যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সমাধান কেবল কূটনীতিতেই: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সমাধানে কেবল কূটনীতিক পথই কার্যকর এমন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সংক্রান্ত তেহরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর রবিবার এই মন্তব্য আসে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, “আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা সেই শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। এই অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান।”

গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান একটি শান্তি প্রস্তাব দেয়, যা কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানায় তেহরান। তবে ট্রাম্প শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরান ‘খুব খারাপভাবে হারছে’ বলেই দ্রুত চুক্তিতে যেতে চাইছে, আর সে কারণেই তিনি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তবে আরাগচির দাবি, মধ্যস্থতাকারীরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাখ্যানের বার্তা ইরানকে জানায়নি। তিনি বলেন, “আমরা মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে চূড়ান্ত অবস্থান জানার অপেক্ষায় আছি। সেটির ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের হামলা বন্ধে চাপ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সন্দিহান যে ইরান তার শর্ত মানবে। এমনকি তিনি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে সামরিক হামলার সম্ভাবনাও দেখছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, এক মার্কিন কর্মকর্তা এর আগে বলেছিলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান সৌদি আরবের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে, যা এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আরাগচি বলেন, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক লড়াইয়ে বিরতি আনা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হলে পরবর্তী সময়ে পারস্পরিক বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনাও শুরু হতে পারে।

তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা তা দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা কোনো আপস করবে না।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও ‘চাপ বা জবরদস্তি’ মেনে নেবে না। তার ভাষায়, “ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে হুমকি ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করবে।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। পাশাপাশি ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অর্থনীতিও চাপে পড়েছে।

ইরান ও তার মিত্ররা পাল্টা আঞ্চলিক সংঘাত বাড়িয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান, আর ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুথিরা সৌদি স্বার্থে আঘাত হেনেছে।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, শনিবার ভোরে হুথিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স




নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে সহযোগিতা যুক্তরাজ্য ও তিন মুসলিম দেশকে ধন্যবাদ জানাল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাজ্য, ইরানের প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক এবং উপসাগরীয় দেশ ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এমন কাজের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার খবরে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি এই তিন মুসলিম দেশের সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বেসেন্ট বলেন, ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরুর পর ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিতে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছেন। এসব প্রচেষ্টা ফল দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

বেসেন্ট আরও জানান, তুরস্ক ও ওমান তাদের দেশে মাহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। পাশাপাশি দেশগুলোর শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ইরানের সঙ্গে বন্ধ করেছে লেনদেন।

বেসেন্ট আরও জানান, তুরস্ক ও ওমান তাদের দেশে মাহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। পাশাপাশি দেশগুলোর শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ইরানের সঙ্গে বন্ধ করেছে লেনদেন।

সূত্র: আলজাজিরা




যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আর আস্থা নেই: ইরানি প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের দফার আলোচনার পরপরই হামলা ও নিষেধাজ্ঞার ঘটনা ঘটায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে আর কোনও আলোচনায় তেহরানের আস্থা নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর ভিত্তি কী হতে পারে, তা নিয়েই ইরানের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের কোনও আস্থা নেই। আমরা জানি না, ঠিক কোন ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।”

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান পেজেশকিয়ান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সেখানে ওয়াশিংটনের কাছে তেহরান এমন একটি সাত দিনের রোডম্যাপ উপস্থাপন করেছে, যার লক্ষ্য সংঘাতের অবসান এবং শর্তসাপেক্ষে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।

সাত দিনের রোডম্যাপ
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগবে। এরপর ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং সপ্তম দিনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ পারস্পরিক সমঝোতার বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার কথা রয়েছে।

তবে এর আগে ওয়াশিংটনকে বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানি তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার এবং আটকে থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা। একই সঙ্গে লেবানন ও ইয়েমেনসহ অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করারও দাবি জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তান ওয়াশিংটনের কাছে তেহরানের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন পেজেশকিয়ান।

জুনের সমঝোতায় ফিরতে চায় তেহরান
পেজেশকিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান উদ্যোগটি জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে তৈরি। ওই সমঝোতা পরে ভেঙে পড়ে এবং জুলাইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটিকে কার্যত বাতিল ঘোষণা করেন। নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে তেহরান ওই সমঝোতার কিছু শর্ত বাস্তবায়নের পথ আবারও উন্মুক্ত করতে চাইছে।

তেহরানের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রকে আগের সমঝোতার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আলোচনার বিষয়ে কিছু ইতিবাচক বার্তা এলেও চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।

হরমুজ বন্ধের দায় অস্বীকার
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার জন্য ইরানকে দায়ী করার বিষয়টিও প্রত্যাখ্যান করেছেন পেজেশকিয়ান। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রই আগে ইরানের পথ বন্ধ করে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, ইরানের পথ যখন রুদ্ধ করে দেওয়া হয়, তখন হরমুজে তেহরানের পদক্ষেপ ছিল তার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

পেজেশকিয়ান আরও বলেন, শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমেই বর্তমান সংকটের সমাধান সম্ভব। যুদ্ধের অবসান হলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধ ও উত্তেজনার কারণে এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

ইরানকে সহজে পরাজিত করা যাবে না
সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতের আগ্রাসী পক্ষ হিসেবেও বর্ণনা করেন। তার দাবি, গত ২০০ বছরে ইরান কোনও দেশ আক্রমণ করেনি।

ইরান সরকার ‘কয়েক দিনের মধ্যেই ধসে পড়বে’- এমন ধারণা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আঞ্চলিক দেশগুলোকে সংঘাতে টেনে এনেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব বক্তব্য ইরানের নিজস্ব অবস্থান হিসেবে এসেছে; এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের কারণ ও নিজেদের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে আসছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণ মোকাবিলা করেছি এবং ভবিষ্যতেও দৃঢ়ভাবে টিকে থাকব।”

তবে একই সঙ্গে তিনি আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হত্যা ও শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে কূটনীতির মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের সুযোগ থাকলে সেই পথেই এগোনো উচিত।

এদিকে ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তেহরান শনিবারও যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় ছিল। এর মধ্যে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও ইরান তখনও ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় ছিল। সূত্র: আল-জাজিরা




পুলিশের কেউ ফ্যাসিবাদের সাথে জড়িত হলে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশের কেউ কেউ এখনও ফ্যাসিবাদের সাথে জড়িত হয়ে যোগাযোগ রাখছে, নানা ধরনের সংবাদ দিচ্ছে, এমন কার্যক্রমের সাথে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ এর ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠানে’প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কেউ কেউ এখনও ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। পুলিশের কোনো সদস্য শৃঙ্খলা না মানলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকার পিছপা হবে না।

তিনি আরও বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অনস্বীকার্য। রাষ্ট্রের দৃশ্যমান অবয়ব হিসেবে জনগণের সঙ্গে পুলিশের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। একজন নাগরিক অপরাধের শিকার হলে কিংবা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করলে প্রথমেই পুলিশের কাছে যায়।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে যারা এসব ব্যক্তিকে গ্রেফতারে ভূমিকা রাখবেন তাদের পুরস্কৃত করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চাই, যে বাহিনী দক্ষতা ও পেশাদারিত্বে আধুনিক, প্রযুক্তিতে সক্ষম, আচরণে মানবিক, আইন প্রয়োগে দৃঢ়, দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ এবং জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হবে।

পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর গত কয়েক মাসে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক, লেজিসলেটিভ এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ এই তিন ধরনের সহায়তার মাধ্যমে পুলিশের ইমেজ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনআস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি পুলিশের সদস্যদের নিজেদের মনোবল ও জনগণের আস্থা অর্জনের বিষয়টি অনুধাবন করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ৯৮ পুলিশ সদস্যকে পিপিএম ও বিপিএম পদক পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফর শেষে দেশে ফেরার উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৯ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ তথ্য জানিয়েছেন।

ফ্লাইটটি ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় দুবাই পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে রাত ২টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ দেন। এতে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।

২৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক মানবতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। সংঘাত নিরসনে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে জনগণের ক্ষমতায়ন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্যে সরকারের ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’ বা থ্রি-আর কৌশলের কথাও তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই দীর্ঘস্থায়ী এ সংকটের একমাত্র সমাধান। স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সহযোগিতা কামনা করেন।

সফরকালে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

প্রধানমন্ত্রী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-তুরস্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের বিষয়ে আলোচনা করেন। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদ লতিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা জোরদার এবং অংশীদারিত্বের নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিলস-এমের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে দেওয়া স্বাগত প্রাতরাশে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী অংশ নেন। পরে তাঁরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণকারী নেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেন।

২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে মানবিক চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বিষয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়।

এ সময় গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক সুজম্যানের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে জনস্বাস্থ্য, শিশুসেবা, টিকাদান, সাশ্রয়ী মূল্যের টিকা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন। আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সম্মিলিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ দ্রুত ও ব্যাপকভাবে কমানো এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় জলবায়ু অর্থায়নের আহ্বান জানান তিনি।

ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে দেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণ ও নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।

২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ দ্রুত ও ব্যাপকভাবে কমানো, পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অভিযোজন অর্থায়ন, জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশ-সুইডেন-ইউএনএফপিএ আয়োজিত ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ‘সুস্থ বাংলাদেশ’ গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে কেন্দ্রীয় ভিত্তি হিসেবে রাখার কথা জানান তিনি।

তিনি জানান, সরকার আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে ৮০ হাজার নারী এবং ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ বা ধাত্রী থাকবেন। পাশাপাশি একটি সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জলবায়ু সহনশীলতা ও বহুপক্ষীয় কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

প্রধানমন্ত্রী থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও বৈঠক করেন। পরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন তিনি।

নিউইয়র্ক সফরের শেষ দিনে আজ প্রধানমন্ত্রী ম্যানহাটনে জেপিমরগানের সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির আয়োজিত ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন। পরে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।

পাঁচ দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি একাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।




বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘তাঁর সরকার বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ উল্লেখ করে বলেছেন, ‘আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার- বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’

রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায় কর্মজীবন শুরু করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সেখান থেকে তিনি একটি সহজ শিক্ষা পেয়েছেন- বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী সঠিক পরিবেশ প্রয়োজন।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তর ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের আয়োজক জেপি মর্গান এবং অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়াল স্ট্রিটের মানুষ নন; একজন বাংলাদেশি এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসেছি।’

তিনি বলেন ‘ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা তাঁদের ব্যবসা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন, আর তিনি কাজ করেন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায়। দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের মূলনীতি একই-সাফল্য নিশ্চিত করা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেছেন। আজ তিনি দেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যমান সুযোগগুলো সরাসরি তুলে ধরতে চান।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। দেশটির রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাংলাদেশকে বড় উৎপাদন ও তৈরি পোশাকের কেন্দ্র হিসেবে চেনে। এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তা অব্যাহত থাকবে। তবে আজকের বাংলাদেশ এর চেয়েও অনেক বেশি সম্ভাবনা ধারণ করে।’

জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।’

তিনি বলেন,  ‘এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোর উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় তাঁর সরকার। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের উদ্যোগ এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের কথা তুলে ধরেন তিনি।’

বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপনে এসব পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গ্যানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন রেফারেন্স পয়েন্ট পেয়েছেন এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা শেষ পর্যন্ত কোনো বক্তব্যের পর কী ঘটে, তার ভিত্তিতেই একটি দেশকে মূল্যায়ন করেন। বিধিবিধান কতটা পূর্বানুমেয়, বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত, মূলধন কতটা দক্ষতার সঙ্গে স্থানান্তর করা যায় এবং মুনাফা কতটা সহজে দেশে ফেরত নেওয়া যায়-এসব তাঁদের যৌক্তিক প্রশ্ন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নীতির মাধ্যমে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করাই সরকারের দায়িত্ব। সরকার স্বল্পমেয়াদি লেনদেন নয়, উভয় পক্ষের জন্য মূল্য সৃষ্টি করবে এমন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চায়।’

ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায় সরকার, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন এবং তাঁদের স্বার্থ ও সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত সরল- আরও বিনিয়োগ, আরও বাণিজ্য, আরও কর্মসংস্থান, আরও প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব।’

বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে, আপনাদের কথা শুনতে এবং যেখানে সম্ভব বাধা দূর করতে আমরা প্রস্তুত। আশা করি, আপনাদের অনেককেই শিগগিরই বাংলাদেশে দেখতে পাব।’

বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।




হাসপাতালে নয়, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হোক ঘর থেকেই: ডিসি ফরিদা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই হাসপাতাল থেকে শুরু হয় না; লড়াইটা শুরু হয় আমাদের ঘর ও আশপাশের পরিবেশ থেকে”— ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এ কথা বলেছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর)রাজধানীর শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে জেলা প্রশাসন, ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

a100179b e8de 4857 b108 1952a66e4bc5

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান মিঞা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-২-এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ আজমুল হক।
এ সময় শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। এই লড়াইয়ের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হলো সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগ।”
তিনি বলেন, বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা আশপাশের যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে। তাই প্রতিদিন কয়েক মিনিট সময় নিয়ে নিজেদের ঘর, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
“কোথাও পানি জমে আছে কি না তা পরীক্ষা করে জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। এতে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব,” বলেন তিনি।

c6dcbc8c 8ce0 4532 9a0c 955873c65821

ডিসি ফরিদা বলেন, এক দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। পরিচ্ছন্নতাকে প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। জেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা, তদারকি ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু প্রশাসনের অভিযান দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
“পরিবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি থেকে সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যম থেকে সাধারণ নাগরিক—সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন,” বলেন তিনি।
প্রতিটি পরিবারকে ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রথম দুর্গ এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সচেতনতার কেন্দ্রে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, “তোমরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তোমরা শুধু নিজেরা সচেতন হবে না, তোমাদের পরিবার, বন্ধু এবং প্রতিবেশীদেরও সচেতন করবে। তোমাদের একটি ছোট উদ্যোগ একটি পরিবারকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।”
গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদ, প্রতিবেদন ও প্রচারের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এক দিনের কর্মসূচির পাশাপাশি নিয়মিতভাবে ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সংলগ্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।




ফ্যাসিস্ট ও অন্তর্বর্তী সরকারের নীতির কারণেই জ্বালানি সংকট: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

ফ্যাসিস্ট ও অন্তর্বর্তী সরকারের নীতির কারণেই জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারি এমপি।

শনিবার বেলা ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা পরিষদ আয়োজিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতির কারণেই দেশে আজ জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, আজ মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ছেলেদের জন্য শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যাপক ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই এলাকায় কৃষিভিত্তিক জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী উত্তরাঞ্চলে থাকা কৃষিভিত্তিক জোনগুলো কীভাবে সংরক্ষণ করে কাজে লাগানো যায় এবং বিদেশে রপ্তানি করা যায়, সে বিষয়ে একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন।

জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএন ওয়াসিম ফিরোজ, ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন প্রমুখ।




ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সচেতনতার বিকল্প নেই: ডিএসসিসি প্রশাসক

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম। বাসাবাড়ির ছাদ, ড্রেন ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার সকালে মতিঝিলে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ অভিযান ‘ক্লিনিং ডে’ উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

আবদুস সালাম বলেন, বাসাবাড়ির ছাদে জমে থাকা পানি নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় ঢাকাকে একটি আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব। এজন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

এসময় তিনি বিরোধী দলকে জনভোগান্তি তৈরি হয়, এমন কর্মসূচি না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এক দফার হুমকি দিয়ে বিএনপিকে দমানো যাবে না। বিএনপি জনগণের দল।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। গণতন্ত্রকে নস্যাৎ না করে ধৈর্য ধরে সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া জাতিসংঘে সারা বিশ্ব ও বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান আবদুস সালাম।




জাতিসংঘে তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দূরদর্শী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার এক অভিনন্দনবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে দেশের অবস্থান সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এ ভাষণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও অবস্থানকে আরও সমুন্নত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা এবং একই সঙ্গে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের পাশাপাশি একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় উঠে এসেছে। দেশের পুনর্গঠনে ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ এই ‘থ্রি আর’ কৌশলের কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, বিশ্বশান্তি, বহুপাক্ষিকতা, ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন।

অভিনন্দনবার্তায় তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে সৃষ্ট তীব্র চাপ, জ্বালানি নিরাপত্তা-সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির সঠিক চিত্র ফুটে উঠেছে।

জাতিসংঘকে ‘একটি সমঝোতামূলক বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে দেখার প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংঘাতময় বিশ্বে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার এ আহ্বান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রত্যয়ের উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ বক্তব্যে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়াকে রাষ্ট্রপতি একটি জাতির জন্য গৌরবময় ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য এবং তাঁর নিরাপদ ও সফল সফর কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।