জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ ভাষণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় ভাষণ দেন।

নিচে তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ তুলে ধরা হলো:

‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

মাননীয় সভাপতি,

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আমরা আপনাকে পূর্ণ সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। একইসঙ্গে আমি বিদায়ী সভাপতি ম্যাডাম এনালেনা বেয়ারবক-কেও তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

শুরুতেই আমি বাংলাদেশের সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। স্বাধীনতার পর থেকে দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন তাদের অবদানকে বিনম্রচিত্তে স্মরণ করছি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বীর ছাত্র-জনতার গণঅভুত্থানে সকল শহীদ এবং আহতদের প্রতিও আমি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জানাই।

ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ।

এই বাংলাদেশে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আমি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে অভিনন্দন জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।

মাননীয় সভাপতি,

জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে এই মুহূর্তে আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর। এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েই আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া দেশ এবং জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। একইভাবে আজ আমিও আমার দেশ এবং জনগণের স্বার্থের পক্ষে এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।

গ্লোবালাইজেশনের এই সময়ে বিশ্বের যে প্রান্তে যা কিছুই ঘটুক, প্রতিটি রাষ্ট্রেই কমবেশি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মানব সৃষ্ট বিরাজমান সংঘাতের ফলে বর্তমানে অনেক দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ছে। তৈরি হচ্ছে মানবিক সংকট। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা-সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।

আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাই হওয়া উচিত দ্বিপাক্ষিক কিংবা বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি। আমাদের প্রত্যাশা একটি শান্তিময় বিশ্ব, এমন একটি মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয় বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা। একে অপরের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘকে দেখতে চায়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বাজেট সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বিশ্বশান্তির অন্তরায়। শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্ব মানবতা এবং বিশ্ব শান্তির প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন আমি আজ আবারো পুনর্ব্যক্ত করছি। স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।

মাননীয় সভাপতি,

চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য-‘রিস্টোরিং ট্রাস্ট, ম্যানেজিং ট্রান্সফরমেশন: অ্যা ইউনাইটেড নেশনস দ্যাট ডেলিভারস ফর অল’ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতার নীতিতে অটল। ‘পিসবিল্ডিং কমিশনে’র ভাইস-চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ টেকসই শান্তি, সংঘাত প্রতিরোধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।

প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারীদের সাহসী অংশগ্রহণ ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ বিষয়ক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। বাংলাদেশ এ বছর ‘উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক ঘোষণা’র ৪০তম এবং ‘ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা’র ২৫তম বার্ষিকী পালন করছে।

অভিবাসন প্রক্রিয়া মানবসভ্যতার মতোই প্রাচীন। বিশ্বের অনেক দেশেই অভিবাসীগণ তাদের জন্মভূমি এবং অভিবাসিত দেশ, উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বাংলাদেশ সরকার নিয়মিত, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা আশা করে।

মাননীয় সভাপতি,

বাংলাদেশকে দীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে হচ্ছে। এর ফলে আমাদের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জনবহুল বাংলাদেশ মনে করে, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে; তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরিয়ে নেয়াই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।

এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধানের জন্য বাংলাদেশ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় এবং কার্যকর সমর্থন প্রত্যাশা করে।

পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্যও আমি জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হলে অদূর ভবিষ্যতে এটি একটি মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

মাননীয় সভাপতি,

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের তেমন ভূমিকা না থাকলেও বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বহন করতে হচ্ছে। এমতাবস্থায়, বাংলাদেশ ঝুঁকি মোকাবেলা করে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জনের পথ বেছে নিয়েছে। সুতরাং, ক্লাইমেট জাস্টিস, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কপ-৩১-এ আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপ আশা করছে।

বাংলাদেশে পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার কর্মসূচি জোরদার করেছে। এরই অংশ হিসেবে সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি শুরু করেছে। ক্লিন এনার্জি এবং সোলার এনার্জি ব্যাবহারের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। দেশকে বন্যা-খরার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে।

বাংলাদেশে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ‘সুন্দরবনে’ মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৃহৎ জলাধারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও শুরু করেছে। একইসঙ্গে পানি সংরক্ষণ ও দূষণ রোধে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ জোরদার করার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে সরকার ১৯৯২ সালের ‘ওয়াটার কনভেনশন’ স্বাক্ষর করেছে।

মাননীয় সভাপতি,

দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের অবসান ঘটিয়ে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হওয়া গুম, খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করছে। ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামতের জন্য সরকার রিকভারি, রেস্টারেশন ও রিকনস্ট্রাকশন অর্থাৎ ৩-আর কৌশল অনুসরণ করছে।

বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগে বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি  এবং বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে বিস্তারিত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ তাঁর উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেতে চায়। দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্ট আপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করে দিতে সরকার চলতি অর্থ বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে।

মাননীয় সভাপতি,

দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। ফলে দেশের আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে নারীরা সরকারের সব পরিকল্পনার অগ্রভাগে রয়েছেন। নারী শিক্ষা, নারীদের কর্মসংস্থান এবং নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিষয়টিকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নারী উদ্যোক্তা তৈরির জন্য বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারীদের জন্য সরকার নগদ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে। স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের বিনাবেতনে শিক্ষার সুযোগ অবারিত করা হয়েছে।

শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয় সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার এবং প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে। সেই লক্ষ্য পূরণে ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ই-হেলথ কার্ড এর মতো বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে।

প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবেই বিবেচনা করে।

প্রতিটি সেক্টরে সহায়তার জন্য প্রবর্তন করা কার্ডগুলোকে সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করাও  সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।

মাননীয় সভাপতি,

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেয়া ৩১ দফা কর্মসূচি সরকার বাস্তবায়ন করে চলেছে। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি’র ‘লিভ নো ওয়ান বিহাইন্ড’ এই প্রতিপাদ্যের সঙ্গে বর্তমান সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচির কমপক্ষে ৭৩ শতাংশ কার্যক্রমের সরাসরি এবং ২৭ শতাংশ কার্যক্রমের পরোক্ষভাবে মিল রয়েছে।

সরকার আশা করে, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে শহর এবং গ্রামের মধ্যে উন্নয়ন বৈষম্য দূর হবে এবং একইসঙ্গে ২০৩০ এজেন্ডার সব ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন  এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্পোর্টসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে জিডিপি বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নৈতিক মানসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কারিগরি এবং ব্যাবহারিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রথম শ্রেণি থেকে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাগ এবং পোশাক অর্থাৎ স্কুল ইউনিফর্ম এবং বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেয়া হচ্ছে। সরকার আশা করে, এর ফলে স্কুলে শিক্ষার্থীর হার এবং স্কুলে শিক্ষার মান বাড়বে। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শিক্ষা সিলেবাসে প্রথমবারের মতো ‘স্পোর্টস’কেও একটি বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত জুন মাসে স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে সারাদেশে মাসব্যাপী আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে ২ মিলিয়নের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।

মাননীয় সভাপতি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই গড়বে আগামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ। আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বায়ো-  টেকনোলোজি এবং বিজ্ঞানের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছি। প্রযুক্তি খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তবে এর সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সক্ষমতা আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ  সবার নাগালের মধ্যে আনতে হবে।

আমরা চাই না, আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক। বাংলাদেশ উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্বকে সম্মান করে।  একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রায় কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না থাকে। সবার জন্য ন্যায্য ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশ এবং দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল যাতে দেশে দেশে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো যায় এ ব্যাপারে জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

মাননীয় সভাপতি,

বাংলাদেশ ‘স্বল্পোন্নত দেশ’-এর তালিকা থেকে উত্তরণের অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যান্য সকল দেশের ক্ষেত্রে এই উত্তরণ প্রক্রিয়াটিকে টেকসই করতে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক সহায়তা অপরিহার্য।

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় প্রতিটি দেশ একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ মনে করে, বিশেষ করে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাণিজ্য সহায়তা ও সম্প্রসারণ কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থবহ সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা একে অপরের সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করতে পারি।

কোভিড মহামারি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। তবে বিশ্বকে বার্তা দিয়েছে,  বিশ্ব সমাজকে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই একের প্রতি অন্যের সহায়তা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা অপরিহার্য। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা, চিকিৎসা-সামগ্রী ও রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা জরুরি। যাতে এগুলো সবার জন্য সহজলভ্য হয়।

মাননীয় সভাপতি,

রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে ক্ষমতাহীন রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা এমন একটি সমৃদ্ধ স্বনির্ভর কল্যাণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই যে রাষ্ট্রে দলমত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই নিশ্চিন্তে, নিরাপদে সমান অধিকার, সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে সক্ষম হবে।

মাননীয় সভাপতি,

গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সরকার ব্যাবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশবান্ধব একটি নিরাপদ এবং স্থিতিশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে চলছে।

বর্তমান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা অংশীদারিত্ব উদ্ভাবন এবং দেশি বিদেশী বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই।

আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে, প্রতিটি শিশু তাদের সকল সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠবে, সর্বোপরি জনগণ পাবে নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা। এজন্যই আমরা বলি ‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের সকল নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি পুনরায় বাংলাদেশের অকুন্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

মাননীয় সভাপতি আপনাকে ধন্যবাদ,
আল্লাহ হাফেজ
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’




দেশ মেরামতে সরকার ‘থ্রি-আর কৌশল’ অনুসরণ করছে: তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশকে মেরামতে সরকার রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন অর্থাৎ থ্রি-আর কৌশল অনুসরণ করছে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় অনুযায়ী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসান ঘটিয়ে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হওয়া গুম খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগে বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে বিস্তারিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ তাঁর উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেতে চায়।’

তিনি জানান, ‘দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্ট আপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করে দিতে সরকার চলতি অর্থ বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে।’




গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে: পেট্রোবাংলা

কক্সবাজারের মহেশখালী ভাসমান টার্মিনালে কার্গো থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ট্রান্সফার শুরু হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, কক্সবাজারের মহেশখালী ভাসমান টার্মিনালে কার্গো থেকে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পেট্রোবাংলা জানিয়েছিল, মহেশখালী এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আমদানিকৃত এলএনজি কার্গো থেকে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি ট্রান্সফার প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটছে। এতে সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছিল, বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়ার উন্নতি হলে দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।




রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি এয়ার স্পেস ক্লিয়ার নেই, ঢাকায় পৌঁছেনি ইউরেনিয়াম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চালান বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা আসেনি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও এদিন ইউরেনিয়াম গ্রহণ করতে পারেনি বাংলাদেশ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। আমরা এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করছিলাম। ইউরেনিয়াম নিয়ে রাশিয়া থেকে কার্গো বিমান না আসায় আমরা রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাদের জানান যে, এয়ার স্পেস ক্লিয়ার নেই। কার্গো বিমান আসেনি।’

আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি কেন মেলেনি, সে বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি।

রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কমিশন রোসাটমের সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ইউরেনিয়ামের চালান না আসার কারণ জানতে রোসাটমের এক প্রতিনিধির কাছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের পক্ষ থেকে ই-মেইল করা হলেও বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীরে রূপপুর গ্রামে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিটে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

২০২৩ সালে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চালান দেশে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করে।

ওই সময়ে রোসাটমের প্লান্টে তৈরি জ্বালানি কড়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অধীনে একটি ভারী রাশিয়ান কার্গো বিমানযোগে সরাসরি ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছে। রাজধানী থেকে বিকিরণ সুরক্ষিত কনটেইনারগুলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় দীর্ঘ একটি গ্রিন করিডোর দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর অনুষ্ঠানও হয়েছিল।




আসিয়ান কাপ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ফিফা আসিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে লাল-সবুজের দল মুখোমুখি হবে শক্তিশালী মালয়েশিয়ার। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কর্ন স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় শুরু হয়েছে ম্যাচটি।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়ার চেয়ে ৪৫ ধাপ পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। দুই দলের সর্বশেষ ১০ দেখায় বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি। এর মধ্যে দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে, আর সাতটিতে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

দীর্ঘ চার বছর পর আবারও মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০২২ সালে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে কুয়ালালামপুরে দুই দলের দেখা হয়েছিল। ওই ম্যাচে ৪-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ।

তবে এবার নতুন প্রতিযোগিতা ও নতুন দল নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। হামজা চৌধুরী, সমিত শোম ও ফারহান আলিদের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে দলটি আগের চেয়ে ভিন্নভাবে লড়াই করার প্রত্যাশা করছে।

জাকার্তার ঐতিহাসিক মাঠে আজকের ম্যাচে পুরোনো পরিসংখ্যান পেছনে ফেলে ভালো শুরুর লক্ষ্য থাকবে জামাল ভূঁইয়াদের। বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস।

ম্যাচ: বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া
ভেন্যু: গেলোরা বুং কর্ন স্টেডিয়াম, জাকার্তা, ইন্দোনেশিয়া
সময়: বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা
সরাসরি সম্প্রচার: টি স্পোর্টস




জামায়াত বাংলাদেশে রাজনীতি করার উপযোগী দল নয়: রাশেদ খাঁন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে হঠকারী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা একটি রাজনৈতিক দল আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন বলেছেন, দলটি বাংলাদেশে রাজনীতি করার উপযোগী নয়।

বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহ শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক পরিচিতি সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জামায়াত একটি হঠকারী রাজনৈতিক দল। তারা সিদ্ধান্তহীনতায় সবসময় ভোগে। একাত্তরের সময় জামায়াত ইসলাম সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল—জনগণের পক্ষে অবস্থান করবে, নাকি সেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষে অবস্থান করবে? সেক্ষেত্রে একাত্তরে জামায়াত ইসলাম সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেছে। ঠিক এর পরবর্তীতে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে জামায়াত ইসলাম আসলে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছে।’

‘যেমন, যে সময় স্বৈরশাসক এরশাদ ক্ষমতায় ছিল, ৮৬-র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে হাত মিলিয়ে জামায়াত এরশাদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য তারা ক্ষমতায় চলে… মানে বলা যায় নির্বাচনে চলে গেল এবং এরশাদের ক্ষমতা কিন্তু আসলে টিকে গেল। এরপরে দেখবেন যে ৯৬-তে আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে জামায়াত আন্দোলন গড়ে তুলল। তো আমার কাছে মনে হয় যে আসলে ইতিহাসের কোনো সঠিক জায়গায় জামায়াতের অবস্থান নাই। জামায়াত ইতিহাসের সবচেয়ে ধিক্কারজনক জায়গায় রয়েছে। এমনকি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পরে নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের যে সিদ্ধান্তহীনতা, যৌথ জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করবে কি করবে না। অর্থাৎ প্রত্যেকটা জায়গায় দেখবেন যে জামায়াতের নেতারা সকালে একটা বলে, রাতে একটা বলে, ফজরের পরে আসলে আরেকটা বলে। এরকম আসলে জামায়াতের সিদ্ধান্তহীনতা সবসময় ছিল।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াত ইসলাম বর্তমানে যে ধরনের রাজনীতি করছে, আমি মনে করি বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো উপযোগী দল জামায়াত না। জামায়াত একটি হঠকারী রাজনৈতিক দল এবং তাদের প্রত্যেকটা আন্দোলন জনগণকে সবসময় ক্ষতিই করেছে। এই মুহূর্তে যে আন্দোলন তারা আসলে শুরু করেছে, তারা আসলে ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার যে পথ, সেই পথ খুলে দিয়েছে।

‘দেখবেন যে আওয়ামী লীগ কিন্তু সেই ইন্টারিমের সময় এমনকি এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরে, আওয়ামী লীগ এভাবে জোরদার ছিল না। যে সময় জামায়াত মাঠে নেমেছে, আওয়ামী লীগও মাঠে নেমেছে। এটা আসলে কাকতালীয় না। অবশ্যই আমার কাছে মনে হচ্ছে যে আওয়ামী লীগ মাঠে নামুক এটি আসলে জামায়াত চায়। সেই জায়গা থেকে এইভাবে আসলে দেখবেন যে আওয়ামী লীগের বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য নাই। আওয়ামী লীগের প্রশ্নে জামায়াত নীরব ভূমিকা পালন করছে। অর্থাৎ জামায়াতের চাওয়া-পাওয়া হলো ৯৬-তে যেভাবে আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে তারা বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছিল, ঠিক আরেকটি চক্রান্তের গন্ধ আমি দেখছি। শেখ হাসিনার ভাষা আর জামায়াতের আমিরের ভাষার মধ্যে চক্রান্ত এদেশের জনগণ লক্ষ্য করছে।’




ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার পেছনের মূল ষড়যন্ত্র উন্মোচনে আসামিকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়।

এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও সংবাদমাধ্যমে অডিও রেকর্ডটি ছড়িয়ে পড়ে।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনার পর ওসি রাকিবুলকে প্রত্যাহারের তথ্য জানায় ডিএমপি। তাকে প্রশাসনিক কারণে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।

অডিওটিতে সরকার, প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর সমালোচনা করতে শোনা যায়। পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে নিয়েও বেশ কিছু মন্তব্য করতে শোনা গেছে। অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা ওসি রাকিবুল বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।

এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে ডিএমপি। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছড়িয়ে পড়া অডিওর বিষয়ে রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অডিওটি রাকিবুলের বলে প্রাথমিকভাবে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।




দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা এমপি গাজী নজরুল আরও চার দিনের রিমান্ডে

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

বৃহস্পতিবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫নং ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মৃত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমান-এই তিন জনকে আসামি করা হয়।

এই মামলায় গ্রেফতারের পর গত ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলের চার দিন ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের একদিন রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে গত ২২ সেপ্টেম্বর মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই মামলায় গ্রেফতারের পর ২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




জাতিসংঘে আজ রাতে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষণ দেবেন বৃহস্পতিবার। এটি হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তার প্রথম ভাষণ।

নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক’ হোটেলে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ পরিষদের একাশিতম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় ভোর রাত ৩টায়।

‘প্রধানমন্ত্রী একটা নতুন ইতিহাস সৃষ্টির মাধ্যমে তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং তার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর জাতিসংঘের বক্তব্য দিবেন। তিনি আমাদের দেশের আবেগ অনুভূতি এবং আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বাংলা ভাষার বক্তব্য দেবেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।’

এর মাধ্যমে তিনি একই পরিবারের তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন।

এদিন সরকারপ্রধান এবারের অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্যও দেবেন।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টায় নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরবেন। তার বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, উন্নয়ন সহযোগিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ ভাষণকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাতিসংঘের এবারের সাধারণ বিতর্কে বিশ্বনেতারা বৈশ্বিক সংকট, শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছেন।

নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।




বিমান বাহিনীর ১৩২তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ১৩২তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্স (জেসিএসসি) এর সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজার-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

এতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী কর্মকর্তাদের সনদপত্র ও ট্রফি প্রদান করেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘কোর্সে সেরা নৈপূণ্যের জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হাসিন তানভীরকে ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’ প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি উক্ত কোর্সে উত্তীর্ণ সকল কর্মকর্তাগণকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, উক্ত কোর্সে দেশ ও বিদেশের বিমান বাহিনীর ৫৮ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তাগণকে তাদের অর্জিত কর্মলব্ধ জ্ঞান দ্বারা সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে কমান্ড, স্টাফ এবং নির্দেশমূলক দায়িত্ব পালনে পারদর্শী করে তুলতে এই কোর্সটি বিশেষভাবে সজ্জিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজার এর এয়ার অধিনায়ক, বিমান সদরসহ অত্র ঘাঁটির সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, কমান্ড এন্ড স্টাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (CSTI) এর প্রশিক্ষকগণ এবং কক্সবাজারের আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।’