ভুয়া বিল-ভাউচার ও প্রকল্পের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি গণপূর্তে

নিজস্ব প্রতিবেদক : গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ইসকান্দার আলীর বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, প্রকল্পের কাজে অনিয়ম, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ ছাড় এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে ঢাকার বসুন্ধরা, গুলিস্তান, বকশিবাজার, পূর্বাচল এবং মাগুরায় বিপুল সম্পত্তির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব সম্পদের মালিকানা, মূল্য, অর্থের উৎস কিংবা সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র ও তদন্তের ফলাফল স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ইসকান্দার আলীকে ঘিরে দুর্নীতি, সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রকল্পের বিল-ভাউচার, কাজের পরিমাপ এবং ঠিকাদারি কার্যক্রমে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ থাকার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট আর্থিক নথি, সম্পত্তির দলিল, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য কিংবা কোনো তদন্ত প্রতিবেদনের কপি সরবরাহ করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

প্রকল্পের বিল ও ঠিকাদারি কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন

প্রাপ্ত অভিযোগে বলা হয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল প্রকল্পে কাজের বাস্তব অগ্রগতির সঙ্গে বিল প্রস্তুত ও অর্থ ছাড়ের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে লিফট স্থাপন, জেনারেটর সরবরাহ, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সরকারি ভবনের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার মতো কাজগুলোতে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে সরেজমিনে কাজ সম্পন্ন না করেই কাগজপত্র প্রস্তুতের মাধ্যমে বিল ছাড়ের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, ভ্যারিয়েশন, ফ্রন্টলোডিং এবং কাজের পরিমাপসংক্রান্ত নথি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

তবে কোন প্রকল্পে কত টাকা অনিয়ম হয়েছে, কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে যুক্ত এবং কোন বিল বা ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ ছাড় হয়েছে—এসব বিষয়ে অভিযোগের সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রকল্প নম্বর, কার্যাদেশ, বিলের কপি কিংবা অডিট আপত্তি পাওয়া যায়নি। তাই এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রকল্পভিত্তিক নথি পরীক্ষা প্রয়োজন।

সম্পদের তালিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

অভিযোগে সৈয়দ ইসকান্দার আলীর নামে ও বেনামে বিপুল সম্পদ থাকার দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি বাড়ি বা সম্পত্তি।

  • মাগুরা জেলার ৭ নম্বর পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নে প্রায় ১০০ বিঘা জমি থাকার দাবি।

  • গুলিস্তানের হলমার্কেট এলাকায় ২৭টি দোকানের মালিকানা থাকার অভিযোগ।

  • বকশিবাজার এলাকায় চারটি দোকানের মালিকানার দাবি।

  • পূর্বাচলে প্রবাসী পল্লী গ্রুপে ৩০ কাঠা জমি থাকার অভিযোগ।

অভিযোগে এসব সম্পদের মোট মূল্য শতকোটি টাকার বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সম্পত্তিগুলোর দলিল, খতিয়ান, নামজারি, হোল্ডিং নম্বর, ক্রয়মূল্য কিংবা প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে কোনো যাচাইযোগ্য নথি পাওয়া যায়নি।

বিশেষ করে কোনো সম্পত্তি সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নামে, পরিবারের সদস্যদের নামে, নাকি অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত—তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সম্পদ অর্জনের সময়কাল, আয়কর বিবরণী এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

পদায়ন ও বদলি ঘিরেও প্রশ্ন

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন এবং বদলির ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে নিজের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন ওই কর্মকর্তা। ঢাকা গণপূর্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে তাঁর পদায়ন ও দায়িত্ব পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদসূত্রে দেখা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সৈয়দ ইসকান্দার আলীকে গণপূর্ত ই/এম পিএন্ডডি বিভাগ, ময়মনসিংহ থেকে গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-৬, ঢাকায় পদায়নের তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। তবে বদলিটি অনিয়মের মাধ্যমে হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

লিফট ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রকাশিত সংবাদ

এদিকে ২০২৬ সালের ৪ অক্টোবর দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মিরপুরের পাইকপাড়া সরকারি আবাসিক প্রকল্পের লিফটের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, লিফটের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের বিষয়ে রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আগেই সতর্ক করেছিল। পরবর্তী সময়ে একটি লিফট দুর্ঘটনায় তিনজন আহত হন।

ওই প্রতিবেদনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে সৈয়দ ইসকান্দার আলীর বক্তব্যও প্রকাশিত হয়। তিনি জানান, লিফটগুলোতে শুরু থেকেই সমস্যা ছিল এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যন্ত্রাংশের জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ অর্থ দাবি করায় যাচাই-বাছাই করতে সময় লেগেছে। এ ঘটনায় মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বলে কালবেলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে লিফট ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওই প্রতিবেদন এবং বর্তমানে উত্থাপিত ঘুষ, ভুয়া বিল ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ পৃথক বিষয়। একটি ঘটনার তথ্য দিয়ে অন্য অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

অভিযোগের পাশাপাশি পাল্টা বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ

সৈয়দ ইসকান্দার আলীকে ঘিরে প্রকাশিত অভিযোগ ও তাঁর পদায়ন নিয়ে ভিন্নমতও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট সংবাদ পরিক্রমায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, তাঁকে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপনের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁদের দাবি, ময়মনসিংহে দায়িত্ব পালনকালে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে বঞ্চিত ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে তাঁকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ ই/এম-৬ বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন কর্মকর্তাকে ঘিরে অভিযোগ সামনে আসছে। তবে এসব পাল্টা বক্তব্যও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে; স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা হয়নি।

সব মিলিয়ে সৈয়দ ইসকান্দার আলীকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ ও নথিনির্ভর অনুসন্ধান প্রয়োজন। সরকারি প্রকল্পের কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার, কাজের পরিমাপ, অডিট প্রতিবেদন, সম্পত্তির দলিল এবং আয়কর নথি যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া জরুরি।

অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান পরিষ্কার করা—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা অবশ্যই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে পরিচালিত হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা, নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুবিধার ভিত্তিতে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।’

সোমবার বঙ্গভবনে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এ অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে রাষ্ট্রপতি এ গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে মানসম্মত নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় স্বার্থ অর্জনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

তিনি এসময় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তাঁদের সাহস, আত্মত্যাগ ও অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অসামান্য অবদান ও স্বাধীনতার ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তিনি তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

এসময় তিনি ১৯৭৭ সালে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পেশাদার সামরিক শিক্ষা বিস্তারে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারীদের স্মরণ করেন এবং জনগণের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দেওয়ার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রচলিত নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার হুমকি, আন্তঃদেশীয় অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, মহামারি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা শুধু সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানও জড়িত।

পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কারণে সতর্কতা ও দূরদর্শিতার গুরুত্ব বিশেষভাবে বেড়েছে।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি যুদ্ধ ও নিরাপত্তার ধরন পরিবর্তন করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে ভুল তথ্য, অপতথ্য এবং সাইবার হুমকি জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

উদীয়মান এই বাস্তবতা মোকাবিলায় কৌশলগত দূরদর্শিতা, সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ, বুদ্ধিবৃত্তিক উদারতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দেশের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতাসম্পন্ন নেতৃত্ব প্রয়োজন বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে মতবিনিময় ও সমসাময়িক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অভিন্ন উপলব্ধি গড়ে তোলার একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

রাষ্ট্রপতি ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এর অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে স্থান দিতে হবে। একই সঙ্গে পেশাদারিত্ব, সততা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি বজায় রেখে কাজ করতে হবে।

কোর্সে অন্য দেশের অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে তাঁদের এই অভিজ্ঞতা তাদের নিজে নিজ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে সহায়ক হবে।

রাষ্ট্রপতি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতিসমূহের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা, মতবিরোধের পরিবর্তে সংলাপ এবং সংঘর্ষের পরিবর্তে শান্তির আহ্বান জানান।

পাশাপাশি সক্ষম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: ফয়জুর রহমান।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ফ্যাকাল্টির সদস্য, এনডিসি কোর্স সম্পন্নকারী সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, এএফডব্লিউসি কোর্স সম্পন্নকারী সেনাবাহিনীর অফিসার, এনডিসি কোর্সে অংশগ্রহণকারী বিদেশি কোর্স সদস্য, আর্মি স্টাফ অফিসারবৃন্দ ও জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও)গণ এবং বঙ্গভবনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য, ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ২০২৬-এ বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী থেকে ৫৪ জন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস থেকে ১৮ জন এবং বন্ধুপ্রতিম ১৭টি দেশ থেকে ৩১ জনসহ মোট ১০৩ জন সদস্য অংশ নেন।




মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামানের শপথ মঙ্গলবার

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩ এর উপনির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এলিজা জামানের শপথ গ্রহণ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সংসদ ভবনস্থ স্পিকারের অফিস কক্ষে বেলা ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

 

গত ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।

গত শনিবার মির্জা ফয়সল আমীনকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।

অপর দিকে আজ সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩ এর শূন্য পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এলিজা জামানকে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

গত ১ অক্টোবর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়।

 

পরে ১২ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন এ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ নভেম্বর ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও একক প্রার্থী থাকায় আর ভোটের প্রয়োজন হয়নি।




সংরক্ষিত নারী আসন: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন এলিজা জামান

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের শূন্য আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এলিজা জামান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

 

সোমবার (০২ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

 

রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈনুদ্দীন খানের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য নির্ধারিত সময় রোববার বিকেল ৪টার মধ্যে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় জাতীয় সংসদ সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন আইন-২০০৪ অনুসারে চূড়ান্ত তালিকায় এলিজা জামানের নাম প্রকাশ করা হলো। চূড়ান্ত তালিকায় একজন প্রার্থী থাকায় এই আসনে আর নির্বাচন হচ্ছে না। যার ফলে জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রার্থী এলিজা জামানকে।

 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় এলিজা জামানের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে বৈধ বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈনুদ্দীন খান।

 

ওইদিন তিনি বলেন, একাধিক প্রার্থী না থাকায় প্রত্যাহারের পরই গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এ মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ।

 

বিএনপির সাবেক সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী এ শূন্য আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল সোমবার।

 

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় চরম বিতর্কের মুখে আলোচনায় আসেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ওই ঘটনার পরপরই বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। নির্দেশ পাওয়ার পর মিষ্টি পদত্যাগ করলে সংসদ সচিবালয় তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

পরবর্তী সময়ে ওই আসনে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচনের লক্ষ্যে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

 

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র জমার পর ২৭ অক্টোবর তা যাচাই-বাছাই করা হয়। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২৮ অক্টোবর আপিল এবং ২৯ অক্টোবর আপিল নিষ্পত্তি করে কমিশন। এরপর ১ নভেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। আজ ২ নভেম্বর প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার কথা ছিল। তবে কোনো প্রার্থী না থাকায় তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে আগামী ১২ নভেম্বর এ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়া কথা ছিল।

 

এলিজা জামান বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় মহিলা দলের বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

 

২০০৩ সালে তিনি জাতীয় মহিলা সংস্থার পিরোজপুর জেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ওই বছরই শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। পরের বছর সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পান মাদার তেরেসা স্বর্ণপদক।




ডেমোক্র্যাটরা জিতলে কংগ্রেস ছাড়াই দেশ চালানোর ছক কষছেন ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। দুই কক্ষবিশিষ্ট কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করলেও মঙ্গলবারের (৩ নভেম্বর) নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দল কংগ্রেসে জয়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ও পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত দুই ব্যক্তির বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা ধরে কয়েক মাস ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলেও নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলো বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করছে হোয়াইট হাউস। একই সঙ্গে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য তদন্তের জন্যও প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার এবং বাজেট পরিচালক রাসেল ভটসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এপ্রিল মাস থেকেই হোয়াইট হাউস কাউন্সেল অফিসের সঙ্গে কাজ করছেন। তাদের লক্ষ্য হলো অভিবাসন, শুল্ক, আবাসন ব্যয় এবং ফেডারেল ব্যয়ের মতো বিষয়গুলোতে এমন সব নির্বাহী পদক্ষেপ চিহ্নিত করা, যা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প কার্যকর করতে পারবেন।

 

হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা জানান, হোয়াইট হাউস কাউন্সেল উইল শার্ফ ও তার দল খতিয়ে দেখছেন, ট্রাম্প এককভাবে আইনগত কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন, কোথায় তিনি নিজের ক্ষমতার সীমা বাড়িয়ে নিতে পারেন এবং আদালতে কীভাবে এসব সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে পারেন।

 

এই প্রস্তুতি মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক ধরনের বৈপরীত্য তুলে ধরছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত করার, তার প্রস্তাবিত আইন আটকে দেয়ার এবং ব্যয়ের অগ্রাধিকার সীমিত করার ক্ষমতা পাবে।

 

তবে বাণিজ্য, পররাষ্ট্রনীতি ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর ট্রাম্পের বিস্তৃত নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকবে। দ্বিতীয় মেয়াদে ইতোমধ্যে এসব ক্ষমতা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন তিনি।

 

ট্রাম্প জানিয়েছেন, রিপাবলিকানরা যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারায়, সেক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর আগে তিনি ‘এক বা দুই মাস’ ভেটো প্রয়োগ করতে পারেন।

 

রোববার প্রকাশিত ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-এর ‘পড ফোর্স ওয়ান’ পডকাস্টের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয় আমি তখন ‘মিস্টার ভেটো’ হয়ে উঠব। আর তারপর কোনো এক পর্যায়ে, আমরা সম্ভবত সমঝোতায় পৌঁছাব।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের ২১৮-২১৪ এবং সিনেটে ৫৩-৪৭ আসনের সংকীর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা উল্টে দিতে ডেমোক্র্যাটদের উভয় কক্ষেই নিট চারটি করে আসন বাড়াতে হবে।

 

জনমত জরিপে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার দৌড়ে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে রাখা হয়েছে। তবে সিনেটে কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

সূত্র: রয়টার্স




পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে, সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের

বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ষড়যন্ত্রকারী ও ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে দিয়ে পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে বলে মনে হয়। এ ব্যাপারে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে। কোনো মালিক কিংবা শ্রমিকই শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। আমরা বিশ্বাস করি, কোনো শ্রমিকই এ ধরনের কাজে জড়িত হবেন না।

তিনি বলেন, এরইমধ্যে প্রায় ৬০০টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে পোশাকশিল্পে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়, তা ধ্বংস করার জন্য গভীর কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিকসহ সব পক্ষকে আন্তরিক ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।




পোশাকখাতে অস্থিরতার পেছনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মালিক-শ্রমিকরা দায়ী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পোশাকখাতে অস্থিরতার পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিত মালিক-শ্রমিকরা দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পক্ষে নানা ইন্ধন দিয়ে শ্রমিকদের ব্যবহার করে, আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্র চলছে। শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

 

শ্রমিক আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে অনেকেই ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে সীমান্তের ওপারের ইশারায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।

বন্ধ কারখানার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিল্প মালিকদের সহযোগিতা চেয়েছি। শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বন্ধ কারখানা খুলে দেবেন এবং যাদের কারখানা বন্ধ থাকবে তাদের তালিকা দেবেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আজ বিকেল তিনটায় শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হবে।




১১ বছর পর নতুন কাঠামোতে আজ যারা বেতন পেলেন

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী আজ সকালে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীরা বেতন পেয়েছেন। তাদের মুঠোফোনে সেই বার্তা পৌঁছে গেছে। অক্টোবর মাসের বেতনের পাশাপাশি আগের তিন মাসের (জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর) বাড়তি বেতনের বকেয়া টাকাও পেয়েছেন।

 

রোববার (০১ নভেম্বর) বিভিন্ন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও আট লাখ পেনশনভোগীর প্রায় সবাই বাড়তি বেতন পেলেও বেতন নির্ধারণ (পে ফিক্সেশন) করতে না পারায় কেউ কেউ বেতন পাননি। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত যারা বেতন নির্ধারণ করতে পেরেছেন তারাই আজ বেতন পেয়েছেন। বাকিরা যথাসময়ে বেতন নিধারণ করতে না পারায় আজ বেতন পাননি। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তারাও পেয়ে যাবেন।

 

এদিকে ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের নতুন কাঠামোয় বেতন নিয়ে কাজ চলমান আছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এছাড়াও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা শিগগিরই নতুন পে স্কেলের আওতায় আসছেন এমন কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

এদিন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন। তবে কবে নাগাদ নতুন বেতনকাঠামো (পে স্কেল) কার্যকর হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি তিনি।

 

বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সকাল ১০টার পর থেকে তাদের মুঠোফোনে নতুন বেতনের হিসাবে টাকা পাওয়ার বার্তা এসেছে। যাদের পে ফিক্সেশন চূড়ান্ত হয়নি তারা আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

 

সূত্রগুলো জানায়, নতুন বেতনকাঠামোতে কিছু জটিলতা রয়েছে এখনও।

 

এসব সমস্যা দূর করতে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ; আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ বেশ কিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনেক কর্মচারী আবেদন করেছেন।

জানা গেছে, কর্মচারীদের অভিযোগ, নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতা ও গ্রেডের ক্রমে অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। বাড়িভাড়া ভাতা নিয়েও রয়েছে অসঙ্গতি। ফলে কেউ প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আবার কারও ক্ষেত্রে পদোন্নতির পরও মোট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আজ পর্যন্ত এগুলোর সুরাহা হয়নি।

 

১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং গ্রেড ১২ থেকে ২০ পর্যন্ত মূল বেতন ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন এ বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়িত। তবে একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে।

 

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোতে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতনকাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০–২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পেয়েছেন। গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে তা যুক্ত হয়েছে। তবে ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত তারা এ বৃদ্ধির ৭৫ শতাংশ পাবেন এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিসহ নতুন বেতন স্কেলের ১০০ শতাংশ কার্যকর হবে।

 

অন্যান্য সব ভাতা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে হারে পাওয়া যাচ্ছিল- সেই বিদ্যমান হারেই দেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত সংশোধিত ভাতার হার ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে। এর আগে সর্বশেষ জাতীয় বেতনকাঠামো চালু হয়েছিল ২০১৫ সালে। সেটিই এত দিন সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধির ঘটনা ছিল। ওই সময় সর্বোচ্চ গ্রেডে মূল বেতন ৯৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন গ্রেডে ১০১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।




মিরপুরে আজও পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

শিল্পকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে আজও রাজধানীর মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে ।

 

সোমবার (০২ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৯টার দিকে পোশাকশ্রমিকরা রাস্তায় অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেন।

 

তবে তারা আবারও বসার চেষ্টা করায় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলমান রয়েছে।

 

মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করতে এসেছিলেন, আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি।’

 

এদিকে একই দাবিতে গাজীপুরেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা।

 

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে একদল শ্রমিক মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

 

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাজারো শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় অবস্থান নেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্প পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন।

 

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সকালে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

তিনি বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এরইমধ্যে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন।




রাজধানীতে ৬ রুটে ৮৬১ বাস নিয়ে চালু হলো ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’

রাজধানীতে ৬টি রুট ও একটি সার্কুলার রুটে ৮৬১টি বাস নিয়ে চালু হলো বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম।

রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজ পদ্ধতিতে বাস পরিচালনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই বাস রুট রেশনালাইজেশন নিয়ে কাজ করছি। এটি দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্নের প্রকল্প। তবে বাস মালিক ও শ্রমিকদের অসহযোগিতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এতদিন তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ঢাকাবাসী একসময় মনে করেছিল, এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। আগে রাজধানীতে ৯৮টি বাস রুট ছিল। বিভিন্ন ব্যানারে বাস চলাচল করায় চালকদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা হতো, ঘটত দুর্ঘটনা। পরে রুটের সংখ্যা কমিয়ে ৩২টিতে আনা হয়। এর মধ্যে আজ ছয়টি রুটে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আগে ছয়টি রুটে ১৮টি আলাদা ব্যানারে বাস চলাচল করত। সেগুলোকে একটি কোম্পানির আওতায় আনা হয়েছে। এখন শৃঙ্খলার সঙ্গে বাস চলাচল করবে। এতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও বিশৃঙ্খলা কমবে। বাসচালক ও শ্রমিকেরা বেতনভিত্তিক ব্যবস্থায় কাজ করবেন।

তিনি আরও বলেন, ২৫টি সার্কুলার বাস রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব রুটে ছোট আকারের বাস চক্রাকারে চলাচল করবে। প্রতিটি বাস নির্ধারিত রুটে সারাদিন চলবে। আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে মিনি বাস পাওয়া গেলে বাকি চারটি রুট নিয়েও কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপাতত ছয়টি রুটে পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৩২টি রুটের বাসের জন্য থাকবে আলাদা আলাদা রং ও নম্বর। বাসের সামনের ডিজিটাল প্লেট দেখেই যাত্রীরা বুঝতে পারবেন, কোন বাস কোন রুটে চলাচল করছে।