলাকার জনগণের জন্য সুপেয় পানি সরবরাহে কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ ও তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যমণ্ডিত পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান পার্বত্যমন্ত্রী।




বাংলাদেশ-চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বারোপ

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে দুই দেশ। দুই দেশের মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন উভয়পক্ষের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) উদ্যোগে চীনের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ঢাকায় চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউইন।

বৃহস্পতিবার ঢাকার চীনা দূতাবাস এ তথ্য জানায়।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, গত ৭৭ বছরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে চীনের অর্জন উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য মূল্যবান শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। চীনের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার এবং বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে বাংলাদেশের দৃঢ় প্রত্যাশা রয়েছে।

ড. লিউ ইউইন বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের কৌশলগত নির্দেশনায় চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। ‘নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়’ গঠনের যৌথ উদ্যোগ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে গতি সঞ্চার করেছে।

তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে। বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা গভীর করার পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।




বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের পাইলট-ক্রুদের ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা মানবে এয়ার ফ্রান্স

ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই—এমন দেশের নাগরিকদের পাইলট ও কেবিন ক্রু হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটি। দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরাও এই বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছেন। ইসরায়েলি আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে এসব নিয়ম মেনে চলার কথা জানিয়েছে ফরাসি বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও ফরাসি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও আলজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ওপর এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা ৩১টি বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকপত্রে ২৯টি দেশের তালিকা রয়েছে।

জাতীয়তার ভিত্তিতে বিমানকর্মীদের দায়িত্ব পালনে এমন বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলে ফ্লাইট পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো কীভাবে এই নিয়ম কার্যকর করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আল জাজিরাকে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, অন্যান্য বিমান সংস্থার মতো তাদেরও যেসব দেশে সেবা পরিচালিত হয়, সেসব দেশের কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশসংক্রান্ত নিয়ম গ্রাহক ও কর্মীদের ক্ষেত্রে মেনে চলতে হয়।

মিডিয়াপার্টের পর্যালোচনা করা এয়ার ফ্রান্সের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের উদ্দেশে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকপত্রে বলা হয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে বিমান সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীরা উভয়েই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে পারেন।

যেসব দেশের নাগরিকদের ওপর বিধিনিষেধ
ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম এন১২-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর দেশটির পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোকে নতুন নির্দেশনার কথা জানায়। এতে বলা হয়, ইসরায়েলি আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনাকারী পাইলট ও কেবিন ক্রুদের এমন কোনো দেশের নাগরিক হওয়া চলবে না, যাদের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

প্রতিবেদনগুলোতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। কোথাও ৩১টি দেশের কথা বলা হয়েছে, আবার ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি অভ্যন্তরীণ শিডিউলিং স্মারকপত্রে ২৯টি দেশের তালিকা রয়েছে।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার পাশাপাশি আফগানিস্তান, ইরাক, লেবানন, কাতার, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকেরাও এই বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই নির্দেশনার কারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইটের দায়িত্ব বণ্টন নতুন করে বিবেচনা করতে হতে পারে।

ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটে ঘটনার পর নির্দেশনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এর এক দিন পরই নতুন বিধিনিষেধের নির্দেশনা জারি করে ইসরায়েল।

আল জাজিরা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওই ফ্লাইটের একজন ওমানি কো-পাইলটের বিরুদ্ধে ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ এবং বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ঘটনায় ভারতীয় ক্যাপ্টেন আহত হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন।

তবে ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা এবং পরদিন ইসরায়েলের নতুন নির্দেশনা জারির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা প্রকাশিত তথ্য ও প্রতিবেদন থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

আরও যেসব বিমান সংস্থা নিয়ম মানছে
এয়ার ফ্রান্সের পাশাপাশি চেক প্রজাতন্ত্রের বৃহত্তম বিমান সংস্থা স্মার্টউইংসও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা প্রযোজ্য সব নিয়ম মেনে চলবে।

স্মার্টউইংসের মুখপাত্র ভ্লাদিমিরা দুফকোভা আল জাজিরাকে বলেন, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দেশনাটি পেয়েছেন তাঁরা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া সব নিয়ম পর্যবেক্ষণ ও অনুসরণ করছেন।

তবে স্মার্টউইংসের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নির্দেশনার কারণে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা, ক্রু ব্যবস্থাপনা কিংবা ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল থেকে আসা ফ্লাইটে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়েনি।

ইউনাইটেড এয়ারলাইনসও তাদের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের জাতীয়তাভিত্তিক এই বিধিনিষেধ সম্পর্কে অবহিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মার্কিন বিমান সংস্থাটি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি। তারা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সরাসরি নির্দেশনা পেয়েছে কি না কিংবা এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা-ও নিশ্চিত করেনি।

নতুন এই বিধিনিষেধের ফলে ইসরায়েলে ফ্লাইট পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জাতীয়তা বিবেচনায় রেখে দায়িত্ব বণ্টন করতে হতে পারে। তবে বিভিন্ন বিমান সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্দেশনাটির বাস্তব প্রভাব একেক প্রতিষ্ঠানে একেক রকম হতে পারে।

সূত্র : আল জাজিরা ও মিডিয়াপার্ট।




সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ফের হামলার হুমকি হুতিদের

সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে আরও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। বুধবার এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি এসব স্থাপনাকে তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু বলে দাবি করেছে। এর আগে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলার ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই হামলায় ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানের জবাব দিতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে হুতিরা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে হুতিদের হামলার ঘটনা বেড়েছে। এর মধ্যে গত শনিবার রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হন।

মঙ্গলবার রাতে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে আরামকোর সদর দপ্তরে হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে অবগত তিন ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ভবনটির কয়েকটি তলায় আগুন লাগে। তবে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দাবি, সেখানে সীমিত পরিসরে আগুনের ঘটনা ঘটেছে।

সূত্রগুলোর মধ্যে দুজন জানিয়েছেন, হামলার পরও আরামকোর কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। তবে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি কোম্পানিটি।

ক্রমবর্ধমান সংঘাত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক পরিকল্পনার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করা এবং সৌদি আরবকে নতুনভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

রিয়াদ ও ধাহরানকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি
হুতিরা জানিয়েছে, ইয়েমেনের যুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীকে সৌদি আরবের সমর্থন দেওয়ার জবাবে তারা হামলা চালাচ্ছে। গত মাসে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর সৌদি আরবের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

বুধবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একই দিন সৌদি রাজধানীতে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রিয়াদে সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি সম্পর্কে সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে বিস্ফোরণের শব্দের প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষও কোনো মন্তব্য করেনি।

বিস্ফোরণের কারণ জানতে সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

বুধবারের বিবৃতিতে হুতিরা দাবি করেছে, ধাহরানে আরামকোর স্থাপনা, রিয়াদের বিমানবন্দর এবং সৌদি রাজধানীতে অবস্থিত আরামকোর একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন কোম্পানি, বেসামরিক নাগরিক এবং তেল স্থাপনাগুলোর কর্মীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

ধাহরানে আরামকোর সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে কোম্পানিটির গুরুত্বপূর্ণ পরিচালন কেন্দ্র রয়েছে। সেখান থেকে স্থল ও সমুদ্রের তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন, শোধনাগার এবং তেল রপ্তানির টার্মিনালসহ বিস্তৃত অবকাঠামো তদারক করা হয়।

গত এক সপ্তাহে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চারবার হামলার মুখে পড়েছে। এর মধ্যে গত শনিবারের হামলাটি ছিল গত এক দশকে সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। হামলার পর বিমানবন্দরটি আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া সৌদি আরবগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল করেছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা।

ইয়েমেনের যুদ্ধে নতুন করে সংঘাত
ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব। ওই সময় হুতিরা দেশটির রাজধানী সানা দখল করে নিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক অভিযান শুরু করে রিয়াদ।

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। এর ফলে চলতি বছর পর্যন্ত ভঙ্গুর শান্তি বজায় ছিল।

গত মাসে হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূল ধরে দ্রুত অগ্রসর হয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে সৌদি আরব আবারও সামরিক অভিযান শুরু করে।

বুধবার আন্তর্জাতিক রেডক্রস জানিয়েছে, ইয়েমেনের বিভিন্ন রণাঙ্গনে লড়াই তীব্র হওয়ায় যুদ্ধাহত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে দেশটির হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে।

এদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে জানিয়েছে, হুতি যোদ্ধাদের অবরোধের কারণে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তাইজ শহরে জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা পৌঁছানো বন্ধ হয়ে গেছে। চলতি মাসের শুরুতে হুতিরা শহরটি ঘিরে ফেলে।

ডব্লিউএফপির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাইজে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছয় লাখের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছে না সংস্থাটি ও এর সহযোগীরা। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুই লাখের বেশি নারী ও শিশু রয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স।




নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার জন্য স্থাপিত ভ্রাম্যমাণ ল্যাব (মোবাইল ল্যাবরেটরি ভ্যান) পরিদর্শন করেছেন। তিনি আজ সকালে সচিবালয়ে নিজ দফতরে প্রবেশের আগে ভ্রাম্যমাণ ল্যাব বা পরীক্ষাগারটি পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নিচে রাখা ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারটির ভেতরে প্রবেশ করে খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া দেখেন তিনি। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ পরীক্ষাগারটির কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, দেশের ৬৪টি জেলায় ভেজালবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খাদ্য পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের আটটি মহানগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পৃথকভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ৭২টি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার ভ্যান সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে।

খাদ্যনিরাপত্তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থাও রয়েছে। ভ্যানের বাইরের দিকে স্থাপিত মনিটরে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক ভিডিও প্রচার করা হয়।

পরিদর্শনকালে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।




সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সকাল ১১টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, জাতীয় সংসদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মরহুমের সহযোদ্ধা ও অসংখ্য গুণগ্রাহী অংশ নেন।

জানাজার পূর্বে মরহুমের সংক্ষিপ্ত জীবন ও রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে বক্তব্য রাখা হয় এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এদিকে, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর বিকাল ৩টায় শ্যামপুর লাল মসজিদে জানাজা শেষে সালাহউদ্দিন আহমেদকে জুরাইন কবরস্থানে মরহুমের বাবার কবরে দাফন করা হবে।




টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১৮ ইউনিট

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় একটি ওষুধ কারখানার ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে টঙ্গী, উত্তরা ও কুর্মিটোলাসহ ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট। এছাড়া আগুন নেভাতে আরও কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের প্রধান বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার জানান, বুধবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে কারখানার ভবনের ৪ তলায় আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয় ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো। সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে তারা।

ফায়ার সার্ভিস আরও জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে কারখানার ক্যামিকেল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।




ইউরোপের বাজারে বাণিজ্যিক সুবিধা সম্প্রসারণে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এগিয়ে নেওয়া এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সুবিধা সম্প্রসারণে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চেয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

একই সঙ্গে কৃষি, পাটশিল্প, জ্বালানি, বন্দর ও পানি ব্যবস্থাপনায় ডাচ প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী স্যোয়ার্ড স্যোয়ার্ডসমার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের পক্ষ থেকেও কৃষি ও শিল্পপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন্দর অবকাঠামো এবং পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। দুই দেশের সম্পর্ককে প্রচলিত বাণিজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং টেকসই বিনিয়োগের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও সম্ভাবনাময় বাজারের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানো গেলে উভয় দেশই উপকৃত হবে।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার। এ বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ইইউর সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে কারিগরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং শুল্কবহির্ভূত বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নেদারল্যান্ডসের উন্নত বীজপ্রযুক্তি, গবেষণা ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে আলু ও অন্যান্য সবজির গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং নতুন বাজার সৃষ্টিতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি সিলেটসহ দেশের সম্ভাবনাময় অঞ্চলগুলোতে বিশেষায়িত সবজি চাষ সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

পাটশিল্পে সহযোগিতার প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের সামনে নতুন বাজার সৃষ্টি হচ্ছে। উন্নত পাটবীজ উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, যৌথ গবেষণাগার স্থাপন এবং বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে ডাচ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ও মিশ্র তন্তুর কাপড় উৎপাদনের মাধ্যমে পাটশিল্পে উচ্চমূল্য সংযোজনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী স্যোয়ার্ড স্যোয়ার্ডসমা বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন। কৃষিপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, শিল্পের আধুনিকায়ন, সামুদ্রিক পরিবহন ও পানি ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশের বিদ্যমান সার কারখানাগুলোর আধুনিকায়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ডাচ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান স্ট্যামিকার্বনের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও দুই মন্ত্রী আলোচনা করেন। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

বন্দর ব্যবস্থাপনা ও সামুদ্রিক পরিবহন খাতে লালদিয়া টার্মিনালসহ বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ডাচ প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি নদী ও খাল খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের গবেষণা সংস্থা ডেল্টারেসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়টিও উঠে আসে।

ডাচ বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব ও পেটেন্ট সুরক্ষা, কাস্টমস প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় দক্ষতা বৃদ্ধি, তরুণ ও নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেলসহ উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।