আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও ফেলেছি: নেতানিয়াহু

কাতারে হামলা চালানোর বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে দম্ভ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, কাতার ইসরায়েলের জন্য ‘শত্রুভাবাপন্ন’ একটি দেশ। গাজা যুদ্ধের সময় কাতার ইসরায়েলের নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

কাতারে ইসরায়েলি হামলার প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি কাতারে হামলা করেছি, যুদ্ধের সময় তাদের ওপর বোমাও ফেলেছি, তারাও আমাকে আক্রমণ করেছে।’

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি হামলার এক বছর পূর্ণ হবে। ২০২৫ সালের ওই হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য ও কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। হামাস নেতাদের একটি বৈঠক চলাকালে এ হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানা যায়। বৈঠকটির আলোচ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব।

হামলার পর কাতার এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দেয়। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হামলাটিকে গুরুতর লঙ্ঘন বলে নিন্দা করেছিলেন।

এদিকে সাক্ষাৎকারে গাজায় কাতারের অর্থ পাঠানোর বিষয়েও সাফাই দেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের সুপারিশেই মানবিক সহায়তার উদ্দেশ্যে এসব অর্থ গাজায় পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় প্রবেশ করা মোট অর্থের মাত্র প্রায় ২ শতাংশ ছিল কাতারের এই অর্থ।

তবে নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা অভিযোগ করে আসছেন, কাতারের অর্থ হামাসের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়েছিল। কাতার অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের সব সহায়তাই গাজার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং পুরো প্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ ও কঠোর নজরদারির মধ্যে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি এর আগে বলেছিলেন, কাতারের অর্থ হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। যুক্তরাষ্ট্রও এসব অর্থ স্থানান্তর সম্পর্কে অবগত ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে ইসরায়েলে ২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গাজা যুদ্ধ, অর্থনীতি ও ইরানের সঙ্গে সংঘাত; নির্বাচনে এসব বিষয়ই বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী সমর্থন জোরদার করতে নেতানিয়াহু বারবার আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছেন।

সূত্র: আলজাজিরা




ইয়েমেনে হুতি ও সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষে নিহত ৬০

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীগুলোর সঙ্গে হুতি বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে ৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছে।

শনিবারের এ সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে বেসামরিকরাও রয়েছেন বলে দেশটির চিকিৎসা ও সামরিক সূত্রগুলো আন্তর্জাতিক এক বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছে, খবর আরব নিউজের।

ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ দিন দেশটির দক্ষিণপশ্চিমে দুপক্ষের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা লড়াইয়ে সরকারি বাহিনীর ২৬ সেনা নিহত হয়।

অপরদিকে ইরান সমর্থিত হুতিদের চিকিৎসা ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ লড়াইয়ে ৩১ জন বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তায়িজ শহরের এক মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে, একটি যাত্রীবাহী বাসে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ছয় বেসামরিক নিহত ও আরও সাতজন আহত হয়েছেন।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার শুক্রবার হুতিদের অবস্থানে ধারাবাহিকভাবে বিমান হামলা চালায়। এতে দুপক্ষের সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে তীব্র হয়ে ওঠে। ২০২২ সালে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর থেকে দেশটির কিছু তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে এটি অন্যতম।

ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এদিন সরকারি যুদ্ধবিমানগুলো তায়িজ ও হোদেইদাহে হুতিদের অবস্থান, সেনা সমাবেশ ও গাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত ১৫ বার আঘাত হেনেছে।

বৃহস্পতিবার হুতিরা তায়িজ ও হোদেইদাহের দক্ষিণাঞ্চলীয় লড়াই প্রান্তগুলো বরাবর বড় ধরনের আক্রমণ শুরু করলে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। আক্রমণে হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ব্যবহার করে আর কামানের ব্যাপক গোলাবর্ষণের ছত্রছায়ায় তাদের স্থল সেনারা লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর দিকে এগিয়ে যায়।

এরপর থেকে তায়িজ ও সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী বন্দর আল-মাখাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে লড়াই চলতে থাকে।

এডেন থেকে ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুতিরা বাব আল-মান্দেব ও আল-মাখার নিকটবর্তী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়গুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে হামলা চালাচ্ছে, এরপর তারা উপকূলীয় অঞ্চলগুলো দিকে নজর দেবে।

আল জাজিরার সানা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তায়িজের পশ্চিমাঞ্চলে হুতিরা অগ্রগতি লাভ করেছে। সেখানে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্বতের শীর্ষে অবস্থিত সরাকারি বাহিনীর এক ঘাঁটি দখল করে নিয়েছে, এতে সামনের পুরো এলাকা তাদের নজরে চলে এসেছে।

তিনি জানান, আল-বারাহ ও মাকবানাহে একটি মহাসড়ককে ঘিরে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। এই মহাসড়কটি তায়িজ ও আল-মাখাতে অবস্থানরত সরকারি বাহিনীর রসদ সরবরাহের জন্য ব্যবহার করা হয়।

হুতিরা আক্রমণ শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ১২০ জনেরও বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে খবর। এতে এ সংঘাত কয়েক বছরের মধ্যে ইয়েমেনের সবচেয়ে প্রণাঘাতী লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: গার্ডিয়ান, আলজাজিরা




রাষ্ট্রপতি নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন আজ

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আজ নিজ জেলা সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুই দিনের সফরের প্রথম দিন আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা করবেন রাষ্ট্রপতি।

ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি জেলা সার্কিট হাউসে যাবেন। সেখানে সশস্ত্র বাহিনীর দেওয়া গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে মা-বাবার কবর জিয়ারত ও মোনাজাতে অংশ নেবেন।

কালীবাড়ির নিজ বাসভবনে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

দ্বিতীয় দিন আগামীকাল সোমবার রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ মহাসড়কসংলগ্ন সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এরপর নিজ বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম নেবেন। এদিনই হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল, যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’




শেওড়াপাড়ায় ৫ কাঠা জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ, উঠছে দখল-হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় মেট্রোরেলের ৩২০ নম্বর পিলারের পাশে প্রায় পাঁচ কাঠা জমি। জমিটির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধে জড়িয়েছেন আপন দুই ভাই। এক পক্ষের দাবি—বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার সূত্রে তার বৈধ অংশ রয়েছে। অন্যদিকে, জমিটি দখলে থাকার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাই মো. আলমগীর হোসেন ওরফে অ্যাপোলোর বিরুদ্ধে।

এই বিরোধকে কেন্দ্র করে জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এনেছেন বড় ভাই আলহাজ্ব মো. মুকুল আমিন। একই সঙ্গে জমিতে নির্মাণকাজের বৈধতা, রাজউকের অনুমোদিত নকশা এবং সেখানে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের কতটা সত্য, জমিটির প্রকৃত মালিকানা কার এবং বর্তমানে আইনগতভাবে কার দখলে থাকার কথা—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতাও পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বড় ভাইয়ের অভিযোগ

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) মিরপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুকুল আমিন অভিযোগ করেন, শেওড়াপাড়ার ৫৯৩/এ এলাকার ওই জমি তাদের বাবা মৃত আলহাজ্ব আব্দুল মালেকের রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশ। উত্তরাধিকার সূত্রে জমিটিতে তার বৈধ মালিকানা রয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে তাকে জমিটির দখল ও ভোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ছোট ভাই আলমগীর হোসেন অ্যাপোলো কয়েকজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে জমিটি দখলে রেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

মুকুল আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধ শুধু জমির মালিকানা ও দখলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর জেরে তার ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনাও ঘটেছে।

এ ঘটনায় আব্দুস সালাম, আরিফ, রুহুল আমিন, আব্দুল আলিম ও আতিকসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি।

প্রশাসনের কাছে অভিযোগ, কিন্তু সমাধান কোথায়?

মুকুল আমিন দাবি করেন, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে থানাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু তার প্রত্যাশিত প্রতিকার মেলেনি।

এখানেই উঠছে প্রশ্ন—জমিটির মালিকানা নিয়ে প্রকৃত বিরোধ কী এবং জমির কাগজপত্রের ভিত্তিতে কার দাবি আইনগতভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য?

এ বিষয়ে ভূমি-সংক্রান্ত দলিল, নামজারি, খতিয়ান, দখল এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ফলে একটি নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নির্মাণকাজ নিয়ে প্রশ্ন

জমিটিকে ঘিরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ উঠেছে নির্মাণকাজ নিয়ে।

মুকুল আমিনের দাবি, বিরোধ চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সেখানে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একই সঙ্গে তার প্রশ্ন—জমিতে বর্তমানে যে কোনো নির্মাণকাজ পরিচালিত হলে তা রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী হচ্ছে কি না।

এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি ও অনুমোদন যাচাই। বিশেষ করে অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের অনুমতি এবং কর্তৃপক্ষের দেওয়া কোনো নিষেধাজ্ঞা বা নির্দেশনা থাকলে তার বাস্তবায়নের বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি।

রাতের কর্মকাণ্ড নিয়েও অভিযোগ

মুকুল আমিন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগের বরাত দিয়ে দাবি করেন, ওই জমি ও আশপাশের এলাকায় রাতে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। সেখানে মাদক, ইয়াবা কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানান তিনি।

তবে সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের বিষয়টি জানা গেলেও, রাতের বেলায় মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ফলে এই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তই হতে পারে নির্ভরযোগ্য উপায় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধার অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনের পর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে সেখানে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ সময় দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদকর্মীদের প্রবেশের বিষয়ে আপত্তি জানান বলে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের অভিযোগ। ফোনালাপে কর্মচারীদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলার অভিযোগও ওঠে।

ওই কথোপকথন সংবাদকর্মীরা রেকর্ড করেছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনাস্থলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণ এবং সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম চলছিল—এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে মুকুল আমিন তার ভাই আলমগীর হোসেন অ্যাপোলোর রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীতের প্রভাব নিয়েও অভিযোগ করেন।

তিনি দাবি করেন, অ্যাপোলো জার্মান শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন এবং রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। ৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন মুকুল আমিন।

এ ছাড়া ৭ আগস্ট রাতে অ্যাপোলো দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এসব রাজনৈতিক ও অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অ্যাপোলোর দেশত্যাগের দাবিরও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোনো আদালতের রায় বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অ্যাপোলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি

মুকুল আমিনের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে মো. আলমগীর হোসেন ওরফে অ্যাপোলোর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত নথি কিংবা তিনি জমিটি কোন আইনি ভিত্তিতে দখলে রেখেছেন—এসব বিষয়ে তার অবস্থান জানা গেলে বিরোধটির একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে।

তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো মেলেনি

পাঁচ কাঠা জমির বিরোধকে ঘিরে বর্তমানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—

– জমিটির প্রকৃত মালিকানা ও উত্তরাধিকারসূত্রে অংশীদারিত্ব কার কতটুকু?
– মুকুল আমিনের দাবি করা দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্রের আইনগত অবস্থান কী?
– বর্তমানে জমিটির দখল কার এবং কোন আইনি ভিত্তিতে?
– জমিতে কোনো নির্মাণকাজ হয়ে থাকলে সেটি রাজউকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী কি না?
– কাজ বন্ধ রাখার কোনো সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল কি না এবং হয়ে থাকলে তা মানা হয়েছিল কি না?
– জমি নিয়ে হামলা, হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে কোনো মামলা বা তদন্ত হয়েছে কি না?
– এলাকায় মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি রয়েছে কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, ভূমি রেকর্ড, রাজউকের অনুমোদন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাইয়ের মাধ্যমে।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মুকুল আমিন বলেন, “আমার জমির কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও আমি আইনগত সহযোগিতা পাচ্ছি না। আমি চাই প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি নির্ধারণ করুক।”

স্থানীয়দেরও দাবি, জমিটির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের সব নথি যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হোক। পাশাপাশি মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সারকথা, শেওড়াপাড়ার এই পাঁচ কাঠা জমির বিরোধ এখন কেবল দুই ভাইয়ের পারিবারিক সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দখল, নির্মাণকাজের বৈধতা, হুমকি এবং কথিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নানা অভিযোগ। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন নথিভিত্তিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও উভয় পক্ষের বক্তব্য ছাড়া কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।




ইরানের ‘প্রাণভোমরা’য় আঘাত, কি ব্যবস্থা নেবে তেহরান?

পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনী তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোঁড়ার পর এই পদক্ষেপ নেয় মার্কিন বাহিনী।

ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো না হলেও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেল সম্পদ সমৃদ্ধ খার্গ দ্বীপের কাছে একটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এবং গাইডাইল-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইরানের উসকানিমূলক একাধিক হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। ইরানের এই ব্যর্থ হামলার পর সেন্টকম খার্গ দ্বীপের উপকূলের এম/টি ডাউনি এবং জাস্কের নিকটবর্তী এম/টি স্টার্ক ওয়ান নামের ইরানি ক্রুড অয়েল ক্যারিয়ার দুটিকে স্থায়ীভাবে অকার্যকর করে দিয়েছে। এ ছাড়া ওমান উপসাগরে খালী অবস্থায় থাকা ক্রুড অয়েল ক্যারিয়ার এম/টি কাইলোকেও সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী। ক্রুদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর জাহাজটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয়।

সেন্টকম জানিয়েছে, এই তিনটি জাহাজ একটি কয়েক বিলিয়ন ডলারের শ্যাডো নেটওয়ার্কের অংশ, যা আইআরজিসি এবং তাদের আঞ্চলিক প্রক্সিগুলোকে অর্থায়ন করে থাকে।

সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেছেন, আইআরজিসির কাছে বার্তাটি স্পষ্ট হওয়া উচিত: যদি তোমরা আমাদের দুটি জাহাজে গুলি চালাও, তবে আমরা আরও বেশি অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারণ করব এবং তোমাদের তিনটি জাহাজ ধ্বংস করে দেব।

এর আগে শনিবার ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায় যে, খার্গ দ্বীপের কাছাকাছি মার্কিন বাহিনীর মিসাইল হামলায় একটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, নোঙর এলাকায় থাকা ট্যাংকারটি মার্কিন বাহিনীর ছোঁড়া চারটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং ট্যাংকারের ক্রুরা জাহাজ থেকে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন।

সিএনএন-এর হাতে আসা অডিও রেকর্ডিংয়ে শোনা গেছে, মার্কিন সামরিক বিমান একটি জরুরি চ্যানেলের মাধ্যমে জাহাজটিকে সতর্কবার্তা পাঠাচ্ছে। একটি রেকর্ডিংয়ে আমেরিকান উচ্চারণে বলতে শোনা যায়, মোটর ট্যাংকার স্টার্ক ওয়ান, এটি মার্কিন সামরিক বিমান। আমি আপনার জাহাজের পেছনের অংশে গুলি চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। জাহাজের পেছনের অংশ থেকে ক্রুদের সরিয়ে নিতে আপনাদের ১০ মিনিট সময় দেওয়া হলো। অভার। পরবর্তী আরেকটি কথোপকথনে জাহাজটিকে শেষ সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়, এটি আপনার শেষ সতর্কবার্তা… অবিলম্বে লাইফবোটে উঠুন এবং জাহাজ ত্যাগ করুন। এর মাঝখানে সিএনএন-এর শোনা একটি অডিওতে জাহাজের কেউ একজন বিমানটিকে গুলি বন্ধ করার অনুরোধ করে বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছি।

মেরিটাইম ট্রাফিকের শিপ ট্র্যাকিং ডাটা অনুযায়ী, স্টার্ক ওয়ান নামের এই ট্যাংকারটি গত সপ্তাহে খার্গ দ্বীপের কাছাকাছি অবস্থান করছিল।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই সংঘাত বর্তমানে  অনিশ্চিত ও অস্থির অবস্থার মধ্যে রয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই বৈশ্বিক তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রবালসমৃদ্ধ খার্গ দ্বীপ ইরানের উপকূলের কাছে অবস্থিত এবং এটি দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনা করে থাকে। এই সংঘাত চলাকালীন দ্বীপটিতে একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে দ্বীপটি দখলের হুমকিও দিয়েছিলেন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এই সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও সেখানে কোনো ‘সক্রিয় গোলাগুলি’ চলছে না। তিনি এই সংঘাতের অবসানের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতেও রাজি হননি। তিনি বরং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার মধ্য দিয়ে যে সংঘাতের সূচনা হয়েছিল, তার সমাপ্তি ঘটানোর দায়িত্ব একমাত্র ইরানেরই।

সূত্র: সিএনএন




গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটের জন্য বিগত সরকার দায়ী : আব্দুস সালাম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেছেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটের জন্য বিগত সরকার দায়ী। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সবকিছু একসঙ্গে সমাধান করে দেওয়ার মতো কোনো ‘আলাদিনের চেরাগ’ নেই।

শনিবার দুপুরে কামরাঙ্গীরচরে বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন। ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে লংমার্চ করে কোনো লাভ নেই। বরং এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে যে পেট্রোল বা গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও অপচয় হচ্ছে।

আব্দুস সালাম আরও বলেন, ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় মাসেই সরকার রেকর্ড পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করেছে। এজন্য বিরোধী দলের এই সরকারকে ধন্যবাদ দেওয়া প্রয়োজন।




সরকারি সফরে সৌদি আরব গেলেন নৌবাহিনী প্রধান

নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম সরকারি সফরে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আইএসপিআর জানায়, সফরকালে নৌবাহিনী প্রধান সৌদি আরবের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ, রয়েল সৌদি নেভাল ফোর্স-এর প্রধান এবং মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স কোয়ালিশন কমান্ডারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। উক্ত সাক্ষাতে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও, অনুষ্ঠিতব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার বিদ্যমান পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং নৌবাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

আইএসপিআর আরও জানায়, নৌবাহিনী প্রধান সৌদি আরব অবস্থানকালে বিভিন্ন সামরিক ও নৌ স্থাপনা পরিদর্শন এবং দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক, প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন। নৌবাহিনী প্রধানের এ সফর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে বলে আশা করা যায়।




প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে আলোচনা চলমান : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে আলোচনা চলমান। তবে সফরের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই।’

আজ শনিবার সকালে সিলেটের একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা আছে।’

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছুই নয়। জাতীয় ইন্টারেস্টের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে যাওয়া হবে।’

চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আরো কেনা হবে।’




দুপুরের মধ্যে ঢাকায় বজ্রবৃষ্টির আভাস

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি ঝরতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে এ সময় তাপমাত্রা পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও সংস্থাটি জানায়।

শনিবার ভোর ৫টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। পাশাপাশি দিনের তাপমাত্রা সাধারণত অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এদিকে সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ দশমিক ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৯ শতাংশ।




আওয়ামী আমলের জ্বালানি খাত ধ্বংসের মাশুল দিচ্ছে সরকার: প্রিন্স

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জ্বালানি খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার মাশুল এখন সরকারকে বহন করতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

তিনি বলেন, দেশের যেকোনো সংকটময় সময়ে বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সংকট উত্তরণে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সরকারও একটি বিপর্যস্ত রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন ও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়ায় সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার গোহাটা মাঠে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রিন্স বলেন, এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যাতে বিএনপি কিংবা সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিরোধী দলের সাম্প্রতিক কর্মসূচির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রাম ও নির্বাচনে দেশের মানুষ বিএনপির সঙ্গে ছিল। ভবিষ্যতেও জনগণ বিএনপির পাশে থাকবে। তবে বিরোধী দল লংমার্চের নামে জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক একেএম এনায়েত উল্লাহ কালামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট নূরুল হক, বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম, উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি শামছুল হক শামছু, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম কামাল, সাধারণ সম্পাদক মহিবুল হক টুটুল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নূরুজ্জামান সোহেল, বিএনপি নেতা আব্দুস সাত্তার এবং জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি হযরত আহম্মেদ সাকিবসহ স্থানীয় নেতারা।

সভা শেষে গোহাটা মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগানে সাজানো র‍্যালিটি তারাকান্দা উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।