সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) ও এর আওতাধীন কোম্পানিসমূহের কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া বিসিআইসি ও বিএডিসি কর্তৃক রাসায়নিক সারের উৎপাদন, মজুদ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত দুই বছরে গ্যাস সংকটের কারণে যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানায় মাত্র তিন দিন সার উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া আশুগঞ্জ সার কারখানায় গত ১৯ মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সার সংকট নিরসন ও ব্যয় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে সার উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে পে-অফকৃত সার কারখানাগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বন্ধ সার কারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে পুরোনো সার কারখানাগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বীজ উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের ক্ষেত্রে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, তা পর্যালোচনার পাশাপাশি সার সরবরাহ ব্যবস্থার সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখতে ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিএডিসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী-সে বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাগণ, বিসিআইসি, বিএডিসি এবং এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তাগণ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




পুলিশের পাহারায় আল-আকসা প্রাঙ্গণে শত শত ইসরায়েলি

ইহুদিদের সুক্কোত উৎসবের পঞ্চম দিনে পুলিশের নিরাপত্তায় পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছেন শত শত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৫০০ জন সেখানে প্রবেশ করেন।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে সাবেক নেসেট সদস্য ও জেহুত পার্টির নেতা মোশে ফেইগলিনকে মসজিদ প্রাঙ্গণের ভেতরে ধর্মীয় আচার পালন করতে দেখা গেছে।

সম্প্রতি ইসরায়েলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও মন্ত্রীও আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশের পর বেন-গভির বলেন, ‘আমরাই এই বাড়ির মালিক, আমরা তাদের পরাজিত করেছি।’

আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থান এবং একই স্থাপনা ইহুদিদের কাছেও পবিত্র হিসেবে বিবেচিত। মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতা ও বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সুক্কোত ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। উৎসবকে কেন্দ্র করে আল-আকসা প্রাঙ্গণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিও জোরদার করা হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা




ট্রাম্প প্রশাসন পরিবর্তনে মার্কিন ভোটারদের খোলা চিঠি আইআরজিসির

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দেশটির ভোটারদের উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিকদের’ হাত থেকে দেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ২৫ পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে আইআরজিসি বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসনে ‘পরিবর্তন’ আনা প্রয়োজন। চলমান যুদ্ধ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মার্কিন প্রশাসন দেশটির জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি।

চিঠিতে ইরানকে চলমান যুদ্ধে বিজয়ী হিসেবে তুলে ধরেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, কর্মসূচি বন্ধ করা কিংবা অন্য যেসব লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান শুরু করেছিল, সেগুলোর কোনোটি অর্জিত হয়নি।

তবে আইআরজিসি স্বীকার করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থাপনা এবং কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীটির দাবি, হামলার মূল উদ্দেশ্যগুলো অর্জন করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

ইরানের জনগণ ও মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মিল রয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আইআরজিসির ভাষ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে দুই দেশের সাধারণ মানুষই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি ট্রাম্পকে ‘মিথ্যুক’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে যে ক্ষতি হচ্ছে, সে সম্পর্কে মার্কিন নাগরিকেরা পর্যাপ্ত তথ্য জানেন না।

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনাকে যুদ্ধ শুরুর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন ট্রাম্প। তবে তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইরানের দাবি, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বেসামরিক কাজে জ্বালানি ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। তবে কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ওই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এই পথে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল রপ্তানি হতো, বর্তমান রপ্তানি তার প্রায় ৭৭ শতাংশ।

সূত্র: আল-জাজিরা।




সমঅধিকারের ভিত্তিতে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীসহ অন্যান্য সকল সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। সকল সম্প্রদায়ের সমান অধিকার রয়েছে। সবার সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করে একটি সম্প্রীতিপূর্ণ দেশ গড়ে তুলতে হবে।

আজ দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের সৃষ্টি করা সংকট থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নৃ-গোষ্ঠী, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, দুঃখ-কষ্ট ও প্রত্যাশার বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন বলেও জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফল করতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

সংরক্ষিত নারী আসনে এই তিন সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের বেশি করে মনোনয়নের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সব সম্প্রদায়ের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন বিষয় যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের উন্নয়নে সবার প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একা কোনো পক্ষের এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতিকে আসন্ন দুর্গাপূজায় ঢাকেশ্বরী ও রমনা কালী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানায় প্রতিনিধিদল।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং উপস্থিত থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

এসময় রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিনিধিদল তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরে। জবাবে তিনি সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধিদলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের উপদেষ্টা তপন চন্দ্র মজুমদার, ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জন গমেজ, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উপদেষ্টা সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।




চীনের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্ব আরোপ প্রধানমন্ত্রীর

চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ও নিউইয়র্কের বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করায় তাঁকে অভিনন্দন জানান চীনা রাষ্ট্রদূত।

ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় চীনের সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন।




ফ্যামিলি কার্ডের ভাতা: মাসের ২০-২৫ তারিখে নির্ভুল পে-রোল পাঠানোর নির্দেশ

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের নিয়মিত ও সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি থেকে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগীদের নিজ নিজ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব, টাকাপে (TakaPay) ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জিটুপ (G2P) পদ্ধতিতে সরাসরি ভাতার অর্থ পাঠানো হচ্ছে।

সঠিক ও প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতি মাসের কিস্তির অর্থ পাঠাতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/শহর সমাজসেবা কর্মকর্তাদের নির্ভুল পে-রোল পাঠানো আবশ্যক।

নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতি মাসের নির্ধারিত ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে পে-রোল পাঠানোর আগে উপকারভোগীদের মোবাইল ও ব্যাংক হিসাব নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)-এ হালনাগাদ করতে হবে।

এ ছাড়া বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী কোনো উপকারভোগীর মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

চিঠিতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভাতার অর্থ নিয়মিতভাবে পাঠানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে উপকারভোগীদের নিজস্ব এমএফএস, টাকাপে ও ব্যাংক হিসাবের অনুকূলে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানো নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) মো. মোশাররফ হোসেনের সইকৃত পত্রটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।




প্রাথমিকের বঞ্চিতরা ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগপত্র পাবেন : শিক্ষামন্ত্রী

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগবঞ্চিতরা আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগপত্র পাবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জন বাকি আছেন।

সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় তিনি এ কথা জানান। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জন বাকি আছেন। তারা আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ পাবেন। যারা পাবেন না তাদের নিয়ে আমরা কাজ করব।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল নিয়ারলি ১০ লাখ ৬৯ হাজার। যথাযথভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া মেইনটেইন করার জন্য আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। আমাদের কাছে ৩৩ জনের ৮৫৪ জনের ফাইনাল অ্যাপ্লিকেশন এসেছে। ডিপিও ইস্যু করে নিয়োগপত্র। সে সময় দেখা গিয়েছে তাদের ভেরিফিকেশন এবং অনেকেই ঠিকানা পাল্টিয়েছেন। সেগুলো পর্যায়ক্রমে তারা দিচ্ছে।

পর্যায়ক্রমে ভেরিফিকেশন হচ্ছে, ঠিকানা আসছে বলে জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যাদের হয়নি সেগুলো আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং সেগুলো রিভিউ করছি। ১ অক্টোবর পর্যন্ত এটা চলবে।




রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় জ্বালানি পরিবহনে বিলম্ব

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে আনা সম্ভব হয়নি। ২৪ সেপ্টেম্বর জ্বালানিবাহী কার্গো বিমানটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আসেনি।

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজকে ফোনে তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি আনা সম্ভব হয়নি। মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত পাকিস্তান কেন ওই বিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তার সঠিক কারণ বাংলাদেশ জানতে পারেনি।

তিনি জানান, ইউরেনিয়াম পরিবহনের জন্য নতুন সময়সূচি নিয়ে কাজ চলছে। রাশিয়া জানিয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানিটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এএনআইকে বলেন, ইউরেনিয়ামবাহী বিমান আসার কথা থাকায় বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছিল। কর্মকর্তারাও অপেক্ষায় ছিলেন।

তবে পরে রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা বাংলাদেশকে জানান, বিমানটির চলাচলের জন্য আকাশসীমা নিয়ে সমস্যা রয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমানটি পাঠানো হয়নি। শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নতুন করে সময়সূচি ঠিক করতে হতে পারে। তবে ঠিক কোন দেশ বা কর্তৃপক্ষ আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দিয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বিস্তারিত কিছু জানাননি। এ বিষয়ে রোসাটমের একজন প্রতিনিধির কাছে জানতে চেয়ে এএনআই ই-মেইল করেছে।

তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত রোসাটমের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

রূপপুর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে পদ্মা নদীর তীরে এ প্রকল্প নির্মাণ করা হচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। রূপপুর প্রকল্পে দুটি পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। এগুলো তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির চুল্লি। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা রয়েছে। রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে আসে। ওই চালান দেশে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতির নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে।

রোসাটমের নভোসিবির্স্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে ওই পারমাণবিক জ্বালানি তৈরি করা হয়। প্রথম চালানে ১৬৪টি নতুন জ্বালানি সমাবেশ ছিল। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে রাশিয়া থেকে একটি ভারী কার্গো বিমানে করে জ্বালানি সরাসরি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। পরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধী কনটেইনারে করে জ্বালানি ঢাকার বিমানবন্দর থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। এ জন্য ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত বিশেষ ‘গ্রিন করিডর’ তৈরি করা হয়েছিল। জ্বালানি পরিবহনের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ওই জ্বালানি হস্তান্তর করা হয়।




মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ মারা গেছেন

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী ও দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।

সোমবার সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট পরিবারের বরাত দিয়ে এ খবর নিশ্চিত করেছে। কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, সিতি হাসমাহকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশবাসী তাঁর মাতৃসুলভ ভূমিকা ও অবদানের কথা সবসময় স্মরণ করবে। একই সঙ্গে তিনি মাহাথির মোহাম্মদ ও সিতি হাসমাহর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

মালয়েশিয়ায় ‘ইবু নেগারা’ বা ‘জাতির মা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন সিতি হাসমাহ। নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি।

দেশটির প্রথমদিককার মালয় নারী চিকিৎসকদের একজন ছিলেন সিতি হাসমাহ। ১৯৫৫ সালে সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম কলেজ অব মেডিসিন থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। সেখানেই মাহাথিরের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। পরের বছর ১৯৫৬ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সাত সন্তান রয়েছে। সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন সমাজকর্মী মারিনা, ব্যবসায়ী মিরজান ও মোখজানি এবং কেদাহর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুখরিজ।

চিকিৎসক হিসেবে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করেছেন সিতি হাসমাহ। মাহাথিরের নিজ রাজ্য কেদাহেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৪ সালে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব নিয়ে দেশটির প্রথম নারী স্টেট মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান।

তবে ১৯৮১ সালে মাহাথির প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সিতি হাসমাহ দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। স্বামীর রাজনৈতিক জীবনে পাশে থাকলেও তিনি নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন, দরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় তাঁর কাজ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

১৯৯২ সালে মালয়েশিয়ার ব্যাডমিন্টন দল দীর্ঘ ২৫ বছর পর থমাস কাপ জয় করলে সিতি হাসমাহর আবেগঘন মুহূর্ত দেশটির মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সে সময় তিনি মালয়েশিয়ার ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। দলের খেলোয়াড়দের নিজের সন্তানের মতো দেখতেন বলে এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

মাহাথিরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা বিতর্কের মধ্যেও সিতি হাসমাহর জনকল্যাণমূলক কাজ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁকে আলাদা পরিচিতি দেয়। দেশ-বিদেশে মাহাথিরের সরকারি সফরেও প্রায়ই তাঁর সঙ্গী ছিলেন তিনি।

২০১৬ সালে প্রকাশিত স্মৃতিকথায় মাহাথিরকে তিনি কেদাহর ধানখেতের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে এবং নিজের পড়াশোনা শেষ করার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন।

সিতি হাসমাহর মৃত্যুতে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




রূপপুর প্রকল্প : অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে আসবে ইউরেনিয়াম

রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি তথা ইউরেনিয়াম আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে আসছে। মোট ৭টি চার্টাড ফ্লাইটে এই ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।

আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী যে রুট দিয়ে এই জ্বালানির আসার কথা ছিল তা নিয়ে একটি দেশের আপত্তি থাকায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি ফ্লাইট আসতে পারেনি। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে দেশটির আপত্তি আর না থাকায়  এখন অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌছাবে।

রবিবার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘একটি দেশ তাদের আকাশপথ ব্যবহারে বাধা দিয়েছিল। তবে রাশিয়া নতুন করে এই জ্বালানি সরবরাহের সময়সূচী দিয়েছে। আশা করছি অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই এই জ্বালানি বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা- রোসাটমের হয়ে বাংলাদেশের পিআর সংস্থা ট্রাইউইন গ্রুপ গণমাধ্যমকে শুরু থেকেই এই প্রকল্পের সার্বিক কর্মকান্ড সম্পর্কে অবহিত করে আসছে।

এই সংস্থার একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন,  সাধারণত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জ্বালানিবাহী ফ্লাইট বৃহস্পতিবার রাতে আসে। পরদিন সকাল বেলা জ্বালানিবাহী গাড়ি প্রকল্প এলাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। এতে রাস্তাঘাটে যানজট থাকে না এবং প্রকল্প এলাকায় নিয়ে যেতে সুবিধা হয়। এই হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে আগামী ১ অক্টোবর এই জ্বালানি দেশে পৌছাবে।

এর আগে রোসাটম এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এয়ার স্পেস না পাওয়ায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর একটি জ্বালানিবাহী কার্গো বাংলাদেশে আসতে পারেনি।

রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন  বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর রুপপুরের জন্য  জ্বালানি আসার কথা ছিল। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা এই জ্বালানি গ্রহণের জন্য প্রস্তুতও ছিলেন। কিন্তু কোন কারণে রাশিয়া থেকে এই এই জ্বালানিবাহী ফ্লাইটটি আর আসেনি।

রোসাটমের পক্ষ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রুপপুর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় তাদের ফ্লাইটটি বিলম্ব হচ্ছে।  এটি চলতি সপ্তাহে নাও আসতে পারে। এ বিষয়ে রোসাটম পরবর্তী ফ্লাইট কবে আসবে তা পরে জানানো হবে বলে জানায়। কিন্তু এটি মৌখিকভাবে জানালে হবে না কারণ এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয় আছে। এজন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাদের লিখিতভাবে পরের জ্বালানিবাহী ফ্লাইট কবে নাগাদ আসতে পারে তা জানাতে বলা হয়েছে।

জানা যায়, আসছে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২য় ইউনিটের পুরো জ্বালানি তথা ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে আসবে। এই সময়ে মোট ৭টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ১৬৩ টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসার কথা। এর সঙ্গে প্রথম ইউনিটের জন্য কিছু জ্বালানিও আসবে বলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে গতকাল জানিয়েছেন রুপপুর প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা।

খোজ নিয়ে জানা যায়, এরই মধ্যে ইউনিট- ১ এর ফুয়েল  রাশিয়া থেকে এনে তা লোড করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর রুপপুর প্রকল্পের আরও ফুয়েল আসার কথা ছিল। যদিও ইউনিট ২ এর ফুয়েল আগামী ৮ অক্টোবর আসার কথা। এখানে দুই রকমের ফুয়েল আসবে। প্রথম ইউনিটে যে ফুয়েল লোড করা হয়েছে এর সাইকেল টাইম হচ্ছে ১২ মাস। এই সময় পর এর একটি অংশ সরিয়ে ফেলা হবে। এই অংশটি আবার পুনরুদ্ধার করতে হবে। এক্ষেত্রে এবারের প্রথম ২টি ফ্লাইটে ইউনিট ১ এর প্রথম রিলোড আসার কথা।

গত বৃহস্পতিবার এই ফুয়েল আসার কথা ছিল। আরেকটি আসার কথা অক্টোবরের ১ তারিখে। যেহুতু কাছাকাছি সময়ের মধ্যে আসছে এজন্য সাধারণতভাবে ইউনিট ২ এর ফুয়েল আসছে এমনটি বলা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, এয়ারস্পেসের যে জটিলতার কথা বলা হচ্ছে এতে ধারণা করা যায় যে, রাশিয়ার জ্বালানিবাহী ফ্লাইটটি রাশিয়া থেকে উড্ডয়নের পর বিভিন্ন দেশের উপর দিয়ে আসবে। আর এই জ্বালানি যেহুতু ইউরেনিয়াম, যা খুবই স্পর্শকাতর হয়তো কোন দেশ তার উপর দিয়ে এই জ্বালানি নিয়ে যেতে রাজি হয়নি।