বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসন এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারের ওপরে উঠেছে।

জানা গেছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৮২ ডলার বা ১.৭৪ শতাংশ বেড়ে ১০৬.১৪ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.১৪ ডলার বা ১.২৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩.৫৫ ডলারে পৌঁছায়।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও তেলের বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। গত বৃহস্পতিবার ব্রেন্টের দাম ৩.৪ শতাংশ বেড়ে ১০৬.৬০ ডলারে উঠেছিল এবং দিনের একপর্যায়ে ১০৮ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনার খবর প্রকাশ হলে শুক্রবার দাম কিছুটা কমে ১০৫.৭ ডলারে নামে।

বাজারে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা হচ্ছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত সরবরাহ হয়। ফলে সেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে এবং তেলের দামে তার প্রভাব পড়ে।

সূত্র : আলজাজিরা।




সংবিধানে ফিরছে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা’; জানুয়ারিতে সংশোধন বিল, পাস হলেই গণভোট

আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমদ। সেই সঙ্গে সংবিধানের মূলনীতিতে ‌‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম সেন্টারে সংবিধান সংশোধন কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা জানান। এদিন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করে কমিটি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মতবিনিময় সভায় জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বিভিন্ন জার্নালিস্ট ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারা সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে তফসিল এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ে বিস্তারিত মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছেন। অনেকেই লিখিত প্রস্তাব দেবেন। এসব প্রস্তাব ও আলোচনা রিপোর্ট ও পুস্তিকা আকারে প্রণয়ন করা হবে।

তিনি বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনাসহ বেশ কিছু অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আসবে। এসব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে গণভোটের প্রয়োজন হবে।

সংবিধান সংশোধনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সম্পাদকদের অনেকেই বিরোধীদলের সদস্যদের অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরাও এর সঙ্গে একমত। আমরা তাদের বারবার আহ্বান জানিয়েছি এবং এখনো জানাই। তারা কমিটিতে যোগ দিলে আমরা স্বাগত জানাবো। আমরা চাই আমাদের মধ্যে কোনো বিভক্তি না থাকুক, ঐকমত্যের ভিত্তিতেই আমরা কাজ করতে চাই।

গণভোট প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী বাতিল হওয়ায় ১৪২ অনুচ্ছেদটি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। সংবিধানে এমন কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, যেমন প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২। এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে অবশ্যই জনগণকে গণভোট দিতে হবে। বিল পাসের পর এই সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সুরক্ষায় গণভোটের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য তারা ১৭ বছর সংগ্রাম করেছে, ভবিষ্যতের কোনো সংসদ যেন তা সহজে বাতিল করতে না পারে, সেজন্য এ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলোতে সংশোধনী আনতেও যেন গণভোটের প্রয়োজন হয়, সেই বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংবিধান সংশোধনে অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের অগ্রাধিকার হলো জুলাই জাতীয় সনদ। তবে নির্বাচন ইশতেহার অনুযায়ী ম্যান্ডেট পাওয়া বিষয়গুলোও আমরা ধারণ করব। সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’, যা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রস্তাবনায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে অনুচ্ছেদ ৮-এ যুক্ত করেছিলেন, তা আমরা ফিরিয়ে আনব। এটি আমাদের ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি।

সংবিধান সংশোধনের সময়সীমা সম্পর্কে কমিটির আহ্বায়ক জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন কমিটির রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপনের জোর প্রচেষ্টা চলছে। ওই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিল আসবে। আশা করা যাচ্ছে, জানুয়ারির অধিবেশনে (বছরের প্রথম অধিবেশন) বিলটি সংসদে আসতে পারে। এরপর বিলের ওপর আলোচনা ও সংশোধনী শেষে পাস হলে গণভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।




হরমুজ প্রণালিতে ১৯ জাহাজে আইআরজিসির হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাবের মধ্যে গত ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে ১৯টি জাহাজে আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স’-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, শুক্রবার ও শনিবার কৌশলগত সমুদ্রপথটিতে ‘বিধি লঙ্ঘনকারী’ হিসেবে চিহ্নিত ১৯টি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে আইআরজিসি। অননুমোদিত পথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টার জেরে প্রথম রাতে ১২টি এবং দ্বিতীয় রাতে ৭টি জাহাজের ওপর এই হামলা চালানো হয়।

ট্রাম্প যখন হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ থাকার দাবি করছিলেন, ঠিক তখনই এই হামলার ঘটনাগুলো ঘটল। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, এসব অভিযান ওয়াশিংটনের দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। পাশাপাশি তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ ওই এলাকা অতিক্রম করলে সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে পড়বে।

সাম্প্রতিক কয়েক ঘণ্টায় প্রণালির দক্ষিণে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর দিকে ইরানের বেশ কয়েকটি ক্রুজ মিসাইল ও আক্রমণকারী ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সূত্র: ফার্স নিউজ এজেন্সি।




উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত, মানসম্মত ও যুগোপযোগী করতে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সাক্ষাৎকালে উপাচার্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। তিনি প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শিক্ষা কার্যক্রম, মিডিয়া সেন্টার, একাডেমিক স্কুল, স্টাডি সেন্টার, বহির্বিশ্বে পরিচালিত শিক্ষা কার্যক্রম, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থাকা প্রান্তিক ও কর্মজীবী মানুষ, গৃহিণী, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী এবং দুর্গম এলাকায় বসবাসকারীদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপাচার্য আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে কৃষকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দল-মত-পথ নির্বিশেষে কৃষকদের সামগ্রিক উন্নতি ও সার্বিক স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে কৃষকদের একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

রবিবার দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে সমিতির ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসলে রাষ্ট্রপতি এই কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকালে সমিতির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে ছিলেন আব্দুল জলিল, হাসান আলী, মোছা. বেলী বেগম, আবু তালেব জোয়াদ্দার, হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন (পল্টি) ও শওকত আলম।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষকরা হচ্ছেন দেশের আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ। তারাই দেশ গড়ার যোদ্ধা। এই কৃষকদের সম্মান জানাতে ও অনুপ্রাণিত করতে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন-নতুন উদ্ভাবন ও অসামান্য অবদানের জন্য রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

তিনি কৃষকদের সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রীসহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন এবং কৃষকদের স্বার্থকে একটি আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এ দেশের সবচেয়ে ইতিবাচক খাত কৃষি। কৃষকের ঘাম, পরিশ্রম, নতুন-নতুন উচ্চফলনশীল জাত ও কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের ফলে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা দুর্নীতি করে না বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে অবদান রাখেন।

কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষি পণ্য ও শস্য যাতে সহজে ভোক্তার নিকট পৌঁছাতে পারে, কৃষক যাতে সঠিক মূল্য পায়, সেজন্য একটি কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে কৃষকদের আরও উদ্যোগী, সচেতন ও সজাগ হবার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি ও কৃষকদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার একটি নতুন স্কিম চালু করেছে, যার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও কৃষকদের দশ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।

এসময় তিনি কৃষকদের সহজ শর্তে কম সুদে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণসহ কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন এবং অচিরেই কৃষকরা এর সুফল পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দল কৃষকদের উন্নয়নে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, বিনা সুদে ঋণ সুবিধা, কৃষকদের স্বীকৃতি দিতে কৃষক দিবস উদযাপন ও কৃষকদের জাতীয় পুরস্কার প্রদান, শস্য বীমা চালু, জেলা-উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব, বজ্রপাত ও সাপে কাটা থেকে সুরক্ষা ও কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহ সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি-দাওয়া রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে উৎপাদিত ফল-মূল, কৃষিজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা ও অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসকল কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে আসার জন্য সমিতির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

এছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প-কারখানা, আধুনিক হিমাগার স্থাপনে উদ্যোগ গ্রহণ ও খামারে আধুনিক সোলার প্যানেল ব্যবহার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। এসময় এনজিও থেকে গৃহীত ঋণের সুদ কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।

কৃষক সমিতির সভাপতি ঈশ্বরদীতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য সত্তর-ঊর্ধ্ব কৃষকদের সংবর্ধনা ও আধুনিক কৃষিপণ্য প্রদর্শন ও বাণিজ্যিকীকরণে মেলা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণের কথা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেন। রাষ্ট্রপতি মেলায় উপস্থিত থাকার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।




বাংলাদেশ-চীন ঐতিহাসিক বন্ধনে আবদ্ধ : চীনা রাষ্ট্রদূত

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বহুমুখী সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ ও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীন ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ দুই দেশ এবং তাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক বন্ধনে আবদ্ধ। বিশেষ করে চীনের ইউনান প্রদেশ ও বাংলাদেশের মধ্যে পরিবহন, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি, পর্যটন ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়াবে এবং ‘বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও বাণিজ্যিক সংগঠন বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলগুলোর সফর দুই দেশের সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, চীনা দূতাবাস দুই দেশের পারস্পরিক উন্নয়ন, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একটি সেতু হিসেবে কাজ করে যাবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যৌথ সমৃদ্ধি অর্জনে চীন দৃঢ় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) ইউনান প্রাদেশিক কমিটির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য চাও চুনমিন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুল হক নান্নু।




চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করলে তদন্ত করবে পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি ভিকটিম হয়েছেন, এটি পুলিশ প্রাথমিকভাবে দেখেছে। তবে ঘটনাটি নিয়ে আরও বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। এ ঘটনায় জিডি বা মামলা করার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং শিগগিরই মামলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গতকাল সালমান মুক্তাদিরের একটি স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এ বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেন। তিনি বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা খুবই স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন এবং বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল হিসেবে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ ছিল, চাঁদা না দেওয়ার কারণেই তার স্টুডিওতে ভাঙচুর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সালমান মুক্তাদির ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করেননি। এমনকি তিনি নিজেই বলেছেন, তার কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি এবং চাঁদা চাইলে তিনি দিতেন। ফলে নির্দিষ্টভাবে কার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে, তা এখন পর্যন্ত চিহ্নিত করা যায়নি।

এদিকে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল হিসেবে যে ঢালাও অভিযোগ করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। সালমান মুক্তাদির যদি চাঁদাবাজির বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করেন, তাহলে পুলিশ সেটি তদন্ত করে দেখবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ঘটনাস্থল মানিকদী নামাপাড়া, যা ক্যান্টনমেন্ট থানার অন্তর্গত। সেখানে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। এক পক্ষ একটি বিল্ডারস প্রতিষ্ঠান এবং অন্য পক্ষ একজন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ওই অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার পক্ষে কিছু লোক রাতের অন্ধকারে জায়গাটি দখল করতে যায়। সেখানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। ওই স্থাপনার মধ্যে সালমান মুক্তাদিরের একটি টিনশেড স্থাপনা ছিল, যেখানে সম্ভবত বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরির কাজ হতো। ওই স্থাপনাতেও বেশ কিছু ভাঙচুর হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে একটি প্রাথমিক তদন্ত হয়েছে। তবে বিষয়টির বিস্তারিত জানতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সালমান মুক্তাদিরের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি। তার ফেসবুক লাইভে দেয়া বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে ঘটনাটি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখান থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা, কিছু দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।




সালমানের স্টুডিওতে হামলায় জমির দখলের বিবাদ থাকতে পারে: পুলিশ

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের মানিকদির নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে গভীর রাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পেছনে জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে বিবাদ থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মাহিদুল ইসলাম।

রবিবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ নিউগিনি প্রপার্টিসে ভাঙচুরের ঘটনায় ঘটনাস্থলে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মাহিদুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাতের ঘটনায় কিছু লোক দলবদ্ধভাবে এখানে ভাঙচুর করেছে। এই ভাঙচুরের ঘটনায় ইমিডিয়েটলি পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট থানার অফিসার ইনচার্জ, ইন্সপেক্টর তদন্ত, ইন্সপেক্টর অপারেশন এবং অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা দ্রুত এসে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। রাতেই অপারেশন চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে। তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছি। এই ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান। এই ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে পারব।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহিদুল ইসলাম বলেন, এখানকার যে ঘটনা, আমি এই ঘটনাটায় পুরো টিম নিয়ে পরিদর্শনে এসেছি, তদন্ত করেছি। প্রতিটি ঘটনা ঘটলেই সেটা ইমিডিয়েটলি সেটা ডিটেকশন করেছি।

হামলাকারীদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখনও আন্ডার ইনভেস্টিগেশনে আছি। দলবদ্ধভাবে লোকজন এসেছে, সে কারণে আমরা তিনজনকে গ্রেফতার করেছি। তিনজনের একজনের নাম হচ্ছে মামুন; তার বাড়ি গফরগাঁও, তিনি ভাষানটেক বস্তিতে থাকেন। একজনের নাম আসলাম; তার বাড়ি টাঙ্গাইল, তিনি অটোচালক। আরেকজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। তার নাম মুন্না, তিনি ভাষানটেক বস্তিতে থাকেন।

হামলার কারণ জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করে, হয়তো আরও তথ্য পেলে আপনাদের সুস্পষ্ট করে বলতে পারবো।




জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউইয়র্ক থেকে আজ সকালে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপুল আজ সকালে এ কথা জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটসের ইকে-৫৮২ ফ্লাইটটি আজ সকাল ৮টা ২১ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৩০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

দুবাইয়ে যাত্রাবিরতি শেষে স্থানীয় সময় রাত ২টা ১৫ মিনিটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষ্যে নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শান্তি, গণতন্ত্র, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবিক বিষয় এবং টেকসই উন্নয়নসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন।

নিউইয়র্কে চারদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী ৩০টি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

ঢাকা ফেরার আগে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী ইউএনজিএ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, ইউএনজিএর সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান এবং ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরকালে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে চারটি অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেন। এগুলোর মধ্যে ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস’ ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান।




দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে : মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সফল। দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ রক্ষা করে আমেরিকা থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে।’

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও জানান, ‘সরকার বা দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে ছাড় পাবে না, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সরকার কঠোরভাবে এসব দমন করবে।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী নিজেদের বক্তব্য সুদৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করেছেন। বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানরা প্রধানমন্ত্রীকে সাদরে গ্রহণ করেছেন।’

নেতাকর্মীদের ভিড় প্রধানমন্ত্রী পছন্দ করছেন না; এটি একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী।

প্রেস উইংয়ের সদস্যরা জানান, ৫ দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থ, সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন বিশ্বদরবারে। ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য তাঁর পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সফরসঙ্গীরা।

এসময় জাতীয় সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ সরকারের প্রতিনিধিদল বিমানবন্দর অভ্যর্থনা জানায়।