লংমার্চের মধ্যেই জামায়াতের ৩৪ এমপির একসঙ্গে বিদেশ সফর, আলোচনা-কৌতূহল

আট দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের রংপুর অভিমুখী লংমার্চ কর্মসূচি গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। লংমার্চের বিভিন্ন পথসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন সংসদ সদস্য (এমপি) বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য সফরে রয়েছেন। সফরকারী দলে এমপিরা ছাড়াও জামায়াতের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং এমপিদের পরিবারের সদস্যসহ মোট ৭১ জন রয়েছেন।

জামায়াতের দলীয় সূত্রে এ সফরকে ‘শিক্ষামূলক সফর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের এত সংখ্যক সংসদ সদস্যের একসঙ্গে বিদেশ সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর জামায়াত এমপিদের সফর দলটির একাংশ এয়ার এশিয়ার ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটের একে-৭০ ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় যান। বাকি সদস্যরা পরের দিন অর্থাৎ ১৪ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। সফর দলে জামায়াতের ৩৪ এমপি, দুই কেন্দ্রীয় নেতা ও একজন লেখকসহ মোট ৭১ জন সদস্য রয়েছেন।

সফরটিকে জামায়াতের নেতারা শিক্ষামূলক ও ওমরা পালনের সফর হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সফরে থাকা জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশ-ই-শূরা সদস্য ও শেরপুর-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, ‘এটা কোনো ফরমাল (আনুষ্ঠানিক) ট্যুর না। এটা ফ্যামিলি ট্যুর, গ্রুপ ট্যুর।’

সংসদ সদস্যদের বিদেশ সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ মোহাম্মদ শাহান।

তিনি বলেন, ‘এমপিদের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে দেখতে হবে তারা কোন উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন। তারা যদি শিক্ষামূলক বা বিশেষ কোনো কারণে গিয়ে থাকেন তাহলে সেটা পরিষ্কার করতে সমস্যা থাকার কথা নয়। যদি সেটা স্পষ্ট না করা বা লুকানো হয় তাহলে সেখানে একটা প্রশ্ন উঠবে।’

সফরকারী জামায়াত এমপিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছেন, এ সফর রাজনৈতিক নয়, বরং পারিবারিক প্রোগ্রাম। প্রথমে মালয়েশিয়ায় পৌঁছে তারা সেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের এমপিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কিন্তু এটা প্রফেশনাল বা ফরমাল কোনো বিষয় ছিল না।

জামায়াতে ইসলামীর সফরকারী দলে আছেন ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসাইন, ঢাকা-১৪-এর মীর আহমাদ বিন কাসেম, চট্টগ্রাম-১৬-এর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১-এর মাসুদ সাঈদী, শেরপুর-১-এর মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, গাইবান্ধা-১-এর মো. মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৫-এর মো. আবদুল ওয়ারেস, রংপুর-৬ আসনের মো. নুরুল আমিন, খুলনা-২-এর এস কে জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, খুলনা-৬-এর মো. আবুল কালাম আজাদ, বাগেরহাট-২-এর শেখ মঞ্জুরুল হক রাশেদ, চুয়াডাঙ্গা-১-এর মো. মাসুদ পারভেজ, নওগাঁ-২-এর মো. এনামুল হক, চুয়াডাঙ্গা-২-এর মো. রুহুল আমিন, গাজীপুর-৪-এর সালাহ উদ্দিন, কুড়িগ্রাম-৪-এর মো. মোস্তাফিজুর রহমান, যশোর-৫-এর গাজী এনামুল হক, নড়াইল-২-এর মো. আতাউর রহমান, নেত্রকোনা-৫-এর মাসুম মোস্তফা, মেহেরপুর-১-এর মো. তাজউদ্দিন খান, কুষ্টিয়া-৪-এর মো. আফজাল হোসাইন, গাইবান্ধা-২-এর মো. আবদুল করিম, ময়মনসিংহ-৬-এর মো. কামরুল হাসান, নীলফামারী-৪-এর আবদুল মুনতাকিম, নীলফামারী-২-এর আল ফারুক আবদুল লতিফ, নীলফামারী-৩-এর ওবায়দুল্লাহ সালাফি, জয়পুরহাট-১-এর মো. ফজলুর রহমান, নীলফামারী-১-এর মো. আবদুল সাত্তার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২-এর মো. মিজানুর রহমান, পাবনা-৩-এর মোহাম্মদ আলী আসগর, পাবনা-৪-এর মো. আবু তালেব মণ্ডল, রংপুর-১-এর মো. রায়হান শিরাজী এবং কুড়িগ্রাম-১-এর মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

এছাড়া সংসদ সদস্য না হলেও সফর দলে আছে জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। আরো আছেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন। এছাড়া জিয়াউল হক নামের একজন লেখকও সফরসঙ্গী হয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান মনে করেন, কোনো বড় রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা বিদেশ সফরে গেলে সে বিষয়ে জনগণ জানতে চাইতে পারে। সুতরাং কোন ম্যান্ডেটে এমপিরা সফর করছেন সেটা পরিষ্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘জামায়াত এমপিদের এ সফরের বিষয়ে আমার জানা নেই। বিষয়টা সম্পর্কে মানুষকে পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে। যাতে কোনো গোপনীয়তা না থাকে। যেকোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে যারা জনপরিসরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন, তাদের যেকোনো গতিবিধি, যেকোনো আচরণের পাবলিকলি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জনপরিসরে দেয়ার প্রয়োজন আছে। কারণ তিনি যা করছেন সেটা ব্যক্তি হিসেবে না, দল হিসেবে করছেন।’

দলের ৩৪ এমপির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য সফর নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সফরে প্রায় ৩৪ জন এমপি গেছেন। তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। সফরের উদ্দেশ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পার্লামেন্ট ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন। তারা কয়েকটি দেশে সফর করবেন।’

সূত্র: বণিক বার্তা




প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষের এ বৈঠকে সরকারের নীতি-নির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

উক্ত বৈঠকে মন্ত্রিসভার সদস্যরাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।




ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের ৫০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে তিন অভিযোগে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

৫০০ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়েছে বলে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।

এর আগে গত ৫ জুন এ রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

রায়ে তিন অভিযোগে ১০ বছর করে ৩০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়।

৩৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রের সঙ্গে রয়েছে এক হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথিপত্র। এ ছাড়া রয়েছে তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও ডকুমেন্ট। এ মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে হাসানুল হক ইনুকে।

আটটি অভিযোগে আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, ১৪ দলীয় জোট সরকারের অংশীদার জাসদের সভাপতি হিসেবে তার ঊর্ধ্বতন অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশনা, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলন দমনের নির্দেশনার পর ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের বৈধতা
অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ জুলাই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সভায় হাসানুল হক ইনু উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে আন্দোলন দমন এবং আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব বাস্তবায়নে নির্দেশনা, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডারদের পরিচালিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনকে বৈধতা দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সার্বক্ষণিক শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ
অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসানুল হক ইনু সার্বক্ষণিক শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আন্দোলন দমনে কারফিউ বহাল রাখা, দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার এবং নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, আটক ও নির্যাতনের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উসকানি ও নির্দেশনা দেন।

এর অংশ হিসেবে ৪ আগস্ট আন্দোলন দমনে কারফিউ জারি ও গুলি চালানোর মতো পদক্ষেপে শেখ হাসিনার গৃহীত সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য টেলিফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র, সহায়তা ও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যা
অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ঘোষিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে ছাত্রদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কুষ্টিয়া জেলার সর্বস্তরের জনগণের পাশাপাশি নিরীহ-নিরস্ত্র শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ রাস্তায় নেমে আসেন।

সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার হাজারো নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা হাসপাতাল মোড়ে জড়ো হয়ে সেখান থেকে চৌড়হাস হয়ে মজমপুরের দিকে শান্তিপূর্ণভাবে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুগত অধস্তন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাহবুবউল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা ও নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান আতার নির্দেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসী অজয় সুরেখা, মানব চাকী, আতিকুর রহমান অনিক, শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ, রাশিদুল ইসলাম বিপ্লব, তৈয়ব বাদশা, তাইজাল আলী খান, স্বপন কুমার পুলিশের ছত্রছায়ায় (কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশের সঙ্গে একত্রে) নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর শহরের বিভিন্ন স্থানে গুলি চালাতে থাকে।

এই গুলিবর্ষণের ফলে দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে বক চত্বর থেকে আনুমানিক ৫০ গজ উত্তরে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, বার্মিজ গলিতে সুরুজ আলী বাবু, হরিপুরগামী রাস্তার আড়ং-এর সামনে শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুত্তাকিন, মো. উসামা, তুলাপট্টির গলিতে ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং ফায়ার সার্ভিসের বিপরীত দিকে সড়কে চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন।




একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে: আমানউল্লাহ আমান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান বলেছেন, দেশ যখন সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতার মাধ্যমে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। দেশের স্বার্থে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নের আটি ভাওয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ঢাকা-২ আসনের শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমানউল্লাহ আমান বলেন, দেশের মানুষ শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। কেউ যেন নানা ধরনের অপতৎপরতার মাধ্যমে দেশের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের পরিবেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল করে গড়ে তুলতে হবে। বৃক্ষরোপণের মতো সামাজিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করলে তাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়বে।

আমানউল্লাহ আমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে মাদকে আসক্ত না হয়, খারাপ পথে না যায় এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে শিক্ষক ও অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে।  শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো মনে করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশে আমানউল্লাহ আমান বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, এলাকার উন্নয়ন করা এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার জন্য আপনারা প্রত্যেকে নিজের সন্তান মনে করে দায়িত্ব পালন করবেন। আপনাদের কাছে এটাই আমার বিনীত অনুরোধ।

কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহিত করতে হবে। কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করলে তাদের আরও ভালো করার আগ্রহ তৈরি হয়। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে ভালো ফল করা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আমানউল্লাহ আমান বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তাঁদের আরও যত্নবান হতে হবে।  নিজের সন্তান, নিজের পরিবার ও নিজের আপনজন মনে করে দায়িত্বগুলো পালন করুন।

দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের সময় কেউ যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির সুযোগ না পায়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান তিনি। দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও স্থানীয় নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও উমর ফারুকের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক ইরফান ইবনে আমান অমি, কেরানীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন মোল্লাসহ  স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।




চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের ৬০ বছর পূর্তি উদযাপন

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের ৬০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার শোভাযাত্রা, স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা ও কেক কাটার আয়োজন করা হয়।

সকাল সাড়ে ১০টায় প্রেসক্লাব চত্বর থেকে সদস্য ও অতিথিদের অংশগ্রহণে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। এটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামান ও পুলিশ সুপার মো. রুহুল কবীর খান।

এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম এবং চুয়াডাঙ্গা সম্পাদক পরিষদের আহ্বায়ক সরদার আল আমিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি।

অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য কামরুল আরেফিনসহ প্রবীণ সাংবাদিকেরা স্মৃতিচারণ করেন। এর আগে জেলার বিভিন্ন উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে অতিথিরা কেক কেটে প্রেসক্লাবের ৬০ বছর পূর্তি উদযাপন করেন।




বগুড়া টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোহন, সম্পাদক সুজন

বগুড়া টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে বগুড়া প্রেস ক্লাবের নতুন ভবনে ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনে সভাপতি পদে আমিনুর রহমান মোহন আখন্দ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মেহেরুল সুজন নির্বাচিত হয়েছেন।

সভাপতি পদে আমিনুর রহমান মোহন আখন্দ পেয়েছেন ১৮ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তানভীর আলম রিমন পেয়েছেন ৯ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে মেহেরুল সুজন পেয়েছেন ১৫ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আতিকুর রহমান সোহাগ পেয়েছেন ১২ ভোট।

বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। সংগঠনের ২৭ জন ভোটারের সবাই ভোট দিয়েছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বগুড়ার সিনিয়র সাংবাদিক মতিউল ইসলাম সাদী ফলাফল ঘোষণা করেন।

নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে এসএম আবু সাঈদ ১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সুমন সরদার পেয়েছেন ১১ ভোট। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রাজিব সেলিম ১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ১১ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সঞ্জু রায়, কোষাধ্যক্ষ পদে আব্দুল আউয়াল নির্বাচিত হয়েছে।

এছাড়া সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন ববিন রহমান, আব্দুর রহিম মন্ডল, শাহনেওয়াজ শাওন ও হুমায়রা আকতার জাহান। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক গণেশ দাস ও আতিকুর রহমান সোহাগ।




গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল : এ পর্যন্ত গ্রেফতার ১৭৯

রাজধানীর গুলশান থানা এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ১৭৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে জড়িতদের অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।




চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে শাহজালাল মাজারে দানের টাকা গণনা শুরু

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের টাকা চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা শুরু হয়েছে। মাজারের দান বাক্স ও ডেকিচিগুলোর তালা খোলা হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টায় সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তালাগুলো খুলে মাজার প্রাঙ্গণে গণনার কাজ শুরু হয়। দুপুর ১২টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত টাকা গণনা চলছিল।

এসময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত আছেন। এছাড়াও সিলেটের গণমাধ্যম কর্মীরাসহ সচেতন সিলেটবাসী এবং মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও গণনার কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন।

উল্লেখ্য, প্রায় একমাস ৪ দিন পর আবার শাহজালাল (র.) মাজারে দান বাক্সগুলো খোলা হয়েছে।




মালয়েশিয়ায় একসঙ্গে ১৫ যানবাহনের সংঘর্ষ, নিহত ৩

মালয়েশিয়ার ইপোতে ১২টি মোটরসাইকেল ও তিনটি গাড়ির সংঘর্ষে তিন তরুণ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯ জন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মালয় মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ ভোরে জালান জেলাপাং-আম্পাং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ইপো জেলা পুলিশ প্রধান সহকারী কমিশনার মুহাম্মদ নাজিব হামজাহ জানান, ভোর ৩টা ৩৫ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পায় পুলিশ।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় ১৫টি যানবাহনই মেরু থেকে তামবুনের দিকে যাচ্ছিল।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলেই ১৯ ও ২০ বছর বয়সী দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। আহত ৯ জনের বয়স ১৯ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তাদের চিকিৎসার জন্য রাজা পারমাইসুরি বাইনুন হাসপাতাল (এইচআরপিবি) নেয়া হয়। পরে হাসপাতালের জরুরি ও ট্রমা বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ বছর বয়সী আরও এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় তিনে। দুর্ঘটনায় জড়িত তিনটি গাড়ির চালকই অক্ষত রয়েছেন।




হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি

সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে চলতি বছরে নতুন রিট মামলা দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিচারিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে এবং ব্যক্তিস্বার্থ বা ব্যক্তিগত বিরোধের রিট বন্ধ হলে মামলার চাপ আরও অনেক কমে আসবে বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আদালতে একটা শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করছেন। বিচারিক শৃঙ্খলা আনতে পারলে রিট মামলার সংখ্যা কমে আসবে। আমার দৃষ্টিতে আদালতে যদি শৃঙ্খলা থাকে, তাহলে প্রকৃতপক্ষে মানুষ ন্যায়বিচার পায়।

সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে হাইকোর্টে রিট মামলার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬০টি। জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রথম ৩ মাসে হাইকোর্টে নতুন রিট মামলা হয় ৪ হাজার ১১২টি। এই ৩ মাসে নিষ্পত্তি হয় ২ হাজার ২১৩টি রিট মামলা।

এরপর ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত হাইকোর্টে নতুন রিট মামলা হয় ৪ হাজার ৭২৯টি। তবে এই ৩ মাসে হাইকোর্টে রিট মামলা নিষ্পত্তি হয় ৯ হাজার ৫৯০টি। অর্থাৎ এই সময়ে নতুন রিট মামলা দায়েরের চেয়ে নিষ্পত্তির হার দ্বিগুণ। জুনের শেষে হাইকোর্টে বিচারাধীন রিট মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৯টি।

হাইকোর্টে লক্ষাধিক রিট মামলা বিচারাধীন থাকার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশনের (জনস্বার্থ মামলার) নামে ব্যক্তি স্বার্থে রিট মামলা করা হয়। যার মূল উদ্দেশ্যই থাকে আত্মপ্রচার। অনেকেই রিট মামলা করার সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে যান। যেটি অনাকাঙ্খিত।

তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় মানা হাইকোর্টের জন্য বাধ্যতামূলক। আইনের অনেকগুলো বিষয় অলরেডি আপিল বিভাগ ঠিক করে দিয়েছেন যে, হাইকোর্ট কোন মামলাগুলো গ্রহণ করতে পারবে কিংবা কোনগুলো পারবে না। যেমন- প্রাইভেট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কোনো রিট পিটিশন চলে না। এটা সুপ্রিমকোর্টের অসংখ্য রায়ে থাকা সত্ত্বেও সময়ে-সময়ে বিভিন্ন হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে রিট পিটিশন গ্রহণ করছেন এবং আদেশ দিচ্ছেন। যার ফলে একটা বিচারিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। এই বিশৃঙ্খলার জায়গাটা যদি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা যায় তাহলে রিট মামলার সংখ্যা কমবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমি আরেকটি প্রবণতা লক্ষ্য করছি যে, ব্যক্তিগত বিরোধ নিয়ে রিট করা হচ্ছে। যেমন- জমি দখল, জমির সীমানা, বিল-বাঁওড় নিয়ে সরাসরি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হচ্ছে। অথচ ব্যক্তিগত বিরোধ নিয়ে হাইকোর্টে সরাসরি রিট পিটিশন চলে না। আইন বলে ব্যক্তি এক্ষেত্রে নিম্ন আদালতে গিয়ে মামলা করে তার প্রতিকার প্রার্থনা করবেন। কিন্তু প্রচলিত পদ্ধতিটাকে অনেকে বাইপাস করে সরাসরি হাইকোর্টে এসে মামলাগুলো করছেন। ফলে হাইকোর্টে রিট মামলা বেড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে পাঁচ ধরনের রিট করার সুযোগ রয়েছে। সেগুলো হলো-

রিট অব হেবিয়াস করপাস: কোনো ব্যক্তিকে আইনগত কারণ ছাড়া আটকে রাখা হলে হেবিয়াস করপাস রিট করা যায়। এক্ষেত্রে বেআইনিভাবে আটক বা গ্রেফতার ব্যক্তিকে হাজির করতে হাইকোর্ট নির্দেশ দেন।

রিট অব ম্যান্ডামাস: কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের আইন অনুযায়ী যে কাজ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা না করলে হাইকোর্ট সেই কাজ করতে নির্দেশ দেন।

রিট অব সার্টিওরারি: বিচারিক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল আইনবহির্ভূতভাবে কোনো আদেশ দিলে হাইকোর্ট সেই আদেশ বাতিল করতে পারেন।

রিট অব প্রহিবিশন: বিচারিক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল যদি তাদের আইনগত ক্ষমতার বাইরে কোনো মামলা শুনতে শুরু করে, তাহলে হাইকোর্ট তাদের সেই কার্যক্রম বন্ধ করতে নির্দেশ দেন।

রিট অব কো-ওয়ারেন্টো: কেউ আইনগত যোগ্যতা ছাড়া কোনো সরকারি পদে থাকলে এই রিটের মাধ্যমে হাইকোর্ট তার বৈধতা যাচাই করেন।

মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ মামলার রায়ের মধ্য দিয়েই মূলত বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট মামলার আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ঐতিহাসিক এই মামলার রায়ে বলা হয়, জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো ঘটনায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট মামলা করতে পারেন। সেই থেকে আমাদের দেশে জনস্বার্থে রিট মামলা ভিন্ন মাত্রা পায়।

গত কয়েক দশকে হাইকোর্টে জনস্বার্থে করা বিভিন্ন রিট মামলায় অভাবনীয় বহুমাত্রিক সাফল্য এসেছে। রিট মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের মাধ্যমেই দেশের নদীগুলো পেয়েছে ‘জীবন্ত সত্তা’র হিসেবে স্বীকৃতি।

সেই সঙ্গে দেশের বহু নদ-নদী দখলদারদের উচ্ছেদ, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ কিংবা পাহাড় কাটা রোধ হয়েছে হাইকোর্টে করা রিট মামলার রায় বা আদেশের মাধ্যমে। এছাড়া জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কিংবা দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে মানবিক ক্ষতিপূরণ প্রদান, নারী-শিশু ও প্রান্তিক মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় রিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অনেক সময় হাইকোর্টে একজন ব্যক্তির করা রিটের রায় বা আদেশের সুফল ভোগ করেন দেশের হাজারো মানুষ।