নড়াইলে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, নারীসহ আহত ৫

নড়াইলের লোহাগড়ায় মিসকান সরদার (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। নিহত মিসকান মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের লোকমান সরদারের ছেলে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

চোর বলাকে কেন্দ্র করে মোল্যা ও মুন্সী বংশের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হলে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ সময় এক নারীসহ ছয়জন আহত হন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাতে তুহিন নামে একজনকে প্রতিপক্ষের লোকজন চোর আখ্যায়িত করায় গৃহবধূ সারফিনা প্রতিবাদ করেন। পরে ওই গৃহবধূকে মারধর করে আহত করে মোল্যা বংশের লোকজন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে মোল্যা ও মুন্সী বংশের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

এ সময় মুন্সী বংশের পক্ষের মিসকান সরদারসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। ধারালো অস্ত্রের কোপে মিসকান গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয়। অন্য আহতদের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি।




১ অক্টোবর যোগ দিচ্ছেন ১৪,৩৮৪ সহকারী শিক্ষক

নিয়োগের জন্য নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ সহকারী শিক্ষক আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।

এদিন শিক্ষামন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে প্রশ্নের জবাব দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এসময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এ ১৪,৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। নির্বাচিত সহকারী শিক্ষকরা ১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগ দেবেন এবং ৪ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখ তাদের বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে।

এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য ৩৬,৯৬০টি পদ শূন্য রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ৭৩/২০২৩-এর মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ায় পদোন্নতিযোগ্য প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।




গাজীপুরে ফায়ারসার্ভিসের কাছ থেকে কোটি টাকা ঘুষ দাবীর অভিযোগ প্রকৌশলী আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক: আর মাত্র কয়েকদিন বাকি আছে অবসরে যাওয়ার,মোটা অংকের ঘুষ উৎসবে উঠেছেন প্রকৌশলী খায়ের।
‎সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও গণপূর্ত খাতের বড় বড় প্রকল্প থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে কমিশন বা ‘কাটমানি’ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ চাকরিজীবনে বিভিন্ন জোনে দায়িত্ব পালনকালে ঠিকাদারি কাজ, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
‎
‎অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, রংপুর, কুমিল্লা হয়ে ঢাকা—চাকরিজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদারদের ওপর প্রভাব বিস্তার, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে।
‎
‎অভিযোগ রয়েছে, চাকরিজীবনের শুরু থেকেই রাজনৈতিক প্রভাবের সুবিধা পেয়েছেন প্রকৌশলী আবুল খায়ের। তৎকালীন সচিব শহীদুল্লাহর বিশেষ সুপারিশে ছাত্রলীগ কর্মী পরিচয়ে তিনি গোয়ালগঞ্জ জোনে প্রভাবশালী পোস্টিং পান বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে। সেখানে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শেখ সেলিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
‎
‎পরবর্তীতে ওই রাজনৈতিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ।
‎
‎চট্টগ্রাম জোনে দায়িত্ব পালনকালে আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে প্রতিটি প্রকল্পে ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন বা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে ‘পিপিসি টেন্ডার’ বা পার্সেন্টেজ শেয়ারিং টেন্ডার ব্যবস্থাও তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
‎
‎অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো ঠিকাদার কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিল আটকে দেওয়া কিংবা ব্ল্যাকলিস্ট করার হুমকি দেওয়া হতো। বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, সাধারণ ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর নিজের প্রভাব বজায় রাখার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
‎
‎কুমিল্লায় এমপি তোফায়েল বায়ারের সঙ্গে বিরোধ ‎চট্টগ্রামের পর কুমিল্লায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে গিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের মুখে পড়েন আবুল খায়ের। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কুমিল্লার তৎকালীন সংসদ সদস্য এ কে এম বাহাউদ্দিন বাহারের সঙ্গে টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্য নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে তাঁকে কুমিল্লা জোন থেকে আকস্মিকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়।
‎
‎রংপুর জোনে বদলি হওয়ার পরও আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থেমে থাকেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন।
‎
‎দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি লাইভ সাক্ষাৎকার দেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন প্রকাশ্য অভিযোগ সে সময় প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
‎ন্যাশনাল হাউজিংয়ে ৫০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগ।
‎
‎সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কিংবা গণপূর্তের অন্যান্য খাতের পাশাপাশি ন্যাশনাল হাউজিং অথরিটিতেও আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ, নকশা অনুমোদন এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
‎ঢাকায় ‘মিস্টার ৫%’ এবং বিপুল সম্পদের অভিযোগ।
‎
‎বর্তমানে ঢাকা জোনে কর্মরত আবুল খায়েরকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—টেন্ডার ও সরকারি প্রকল্পে ৫ শতাংশ কমিশন আদায়ের একটি নিজস্ব বলয় গড়ে তোলা। এ কারণে ঠিকাদারদের একটি অংশের কাছে তিনি ‘মিস্টার ৫%’ নামে পরিচিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎
‎অনুসন্ধানে তাঁর নামে ও স্বজনদের নামে ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় অন্তত ২৪টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থাকার দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ন্যাশনাল হাউজিং ও পূর্বাচলে জমি এবং ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে কৃষিজমি ও খামারবাড়ি কেনার অভিযোগও রয়েছে।
‎
‎দেশের সরকারি দপ্তরগুলোতে শুদ্ধি অভিযান ও দুর্নীতিবিরোধী তৎপরতা জোরদার হলেও অভিযোগের মুখে থাকা এই প্রকৌশলী এখনও প্রভাব ধরে রেখেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তারা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
‎
‎তাঁদের দাবি, আবুল খায়েরের নামে-বেনামে থাকা সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর আর্থিক লেনদেন তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
‎
‎এবিষয়ে বক্তব্যের জন্য প্রকৌশলী আবুল খায়েরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ করেননি।




দেশে ৮২২৯টি এমপিওভুক্ত মাদরাসা রয়েছে : সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

দেশে ৮ হাজার ২২৯টি এমপিওভুক্ত মাদরাসা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, মাদরাসা এমপিওভুক্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া।

মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিনের এক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে ৮ হাজার ২২৯টি এমপিওভুক্ত মাদরাসা রয়েছে। মাদরাসা এমপিওভুক্তকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। ইতোমধ্যে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী সব মানদণ্ড সঠিক পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে মাদরাসা এমপিওভুক্ত করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।




৫ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধে রেকর্ড

দায়িত্ব নেয়ার মাত্র পাঁচ মাসে বিএনপি সরকার বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণের বাড়তি পরিশোধের চাপের মধ্যেও বর্তমান সরকার নিয়মিতভাবে এ দায় পরিশোধ করে যাচ্ছে।

চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে পরিশোধ করা এ অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ যাবৎকালে কোনো পাঁচ মাসের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ।

গত বছরের একই সময়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার বা প্রায় ২৩ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ সময়ে সরকারের ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১৫ কোটি ৪ লাখ ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত ঋণের আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ ৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার। এ সময়ে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪১ কোটি ডলারের বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে সরকারকে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকারের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় পূর্ববর্তী সময়ে নেওয়া বিদেশি ঋণের ক্রমবর্ধমান কিস্তি পরিশোধ। তবে অর্থনৈতিক চাপ ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার নিয়মিতভাবে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বড় অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের নামে নেওয়া বিপুল অঙ্কের বিদেশি ঋণের কিস্তি এখন পরিশোধযোগ্য হয়ে উঠেছে। এসব ঋণের একটি বড় অংশের অবকাশকাল শেষ হওয়ায় বর্তমান সরকারের সময়েই আসল ও সুদ পরিশোধের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের নামে ব্যাপকভাবে ঋণ নিয়েছে। কিন্তু এসব ঋণ নেওয়ার সময় প্রকল্পের ‘ভ্যালু ফর মানি’ বা অর্থের বিপরীতে প্রত্যাশিত সুফল এবং ঋণের সুদের হার যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতেও ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিভিন্ন কারণে বিপুল আর্থিক দায় ও ভর্তুকির বোঝা তৈরি হয়েছে। এখন আগের সরকারের রেখে যাওয়া এসব দায় বর্তমান সরকারকে সামলাতে হচ্ছে।

‘আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। তারপরও সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়মিতভাবে এসব দায় পরিশোধ করে যাচ্ছে,’ বলেন তিনি।

আগের সরকার যত্রতত্র ঋণ নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা রেখে গেছে উল্লেখ করে তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার দেশি বা বিদেশি যে কোনো ধরনের ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিনিয়োগ, বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে গতিশীলতা বাড়ানোর জন্য ঋণের ব্যবহারকে গুরুত্ব দিচ্ছি। ঋণ নিলে তার বিপরীতে কী রিটার্ন আসবে এবং কতটা কর্মসংস্থান তৈরি হবে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।’

বর্তমান সরকারের ঋণনীতিতে শুধু অর্থ সংগ্রহ নয়, বরং ঋণের অর্থ কোথায় ব্যয় হবে এবং সেই বিনিয়োগ থেকে অর্থনৈতিক সুফল কতটা পাওয়া যাবে, সেটিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ একের পর এক বেড়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ২৬৭ কোটি ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৩৭ কোটি ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪০৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ পরিমাণ আরও বেড়ে ৪৪৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।

এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, বিদেশি ঋণ পরিশোধের বর্তমান চাপ মূলত সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে নেওয়া ঋণের কারণে নয়, বরং আগের বছরগুলোতে নেওয়া বড় অঙ্কের প্রকল্প ঋণের কিস্তি এখন পরিশোধযোগ্য হয়ে ওঠায় সরকারের দায় বেড়েছে।

আগের দেড় দশকে নেওয়া বিভিন্ন বড় অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের অনেকগুলোর অবকাশকাল বা গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়েছে। ফলে একই সময়ে আসল ও সুদ পরিশোধের চাপ বেড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার একদিকে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের দায় নিয়মিত পরিশোধ করছে, অন্যদিকে নতুন ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকল্পের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা, বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুফল এবং ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনায় নিচ্ছে।

সরকারের নীতিনির্ধারগণ মনে করছেন, নিয়মিত ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও ঋণদাতাদের কাছে দেশের দায় পরিশোধের সক্ষমতা এবং আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।




ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট উত্তরে ‘মাসোহারা সিন্ডিকেটের’ অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাস্টমস বন্ড ব্যবস্থাপনার অন্যতম কেন্দ্র বন্ড কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)। কিন্তু এই স্পর্শকাতর রাজস্ব প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঘিরে ওঠা একের পর এক ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার, বন্ড সুবিধার অনিয়ম এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুম এবং কমিশনারের স্টাফ অফিসার এআরও চৌধুরী গোলাম হাসনাইন ওরফে ‘পিচাস হাসনাইন’।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সদ্য বিদায়ী কমিশনার আবু ওবায়দা ও অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের ছত্রছায়ায় মাসুম-হাসনাইন চক্র দীর্ঘদিন ধরে উত্তর বন্ড কমিশনারেটে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল।অভিযোগগুলোর ধরন ও ব্যাপকতা এতটাই গুরুতর যে, সংশ্লিষ্টদের দাবি—বদলি কিংবা প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে প্রয়োজন আর্থিক ও প্রশাসনিক পূর্ণাঙ্গ তদন্ত। নতুন কমিশনার দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এখন তাদের প্রত্যাশা—নতুন নেতৃত্ব কোনো পক্ষের চাপ বা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে অভিযোগগুলোর নথিভিত্তিক অনুসন্ধান করবেন।

প্রতি মাসে ১০ কোটি টাকা!—অভিযোগের ভয়াবহতা কতটা ? সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে যোগদানের পর মাসুম-হাসনাইন চক্র বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করেছে। কোনো কোনো সূত্রের দাবি, এই অর্থের পরিমাণ প্রতি মাসে অন্তত ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, বন্ড সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানের ফাইল আটকে রাখা, অডিট প্রক্রিয়া শিথিল করা, শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার, বন্ড লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি কিংবা তা দ্রুত নিরসনের নামে অনৈতিক আর্থিক সমঝোতার সুযোগ তৈরি করা হতো। ফলে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ফাইল, নথি, ব্যাংক লেনদেন ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

ডিপ্লোমেটিক বন্ডে মাসে ২–৩ কোটি টাকার ‘মাসোহারা’?
মাসুমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো ডিপ্লোমেটিক বন্ড ওয়্যারহাউস।অভিযোগকারীদের দাবি, ডিপ্লোমেটিক বন্ড ওয়্যারহাউসের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে মাসে ২ থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত অবৈধ মাসোহারা আদায় করা হতো।
একজন সরকারি রাজস্ব কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এমন বিপুল অঙ্কের অর্থের কোনো সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা জানতে তার ব্যাংক হিসাব, আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, বিনিয়োগ এবং পারিবারিক সম্পদের উৎস যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
অভিযোগটি সত্য হলে তা শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নয়; বরং রাজস্ব ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে সংঘবদ্ধ আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করবে।

‘গুরু ঠাকুর’ ছিলেন অতিরিক্ত কমিশনার—দেলোয়ারকে ঘিরেও প্রশ্ন : সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মাসুম-হাসনাইন চক্রের প্রভাব বিস্তারে সদ্য বিদায়ী অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গোলাম হাসনাইন, কমিশনারের পিএ মজনু মিয়াসহ কয়েকজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও সিপাহীকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই নেটওয়ার্কের সদস্যরা বন্ড সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের ওপর বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করতেন। মাসুম ও হাসনাইন যেখানে কর্মরত ছিলেন, সেখানেই ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে নিজেদের নেটওয়ার্ক তৈরির অভিযোগও রয়েছে।

‘হেডকোয়ার্টার রাজস্ব কর্মকর্তা’ পদ নিয়েও প্রশ্ন :
মাসুমের পদায়ন নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেট থেকে উত্তর বন্ড কমিশনারেটে বদলি হয়ে আসার পর জ্যেষ্ঠতা ও প্রশাসনিক নিয়ম উপেক্ষা করে তদবিরের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ‘হেডকোয়ার্টার রাজস্ব কর্মকর্তা’ পদটি তিনি বাগিয়ে নেন। এই পদে থেকে কমিশনারেটের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ফাইল, অডিট, শোকজ এবং বন্ড লাইসেন্স সংক্রান্ত কার্যক্রমে এই পদকে ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং আর্থিক সমঝোতার সুযোগ তৈরি করা হতো। তদন্তের স্বার্থে তাই প্রশ্ন উঠছে—মাসুমকে এই পদে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কী ছিল, কার অনুমোদনে হয়েছিল এবং তার জ্যেষ্ঠতা ও প্রশাসনিক যোগ্যতা কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল ?

স্ত্রীর নামে ভাটারায় সম্পত্তি নথিতে ভয়াবহ গরমিলের অভিযোগ : মাসুমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আরেকটি গুরুতর দিক হলো তার পরিবারের নামে সম্পদ অর্জন। অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্ত্রী সানজিদা আফরিন লিপির নামে রাজধানীর ভাটারা মৌজায় উল্লেখযোগ্য ভূ-সম্পত্তি রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, গৃহিণী হিসেবে পরিচিত লিপির দৃশ্যমান স্বতন্ত্র আয়ের উৎস না থাকলেও তার নামে বিপুল সম্পত্তি রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভাটারা মৌজার জেএল নং ১৫, নামজারি খতিয়ান নং ২৯৭১৬, দাগ নং ২০৭৬৩-এর সম্পত্তি নিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩৭৫৬(IX-I) নম্বর নামজারি মামলার তথ্য পাওয়া যায়। এখানেই দেখা দিয়েছে আরও বড় প্রশ্ন।
অভিযোগকারীদের তথ্য অনুযায়ী, মূল নামজারি খতিয়ানে জমির পরিমাণ ০.৪০০০ একর, অর্থাৎ ৪০ শতাংশ বা ২৪ কাঠা। অন্যদিকে ডিজিটাল ভূমি রেকর্ডে একই সম্পত্তির পরিমাণ ৪.৯৬ একর, অর্থাৎ প্রায় ৩০০ কাঠা দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। একই সম্পত্তির পরিমাণে এমন বিশাল পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে একমাত্র সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের মূল রেকর্ড ও নথিপত্র। অভিযোগকারীদের দেওয়া বাজারদরের হিসাব অনুযায়ী, ভাটারা এলাকায় প্রতি কাঠা ৬০ লাখ থেকে ১.৫ কোটি টাকা ধরলে ৪০ শতাংশ জমির আনুমানিক মূল্য ১৫ থেকে ৩৬ কোটি টাকা হতে পারে। আর ডিজিটাল রেকর্ডে দেখানো ৪.৯৬ একর জমির মূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে তাদের দাবি। এ জন্য প্রয়োজন মূল খতিয়ান, নামজারি নথি, দলিল, ভূমি উন্নয়ন করের রেকর্ড এবং সরেজমিন যাচাই।

চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ : মাসুম-হাসনাইন চক্রের বিরুদ্ধে ওঠা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য খোলা বাজারে বিক্রির সঙ্গে যুক্ত একটি চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন অভিজাত বারে তাদের নিয়মিত আড্ডা বসত এবং সেখানে বন্ড সুবিধাভোগী ও চোরাচালান সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হতো। এমনকি মাসুম ও হাসনাইন পরোক্ষভাবে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত—এমন অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই অভিযোগেরও স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে নেই। ফলে সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, আর্থিক লেনদেন, আমদানি-রপ্তানি নথি, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আইনসম্মত যোগাযোগের তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

স্বল্প চাকরিজীবনে অঢেল সম্পদ—উৎস কোথায় ?
অভিযোগকারীদের দাবি, মাসুম ও হাসনাইন স্বল্প সময়ের চাকরিজীবনেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। স্ত্রী ও আত্মীয়দের নামে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকা ছাড়াও খুলনার সোনাডাঙ্গাসহ বিভিন্ন স্থানে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্ন একটাই—এসব সম্পদের অর্থের উৎস কী ? এ কারণে সংশ্লিষ্টরা মাসুম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, আয়কর রিটার্ন, জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসায়িক বিনিয়োগসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। একইভাবে হাসনাইনের ক্ষেত্রেও সম্পদ বিবরণী ও আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু বদলি নয়, দরকার ‘মানি ট্রেইল’ অনুসরণ : অভিযোগের পর মাসুমকে উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে বদলি করা হতে পারে—এমন গুঞ্জন রয়েছে। আবার অভিযোগ ধামাচাপা দিতে তিনি নিজেই অন্যত্র বদলির চেষ্টা করছেন বলেও একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে বদলি সংক্রান্ত এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ সত্য হলে কেবল বদলি কোনো সমাধান নয়। কারণ বদলি হলে প্রশাসনিক অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু অভিযোগে উল্লিখিত আর্থিক লেনদেনের হিসাব মুছে যায় না। বরং অনুসন্ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত—অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কোথায় গেছে এবং কার মাধ্যমে গেছে।

দুদকের নজরদারির দাবি—তদন্ত কোথায় ? মাসুম-হাসনাইন চক্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরদারি রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে । ফলে এখন প্রশ্ন—এত গুরুতর অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি নথিভিত্তিক অনুসন্ধানে যাবে, নাকি অভিযোগগুলো বদলি ও প্রশাসনিক রদবদলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে ?

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং এনবিআরের দৃষ্টি আকর্ষণ : রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাস্টমস বন্ড ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যবস্থার কোনো স্তরে যদি ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অনৈতিক আর্থিক সমঝোতা সত্যিই প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে, তাহলে তার অভিঘাত শুধু একজন কর্মকর্তা বা একটি কমিশনারেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এতে ব্যবসার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, প্রকৃত রপ্তানিকারকরা হয়রানির শিকার হতে পারেন এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ব্যবস্থার প্রতি আস্থাও নষ্ট হতে পারে। তাই অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের প্রতি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আহ্বান—বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে পাশ কাটিয়ে না গিয়ে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক অনুসন্ধানের আওতায় আনা হোক।

বিশেষ করে তদন্তে যেসব বিষয় অগ্রাধিকার পাওয়ার দাবি উঠেছে, সেগুলো হলো- মাসুম ও হাসনাইনের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেন যাচাই, তাদের ও পরিবারের সদস্যদের আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী পরীক্ষা, স্ত্রী ও আত্মীয়দের নামে থাকা জমি-ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদের বৈধ উৎস অনুসন্ধান, ডিপ্লোমেটিক বন্ড ওয়্যারহাউসসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ফাইল, অডিট ও লেনদেন পর্যালোচনা, মাসুমের স্বাক্ষরিত ফাইল নোটিং, সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক নির্দেশনা পরীক্ষা, বন্ড সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সাক্ষ্য গ্রহণ, অভিযোগে উল্লিখিত সিঅ্যান্ডএফ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের আইনসম্মত নথি যাচাই; ভাটারা মৌজার বিতর্কিত জমির মূল ভূমি রেকর্ড ও নামজারি নথি পুনঃযাচাই, প্রয়োজনে আর্থিক লেনদেনের মানি ট্রেইল অনুসরণ।

নতুন কমিশনারের সামনে এখনই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা :
উত্তর বন্ড কমিশনারেটে নতুন কমিশনার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা—পুরোনো প্রভাববলয় ভেঙে প্রতিষ্ঠানটিতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—মাসুম-হাসনাইন চক্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো কি তদন্তের টেবিলে যাবে, নাকি ফাইলের স্তূপের নিচেই চাপা পড়ে থাকবে ? অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকার কথা নয়। কারণ কাস্টমস বন্ড কোনো ব্যক্তিগত প্রভাববলয়ের জায়গা নয়; এটি রাষ্ট্রের রাজস্ব ও রপ্তানি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঘুষের অভিযোগ, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, ক্ষমতার অপপ্রয়োগ এবং অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ—সবকিছুর কেন্দ্র যদি একই নেটওয়ার্কে গিয়ে মেলে, তাহলে প্রশ্নটি আর শুধু ‘মাসুম-হাসনাইন’কে ঘিরে থাকে না; প্রশ্ন ওঠে পুরো তদারকি ব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়েও। এখন দেখার বিষয়—জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই অভিযোগকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং অভিযোগের আড়ালে সত্যিই কোনো ‘ঘুষ সিন্ডিকেট’ ছিল কি না, তা বের করতে কতদূর যায়।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য :
উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুম, চৌধুরী গোলাম হাসনাইন, সদ্য বিদায়ী কমিশনার আবু ওবায়দা এবং অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।




সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা, জানাল হুতি গণমাধ্যম

সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। মঙ্গলবার হুতিদের গণমাধ্যম আনসারুল্লাহ এ তথ্য জানিয়েছে।

টেলিগ্রামে এক পোস্টে আনসারুল্লাহ লিখেছে, ইয়েমেনি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শত্রুদেশ সৌদির ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে।

অন্য আরেকটি পোস্টে আনসারুল্লাহ জানায়, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং আবহা ও জিজানের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থাটি জানায়, হুথিদের এসব দাবির বিষয়ে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে গতকাল সোমবার জানানো হয়েছিল, সৌদির জিজান শহরে অবস্থিত আরামকোর তেল স্থাপনায় নতুন করে হামলা হয়েছে। গত মাসেও এই স্থাপনায় হামলা হয়েছিল হামলায় উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

সৌদিতে সর্বশেষ চালানো হামলার দায় গতকাল পর্যন্ত কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি। তবে আজ হুতিদের গণমাধ্যম আনসারুল্লাহ এই হামলার দায় নিল।

হুথিদের সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরাহ জানায়, জাওফ প্রদেশের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক হাসান সাবুলা বলেছেন, সোমবার একটি কারাগারে চালানো হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ২০ জন বন্দি নিখোঁজ রয়েছেন।

হুথিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা সাবা এর আগে জানিয়েছিল, নিহতদের মধ্যে ওই কারাগারে স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে আসা এক শিশুও ছিল।




ডিএমপির অভিযানে গ্রেফতার ৫০২, মামলা ৭১

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন থানায় ৭১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, গ্রেফতারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ১৮ জন, লালবাগ বিভাগে ২৮ জন, ওয়ারী বিভাগে ৫৫ জন, মতিঝিল বিভাগে ৭২ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৯৪ জন, মিরপুর বিভাগে ১৩৪ জন, গুলশান বিভাগে ৩২ জন, উত্তরা বিভাগে ৫০ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে ১৯ জন রয়েছেন।

ডিএমপি জানায়, অভিযানে ৭ হাজার ৯৪২ পিস ইয়াবা, ৫ কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজা ও ৩ দশমিক ২ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, একটি মোবাইল ফোন, একটি ছুরি, চারটি চাপাতি, একটি স্পোকেট, দুটি হেলমেট, দুটি পিকআপ, ১৫০ লিটার ডিজেল, একটি ড্রাম, একটি ব্যাটারি, একটি প্লাস্টিকের পাইপ এবং নগদ ২ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।




‘মিস্টার ৫%’ আবুল খায়েরকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ : প্রধান প্রকৌশলীর পদ দখলে মরিয়া, শত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ-দৃষ্টি আকর্ষণ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের !

বিশেষ প্রতিবেদক : চাকরির মেয়াদ শেষ হতে বাকি মাত্র এক মাস। অথচ এরই মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পদে বসতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের—এমন অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে সরিয়ে ওই পদটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে তিনি বিভিন্ন মহলে তদবির চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশকে নিজের পদোন্নতি-তদবিরের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। এ জন্য অর্থ ব্যয় করে একটি জাতীয় দৈনিকে ব্যানার হেডলাইনে সংবাদ প্রকাশ করানোর অভিযোগও উঠেছে আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি মন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে তদবির চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তা।

‘মিস্টার ৫%’—কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ : আবুল খায়েরকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও গণপূর্তের বড় বড় কাজ থেকে কমিশন বা ‘কাটমানি’ আদায়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঠিকাদার ও প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ের একটি অলিখিত ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন তিনি। এ কারণেই দপ্তরের একটি অংশে তার পরিচিতি তৈরি হয়েছে ‘মিস্টার ৫%’ নামে।
অভিযোগ রয়েছে, গোপালগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর হয়ে ঢাকা—কর্মজীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিংয়ে তিনি ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ, সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

গোপালগঞ্জ পোস্টিং ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ : অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরির শুরুর দিকেই রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান আবুল খায়ের। তৎকালীন সচিব শহীদুল্লাহর বিশেষ সুপারিশে ছাত্রলীগের কর্মী পরিচয় ব্যবহার করে তিনি গোপালগঞ্জ জোনে প্রভাবশালী পোস্টিং পান—এমন অভিযোগ রয়েছে।
সেখানে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শেখ সেলিম ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ওই রাজনৈতিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তী সময়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও উপেক্ষা করে দপ্তরে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেন—এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

চট্টগ্রামে ৩% কমিশন ও ‘পিসি টেন্ডার’ : চট্টগ্রাম জোনে দায়িত্ব পালনকালে আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ আরও গুরুতর আকার ধারণ করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে ৩ শতাংশ কমিশন দেওয়ার অলিখিত নিয়ম চালু করেছিলেন তিনি। একই সময়ে প্রচলিত ‘পিসি টেন্ডার’ বা পার্সেন্টেজ শেয়ারিং টেন্ডার ব্যবস্থাও নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই সময়ে তিনি একাই প্রায় ১০০ কোটি টাকা আয় করেছেন—যদিও এই অর্থের পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঠিকাদারের বিল আটকে দেওয়া, কাজের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া কিংবা কালো তালিকাভুক্ত করার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। এমনকি নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ঠিকাদারদের ওপরও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

কুমিল্লায় এমপির বিরোধের পর অপসারণ : চট্টগ্রামের পর কুমিল্লা জোনেও নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন আবুল খায়ের—এমন অভিযোগ রয়েছে। সেখানে টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্য নিয়ে তৎকালীন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। একপর্যায়ে এমপি বাহারের তীব্র আপত্তির মুখে তাকে কুমিল্লা জোন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়—এমন তথ্যও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে।

রংপুরে ঘুষবাণিজ্যের অভিযোগ, গণমাধ্যমে ঠিকাদারদের ক্ষোভ : রংপুর জোনে বদলি হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ থামেনি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। অভিযোগের প্রতিবাদে স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার গণমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন। এমনকি বেসরকারি টেলিভিশন ৭১ টিভি-তে ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে সরাসরি লাইভ সাক্ষাৎকার দেন বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনা সত্য হলে তা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ওই সময়ের অভিযোগ ও বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

ন্যাশনাল হাউজিংয়ে ৫০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ : গণপূর্তের বিভিন্ন দায়িত্বের পাশাপাশি ন্যাশনাল হাউজিং অথরিটিতে দায়িত্ব পালনকালেও আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সরকারি প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ, নকশা অনুমোদন এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এ অর্থের সঙ্গে আবুল খায়েরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, বরাদ্দের কাগজপত্র ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।

ঢাকায় ‘মিস্টার ৫%’ পরিচিতি : বর্তমানে ঢাকা জোনে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প অনুমোদন, কাজের ছাড়পত্র কিংবা ঠিকাদারদের বিল পাস—বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কমিশন দেওয়ার অলিখিত চাপ রয়েছে। এ কারণেই ‘মিস্টার ৫%’ নামটি এখন দপ্তরের ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বহুল আলোচিত বলে দাবি তাদের।

২৪ ফ্ল্যাট, পূর্বাচল ও ময়মনসিংহে বিপুল সম্পদের অভিযোগ : আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তার কথিত বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ নিয়ে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় তার নিজের নামে এবং স্বজনদের নামে অন্তত ২৪টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। ন্যাশনাল হাউজিং ও পূর্বাচলে জমি এবং মোহাম্মদপুরে ন্যাশনাল হাউজিংয়ের বড় ফ্ল্যাটসহ পূর্বাচলে একাধিক কোটি টাকা মূল্যের প্লট ও জমি রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। শুধু রাজধানী নয়, ময়মনসিংহের বিভিন্ন গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকায় তার নামে-বেনামে বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি ও খামারবাড়ি রয়েছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়মূল্য, অর্থের উৎস এবং আয়কর নথির সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাকরির শেষ সময়ে প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার দৌড় : সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে—চাকরির বয়স যখন মাত্র এক মাসের মতো অবশিষ্ট, তখনও প্রধান প্রকৌশলীর পদে বসার জন্য আবুল খায়েরের কথিত তৎপরতা। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে সরানোর জন্য বিভিন্ন মহলে তদবিরের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছেন তিনি। একই সঙ্গে মন্ত্রী, সচিব ও সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও রয়েছে। এ অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্ন উঠছে—চাকরির শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কেন প্রধান প্রকৌশলীর পদ পাওয়ার জন্য এত মরিয়া? এই পদ ঘিরে কী ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বার্থ কাজ করছে?

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ : গণপূর্ত অধিদপ্তর রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। হাজার হাজার কোটি টাকার অবকাঠামো প্রকল্প, সরকারি ভবন, হাসপাতাল, আবাসন ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনা নির্মাণে এ অধিদপ্তরের ভূমিকা রয়েছে।
ফলে একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে যদি বছরের পর বছর ধরে কমিশন বাণিজ্য, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার এবং বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের কাছে তাই প্রশ্ন—আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ কি কখনো নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা হয়েছে? তার নামে ও স্বজনদের নামে থাকা কথিত ২৪টি ফ্ল্যাট, পূর্বাচলের সম্পদ এবং ময়মনসিংহের জমির অর্থের উৎস কি যাচাই করা হয়েছে? বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা জোনগুলোতে তার বিরুদ্ধে ওঠা কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগের কোনো তদন্ত হয়েছে কি?

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি : অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে তার আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাব, জমি-ফ্ল্যাটের দলিল এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর টেন্ডার ও বিলের নথি যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও অর্থের উৎস অনুসন্ধানেরও দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও গণপূর্তের সৎ কর্মকর্তারা।

অভিযোগের সত্যতা তদন্তেই নির্ধারিত হবে। তবে অভিযোগগুলো যদি সত্যের কাছাকাছি হয়, তাহলে একজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে ঘিরে শুধু একটি পদ দখলের লড়াই নয়—গণপূর্তের হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়নকাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এ কারণেই বিষয়টি দ্রুত আমলে নিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




নিয়ন্ত্রণে আসছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, শনাক্তে থাকবে কিউআর কোড: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সারাদেশে চলাচলকারী নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল নীতিমালার আওতায় আনছে সরকার। এসব যান চলাচলে নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করে দেওয়া হবে এবং একটি নিবন্ধনের বিপরীতে যাতে একাধিক যান চলতে না পারে সেজন্য ডিজিটাল ট্র্যাকিং বা কিউআর কোড (QR Code) যুক্ত করা হবে।

কর্মসংস্থান ঠিক রেখে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে উত্থাপিত এক জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।

এর আগে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল প্রসঙ্গে ওই নোটিশটি উত্থাপন করেন।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে রেহানা আক্তার রানু বলেন, দেশে বর্তমানে ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার বা অটোরিকশা চলাচল করছে, যা মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করছে।

বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা মাত্র ৩ হাজারের মতো হলেও শুধু ঢাকাতেই ৪৮ হাজারের বেশি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। এর ফলে গ্রিডের ওপর মারাত্মক চাপ পড়ার পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসব যানে ব্যবহৃত সস্তা লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি অনিরাপদ ব্যবস্থাপনার কারণে মারাত্মক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এছাড়া অদক্ষ চালক ও ত্রুটিপূর্ণ ব্রেকের কারণে দুর্ঘটনাও বাড়ছে। ২০২৫ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬ হাজার ১১১ জনের মধ্যে ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশই ছিল অটোরিকশা দুর্ঘটনা।

তবে অটোরিকশার ওপর লাখ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল উল্লেখ করে রেহানা আক্তার রানু এগুলোকে ঢালাওভাবে উচ্ছেদ বা ডাম্পিং না করে একটি নীতিমালার আওতায় আনার দাবি জানান। একইসঙ্গে তিনি সড়ক ব্যবস্থাপনায় আধুনিকীকরণ এবং এআই ভিত্তিক ট্রাফিক সিগন্যাল বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।

সংসদ সদস্যের উত্থাপিত বিষয়ের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই খাতটিতে কর্মসংস্থান জড়িত, তাই আমরা কর্মসংস্থান ব্যাহত না করে পরিবেশ ও সড়ক নিরাপদ রাখতে চাই। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ইতোমধ্যে একটি বিধিমালা ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, নতুন নীতিমালার আওতায় অটোরিকশাগুলোর জন্য রুট নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। মহাসড়ক বা প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে এগুলো চলতে পারবে না। এছাড়া পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ ব্যাটারি ব্যবহারের শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, একটি যানের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে সেই নম্বর দিয়ে ১০-২০টি গাড়ি চালানো হয়। এই জালিয়াতি রোধে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কিউআর কোডের মাধ্যমে অটোরিকশা শনাক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে। এতে কর্মসংস্থানও থাকবে, আবার যানজট ও দুর্ঘটনাও কমে আসবে।’

বিদ্যুৎ চুরি রোধে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বিদ্যুৎ বিভাগেরও নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি। আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ঢাকার সিগন্যালগুলোতে এআই ভিত্তিক ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যার সুফল পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত থাকবে।