অর্থমন্ত্রী আমির খসরু নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ

নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত ঋণ কর্মসূচির বেশিরভাগ শর্তের সঙ্গেই একমত হয়েছে বাংলাদেশ।

সোমবার থাইল্যান্ডে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী বলন, ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাথে তো আমরা একটা ফ্রেমওয়ার্ক, পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টে তো যাচ্ছি, ওটা আন্ডার প্রসেস। এর মাধ্যমে আমরা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাথে আগামী দিনে কোঅপারেশনগুলো কী হবে, ওই পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের মধ্যে ওটা থাকবে। এবং ইন দ্য মিন টাইম ওয়ার্ল্ড ব্যাংক সাপোর্ট তো দিয়ে যাচ্ছে আমাদের, সমস্যা নাই। আই থিংক উই উইল হ্যাভ এ প্রোগ্রাম হুইচ উইল বি প্রিটি গুড।’

আইএমএফের সাথে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, নতুন কর্মসূচির আওতায় সংস্কার বাস্তবায়নে আইএমএফের সাথে সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। জনগণের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি ও এজেন্ডার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। যেখানে কিছুটা অমিল রয়েছে, তা পর্যায়ক্রমে (সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে) সমাধান করা হবে।

বিশ্ব অর্থনীতির নীতি-নির্ধারণী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অর্থমন্ত্রী ও উন্নয়ন সহযোগীসহ ১৯১ দেশের ১৫ হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি।




যশোরে বিমানবাহিনী একাডেমিতে কৃতী কর্মকর্তাদের ওসমানী স্বর্ণপদক প্রদান

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী একাডেমি, যশোরে বিএসসি (অনার্স) ইন অ্যারোনটিক্স ও বিবিএ প্রোগ্রামে সর্বোচ্চ একাডেমিক কৃতিত্ব অর্জনকারী কর্মকর্তাদের ওসমানী স্বর্ণপদক ও সনদপত্র দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব পদক ও সনদপত্র তুলে দেন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। অনুষ্ঠানে ৮১, ৮২, ৮৩, ৮৪, ৮৫ ও ৮৬ বিএএফএ (বিএএফএ) কোর্সের কর্মকর্তাদের হাতে পদক ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।

পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বিমানবাহিনী প্রধান বলেন, একাডেমিক উৎকর্ষ একজন কর্মকর্তার পেশাগত জীবনের শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে। জ্ঞানার্জনের কোনো শেষ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে অর্জিত জ্ঞান প্রজ্ঞায় রূপ নেয়, যা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।

তিনি তরুণ কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারির সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অর্জিত জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিমানবাহিনী প্রধান বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে উচ্চমানের প্রশিক্ষণ, কঠোর শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব অপরিহার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন বিমানবাহিনী প্রধান।

অনুষ্ঠানে সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (পরিচালন) ও সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (প্রশাসন), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিমানবাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের এয়ার অধিনায়ক, কমান্ড্যান্ট (ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড), ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, বিমানবাহিনী একাডেমির কমান্ড্যান্ট এবং বিমান সদর ও ঘাঁটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তুলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারাদেশে কমপক্ষে ১ হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণসংক্রান্ত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর আলোচনা হয়।

উপ-প্রেস সচিব জানান,  নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। আগামী প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মাঠগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৭টি জেলায় খেলার মাঠের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে।

এমনকি প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

বৈঠকে বিদ্যমান উপজেলা স্টেডিয়ামগুলো সচল ও খেলাধুলার উপযোগী করা, দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া ক্লাব কার্যক্রম চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী দেশের সব খেলার মাঠ সংরক্ষণ, সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন বলেও জানান সুজন মাহমুদ।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা। এসময় প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

সাক্ষাৎকালে আবরার ফাহাদের বাবা তার ছেলের হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালত স্বাধীনভাবে মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

আবরারের বাবা কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবিও জানান প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তিনি বলেন, ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দেন এবং আবরার ফাহাদের নামে সেতুটির নামকরণের প্রতিশ্রুতি দেন।এছাড়া আবরার ফাহাদের কবর পাকাকরণ কার্যক্রম পাশের মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মসজিদটির নির্মাণকাজ অবিলম্বে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।

সাক্ষাৎকালে আবরারের বাবা তার ছেলের হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তিনি জানান, আবরার হত্যা মামলার একজন আসামি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর বিষয়টি পরিবারকে জানানো হয়েছিল। কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং এখনো গ্রেফতার না হওয়া আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

আর যেন কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘প্রত্যেক ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়েই আমার মতো কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। আমি চাই, কোনো ক্যাম্পাসেই যেন আর আগের মতো পরিবেশ ফিরে না আসে। আমার মতো কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।’

সাক্ষাতে আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন হল নির্মাণের দাবি জানান তিনি। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন।

একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে আবরার ফাহাদের বিষয়ে জানাতে পাঠ্যবইয়ে তার ঘটনা অন্তর্ভুক্তির দাবিও জানান আবরার ফাইয়াজ।

আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহতদের তালিকা সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে। এর আগে আবরার ফাহাদের মতো বিভিন্ন সময়ে যারা নিহত হয়েছেন, তাদেরও একটি তালিকা করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এ নিয়ে কাজ চলছে।

সাক্ষাতের সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সাত বছর আগে, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আবরারের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে।




ইকুরিয়া বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

ঢাকার কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সার্কেল-২ কার্যালয়। সরকারিভাবে এখান থেকে নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক সেবাগ্রহীতার দাবি, এখানে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমেনি, বরং নতুন কৌশলে তা চালু রয়েছে। এখন সরাসরি ভেতরে না ঢুকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেবা পাইয়ে দিচ্ছে দালালরা। বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অর্থ। ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা বদলিসহ প্রায় সব সেবাতেই দালালচক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের আগে যেমন দালালচক্রের প্রভাব ছিল, এখনো তার তেমন দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি।

কঠোর নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকলেও দালালদের ঠেকানো যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের একটি অংশ এখনো বাধ্য হয়ে এই চক্রের শরণাপন্ন হচ্ছেন। যদিও আগের তুলনায় প্রকাশ্য দৌরাত্ম্য কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ের মূল ফটকে ঢোকার আগেই কয়েকজন দালাল ছুটে এসে সেবাগ্রহীতাদের জিজ্ঞেস করছেন—‘কোন কাজ করাবেন?’ কম সময়ে, কম খরচে কাজ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দিচ্ছেন তারা।

এ সময় বিভিন্ন সেবা নিতে আসা লোকজনকে দ্রুত কাজ করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আড়ালে নিয়ে যেতে দেখা যায় কয়েকজন দালালকে।

তবে প্রতিবেদকের গাড়ির সামনে ‘প্রেস’ লেখা দেখে কয়েকজন দ্রুত সরে গেলেও বাকিরা এসে খোশগল্পে মজেন এবং কোনো কাজে এসে থাকলে ভেতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দালালের সঙ্গে খোলামেলা কথা হলে তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিআরটিএর কঠোর অবস্থানের কারণে আগের মতো সহজে ভেতরে ঢোকা যায় না। ফলে তাদের আয়-রোজগার কমে গেছে।

তবে তারা স্বীকার করেন, কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই ভেতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ সেরে নেন।

ফোনে টোকেন নম্বর জানিয়ে দিলে কাজ সম্পন্ন করে দেন এবং পরে নির্ধারিত অংশ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের কাজ করেন এমন একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দালাল বলেন, ‘আমরা তো ইকুরিয়ায় বিআরটিএর জন্মলগ্ন থেকেই এখানে এই কাজ করছি। অন্য কোনো কাজ শিখিনি। তাই সংসার চালাতে এই কাজ ছাড়া উপায় নেই। অনেকবার জেলে গিয়েছি। তারপরও ছাড়তে পারি না। এখন মোবাইল কোর্ট চলাকালে আমরা আশপাশেও থাকি না। ধরা পড়লে তিন মাস পর্যন্ত জেল খাটতে হয়। তাই দূরে থেকেই কাজ করি।’

বিআরটিএর মূল ভবনে প্রবেশের পর অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ দেখা যায়। কয়েকটি কক্ষে চার্জার লাইট ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের কাজ করতে দেখা গেছে।

কয়েকজন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, বিআরটিএ একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস। এখানে প্রায়ই বিদ্যুৎ না থাকায় কাজের গতি ব্যাহত হয় এবং সেবায়ও বিলম্ব ঘটে। ‘কর্মকর্তারা কি এ সমস্যা সমাধানে কাজ করেন না?’—খেদ ঝাড়েন তারা।

মতিঝিল থেকে আগত ব্যাংকার আসলাম বলেন, ‘কোনো রকমের হয়রানি হয়নি, তবে অস্বস্তি হয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না আসায় অন্ধকারে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। বিদ্যুৎ আসার পর কাজ সেরে ফিরছি।’

প্রায় আধা ঘণ্টা পরে বিদ্যুৎ এলেও অফিসের ভেতরের পরিবেশ তুলনামূলক শান্ত দেখা গেছে। কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে গাড়ির ফিটনেস করাচ্ছেন, কেউ নতুন গাড়ির নম্বর প্লেট নিচ্ছেন। ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে শিক্ষানবিশ কার্ড ও পরীক্ষার সময়সূচি দেওয়ার কারণে এখন আগের মতো ভিড় নেই বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কদমতলী থানার প্লাস্টিক বোতল রিসাইক্লিং ব্যবসায়ী শামীম বাংলানিউজকে জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে তিনি বিআরটিএর এক দালালের সঙ্গে ১২ হাজার টাকায় চুক্তি করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজে শুধু অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করেছিলেন। লিখিত পরীক্ষায় তিনি নিজেই অংশ নেন। তবে সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষায় দালালের যোগাযোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে পাস করিয়ে দেন। পরবর্তী সময়ে গাড়ি চালানোর ব্যবহারিক পরীক্ষার সময়ও একইভাবে দালালের মাধ্যমে কর্মকর্তারা তাকে পাস করিয়ে দেন বলে তিনি দাবি করেন।

পরে লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত টাকা জমা দিতে বলা হলে শামীম অনলাইনে সেই টাকা জমা দেন। বর্তমানে তিনি লাইসেন্স হাতে না পেলেও অনলাইনে টাকা জমার রসিদ দেখিয়েই গাড়ি চালাচ্ছেন বলে জানান।

কালিয়াকৈর থেকে আসা মো. ইউনুস আলী বলেন, ‘চার বছর আগের বিআরটিএ আর এখনকার বিআরটিএর মধ্যে অনেক পার্থক্য। আগে বাধ্য হয়ে দালালের মাধ্যমে কাজ করতে হতো। এখন দালাল আছে, তবে আগের মতো সহজে ভেতরে ঢুকতে পারে না বা সরাসরি সামনে থাকেন না। তাই হয়রানি কিছুটা কমেছে।’

মিরপুর থেকে আসা আবদুল জাব্বার জানান, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য সব পরীক্ষা শেষ করে টাকা জমা দিয়েছিলেন। চার বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো লাইসেন্স হাতে পাননি।

বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সঠিক উত্তর পাননি—এমন আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দালালের মাধ্যমে করলে হয়তো তিন বছর আগেই লাইসেন্স পেয়ে যেতাম। বিআরটিএর ভোগান্তি যেন শেষই হয় না।’

একাধিক সেবাগ্রহীতা জানান, অফিসে ঢোকার আগেই দালালরা জিজ্ঞেস করেন—লাইসেন্স, ফিটনেস নাকি রেজিস্ট্রেশন—দ্রুত লাগবে, নাকি নিয়মে করবেন? অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে দালালদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দালালচক্রের কয়েকজন সদস্য জানান, এখানে গাড়ির ফিটনেস করাতে গাড়িপ্রতি গড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হয়। প্রতিদিন যদি প্রায় ২০০টি ফিটনেস সম্পন্ন হয়, তাহলে শুধু এই খাত থেকেই প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়।

ছোট পিকআপ ভ্যানের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। বাসের ক্ষেত্রে একটি ফিটনেস করাতে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে দাবি তাদের। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০টি বাসের ফিটনেস হলে এই খাত থেকেই প্রায় ৫ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়।

এ ছাড়া মালিকানা বদলির ক্ষেত্রে প্রতিটি ফাইলে প্রায় ২ হাজার টাকা এবং রেজিস্ট্রেশন বা নম্বর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রায় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০টি মালিকানা বদলি হলে শুধু এই খাত থেকেই প্রায় ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয় বলে দাবি তাদের।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। দালালচক্রের সদস্যদের দাবি, লেখাপড়ায় দুর্বল প্রার্থীদের লাইসেন্স করাতে প্রায় ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং তুলনামূলকভাবে সক্ষম প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে এসব খাত থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন হয় বলে দাবি দালালচক্রের সদস্যদের। তাদের ভাষ্য, ‘আমরা করলে টাকা কম লাগে, আর সেবাগ্রহীতারা সরাসরি করলে খরচ আরও বেশি পড়ে যায়।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২-এর উপপরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরীকে মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো-২ সার্কেলে অবাধে চলছে ঘুষ বাণিজ্য। বর্তমানে পতিত আওয়ামী লীগ ও ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতাদের মিলিত সিন্ডিকেট গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করছে। এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুট পারমিট, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ফিটনেসবিহীন গাড়ির ছাড়পত্রসহ প্রায় সব সেক্টরেই সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি করে প্রতি মাসে অবৈধভাবে কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিআরটিএ-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিস দুর্নীতির আঁতুড়ঘর। শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের একটি অংশ অবৈধ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। অফিসটি যেন টাকার মেশিন, যার নিয়ন্ত্রক আওয়ামী চালক লীগের সহসভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, বিএনপির জামাই সেলিম ওরফে লেংড়া সেলিমসহ অন্তত ৫০ জনের একটি সিন্ডিকেট। অফিসে গেট থেকে শুরু করে বের হওয়া পর্যন্ত সব সেক্টর চলে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। বিআরটিএ অফিস ছাড়াও সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বিআরটিএর সামনে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ৪৫টি দোকান ও ট্রাকস্ট্যান্ড। দোকানপ্রতি মাসিক পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়। অন্যদিকে ট্রাকস্ট্যান্ড ও বিআরটিএতে সেবা নিতে আসা ট্রাক থেকে ‘মালিক শ্রমিক ঐক্য সংগঠন’-এর নামে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অনিয়ম হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা দিয়েও অনেক আবেদনকারী লাইসেন্স পাচ্ছেন না। ঘুষ না দিলে পরীক্ষায় ফেল দেখানো হয়। অন্যদিকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দালালের মাধ্যমে দিলে পরীক্ষা ছাড়াই পাস করিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়া যায়।

সূত্রগুলোর দাবি, অনলাইনে আবেদন করার পর বায়োমেট্রিক, লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট সম্পন্ন করে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। ফিটনেস সনদের ক্ষেত্রে গাড়িভেদে এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত, মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তিন থেকে ১০ হাজার টাকা, গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলের জন্য দুই হাজার এবং অন্যান্য গাড়ির ক্ষেত্রে তিন থেকে ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়। এমন করে প্রতিটি সেক্টরে মাসে গড়ে চার থেকে সাড়ে চার হাজার আবেদনে অতিরিক্ত আদায় করা হয় এক থেকে দেড় কোটি টাকা।

একাধিক সূত্র জানায়, ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিসের উপপরিচালক সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরী, সহকারী পরিচালক রুহুল আমিন, জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ আট মোটরযান পরিদর্শক, তিন এআরও, আট অফিস সহকারী এবং ১৫ পিয়ন ও আনসার সদস্য ঘুষের টাকার ভাগীদার।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী চালক লীগের সহসভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকের নেতৃত্বে ২০০৯ সালে এ সিন্ডিকেটের জন্ম। তখন ২০-২৫ জন সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সিন্ডিকেটে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। আবু বক্কর সিদ্দিককে সঙ্গে রেখে স্থানীয় বিএনপির আরও প্রায় ৩০ জন এতে যুক্ত হন। এদের মধ্যে মালিকানা লাইসেন্স তৈরির সিন্ডিকেটে রয়েছেন—বিপ্লব, হালিম, বিল্লাল, ইয়াকুব ও আমান। এ ছাড়া ভলিউম দেখাশোনার সিন্ডিকেটে রয়েছেন লিটন, শাকিল, শাহাদাত, আলামিন ও ফারুক; পারমিট শাখায় রাজু, ফাইজুল, তুহিন ও সেন্টু; ফিটনেস শাখায় হাসান, নাদিম, কাইয়ুম, শাহীন, নাঈম, সাজু, হেলাল, হীরক ও ইলিয়াস; ফিটনেস ঢাকা জেলা শাখায় মিজান, রনি ও মনির; ভলিউম শাখায় নয়ন, আশিক ও আসলাম এবং রেজিস্ট্রেশন শাখায় হাবিব, জালাল, রাসেল, রায়হান, চান মিয়া ও নান্নু।

বিআরটিএর সামনে ৪৫টি অবৈধ দোকানের দায়িত্বে রয়েছেন হাতকাটা জয়, ইকুরিয়ার সুমন, হারিজ রাব্বি, ইয়াসিন, তাঁতী দলের রনি, শ্রমিক দলের রুকু, জামাই সেলিম ওরফে লেংড়া সেলিম, মৎস্যজীবী দলের আমান, ইসমাইল, ইয়ামিন, রানা, সোহাগ, ইমু, রনি, বাকুম উজ্জ্বল, মোকামপাড়ার সিএনজি সেলিম, সাজু, জুয়েল, মৎস্যজীবী দলের বাবুল, নাজিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের ওসমান, সোহেল, মুন্না, হিমেল, যুবদলের স্বাধীন, ফারুক, মহসিন, ইয়াসিন, বিল্লাল, চান মিয়া ও ইয়াসিন। এ ছাড়া বিআরটিএর সিন্ডিকেটে রয়েছেন সবুজ, শিপন, সাব্বির, ইউসুফ, লেংড়া সেলিম, আমজাদ হোসেন, মনির হোসেন, মাসুদ হোসেন, মিজান মিয়া, মান্নানসহ বেশ কয়েকজন। এই দালালচক্র অফিস চত্বরে অবস্থান করে সেবাপ্রত্যাশীদের তাদের মাধ্যমে সেবা নিতে বাধ্য করে।

দালালচক্রের মূল হোতা আবু বক্কর

জানা গেছে, আওয়ামী চালক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলী হোসেনের শ্যালক আবু বক্কর সিদ্দিক ২০০১ সালে ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী হাসিনার এপিএস সাইফুজ্জামান শিখরের সুপারিশে কেরানীগঞ্জের বিআরটিএ অফিসে সিল কন্ট্রাক্টর পদে ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ শর্তে চাকরি পান। পরে তিনি বিআরটিএর নিচতলার ১১০ নম্বর রুম দখলে নিয়ে অবৈধ সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ২০২২ সালে সিল কন্ট্রাক্টর পদ বিলুপ্ত হলেও বিআরটিএ অফিস ছাড়েননি আবু বক্কর সিদ্দিক।

শেখ মুজিবের এক সময়ের গাড়িচালকের ছেলে পুলিশ বাহিনীতে ওসি পদে কর্মরত ওমর ফারুক এবং বিজিবিতে কর্মরত মেয়ের জামাই রবিউলের দাপটে হাসিনার আমলে আবু বক্কর বিআরটিএ অফিসে অনিয়মের রামরাজত্ব কায়েম করেন। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে ঢাকার গেন্ডারিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু হয়। কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাকে ম্যানেজ করে তিনি বিআরটিএ অফিসে কর্তৃত্ব ধরে রাখেন। কোনো কর্মকর্তা না হয়েও তিনি বিআরটিএর ১১০ নম্বর রুম দখলে রেখেছেন শুধু দালাল ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের জন্য। বিআরটিএর অনেক কর্মকর্তাও তার দাপটে তটস্থ থাকেন।

স্থানীয়রা জানান, বিগত ১৫ বছরে বিআরটিএর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আবু বক্কর অন্তত ২০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। কেরানীগঞ্জের বোরহানিরবাগে তার ছয়তলা ভবন, নবরূপা ফরচুন টাওয়ারে আধুনিক ফ্ল্যাট এবং ১২ নম্বর কাজী আলাউদ্দিন রোডে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে তার একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বাগানবাড়ি রয়েছে বলে জানা গেছে।

আনীত অভিযোগের বিষয়ে আবু বক্কর সিদ্দিককে ফোনে কয়েকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।




কুর্মিটোলায় সড়ক পারাপারের সময় দুর্ঘটনায় নারীর মৃত্যু

রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনে সড়ক পার হওয়ার সময়ে দ্রুতগতির মোটরসাইকেল দেখে আতঙ্কিত হয়ে পেছনে সরে যেতে গিয়ে পড়ে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মোসা. মিজান বেগম (৪৬) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মরদেহটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

নিহতের ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মিজান বেগম কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের মো. আলীর স্ত্রী। তার বাবার নাম মোরশেদ আলী।

নিহতের ছেলে জানান, গ্রামের বাড়ি থেকে মেয়ে রিমাসহ ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলেন মা মিজান বেগম। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কুর্মিটোলা হাসপাতালের বিপরীত পাশে থেকে সড়ক পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয়।




মক্কা চুক্তির আওতায় হামলা চালাতে অন্য দেশে সেনা পাঠাবে না তুরস্ক

মক্কা চুক্তির আওতায় হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে কোনও সদস্যদেশের ভূখণ্ডে তুরস্ক সেনা মোতায়েন করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

তিনি বলেছেন, চুক্তিটির মূল লক্ষ্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করা নয়; বরং কোনও সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে তাকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়া।

বৃহস্পতিবার এক বক্তব্যে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

হাকান ফিদান বলেন, “মক্কা চুক্তি অনুযায়ী কোনও সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যরা তাকে রক্ষা করবে। এটি কোনও আক্রমণাত্মক সামরিক জোট নয়।”

তিনি আরও বলেন, অন্য কোনও দেশের ভূখণ্ডে গিয়ে হামলা চালানোর জন্য তুরস্ক সেনা পাঠাবে না।

চুক্তি তুর্কি পার্লামেন্টে পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন
মক্কা চুক্তিকে তুরস্কের পার্লামেন্টে অনুমোদনের জন্য পাঠানোর প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হয়েছে বলেও জানান ফিদান।

তিনি বলেন, চুক্তিটি তুর্কি পার্লামেন্টে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন এটি সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে।

চুক্তিটি কার্যকর হলে এর সদস্যদেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামো আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সৌদির ওপর হুতিদের হামলা ঠেকাতে সহায়তার পথ খুঁজছে তুরস্ক
ইয়েমেনের ইরানঘনিষ্ঠ হুতি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে সৌদি আরবকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা তুরস্ক পর্যালোচনা করছে বলেও জানিয়েছেন ফিদান।

তিনি বলেন, ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের ওপর চালানো হামলা মোকাবিলায় রিয়াদকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে আঙ্কারা কাজ করছে।

তবে এ সহায়তার ধরন কী হবে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। একই সঙ্গে তুরস্কের সেনা অন্য কোনও দেশে গিয়ে আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা করবে না- এ অবস্থানও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এর ফলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদারে তুরস্কের সম্ভাব্য ভূমিকা মূলত প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার মধ্যেই সীমিত থাকবে বলে ফিদানের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

মক্কা চুক্তি আক্রমণাত্মক জোট নয়
মক্কা চুক্তির প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফিদান বিশেষভাবে এর প্রতিরক্ষামূলক চরিত্রের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, কোনও সদস্যদেশের ওপর হামলা হলে অন্য সদস্যদেশগুলো তার পাশে দাঁড়াবে-এটাই চুক্তির মূল নীতি। কিন্তু সেই নীতির অর্থ এই নয় যে সদস্যদেশগুলো অন্য কোনও দেশে গিয়ে সামরিক হামলা চালাবে।

তুরস্কের এই ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে মক্কা চুক্তির সামরিক প্রয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

ইসরায়েলের নির্বাচনের পরও নীতিতে বড় পরিবর্তন আশা করছে না আঙ্কারা
ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে বড় কোনও পরিবর্তন হবে বলে তুরস্ক আশা করছে না বলেও জানান ফিদান।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পর ইসরায়েলের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘বিশেষ কোনও পরিবর্তন’ হবে বলে আঙ্কারা প্রত্যাশা করছে না।

ফিলিস্তিন ইস্যু, গাজা যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আঙ্কারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো
মক্কা চুক্তিকে ঘিরে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন কাঠামো গড়ে উঠছে। চুক্তিটির মূল নীতি হলো- কোনও সদস্যদেশের ওপর হামলা হলে তা অন্য সদস্যদের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং আক্রান্ত দেশকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়া হবে।

তুরস্কের পক্ষ থেকে চুক্তিটিকে আক্রমণাত্মক জোট হিসেবে না দেখানোর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক সংঘাতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের হুতিদের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক কীভাবে রিয়াদকে সহায়তা করবে, তা এখন মক্কা চুক্তির ভবিষ্যৎ কার্যকারিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সূত্র: আল-জাজিরা




দক্ষ জনশক্তি, অভিবাসন ও বিনিয়োগে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি, অভিবাসন, কারিগরি শিক্ষা, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ সময় অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার দেশটির গভর্নর জেনারেল স্যাম মস্টিন এসি’র পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিবাদন জানান এবং আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাপত্র প্রদান করেন। শুভেচ্ছা জানানোর জন্য রাষ্ট্রপতি অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব দেন।

তিনি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি অনুসন্ধান, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিকিৎসা কৌশল, লজিস্টিকস ও উৎপাদন খাতে অস্ট্রেলিয়ার আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

আগামী নভেম্বরে ক্যানবেরায় অনুষ্ঠেয় সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠক ও টিআইএফএ বৈঠক দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশি পেশাজীবীদের, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল ও অন্যান্য কারিগরি ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ জনশক্তি অভিবাসনের সুযোগকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি।

এ ছাড়া বৃত্তি ও একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচিতে অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা এবং ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার একটি ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কর্মশক্তির জন্য কর্মোপযোগী দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার টেকনিক্যাল অ্যান্ড ফার্দার এডুকেশন (টিএএফই) প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন রাষ্ট্রপতি। এ ক্ষেত্রে কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি দীর্ঘস্থায়ী এ সংকটে অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং সংকটের টেকসই সমাধানে দেশটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে বাস্তব অর্থনৈতিক সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও চলাচল বৃদ্ধির ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেবে।

এ সময় হাইকমিশনার অস্ট্রেলীয় ব্যবসায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ইতিবাচক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে ব্যাংকিং সংস্কারের প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদারে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে।




ফেনী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনব্যাপী সফরে ফেনী পৌঁছেছেন। এ সফরে তিনি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ, রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে ফেনীতে পৌঁছেছেন। তাঁর গাড়িবহর পরশুরামের দিকে যাচ্ছে।

এর আগে, তিনি সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সড়কপথে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন। ফেনীতে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। ফুলগাজীসহ তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসনের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের স্মৃতি রয়েছে। এ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী দুপুরে পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে এবং খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এরপর তিনি স্থানীয় জনগণের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গত ১৬ জুন ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটির বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।

পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন । এরপর তিনি ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি ছাদ ভিত্তিক (রফটপ) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করবেন।

ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করবেন।

ফুলগাজীতে মোট ৫১০ জন ফ্যামিলি কার্ড এবং পুরো জেলাজুড়ে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড পাবেন। এছাড়া ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী প্রদান করা হবে।




ফুটপাত দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চলবে : ডিএনসিসি প্রশাসক

ফুটপাত দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় মিরপুর-১০ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সংঘর্ষে আহত সময় সাংবাদিককে দেখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্যে ফুটপাত ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ফুটপাত দখলের সমস্যা পাঁচ-ছয় মাসের নয়। বহু বছর ধরে ধীরে ধীরে এই দখল বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে একজন নাগরিকের স্বাভাবিকভাবে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার অধিকারও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, গতকালও আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, আজও বলছি… ফুটপাত দখলমুক্ত করার এই অভিযান চলমান থাকবে। যতদিন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সফলতা না আসবে, ডিএনসিসির পক্ষ থেকে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রতিটি উচ্ছেদ অভিযানের আগে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়। অভিযানে পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত থাকেন। তবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পুলিশ সদস্য থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারত।

সামনের অভিযানে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মোহাম্মদপুর, উত্তরা, তেজগাঁও, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে। যতদিন কেউ আবার ফুটপাত দখল করে বসার চেষ্টা করবে, ততদিন আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।