ইসরায়েলে হামলা চালালে তা হবে ইরানের ‘শেষ সিদ্ধান্ত’: নেতানিয়াহু

ইরান যদি ইসরায়েলের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালানোর দুঃসাহস করে, তবে তা হবে দেশটির শাসনব্যবস্থার অন্যতম ‘শেষ সিদ্ধান্ত’—এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার দেশটির সদেরোত এলাকার আফিকি দাত হেজদের ইয়েশিভা পরিদর্শনের সময় গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং তেহরানের সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরান পুরো অঞ্চল ও আশপাশের সবাইকে আক্রমণ ও হুমকি দিচ্ছে, তবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পরিণাম কী হতে পারে তা বুঝতে পেরে তারা এখানে কোনো উসকানি দেওয়ার সাহস দেখাচ্ছে না।

সদেরোতের ওই ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গাজা উপত্যকার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার দাবি করে নেতানিয়াহু বলেন, পুরো গাজাজুড়ে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং যারা ইসরায়েলের ওপর হুমকি সৃষ্টি করছে তাদের বেছে বেছে নির্মূল করা হচ্ছে। এমনকি আগের দিনই গাজায় হামাসের শিন বেত প্রধানকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গাজায় এখন মাথা তুলে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। এ সময় ৭ অক্টোবরের গণহত্যার পর থেকে নিহত হামাস ও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের একটি তালিকা তুলে ধরেন তিনি। এই তালিকায় তিনি ইয়াহিয়া সিনওয়ার, মোহাম্মদ দেইফ, ইসমাইল হানিয়াহ, মোহাম্মদ সিনওয়ার, হাসান নাসরুল্লাহ এবং ইজ্জ আল-দ্বীন আল-হাদ্দাদের নাম উল্লেখ করে বলেন, ইসরায়েল তার চারপাশের বাস্তবতা বদলে দিচ্ছে এবং রাষ্ট্রটির প্রতি তৈরি হওয়া প্রতিটি হুমকিকে একে একে উপড়ে ফেলছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হেজদের ইয়েশিভার শিক্ষার্থীদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং সাহসিকতার প্রশংসা করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা তোরাহ শিক্ষা, আত্মত্যাগ ও বীরত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই ইসরায়েলি জনগণের সুরক্ষায় সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে হিব্রু সংবাদমাধ্যম এন১২ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদেরোতের মেয়র আলোন দাবিদির উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান চলাকালে শিক্ষার্থীদের একাংশকে নেতানিয়াহুর সামনেই ফিলিস্তিনবিরোধী চরমপন্থী গান গাইতে দেখা যায়। ১৯৯৬ সালে ফিলিস্তিনিদের হামলায় নিহত এক ইসরায়েলি দম্পতির স্মরণে তৈরি ডোভ শুরিনের বিতর্কিত গান রিমেক করে তারা প্রতিশোধের ডাক দেয় এবং ফিলিস্তিনের নাম মুছে ফেলার মতো উগ্র স্লোগান সংগীতে তুলে ধরে।

এদিকে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানের যেকোনো ধরনের হামলা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক নিরাপত্তা সূত্র। আল-মনিটরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক উচ্চপদস্থ ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, যেকোনো মুহূর্তে ও সংক্ষিপ্ত সময়ের নোটিশে তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা ও প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল মার্কিন নৌবাহিনী কর্তৃক প্রবর্তিত অর্থনৈতিক অবরোধ শুরুর পর থেকে তেহরান কেবল উপসাগরীয় অঞ্চল ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে, কিন্তু ইসরায়েলে হামলা করা থেকে বিরত রয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ইরান হয়তো ইসরায়েলকে পরবর্তী কোনো কৌশলী সময় ব্যবহারের জন্য রেখে দিয়েছে, নয়তো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পাল্টা জবাবের তীব্রতাকে ভয় পাচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সঙ্গে পুনরায় সংঘাত শুরু হলে ইসরায়েল মূলত দেশটির অবশিষ্ট পরমাণু প্রকল্পগুলোকে একবারে ধূলিসাৎ করাকে প্রাধান্য দেবে। বিগত জুন মাসে এবং চলতি বছরের বিভিন্ন অভিযানে ইরানের অস্ত্র-মানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যেটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, তা ধ্বংস করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। তেহরানের মূল শাসনব্যবস্থা বা সাধারণ অবকাঠামোতে হামলা চালানোকে তারা দ্বিতীয় সারির লক্ষ্য হিসেবে দেখছে। এমনকি হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর গৃহীত সামরিক পদক্ষেপ কিংবা মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার কাজগুলোকেও নিজেদের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে না জেরুজালেম।

নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ একটি কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ইসরায়েলের মূল মনোযোগের কেন্দ্রে তা নেই। তাদের কৌশলগত হিসেব অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বড় কোনো সামরিক অভিযানে যাবেন না, বরং বর্তমান অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্যগুলোকে ধরে রাখার চেষ্টা করবেন। কারণ, এই অর্থনৈতিক অবরোধের ফলে ইরান ইতিমধ্যেই মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট




ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ৮১

ইয়েমেনের তাইজ ও লোহিত সাগরীয় অঞ্চলে সরকারি বাহিনী এবং হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ৮১ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) থেকে লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে এ প্রাণহানি ঘটে।

দুই সামরিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা সূত্রের বরাতে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

লোহিত সাগর উপকূলের একজন সামরিক কর্মকর্তা তাঁর ২৪ জন সেনা নিহতের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, তাইজের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের অপর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেখানে তাঁর ১৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন।

এএফপি জানিয়েছে, হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার চিকিৎসা সূত্র অনুযায়ী তাদের অন্তত ৪২ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য-বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা ও তাইজ অঞ্চলের আশপাশে হুতি বাহিনী রকেট এবং ড্রোন হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযান শুরু করলে নতুন করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

সূত্র: আল-জাজিরা।




থাইল্যান্ডে মদ্যপ অবস্থায় দুই মার্কিন সেনার হাতাহাতি, ফেরত পাঠানো হলো রণতরীতে

থাইল্যান্ডের বিনোদনকেন্দ্র পাতায়ায় মদ্যপ অবস্থায় মারামারিতে জড়িয়ে পরা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর দুই নাবিককে জাহাজে ফেরত পাঠিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে শুক্রবার থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিতর্কিত এই ঘটনার পর কোনো থাই আইন লঙ্ঘন না হওয়ায় ওই নাবিকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

পাতায়া সিটি পুলিশ প্রধান কর্নেল আনেক শ্রাথংইউ জানান, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে প্রখ্যাত নাইটলাইফ এলাকা ‘ওয়াকিং স্ট্রিট’-এর কাছে দুই নাবিকের মধ্যে এই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আক্সাস্য আওয়াজ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা সংঘাত বড় হওয়া ঠেকাতে পুলিশে খবর দেন। তবে ঘটনাটিকে অত্যন্ত সামান্য উল্লেখ করে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তারা নিজেদের মধ্যেই হাতাহাতি করছিলেন এবং ঘটনাটি গুরুতর রূপ নেয়ার আগেই তাদের মার্কিন কর্তৃপক্ষের জিম্মায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

২৮০ দিনেরও বেশি সময় সাগরে কাটানো ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ রণতরীটি সম্প্রতি পাতায়া বন্দরে ভিড়েছে। দীর্ঘদিন সমুদ্রে অবস্থানের ফলে জাহাজের ভেতরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, খাবার সংকট এবং নৌসদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যয় নিয়ে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। থাইল্যান্ডে মার্কিন রণতরীর এই যাত্রাকে ঘিরে পাতায়ার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মন্দা মৌসুমে বিপুল বাণিজ্যের আশা করলেও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন বাস্তবে এর প্রভাব এখনো বেশ কম।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড




বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের দেশ: কৃষিমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের দেশ। এ দেশে যারা বসবাস করেন তারা সবাই এবং সব ধর্মের মানুষ এ দেশের সমান অংশীদার। তাই দেশকে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার দায়িত্বও আমাদের সবার।

শুক্রবার সকালে কুমিল্লায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো ধর্মই অন্যায়, অবিচার কিংবা অশুভ শক্তিকে প্রশ্রয় দেয় না। সব ধর্মের মূল শিক্ষা মানবকল্যাণ, ন্যায়, সৌন্দর্য, সহমর্মিতা ও শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়া। ফলে মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত হলে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত হবে।

তিনি বলেন, আমাদের পূর্বসূরিরা আমাদের জন্য একটি সুন্দর দেশ রেখে গেছেন। তাই আগামী প্রজন্মের জন্য আরও উন্নত, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সব সম্প্রদায়ের মানুষ ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধনে আবদ্ধ থাকলে দেশ ও জাতির কল্যাণ অবশ্যম্ভাবী।

তিনি আরও বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষই ন্যায়, কল্যাণ ও সুন্দরের পক্ষে। এই মানুষগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক কাতারে দাঁড়ালে কোনো অন্যায় বা অপশক্তি সমাজে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। তাই অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটি, কুমিল্লার আহ্বায়ক শ্রী শ্যামল কৃষ্ণ সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার।

অনুষ্ঠানে জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব দিলীপ নাগ কানাই, যুগ্ম আহ্বায়ক সুব্রত চৌধুরী তপু ও সঞ্জিত দেবনাথসহ কুমিল্লার সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ, ভক্ত ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে কৃষিমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেন।




বগুড়ায় নানা আয়োজনে জন্মাষ্টমী উদযাপন

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বগুড়ায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি মহানগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়।

এতে বগুড়া সদর ও পৌর এলাকার কয়েক হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী অংশগ্রহণ করেন। এসময় সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী পুরুষ নানা সাজে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন ভাবে আনন্দ প্রকাশ করে।

শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ হবে মানবিকতা, সাম্য ও সম্প্রীতির দেশ। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করতে চাই।

বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার রায়, বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান, সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ, বগুড়া মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল প্রসাদ রাজ, সাধারণ সম্পাদক সুজিত জয়সোয়াল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অলোক রায়।




মাগুরার অভিযোগ পেরিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দায়িত্বে নাহিদ পারভেজ : দরপত্রের আগেই কাজ, ভাউচারনির্ভর ব্যয় ও ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ; দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযানের পরও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন

বিশেষ প্রতিবেদক : রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাহিদ পারভেজকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে নতুন প্রশ্ন। মাগুরায় দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাজ শুরু, ভাউচারনির্ভর ব্যয় এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে অভিযানও চালিয়েছিল : দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের সেই অধ্যায়ের নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, কিংবা সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে কী সিদ্ধান্ত এসেছে—তার স্পষ্টতা না থাকলেও বর্তমানে ঢাকার শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাহিদ পারভেজ। এই বিভাগের আওতায় জাতীয় সংসদ ভবনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিচালিত হয়। ফলে তাঁর পূর্ববর্তী কর্মস্থলের অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং বর্তমান দায়িত্বে সরকারি প্রকল্প ও দরপত্র পরিচালনায় বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দরপত্রের আগেই কাজ—কেন ? ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাগুরা গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন রাজস্ব কাজ নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক অভিযোগ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছিল, কয়েকটি কাজের ক্ষেত্রে দরপত্র আহ্বান, শিডিউল বিক্রি কিংবা আনুষ্ঠানিক টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই বাস্তবে কাজ শুরু করা হয়। এসব প্রতিবেদনে টেন্ডার আইডি ১০৭২৭১৬, ১০৭২৭১৫, ১০৭২৭১৩ ও ১০৭২৭১১-এর মতো কয়েকটি কাজের উল্লেখ পাওয়া যায়। এর মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবনের রাস্তা ও হাঁটার পথ নির্মাণ বা সংস্কার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মেরামত, সার্কিট হাউস সংস্কার এবং বাসভবনের সীমানাপ্রাচীর-সংক্রান্ত কাজের অভিযোগও উঠে আসে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসব কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল কয়েক লাখ টাকা থেকে প্রায় ১৯ লাখ টাকা পর্যন্ত। প্রশ্ন হচ্ছে, আনুষ্ঠানিক দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কোনো ঠিকাদার বা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ শুরু করা হয়ে থাকলে তার প্রশাসনিক ও আর্থিক ভিত্তি কী ছিল? কাজ শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন ছিল কি না, থাকলে তার ধরন কী ছিল এবং পরবর্তী সময়ে সেই কাজের বিল কীভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে—এসব বিষয় নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি রাখে।

শুধু গণমাধ্যমের অভিযোগ নয়, মাঠে নেমেছিল দুদক নাহিদ পারভেজকে ঘিরে : মাগুরার অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—বিষয়টি কেবল সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ প্রকাশিত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মাগুরা গণপূর্ত বিভাগে দরপত্র আহ্বান না করে অনিয়মের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ নামমাত্র বাস্তবায়ন করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পর দুদকের ঝিনাইদহ সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিভিন্ন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। অর্থাৎ, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম মাঠপর্যায়ে কাজ পরিদর্শন এবং নথি সংগ্রহ করেছিল। এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—ওই অভিযানের পর কী পাওয়া গিয়েছিল ? সংগৃহীত নথিতে কী ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল ? কোনো তদন্ত বা পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না ? আর হয়ে থাকলে তার ফলাফল কী ?

‘নাগরিকদের ভোগান্তি’—ব্যাখ্যা কতটা গ্রহণযোগ্য?
মাগুরার অভিযোগের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে নাহিদ পারভেজ জানিয়েছিলেন, একটি টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। নাগরিকদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে তিনি টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার আগেই কিছু কাজ শুরু করেছিলেন বলে তাঁর বক্তব্য। তাঁর এই বক্তব্যই এখন নথিভিত্তিক অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। কারণ কোনো কাজ জরুরি হওয়ায় দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজন থাকলেও সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সেটি কোন প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুমোদনের ভিত্তিতে করা হয়েছে—সেটিই মূল প্রশ্ন। জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার বিধিসম্মত কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল কি না এবং কাজ শুরুর সময় ঠিকাদার নির্বাচনের প্রক্রিয়া কোন পর্যায়ে ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া জরুরি।
বিশেষ করে সরকারি অর্থে পরিচালিত নির্মাণ ও সংস্কারকাজে কাজের অনুমোদন, প্রাক্কলন, দরপত্র, কার্যাদেশ এবং বিল পরিশোধের প্রতিটি ধাপের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ‘নাগরিকদের ভোগান্তি’ কমানোর যুক্তি থাকলেও তার সঙ্গে বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া কীভাবে সমন্বয় করা হয়েছিল, সেটিই এখন অনুসন্ধানের বিষয়।

ভাউচারনির্ভর ব্যয় ও নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধার অভিযোগ : মাগুরা পর্বে নাহিদ পারভেজকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের আরেকটি দিক ছিল ভাউচারনির্ভর ব্যয় এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ। যদি কোনো সরকারি কাজের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া এড়িয়ে বা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাজ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে সেই কাজের ঠিকাদার নির্বাচন কীভাবে হয়েছে—তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কাজের বিপরীতে প্রদত্ত বিল, ভাউচার, পরিমাপ বই, কার্যাদেশ ও অন্যান্য আর্থিক নথি পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
এখানেই দুদকের অভিযানে সংগ্রহ করা নথির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। কারণ মাঠপর্যায়ের বাস্তব কাজ এবং অফিসিয়াল রেকর্ড—দুইয়ের মধ্যে মিল রয়েছে কি না, সেটি যাচাই ছাড়া অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি সম্ভব নয়।

মাগুরা থেকে শেরেবাংলা নগর—গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নাহিদ পারভেজ : অভিযোগের পর মাগুরা গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্ব শেষ করে নাহিদ পারভেজের পদায়ন হয় ঢাকার শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১-এ। গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তালিকাতেও বর্তমানে তাঁকে ওই বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
এই বিভাগের দায়িত্বের পরিধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় সংসদ ভবনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই বিভাগে বিভিন্ন ধরনের সরকারি প্রকল্প, সংস্কারকাজ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দরপত্র প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।
ফলে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর পূর্ববর্তী কর্মস্থলে সরকারি কাজের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযান হয়ে থাকলে, পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদায়নের আগে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের প্রশাসনিক ও আইনগত অবস্থান পরিষ্কার থাকা কতটা জরুরি—সেটিও সামনে আসে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—দুদকের অভিযানের ফল কী ?
দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযানও নিজেই কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণের সমতুল্য নয়। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক মাঠপর্যায়ে অভিযান চালিয়ে কাজ পরিদর্শন ও নথি সংগ্রহ করেছে—এটি একটি যাচাইযোগ্য বিষয়। সেই কারণে অভিযানের পরবর্তী ফলাফল, সংগৃহীত নথির মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত জনসমক্ষে আসা জরুরি। একই সঙ্গে বর্তমান কর্মস্থলে নাহিদ পারভেজের অধীনে পরিচালিত প্রকল্প ও দরপত্রগুলোর ক্ষেত্রে আগের অভিযোগের মতো কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত অডিট ও নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ জাতীয় সংসদ ভবনের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দায়িত্ব শুধু একটি প্রশাসনিক পদ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিপুল সরকারি অর্থ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং জনস্বার্থ। তাই মাগুরার অভিযোগের নিষ্পত্তি কীভাবে হয়েছে এবং বর্তমানে শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১-এ তাঁর অধীনে পরিচালিত কাজগুলো কতটা স্বচ্ছ ও বিধিসম্মত—এই দুই প্রশ্নের উত্তরই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নথিই শেষ পর্যন্ত বলে দেবে, মাগুরার অভিযোগ ছিল নিছক প্রশাসনিক ব্যত্যয়, নাকি এর পেছনে ছিল আরও গুরুতর আর্থিক অনিয়মের কোনো চিত্র।




প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার এই সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতকার কালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বেগবান ও সুদৃঢ় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ মতামত ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উন্নত পেশাগত প্রশিক্ষণ, সামরিক শিক্ষা বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। আধুনিক সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দুই দেশের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে বৈঠকে উভয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় চীনের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন এবং ভবিষ্যতে চীনের সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠককালে চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়নে দেশটির অব্যাহত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




অস্ত্রধারী-চাঁদাবাজদের ছাড় নয় : ডিবি

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় গোলাগুলির ঘটনায় অস্ত্রধারী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তার অপরাধই দেখবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দলমত নির্বিশেষে অস্ত্রধারী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ‘গেন্ডারিয়ায় গোলাগুলির ঘটনায় অস্ত্রসহ আসামি গ্রেপ্তার’ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গেন্ডারিয়ায় গোলাগুলির ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কে কোন দল করে, সেটি দেখার বিষয় নয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমন করাই আমাদের মূল কাজ। অস্ত্রধারী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ডিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।




দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের দেশে বিনিয়োগ করার ও বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গভবনে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন এ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে দেন। তারা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

রাষ্ট্রপতি দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ফ্যাসিবাদবিরোধী ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্তরাজ্যপ্রবাসীসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসীদের অর্থ, শ্রম ও মেধা দিয়ে অসামান্য অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশ ও জাতি প্রবাসীদের এই অবদান ও ভূমিকা চিরদিন স্মরণ রাখবে।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বিমানবন্দরে হয়রানি, ভোটদানের অধিকারসহ ব্যবসায়িক ও নাগরিক বিভিন্ন সুবিধা বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিমানবন্দরে হয়রানি, প্রবাসীদের ভোটদানের সুযোগসহ বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সরকার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। প্রবাসীদের পূর্ণাঙ্গ সেবাব্যবস্থা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সরকার প্রবাসী কার্ড চালু করেছে।

রাষ্ট্রপতি প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে দেশে বিনিয়োগের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে রাষ্ট্রপতি প্রবাসীদের তা গ্রহণ করার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রতিনিধিদলটি দেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবেই আপনারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। আপনারা দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিদেশে তুলে ধরবেন। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।




আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা দেন।

এছাড়া অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ও গুজব প্রচারসহ সাইবার অপরাধ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার দমন এবং নারী ও শিশুর নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে জনগণকে নিয়মিত অবহিত রাখা ও ব্যাপক প্রচারণার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এসময় বর্তমান সরকার মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বিচারবহির্ভূত হত্যা, জনগণকে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখার জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেন।

সাক্ষাৎকালে আইজিপি রাষ্ট্রপতিকে পুলিশ বাহিনীর মনোবল দৃঢ় রাখতে এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি এ ব্যাপারে তাকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এসময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।