ডারউইন টেস্ট: দেড়শ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করার পর প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান তুলে আজ শুক্রবার দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। সফরকারীদের লিড ৪ উইকেট হাতে রেখে ১৫৩ রান।

তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি (১০১) ও নাজমুল হোসেন শান্তর ফিফটিতে (৮৪) ভর করে সাড়ে তিনশ ছাড়িয়েছে বাংলাদেশের সংগ্রহ। মুমিনুল হক সৌরভের সঙ্গে ১৮৯ বলে ১০২ ও শান্তর সঙ্গে ১৫৭ বলে ৯৩ রান যোগ করে তানজিদ দলের সংগ্রহটা বড় করতে সাহায্য করেন। বামহাতি ওপেনার তানজিদ ১৯৭ বলে ১০১ রান করে আউট হওয়ার পর মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ৯৮ বলে ৬৬ রান যোগ করেন শান্ত। একটি সময় থামতে হয় শান্ত ও মুশফিককেও। শান্ত ১২৬ বলে ৮৪ ও মুশফিক ৫৫ বলে ৩৬ রান করেন।

তারকাদের মধ্যে ব্যর্থ হয়েছেন লিটন দাস। তিনি ১২ বলে শূন্য রান করে তিনি মিচেল স্টার্কের বলে আউট হয়েছেন। পরের ওভারে মুশফিককে ফরান প্যাট কামিন্স। ৩ উইকেটে ২৯৭ রান থেকে দেখতে না দেখতেই ৩০৮ রানে ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। এরপর সপ্তম উইকেটে দুর্দান্ত লড়াই করে ১৪৭ বল মোকাবেলা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। দুজন বোর্ডে ৪৩ রান তুলে অবিচ্ছিন্ন থেকে মাঠ ছাড়েন।

মিচেল স্টার্ক ও জস হ্যাজেলউড দুটি করে এবং প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন একটি করে উইকেট নেন।




কে এই মাজহারুল ? বদলি–কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগে বিআইডব্লিউটিএর ‘স্বঘোষিত’ সিবিএ সভাপতিকে ঘিরে তোলপাড় ! 

নিজস্ব প্রতিবেদক :  ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিনই যেন বদলে যায় পরিচয়। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত মাজহারুল ইসলাম রাতারাতি আবির্ভূত হন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা হিসেবে।
এরপর নিজেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ও সিবিএর (রেজি. নং-২১৭৬) ‘ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’ দাবি করে মতিঝিলের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দলীয় পরিচয় বদলের পাশাপাশি বদলে গেছে তাঁর ক্ষমতার পরিধিও। বদলি, পদায়ন, কমিটি নিয়ন্ত্রণ, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং আর্থিক লেনদেন—বিভিন্ন অভিযোগে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তবে এসব অভিযোগের কোনোটিই আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। মাজহারুল নিজেও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
  • ৫ আগস্টেই সিবিএ কার্যালয় দখলের অভিযোগ  : 
কর্মচারীদের অভিযোগ, ৫ আগস্টে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন সংগ্রামের ফলে সাবেক আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের মধ্যে  রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিন বিআইডব্লিউটিএ ভবনের নিচতলায় সিবিএর প্রধান কার্যালয়ের তালা ভেঙে সেটি দখলে নেন মাজহারুল ইসলাম ও তাঁর অনুসারী কয়েকজন কর্মচারী।
এরপর কোনো কাউন্সিল বা সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই নিজেকে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা এবং সিবিএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন তিনি—এমন অভিযোগ করেছেন সংগঠনের একাধিক কর্মী। অথচ সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০২২ সালে বিআইডব্লিউটিএতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের অনুমোদিত কমিটি ছিল। ফলে নিয়মিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়া ছাড়া নতুন করে নেতৃত্ব দাবি করার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
  • আওয়ামী আমলে শ্রমিক লীগের নেতা, এখন শ্রমিক দলের নেতৃত্বে  :
  মাজহারুলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর সহকর্মীরা। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি বিআইডব্লিউটিএ জাতীয় শ্রমিক লীগের ১ নম্বর সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালে টাঙ্গাইল-২ আসনের তৎকালীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ছোট মনির বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান বরাবর একটি সুপারিশপত্র দেন। সেখানে মাজহারুলকে ‘মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি ও আওয়ামী পরিবারের সন্তান’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁকে প্রধান কার্যালয়ে বদলির সুপারিশ করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথির বরাতে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে তিনি প্রধান কার্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—যে ব্যক্তি আওয়ামী লীগ আমলে দলটির শ্রমিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর কীভাবে তিনি এত দ্রুত নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা হয়ে গেলেন ? মাজহারুলের দাবি অবশ্য ভিন্ন। তাঁর ভাষ্য, তিনি ২০১৫ সাল থেকেই শ্রমিক দল করেন এবং ২০১৬ সালে সংগঠনের পদে আসেন। তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রমিক লীগের পদ দেওয়া হলে তা জানার পর তিনি লিখিতভাবে অব্যাহতি নিয়েছিলেন।
  • বদলি কি এখন ‘বাণিজ্যের’ হাতিয়ার ?
বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, বদলি এবং পুনঃবদলি না করার আশ্বাসকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছে।  অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামীপন্থী সিবিএ নেতাসহ সাধারণ কর্মচারীদের কাছ থেকেও বদলি ঠেকানো বা কাঙ্ক্ষিত স্থানে বদলির আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ—সিবিএর তিন নেতার কাছ থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে এই অর্থ লেনদেনের স্বাধীন প্রমাণ বা ব্যাংক লেনদেনের নথি প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। মাজহারুল অবশ্য সরাসরি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন একই পদে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশাসনিক নিয়মেই বদলি করা হয়েছে এবং এসব বদলির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
  • বিরোধীদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলার অভিযোগ মাজহারুলকে ঘিরে :
বিরোধ আরও তীব্র হয় সিবিএর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৬ নভেম্বর এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান তাঁকে ঊর্ধ্বতন সহসভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেন।
এরপর ১১ নভেম্বর মজিবুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজিজুল হক বিআইডব্লিউটিএ কার্যালয়ে গেলে মাজহারুল ও তাঁর অনুসারীরা তাঁদের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁদের মতিঝিল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গভীর রাতে মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং পরদিন তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় আজিজুল হক থানায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে দাবি করা হয়েছে।
মাজহারুলের বক্তব্য, তিনি কাউকে মারধর করেননি; মজিবুর ও আজিজুল ইউনিয়নের ব্যানার খুলতে এলে তিনি শুধু থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। মজিবুর রহমানকে তিনি কারাগারে পাঠাননি বলেও দাবি করেছেন।
  • চিকিৎসাধীন থেকেও মামলার আসামি ?
সিবিএর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব কুমার দাসের বিরুদ্ধেও মামলা  হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সঞ্জীবের দাবি, ঘটনার সময় তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগে তিনি এ বিষয়টি তুলে ধরে মামলা প্রত্যাহার এবং মাজহারুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বলে জানা গেছে।
সঞ্জীবের আরও অভিযোগ, তিনি শ্রম আদালতে নিজের বদলি স্থগিত এবং মাজহারুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাওয়ায় তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
মাজহারুলের পাল্টা অভিযোগ—সঞ্জীব কিছু কর্মকর্তাকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করাচ্ছেন এবং এ কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অর্থাৎ, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে বিআইডব্লিউটিএর শ্রমিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখন আদালত ও প্রশাসনের দরজায় পৌঁছেছে।
  • সাবেক সিবিএ নেতাকেও হামলার অভিযোগ  :
সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও তাঁর ছেলের ওপরও কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে মাজহারুলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম সিএমএম আদালতে মামলা করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে বলেও জানা গেছে। এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্ন উঠছে—একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব কীভাবে হামলা, মামলা ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের পর্যায়ে পৌঁছাল ?
  • ভাইয়ের বিরুদ্ধেও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ  : 
মাজহারুলের বিরুদ্ধে শুধু নিজের ক্ষমতা ব্যবহারের অভিযোগই নয়, পরিবারের সদস্যদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীরা জানান, তাঁর দুই ভাই বিআইডব্লিউটিএতে চাকরি পেয়েছেন। তাঁদের একজন জাহিদুল ইসলাম তৃতীয় শ্রেণির ‘ষাট মুদ্রাক্ষরিক’ পদে নিয়োগ পেলেও গত কয়েক বছর ধরে নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের পরিচালকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের সুযোগ কীভাবে পেলেন—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ, পদায়ন ও দায়িত্ব অর্পণের সরকারি নথি প্রকাশ্যে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
  • সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন  :
 আওয়ামী লীগ আমলে ঢাকার সাভারে মাজহারুলের একটি তিনতলা বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বাড়িটির মালিকানা নিজের নামে না রেখে শ্বশুরের নামে দেখানো হয়েছে এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ আড়াল করতেই এমন কৌশল নেওয়া হয়েছে। তবে মাজহারুলের দাবি, বাড়িটি তাঁর শ্বশুর নিজের অর্থে নির্মাণ করেছেন।
এক্ষেত্রে বাড়িটির জমির দলিল, নির্মাণ ব্যয়, অর্থের উৎস, মালিকানা এবং আয়কর নথি যাচাই করলেই অভিযোগের সত্যতা সহজে নির্ণয় করা সম্ভব।
  • পুরোনো ব্যক্তিগত অভিযোগও সামনে :
মাজহারুলের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে চাঁদপুরে কর্মরত অবস্থায় এক কর্মচারীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগও সামনে এনেছেন তাঁর বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, প্রভাব ও অর্থের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। তবে এটি একটি পুরোনো ও গুরুতর ব্যক্তিগত অভিযোগ; এর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ বা আদালতের রায় ছাড়া এটিকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
প্রশ্ন এখন একটাই—‘মাজহারুল’ কীভাবে এত ক্ষমতাবান  ? বিআইডব্লিউটিএর সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে বিষয়টি কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বদলের গল্পে সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রশ্ন উঠছে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংগঠনকে ঘিরে বদলি, পদায়ন, কমিটি নিয়ন্ত্রণ, মামলা এবং আর্থিক লেনদেনের একটি প্রভাববলয় আদৌ তৈরি হয়েছে কি না।
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ে শ্রমিক লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী কীভাবে ক্ষমতার পালাবদলের পর এত দ্রুত নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে সংগঠনের নেতৃত্বের কেন্দ্রে চলে এলেন?
অভিযোগকারীরা তাঁকে আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী ও রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। অন্যদিকে মাজহারুল নিজেকে শ্রমিক দলের পুরোনো কর্মী দাবি করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করছেন।
সুতরাং এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, নথিভিত্তিক তদন্ত।
  • তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে আসল চিত্র :
বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, মাজহারুলের রাজনৈতিক পরিচয়, সিবিএর নেতৃত্ব দাবি, কার্যালয় দখলের অভিযোগ, বদলি-পদায়নে প্রভাব, কথিত ৭০ লাখ টাকার লেনদেন, মামলা ও হামলার অভিযোগ, ভাইদের চাকরি ও পদায়ন এবং সাভারের বাড়ির অর্থের উৎস—সবকিছু একসঙ্গে খতিয়ে দেখা হোক।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, বদলি আদেশ, সিবিএর কমিটি ও কাউন্সিলের কাগজপত্র, ব্যাংক লেনদেন, সম্পদের বিবরণ, নিয়োগ-পদায়নের নথি এবং আদালতের মামলার কাগজপত্র যাচাই করে তদন্ত করা যেতে পারে। কারণ, একজন কর্মচারী সত্যিই যদি রাজনৈতিক পরিচয় বদলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংগঠনের ওপর ব্যক্তিগত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে থাকেন এবং বদলি-পদায়নকে আর্থিক লেনদেনের হাতিয়ার বানিয়ে থাকেন, তবে সেটি শুধু শ্রমিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নয়—রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার জন্যও গুরুতর সংকেত। আর যদি অভিযোগগুলো মিথ্যা হয়, তাহলেও তদন্তের মাধ্যমে মাজহারুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অবসান হওয়া জরুরি। বিআইডব্লিউটিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কে কোন দলের—সেটি নয়; কে নিয়ম ভেঙেছে, কে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং কোথায় অর্থের লেনদেন হয়েছে—তার নিরপেক্ষ জবাবই এখন সবচেয়ে জরুরি।



দেশে ফিরলেন ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে কাটানোর পর নেপালে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। হংকং হয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।

নেপালে ফিরে দেউবা সরাসরি মহারাজগঞ্জে তার ভাড়া করা বাসভবনে উঠবেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সচিব ভানু দেউবা। দেশ ছাড়ার আগে যে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন, দেশে ফিরে সেখানেই থাকবেন তিনি।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কথা জানিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে নেপাল ছাড়েন দেউবা। এরপর প্রায় পাঁচ মাস তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করেন। তবে তার দীর্ঘ বিদেশ অবস্থান এবং চিকিৎসার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

দেউবা কাঠমান্ডু থেকে সরাসরি সিঙ্গাপুরে গেলেও তার স্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবা নয়াদিল্লি হয়ে সিঙ্গাপুরে যান। পরে দেউবা, রানা ও তাদের ছেলে জয়বীর কখন সিঙ্গাপুর থেকে হংকংয়ের উদ্দেশে রওনা হন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার দেউবা দেশে ফিরলেও তার স্ত্রী আরজু রানা ও ছেলে জয়বীরের বর্তমান অবস্থান এখনো জানা যায়নি।

দেউবা পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন। তবে কোথায় চিকিৎসা নিয়েছেন কিংবা কী ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য চিকিৎসা করিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে অবস্থানের সময় দেউবা, তার স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসা, যাতায়াত এবং অন্যান্য ব্যয়কে বহন করেছে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

৮০ বছর বয়সী শের বাহাদুর দেউবা নেপালের পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। দেশে ফেরার পর তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হওয়া নেপালের জেন-জি আন্দোলন দ্রুত দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, সরকারি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের মধ্যে আন্দোলন তীব্র হলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট




ইরান যুদ্ধে দিশাহারা মার্কিন নৌ সেনারা, রণতরি থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টা

সমুদ্রে দীর্ঘ ৯ মাস, টানা ২৫০ দিন ডাঙার স্পর্শ না পাওয়া এবং একে একে একাধিকবার মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ তৈরি হয়েছে এক চরম মানবিক সংকট। জাহাজে থাকা প্রায় ৫ হাজার নৌসেনা ও মেরিন সেনার জীবন বিষিয়ে উঠেছে।

পচা খাবার, অস্বাস্থ্যকর বাথরুম, সুপেয় পানির সংকট আর অকেজো শৌচাগারের মধ্যে দিন কাটাতে গিয়ে ভেঙে পড়েছে সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য সাগরে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক সংবাদমাধ্যম ‘মিলিটারি টাইমস’। 

গত বৃহস্পতিবার সান দিয়েগোতে আয়োজিত এক আবেগঘন গণশুনানিতে ভারপ্রাপ্ত নৌসচিব হাং কাও-এর মুখোমুখি হন জাহাজে থাকা সেনাদের প্রায় ২০০ স্বজন। জ্যেষ্ঠ নৌ কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে এক স্ত্রী জানান, তার স্বামী লাফ দেওয়ার দিনই মেসেজ পাঠিয়ে বলেছেন—‘তিনি আশা করেন কাল সকালে যেন তার আর ঘুম না ভাঙে!’ আরেকজন স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর এই অবিবেচক সিদ্ধান্ত নেতৃত্ব ও সাধারণ সেনাদের পরিবারের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আস্থা পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে।

 

মিলিটারি টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বারবার মেয়াদের মেয়াদ বাড়ানোয় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আনাবেল লোমা নামে এক নারীর স্বামী জাহাজ থেকে সাগরে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ওই নারী জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অবসাদে ভুগছেন এবং ১৩ বছরের ক্যারিয়ার নষ্ট হওয়ার ভয়ে চরম আতঙ্কে আছেন। অন্য আরেকটি ঘটনায়, এক সেনাসদস্য তার এক সহকর্মীকে সাগরে লাফ দেওয়া থেকে টেনে ধরে প্রাণ বাঁচান।

গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল যুদ্ধজাহাজটি।

তবে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর সেটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই থেকে টানা ৯ মাস ধরে তারা সমুদ্রে। এর মধ্যে ডিসেম্বর মাসে গুয়ামে এবং জুলাইয়ে ওমানে মাত্র দুই দিনের জন্য ডাঙায় নামার সুযোগ পেয়েছিলেন সেনারা। মে মাসে ফিরে আসার কথা থাকলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বারবার তাদের মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ইরানবিরোধী সামরিক অপারেশনের পঞ্চম মাসে রয়েছে বিমানবাহী রণতরিটি।
 

দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার পাশাপাশি জাহাজের অমানবিক জীবনযাত্রা সেনাদের ঠেলে দিয়েছে এক চূড়ান্ত নরকে। ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসমেম্বার মাইক লেভিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জাহাজের বর্তমান করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, জাহাজে রয়েছে ছত্রাক ধরা বাথরুম, দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট পড়ে থাকা টয়লেট ও ওয়াশিং মেশিন এবং গরম পানির প্রচণ্ড অভাব। এমনকি খাবার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র আধা কাপ ভাত ও দুটি রুটি। সাবান, পেস্ট ও ডিওডোরেন্টের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে সেখানে।

এর আগে এপ্রিলে নিম্নমানের খাবার ও পানির সংকটের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ সেটিকে ‘ফেক নিউজ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

তবে এবার হেগসেথকে কড়া জবাব দিয়েছেন লেভিন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই তরুণ-তরুণীরা দেশের সেবা করতে এসেছে। রাষ্ট্র হিসেবে তাদের ন্যূনতম পাওনা—একটি ভাল টয়লেট, গরম পানি আর পেটে চারটে ভালো খাবার দেওয়া। হেগসেথ তার ব্যবস্থাপনাটুকুও করতে ব্যর্থ হয়েছেন, অথচ স্বজনদের চোখের দিকে তাকিয়ে তাদের মিথ্যাবাদী বলতে তার বাঁধছে না!’




রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দলের স্থায়ী কমিটির সভায় নাম চূড়ান্ত করা হয়। দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা। ইসির তফসিল অনুযায়ী, এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

অন্যদিকে সংসদের বিরোধী দল, অর্থাৎ ১১ দলীয় জোট থেকে প্রার্থী করা হয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে। আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন জোট নেতারা।

ইসির তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের তারিখ রেখে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আজ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।

এক প্রার্থী একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন, বাছাইয়ে একটি চূড়ান্ত হবে। ভোট হবে ২০ আগস্ট সংসদ অধিবেশন কক্ষে।



১১ দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল অলির মনোনয়নপত্র দাখিল

১১ দলীয় ঐক্যজোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল করে ড. হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল।

এ সময় জোটের শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন। 

পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীরবিক্রম)।

আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ জন্য বৃহস্পতিবার নিজেদের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেবে সরকারি দল ও বিরোধী দল।

সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। 

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আগামী ১৮ আগস্ট। আগামী ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।




রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ রিটটি দায়ের করেন।

রিটে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোন নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।

রিটকারী আইনজীবীর দাবি, এই বিধানের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এতে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বর্তমান প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

এদিকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ বৃহস্পতিবার। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় তফসিলসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনকে ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে রিট দায়ের হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।




জরুরি বৈঠকে বিএনপি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে জরুরি বৈঠকে বসেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক শুরু হয়। দলের সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বৈঠকে বিএনপির শীর্ষ ও জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত রয়েছেন। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী কে হবেন, বৈঠকে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।

দলীয় উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের দাবি, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির প্রস্তুতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মির্জা ফখরুল।

আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া পদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য জাতীয় সংসদের বিশেষ বৈঠক ডেকেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসীর উদ্দীন।

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিবের পদটি শূন্য হবে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পাশাপাশি দলের পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন, তা নিয়েও বিএনপির অভ্যন্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে।




পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন গতি, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি

বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নে সরকার সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে।

এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরি করাই হবে কমিটির প্রধান দায়িত্ব। প্রয়োজন হলে কমিটি নতুন সদস্যও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা শিগগিরই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন মিললে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে নতুন পে স্কেল ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এর আর্থিক প্রভাব। বেতন বাড়ালে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পে স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

তবে সরকার পুরো বিষয়টি স্থগিত না রেখে আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বাস্তবায়নের উপায় খুঁজছে। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারিত হারে বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর পর থেকেই নবম পে স্কেলের দাবি জোরালো হতে থাকে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

পরে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল পে স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। সেই চাপ সামাল দিতে রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষতা আনা প্রয়োজন হবে।

নতুন পে স্কেল নিয়ে এরই মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা বেড়েছে। এখন তাঁদের নজর মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি কবে উঠবে, অনুমোদনের পর কখন প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং কোন কাঠামোয় নতুন বেতন কার্যকর হবে—সেদিকেই।




রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন ফখরুল ও অলি

দেশের নতুন অর্থাৎ ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমাদান আজ সকাল ১০টায় শুরু হয়ে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ক্ষমতাসীন বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করলেও দলীয় সূত্রমতে তাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হচ্ছেন দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আজ দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই বৈঠকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বিএনপির প্রার্থীর নাম। এরপর দলের পক্ষ থেকে বেলা ২টার দিকে তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা। এদিকে, বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। আজ বেলা ১১টায় তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুসারে, ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট বিকাল ৪টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট। এদিন বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে।

১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার গঠিত হয়। ওই বছরের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ভোটদানে বিরত ছিলেন জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের সংসদ সদস্যরা।

১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠন করে। বিরোধী দলে ছিল আওয়ামী লীগ। সেবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুই দলের প্রার্থী থাকায় প্রথমবারের মতো সংসদকক্ষে ভোট হয়। বিএনপি প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। পঞ্চম সংসদে বিএনপি ১৪০, আওয়ামী লীগ ৮৮, জাতীয় পার্টি ৩৫, জামায়াত ১৮, বাকশাল পাঁচ, সিপিবি পাঁচ, ইসলামী ঐক্যজোট এক, ন্যাপ (মোজাফফর) এক, গণতন্ত্রী পার্টি এক, এনডিপি এক, জাসদ (শাজাহান সিরাজ) এক ও ওয়ার্কার্স পার্টি একটি আসন পেয়েছিল। সেবার ৩০০ সাধারণ আসনের পাশাপাশি সংরক্ষিত আসন ছিল ৩০টি। সব মিলিয়ে (নির্বাচিত ও সংরক্ষিত) ৩৩০ জনের মধ্যে জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ ৬৬ জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।

১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পোলিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন যুগ্ম সচিব হিসেবে অবসরে যাওয়া ইসির কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ। ৩৫ বছর আগের সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সেবারই প্রথম প্রকাশ্য ভোট হয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে। ভোটাররা প্রকাশ্যে ভোট দেন; ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা দূর থেকে তা প্রত্যক্ষ করেন। দুই প্রার্থীর পোলিং এজেন্টও দেখেন কে কাকে ভোট দিচ্ছেন। কে কে ভোট দিলেন তা নোটও নেন নিজ নিজ দলের এজেন্টরা। ভোটের পরদিন ৯ অক্টোবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় পার্টি, জামায়াত, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি ভোট দেয়নি। আবদুর রহমান বিশ্বাস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

’৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির সব সংসদ সদস্য ভোট দিতে আসেন এবং দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেন। স্বতন্ত্র সদস্য নূরুল ইসলাম মনি ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদও তাঁকে ভোট দেন। গণতন্ত্রী পার্টির সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ভোট দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। তবে আওয়ামী লীগের আখতারুজ্জামান বাবু ভোট দিতে সংসদে যাননি। জাতীয় পার্টি নির্বাচন বর্জন করে। জামায়াত ও সিপিবি সদস্যরা ভোটদানে বিরত ছিলেন। ন্যাপের আবদুল হাফিজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, এনডিপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জাসদের শাজাহান সিরাজ ও ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ভোটদানে বিরত ছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ সেদিন সংসদে উপস্থিত থেকে নির্বাচন পরিচালনা করেন। সংসদকক্ষের ভিতরে চারটি কক্ষে একযোগে ভোট শুরু হয় বেলা ২টায়। বিরতি ছাড়াই ভোট চলে ৫টা পর্যন্ত।

বিএনপি চেয়ারপারসন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২টায় ভোট দেন। ভোট দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন এবং দলীয় সদস্যদের ভোটদান প্রত্যক্ষ করেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ভোট দেন ৩টা ৩৪ মিনিটে। বিকাল ৫টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে ভোটদানের সময় শেষ ঘোষণা করেন সিইসি। ৫টা ৫ মিনিটে ভোট গণনা শুরু হয়। পৌনে ৬টায় গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ওই দিনই ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে ইসি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবদুর রহমান বিশ্বাস পেয়েছেন ১৭২ আর বদরুল হায়দার চৌধুরী ৯২ ভোট।

এদিকে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর আবারও হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ। জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত হলেও বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছে। ইসি জানিয়েছে, এবারে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটিতে প্রার্থিতা বাতিল রয়েছে। সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এবার ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যাঁরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। এর মধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সদস্য ২৪৭ আর জামায়াতের ৭৭ জন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র আট, এনসিপির আট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিন, ইসলামী আন্দোলনের এক, বিজেপির এক, গণসংহতি আন্দোলনের এক, গণপরিষদের এক, খেলাফত মজলিসের এক ও জাগপার এক জন সংসদ সদস্য রয়েছেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ বিরতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হচ্ছে ২০ আগস্ট। শুরুতে ভোটাভুটি সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) হবে এবং সাংবাদিকদের বসার ব্যবস্থা থাকবে।’