বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ৮ জানুয়ারিতে করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগামী ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি প্রথম পর্ব এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে এই তারিখ নির্ধারণ করেছি।

বৃহস্পতিবার তাবলিগের মাওলানা সাদপন্থিরা মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের কারণে এক বছর তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা হয়নি। আজকে দুই অংশের একটি পক্ষকে (মওলানা সাদপন্থি) নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে বেশ কিছুদিন আগে জুবায়েরপন্থি হিসেবে যারা পরিচিত তাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাদেরও বলেছিলাম আমরা দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলব।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব। সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। আমরা চাই যাতে কোনো ধরনের সংঘর্ষ না হয়। কারণ এর আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এজন্য আমরা বিষয়টি লক্ষ্য রেখে সিদ্ধান্ত নেব। যেহেতু আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেইনি, এর বেশি এই মুহূর্তে আমরা বলতে পারছি না।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুবায়েরপন্থিদের দাবি প্রথম পর্ব এবং দ্বিতীয় পর্ব তারা করতে চান। আর সাদপন্থিদের দাবি হচ্ছে রমজানের আগে এবং ওই দুই পর্বের পরে এর মধ্যবর্তী সময়ে এক পর্বে ইজতেমা করা। অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে প্রস্তাবিত এই দুই পর্ব শুরুর আগেই সাদপন্থিরা ইজতেমা করতে চান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাওলানা সাদ সাহেবের আগমনের বিষয়টি ধর্ম অনুসারে ধর্ম মন্ত্রণালয় দেখবে, সেই হিসেবে তারা সিদ্ধান্ত নেবে। এটা ভিসানীতি অনুসারে দেখা হবে। এ বিষয়ে এখন আমরা চূড়ান্ত কিছু বলতে পারব না। ভিসানীতি অনুসারে যেভাবে ক্লিয়ারেন্স নিতে হয় সেভাবে নেবে, তারপরে দেখা যাবে।




জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা ঘিরে ডিএমপির নির্দেশনা

শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানীতে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। শোভাযাত্রাটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার আকতার হোসেন এসব তথ্য জানান।

ডিএমপি জানায়, শোভাযাত্রা চলাকালে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নগরবাসীকে পুলিশের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। শোভাযাত্রার নির্ধারিত পথ হলো শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, পলাশী বাজার, জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, বঙ্গবাজার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভবন, গোলাপশাহ মাজার, গুলিস্তান মোড়, নবাবপুর রোড, রায় সাহেব বাজার মোড় হয়ে বাহাদুর শাহ পার্ক।

ডিএমপির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শোভাযাত্রার নির্ধারিত পথে কোনো ধরনের যানবাহন পার্কিং করা যাবে না। উচ্চস্বরে মাইক বা শব্দযন্ত্র বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে। শোভাযাত্রায় অংশ নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের শুরুতেই এতে যোগ দিতে হবে। কোনোভাবেই মাঝপথে শোভাযাত্রায় যোগ দেওয়া যাবে না।

নিরাপত্তার স্বার্থে হ্যান্ডব্যাগ, ট্রলি, বড় ভ্যানিটি ব্যাগ, পোটলা, দাহ্য পদার্থ, ছুরি, অস্ত্র, কাঁচি, ক্ষয়কারক তরল, ব্রেড, দিয়াশলাই ও গ্যাসলাইটারসহ কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু সঙ্গে নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া যাবে না।

শোভাযাত্রা চলাকালে রাস্তায় কোনো ধরনের ফলমূল ছোড়া যাবে না। অহেতুক রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।

কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ করা হয়েছে। ব্যারিকেড, পিকেট ও আর্চওয়ে ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করতেও বলা হয়েছে।

উপপুলিশ কমিশনার আকতার হোসেন জানান, শোভাযাত্রা চলাকালে নগরবাসীকে ডিএমপির নির্দেশিত বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে চলাচলের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।




চট্টগ্রামে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি, দুই ফার্মেসিকে জরিমানা

চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির অভিযোগে দুই ফার্মেসিকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। অভিযানে ইউনিক ফার্মেসিকে ১০ হাজার ও একেএস ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক ফয়েজ উল্ল্যাহ বলেন, ভোক্তার জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কিংবা অননুমোদিত ও ভেজাল পণ্য কোনোভাবেই বাজারজাত করতে দেওয়া হবে না। পণ্যের মান, মেয়াদ, সঠিক লেবেলিং এবং অনুমোদনের বিষয়গুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী জরিমানা ও অন্যান্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।




সীমান্তে অর্ধকোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

সিলেট সীমান্তের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ করেছে বিজিবি। বুধবার বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত ফাঁড়ির টহলদল এই অভিযান চালায়।

বিজিবি জানায়, বাংলাবাজার, সংগ্রাম, উৎমা, দমদমিয়া, পান্থুমাই, প্রতাপপুর, তামাবিল ও সোনারহাট সীমান্ত ফাঁড়ির টহল দল অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মোবাইল ডিসপ্লে, কসমেটিকস, জিরা, সুপারি, ফল, চকলেট, চিনি, সবজি, কম্বল, বিস্কুট, সনপাপড়ি, টাইগারবাম এবং গরু ও মহিষ জব্দ করে। এসময় বাংলাদেশ হতে পাচারকালে শিং মাছ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত চোরাচালানী পশু ও পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৬ লাখ ৮ হাজার ৬৯০ টাকা।

এ ব্যাপারে বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. নাজমুল হক জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান এবং মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্যের চালান জব্দ করা হয়েছে। এরকম অভিযান অব্যাহত থাকবে।




জলবায়ু অর্থায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহসভাপতি পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, সমন্বয়ক ড. সাইমুম পারভেজ

জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট ও কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত ও কার্যকর জাতীয় কাঠামোর আওতায় আনতে ২৫ সদস্যের ‘জলবায়ু অর্থায়ন সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’ বা ন্যাশনাল কমিটি অন ক্লাইমেট ফাইন্যান্স (এনসিসিএফ) গঠন করেছে সরকার।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে ১ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সহসভাপতি পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং কমিটির সমন্বয়ের মুখ্য দায়িত্বে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ। প্রজ্ঞাপনে তাকে কমিটির সমন্বয়ক করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম; প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নেতৃত্বে গঠিত এ উচ্চপর্যায়ের কমিটি জলবায়ু অর্থায়ন ও কার্বন ক্রেডিট বিষয়ে বাংলাদেশের জাতীয় রূপকল্প, লক্ষ্য ও কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে। কার্বন ক্রেডিট এবং জলবায়ু অর্থায়নসংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে সামগ্রিক নীতিগত দিকনির্দেশনাও দেবে কমিটি।

প্যারিস চুক্তির আর্টিকেল-৬-সহ আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের আলোকে বাংলাদেশের জাতীয় কার্বন ক্রেডিট ও জলবায়ু অর্থায়ন কাঠামো প্রণয়ন, অনুমোদন ও বাস্তবায়নের বিষয়ে পরামর্শ দেবে এই কমিটি। একই সঙ্গে দেশে কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রম পরিচালনার নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান এবং আর্টিকেল-৬ বাস্তবায়নে মনোনীত জাতীয় কর্তৃপক্ষ বা ডেজিগনেটেড ন্যাশনাল অথরিটির কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবে।

নবগঠিত কমিটি জলবায়ু অর্থায়নসংক্রান্ত নীতি, কৌশল ও নির্দেশিকা চূড়ান্ত করা; বিদ্যমান নীতি-কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংস্কারের সুপারিশ; দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় জলবায়ু তহবিল এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ; অর্থায়ন সংগ্রহের কৌশল নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি ও প্রকল্পের অগ্রগতি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে।

জলবায়ু অর্থায়ন সম্পর্কিত বাস্তবায়ন কমিটি ও কারিগরি কমিটিগুলোর কার্যক্রম তত্ত্বাবধান, তাদের প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্বও জাতীয় কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। জলবায়ু অর্থায়নসংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় নীতিগত বিষয়ে উদ্ভূত জটিলতা নিরসনেও কমিটি সিদ্ধান্ত দেবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির সভা বছরে ন্যূনতম দুইবার অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় সভা আহ্বান করা যাবে। কমিটি প্রয়োজনে নতুন সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সঙ্গে কমিটি কার্যকর হয়েছে।




জাহাজ কোম্পানিগুলোকে ইরানি বাহিনীর হুঁশিয়ারি

অনুমতিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করতে গিয়ে আইআরজিসির পূর্ব-চিহ্নিত মাইন বেল্টে আঘাত হেনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শিকার হয়েছে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার। মার্কিন সামরিক বাহিনীর উসকানিতে ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে নির্ধারিত আইনসম্মত নৌপথ পরিহার করার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রগামী জাহাজ পরিচালনা সংস্থাগুলোকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে সংস্থাটির পাবলিক রিলেশনস বিভাগ।

আইআরজিসির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্যাঙ্কার দুটিকে আগেই মার্কিন এজেন্টরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছিল এবং বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগেই রহস্যজনকভাবে সেগুলোর ক্রু সদস্যদের সড়িয়ে ফেলা হয়। পরবর্তীতে ইরানি নৌবাহিনীর বারবার দেওয়া নিষেধাজ্ঞা ও সুনির্দিষ্ট সতর্কতা উপেক্ষা করে মার্কিন বলয়ে পরিচালিত জাহাজ দুটি একটি নির্দিষ্ট মাইনবহুল প্রণালিতে প্রবেশ করে। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং জাহাজ দুটিতে দাবানলের মতো আগুন ধরে যায়। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে নিজেদের তথাকথিত আধিপত্য জাহির করতেই মার্কিন বাহিনী আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থাসমূহকে বিভ্রান্ত করছে এবং নিরীহ বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বলির পাঠা বানানোর চক্রান্তে মেতেছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি বিশ্বজুড়ে শিপিং কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, যারা আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া ও নির্দিষ্ট অনুমোদিত রুট উপেক্ষা করে মার্কিন অশুভ এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে অতি শিগগিরই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। কোনো কোম্পানি যেন তাদের জলযান শত্রুপক্ষের হাতে তুলে না দেয়, সে বিষয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে মার্কিন বাহিনীর সমালোচনা করে আরও বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অতীতে বিয়ের অনুষ্ঠান বা বেসামরিক জমায়েতে হামলা চালিয়ে যেভাবে তারা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল, ঠিক একই কায়দায় তারা হরমুজ প্রণালিতেও ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে ইরানি জনগণ ও প্রতিরোধ বাহিনী এই সস্তা কৌশলে বিন্দুমাত্র বিচলিত নয় বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কেবল সুনির্দিষ্ট সমঝোতা স্মারকের অধীনে অনুমোদিত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তেহরান। ইরানি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আঞ্চলিক যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত, ইরানের ওপর থেকে সমস্ত বেআইনি অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত এবং ওয়াশিংটন তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা পর্যন্ত এই স্ট্র্যাটেজিক জলপথ পূর্ণাঙ্গভাবে উন্মুক্ত করা হবে না। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, কোনো ধরনের পশ্চিমা আগ্রাসন বা বিভ্রান্তিকর প্রদর্শনী হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের ঐতিহাসিক এবং পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করতে পারবে না।

সূত্র: আল মায়াদিন




আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশা প্রতিমন্ত্রীর

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, আগস্টে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে তা যাতে আর না হয়—এ জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট সম্পর্কিত বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। বিকাল সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আরেকটি এফএসআর স্থাপনের কথা চলছিল। সেদিন যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই এফএসআর স্থাপনের সিদ্ধান্তটি নিতেন, তাহলে কিন্তু আজকে একটি এফএসআর নষ্ট হলেও আমাদেরকে এইরকম একটি কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হতো না। অন্তবর্তীকালীন সরকার সে সময় এই এফএসএ স্থাপনের চুক্তিটি বাতিল করে।’

‘বর্তমানে এই গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেবার পর আমরা আজ শিল্প খাতের চাহিদা পূরণের জন্য, বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা পূরণের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটা এফএসআর স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা আশা করছি হয়তো আগামী কিছুদিনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারব। যার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ২০২৮ সালের পরে আমরা এফএসআরটি চালু করতে পারব।’

তিনি আরও বলেন ‘এখানে তাৎক্ষণিক সমাধান সূত্র আমরা খুঁজতে চেয়েছি। আমরা যে কথাটি বলতে পারি সত্য যে তাৎক্ষণিক সমাধান যদি খুঁজতে হয় আমাদেরকে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমাদেরকে কাজে আনতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন ‘আমরা আশা করছি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে চাই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যে কষ্ট বাংলাদেশের মানুষকে আগস্ট মাসে পোহাতে হয়েছে, অন্তত সেপ্টেম্বর মাসে যেন এই কষ্ট না পোহাতে হয়, সে ব্যাপারে আমরা সর্বতভাবে চেষ্টায় রয়েছি।’

তিনি বেলেন, ‘আমরা রুফটপ সোলারের যে পলিসি নিয়েছি তার আলোকে খুব দৃঢ়ভাবে আশাবাদী আগামী গ্রীষ্মে এই কষ্ট বাংলাদেশের মানুষকে পোহাতে হবে না, যা প্রধানমন্ত্রী আগেই বলেছেন।’




টেকসই উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা এলজিআরডি মন্ত্রীর

দেশের টেকসই উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমানের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক আরও সহযোগিতা জোরদার করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বিশ্বব্যাংকের মিশন প্রধান জ্যাঁ পেসম মতবিনিময় করতে এলে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পল্লী উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং স্থানীয় সরকার খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এলজিআরডি মন্ত্রী বললেন, দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও টেকসই করতে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত নাগরিক সেবা পৌঁছে দিতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, পল্লী উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান রয়েছে। এসব কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

এলজিআরডি মন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিশ্বব্যাংকের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বিগত সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখার ফলেই দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট ও আমদানিনির্ভরতা তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সংকট কাটিয়ে দেশকে জ্বালানিতে স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার বহুমাত্রিক ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানান তিনি।

বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের মৌখিক উত্তরদান পর্বে প্রধানমন্ত্রী এই পরিকল্পনার কথা জানান।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহতকরণ, নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার রূপরেখা তুলে ধরেন। দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত অনুসন্ধান এবং আমদানিনির্ভরতার ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটকে স্থায়ীভাবে নিরসন করে দেশকে স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের জ্বালানি ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপের খননকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) নতুন গ্যাস যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে আরও ৭টি কূপের খনন কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং এগুলোর কাজ শেষ হলে গ্রিডে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে। অবশিষ্ট কূপগুলো পর্যায়ক্রমে খননের জন্য নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া নতুন গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতে ৪,৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪,২০০ বর্গ কিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী ও সক্ষম করে তুলতে নতুন দুটি আধুনিক রিগ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অফশোর ও অনশোর মডেল পিএসসি (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্যাক্ট)-এর আওতায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর আন্তর্জাতিক বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে এবং অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বহুগুণ বাড়বে। পাশাপাশি সামুদ্রিক এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে আগ্রহী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যা থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ সম্ভব হবে। এর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি ক্ষমতা আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে।

এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কিংবা পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে তা সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের উত্তরে বিস্তারিত উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জনমনে আগ্রহ তৈরি ও এ খাতের দ্রুত প্রসারে ২০২৬ সালের ৮ জুন তারিখে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারিসহ সব প্রয়োজনীয় উপাদানের ওপর থেকে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং অতিরিক্ত অগ্রীম আয়করসহ সব ধরনের শুল্ক সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় আর্থিক মডেল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে যারা বাসাবাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার স্থাপন করবেন, তাদের উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০.১৫ টাকা দরে কিনে নেবে। বর্তমান গড়ে প্রতি ইউনিট ৬ থেকে ৭ টাকা উৎপাদন খরচের বিপরীতে এই বাল্ক রেট ও সরকারি প্রণোদনার ফলে উদ্যোক্তারা ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত (৪০ শতাংশ মুনাফা ও ৫ শতাংশ প্রিমিয়াম) নিট মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাবেন, যা পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের অংশ হিসেবে সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে সোলার প্যানেল বসাতে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রুফটপ সোলার সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরে বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সোলারের পাশাপাশি বায়ু বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমন্বিত পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে।




আজ থেকে একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু

চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ ও আলিম শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন আজ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে। আবেদন চলবে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ অনলাইনে ভর্তি করা হবে। প্রাথমিক আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০ টাকা।

বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আসনের ৭ শতাংশ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ৯৩ শতাংশ আসনে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে।

আগামী ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের ফলে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে। একই সময়ে পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগও থাকবে।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত ভর্তি নিশ্চায়নের সময় থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে আবেদন ও নির্বাচন বাতিল হবে।

চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।