না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘গজনি’খ্যাত অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত

সুপারহিট সিনেমা ‘গজনি’তে খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয়ের মাধ্যমে উপমহাদেশজুড়ে পরিচিতি পান তিনি। মৃত্যুকালে অভিনেতার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ব্যবস্থাপক সিদ্ধার্থ তিওয়ারি।

দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন প্রদীপ, সম্প্রতি এক মাসের বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই। ১৯৫২ সালের ২১ জানুয়ারি মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে জন্মগ্রহণ করেন প্রদীপ। বিআর চোপড়ার ‘মহাভারত’-এ অশ্বত্থামা চরিত্রে অভিনয় করে টেলিভিশনে তার অভিনয়যাত্রা শুরু হয়।

১৯৮৫ সালে ‘এতবার’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। এরপর ‘অগ্নিপথ’, ‘কয়লা’, ‘সরফরোশ’ ও ‘মেজর সাব’-এ অভিনয় করে নজর কাড়েন তিনি। তবে ‘লগান’-এ দেবা সিং সোধি এবং ‘গজনি’তে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় তাকে এনে দেয় বিপুল খ্যাতি।




জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য গণভোজ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) পাঁচটি আবাসিক হলে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে গণভোজ ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা মোট ৪ হাজার ৯৫৬ জন শিক্ষার্থী এ আয়োজনে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন হলে ১ হাজার ১৮৫ জন, বিজয় ২৪ হলে ১ হাজার ১৩৫ জন, অপরাজিতা হলে ১ হাজার ৫০ জন, খান জাহান আলী হলে ৮৫১ জন এবং খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ হলে ৭৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবেন। বিশেষ ভোজে শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরে পোলাও, মুরগির রোস্ট, ডিম, মিষ্টি ও সফট ড্রিংকস পরিবেশন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক খসরুল আলম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়। এ দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা সম্মিলিতভাবে এ আয়োজন করেছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা সব শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; কাউকেই বাদ দেয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পাঠদানের স্থান নয়, এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য ও মূল্যবোধ চর্চারও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গণভোজ ও জুলাই স্মরণানুষ্ঠানে আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের জন্য শুধু একটি স্মৃতি নয়, বরং গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ উদ্যোগ ইতিবাচক। বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন, যা পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করবে।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১১টায় অদম্য বাংলা চত্বর থেকে র‌্যালি, দুপুর ১২টায় চারুকলা স্কুলের আঙিনায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, দুপুর সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অদম্য বাংলা চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। বাদ জোহর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল ও সুবিধাজনক সময়ে মন্দিরে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।




অ্যাডমিরাল স্টিফেন কেলারকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান সবসময় শান্তির পক্ষে

সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গতকাল এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

তিনি জানান, বৈঠকে মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা ও অবদান নিয়ে আলোচনা হয়। সেই সঙ্গে মার্কিন কমান্ডার বিভিন্ন নৌমহড়ায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেন।

কমান্ডার স্টিফেন টি কেলার বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে অনেক সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরো এগিয়ে যাবে।’ তিনি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এল-খেরেইজি।

এসময় সৌরবিদ্যুৎ খাতে সৌদি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ খাতে সৌদি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে।’

বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন। সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এল-খেরেইজি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদারে সৌদি আরব আন্তরিকভাবে আগ্রহী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের আশা প্রকাশ করেন।




জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

 জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সকাল সাড়ে ৯টার পর তিনি জাদুঘর উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্যরা।

সকাল ৯টা নাগাদ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে উপস্থিত হন তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর অতিথিদের নিয়ে জাদুঘর ঘুরে দেখেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় এ ভবন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করবেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে এখান থেকেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান। এর আগের এক মাসে জনবিক্ষোভে আইনশৃংখলাবাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের হামলায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত ও হাজার হাজার আহত হন।

অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। পরে এ সরকারের অধীনেই জুলাইয়ের নানা স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে সেই গণভবনে তৈরি করা হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।

জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের দিন বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ জনগণের জন্য এটা উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক জুলাই গণঅভ্যুত্থান এর গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং শহিদ ও জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে জুলাই যোদ্ধা এবং জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যগণ বক্তব্য প্রদান করবেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাস ভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পরিবেশনার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, দেশপ্রেম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক উপস্থিত সকল অতিথি, জুলাই যোদ্ধা, শহিদ পরিবারের সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন।

অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিজন, জুলাই যোদ্ধা, জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

জাদুঘরে প্রবেশের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে টিকিটের ব্যবস্থা থাকবে। এখানে বড়দের জন্য ৫০ টাকা এবং ছোটদের জন্য ২৫ টাকা টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।




৫৫ বছরেও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সঠিক তালিকা কেন হয়নি, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও কেন শহীদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করা হয়নি সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আজ মঙ্গলবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।

জামায়াত আমির বলেন, এতগুলো সরকার আসলো গেল, সবাই দাবি করে, আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্টেকহোল্ডার। আপনারা মুক্তিযুদ্ধের স্টেকহোল্ডার, আপনাদের সম্মান করি। কিন্তু এ গুরুত্বপূর্ণ কাজটা করছেন না কেন?। ইতিহাসটা উঠে আসুক, ওই ফ্যামিলিগুলা গ্লোরিফাই হোক, শহীদের আত্মা শান্তি পাক।

তিনি আরো বলেন, আমি সরকারকে অনুরোধ করব, আপনারা উদ্যোগ নেন, সঠিক ইতিহাস রচনা করেন। ৭১-এর মতো ২৪ যেন হারিয়ে না যায়।

চব্বিশের পরিবর্তনের আগে আমাদের কণ্ঠে, রাজনীতিবিদদের কণ্ঠে যে সুর ছিল, ৫ তারিখের পর তা আস্তে আস্তে বদলে যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারির পর তা আরো বদলে যাচ্ছে। আগে যে সমস্ত কথা বলেছেন, অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, অনেকে এটা এখন বেমালুম ভুলে গেছে। তার ঠিক বিপরীত ন্যারেটিভ দাঁড় করাচ্ছেন।