হরমুজে কোনো প্রযুক্তিই আইআরজিসির ‘চোখ ফাঁকি’ দিতে পারবে না: মুখপাত্র

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের মনুষ্যবিহীন সাবমেরিন আটকের পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, কোনো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিই ইরানের ‘চোখ ফাঁকি’ বা নজরদারি বলয় এড়িয়ে যেতে সক্ষম নয়।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক সাবমেরিন আটকের ঘটনাকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এ অভিযান পারস্য উপসাগরে ইরানের নজরদারি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।

মোহেব্বি বলেন, ‘২০২৫ সালে যোগ হওয়া মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে অত্যাধুনিক চালকবিহীন সাবমেরিনটি আটক করার ঘটনা প্রমাণ করে যে, হরমুজ প্রণালীতে আমাদের নজরদারি বলয় ভেদ করে কোনো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিই পার হতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘পারস্য উপসাগরের ওপর আধিপত্য আমাদের প্রযুক্তি-দক্ষ তরুণদেরই।’ একই সঙ্গে তিনি মার্কিন বাহিনীকে ‘গালফ অব পিগস’-এ ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে মঙ্গলবার আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথের কাছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক চালকবিহীন ডুবোযান (সাবমেরিন) আটক করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, যানটিকে ‘ডাইভ-এলডি’ (Dive-LD) হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এটি মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান। ২০২৫ সালে এটি মার্কিন নৌবাহিনীর ‘আনম্যানড আন্ডারসি ভেহিকেল গ্রুপ ১’-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ ও ২ দশমিক ৭ টন ওজনের ডাইভ-এলডি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও অনুসন্ধান, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, অবকাঠামো পরিদর্শন এবং মাইন বা সমুদ্রতলস্থ বিস্ফোরক শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়করণের মতো কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

প্রকাশিত কারিগরি তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি পানির নিচে একটানা ১০ দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে এবং প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীরতা পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম। তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ।




জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের সকলের দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

এর আগে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি এবং স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে স্বাগত জানান।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সাথে তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন ।

রাষ্ট্রপতি জুলাই জাদুঘরে দর্শনার্থী টিকেট সংগ্রহ করে প্রবেশ করে লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি ওয়াকওয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপের ঐতিহাসিক চিত্র অবলোকন করেন এবং দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘর ঘুরে দেখেন।

রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখেন।

এসময় তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি। গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি। রাষ্ট্র কখনোই এই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। এ দেশে যেন আর কোনো দিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে।

এছাড়াও রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতন সামগ্রী, জোরপূর্বক গুমের সেকশনগুলো ঘুরে দেখেন। সেসময় শহীদদের চিঠি, স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও ছাত্র-জনতার সংগ্রামের অংশগুলো ঘুরে দেখেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

এসময় তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সকলের দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন এবং তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন।

পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতিকে জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্রের বিষয়ে ব্রিফ করেন জুলাই জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।

পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিববৃন্দের পাশাপাশি এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস এবং মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।




বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে নতুন নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, যথাযথ ব্যয় প্রাক্কলন না করা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল মনিটরিং ও জবাবদিহির ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে।

বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এদিন বিকাল সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বৈঠক শুরু হয়। শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটি মাত্র কারণে হয় না; বরং প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যা তৈরি করে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতার বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন প্রস্তুতি দ্রুত করার উদ্যোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনসংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে সংশোধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিং জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি বাড়ানো হয়েছে।

ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। যেসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি, সেগুলোর বিলম্ব, অনিয়ম, ব্যয় বৃদ্ধি ও সংশোধনের কারণ পর্যালোচনা করে বিলম্বের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, যে সব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সে সব প্রকল্পের উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে প্রকল্পগুলো পুনর্বিন্যাস, স্কোপ পরিবর্তন কিংবা চলমান রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়/ বিভাগ কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণ না করে সমন্বিত কর্মসূচির অধীনে গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপি ব্যবহারের সম্প্রসারণের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদের কার্যক্রম চলছে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে প্রকল্প গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ক্রয় আরও প্রতিযোগিতামূলক ও জবাবদিহিমূলক করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।




শেখ হাসিনা আপিলের সুযোগ পাবেন কি না, আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত : আইনমন্ত্রী

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা আপিলের সুযোগ পাবেন কি না, তা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বুধবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের মধ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে নাকি তিনি আপিলের সুযোগ পাবেন- এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও ব্যাখ্যা হচ্ছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি দেশে ফিরে এলে এবং আপিল করতে চাইলে আইন অনুযায়ী বিষয়টি নির্ধারিত হবে।

মন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তির আপিলের অধিকার আছে কি না, সেটি ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করার বিষয় নয়; প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তা নির্ধারণ করা হবে।

এ সময় বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশন প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজ করার ফলে শুধু বাল্যবিয়ে প্রতিরোধই নয়, বহুবিবাহ এবং বিয়ে সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতিও রোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে একজন ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থার তথ্য সহজে যাচাই করা যাবে।




উত্তরায় শপিং মলের রেস্টুরেন্টে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট

রাজধানীর উত্তরায় বিমানবন্দরের পাশে একটি শপিং মলের ছয়তলা ভবনের পাঁচতলায় থাকা একটি রেস্টুরেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। বুধবার ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রাজধানীর উত্তরা এলাকার বিমানবন্দরের পাশে একটি ছয়তলা ভবনের পাঁচতলায় রেস্টুরেন্টে দুপুর পৌনে ১টার দিকে আগুন লাগে। উত্তরা এবং বিমানবন্দর ফায়ার স্টেশনের ছয়টি ইউনিটের চেষ্টায় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।




বিশ্ববাজারে ১০০ ডলার ছাড়াল জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র আকার ধারণ করা সামরিক সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার সিঙ্গাপুর থেকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম এক ধাক্কায় ২.০১ ডলার বা ২.০৫ শতাংশ বেড়ে ১৯৯.৯৩ ডলারে পৌঁছায়। লেনদেনের একপর্যায়ে এর দাম ১০০.১৯ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়। গত ২৪ জুলাইয়ের পর এটা সর্বোচ্চ তেলের দাম।

অন্যদিকে, একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.৪৯ ডলার বা ১.৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪.৫২ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বোচ্চ ১২৬.৪১ ডলারে উঠেছিল, যা গত ৩০ এপ্রিল রেকর্ড করা হয়। মাঝখানে কিছুটা কমলেও গত মাসের শুরু থেকে ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকটের স্থায়ী সমাধানের আশা ফিকে হয়ে আসায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় এক-চতুর্থাংশ বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, হরমুজ প্রণালির কাছে ট্যাংকার ডুবিয়ে দেওয়ার পর আরও জাহাজে আক্রমণ এবং ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

এসব হামলা সংঘাতের ব্যাপক বিস্তৃতির শঙ্কা তৈরি করেছে এবং লোহিত সাগরের মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহনকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল, যার মূল বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল এই লোহিত সাগর।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজার এখন মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত এবং সামরিক হামলায় জ্বালানি প্রবাহ স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে চিন্তা করছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের জ্যেষ্ঠ ক্লাইমেট অ্যান্ড কমোডিটিস অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তেলবাহী জাহাজে আক্রমণের কারণে ওমান উপসাগরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের প্রক্রিয়া কমে যায় কি না, সেটাই এখন প্রধান ঝুঁকি। কারণ, এতোদিন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ বজায় রাখতে ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল।

রাইস্টাড এনার্জির প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্লদিও গালিম্বার্থির দেওয়া তথ্যমতে, গত ৩০ আগস্ট লড়াই পুনরায় শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন ৮০ লাখ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল প্রবাহিত হচ্ছিল, যা তার আগের সপ্তাহের তুলনায় দ্বিগুণ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে প্রতিদিন ২০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে এসেছে।

অ্যাবাক্স মার্কেটসের সহ-চেয়ারম্যান জেফ্রি কারি বাজারের এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মন্তব্য করেন যে, শক্তির বাজারে এই মূল্য বৃদ্ধিকে সাময়িক ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি কাঠামোগত সমস্যা যা সহজে কাটবে না এবং তিনি এটিকে তথাকথিত নিরাপত্তা প্রিমিয়াম হিসেবে দেখছেন, যা দিনে দিনে কেবল আরও বৃদ্ধি পাবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং গায়ানার মতো নন-ওপেক তেল উৎপাদক দেশগুলো তাদের উৎপাদন কিছুটা বাড়িয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ গত মাসে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, চলতি বছরে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ সামগ্রিকভাবে প্রতিদিন ৪৩ লাখ ব্যারেল বা প্রায় ৪ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স




মিরপুরে অনুমোদনহীন বেকারি কারখানার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, কাগজপত্র ও গ্যাস সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন; জরুরি তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার সেকশন-১১, ব্লক-সি, এভিনিউ নিউ-৫, ১৭/২৯, প্লট-৪, ৫ নম্বর রোড এলাকায় অবস্থিত ‘তালুকদার ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি’ নামের একটি বেকারি কারখানার বিরুদ্ধে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মেয়াদ না থাকা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি এবং অনুমোদনহীন গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কারখানাটিতে খাদ্য উৎপাদনের পরিবেশ অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন। শ্রমিকদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ব্যবস্থা ছাড়াই বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমকর্মীরা কারখানাটিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। একপর্যায়ে কারখানার মালিকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। এ সময় মালিকের পক্ষ থেকে ‘বড় বড় টিম’ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয় উল্লেখ করে ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

কারখানাটির মালিক হিসেবে মোঃ গোলাম ফারুক তালুকদারের নাম জানা গেছে। এছাড়া কারখানার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ‘রানা’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মালিককে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে।

কারখানাটিতে ব্যবহৃত গ্যাস সংযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদিত নিয়মের বাইরে গ্যাস ব্যবহার করছে এবং তিতাসের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে গোপন লেনদেনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ নেওয়া হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন ও সরকারি যাচাই প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, কারখানার বর্জ্য ও উৎপাদন কার্যক্রমের কারণে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের মান ও নিরাপত্তা নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, গোলাম ফারুক তালুকদার অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন এবং বর্তমানে একই ধরনের প্রভাব ব্যবহার করে চলেছেন। তার বিরুদ্ধে অতীতে বিপুল অর্থের অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় জনগণের দাবি, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত কারখানাটি পরিদর্শন করে ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্য উৎপাদনের অনুমোদন, বিএসটিআই সংক্রান্ত অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, গ্যাস সংযোগ এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করে।

অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে কারখানাটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও জরুরি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কারখানার মালিক মোঃ গোলাম ফারুক তালুকদার ও ব্যবস্থাপক রানা’র বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।




রাজধানীতে পুলিশি অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫৭৭

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৭৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ৪০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। ডিএমপি জানায়, গ্রেফতারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৬ জন, লালবাগ বিভাগে ৪২ জন, ওয়ারী বিভাগে ৮০ জন, মতিঝিল বিভাগে ৬৮ জন, তেজগাঁও বিভাগে ১১৪ জন, মিরপুর বিভাগে ১৪৩ জন, গুলশান বিভাগে ৩৯ জন, উত্তরা বিভাগে ৪২ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে ১৩ জন রয়েছেন।

অভিযানকালে দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুইটি সুইচ গিয়ার, একটি চাকু, একটি ছুরি, ছয়টি ককটেল, ৩২ কেজি ৬৫৫ গ্রাম গাঁজা, ৬২৩ পিস ইয়াবা ও ৭ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া দুটি প্রাইভেটকার, একটি অটোরিকশা, সাতটি ল্যাপটপ, ৬৭টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন অপারেটরের ৪৮৪টি সিমকার্ড, ২৭টি ভিসা কার্ড এবং চারটি ইলেকট্রনিক্স চিপ উদ্ধার করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন থানার এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।




সকালে ২০ মিনিট বন্ধ ছিল মেট্রোরেল চলাচল

ঢাকা মেট্রোরেলের সচিবালয় স্টেশনে ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেমের (ওসিএস) ক্যাবলের ওপর একটি অতিরিক্ত তার ঝুলে থাকায় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ২০ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

পরে ঝুলে থাকা তারটি অপসারণের পর পুনরায় স্বাভাবিক নিয়মে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয় স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এমআরটি পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ মহসিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে সচিবালয় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ওসিএস ক্যাবলের ওপর একটি অচেনা তার ঝুলে থাকতে দেখা যায়। বিদ্যুতায়িত মূল লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়। এরপর সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ২০ মিনিটের চেষ্টায় ঝুলে থাকা তারটি সরিয়ে ফেলা হয়।

তারটি সফলভাবে অপসারণের পর সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে মেট্রোরেল চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

বর্তমানে মেট্রোরেল নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল করছে।




জাতীয় সংসদের ‘পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’ র বৈঠক অনুষ্ঠিত

জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক কমিটির সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন এমপি’র সভাপতিত্বে আজ (মঙ্গলবার) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচ্যসূচি অনুযায়ী বৈঠকের শুরুতে কমিটির সভাপতি, সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ পরিচিতি পর্বে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন বিভাগসমূহের কার্যাবলী সম্পর্কে প্রতিবেদন পেশ করা হয়। বৈঠকে চলমান প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কমিটির সদস্য ও কমিটির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়নে কমিটির তৎপরতার গুরুত্ব অনেক বেশি। সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কমিটির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অংশগ্রহণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতি তার বক্তব্যে, স্থায়ী কমিটি জনগণের প্রতি সরকারের জবাবদিহিতা  নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্থায়ী কমিটির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এমপি,  কাজী রফিকুল ইসলাম এমপি; মঈনুল ইসলাম খান এমপি, ফখরুল ইসলাম এমপি, শওকতুল ইসলাম এমপি, ফরিদা ইয়াসমিন এমপি, সাইফুল আলম এমপি এবং রাশেদুল ইসলাম রাশেদ এমপি অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ- পরিকল্পনা বিভাগ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিববৃন্দ; বিপিপিএ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।