সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

এর আগে গত ১৫ জুলাই চলতি সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষ হয়। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে অধিবেশন বসতে হবে। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, অধিবেশনটি ৫, ৭ বা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত হতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে মেয়াদ বাড়ানো হবে।




নেপালে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় রাষ্ট্রপতির শোক

নেপালে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় গভীর শোক ও নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ বন্যায় এখনো পর্যন্ত ১৬২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪০৩ জন।

নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্যমতে, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক।

তাদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২০০ জন নারী ও ২০৩ জন পুরুষ।




সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন ৫ দিনের রিমান্ডে

চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান গত ২০ আগস্ট তাকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ২৭ আগস্ট ধার্য করেন।

গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১২ আগস্ট সিএমএম আদালতে জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়। পরে ২৫ আগস্ট দায়রা আদালতও তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর হয়ে পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন।

সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

এর আগে, ২০ মে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত এই চিত্রনায়কের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে সালমান শাহের লাশ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। এদিকে বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে তা নথিভুক্ত করা হয়। এদিকে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট ধার্য রয়েছে।




রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির নেতৃত্বাধীন ইসির প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল।

বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইসির প্রতিনিধি দলের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ সময় সিইসির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আরও সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।




প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক চলছে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সদস্যদের সভাকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, বৈঠকে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বৈঠকে সংসদ অধিবেশন পরিচালনা ও দলীয় কৌশল নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

চলমান বৈঠকে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।




আইআরজিসির নতুন প্রধান কে এই ওয়াহিদি

১৯৭৯ সালের শেষের দিকে ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিপ্লবাত্মক পরিবর্তন সূচিত হয়। সেই ঐতিহাসিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে অনেকেই বুঝেছিলেন, নতুন এই মতাদর্শিক ব্যবস্থায় আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও জাতীয় গৌরব অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে রাষ্ট্র গঠনের তাড়না এবং প্রতিষ্ঠার মাত্র দশ মাসের মাথায় সাদ্দাম হোসেনের ইরাক কর্তৃক ইরান আক্রমণের ফলে জাতীয়তাবাদী চেতনার এক প্রবল জোয়ার তৈরি হয়। এই আবহে সিরাজ শহরের শাহ চেরাগ নামে খ্যাত স্থান থেকে উঠে আসা আহমদ শাহচেরাগি নতুন গঠিত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) যোগ দেন।

ইরানের নীতি ও শাসনব্যবস্থা রক্ষায় নিবেদিত এই আদর্শিক বাহিনীতে যুক্ত হয়ে নিজের নাম পরিবর্তন করে তিনি রাখেন ওয়াহিদি, যার অর্থ এক বা প্রথম। সম্প্রতি তিনি সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে আইআরজিসির প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। এই নিয়োগ এমন এক প্রেক্ষাপটে হলো, যখন ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে একটি অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে এবং ৪৭ বছর আগের ইরাক যুদ্ধের সেই জাতীয়তাবাদী উদ্দীপনা পুনরায় স্মরণে আনছে। মার্চ মাস থেকে আইআরজিসির কার্যনির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ওয়াহিদি নতুন সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতারোহণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৭৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ক্যারিয়ারে ওয়াহিদি বহু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের অংশ ছিলেন। সামরিক নেতৃত্বের পদে নানা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে গিয়ে মাত্র দুই বছরের মাথায় ১৯৮১ সালে তিনি আইআরজিসির গোয়েন্দা ডেপুটি নিযুক্ত হন। ১৯৮৮ সালের মধ্যে তিনি আইআরজিসির কুদস ফোর্সের প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। জেরুজালেমকে মুক্ত করার লক্ষ্যে গঠিত এই বহিরাগত অভিযানিক বাহিনীটি বিদেশের মাটিতে সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন, সরঞ্জাম সরবরাহ ও প্রশিক্ষণের মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠে। যদিও পরবর্তীতে কাসেম সোলাইমানির (১৯৯৮-২০২০) আমলে বাহিনীটি খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছায়, ওয়াহিদিই এর প্রাথমিক কর্মকাণ্ড ও ভাবনার ভিত গড়ে দিয়েছিলেন, বিশেষ করে লেবাননের হিজবুল্লাহর গঠনমূলক দিনগুলোতে।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ তাকে প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিক মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিলে তিনি হন ইন্টারপোল রেড নোটিশ থাকা অবস্থায় ক্যাবিনেট মন্ত্রী হওয়া প্রথম ব্যক্তিত্ব। কনজারভেটিভ সরকারের সঙ্গেই তিনি বেশি কাজ করেছেন, আহমাদিনেজাদের প্রথম মেয়াদে প্রধান উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং ২০২১ সালে ইব্রাহিম রাইসির অধীনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া ২০০৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা এবং ২০১০ সাল থেকে অস্ত্র প্রসারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।

আহমদ ওয়াহিদির ক্যারিয়ার শুধু সাফল্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, নানামুখী জটিলতাও পার করেছেন তিনি। তিনি যেমন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের কেন্দ্রে ছিলেন, তেমনি বিভিন্ন বিতর্ক থেকে পুনরুত্থানের ঝুঁকি নেওয়া জেনারেল হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ইরাক যুদ্ধের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার সময়েই ওয়াহিদি যুদ্ধকালীন তৈরি হওয়া বহির্মুখী উদ্যমকে কাজে লাগাতে কুদস ফোর্সকে প্রথম বড় অভিযানে পাঠান; বসনিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট আলিজা ইজেতবেগোভিচের পক্ষে। তবে বোসনিয়ায় আল কায়েদার মতো দলগুলোর আধিপত্য এবং শিয়াদের প্রতি তাদের বিদ্বেষের কারণে হিজবুল্লাহর মতো সাফল্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সোলাইমানির অধীনে আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী অভিযানে ইরানের কৌশলগত সাফল্য অর্জিত হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সীমিত গোয়েন্দা সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করেছিল।

বসনিয়া অভিযানে আশানুরূপ ফল না পেলেও ওয়াহিদি লেবানন ফ্রন্টে সক্রিয় থেকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেন। ১৯৯৪ সালে বুয়েনস আইরেসে এএমআইএ  ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে হিজবুল্লাহর হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনা ওয়াহিদিকে অভিযুক্ত করে। এ ঘটনা ইরান ও আর্জেন্টিনার সম্পর্কের মধ্যে স্থায়ী সংঘাত তৈরি করলেও ওয়াহিদির অবস্থানকে আইআরজিসির অভ্যন্তরে দুর্বল করেনি বরং আন্তর্জাতিক এই অভিযোগগুলোকে বাহ্যিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখে তেহরান তার নেতৃত্বকে আরও সংহত করে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন ওয়াহিদি সবসময়ই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিরোধের মূল হাতিয়ার মনে করতেন। ২০১২ সালে তিনি ফাতাহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৩০০ কিলোমিটারে উন্নীত করার কর্মসূচির তদারকি করেন। ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কার মুখেই তিনি স্পষ্টভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের বিকাশকে ইসরায়েলবিরোধী প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন এবং ঘোষণা দেন যে ইরানে আক্রমণ চালানো হবে ইসরায়েলের জন্য আত্মঘাতী। পরবর্তীতে তিনি নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (যেমন বাভার-৩৭৩) গড়ে তোলার কাজেও সক্রিয় ছিলেন। পাশাপাশি, দেশের পারমাণবিক কর্মসূচির সুরক্ষায় গোয়েন্দা তৎপরতার তদারকি করেন এবং ২০০৭ সালে ইসরায়েলি হামলা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে গঠিত ওঘাব-২ সংস্থার দায়িত্ব নেন।

ওয়াহিদির ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈপরীত্য ছিল তার চরম আদর্শিক অবস্থান সত্তেও কৌশলগত নমনীয়তা দেখানো। ১৯৮৫-৮৭ সালের বহুল আলোচিত ‘ইরান-কনট্রা অ্যাফেয়ার’-এ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের গোপন অস্ত্র চুক্তির বিষয়ে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ওয়াহিদির হিজবুল্লাহর ওপর প্রভাবই তেহরানকে সাহায্য করেছিল লেবাননে জিম্মি আমেরিকানদের মুক্ত করে ইসরায়েলের মাধ্যমে মার্কিন অস্ত্র সংগ্রহ করতে। তবে ক্ষমতার এই দীর্ঘ যাত্রায় তাকে বিপদেও পড়তে হয়েছিল; ১৯৮৮ সালে কেরমানশাহ প্রদেশে ইরাক সমর্থিত কমিউনিস্টদের (এমইকে) আক্রমণের দায় তার ওপর চাপানো হলে তৎকালীন আইআরজিসি প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের সাথে তার বিরোধ তৈরি হয়। পরে আলি আকবর হাশেমি রফসানজানির মধ্যস্থতায় তিনি বড় শাস্তি থেকে রক্ষা পান এবং পরবর্তীতে কুদস ফোর্সের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। অতি সম্প্রতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি ২০২২ সালের মাহসা আমিনী কেন্দ্রিক আন্দোলন শক্ত হাতে দমন করেন এবং আন্তর্জাতিক চাপকে ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দেন, যদিও পরবর্তীতে রাজনৈতিক অসন্তোষ প্রশমনে নিজের রাজনৈতিক ডেপুটি মোহাম্মদ-রেজা গোলামরেজাকে অপসারণ করার মতো কৌশলগত নমনীয়তাও দেখান।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আহমদ ওয়াহিদি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির অধীনে কাজ করছেন। তার সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাই এখন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি। দুজনেরই ইতিহাস দীর্ঘ এবং দুজনেই ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত হলেও তারা আইআরজিসির শক্তি সংহত করতেই কাজ করে যাচ্ছেন। ২০২৬ সালে এসে তেহরানের এই পরিবর্তন কেবল ব্যক্তি ওয়াহিদির ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং পুরো ব্যবস্থাটি একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ইউনিট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও পদক্ষেপের মোকাবিলা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হুমকির মুখে ইরানের যুদ্ধকালীন প্রশাসনে রিভোলিউশনারি গার্ডসের প্রভাব চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে হোরমুজ প্রণালীতে ভূরাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখার এমন এক জটিল ও সংকটাপন্ন সময়ে আইআরজিসির প্রধান হিসেবে ওয়াহিদির মতো অভিজ্ঞ ভেটেরানের উত্থান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিজস্ব শক্তির চাহিদাকেই প্রতিফলিত করে।

সূত্র: এনডিটিভি




নেপাল বিপর্যয়, কি এই ইনল্যান্ড সুনামি?

প্রকৃতির ভয়াল থাবায় ফের তছনছ হিমালয়ের কোলে গড়ে ওঠা দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপাল। দেশটির রসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় ভোটে কোশি এবং ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ প্লাবনে তৈরি হয়েছে এক মর্মান্তিক মানবিক বিপর্যয়। কেবল আবহাওয়ার কোনো সাময়িক পরিবর্তনের কারণে এই ভয়াবহ বন্যা নয় বরং কয়েক শতাব্দী ধরে চলে আসা ভূ-প্রাকৃতিক ও জলবায়ু পরিবর্তনের জটিল এক চক্রের বলি হয়েছে দেশটি।

গত বছরের জুলাইয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে ঠিক ১৩ মাসের মাথায় আবারও ভেসে গেছে এই নির্দিষ্ট অঞ্চলটি। আন্তর্জাতিক সীমা পেরিয়ে তিব্বত থেকে নেমে আসা প্লাবনের তোড়ে রসুয়াগাড়িতে চীন-নেপাল ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ভেসে গেছে এবং দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি চার শতাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ চরম ব্যাহত হচ্ছে, যা হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত তিব্বত সীমান্তে জমে থাকা ক্ষণস্থায়ী বা অস্থিতিশীল হিমবাহিক হ্রদ ভেঙে গিয়ে বা হিমবাহে ধস নেমে এই বিপর্যয়ের সূচনা হয়েছে। নেপাল সরকারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এলাকায় কোনো শক্তিশালী ভূ-কম্পন বা পাহাড়ি ভূমিধসের কারণে একটি প্রধান নদীর স্বাভাবিক গতিপথ সাময়িকভাবে রুদ্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ পানি সেই বাঁধ ভেঙে প্রচণ্ড বেগে নিচের দিকে ধাবিত হতে শুরু করে, যাকে বিজ্ঞানীরা অভিহিত করছেন ‘ইনল্যান্ড সুনামি’ হিসেবে।

নদীমাতৃক এই সরু উপত্যকায় পানির উচ্চতা এবং বেগ এতই বেশি ছিল যে তীরবর্তী লোকালয়, শুকনো বন্দর, কাস্টমস অফিস এবং অসংখ্য অবকাঠামো মুহূর্তের মধ্যেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। হিমালয় অঞ্চলের বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে বরফ গলনের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যার কারণে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে হাজার হাজার বিপজ্জনক হিমবাহিক হ্রদ তৈরি হয়েছে। অত্যন্ত নাজুক এই হ্রদগুলো যেকোনো ছোটখাটো ভূ-কম্পন বা ভূমিধসে ভেঙে পড়ে তলদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভাসিয়ে নিতে পারে।

এই সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পেছনে পরিবেশগত ঝুঁকির পাশাপাশি ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত গতিশীলতা এবং মানবসৃষ্ট অপরিকল্পিত উন্নয়নকেও সমানভাবে দায়ী করছেন ভূ-বিজ্ঞানীরা। নেপাল একটি অত্যন্ত সক্রিয় টেকটোনিক অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় প্রতি বছর ভূ-ভাগ কয়েক মিলিমিটার করে ওপরে উঠছে, যার ফলে এখানকার পাহাড় ও মাটির বাঁধন অত্যন্ত দুর্বল। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সীমান্ত বাণিজ্য জোরদার করতে নদীর তীরবর্তী অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ নিচু অঞ্চলে অবাধ নির্মাণকাজ এবং বেশ কয়েকটি হাইড্রোইলেক্ট্রিক বা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন।

নদীর গতিপথ আটকে অবকাঠামো তৈরির ফলে পানির ধাক্কায় ধ্বংসস্তূপের ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ বেড়ে গেছে, এমনকি এই একক দুর্ঘটনায় দেশের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিব্বতের হিমবাহ অঞ্চল নিয়ে চীনের সাথে দ্রুত ও সমন্বিত আগাম সতর্কবার্তা প্রদানের ব্যবস্থা না থাকায় বারবার একই ধরনের ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। নেপালের পাহাড়ি উপত্যকা অতিক্রম করে এই জলচ্ছ্বাস এখন ভারতের সমতল ভূমির দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের জন্যই একটি চিরস্থায়ী প্রাকৃতিক সতর্কবার্তা।




শেওড়াপাড়ায় ৫ কাঠা জমি দখলের অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে মুকুল আমিনের প্রশাসনের দ্বারস্থ আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখল ও হুমকির অভিযোগ; সরেজমিনে গিয়ে বাধার মুখে সংবাদকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর শেওড়াপাড়ার ৫৯৩/এ এলাকায় মেট্রোরেলের ৩২০ নম্বর পিলারের পাশে প্রায় ৫ কাঠা জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আলহাজ্ব মো. মুকুল আমিনের অভিযোগ, তার আপন ছোট ভাই মো. আলমগীর ওরফে অ্যাপোলো প্রভাব খাটিয়ে ওই জমি দখল করে রেখেছেন।

মুকুল আমিনের দাবি, তাদের পিতা মৃত আলহাজ্ব আব্দুল মালেকের রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশ হিসেবে তিনি ওই জমির বৈধ মালিক। তার কাছে জমি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে তাকে জমি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুকুল আমিন আরও অভিযোগ করেন, অ্যাপোলোর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি—আব্দুস সালাম, আরিফ, রুহুল আমিন, আব্দুল আলিম ও আতিকসহ আরও কয়েকজন—তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। তাদের মাধ্যমে জমিটি দখলে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ তার।

এদিকে জমিটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নানা অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন প্রতিবেশীর দাবি, রাতের বেলায় ওই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। সেখানে মাদক বা ইয়াবাসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মুকুল আমিনের আরও অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অ্যাপোলো স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি পদে ছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা করেছেন। এছাড়া ৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে এবং ৭ আগস্ট তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন বলেও মুকুল আমিন দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে মুকুল আমিন থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানান। তার দাবি, একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কার্যকর প্রতিকার পাননি। তিনি আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জমিতে কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে সেখানে তাদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ সময় দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তিকে ফোন করা হলে তিনি সেখানে সংবাদকর্মীদের প্রবেশের বিষয়ে আপত্তি জানান এবং কর্মচারীদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটির কথোপকথন সংবাদকর্মীরা রেকর্ড করেছেন বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেও জমি দখল ও রাতের বেলায় কথিত কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রকৃত ঘটনা আরও স্পষ্ট হবে।

মুকুল আমিন বলেন, “আমার জমির কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও আমি আইনগত সহযোগিতা পাচ্ছি না। আমি চাই প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি নির্ধারণ করুক।”

অভিযোগের বিষয়ে মো. আলমগীর ওরফে অ্যাপোলোর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি করা হোক এবং যদি মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।




চট্টগ্রামে ঈদে মিলাদুন্নবীর জুলুসে লাখো মানুষের ঢল

লাখো আশেকে রাসুলের অংশগ্রহণে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫৫তম জশনে জুলুস। এবার জুলুসে নেতৃত্ব দিয়েছেন পাকিস্তানের দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ (ম.জি.আ)।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জুলুস শুরুর আগে আল্লামা সাবির শাহ সাংবাদিকদের ব্রিফিং দেন এবং দোয়া ও মোনাজাত করেন।

ষোলশহরের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা থেকে বের হয়ে জুলুস মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা, লালখান বাজার হয়ে টাইগারপাস পর্যন্ত সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর একই পথে দুপুরে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে ফিরে আসে।

আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় জলুসকে ঘিরে দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ আশেকে রাসুলের সমাগম হয় জুলুসে। এবার জুলুসকে ঘিরে নগরীর কয়েক কিলোমিটার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ট্রাক, বাস, পিকআপযোগে হাজার হাজার মানুষ জুলুসে যোগ দেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাইরে প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক জলুসের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আওলাদে রাসুল আল্লামা হাফেজ সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.)-এর দিকনির্দেশনায় চট্টগ্রামে প্রথম জশনে জুলুসের আয়োজন করা হয়। এরপর প্রতিবছর ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এ আয়োজন হয়ে আসছে।




কাল বসছে তৃতীয় অধিবেশন : ইস্যুভিত্তিক বিতর্কে উত্তপ্ত হবে সংসদ

আগামীকাল বিকেল ৩টায় বসবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। সংসদের এই অধিবেশনটি রাজনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিরোধী দলের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, লোডশেডিংসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগের বিষয় সংসদে জোরালোভাবে তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থায় দলীয় নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়েও তারা সরব হতে পারেন।

বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা জানান, এরই মধ্যে সরকার ছয় মাস পূর্ণ করেছে। এখন আর তারা বলতে পারবে না যে সরকারের হানিমুন পিরিয়ড চলছে। দেশ গঠনে তাদের কোথায় দুর্বলতা তা আমরা সংসদে উত্থাপন করব। সরকারের কাছে জবাবদিহি চাইব। বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যে ধরনের কার্যকর ভূমিকা পালন করা দরকার তা করা হবে। কারণ জনগণের কাছে এজন্য আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।

বিরোধী দলের এ ধরনের অবস্থান প্রসঙ্গে সরকারদলীয় এমপিরা জানান, দেশের স্বার্থে সরকারি ও বিরোধী দল বিতর্ক করবে, ইস্যু উত্থাপন করবে এটাই তো সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সংবিধান সংশোধন, সংসদীয় কমিটি গঠন, গণভোটের বিধান, জুলাই সনদ-এ চার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পর বিপরীত অবস্থান ও নীতিগত মতপার্থক্যের কারণে সংসদের অধিবেশনে তীব্র বিতর্ক হতে পারে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোয় বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা ও সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে টানাপড়েন তৈরি হতে পারে।

অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশন নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সংসদ ভবন ও সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক বহনসহ যেকোনো ধরনের জনসমাগমমূলক কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

প্রশাসনের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ রাত ১২টা থেকে এই আদেশ কার্যকর হবে এবং অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত চেকপোস্ট এবং নজরদারি ক্যামেরার আওতা বাড়ানো হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, শেরেবাংলা নগর এবং এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়। বিশেষ করে ফার্মগেট, বাংলামটর, বিজয় সরণি, শ্যামলী মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিবেশন চলাকালে সংসদ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।