হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, মার্কিন নৌবাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে পেতে রাখা মাইন অপসারণের কাজ করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। খবর আল জাজিরা, সিএনএন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঘাঁটি জয়েন্ট বেইস অ্যান্ড্রুজ পরিদর্শনে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে আমরা ভালোভাবে এগোচ্ছি, খুবই ভালোভাবে এগোচ্ছি। হরমুজ প্রণালি এখন আমরা নিয়ন্ত্রণ করছি। এটা পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমাদের নৌবাহিনী সত্যিই অবিশ্বাস্য এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে— তা আমাদের দেশের জন্য ভালো হবে।

তিনি আরো বলেছেন, আমি ইরানকে বিশ্বাস করি না। পৃথিবীর সবাই যদি ইরানকে বিশ্বাস করতে শুরু করে, সেক্ষেত্রে আমি হবো সর্বশেষ ব্যক্তি। তারা প্রতিনিয়ত আমাকে মিথ্যা বলেছে। তারা হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতেছে, আর আমরা এ জলপথকে মাইনমুক্ত করছি। আমাদের নৌবাহিনী শিগগিরই পুরো প্রণালি মাইনমুক্ত করে ফেলবে। হরমুজে এখন তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, পুরো প্রণালি আমাদের নিয়ন্ত্রণে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশী জাহাজ চলাচলে অবরোধ জারি করে তেহরান। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রও।

এর মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন ইসলামাবাদ একটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সে অনুযায়ী হরমুজ সাময়িকভাবে সচল হলেও এ অবস্থা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। গত ১৩ জুলাই দুদেশের হামলা-পাল্টা হামলার কারণে আবারো অচল হয়ে পড়ে এ নৌপথ।




রাজউকে ‘ডার্ক জোন’ ! ঘুষ-অনিয়মের অভিযোগের কেন্দ্রে পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া : আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ, পছন্দের পরিদর্শক দিয়ে ‘এরিয়া নিয়ন্ত্রণ’—মহাখালী জোনে ‘ঘুষের টেকসই ম্যানেজমেন্ট’ নিয়ে প্রশ্ন ?

নিজস্ব প্রতিবেদক : পরিকল্পিত রাজধানী গড়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—রাজউক। নগর পরিকল্পনা, ভবন নির্মাণ, নকশা অনুমোদন ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই রাজউকেরই বিভিন্ন জোনে ঘুষ, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ক্রমেই সামনে আসছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের কথিত নিয়ন্ত্রণে রাজউকের কোনো কোনো জোনে গড়ে উঠেছে এক ধরনের ‘অন্ধকার প্রশাসনিক বলয়’। আর এই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে রাজউকের পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার নাম।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রশাসনিক ক্ষমতা ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে একটি নির্দিষ্ট বলয়কে সুবিধা দেওয়া, পছন্দের নির্মাণ পরিদর্শকদের গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তৃত এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া এবং তাদের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার প্রভাবশালী ও সুবিধাভোগী বলয়ের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নথিভিত্তিক যাচাই জরুরি। অভিযোগের বিষয়ে সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
মহাখালী জোনে ‘ঘুষের টেকসই ম্যানেজমেন্ট’ ? রাজউকের মহাখালী জোনকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এ জোনের কিছু নির্মাণ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে প্রয়োগের পরিবর্তে অনুমোদন, নকশা, নির্মাণসংক্রান্ত ফাইল ও পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফাইলের গতি থামিয়ে রাখা, বিভিন্ন ধরনের আপত্তি তোলা কিংবা অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়—এমন অভিযোগও রয়েছে। পরে কথিত ‘ম্যানেজমেন্ট’-এর মাধ্যমে সেই জটিলতা কাটানোর পথ তৈরি হয় বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।
যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে তা কেবল বিচ্ছিন্ন দুর্নীতির ঘটনা নয়; বরং একটি পরিকল্পিত ও দীর্ঘস্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থার ইঙ্গিত বহন করে। ‘পছন্দের পরিদর্শক’ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এরিয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ : অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠেছে, পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া তার পছন্দের কিছু পরিদর্শককে তুলনামূলক গুরুত্বপূর্ণ ও বড় ‘এরিয়া’তে দায়িত্ব দিয়ে থাকেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব পদায়নে প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি আর্থিক স্বার্থের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কথিত ঘুষ বাণিজ্যের পরিধি বাড়িয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়—এমন অভিযোগও রয়েছে। এমনকি রাজউকের জোন-৬/১-এ দায়িত্ব পালনের সময় অথরাইজড অফিসার জোটন দেবনাথ এবং সহকারী অথরাইজড অফিসার পলাশ সিকদারকে দিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম করিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সময়ের পদায়ন আদেশ, দায়িত্ব বণ্টনের নথি, ফাইলের গতিপথ, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
হামলার ঘটনায় ‘ধামাচাপা’র অভিযোগ : রাজউকের কথিত এই বলয়কে ঘিরে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ এক সংবাদকর্মীর ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনায় মো. সোলাইমান হোসেনের নাম উঠে আসে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার দৃশ্য থাকার দাবি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, ঘটনার শুরুতে পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে ‘তেমন কিছু নয়’—এমন অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে, তারপরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—সে প্রশ্ন এখনো রয়েছে। এখানেও প্রয়োজন ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, অভিযোগের রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি পর্যালোচনা।
  • আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ :
রাজউকের এই কথিত প্রশাসনিক বলয় নিয়ে আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগী মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের যোগাযোগ বা সম্পৃক্ততা ছিল কি না। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক সুবিধা পাওয়া একটি নির্দিষ্ট বলয় পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছে। তবে কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তিকে শুধু রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগের ভিত্তিতে ‘ফ্যাসিবাদী’ বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োজন সরকারি নথি, পদায়ন ও পদোন্নতির ইতিহাস, সিদ্ধান্ত গ্রহণের রেকর্ড, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের স্বাধীন যাচাই।
  • বিলাসী জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন :
পেশাগত অভিযোগের পাশাপাশি পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। অভিজাত ক্লাব, লাউঞ্জ ও বারকেন্দ্রিক যাতায়াত এবং বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে নানা দাবি রয়েছে। তবে এসব ব্যক্তিগত দাবির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়। একজন সরকারি কর্মকর্তার ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—তার ঘোষিত আয়, সম্পদ, ব্যয় ও জীবনযাপনের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না। প্রয়োজনে তার আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক লেনদেন এবং বৈধ আয়ের উৎস আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যাচাই করা যেতে পারে।
  • ‘ডার্ক জোন’ ভাঙবে কে ?
রাজউকের মতো একটি রাষ্ট্রীয় নগর উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে যদি ঘুষ, প্রভাব বিস্তার, পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পদায়ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কোনো একক কর্মকর্তার বিষয় নয়। এটি রাজউকের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে মহাখালী জোনে ফাইল আটকে রাখা, পরিদর্শন ও অনুমোদনকে ঘিরে অর্থ আদায়, পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া এবং অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগগুলো এখন তদন্তের দাবি রাখে।
  • সামনে যেসব প্রশ্ন :
মহাখালী জোনে কি সত্যিই কোনো সংগঠিত ‘ঘুষ সিন্ডিকেট’ সক্রিয় ? কোন কর্মকর্তা কোন ‘এরিয়া’ নিয়ন্ত্রণ করেন ? গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কী মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে ? জোন-৬/১-এ দায়িত্ব পালনের সময়কার অভিযোগের সঙ্গে বর্তমান মহাখালী জোনের কোনো যোগসূত্র আছে কি ? ৩০ জানুয়ারি ২০২৫-এর হামলার ঘটনায় প্রশাসনিকভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল ? অভিযোগগুলোর বিষয়ে রাজউকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত বা অভিযোগ নিষ্পত্তির কোনো নথি রয়েছে কি ? আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার প্রভাবশালী বা সুবিধাভোগী কোনো বলয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগাযোগ বা প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার প্রমাণ আছে কি ? সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আয়-সম্পদ ও জীবনযাপনের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি ?
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন পদায়ন আদেশ, দায়িত্ব বণ্টনের নথি, অনুমোদন ফাইল, অভিযোগের রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ, সম্পদ বিবরণী এবং আইনসম্মত আর্থিক তথ্যের নিরপেক্ষ পর্যালোচনা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা রাজউকের পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার বক্তব্যও পাঠকের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
তিনি এসব অভিযোগকে কীভাবে দেখছেন, তার ব্যাখ্যা কী—তা জানার পরই পুরো চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে। রাজউকের মহাখালী জোনে কথিত এই ‘ডার্ক জোন’ যদি সত্যিই থেকে থাকে, তবে সেটি ভাঙার দায়িত্ব কেবল কোনো এক ব্যক্তির নয়; বরং রাজউকের প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং প্রয়োজন হলে দুর্নীতি দমনকারী সংস্থার। অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে জরুরি। অভিযোগের নেপথ্যে কারা ? কোন কর্মকর্তা কোন ‘এরিয়া’ নিয়ন্ত্রণ করেন ? জোন-৬/১-এর পুরোনো অভিযোগের সঙ্গে মহাখালী জোনের বর্তমান ব্যবস্থার যোগসূত্র কোথায় ? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রয়োজন আরও নথি, তথ্য ও অনুসন্ধান।



প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফর ও ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ ভারতের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার পাশাপাশি আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশগ্রহণের জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠকটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক ছিল। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে নিয়মিত যোগাযোগ ও উচ্চপর্যায়ের সংলাপ অব্যাহত রয়েছে।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ব্রিকসের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, আঞ্চলিক জোটগুলোর নেতৃত্বে থাকা দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।




গণপূর্তে লটারিভিত্তিক গণবদলি নিয়ে ক্ষোভ: নীতিমালার ব্যত্যয় ও কেপিআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বিশেষ প্রতিনিধি: গণপূর্ত অধিদপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলে লটারির মাধ্যমে গণবদলি প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ—অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিগত বাস্তবতাকে গুরুত্ব না দিয়ে স্রেফ লটারির ভিত্তিতে পদায়নের ফলে অধিদপ্তরে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) ও ভিআইপি এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরির আশঙ্কায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিতর্কিত কিছু পোস্টিং পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

  • ধাপে ধাপে গণবদলি

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ৩০ জুলাই প্রথম দফায় ৭৬৭ জন সিভিল উপসহকারী প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়। এরপর ৩ আগস্ট ইলেকট্রিক ও মেকানিক্যাল (ই/এম) শাখার ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে একইভাবে পদায়ন করা হয়।

সিভিল বিভাগ: ঢাকা বিভাগে ৩১৭ জন, চট্টগ্রামে ১৩৩, রাজশাহীতে ৭৩, খুলনায় ৭৪, বরিশালে ৪৪, সিলেটে ৩৩, ময়মনসিংহে ২৯ এবং রংপুরে ৬৪ জন।

ই/এম শাখা: ঢাকা বিভাগে ১১৯ জনসহ অন্যান্য বিভাগে কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ১১ আগস্ট সহকারী ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের এবং চলতি মাসের শেষ নাগাদ নির্বাহী প্রকৌশলীদেরও লটারির মাধ্যমে বদলি করার কথা রয়েছে।

  • নীতিমালার ব্যত্যয় ও মানবিকতার অবহেলা

বদলীকৃত প্রকৌশলীদের একাংশের দাবি, এই গণবদলি প্রক্রিয়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের ‘কর্মকর্তাদের বদলি/পদায়ন নীতিমালা ২০২৫’-এর সরাসরি লঙ্ঘন। নীতিমালায় একই কর্মস্থলে তিন বছর (বিশেষ ক্ষেত্রে দুই বছর) দায়িত্ব পালনের স্পষ্ট বিধান থাকলেও, মাত্র এক মাস থেকে এক বছর কর্মরত থাকা কর্মকর্তাদেরও লটারির নামে বদলি করা হয়েছে।

এছাড়া গুরুতর অসুস্থতা (যেমন ক্যানসারে আক্রান্ত স্বজনের চিকিৎসা), চাকরিজীবী স্বামী-স্ত্রীকে কাছাকাছি কর্মস্থলে রাখা এবং বিভিন্ন মানবিক ও পারিবারিক বিবেচনাগুলো এ প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে বলে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন।

  • কেপিআই ও ভিআইপি এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা

লটারিভিত্তিক পদায়নে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই ও ভিআইপি সেকশনগুলোকে ঘিরে। অভিযোগ উঠেছে, লটারির ফলাফলে ২০১৯ ও ২০২২ ব্যাচের বেশ কয়েকজন তরুণ ও অনভিজ্ঞ ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এবং কার্য সহকারী বা ড্রাফটসম্যান থেকে পদোন্নতি পাওয়া উপসহকারী প্রকৌশলীদের রাষ্ট্রের সংবেদনশীল স্থাপনায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

যেমন—একজন পদোন্নতিপ্রাপ্ত নারী প্রকৌশলীকে গুলশানের ভিআইপি সেকশনে এবং গোপালগঞ্জের বাসিন্দা উপসহকারী প্রকৌশলী নিমিতোষ ওঝাকে গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের মতে, পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ও সঠিক প্রাক্কলন (ইস্টিমেট) তৈরির দক্ষতা না থাকলে এসব এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হবে। পাশাপাশি কেপিআই এলাকার দায়িত্ব বণ্টনে গোপনীয়তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

  • চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার ঝুঁকি

সংক্রান্ত কর্মকর্তাদের মতে, এমন আকস্মিক ও দূরবর্তী বদলির ফলে অধিদপ্তরের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে লটারির মাধ্যমে বদলির স্পষ্ট কোনো মানদণ্ড বা নীতিমালা নির্দেশিত না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে বৈষম্য ও অসন্তোষ ক্রমশ দানা বাঁধছে।

  • প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

লটারি বিতর্ক ছাড়াও গণপূর্ত অধিদপ্তরের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে ঘিরেও ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টিং বাণিজ্য, কথিত সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, আত্মীয়দের ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়া, গোপন স্থানে দপ্তর পরিচালনা, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • দ্রুত পর্যালোচনার দাবি

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মতে, বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে শুধু লটারির ওপর নির্ভর করায় প্রশাসনে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা জরুরি। বিশেষ করে কেপিআই এলাকার নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ স্বার্থে বিতর্কিত পদায়নগুলো দ্রুত পর্যালোচনা করা এবং প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।




সব সরকারি দফতরের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি

সরকারি দফতরগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। এ বিষয়ে সোমবার পরিপত্র জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে এ তথ্য পাওয়া যায়।

এতে বলা হয়েছে, সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগে দাফতরিক কাজে ব্যবহার্য বিদ্যুতের সিংহভাগ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে। অন্যান্য সরকারি দফতরে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ আছে।

এর আগে ৩ আগস্ট সচিবালয়ে সৌর বিদ্যুৎবিষয়ক এক সভায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একই সঙ্গে দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎকে সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করতে কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশ দেন তিনি।

ওই সভার সিদ্ধান্তে জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।




মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা করছে স্বাধীনতাবিরোধীরা: রিজভী

স্বাধীনতাবিরোধীরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘আমার পরিচিতি বাংলাদেশি। এটা ৭১-এর অর্জন। আমরা তাদের উত্তরসূরি, যারা যুদ্ধ করেছেন।’

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা কারা করছে, সে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, ‘যারা সেদিন স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। এদের বীরত্বের ইতিহাস নাই, শুধু আছে দালালির ইতিহাস।’

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন।  ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামীর ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে’ সংবাদ সম্মেলন, বিক্ষোভ মিছিল ও এই সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম।

প্রথমে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন হয়। পরে রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এরপর সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়।

এসময় রিজভী আরও বলেন, আওয়ামী লীগের কৃপা পাওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামী সব সময় চেষ্টা করেছে। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে গেছে। ২০০৮ সালের পাতানো নির্বাচনে হুমকি দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচন করার জন্য বাধ্য করেছে।

তিনি বলেন, জামায়াত জোরেশোরে বলেছে, পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলবে। যারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে, যে ভারতে প্রতিদিন মুসলমানদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এক কোটির মতো মুসলমানকে তাড়িয়ে দেবে বলেছে, যারা ইসরায়েলকে তাদের পিতৃভূমি বলে, তাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী আঁতাত করতে চায়।

জামায়াতে ইসলামীর প্রধানের বাসভবনে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেখানে ‘সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা’র কোনো ছবি নেই। সেখানে ৭ মার্চের শেখ মুজিবের ভাষণের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ‘এখানেই বোঝা যায়।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের দাঁড়িপাল্লা আঁকার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ‘৭১-কে হালকা করে দেখিয়েছে। এগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একাত্তরের চেতনা আমাদের বুকের মধ্যে ছিল বলেই আমাদের সন্তানরা ২৪-এ শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টকে তাড়িয়ে দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আজকে খুবই চক্রান্তমূলকভাবে কোনটা বড়, কোনটা ছোট, এটা যাচাই করার চেষ্টা করছেন। এটাতে কোনো লাভ হবে না। এই জাতি স্বাধীনতা রক্ষা করতে জানে।’




বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি: চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে কে প্রার্থী হচ্ছেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়নি।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দলের ভেতরে ও স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আরও কয়েক দফা বৈঠক হবে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আমরা যোগ্য প্রার্থীর নাম যথাসময়ে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবো।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে কেমন প্রার্থীকে দেখা যেতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি সব সময় যোগ্য এবং সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মূল্যায়ন করে।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে এমন একজনকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, যিনি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করতে পারবেন। এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশনাই চূড়ান্ত।




রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: জাতীয় সংসদে প্রস্তুতিমূলক সভা

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-২০২৬ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্য বা সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে নতুন নির্বাচন পরিচালনা করতে হয়।

এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার কার্যসূচি নির্ধারণ, সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করা হচ্ছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

মঙ্গলবারের এই বৈঠক থেকেই পরবর্তী দিকনির্দেশনা ও মূল কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্টরা।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কারপিন।

আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন স্টিফেন কারপিন।

এসময় তারা বাংলাদেশে ডিজিটাল কমার্সের গতি বাড়াতে, পেমেন্ট নিরাপত্তা আরও মজবুত করা এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে করণীয় নিয়ে আলাপ করেন।

এর আগে তিন দিনের সফরে সোমবার বাংলাদেশে আসেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কারপিন।

আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবেন তিনি। তার সঙ্গে আছেন ভিসার ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার গ্রুপ কান্ট্রি ম্যানেজার সুরেশ শেঠি।




বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতা কার্যক্রমে নতুন করে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম।

হরমুজ প্রণালী খোলার বিষয়ে ইরানের দেওয়া শর্তের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীত যুদ্ধ, হামলা ও বিক্ষোভে হওয়া হতাহতের ক্ষতিপূরণ দাবি করার পর মধ্যপ্রাচ্যের এই অত্যন্ত কৌশলগত জলপথ চালুর প্রচেষ্টা নতুন সংকটে পড়ে।

এর আগে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। আজ মঙ্গলবারও এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকে।

এতে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৮৮ ডলারে এবং মার্কিন ক্রুডের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৮২ দশমিক ৪৫ ডলারে। গত ৩১ জুলাইয়ের পর উভয় ধরনের জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ বাজারমূল্য।

সূত্র: আল জাজিরা