জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন প্রথম দিনে ১০ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১২টি নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে ১০টিতে অংশ নিয়েছেন। দিনভর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশন, বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক এবং রোহিঙ্গা ইস্যু ও বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন তিনি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, সকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী ও প্লেনারি অধিবেশনে অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল।

ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। একই সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এটিও বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচিতে আঞ্চলিক পর্যায়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা, জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সার্ক অঞ্চলের সম্পর্ক জোরদারের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে হাইতির প্রধানমন্ত্রী ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দেশটির অস্থিতিশীলতা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে হাইতি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কিভাবে উপকৃত হতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।’

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠককে গঠনমূলক, আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন ড. মাহদী আমিন।

তিনি জানান, এরদোয়ান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নির্বাচনী বিজয় এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও প্রথম দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠকে ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক অংশীদারি এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উদ্যোগ জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, অর্থনৈতিক উদারীকরণ ও বাজেটসহ সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের আরো বড় ভূমিকা এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

ড. মাহদী আমিন জানান, প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর মোট ১২টি কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে তিনি ১০টিতে সরাসরি অংশ নেন। সময়সূচির কারণে কয়েকটি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এর মধ্যে মেটার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী এবং দুই পক্ষের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, প্রথম দিনের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থ এবং জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা তুলে ধরার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন।




তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যয়

বাংলাদেশ ও তুরস্কের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কাছে ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে দুই নেতার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ তথ্য জানান।

সহকারী প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা। একই সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা।

তিনি জানান, বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন দুই নেতা।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বারহাম সালিহর বৈঠক: গুরুত্ব পেল রোহিঙ্গা সংকট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থল হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। সংকটের স্থায়ী সমাধানে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় বারহাম সালিহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।




জাতিসংঘ সদর দপ্তরে হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দুই প্রধানমন্ত্রীর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও হাইতির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে।

এ ছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও হাইতির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন তারা।




উত্তাল সাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এমন পরিস্থিতিতে গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। আবহাওয়ার চার নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি গতকাল রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ মধ্যরাত নাগাদ ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।




প্রধানমন্ত্রী ও অজয় বাঙ্গার বৈঠকে বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংক অংশীদারিত্ব জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে : আমির খসরু

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অজয় বাঙ্গার বৈঠকে বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংক অংশীদারিত্ব জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। মঙ্গলবার সকালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাইডলাইনে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, বিভিন্ন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে কথা বলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এই বৈঠকটি বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যে অংশীদারিত্ব এবং যে সম্পর্ক রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ আগামী দিনের যেসব প্রকল্প নিতে যাচ্ছে, সেই প্রকল্পগুলোতে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের অংশীদারিত্ব কাঠামোর মধ্যে আমরা কী কী করতে পারি, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আলোচনার মধ্যে উঠে এসেছে, প্রধানমন্ত্রী যেসব কর্মসূচি নিয়েছেন, যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ইত্যাদি যেসব সামাজিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রশংসিত হয়েছে এবং এগুলোতে বিশ্বব্যাংকের সমর্থন থাকবে।’

‘বিশেষ করে ইয়াং এন্টারপ্রেনারশিপের যেসব প্রোগ্রাম আছে, সেখানে আমরা যে প্রোগ্রামগুলো রোলআউট করেছি, ৫০ শতাংশ গ্র্যান্ট, ৫০ শতাংশ কনসেশনাল লোনে আগামী দিনে এই প্রোগ্রামটা কীভাবে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে মিলে বড় আকারে করতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইয়াং এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট ও তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’

বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ যে সমস্যাগুলো রয়েছে, তার মধ্যে তেল-গ্যাস সংকট উত্তরণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা কী থাকবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখানে বিশ্বব্যাংক এগিয়ে আসতে রাজি আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যেসব প্রকল্প গ্রহণ করেছি, সেগুলো ঠিক রাখতে হবে। এটা যাতে সাপ্লাই চেইনের কারণে ব্যাহত না হয়, সেখানে বিশ্বব্যাংক কাজ করবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি জানাতে চাই, সেখানে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছি, সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।’

টেকসই যেসব প্রকল্প আছে, সেগুলো বিশ্বব্যাংক কীভাবে দেখছে, প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘খুবই মনোযোগ সহকারে দেখছে বিশ্বব্যাংক। বিশেষ করে ইয়াং এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বিষয়ক যে প্রকল্পগুলো রোলআউট করা হয়েছে, এটাকে আরও বড় আকারে নেওয়ার ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি।’

সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




স্পিকারের সাথে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

মঙ্গলবার স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, চীন বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সর্বতোভাবে সহায়তা করে আসছে।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক ধারাবাহিক উন্নয়নে অবদান রাখেন।

স্পিকার বলেন, বিগত সরকারের ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অর্থ পাচার, গুম ও খুনের রাজনীতি এদেশের জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করেছে। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে এদেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

স্পিকার বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে আমাদের দেশকে অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি এসময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন সরকারের সহায়তা কামনা করেন।

চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত সরকার। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আরও সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের উন্নয়নের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। চীনের মেগাপ্রকল্পের পাশাপাশি বর্তমানে এদেশে আরও মাঝারি ও ছোট প্রকল্পের বিনিয়োগ বিদ্যমান রয়েছে।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন সরকার বাংলাদেশকে এই অঞ্চলে পণ্য উৎপাদন ভিত্তিক কেন্দ্র হিসেবে তৈরি করতে আগ্রহী। আইসিটিসহ বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে।

সাক্ষাৎকালে তারা উভয়েই দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর স্থাপন, চলমান রোহিঙ্গা সংকট ও জ্বালানি ইস্যু নিয়ে মত বিনিময় করেন।

স্পিকার জানান, বাংলাদেশ সবসময় ‘ওয়ান চায়না পলিসি’কে সমর্থন করে ও ভবিষ্যতেও এ সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি ভোলাসহ বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস উৎপাদনে চীনের বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানান এবং ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীকে সমর্থনে চীন সরকারের সহায়তা কামনা করেন।

বৈঠকে চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর দূরপাল্লা এবং মহানগরে বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাস ভাড়া বৃদ্ধির পর দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা; ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা হয়েছে।

এর আগে, সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে বৈঠকে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা; ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭৩ পয়সা এবং ডিটিসি এলাকায় মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫২ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছিল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।




হবিগঞ্জে ফুটপাতের শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

হবিগঞ্জ শহরে প্রধান সড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে হবিগঞ্জ পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় গুড়িয়ে দেয়া হয় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পৃথিন্দ্র চাকমা ও হবিগঞ্জ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল চৌধুরী। ভ্রাম্যমান আদালতকে সহযোগিতা করেন সদর থানার একদল পুলিশ।

জানা যায়, হবিগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কের ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল একদল লোক। এরমধ্যে রয়েছে ফলের দোকান, টং দোকান, চায়ের দোকানসহ ভ্রাম্যমান ভ্যানের দোকান।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে এবং জনদুর্ভোগ লাগবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। শহরের শায়েস্তানগর থেকে শুরু করে থানার মোড় ও হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের প্রধান গেট পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হয়। এসময় অবৈধ স্থাপনাগুলো গুড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি পৌরসভার ট্রাকে করে তুলে নেওয়া হয় ভ্রাম্যমান দোকানগুলো।

হবিগঞ্জ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযানের সময় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি ৩ জন ব্যবসায়ীকে আড়াই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।




ডিজেল বিক্রিতে এখনও ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে: রিজভী

জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটার ডিজেলে সরকারের ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে এক লিটার ডিজেল কিনতে সরকারের ২০৫ টাকা খরচ হলেও এতদিন ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। ফলে প্রতি লিটারে ৯০ টাকা লোকসান হয়েছে। দাম সমন্বয়ের পরও সেই লোকসান পুরোপুরি কাটেনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

আলোচনায় বিভিন্ন দেশের ডিজেলের দাম তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, নেপালে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৬১ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা এবং ফিলিপাইনে ১৮৮ টাকা ৫০ পয়সা। ভারতেও প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকার বেশি। এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ডিজেলের দাম কম রাখা হয়েছিল। বৈশ্বিকভাবে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ১১৫ টাকা দরে ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছিল। এখন ২০ টাকা দাম সমন্বয় করা হলেও প্রতি লিটারে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান থাকছে।

জ্বালানি তেলের দাম উঠানামার প্রভাব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, যখন একদিকে দাম বাড়বে আরেকদিকে দাম কমবে, এটা একটা ন্যাচারাল অর্থনৈতিক প্রবাহ। কোনো দেশে কোনো পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি হলে অর্থনৈতিকভাবে তার প্রভাব অন্যদিকে প্রবাহিত হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন এবং হাইকোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র আছে। যারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লং মার্চ করছেন, তাদের এসব ঘটনার বিরুদ্ধেও কর্মসূচি দেওয়া উচিত।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে রুহল কবির রিজভী বলেন, আপনারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য লং মার্চ করছেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে লং মার্চ করছেন, দুর্নীতি হচ্ছে বলে লং মার্চ করছেন। এই যে পরিকল্পিত সন্ত্রাস যারা করছে, এর বিরুদ্ধে একটা লং মার্চ করুন। এর বিরুদ্ধে একটা প্রতিবাদসভা বা বিক্ষোভ মিছিল করুন।

তিনি আরও বলেন, কখনোই জনগণের পক্ষের কোনো আন্দোলনে আপনাদের কোনো ভূমিকা নেই। যার কারণেই আপনাদের নীতি বলে যে একটা কথা আছে— রাজনীতিতে নীতি-নৈতিকতার যে একটা কথা আছে, সেটাকে আপনারা কখনোই গ্রাহ্য করেননি। কিন্তু আপনারা ইসলামের নামে রাজনীতি করেন, যে ইসলামের নীতি-নৈতিকতাকে সর্বাঙ্গে স্থান দেয়।

রিজভী বলেন, মুনাফেক নামে একটি শব্দ আছে। মুনাফেককে কাফেরের চাইতেও খারাপ বলে গণ্য করা হচ্ছে। আমি যতটুকু ইসলাম সম্পর্কে জানি, ততটুকু আমার এটাই মনে হয় যে কাফেরের চাইতেও খারাপ বলা হয়েছে মুনাফেক। কিন্তু জনগণের সঙ্গে আপনারা বারবার যে প্রতারণা করেছেন, সেই প্রতারণার কারণে আপনারা চূড়ান্ত পর্যায়ে কোনোদিন জনগণের আস্থা লাভ করতে পারেননি। এটাই হচ্ছে আপনাদের দুর্ভাগ্য। কারণ আমি আগেই বলেছি, এদেশের জনস্বার্থে যত আন্দোলন হয়েছে, সমস্ত জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং এদেশের জনগোষ্ঠী তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য যে আন্দোলন করেছে, প্রত্যেকটারই আপনারা বিরোধিতা করেছেন।

সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান এবং মুখপাত্র এস এম শাহাদাতসহ অন্যরা।