বিভিন্ন এলাকায় ৬০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত এডিসের লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে : ডিএনসিসি প্রশাসক

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত এডিসের লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসে অভিযান ও সচেতনতামূলক কর্মশালার উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা জানান।

প্রশাসক জানান, সরকারি অফিস-আদালত, পরিত্যক্ত ভবন এবং কম মানুষের চলাচল রয়েছে এমন স্থানগুলোতেই লার্ভার উপস্থিতি বেশি। এসব স্থানে অভিযান চালাতে ডিএনসিসির ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। লার্ভা পাওয়া গেলে ধ্বংসের পাশাপাশি করা হচ্ছে জরিমানা।

মশক নিধন কার্যক্রমে গাফিলতির অভিযোগে এরই মধ্যে দুই কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, ব্যবহারের আগে মশার ওষুধ ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। ডিএনসিসির আওতাধীন হাসপাতালগুলো থেকে প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান ডিএনসিসির প্রশাসক।




বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চায় ফ্রান্স: রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করতে ফ্রান্স প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-চারলেট। তিনি বলেছেন, শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বহুপক্ষীয় ও সহযোগিতার মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, জলবায়ু, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ডিক্যাবের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ফরাসি রাষ্ট্রদূত সংগঠনটির দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ডিক্যাব বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি সংগঠনটির ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।

বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি আগের তুলনায় বেশি ‘বিশৃঙ্খল, বিপজ্জনক ও অনিশ্চিত’ মন্তব্য করে ফ্রান্স রাষ্ট্রদূত বলেন, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংঘাত অনেক ক্ষেত্রে যোগাযোগের একটি সাধারণ উপায়ে পরিণত হয়েছে এবং সহযোগিতার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্ব একটি গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বলপ্রয়োগের প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।

এ অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৫০ সালে তৎকালীন ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট শুম্যান যে ধারণা সামনে এনেছিলেন, তা পরবর্তীতে ইউরোপীয় একীকরণের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে। ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউরোপীয় প্রকল্পটি ধীরগতির ও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে—এমন মত প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁও দিয়েছেন। তবে তার মতে, ইউরোপীয় একীকরণের সামগ্রিক লক্ষ্য সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে সহসভাপতিত্বে দ্বিরাষ্ট্র সমাধান নিয়ে আয়োজিত একটি যৌথ সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স এই সিদ্ধান্ত নেয়। যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়ামসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের একই ধরনের উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

ফ্রান্স রাষ্ট্রদূত বলেন, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিপ্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করা, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি ফ্রান্সের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা।

বাংলাদেশকে ফ্রান্সের ‘দীর্ঘদিনের, নির্ভরযোগ্য ও অনুমানযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা, বহুপক্ষীয়তা এবং শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে মূল্যবোধের মিল রয়েছে।

তিনি বলেন, ফ্রান্স একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে সব ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আরব ও মুসলিমবিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ফ্রান্সের অবস্থান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ফ্রান্স একটি বহুপাক্ষিক ‘তৃতীয় পথ’ বা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অংশীদার দেশগুলোকে নিজেদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে সহায়তা করাই ফরাসি নীতির অন্যতম লক্ষ্য। এতে কোনো দেশকে ওয়াশিংটন বা বেইজিংয়ের মধ্যে একটি পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য হতে হবে না।

ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতার ওপরও গুরুত্ব দেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত। অবৈধ মাছ ধরা, জলদস্যুতা ও পাচারের মতো অপ্রথাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের কথা জানান তিনি।

বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের অর্থনৈতিক সম্পর্ক গতিশীল হলেও বাণিজ্যে কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা রয়েছে বলেও জানান ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সাড়ে চার বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে। তবে ফরাসি রপ্তানির তুলনায় বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সের মোট আমদানির প্রায় ৯৫ শতাংশই টেক্সটাইল খাত—বিশেষ করে পোশাক ও পরিধেয় পণ্য—থেকে আসে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া বিমান চলাচল, যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। পরিবহন, জ্বালানি ও টেকসই নগর উন্নয়নে ফরাসি শিল্পগোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ভবিষ্যতে ফার্মাসিউটিক্যালস, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জলবায়ু কূটনীতিতে ফ্রান্সের ভূমিকার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তির অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে ফ্রান্স পরিবেশগত সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে অভিযোজন, টেকসই অবকাঠামো ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা আরো জোরদারের কথাও জানান তিনি।

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেন, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার তহবিলের ৮০ শতাংশের বেশি জলবায়ু সহনশীলতা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশে টেকসই অবকাঠামো ও সবুজ অভিযোজন উদ্যোগে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তরণ এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াতেও ফ্রান্স সহযোগিতা করছে বলেও জানান রাষ্ট্রদূত।

একই সঙ্গে নারীর অধিকার ও জেন্ডার সমতার ক্ষেত্রে ফ্রান্সের ‘নারীবাদী পররাষ্ট্রনীতি’র কথা তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫-২০৩০ মেয়াদের কৌশলে শিক্ষা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং প্রজনন অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারীবাদী জলবায়ু পদক্ষেপ, ডিজিটাল অধিকার ও সমতাভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিকেও নতুন অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফ্রান্স-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরো গভীর করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিন্ন মূল্যবোধ ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের পক্ষে থাকা দেশগুলোর আরো সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরো জোরদার করতে প্রস্তুত। দুই দেশের সম্পর্ক শুধু ভূ-রাজনীতি নয়, অর্থনীতি ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

এ সময় ‘ফ্রান্স-বাংলাদেশ সম্পর্কের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




জয়পুরহাটে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, ৩ ফার্মেসিকে জরিমানা

জয়পুরহাট পৌর শহরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির দায়ে তিনটি ফার্মেসিকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার বিকেলে পৌর শহরের বাটার মোড় ও পাঁচুর মোড় এলাকায় জেলা প্রশাসন ও ওষুধ প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদ হোসেন।

অভিযানকালে বিক্রির উদ্দেশ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রদর্শন এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অপরাধে তিনটি ফার্মেসিকে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে ওষুধ প্রশাসনের পরিদর্শক তোফায়েল আহমেদসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ওষুধের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জেলা প্রশাসনের তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




শাহজালালে বিমানের টয়লেটে মিললো ১১ কোটি টাকার স্বর্ণ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিঙ্গাপুর থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে ৫০টি স্বর্ণবার জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। জব্দ করা স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় ৫ দশমিক ৮৩২ কেজি। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফ্লাইটটিতে স্বর্ণের চালান থাকার তথ্য পেয়ে কাস্টমস গোয়েন্দারা তল্লাশি শুরু করেন।

টানা প্রায় চার ঘণ্টা তল্লাশির পর বিমানটির টয়লেটের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৫০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি স্বর্ণবারের ওজন ১০ তোলা। সব মিলিয়ে স্বর্ণের পরিমাণ ৫০০ তোলা বা প্রায় ৫ দশমিক ৮৩২ কেজি।

যাত্রীর ব্যাগ বা শরীরের পরিবর্তে বিমানটির টয়লেট থেকে স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ চালানের সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কিংবা বিমানবন্দরের কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিমানবন্দর ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।




শ্রীনগরে লাইসেন্সবিহীন ওষুধ কারখানায় অভিযান, লাখ টাকা জরিমানা

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে লাইসেন্সবিহীন বনজ ও যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরির অভিযোগে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় কারখানার মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের ভেজাল ওষুধ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে এবং কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

সোমবার দুপুর থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উপজেলার রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের দামলা ওয়াসা রোড এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন শ্রীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা হক তানিয়া।

অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘অর্গানিক প্রোডাক’ নামে প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ লাইসেন্স ছিল না। সেখানে অনুমোদন ছাড়াই বনজ ওষুধের পাশাপাশি যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরি ও বিক্রি করা হচ্ছিল। এ অপরাধে কারখানার মালিক ইমদাদুল হককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

অভিযানে প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের ভেজাল বনজ ও যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা ওষুধগুলো ঘটনাস্থলে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমদাদুল হক প্রায় নয় মাস আগে ভবনটির পঞ্চম তলা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাসের কথা বলে ভাড়া নেন। পরে সেখানে গোপনে ওষুধ তৈরির কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ছাতিয়ানি গ্রামের মৃত আবদুল হকের ছেলে।

অভিযানে জেলা ড্রাগ সুপার মো. রুবেল, এসআরবি-১০-এর ক্যাম্প কমান্ডার আনোয়ার হোসেন, শ্রীনগর থানার এসআই শরিফুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা ড্রাগ সুপার মো. রুবেল বলেন, লাইসেন্সবিহীন ও ভেজাল ওষুধ উৎপাদনকারী কারখানার পাশাপাশি বিভিন্ন ফার্মেসিতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।




জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)-এর ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন।

ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতির পর প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৬টা ২০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি একথা জানিয়েছেন।

বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটরশোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হাইয়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে  বিএনপি নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা `হাইয়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলের সামনে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন হাতে মিছিল এবং স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান `হাইয়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলেই অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়াও সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন  অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী  রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, মিশিগান, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে আসা নেতাকর্মীসহ নিউইয়র্কস্থ বিএনপি নেতাকর্মীরা দুপুর থেকেই তাদের প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আশপাশের এলাকায় ভীড় জমাতে থাকেন।

এ সময় তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। মাঝেমধ্যে স্লোগান ধরেন- ‘ প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম। ‘

নেতাকর্মীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধুমাত্র একটি প্রটোকলভিত্তিক সমাবেশ নয়, বরং বৈশ্বিক নীতিনির্ধারক ও মার্কিন মহলের সামনে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরার এক উন্মুক্ত মঞ্চ।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুমুখী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কার প্রাধান্য পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর ​সফরসূচি:

​২২ সেপ্টেম্বর: ​এদিন সকালে জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের জন্য স্বাগত প্রাতরাশ।

​ইউএনজিএ-এর ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগদান।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ার ফিলস-আইমে-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।

​জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান বৈশ্বিক বিষয়াবলি কর্মকর্তা জোয়েল কাপলানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ।

​সন্ধ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।

​২৩ সেপ্টেম্বর: ​জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে প্রাতরাশ বৈঠক।

​রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে  উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ। ‘জলবায়ু পদক্ষেপ এবং ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ গ্রহণ ।

ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। বোয়িং গ্লোবাল-এর প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গে  সাক্ষাৎ ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান।

​২৪ সেপ্টেম্বর: ​সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য প্রদান। ​পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।

​মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সাথে বৈঠক।

​জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ: নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে (সময় পরিবর্তন হতে পারে)। তাঁর জন্য বরাদ্দকৃত সময় ১৫ মিনিট।

এরপর ​রাতে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে নৈশভোজে অংশগ্রহণ।

২৫ সেপ্টেম্বর: ​জেপিমরগান হেডকোয়ার্টার্সে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সাথে প্রাতরাশ বৈঠক।
​কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।

​ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জাইদ আল হুসেইনের সাথে মধ্যাহ্নভোজ।
​যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের সাথে মতবিনিময়।

​রাত ১১ টায় (নিউইয়র্ক সময়) এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ​প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পিতা-মাতার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে আসা অনন্য নজির স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।




পুলিশের ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরখাস্ত

কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

পৃথক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল, সচিবালয়ের নিরাপত্তা সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, এটিইউ এর সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে এবং ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে।




এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী রিমান্ডে

দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে পৃথক মেয়াদে রিমান্ডে দিয়েছে আদালত।

সোমবার বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শামসুজ্জোহা সরকার প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমানসহ অন্যরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে, গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। এতে গাজী নজরুল ও মাকছুদা ইসলাম ছাড়াও মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।




জবির দ্বিতীয় সমাবর্তন ৩০ জানুয়ারি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন।

সোমবার দুপুরে বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করে দ্বিতীয় সমাবর্তনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন।

বাংলাদেশ প্রতিদিনকে উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদদীন বলেন, সমাবর্তন উপলক্ষে পুরোদমে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি সকলকে। পাশাপাশি সকলের সহযোগিতাও কামনা করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ধূপখোলায় হবে দ্বিতীয় সমাবর্তন।

উপাচার্য আরও বলেন, বহুল কাঙ্ক্ষিত দ্বিতীয় সমাবর্তনের জন্য এখন পুরোদমে প্রস্তুতি নেওয়ার পালা। এ আয়োজন সফল করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী, গ্র্যাজুয়েটসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

এর আগে গত ২৩ আগস্ট উপাচার্য জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে ২০২৭ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বিতীয় সমাবর্তনের খসড়া তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সমাবর্তনের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ (ধূপখোলা মাঠ) প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।




মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন ইব্রাহিম আল-মাদানির ইন্তেকাল

সৌদি আরবের মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহি রাজিউন)। সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি মসজিদুল হারামে ফজরের আজান দিয়েছিলেন। ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম এই মসজিদে সেটিই ছিল তার জীবনের শেষ আজান।

সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস বলছে, সোমবার ভোরে ইব্রাহিম আল-মাদানির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে ‘ইনসাইড দ্য হারামাইন’। প্ল্যাটফর্মটি শেখ ইব্রাহিমের সোমবার ভোরে আজান দেওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগের ওই ভিডিওতে তাকে গ্র্যান্ড মসজিদে আজান দিতে দেখা যায়।

সোমবার আসরের নামাজের পর মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে আল-মুয়াল্লা কবরস্থানে দাফন করা হবে। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই মুয়াজ্জিন হিসেবে তার পথচলা শুরু হয়। মদিনার একটি স্থানীয় মসজিদে তিনি আজান দেওয়া শুরু করেন।

কলেজে পড়াশোনা শেষ করা পর্যন্ত মদিনার তিন প্রতিবেশীর সঙ্গে পালাক্রমে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর মদিনার বাইরে শিক্ষকতার কাজে যুক্ত হওয়ায় কিছু সময়ের জন্য আজান দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

১৪২৮ হিজরি অর্থাৎ ২০০৭-০৮ সালে তাকে মদিনার মসজিদ আল-মাদ্দাহতে আবার আজান দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে দায়িত্ব পালনের পর মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। পরে ১৪৩৯ হিজরি অর্থাৎ ২০১৭-১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে গ্র্যান্ড মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে বাবার সঙ্গে মক্কায় যাতায়াতের সময় তিনি মক্কার বিশেষ আজানের ধরন সম্পর্কেও পরিচিত হয়ে ওঠেন। সে সময় গ্র্যান্ড মসজিদের সাবেক মুয়াজ্জিন শেখ আবদুল লতিফ মুল্লার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। শেখ আবদুল লতিফ ছিলেন তার নানার বন্ধু।