সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর (পুনঃ) তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

আজ বৃহস্পতিবার এক বিশেষ বুলেটিনে আবহাওয়া অফিস জানায়, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে গতকাল মধ্যরাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।

এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।




বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

বর্তমানে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, এ বন্ধুত্ব দুই দেশের সরকার ও জনগণের মৌলিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সময়ের ধারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার পথ আরও বিস্তৃত হবে।

রাজধানীর একটি হোটেলে আজ গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে স্বাগত জানিয়ে শুরুতেই রাষ্ট্রদূত চীনের অগ্রগতি আলোকপাত করেন। বাংলাদেশ-চীন প্রসঙ্গে বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, চলতি বছর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫১তম বার্ষিকী এবং বাংলাদেশ-চীন বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতার দশম বার্ষিকী। বাংলাদেশের নতুন সরকারকে দেশ পরিচালনায় সমর্থন করে চীন। বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন পাশে রয়েছে এবং বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করুক—এটিও চীন সমর্থন করে।

তিনি বলেন, এ বছর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো চীন সফর করেন। এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশ নতুন যুগে বাংলাদেশ-চীন অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারত্বে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে উন্নীত করেছে, যা দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের উন্নয়নে শক্তিশালী গতি সঞ্চার করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময়ের স্মৃতিচারণ করে ইয়াও ওয়েন বলেন, পেছনে ফিরে তাকালে গভীর আবেগ অনুভব করি। বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের তিন বছর নয় মাস পূর্ণ হয়েছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই এ দায়িত্ব থেকে বিদায় নেব। বাংলাদেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে আমার হৃদয় গভীর টান ও বিচ্ছেদবেদনায় পূর্ণ হয়ে আছে।‌

গত তিন বছরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এ দেশের নেওয়া ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংস্কার ও উন্নয়নের নতুন পথে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে। এ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের জনগণের অসাধারণ দৃঢ়তা ও জাতীয় মর্যাদাবোধের প্রকাশের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।

ঢাকার রাস্তাঘাট ও অলিগলিতে চলাচলের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে বাংলাদেশের তরুণদের আশাবাদ ও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। তরুণরা একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এবং দেশের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী।




ট্রাম্পের মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, হোয়াইট হাউসে ফিরছে তিন সংবাদমাধ্যম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আরোপ করা মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করে তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক।

বৃহস্পতিবার মার্কিন জেলা বিচারক টিমোথি কেলি সিএনএন, এমএস নাউ এবং পলিটিকো-র সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রবেশাধিকার ও প্রেস ক্রেডেনশিয়াল পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সম্ভবত মার্কিন সংবিধানবিরোধী- এমন পর্যবেক্ষণও এসেছে আদালতের আদেশে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ করছে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর তিন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সময় তাদের প্রেস ব্যাজ নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়।

নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তিন সংবাদমাধ্যম যৌথভাবে আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের অভিযোগ, কোনো আগাম নোটিশ বা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ না দিয়েই সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে তারা দাবি করে।

‘জাতীয় নিরাপত্তা’র যুক্তি প্রশাসনের

ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ভিন্ন যুক্তি দিয়েছে। বিচার বিভাগের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার কোনো সাংবিধানিক অধিকার নয়; এটি প্রশাসনের দেওয়া একটি সুবিধা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তিন সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদন জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট তথ্য এবং সংবেদনশীল বিষয় প্রকাশ করেছে। সিএনএনের হোয়াইট হাউসের একটি বাঙ্কার নির্মাণসংক্রান্ত প্রতিবেদন, এমএস নাউয়ের একটি তথ্য ফাঁসের তদন্ত এবং পলিটিকোর হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা ব্যয়সংক্রান্ত প্রতিবেদনের মতো বিষয় আদালতে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

তবে বুধবার শুনানির সময় বিচারক কেলি প্রশাসনের এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিলের আগে নোটিশ দেওয়া এবং নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়ার যে আইনি প্রক্রিয়া আগের মামলাগুলোতে নির্ধারিত হয়েছে, সেটি এখানে অনুসরণ করা হয়নি বলে মনে হচ্ছে।

১৪ দিনের জন্য সাময়িক আদেশ

বৃহস্পতিবারের আদেশটি মূল মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়। আদালতের এই সাময়িক আদেশের ফলে মামলাটি চলাকালে তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বজায় থাকবে। এর আগে ট্রাম্প নিজেও বলেছিলেন, আদালত তাঁর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গেলে তিনি সম্ভবত নিষিদ্ধ সংবাদমাধ্যমগুলোকে আবার হোয়াইট হাউসে ঢুকতে দেবেন।

এর মধ্যেই নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে বিরল ধরনের সংহতি দেখা যায়। সিএনএনের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে এনবিসি, এবিসি, সিবিএস ও ফক্স নিউজসহ টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর একটি পুল সাময়িকভাবে প্রেসিডেন্টের ভিডিও ফুটেজ সরবরাহ বন্ধ রাখে। মামলাটি এখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেস স্বাধীনতা, প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারের সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

তথ্য সূত্র- দ্য গার্ডিয়ান।




হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে দেবাশীষ রায় চৌধুরীর শপথ

হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাকে শপথ পড়ান প্রধান বিচারপতি বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতিরা।

এর আগে, সোমবার সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান দেবাশীষ রায় চৌধুরী। ব্রিটেন থেকে আইনে ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৫ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী, ২০০৭ সালে হাইকোর্ট এবং ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি।

এর আগে, অস্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দুই বছর পার হলেও ৪৫ বছর না হওয়ায় তাকে স্থায়ী করা হয়নি। তবে এবার বয়স নির্ধারিত সীমা পূর্ণ করায় তাকে স্থায়ী করেন রাষ্ট্রপতি।

এ নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতির সংখ্যা হলো ১০০ জন।




নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।’

একইসঙ্গে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করাসহ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় সময় আজ বিকেলে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।

তিনি বলেন, এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যনিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমপরিমাণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। একইসঙ্গে পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস, জলাভূমি পুনরুজ্জীবন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাশাপাশি পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও সার্কুলার অর্থনীতির উদ্যোগসহ সবুজ শিল্পের প্রসারে কাজ করছে সরকার। একইসঙ্গে একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ এখন অপরিহার্য।

জলবায়ু মোকাবিলায় পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথমত, প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সীমা বজায় রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণের পথ তৈরি করতে হবে।

চতুর্থত, সুলভ অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে।

সর্বশেষে, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে এর অর্থ পুনঃপূরণের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তার জলবায়ু পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করবে, এমন অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন।




প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

দুই প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতিসংঘসহ বহুপাক্ষিক ফোরামে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।




ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ইরানি বার্তাসংস্থা ইলনা স্থানীয় সময় বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর এ তথ্য জানিয়েছে। বৈঠকের একটি ছবিও প্রকাশ করেছে তারা।

প্রকাশিত ছবিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কথা বলতে দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চলার মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। অধিবেশনের ফাঁকে তিনি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।

সূত্র: ইলনা




ইউপি ভোটে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বাড়ল দিতে হবে বিদেশের সম্পদের হিসাব

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বেড়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে দেশে-বিদেশে প্রার্থীর নিজের ও নির্ভরশীলদের সম্পদের হিসাবও দিতে হবে।

বুধবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬-এর সংশোধনীতে এমন বিধান রেখে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান নির্বাচনের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশের কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাতিল। এদিকে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যয়ের সীমা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য পদপ্রার্থীর ব্যয় দুই লাখ টাকা করা হয়েছে।

প্রার্থী বা তার এজেন্টকে নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে এই ব্যয় পরিচালনা করতে হবে। ২০ হাজার টাকার ব্যয় ব্যাংক ছাড়া লেনদেন দেখানো যাবে না। প্রার্থী ও তার উপর নির্ভরশীলদের দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদের হিসাব হলফনামায় দিতে হবে। দিতে হবে আয়কর রিটার্নের প্রমাণপত্রও।

কাউকে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছর ও দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। এছাড়া নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা বাতিলও করতে পারবে। সংশোধিত বিধিমালা সর্বোচ্চ সমান ভোট প্রাপ্ত একাধিক প্রার্থী থাকলে লটারির বিধি বাতিল করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পুনরায় ভোট হবে।

এদিকে দৃষ্টি বা শারিরিক প্রতিবন্ধী চাইলে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে একজন সহায়তাকারী নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে সহায়তাকারীর বয়স হতে হবে ২১ বছর। তবে ওই সহায়তাকারী কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হতে পারবেন না।

সহায়তাকারীকে ভোটারের পছন্দ গোপন রাখার নির্দেশনা দিতে হবে এবং এ ধরনের ভোটারের একটি তালিকা সংরক্ষণ করবেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। এছাড়া কিছু সংজ্ঞা, করণিক ভুলের মতো বিষয় সংশোধনীতে আনা হয়েছে।




জিনপিং-ট্রাম্পের বৈঠকে কি কি ঘটতে পারে?

আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপথ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থায়িত্ব নির্ধারণে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে। বৈশ্বিক বাণিজ্য সংঘাত, দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর নিয়ন্ত্রণ, তাইওয়ান প্রণালির উত্তাপ, রাশিয়ার ওপর নতুন আমেরিকান নিষেধাজ্ঞা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ বিস্তৃত হতে থাকা ভয়াবহ সংকটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখোমুখি হচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এড়িয়ে ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর শি জিনপিংয়ের এই ঐতিহাসিক ওয়াশিংটন সফর বিশ্বরাজনীতিতে দুই পরাশক্তির সম্পর্ক স্থিতিশীল করার এক বড় পরীক্ষা। চলতি বছরে মে মাসে বেইজিংয়ে দুই নেতার বৈঠকের পর ২৪ সেপ্টেম্বরের এই শীর্ষ বৈঠককে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি থেকে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত স্থিতিশীলতা গড়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বৈঠকের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দুই দেশের সম্ভাব্য শুল্ক যুদ্ধ থামানো এবং বাণিজ্যিক স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনা। আগামী ১০ নভেম্বর দুদেশের বর্তমান বাণিজ্য ট্রুথ বা সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। এর আগেই অবশ্য ওয়াশিংটনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে একে অপরের কাছ থেকে আমদানি করা প্রায় ৩ হাজার কোটি (৩০ বিলিয়ন) ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক ছাঁটাই বা শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। একইসঙ্গে মার্কিন শিল্পখাতে চীনের সুনিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি ও সংকটময় খনিজ সম্পদ সরবরাহ সচল রাখার বিষয়টিও আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের জন্য এই বৈঠক অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের বড় সুযোগ, অন্যদিকে বেইজিং এটিকে নিজেদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যম হিসেবে দেখছে।

আধুনিক প্রযুক্তির দৌড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন মার্কিন-চীন প্রতিযোগিতার প্রধান ময়দান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অ্যাডভান্সড চিপস, প্রসেসিং ক্ষমতা ও ফ্রন্টিয়ার মডেল নিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দুটি দেশই চাইছে প্রযুক্তিগত এই প্রতিযোগিতা যেন কোনো অনিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তাহীনতায় রূপ না নেয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব এখন প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে যেখানে সম্পূর্ণ ঐকমত্য সম্ভব নয়, তবে একটি নিরাপত্তা ফ্রেমওয়ার্ক বা গাইডলাইন তৈরি করা জরুরি। দুই পরাশক্তিই একটি সুরক্ষাবলয়সহ প্রতিযোগিতার নীতি মেনে চলতে সম্মত হতে পারে। অর্থাৎ চিপ বা এআই উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতা চলবে, তবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সুরক্ষায় কিছু নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা মেনে চলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন ট্রাম্প ও শি।

তবে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্প্রতি গৃহীত রুশ নিষেধাজ্ঞা আইন ট্রাম্প-শি আলোচনার টেবিলে একটি নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত ওই আইনে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে, তিনি ইচ্ছা করলে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারেন। এতে চীন ও ভারতের মতো বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলো চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প যদি চীনের ওপর এই ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপান, তবে তা বর্তমান মার্কিন-চীন বাণিজ্য সমঝোতাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেবে এবং এর জবাবে চীনও বিরল খনিজ উপাদান (রেয়ার আর্থ) রপ্তানি বন্ধের মতো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। সেই ঝুঁকিতে না গিয়ে ট্রাম্প হয়তো তার বিশেষ ছাড় বা মওকুফ ক্ষমতা ব্যবহার করবেন, যাতে করে রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি চীনের সাথে বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়।

এদিকে বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতা। বাব আল-মান্দেব ও হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় জ্বালানি এবং বাণিজ্য পরিবহন ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। জ্বালানি আমদানির ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় চীনের স্বার্থও এখানে সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত। রিয়াদ ও তেহরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো থাকায় চীন ইতোমধ্যে ইরানের মাধ্যমে হুতিদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হোয়াইট হাউস চীনা প্রেসিডেন্টের এই প্রভাবকে কীভাবে কাজে লাগায়, সেটি এখন এক বড় প্রশ্ন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং হয়তো মার্কিন কূটনীতির সরাসরি কোনো প্রতিনিধি বা মধ্যস্থতাকারী হবে না কিন্তু বাণিজ্যিক পথ খোলা রাখতে একটি বিকল্প ‘ডিপ্লোম্যাটিক ব্রিজ’ বা কূটনৈতিক সেতু হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

যে বিষয়টিতে দুটি দেশের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ সবচেয়ে কম, তা হলো তাইওয়ান ইস্যু। বেইজিং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাইওয়ানই তাদের জাতীয় স্বার্থের মূল কেন্দ্রবিন্দু এবং এ নিয়ে কোনো আপস হতে পারে না। যদিও ট্রাম্প অতীতে বহুদূরের যুদ্ধ ও তাইওয়ান স্বাধীনতায় সরাসরি সেনা না পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবুও ওয়াশিংটনের মূল কৌশলগত অবস্থান ও তাইওয়ানের সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রাতারাতি বদলে ফেলা সম্ভব নয়। তাই এই সংবেদনশীল বিষয়ে ট্রাম্পের শব্দচয়ন বা বক্তব্য কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে চরম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বাস্তবতা হলো, ওয়াশিংটনের এই রাষ্ট্রীয় সফর বিশ্বরাজনীতি বা মার্কিন-চীন মধ্যকার মতাদর্শগত ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে এক নিমেষে বদলে দেবে না। দুই পক্ষই জানে, পূর্ণাঙ্গ বন্ধুত্ব অসম্ভব; তাই মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এমন একটি কাঠামোগত পদ্ধতি তৈরি করা যেন প্রতিযোগিতা বাড়লেও তা কোনো অবস্থাতেই প্রত্যক্ষ সামরিক সংঘাত বা হঠাৎ অর্থনৈতিক ধসে রূপ না নেয়। ওয়াশিংটন ও বেইজিং কি কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখে এই দীর্ঘমেয়াদী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নিয়ন্ত্রিত সীমানার মধ্যে রাখতে পারবে, নাকি শেষ পর্যন্ত নতুন সংকটে জড়িয়ে পড়বে; সারা বিশ্ব এখন সেই উত্তরের অপেক্ষায়।

সূত্র: টিআরটি




আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রা অব্যাহত রাখার তাগিদ রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এ সাক্ষাৎ হয়।

সাক্ষাৎকালে অ্যাটর্নি জেনারেল সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে রাষ্ট্রপতিকে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের স্বার্থ ও আইনগত অধিকার সুরক্ষায় কার্যালয়ের পক্ষ থেকে গৃহীত বিভিন্ন আইনগত পদক্ষেপ ও কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপতি দেশের সংবিধানের সর্বোচ্চতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রের আইনগত স্বার্থ সংরক্ষণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, জনগণের অধিকার সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালনের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি-জেনারেলকে তার দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।