মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, গ্রেফতার ২৬

রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মোট চার মামলায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে এসব মামলা দায়ের করা হয়।

মিরপুর মডেল থানার ওসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় তিনটি এবং কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর মডেল থানার তিন মামলার দুটির বাদী পুলিশ এবং অন্য মামলাটি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। অন্যদিকে, কাফরুল থানার মামলাটিও কর্তৃপক্ষ দায়ের করেছে ডিএনসিসি। প্রত্যেক মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সে হিসাবে চার মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে প্রায় দুই হাজার জনকে।

জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছিল।

অভিযানের একপর্যায়ে ভাসমান দোকান সরানোর সময় ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।




যৌথ অভিযান নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিত প্রক্রিয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে যৌথ অভিযানের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিরসনে এ কার্যক্রম প্রতিনিয়ত পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও জোরদার করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় আনসার ও ভিডিপির নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির একটি সুপরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর স্থাপনের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩.৪২৮ একর (প্রায় ১১ বিঘা) জমি আনসার বাহিনীর সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বর্তমানে খিলগাঁও থেকে পরিচালিত আনসার সদর দপ্তরের অপরিসর জায়গায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করতে এখানে একটি আধুনিক ও বৃহৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছে। এ ছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এটি দেশের সর্ববৃহৎ ফোর্স।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের আবাসন সংকট নিরসনে এখানে ডরমেটরি এবং ব্যারাকে স্থান সংকুলানের জন্য ঢাকার আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার বাহিনীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাদের আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবি-দাওয়া পূরণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারও দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কেবল প্রত্যাহার নয়, বরং যথাযথ বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা এবং ক্রিমিনাল অফেন্সের মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস; এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না।’

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে অটোমেশন ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে এবং রাস্তায় যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে। এ ছাড়া রাস্তা খনন ও নির্মাণকাজের ফলে যেন যানজট না হয়, সেজন্য পুরো রাস্তা একসঙ্গে না কেটে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ শেষ করে অবিলম্বে পুনর্নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ পিএসসি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




সৌদির নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নয়, হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা মোহাম্মদ বিন সালমানের

হুথিদের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তার অভিযোগ, হুথিরা অরাজকতা ও ধ্বংসের পথ বেছে নিয়েছে, যার ফলে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষসহ পুরো অঞ্চল ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

বুধবার শুরা কাউন্সিলে বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন প্রিন্স সালমান। তিনি বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন কোনো হামলা বা হুমকির জবাব দিতে দেশটি সামান্যতম দ্বিধাও করবে না।

এ সময় গত আগস্টে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মক্কা চুক্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স। তাঁর ভাষ্য, ওই চুক্তির মধ্য দিয়ে সৌদি নেতৃত্বের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা, উত্তেজনা ও সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব থেকে সৌদিকে সুরক্ষিত রাখা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সমন্বয় করাই এর লক্ষ্য।

সৌদি আরব সামরিকভাবে প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি উত্তেজনা কমাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান সালমান। তিনি বলেন, উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য সৌদি আরব সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে এর কোনো কিছুই দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করে করা হচ্ছে না।

লোহিত সাগরে হুথিদের জাহাজে হামলা এবং এসব হামলা ঠেকাতে বহুজাতিক প্রতিরক্ষা মেরিটাইম জোটের উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স। তাঁর মতে, লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেবকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

এদিকে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে সংঘাত চলছে। এ সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে হুথিরা। জবাবে সৌদি বিমানবাহিনীও শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে। সূত্র : আল-জাজিরা।




প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুমিল্লায় মহাসড়কের দুপাশে হাজারো মানুষের ঢল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফর উপলক্ষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশ দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত ১০৪ কিলোমিটার মহাসড়কজুড়ে অবস্থান নিয়ে স্বাগত জানানোর জন্য বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সড়কপথে ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন। সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে উৎসবে আমেজ বিরাজ করছে ।

প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখা এবং শুভেচ্ছা জানানোর জন্য সকাল ৯টা থেকেই মহাসড়কের উত্তর পার্শ্বে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেন।

মহাসড়কের দাউদকান্দিতে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র কুমিল্লা বিভাগীয় সংগঠনের সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার  নেতৃত্বে এবং এবং দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেনসহ অসংখ্য নেতৃবৃন্দ রয়েছেন মহাসড়কের পাশে।

চান্দিনায় স্থানীয় এমপি আতিকুল ইসলাম শাওনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মহাসড়কের পাশে অবস্থা নেন।

মহাসড়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট নিমসারের কলেজের পূর্বপ্রান্তে স্থানীয় সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বহর প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানাতে অবস্থান নেয়।

এদিকে নিমসারের জুনাব আলী কলেজ গেট থেকে শুরু করে পশ্চিম দিকের মিল গেট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থান নেয় অবস্থান নেই এলাকাবাসী।

মহাসড়কের পদুয়ার বাজার এবং আলেখারচর অংশে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও কুমিল্লা মহানগর বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক অবস্থান নেন। দলীয় স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

স্থানীয় এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান নেন। কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুর নেতৃত্বেও রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানানোর জন্য অবস্থান নিয়েছেন। মহাসড়কের সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রাম অংশে চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম, মনোরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোটের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান নেন।




ফেনীর পথে প্রধানমন্ত্রী

একদিনের সফরে ফেনীর পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে সরকারপ্রধানের গাড়িবহর সড়ক পথে যাত্রা করে।

এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

একটি গণমাধ্যমকে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনীতে যাচ্ছেন। গুলশানের বাসা থেকে রওনা হয়ে রাজধানী অতিক্রম করছে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর। ফেনীতে দিনব্যাপী নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।

দিনের কর্মসূচি

দুপুর সাড়ে ১২টায় পশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন, দেড়টায় ফুলগাজী বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন, দুপুর ২টায় ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাক বাংলোতে স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং বিকেল সাড়ে ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের সন্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে যোগদান।

দুপুরে ফুলগাজী ডাক বাংলোতে জোহরের নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্নভোজ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেনীতে তারেক রহমানের এটিই প্রথম সফর।

এর আগে, সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে গত ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসার পথে ফেনীর পাইলট স্কুল মাঠে এক নির্বাচনি জনসমাবেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন তারেক রহমান।




বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সার্বিক পরিবেশ ইতিবাচক : দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সার্বিক পরিবেশ ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

বুধবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের সময় বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হবে। দিন, মাস নিয়ে কথা হয়নি। তাড়াহুড়ো করে খুব বেশি লাভ হয় না। তবে খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সার্বিক পরিবেশ ইতিবাচক। দুই পক্ষের মানুষ চায় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকুক।

তিনি জানান, দুই দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে কথা হয়েছে। দুই দেশের একটা আগ্রহ আছে।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর ও শেখ হাসিনাকে ফেরতের প্রশ্নে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক বিষয়ের কথা এখানে বলতে চাই না। আর অজিত দোভালের ঢাকা সফরের বিষয়ে তিনি বলেন, আচ্ছা, এটা তো আমার মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে ভাই।




প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ জন্য বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আগামীকাল ১ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’ (The Age of Longevity: Rethinking Systems for Longer Lives)।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি ও অগ্রগতির ফলে বিশ্বের দেশে দেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। দীর্ঘায়ু মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে; একই সঙ্গে দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাগুলোকে সময়োপযোগী করে তোলার প্রয়োজনীয়তাও সামনে নিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, প্রবীণদের স্বার্থরক্ষায় সরকার সচেতন ও সতর্ক। একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি প্রবীণ বয়সে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি, বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লিখিত কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ধারণার আলোকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। প্রবীণদের অবহেলা না করে তাঁদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।

দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে।

প্রবীণ ব্যক্তিদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই একটি কল্যাণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।

তিনি বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র-তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি। প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থরক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে রাষ্ট্র ও সমাজে আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ যত বেশি বজায় থাকবে, সমাজে প্রবীণদের যত্ন, সম্মান ও মর্যাদা তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের এ শুভক্ষণে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা তাঁর সরকারের লক্ষ্য, যেখানে বয়সে তরুণ কিংবা প্রবীণ প্রতিটি মানুষ তাঁর সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে।

তিনি ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস, ২০২৬-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।




জাপানের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে দুই দেশের উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মঈন খান।

সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপান দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জাপানের সহযোগিতা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা করি।

বৈঠকে জাপানের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও টেকসই সমাজ বিনির্মাণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এসব খাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা। এ সময় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের প্রথম সচিব কোমিনে কেন, দ্বিতীয় সচিব সোমা হানা, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জন্য চীন-পাকিস্তান দুয়ার খুলে দিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপের সুযোগ দিতে চীন ও পাকিস্তান তাদের দুয়ার খুলে দিয়েছে। চীন বাংলাদেশি চিকিৎসকদের ফেলোশিপে নেওয়ার পাশাপাশি দেশটির হাসপাতালগুলোতে তাদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে এসে চিকিৎসকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে চীনে নিয়ে গিয়েও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের ১৩৫ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চায়না তাদের দুয়ার খুলে দিয়েছে। আমাদের ডাক্তারদের বলছে ফেলোশিপ করানোর জন্য পাঠাতে। তাদের প্রতিটি হাসপাতালে যেন আমাদের ডাক্তারদের প্রবেশের সুবিধা থাকে। তারা এসে আপনাদের প্র্যাকটিক্যাল বা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেবে। মাঝে মাঝে আমাদের ডাক্তারদেরও সেখানে নিয়ে গিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেবে।

পাকিস্তানের সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা বলেছে, এখান থেকে ক্যানসারের রোগী নিয়ে যাবে, তারা চিকিৎসা করবে। আবার এখানে এসে আমাদেরকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেবে।

থ্যালাসেমিয়া ও এইচআইভি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চিকিৎসার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি করাও আপনাদের এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। থ্যালাসেমিয়া কী হারে বাড়ছে, আপনারা আমার চেয়ে বেশি জানেন। আমি এখন গ্রামে গিয়ে মানুষকে বোঝাই, আর জনগণও বিষয়টি গ্রহণ করছে।

বিয়ের আগে বর-কনের থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, স্বামী ও স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বিয়ের আগে ছেলে ও মেয়ের রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত। তিনি বলেন, আপনারা দয়া করে এখন বিয়ের আগে মেয়ে ও ছেলের ব্লাড টেস্ট করাবেন থ্যালাসেমিয়ার জন্য। এটা রক্তের মধ্যে পাওয়া যায়।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে সব রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সন্তানদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করার পাশাপাশি চিকিৎসকেরা যেখানে যাবেন, সেখানেই মানুষকে থ্যালাসেমিয়া, এইচআইভি ও ছোঁয়াচে রোগ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। হাত ধোয়া ও পরিচ্ছন্নতার মতো বিষয়েও জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হাসান জাফরের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক এবং ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ।




বিনিয়োগ-রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে আরও সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ সময় রোহিঙ্গা সংকটে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংকট সমাধান ও টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের উদ্যোগ সহায়ক হবে।

তিনি তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে আরও সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে প্রস্তুত।

এ সময় তিনি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আলোচনা আরো এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।

এ সময় তিনি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাঁর নিজের এবং বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চীন সফরের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ সকল সফর ও বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে।

তিনি  চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরো শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।

এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য রাষ্ট্রপতি চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত জটিল ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা চান। রাষ্ট্রদূত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রপতি চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করে বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।